শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ঠাকুরগাঁওয়ে জাপার জয়

হাফিজউদ্দীন আহমেদ
প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২২:১৫

ঠাকুরগাঁও-৩ (রাণীশংকৈল-পীরগঞ্জ) আসনে উপনির্বাচনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজউদ্দীন আহমেদ। লাঙ্গল প্রতীকে তিনি ৮৪ হাজার ৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) একতারা প্রতীকের গোপাল চন্দ্র রায় পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩০৯ ভোট।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়া হয়।

ঘোষিত ফলাফল অনুসারে, আসনটিতে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী ইয়াসিন আলী হাতুড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ১১ হাজার ৩৫৬ ভোট, জাকের পার্টির ইমদাদুল হক গোলাপ ফুল প্রতীকে ২ হাজার ২৫৭ ভোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম টেলিভিশন প্রতীকে ১ হাজার ৪১২ ভোট এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাফি আল আসাদ আম প্রতীকে ৯৫৩ ভোট পেয়েছেন।

সরকারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশে বিএনপির এমপিদের পদত্যাগ ঘোষণা আসে। এতে শূন্য হয়ে যায় ঠাকুরগাঁওয়ের এই আসনসহ ছয় সংসদীয় আসন।

পরে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলে আওয়ামী লীগ বগুড়া-৬ আসনে রাগিবুল আহসান রিপু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মু. জিয়াউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো. আব্দুল ওদুদকে প্রার্থী ঘোষণা করে। আর ঠাকুরগাঁও-৩ আসন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং বগুড়া-৪ আসন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদকে ছেড়ে দেয়। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন উন্মুক্ত রাখে।

এই ছয় আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে তিনটিতেই (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ ও বগুড়া-৬) জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাদের সমর্থন দেয়া ১৪-দলীয় জোটের প্রার্থীও জয় পেয়েছেন বগুড়া-৪ আসনে। তবে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জিততে পারেননি ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী। আর উন্মুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জয় পেয়েছেন আসনটি ছেড়ে দিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া।


নির্বাচিত

রূপগঞ্জের মুশরী-তেলিপাড়া-টানমুশরী সড়ক ধস, যাতায়াতে বাড়ছে দুর্ভোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুশরী-তেলিপাড়া-টানমুশরী সড়ক ধসে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাতে শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যদিনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কের জলাশয় অংশে গাইডওয়াল নির্মাণ করে অবিলম্বে সড়কটি সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০২২ সালে রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত মুশরী-তেলিপাড়া-টানমুশরী সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একপাশের সম্পূর্ণ অংশজুড়ে জলাশয়। অপর পাশেও স্থানে স্থানে জলাশয় রয়েছে। পূর্ব পাশের গভীর জলাশয়ের পাড়সংলগ্ন স্থানে সড়কের মাটি সরে গিয়ে পাকা অংশ ধসে পড়ছে। এ সড়ক দিয়ে টানমুশরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এলাকাবাসী আসা-যাওয়া করে থাকে। কিন্তু সড়কটি ধসে পড়ায় রিকশা, ভ্যান, অটো, প্রাইভেটকার চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। তাতে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মাঝেমধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কের স্থানে স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও যেন অধিকাংশ রাস্তা ধসে গিয়েছে। সড়কের জলাশয় অংশে গাইডওয়াল নির্মাণ না করায় ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করার কারণে সড়কের এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটি নির্মাণে তেমন গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

তেলিপাড়া, বৈরাগবাড়ি, ছৈয়ালবাড়ি ও টানমুশরী এলাকার মানুষের দীর্ঘ পথ ঘুরে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হচ্ছে। সড়কটি এখন সরু আইলে পরিণত হয়েছে। সড়কটি সংস্কার না করায় দীর্ঘদিন ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে।

তেলিপাড়া গ্রামের হাজী আব্দুর রফিক বলেন, ‘ওই এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে দুর্ভোগে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন নিবেদন করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।’

রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নূর নবী ভুঁইয়া বলেন, ‘রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় সড়কটি সংস্কারের জন্য তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।’ বরাদ্দ পেলে শিগগিরই এ সড়কের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেন বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর যাতায়াতের স্বার্থে সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হবে।’


নির্বাচিত

কলমাকান্দায় গাছের চারা উপড়ে ফেলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ ডেপুটি স্পিকারের

