বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ঠাকুরগাঁওয়ে জাপার জয়

হাফিজউদ্দীন আহমেদ
প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২২:১৫

ঠাকুরগাঁও-৩ (রাণীশংকৈল-পীরগঞ্জ) আসনে উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজউদ্দীন আহমেদ। লাঙ্গল প্রতীকে তিনি ৮৪ হাজার ৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) একতারা প্রতীকের গোপাল চন্দ্র রায় পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩০৯ ভোট।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়া হয়।

ঘোষিত ফলাফল অনুসারে, আসনটিতে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ইয়াসিন আলী হাতুড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ১১ হাজার ৩৫৬ ভোট, জাকের পার্টির ইমদাদুল হক গোলাপ ফুল প্রতীকে ২ হাজার ২৫৭ ভোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম টেলিভিশন প্রতীকে ১ হাজার ৪১২ ভোট এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাফি আল আসাদ আম প্রতীকে ৯৫৩ ভোট পেয়েছেন।

সরকারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশে বিএনপির এমপিদের পদত্যাগ ঘোষণা আসে। এতে শূন্য হয়ে যায় ঠাকুরগাঁওয়ের এই আসনসহ ছয় সংসদীয় আসন।

পরে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলে আওয়ামী লীগ বগুড়া-৬ আসনে রাগিবুল আহসান রিপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মু. জিয়াউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো. আব্দুল ওদুদকে প্রার্থী ঘোষণা করে। আর ঠাকুরগাঁও-৩ আসন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং বগুড়া-৪ আসন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদকে ছেড়ে দেয়। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন উন্মুক্ত রাখে।

এই ছয় আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে তিনটিতেই (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ ও বগুড়া-৬) জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাদের সমর্থন দেয়া ১৪-দলীয় জোটের প্রার্থীও জয় পেয়েছেন বগুড়া-৪ আসনে। তবে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জিততে পারেননি ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী। আর উন্মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জয় পেয়েছেন আসনটি ছেড়ে দিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া।


মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের মানসিক অঙ্গীকার গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

চাঁদপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু আইন প্রয়োগ, পুলিশ, কোস্টগার্ড মোতায়েন কিংবা সরকারি সহায়তা প্রদানই যথেষ্ট নয়- এ জন্য জেলেদের মানসিক অঙ্গীকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ) চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দাসাদি গ্রামের বড় খান বাড়ীর মাঠে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান- ২০২৬ উপলক্ষে নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। আর প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা হলে আগামী বছর ইলিশের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মৎস্যজীবীদের উদ্দ্যশ্যে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা সরাসরি ইলিশ ধরেন। তাই ইলিশের জীবনচক্র, প্রজনন ও সংরক্ষণের বিষয়ে অনেক ভালো জানেন। মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে আগামী বছরও ইলিশ পাওয়া যাবে। তাই মা ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব আপনাদেরই সবচেয়ে বেশি।”

চাঁদপুরের ইলিশের অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, একসময় এ অঞ্চলে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত। ইলিশ পরিবহন ও সংরক্ষণের জন্য এখানে অনেক বরফকল ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় সেই কর্মচাঞ্চল্যও অনেকটা হারিয়ে গেছে। ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে হলে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি চাল দেওয়া হলেও জেলেদের নিজেদের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ ছাড়া ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। “আপনি যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত না হন যে মা ইলিশ ধরবেন না, তাহলে ২৫ কেজি কেন, ১০০ কেজি চাল দিলেও সমস্যার সমাধান হবে না,” বলেন তিনি।

জেলেদের আর্থিক সংকট ও বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময়ে জেলেদের পরিবারকে সংসার চালাতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেককে ঋণ নিতে হয়, আবার ঋণের বোঝা তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শুধু সাময়িক সহায়তার ওপর নির্ভর না করে জেলেদের জন্য টেকসই বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সরকার চিন্তা করছে।

চাঁদপুরের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নদীর পানিকে সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে প্রচলিত পদ্ধতিতে পুকুরে মাছ চাষ সব সময় সহজ নয়। বর্ষায় পানি বেড়ে গেলে মাছ ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে নদীতে খাঁচায় মাছ চাষসহ আধুনিক ও উপযোগী প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার ও জেলেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়- এটি জেলেদের নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে, যার সুফল জেলে পরিবারসহ দেশের মৎস্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই ভোগ করবেন।

জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর -৩ (সদর) এর সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম উল্যা সেলিম। এসময় স্হানীয় মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করেন।


গোডাউনে কোটি টাকার মালামাল, নিচে দাঁড়িয়ে উৎকণ্ঠায় ব্যবসায়ীরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 নিজস্ব প্রতিবেদক

গোডাউনে কোটি টাকার মালামাল। অথচ ভেতরে কী অবস্থায় আছে, তা দেখারও সুযোগ নেই। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, কিন্তু কাটেনি ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা। কেউ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ, কেউবা নিজের দোকানের মালামাল ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায়।

আগুনে পুড়ে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা জানার উপায় নেই। কারণ, এখনো আগুন লাগা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না তারা।

তাই নিচে দাঁড়িয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন ব্যবসায়ী ও তাদের স্বজনরা।

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের পর এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে লাগা আগুন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৫টা ২০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ওপরের তলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে গোডাউন ও দোকানে থাকা মালামালের অবস্থা জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, আগুন লাগা ভবনের নিচে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও তাদের স্বজনরা। সবার চোখেমুখে অনিশ্চয়তা। কারও গোডাউনে লাখ লাখ টাকার পণ্য, কারও দোকানে জমা ছিল দীর্ঘদিনের পুঁজি। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় সেই মালামাল কতটা অক্ষত রয়েছে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

ভবনটির ছয়তলার ডান পাশে গোডাউন রয়েছে ব্যবসায়ী মো. রবিনের। সেখানে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ মজুত ছিল বলে জানান তিনি। আগুন ছয়তলায় লাগায় তার গোডাউনের মালামাল নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

রবিন বলেন, ভবনটি সাততলা। এর পাঁচ, ছয় ও সাততলায় কসমেটিকস পণ্য ও ব্যাগের গোডাউন রয়েছে। নিচের তলাগুলোতে ব্যাগ ও কসমেটিকসের দোকান। তাদের গোডাউন ছয়তলার ডান পাশে। আগুনও লেগেছে ছয়তলায়। ভেতরে প্রবেশ করা যাচ্ছে না, তাই মালামালের অবস্থা জানা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, গোডাউনে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ ছিল। এখন যদি সব পুড়ে যায়, আমি সর্বস্বান্ত হয়ে যাব।

রবিনের ভাষ্য, পাঁচ ও ছয়তলায় গোডাউন থাকায় এসব তলায় সাধারণত কেউ থাকেন না। মালামাল নেওয়ার প্রয়োজন হলে ব্যবসায়ীরা সেখানে আসেন। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নিচের দোকানের এক কর্মচারীর মাধ্যমে আগুন লাগার খবর পান তিনি। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ভেতরে যেতে পারেননি।

রবিন জানান, পাঁচ, ছয় ও সাততলা মিলিয়ে ৫০টির বেশি গোডাউন রয়েছে। প্রতিটি গোডাউনে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মালামাল আছে। আগুন ছয় ও সাততলায় ছড়িয়ে পড়ায় এসব গোডাউনে থাকা পণ্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ভবনটির চারতলায় কসমেটিকসের দোকান রয়েছে ব্যবসায়ী মো. আকাশের। তার দোকানে প্রায় ১৬ থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুন লাগার পরপরই কিছু মালামাল বের করতে পারলেও বাকি অংশ নিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

আকাশ জানান, আগুন লাগার পরপরই দোকানের প্রায় অর্ধেক মালামাল বের করতে পেরেছেন। বাকি অর্ধেক পুড়ে গেছে। আগুনের ঘটনায় দোকানের মালামাল রক্ষা করতে গিয়ে তার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ভবনটির ছয়তলায় খোরশেদ আলমের ব্যাগের ব্যবসা রয়েছে বলে জানান আরিফ নামের এক ব্যক্তি। ওই তলায় আগুন লাগায় তারাও মালামালের অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

সবার পরিস্থিতি এক নয়। ভবনটির দোতলায় ছাতার ব্যবসা রয়েছে জামাল হোসেনের। তিনি জানান, আগুনে তার কোনো ক্ষতি হয়নি।