ছবি: ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কলমাকান্দায় সড়কের পাশে রোপণ করা গাছের চারা ও সুরক্ষাবেষ্টনী উপড়ে ফেলার ঘটনায় জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাবনি এলাকায় উপড়ে ফেলা গাছগুলো পরিদর্শন করে এই নির্দেশ দেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একই সঙ্গে ঘটনার দুই দিন পার হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘গাছ শুধু গাছ নয়, এটি একটি জীবন। আমি বলব, এই গাছগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। যারা এই কাজ করেছে, আল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত করেন।’ তিনি বলেন, গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষকে অক্সিজেন দেয়। অনেক যত্ন ও সময়ের পর একটি চারা বড় গাছে পরিণত হয়। রাতের আঁধারে এভাবে গাছ উপড়ে ফেলা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল কে বা কারা এই গাছগুলোকে হত্যা করেছে, তা খুঁজে বের করা। দুই দিন চলে গেলেও তারা কিছুই করতে পারেনি। আমি প্রশাসনের দিকে নির্দেশ করব, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যেন গাছ হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুর্বৃত্তদের এমন কর্মকাণ্ডে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বন্ধ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, একই এলাকায় নতুন করে আরও এক হাজার ২০০ গাছের চারা রোপণ করা হবে। পাশাপাশি রোপণ করা গাছের সুরক্ষা ও পরিচর্যার ব্যবস্থাও করা হবে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে কলমাকান্দা-নেত্রকোনা সড়কের বাবনি এলাকায় এক হাজার ২০০ চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডেপুটি স্পিকার। এর আগে তাঁর নির্দেশনায় উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের তত্ত্বাবধানে গত ৫ আগস্ট ওই সড়কের পাশে পাঁচ শতাধিক ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল।

স্থানীয়দের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এই গাছগুলো শুধু সরকারের নয়, এগুলো সবার সম্পদ। সবাইকে গাছ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। একটি গাছ রক্ষা করা মানে একটি জীবন রক্ষা করা।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মুনমুন জাহান লিজা, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার সাব্বির হাসান, কলমাকান্দা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ খায়ের প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট রাতে বাবনি এলাকায় সড়কের পাশে রোপণ করা ৩৫টি গাছের চারা ও সুরক্ষাবেষ্টনী কে বা কারা উপড়ে ফেলে। গত বুধবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। ঘটনার পর জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি ওঠে।


নির্বাচিত

ঘিওর খাদ্যগুদামে গরমিল, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে মজুত যাচাই করতে গিয়ে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম রয়েছে। একই সঙ্গে মজুদের চেয়ে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া গেছে। এছাড়া ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তারও হিসাব পাওয়া যায়নি। সরকারি খাদ্যগুদামে ঘাটতি ও হিসাবের গরমিলের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব রায়হান জানান, এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া তাদের দুই জনকে বদলি করা হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি মাসের ১৫ আগস্টের নিয়মিত পাক্ষিক প্রতিবেদনে ঘিওর খাদ্যগুদামের মজুত পরিস্থিতি ঠিকঠাক দেখানো হয়েছিল। কিন্তু এর মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে খাদ্য অধিদপ্তরের বিশেষ অডিটে বেরিয়ে আসে বড় ধরনের গরমিল। অডিটে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি, ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তার হিসাব না থাকা এবং মজুদের তুলনায় ৪১ টন ধান বেশি থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

এতে প্রশ্ন উঠেছে, ১৫ আগস্টের প্রতিবেদনে মজুত স্বাভাবিক দেখানোর পর মাত্র ১০ দিনের মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের ঘাটতি কীভাবে হলো। নিয়মিত মজুত যাচাই ও গুদাম তদারকিতে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দেশের প্রতিটি খাদ্যগুদামে বিশেষ অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। গরমিল পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার দুপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পরিদর্শনের পর ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা হয়।

মজুতের এই অসঙ্গতি হিসাবের ভুল, দায়িত্বে অবহেলা নাকি অন্য কোনো অনিয়মের ফল তা বিভাগীয় তদন্তেই স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিগগিরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হচ্ছে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতি, দুঃশাসন, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দারের সঙ্গে আলোচনা করেন। এসব সরাসরি বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের দায়িত্ব এককভাবে মালয়েশিয়া সরকারের ওপর ন্যস্ত করা হয়। ওই সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকায়, মালয়েশিয়া সরকারের আরোপিত শর্ত পরিবর্তন করা বাংলাদেশের পক্ষে সহজ নয়।

তবে বর্তমান সরকার মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা ও নেগোসিয়েশন করেছে-উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার নিজস্ব আইনি শর্ত ও নীতিমালার সঙ্গে সর্বোচ্চ সমন্বয় রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ ও সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম সাফল্য।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ‘জিরো কস্ট’-এ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বিমান ভাড়াসহ সব ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই এসব কর্মীর প্রথম বহর সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মধ্য দিয়ে শ্রমবাজারটি পুনরায় চালু হবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রধান পাঁচটি দেশের মধ্যে নেপাল ও বাংলাদেশের জন্য ২৫টি করে এবং ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের জন্য ১০টি করে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি মালয়েশিয়া সরকারের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি বিগত অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকায় রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ৪২৩টি এজেন্সির মধ্যে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে অবশিষ্ট এজেন্সিগুলোকে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানায়।

গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশকে এ সুযোগ দিয়েছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়। এর আওতায় মালয়েশিয়া তাদের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচিত করেছে এবং বাংলাদেশের অবস্থানকে সম্মান জানিয়ে আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ হিসেবে কর্মী প্রেরণের সুযোগ দিচ্ছে।

এর পাশাপাশি, একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলও এ প্রক্রিয়ায় কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে বিদ্যমান বহুবিধ নিয়মতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একযোগে বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সির মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণের সুযোগকে একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এজেন্সি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি সম্পন্ন করেছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, অতীতে এ ধরনের স্বচ্ছ ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের কোনো নজির ছিল না। এ বাছাই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হলে নতুন সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে বলেও মন্ত্রণালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যমান মেডিকেল সেন্টার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে প্রতিটি মেডিকেল সেন্টার সরেজমিনে পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ায় এ প্রক্রিয়ায় সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

এ অবস্থায় মালয়েশিয়া সরকার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, শ্রমবাজার চালুর সঙ্গে সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে নতুন নীতিমালার আলোকে যাচাই-বাছাই করে মেডিকেল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করবে।

কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে অতীতের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ, সরাসরি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কাজে যোগদান এবং মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়মিত বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ ছাড়া, অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণকে ঘিরে নানামুখী বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে যে প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, তা দেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে।

এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সব অংশীজনকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দালাল ও প্রতারক চক্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল টেস্ট কিংবা পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

খাদ্যের খোঁজে লোকালয়ে বানর, নষ্ট করছে ফসল

* তীব্র খাদ্যসংকটে ৭০০ বানর
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আল-আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)

অনেক বছর আগেই বনদস্যুরা ধ্বংস করেছে সন্তোষপুরের প্রাকৃতিক ও সামাজিক বনায়ন। বন ধ্বংসের কারনে হারিয়ে গেছে বন্যপ্রাণি। পাল্টে গেছে বনায়নের সেই চিরাচরিত পুরোনো অবয়ব। বনের শোভাবর্ধণ হিসেবে বিট অফিস সংলগ্ন শালবনকে ঘিরে রয়েছে অনন্ত ৭ শতাধিক বানর। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ফলদ গাছগাছালি না থাকায় এসব বানর রয়েছে চরম খাদ্য সংকটে । এরই মধ্যেই আরও অন্তঃত দুইশতাধিক মা বানর বাচ্চার জন্ম দিয়েছে। বাচ্চা গুলোর বয়স তিন থেকে চার মাস হবে। নতুন এসব অতিথির আগমনে বানরের খাদ্যসংকট তীব্র হওয়ায় বানর দল লোকালয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

টাংগাইল জেলার মধুপুর বনাঞ্চলের কুল ঘেষা ফুলবাড়িয়ার উপজেলার সন্তোষপুর বনভূমি। তিনটি মৌজায় তিন হাজার ৬৩৯ একর বনাঞ্চল ছিল। শাল, সেগুন, চাম্বলসহ নানা প্রজাতীর বৃক্ষরাজিতে ভরপুর ছিল। মেছোবাঘ, ভাল্লুক, হরিণ, সজারো, হনোমান, বাঘডাস, বানর, শিয়াল ও খরগোশসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অভয়ারন্য ছিল। নব্বই দশকের শুরু থেকে বনদস্যুরা বনাঞ্চলের গাছ উজাড় করতে শুরু করে। প্রাকৃতিক বনায়ন ধ্বংস করায় হারিয়ে গেছে এসব বন্যপ্রাণী। সবুজ বনায়ন ফিরিয়ে আনতে বনে সামাজিক বানায়ন শুরু করে বন বিভাগ। শুরুটা ভালো হলেও পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সামাজিক বনায়নের অসংখ্য গাছ কেটে কৃষি জমিতে রূপান্তরিত করে আনারস, কলা, হলুদসহ নানা ধরনের চাষাবাদ করছেন।