জামাল হোসেনের ধারণা, ভবনের ওপরের দিকে কোনো দোকানের কর্মচারী বিড়ি বা সিগারেট খেয়ে উচ্ছিষ্ট ফেলে দিলে সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তার দাবি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা অন্য কোনো কারণে আগুন লাগেনি। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আগুন লাগা ভবনের অন্যান্য গোডাউনের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় তারা এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে পারছেন না। গোডাউনে থাকা মালামাল আদৌ রক্ষা পেয়েছে কি না, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় ছয় ও সাততলায় থাকা গোডাউনের মালামাল পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দুশ্চিন্তা, গোডাউনের দরজা খুলে ভেতরের অবস্থা দেখার আগপর্যন্ত ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়।

মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার পর নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫ ভবন বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব ভবনে কসমেটিকসসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের অসংখ্য দোকান রয়েছে। ফলে আগুনের কারণে শুধু মনসুর খান প্লাজার ব্যবসায়ীরাই নন, আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আগুন লাগা ভবনের পাশের একটি ভবনে কসমেটিকসের দোকান রয়েছে মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের। তিনি বলেন, সোমবার বিকেল থেকে তাদের দোকান বন্ধ রয়েছে। এত দীর্ঘ সময় দোকান বন্ধ থাকায় তারা মারাত্মক ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সাইদুর রহমান বলেন, তারা চান দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক, যাতে আবার ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট কাজ করে। মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।


রাঙামাটিতে পুলিশ বক্স উদ্বোধন, সিসিটিভির আওতায় লেক ভিউ গার্ডেন

রাঙামাটিতে সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নবনির্মিত পুলিশ বক্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 রাঙামাটি প্রতিনিধি

পর্যটন শহর রাঙামাটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের লেক ভিউ গার্ডেন-সংলগ্ন এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি পুলিশ বক্স নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো বাগানটিকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ দমন ও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নবনির্মিত পুলিশ বক্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমাসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে লেক ভিউ গার্ডেন অত্যন্ত পছন্দের একটি জায়গা। তবে বিভিন্ন সময়ে এখানে কিছু বখাটের উৎপাত নিয়ে পর্যটকেরা অভিযোগ করেছিলেন। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে পুলিশ বক্স নির্মাণ করা হয়েছে। রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে লেক ভিউ গার্ডেন রাঙামাটির অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এ স্থানটির নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করে যাবে।’

রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ‘আরএইচডি লেক ভিউ গার্ডেন ইতিমধ্যে পর্যটন স্পট হিসেবে সর্বসাধারণের কাছে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখানে বেড়াতে আসা অনেক পর্যটক বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের আনাগোনাও দেখা যেত। আমাদের অনুরোধে পুলিশ সুপার এখানে পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের অবস্থান ও দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি পুলিশ বক্স নির্মাণ করা হয়েছে। আজ এর হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি পুরো বাগানটিকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।’

সবুজ চাকমা আরও বলেন, ‘উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতিবছরই আরএইচডি লেক ভিউ গার্ডেনকে মানুষের প্রশান্তি ও অবসর কাটানোর উপযুক্ত স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাব।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, আধুনিক পুলিশ বক্স স্থাপন, পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির ফলে লেক ভিউ গার্ডেন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নতি হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকেরাও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।


ফাইতোসাইন্স কোম্পানির উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী কক্সবাজার ভ্রমণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কোম্পানির নেটওয়ার্ক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিস্তৃত করতে ফাইতোসাইন্স কোম্পানি গত ৮ থেকে ১০ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী কক্সবাজার ভ্রমণের আয়োজন করে।

এই ভ্রমণ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন- ফাইতোসাইন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর আব্দুর রউফ, ভাইস চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন, পরিচালক মীর ফরিদ তালুকদার, জিএম মো. আবু সালেক মজুমদার, চিফ মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ মো. মাহমুদুল আলম, পান্না, ফরিদা, মামুন, খুশী, হান্নান, জেসমিন, জান্নাত, নাসির, হারুন, তৈয়ব, রিতা, যুথি ও অন্যরা।

ফাইতোসাইন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে গতি বাড়াতে প্রায়ই কক্সবাজারসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে বিশেষ ভ্রমণের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।’


কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিখোঁজের ছয় দিন পর চার কিশোরী উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