বিট অফিস জানায়, সন্তোষপুর বিটে তিনটি মৌজায় তিন হাজার ৬৩৯ একর বনাঞ্চলের মধ্যে সমাজিক বনায়ন ৩ হাজার ৮১.৫৪ একর। ২০১৯ সালে শেষে দিকে ৩২৫ হেক্টর জমিতে টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) বাগান করে বন বিভাগ। স্থানীয় প্রভাবশালীরা ১৭৩.২ একর জমি জবর দখল করে বাড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস করছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ৫০ একর ও ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে বন বিভাগ ৭৫ একর জমি উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত ৭৫ একর জমিতে বনায়ন করা হয়েছে, চলতি জুন মাসে আরও ৫০ একর জমিতে গাছের চারা লাগানো হবে।

সন্তোষপুর বিট অফিস সংলগ্ন ৫০ একর শালবন রয়েছে। শাল বাগান ঘিরে অনন্ত সাত শতাধিক বানরের বসবাস। বানর সংঘ্যবদ্ধ প্রাণি, দলবেঁধে চলাচল করে। চারটি দলে বিভক্ত এসব বানর। প্রতিটি দলে ১৫০ থেকে ২০০ বানর রয়েছে। শালবনের আশপাশেই বনের জমিতে প্রভাবশালীদের আনারস ও কলা গাছের বাগান করা। বানরের হাত থেকে এসব ফসল রক্ষা করতে শ্রমিকরা লাঠি ও বাটুল হতে নিয়ে পাহারায় বসে থাকেন। বানর গুলো আসতে দেখলেই তারা লাঠি ও বাটুল দিয়ে আক্রমণ করেন। যে কারনে শাল বনের বাহিরে যেতে পারেনা বানর গুলো। সন্তোষপুর গ্রামটিতে রয়েছে বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বশিউক) ১০৩৬ একর জমিতে রাবার প্রকল্প।

উপজেলা প্রশাসন থেকে বছরের দুই বার বানরের খাবারের জন্য সরকারি ভাবে দুই টন করে চাল দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকালে বিট কর্মকর্তা শাল বনে ৮ থেকে ১০ কেজি করে চাল বানরদের খাবারের জন্য ছিটিয়ে দেয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিট অফিসের দক্ষিণ পশ্চিম পাশে প্রায় শাল বন ও রাবার বাগানের পাশের রাস্তায় শত শত বানর ছুটাছুটি করছে। ৩০ থেকে ৩৫ টি বানরের বুকে পিঠে ছোট বাচ্চা আগলে ধরে লাফালাফি করছে। বানরের তুলনায় দর্শনার্থীদের দেওয়া খাবার অপ্রতুল্য হওয়ায় বনের পাশে থাকা মানুষের আনারসসহ রোপিত ফসল নষ্ট করছে।

সন্তোষপুর গ্রামের শিক্ষক রুস্তম আলী জানিয়েছেন, একসময় বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীদের অভয়ারণ্য ছিল। প্রকৃতিক বন ধ্বংস করায় এসব প্রাণি হারিয়েগেছে। বিট অফিস সংলগ্ন শত শত বানর রয়েছে। প্রতি বছর বানরের সংখ্য বাড়ছে। বনে খাদ্য না থাকায় এসব বানরের খাদ্যসংকট চরমে।

সন্তোষপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেছেন, বানর গুলো আগে দল বেঁধে রাবার বাগানে গিয়ে গাছের বীজ খেয়েছে। পুরাতন বাগান কেটে নতুন বাগান করায় এখন বীজ নেই। বনের ভিতরে আনারস, কলা গাছের বাগান করা। বানরের দল যাতে বাগান নষ্ট না করতে পারে সে জন্য কৃষকেরা বাগান পাহারা দেওয়ার জন্য শ্রমিক রেখেছে।

সন্তোষপুর বিট কর্মকর্তা মোহাঃ এমদাদুল হক বলেছেন, বিট অফিসকে ঘিরে শত শত বানর রয়েছে। অসংখ্য বানর বাচ্চা দিয়েছে। বানরের খাবারের জন্য সরকারি ভাবে কোন অর্থ বরাদ্দ নেই। উপজেলা প্রশাসন বছরে দুই বার ৪ টন চাল দেয়। প্রতিদিন সকালে ৮ থেকে ১০ কেজি চাল বানরের খাবারের জন্য দেওয়া হয়। শেষ হয়ে গেলে আর দিতে পারিনা। বিট অফিসের আশপাশে ফলগাছ রয়েছে, এসব গাছের ফল খায়। তবে পর্যাপ্ত না। বানরের কিছুটা খাবার সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি জবর দখলকারীদের কাছ থেকে ১২৫ একর বনের জমি উদ্ধার করা হয়েছে। ৭৫ একর জমিতে বনায়ন করা হয়েছে আরও ৫০ একর জমিতে বনায়ন করা হবে।


নির্বাচিত

জীবননগরে পাটের আঁশ সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষক, ভালো ফলনে খুশি চাষিরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

পাট কেটে জাগ দেওয়ার পর এখন পাট থেকে সোনালী আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার চাষিরা। উপজেলার বিভিন্ন খালবিল, বাঁওড়, ডোবা, পুকুর ও জলাশয়ে কৃষকদের পাট জাগ দেওয়া ও পাটের আঁশ ছাড়ানোর দৃশ্য চোখে পড়ছে। এদিকে সময় মত বৃষ্টি ও আবহাওয়া ভালো থাকায় পাটের ভালো ফলন আশা করছেন চাষিরা। বাজারে পাটের বেশ চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।

সরজমিনে দেখা যায়, জীবননগর উপজেলার খালবিলে গিয়ে কৃষকদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। কেউ পাট কেটে জাগ দিচ্ছেন, কেউ পাট থেকে সোনালী আঁশ সংগ্রহ করছেন, কেউ আবার ধোঁয়া পাট ও পাটখড়ি রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও পাটের আঁশ রোদে শুকাতে অংশ নিয়েছে।

উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের পাটচাষি মসলেম উদ্দিন বলেন, মাঠে আড়াই বিঘা জমিতে পাট রোপণ করেছিলাম। এবার সময়মত বৃষ্টি হওয়ার কারনে গাছগুলো বেশ ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ১০ মন পাট হওয়ার আশা করছি। তাছাড়াও গাঙে এবার পানিরও অভাব হয়নি। ভালোভাবে জাগ দেওয়া গেছে। বাজারে পাটের মোটামুটি ভালো দাম শুনছি। এমন দাম থাকলে কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পাবো।

উথলী গ্রামের পাট চাষি আবু মিয়া বলেন, আল্লাহর রহমতে এবার পাট ভালো হয়েছে। এখন আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। পাট ছাড়াও পাটখড়ির চাহিদা রয়েছে অনেক। পাটখড়ি ৫০ টাকা আটি বিক্রি করা হচ্ছে। লোকজন বিল থেকেই নিজ খরচে পাট খড়ি নিয়ে যাচ্ছে। এটা বিক্রি করে খরচ-খরচার টাকা কিছুটা সাশ্রয় হবে। এখন আঁশগুলো বাড়িতে নিয়ে বাঁশ দিয়ে আড়া তৈরি করে রোদে শুকাতে হবে।

জানা গেছে, পাট ৩২০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা মন বিক্রি হচ্ছে। পাটের রং ভালো হলে দাম আরও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর যে পাটখড়ি পাওয়া যায় সেটারও রয়েছে বেশ চাহিদা। প্রতি আটি পাটখড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। যেটা বিক্রি করে কৃষকদের উৎপাদন খরচ উঠে যাচ্ছে।

জীবননগর কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, জীবননগরের মাটি পাট চাষের জন্য উপযুক্ত। চলতি বছরে এ উপজেলায় মোট ১৬২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পরিমাণ মত বৃষ্টি হওয়ার কারনে পাট জাগ দিতে কৃষকদের ঝামেলা পোহাতে হয়নি। তাছাড়া বর্তমান বাজারে পাটের দাম ভালো আছে। আশা করছি কৃষকরা পাটের ন্যায্য মূল্য পাবেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে ঠাকুরগাঁওয়ে হাফ ম্যারাথন প্রতিযোগিতা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহেল রানা, ঠাকুরগাঁও

দৌড় শুধু শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নয়। কখনো কখনো দৌড় হয়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধন তৈরির ভাষা। আর সেই দৌড়ের ছন্দেই এবার এক হলো দেশের ৩০ জেলার মানুষ। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত হলো হাফ ম্যারাথন। যে আয়োজন উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশের ২৩তম নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