নিখোঁজের ছয় দিন পর চার কিশোরীকে উদ্ধার করেছে মিরপুর থানা পুলিশ। নিখোঁজ দুই জোড়া কিশোরী নিজেদের মধ্যে সমকামিতার মাধ্যমে ‘বিয়ে’ করে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাদের উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী গত ৫ অক্টোবর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়। এরপর নিখোঁজ কিশোরীদের উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে মিরপুরের এক কিশোরীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার এক কিশোরীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানায় পুলিশ। একইভাবে মিরপুরের আরও দুই কিশোরীর মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হয়।

পরে চার কিশোরী একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর মিরপুরের তিন কিশোরী বাড়ি ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে নারায়ণগঞ্জের কিশোরীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চার কিশোরী ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেয়। সেখানে দুই কিশোরী নিজেদের মধ্যে ‘বিয়ে’ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে বলে পুলিশকে জানায়। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে বসবাস করছিল বলে পুলিশের ভাষ্য। অপর দুই কিশোরীও একই বাসায় অবস্থান করছিল।

এদিকে নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাকিলাদহ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন।

পরে গত রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া চারজনের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে কিশোরীদের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। নিখোঁজ তিন কিশোরীকে ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের একজনকেও উদ্ধার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’


ব্যাংকঋণে বিপর্যস্ত খুলনার সুপার জুট মিল ও সুপারেক্স লেদার

* ৯০০ কোটি টাকা ঋণে ব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ * ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈকত মো. সোহাগ, খুলনা ব্যুরো

শিল্পাঞ্চল খ্যাত খুলনাকে একসময় বলা হতো বন্দর নগরী। এই নগরী ঘিরে গড়ে ওঠে অসংখ্য শিল্প, কল-কারখানা। কালের বিবর্তনে এই শিল্প নগরী এখন মৃত্যু নগরীতে পরিণত হয়েছে। ছোট ছোট যেসব শিল্প কারখানা টিকে রয়েছে সেগুলোও এখন বন্ধ হওয়া হওয়ার পথে।

রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা খুলনার সুপার জুট মিলটি ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। এই প্রতিষ্ঠানটি একসময় প্রতিদিন ২০-৩০ লাখ টাকা লাভ করত। বিশ্বের ২৪টি দেশে রপ্তানি হতো পাটজাত পণ্য। বিদেশি ক্রেতারা পণ্য পাওয়ার আগেই দিতেন অগ্রিম অর্থ। রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনবার রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছে। সেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানই আজ ঋণের ভারে বিপর্যস্ত। একই পরিণতির পথে ওই প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে গড়ে ওঠা সুপারেক্স লেদারও।

উদ্যোক্তার দাবি, ব্যবসায়িক ব্যর্থতায় নয়; বরং প্রয়োজনীয় ব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক বলছে, ঋণ পরিশোধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব এবং কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে প্রতিষ্ঠান দুটি সংকটে পড়েছে।

খুলনার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামে ২০০৬ সালে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত হয় সুপার জুট মিল। স্থানীয় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি দেশের পাটপণ্য রপ্তানিতে বেসরকারি খাতে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান তৈরি করে।

গুণগতমানের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের কাছে এর পাটজাত পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক লাভ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়েছিল বলে ব্যবস্থাপনা সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যের পর শিল্প খাত সম্প্রসারণে উদ্যোক্তাকে উৎসাহিত করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের অর্থায়নের আশ্বাস পেয়ে ২০১৬ সালে খুলনার উত্তরডিহি গ্রামে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে সুপারেক্স লেদার প্রতিষ্ঠা করেন উদ্যোক্তা এম ফিরোজ আহমেদ ভূঁইয়া। প্রতিষ্ঠানটি অত্যাধুনিক বিদেশি যন্ত্রপাতি নিয়ে উৎপাদনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়।

ব্যবস্থাপনা সূত্রের দাবি, সুপারেক্স লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদপ্রাপ্ত এবং পরিবেশগত মান নিশ্চিত করতে ইতালি থেকে প্রায় ১৪ লাখ ডলার ব্যয়ে ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপন করে। বাংলাদেশে গ্রিন কোম্পানির স্বীকৃতি পাওয়া তিনটি কারখানার একটি হিসেবেও প্রতিষ্ঠানটিকে উল্লেখ করা হয়। তবে উৎপাদনে যাওয়ার পর প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন না পাওয়ায় সংকটে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যবস্থাপনা সূত্র জানায়, নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার চামড়া কেনা হয়েছিল। কিন্তু চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও অন্যান্য উপকরণ কেনার অর্থ ব্যাংক থেকে চেয়েও পাওয়া যায়নি। এ কারণে সময়মতো চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হয়নি। এতে প্রতি বর্গফুট ৮০ টাকা দরে কেনা চামড়ার দাম একপর্যায়ে কমে প্রায় ২০ টাকায় নেমে আসে।

জানতে চাইলে সুপার জুট মিল ও সুপারেক্স লেদারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ২০১৭ সালের পর ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন না পাওয়ায় ধীরে ধীরে উৎপাদন ও ব্যবসা সংকুচিত হতে থাকে। তার অভিযোগ, তার দুটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানের দিকে তৎকালীন ব্যাংক নিয়ন্ত্রণকারী গ্রুপ কোম্পানির ‘নজর’ পড়েছিল। অর্থায়ন বন্ধ রেখে প্রতিষ্ঠান দুটিকে দুর্বল করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের সম্পদের মূল্য শেষ হয়ে যায়নি; বরং উৎপাদন চালু রাখার মতো অর্থের সংস্থানই এখন প্রধান সমস্যা। তার দাবি, একসময় সুপারেক্স লেদারের মূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। তখন ব্যাংকের পাওনা ছিল প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। বর্তমানে সুদাসলসহ ওই দায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০০ কোটি টাকায়।

ব্যাংকের সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠান দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে বলে মনে করেন তিনি। এজন্য প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা চলতি মূলধন চাওয়া হয়েছে বলেও জানান উদ্যোক্তা।

তবে ইসলামী ব্যাংকের দৌলতপুর শাখার ব্যবস্থাপক ইফতেখার হোসেন বলেন, ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ব্যাংকের কাছে এখনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সার্কুলারের আওতায় গত ডিসেম্বরে ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে খেলাপিমুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা নেয়নি। যে কারণে ঋণ প্রদানে জটিলতা দেখা দিয়েছে।


ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহে প্রেস কনফারেন্স

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সহিদ চৌধুরী, গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জে ‘ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম’-এর তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহায়তায় গত সোমবার (১২ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘স্বচ্ছতা’ সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় প্রতি মাসে একজন ফ্যামিলি কার্ডধারী পাবেন ২৫০০ টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে এলাকার অসচ্ছল পরিবারগুলোকে এবং পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে এ সেবার আওতায় আনা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. কে এম বাবর।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ড. কে এম বাবর বলেন, সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হবে। এ কার্যক্রমে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ভুল তথ্য যাতে অন্তর্ভুক্ত না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রেস কনফারেন্সে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফ রফিক উজ্জামান সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মুরাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারেক সুলতান এবং শহর সমাজসেবা অফিসার আলামিন মোল্লা।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সহিদ চৌধুরী ও মোজাম্মেল হোসেন মুন্নার প্রশ্নের জবাব দেন যৌথভাবে জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্য।


জামালপুরে ২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের ইসলামপুরে ২০ কেজি গাঁজাসহ আব্দুর রশিদ (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলের দিকে ইসলামপুর পৌর এলাকার গাওকুড়া খালেরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১)।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইসলামপুর পৌর এলাকার গাওকুড়া খালেরপাড় এলাকার স্থানীয় অনুশেখের মনোহারি দোকানের সামনের পাকা রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। অভিযান চলাকালে আব্দুর রশিদকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রশিদ ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা উজান পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে একই এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, ডিবি-১) মো. শাহীনুর ইসলাম তালুকদার জানান, এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে জামালপুর জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। মাদক আমাদের তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি। জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের মাদকবিরোধী এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।


শৈলকুপায় শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের চিঠির বক্স উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শিক্ষার্থীদের মনের কথা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের সুযোগ করে দিতে ‘স্বপ্নের চিঠির বক্স’ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ফুলহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বক্সের উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সেলিম রেজা। এ সময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লক্ষণ প্রসাদ সাহা এবং সার্ভিস অ্যান্ড ভিশন এডিফাই (সেভ)-এর নির্বাহী পরিচালক আয়শা সিদ্দীকাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সেভের ‘এমপাওয়ারিং অ্যাডোলেসেন্ট গার্লস অ্যান্ড সিভিল সোসাইটি মেম্বারস টু এন্ড চাইল্ড ম্যারেজ’ (গার্লপাওয়ার) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