স্বাস্থ্য, সম্প্রীতি আর বন্ধুত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এই আয়োজন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে ছিল উৎসবের আমেজ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। নীরব শহরটায় হঠাৎই যেন ছন্দের জন্ম হলো। আবুল হোসেন সরকার ডিগ্রি কলেজ থেকে কেউ ছুটছেন নিজের রেকর্ড ভাঙতে, কেউ ছুটছেন সুস্থ থাকার প্রত্যয়ে। আবার কারও কাছে—এই দৌড়, মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্বের এক নতুন গল্পের সূচনা।

ম্যারাথনে অংশ নেওয়া ঢাকা থেকে আসা কিশোরী জিন্নাত পারভীন বলেন, “এ ম্যারাথন শুধুই একটি প্রতিযোগিতা নয়, একটি জেলার সঙ্গে আরেকটি জেলার, একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের হৃদয়ের সংযোগ। ‘সুস্থতা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের জয়গানে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও রানার্সের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘ঠাকুরগাঁও হাফ ম্যারাথন ২০২৬’। আর আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে মেসার্স গার্ডেনিয়া। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি আবেগের গল্প। রাষ্ট্রপতির জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এই হাফ ম্যারাথন উৎসর্গ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। আয়োজকদের ভাষ্য— একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে যেমন তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন, তেমনি খেলাধুলার সঙ্গেও রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদী রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান জানাতেই এই আয়োজনকে উৎসর্গ করা হয়েছে।”

তরুন রানার এলিন খান বলেন, ‘একজন দৌড়বিদের কাছে প্রতিটি কিলোমিটার মানে নতুন এক চ্যালেঞ্জ। শ্বাস ভারী হওয়া, পা ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, কিন্তু থেমে যাওয়া না। কারণ গন্তব্য শুধু ফিনিশিং লাইন নয়— গন্তব্য নিজের সীমাবদ্ধতাকে জয় করা। আর সেই জয়কে উদযাপন করতেই যেন একসঙ্গে ছুটছি আমরা।’

তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজনের গল্প শুধু দৌড়েই শেষ হয়নি। অতিথি ও দৌড়বিদদের মন প্রফুল্ল রাখতে তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির সৌন্দর্য। আয়োজক কমিটি দৌড়ের পাশাপাশি দৌড়বিদদের ঘুরে দেখিয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো।

ঠাকুরগাঁও এবার শুধু একটি ম্যারাথনের আয়োজক নয়, ৩০ জেলার মানুষের মিলনমেলারও সাক্ষী।

ঠাকুরগাঁও রানারের পৃষ্ঠপোষক নুর ই শাহাদাত স্বজন বলেন, ‘আমরা চাই খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করতে। রাষ্ট্রপতির জেলা হিসেবে ঠাকুরগাঁওকে সামনে তুলে ধরতে এবং তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা এ ম্যারাথন রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করছি।’

দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিওর) নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান। এ সময় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিরোধীদলের আন্দোলন দেশের জন্য ক্ষতিকর: পানিসম্পদমন্ত্রী

শুক্রবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় এক মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘বিরোধীদল লংমার্চ দিয়েছেন, আবার বলছেন আন্দোলন করবেন। দেশটা যদি আন্দোলনের ওপর থাকে তাহলে এলাকার উন্নয়ন হবে না। এ আন্দোলন এলাকার জন্য ক্ষতি, দেশের জন্য ক্ষতি।’

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকায় এসডিএফ-এর ‘বি স্ট্রং’ প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আরেকটি পক্ষ আমাদের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে, তারা এখন বিরোধী দলে। আমরা যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন তারা উপস্থিতও হয়নি এবং আমাদের সহযোগিতাও করেনি। এখন পর্যন্ত তারা আন্দোলনের কথা বলছে।'

তিনি আরও বলেন, ‘হাসিনার বিরুদ্ধে আমরা ১৭ বছর আন্দোলন করেছি। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তার সরকারের সময় দেশও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবাই মিলে আন্দোলন করে দেশকে রক্ষা করেছি, দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছি। এখন আমাদের কাজ হলো এই অর্জনকে সুরক্ষা করা এবং নতুনভাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। এ কাজে বিরোধীদলের সহযোগিতা প্রয়োজন।'