আয়োজকরা জানান, স্বপ্নের চিঠির বক্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের মনের কথা, জীবনের লক্ষ্য, প্রত্যাশা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা চিঠির মাধ্যমে তুলে ধরতে পারবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ, সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।

তারা আরও জানান, প্রতি মাসে বক্স থেকে চিঠি সংগ্রহ করা হবে। চিঠিতে শিক্ষার্থীদের তুলে ধরা স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে সেগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামত ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সম্ভাবনা বিকাশে কাজ করা হবে বলে জানান আয়োজকরা।


পড়াশোনার ফাঁকে ঢেঁকিশাক বিক্রি করে সপ্তম শ্রেণির রেজাউল

* বাবা বাক্প্রতিবন্ধী, মায়ের নেই এক চোখ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের সংগ্রহ করা ঢেঁকিশাক বাজারে বিক্রি করছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রেজাউল করিম। বয়সে ছোট হলেও পরিবারের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের সংগ্রহ করা শাক বিক্রি করে জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে সে।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে পঞ্চগড় বাজারে ঢেঁকিশাক বিক্রি করতে দেখা যায় রেজাউল করিমকে। তার বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১নং অমরখানা ইউনিয়নের ছোট কামাত এলাকায়। সে শালমারা ভিতরগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে তার শ্রেণি রোল ৫৫।

রেজাউল নিজেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ঢেঁকিশাক সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসে এবং তা বিক্রি করে। একদিকে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা, অন্যদিকে নিজের হাতে শাক সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি—তার এই চিত্র গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা ও পরিবারের প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, রেজাউলের বাবা মো. আব্দুল মতিন একজন বাক্প্রতিবন্ধী এবং তার মায়ের একটি চোখ নেই। রেজাউলের বাবা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপন করতে হয় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে রেজাউলের বাজারে ঢেঁকিশাক বিক্রির বিষয়টি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

শিক্ষাজীবনের এই বয়সে রেজাউলের প্রধান কাজ পড়াশোনা করে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তবে পারিবারিক বাস্তবতার কারণে তার এমন উদ্যোগ অনেকের মনে সহমর্মিতা জাগাতে পারে। শিশুটির পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের সহানুভূতিশীল সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা জানান, আমি শিশুটির পরিবারের সাথে যোগাযোগ এবং সার্বিক বিষয়ে জানার চেষ্টা করছি।


গোদাগাড়ীতে ইউএনও কার্যালয়ে তালা, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে উপজেলা প্রশাসন। অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো।

জানা গেছে, ইউএনও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে সরকারি কাজে বাধা ও জনভোগান্তি সৃষ্টির অভিযোগে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলার উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এই মামলা করেন।

এদিকে, ইউএনও অফিসে তালা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে জড়িত জামায়াত, এনসিপি ও পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১২টায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে গোদাগাড়ী উপজেলা, বিভিন্ন পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ।

গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে এসে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বিএনপি নেতারা ‘মব কালচার’-এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তারা সরকারের যেকোনো উন্নয়নের অংশীদার হয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের কাজে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে তারা ইউএনও কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন—কাঁকনহাট পৌর বিএনপির সভাপতি জিয়াউল সরকার, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব, সহ-সভাপতি মোস্তফা ও নাসির উদ্দিন বাবু, রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অরণ্য কুসুম, জেলা যুবদলের সদস্য ডালিম, গোদাগাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ ও সদস্য সচিব বাবু, কাঁকনহাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মশি ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরসালান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বিদ্যুৎ ও সদস্য সচিব কাওসার, পৌর ছাত্রদলের মোবিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য, সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ইউএনও ইসরাত জাহানের অপসারণ দাবিতে কার্যালয় ঘেরাও করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। আন্দোলনকারীরা উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে কর্মসূচি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন। দুই ঘণ্টা তালাবদ্ধ থাকায় প্রশাসনিক ভবনের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। মূলত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মামলা দায়ের ও আজকের প্রতিবাদ সমাবেশের ঘটনা ঘটে।