বিরোধীদলের আন্দোলন প্রসঙ্গে এ্যানি বলেন, 'বিরোধীদল আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে জিম্মি করতে চাচ্ছে। অতীতে হাসিনা যেভাবে ১৭২ দিন হরতাল দিয়ে দেশের মানুষকে জিম্মি করে ক্ষমতায় এসেছিল। পরে দেশের ১২টা বাজিয়ে দিয়েছে ১৭ বছরে। এখন বিরোধীদল মনে করছে, আন্দোলন করলে বিএনপি দুর্বল হয়ে যাবে, তারেক রহমান দুর্বল হয়ে যাবেন, মন্ত্রী-এমপিরা দুর্বল হয়ে যাবেন। সেই সুযোগে জনগণ বাধ্য হয়ে তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে। সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না।'

এ সময় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থেকে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সুরক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে আড়াই-তিন বছরের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাবে। তারেক রহমানের পিতা জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশকে স্বনির্ভর করেছেন। উনার মা বেগম খালেদা জিয়া গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে জনগণের সঙ্গে কাজ করেছেন, দেশের উন্নয়ন করেছিলেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ৫ বছরে এ ধরনের কাজ হলে, আমাদের মুখে হাসি ফোটার সম্ভাবনা রয়েছে।’

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রব, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রব, সাধারন সম্পাদক ইউছুফ ভুঁইয়াসহ অনেকে।


নির্বাচিত

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলিতে ৫ বছরের শিশু নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলিতে মোজাহেদ নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের এ ঘটনায় শিশুটির মা তাহেরা বেগমসহ আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়ায় দায়িত্বরত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উপ-অধিনায়ক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুতুপালং ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার দিকে তারা শতাধিক গুলির শব্দ শুনতে পান। এতে পুরো ক্যাম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।

গোলাগুলির সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় পাঁচ বছরের মোজাহেদ। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা নূর আলমের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্যদের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে গোলাগুলির কারণ এবং এতে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নির্বাচিত

টাকার লোভে ফুলবাড়ির কাস্টমস সিপাহি রায়হানকে হত্যা করে

* ২৩ দিন পর ঘাতকরা গ্রেপ্তার
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

কাস্টমসের সিপাহী আবু রায়হান তালুকদারকে নিজ ঘরে নৃশংস ভাবে হত্যার করে ঘুমিয়ে পড়ে ঘাতক কেয়ারটেকার। পরের দিন মরদেহটি ১৫ টুকরো করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে রাতে বাড়ির পাশে থাকা পরিত্যাক্ত পুকুরে ফেলে রেখে। লাশ উদ্ধারের ২৩ দিন পর বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুলকে মঙ্গলবার রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা শুভ্র।

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) সহকারী পুলিশ সুপার এস,এম হাসান ইস্রাফীল, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মশিউর রহমান আসামীদের নিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাপাতি, দুটি চাকু, একটি লোহার রড, রক্তমাখা পাঞ্জাবি, বালিশ, কাভার তোলা ও একটি কাঠের গুড়ি উদ্ধার করেছে।

ফুলবাড়ি উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রমের মৃত আবু বকর সিদ্দিকের কনিষ্ঠ ছেলে আবু রায়হান তালুকদার (৪৫)। বাংলদেশ কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট দপ্তর কমলাপুরে সিপাহী পদে কর্মরত ছিল। গত ২৩ জুলাই রাতে বাড়িতে আসেন। ২৬ জুলাই কর্মস্থলে না যাওয়া তার এক সহকর্মী নাজমুন্নাহার বিউটি বাড়িতে ফোন করে জানায় সে অফিসে আসেনি। পরের দিন তার বড় ভাই মো. নুরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর বাড়ির কেয়ারটেকার পাশ্ব©বর্তী অনন্তপুর গ্রামে ফজলু মির্জার ছেলে রাজু (১৮) ও একই গ্রামের তার বন্ধু জিতুল (১৯) গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিল। পরে নিহতের বড় ভাই রাজু ও জিতুলের নামে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, আবু রায়হান তালুকদার কর্মস্থল থেকে বাড়িতে আসার পরের দিন তার নিজ ঘরে হত্যা করে ঘুমিয়ে পড়ে ঘাতক। পরে ঘরেই চাপাতি ও চাকু দিয়ে মরদেহটি হাত, পা মস্তকসহ ১৫ টুকরো করে। এসয় অতিরিক্ত সাউন্ড দিয়ে গান বাজায়। পরে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে রাখে। পরে তারা মৌলভী বাজারের শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। একটি হোটেলে চাকরিও ঠিক করেন।