হালুয়াঘাটে বিজিবির অভিযানে হামলা, গুলিতে নিহত ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুমন আহম্মেদ, হালুয়াঘাট প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে গরু চোরাচালানবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে কথিত চোরাকারবারিদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিজিবির গুলিতে রুমান (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে তেলিখালী বিওপির একটি টহল দল ঝলঝলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি গরু জব্দ করে। পরে গরুগুলো নিয়ে ফেরার পথে একদল কথিত চোরাকারবারি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজিবির ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন-৩৯-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে সতর্ক করা হয়। পরে বিজিবি সদস্যরা তিন থেকে চারটি সতর্কতামূলক গুলি ছোড়েন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যক্তি আহত হন। এ ঘটনায় বিজিবির নায়েক রফিকের ডান হাতে আঘাত লাগে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পরে গুলিবিদ্ধ রুমানকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রোমান উপজেলার ১ নম্বর ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বেতকুড়ী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ছিলেন।

রোমানের পরিবার থেকে জানানো হয়, রাতে এলাকায় ভারতীয় গরুর অভিযান চালান বিজিবি সদস্যরা। খবর পেয়ে রুমান ঝলঝলিয়া গ্রামে যান। সেখানে বাঘাইতলা বাজারের ইজারাসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তাঁকে গুলি করা হয়। ভোর সাড়ে চারটার দিকে গুলির ঘটনা ঘটলেও প্রায় তিন ঘণ্টা রুমানকে ঘটনাস্থলে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাঁকে হাসপাতালে নিতে দেওয়া হয়নি।

ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে স্থানীয় লোকজন হালুয়াঘাটে সড়ক অবরোধ করেন।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বিজিবির গুলিতে একজন মারা গেছেন। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। সুরতহালে দেখা গেছে ৪ জায়গায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে।


দেশের সিনেমা হলের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ, সিনেমা হলের আধুনিকায়ন এবং দর্শক ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় হল মালিকদের সমস্যাগুলো জানতে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘হল মালিকদের উত্থাপিত কিছু দাবি বাস্তবায়নে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কিছু বিষয় আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তা তিনি খতিয়ে দেখবেন। এ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘মোবাইল ফোন কিংবা হোম থিয়েটারের কারণে সিনেমা হল বিলুপ্ত হয়ে যাবে-এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। কারণ, সিনেমা হলে গিয়ে বড় পর্দায় সম্মিলিতভাবে চলচ্চিত্র উপভোগ করার অভিজ্ঞতা ঘরে বসে বা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সিনেমা হল ও সিনেপ্লেক্স সফলভাবে চলছে। তাই বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো কেন টিকে থাকতে পারবে না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘সিনেমা হলের দর্শক বাড়াতে ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের বিকল্প নেই। শুধু বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে চলচ্চিত্র আমদানি ও প্রদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার আন্তরিক থাকবে। তবে আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আয় এবং জনগণের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা-ও বিবেচনায় নিতে হবে।’

চলচ্চিত্র রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের চলচ্চিত্র বিদেশে প্রদর্শন ও রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি থেকে অর্জিত আয়ের কতটা বাংলাদেশের জনগণ ও অর্থনীতির উপকারে আসছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

দেশীয় চলচ্চিত্রের দর্শক সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক সিনেমা হলে পর্যাপ্ত দর্শক পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো সিঙ্গেল স্ক্রিনে বিপুল আসন সংখ্যার বিপরীতে দর্শকের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হল মালিক, প্রযোজক ও পরিচালকদের যৌথভাবে আলোচনা করে দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের উদ্যোগ নিতে হবে। ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হলে প্রযোজক, হল মালিক ও দর্শক-সব পক্ষই উপকৃত হবে।’

চলচ্চিত্রে দক্ষ শিল্পী তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অভিনেতা-অভিনেত্রী ও পরিচালকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাধ্যমে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতেও প্রতিভাবান শিল্পী উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিনেমা হলগুলোতে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিএফডিসিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

আধুনিক টিকিটিং ব্যবস্থা চালু হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি হল মালিকদের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসতে পারে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে হল মালিকদেরও আন্তরিক হতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিনেমা হলের আধুনিকায়নে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বরাদ্দের অর্থ শুধু সিনেপ্লেক্সের জন্য নয়, প্রচলিত সিনেমা হলগুলোর ক্ষেত্রেও কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

তিনি চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদেরকে তাদের দাবি-দাওয়াগুলো লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব দাবি পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের সিনেমা হলগুলোর সংকট, আধুনিকায়ন, অর্থায়ন, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি এবং দর্শক বাড়ানোর বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।


banner close