ত্রিশাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস, এম হাসান ইস্রাফীল জানিয়েছেন, রায়হান তালুকদারকে নিজ ঘরে হত্যা করে ১৫ টুকরো করা হয়। পরে ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশে পুকুরে ফেলে রেখে ঘাতকরা। গত চারদিন টানা অভিযান চালিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামীদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, চাকুসহ বিভিন্ন আলমত সংগ্রহ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

কুমিল্লায় সীমান্তের মাদকে বিপথে কিশোর-তরুণ

* টাকা জোগাড়ে বাড়ছে চুরি-ছিনতাই
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

সীমান্তবর্তী কুমিল্লায় কাঁটাতারের ফাঁক-ফোকর দিয়ে আসা মাদকের বিষে নীল হয়ে যাচ্ছে কিশোর-তরুণদের একটি অংশ। নগরীতে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। একই চিত্র গ্রামের পাড়া-মহল্লাতেও। সহজলভ্য মাদকের টাকা জোগাড় করতে কিশোর-তরুণদের কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে। মাদকের বিস্তারে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের জেলাগুলোর মধ্যে কুমিল্লায় মাদকাসক্তের সংখ্যা বেশি। জেলার ১২টি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে মাদকসেবীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে মাদকবিরোধী অভিযান চললেও মাদকের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তার হচ্ছে মূলত বাহক ও খুচরা বিক্রেতারা।

কুমিল্লা নগরীতে মাদকের বড় একটি অংশ প্রবেশ করছে সীমান্তবর্তী বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, সদর, সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব উপজেলায় পাঁচ শতাধিক মাদক কারবারি সরাসরি মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিভিন্ন রুটে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি কুমিল্লা ১০ বিজিবির দপ্তরে প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। এর বাইরে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে নিয়মিত জব্দ হচ্ছে মাদকের চালান।

সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল রেলস্টেশনও মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে মাদক কারবারিদের তৎপরতা দীর্ঘদিনের। এমনকি মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদেরও বাধার মুখে পড়তে হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী আবুল হোসেন জানান, তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা। ট্রেনে করে মাদক ও চোরাচালানের বিষয়ে নিউজ হলে একদিন অভিযান হয়। মাসের বাকি ২৯ দিন সবকিছু আগের মত পাচার হয়।

সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক নগরীর বিভিন্ন অলিগলি, ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রকাশ্যেই সেবন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের একটি অংশও মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে। নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, এখন অলিতে গলিতে ১৫-২০ বছরের ছেলেরা সবার সামনে গাঁজা ইয়াবা সেবন করছে। কেউ কিছু বললেই পুরো গ্যাং নিয়ে এসে হামলা করে। তাই ভয়ে কেউ কিছু বলে না।

কাপ্তানবাজার এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোডেন বলেন, গেলো এক বছরে যে পরিমান ডিশলাইনের তারসহ ছিকচে চোর ও ছিনতাইকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তা গত ৫০ বছরেও দেখা যায়নি। শুধুমাত্র মাদকের টাকা জোগাড়ে চুরি ছিনতাই বেড়েছে।

অভিযান চলছে, সীমাবদ্ধতাও রয়েছে :

কুমিল্লায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় তিনতলার একটি ভাড়া বাসায় চলছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়। সেখানে একজন উপপরিচালক ও দুজন পরিদর্শকসহ মোট জনবল ২৬ জন।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে ২৫৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ২৮৪ জনকে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল ও পরিবহন সুবিধা কম থাকায় পর্যাপ্ত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুমিল্লা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. বজলুর রহমান বলেন, জনবল ও পরিবহন সংকটের মধ্যেও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ২৫৬টি মামলা করা হয়েছে এবং এসব মামলায় ২৮৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু অভিযান নয়, মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিটের সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি।

সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনুর দাবি, লোক দেখানো অভিযান নয়, মাদকের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সীমান্ত থেকে নগরীর অলিগলি পর্যন্ত মাদক সরবরাহের পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্ত কিশোর-তরুণদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগও বাড়াতে হবে।

মূল হোতাদের বিরুদ্ধে অভিযান হবে জানিয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরি করে মূল হোতাদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে গাঁজা, মদ ও ইয়াবার পাশাপাশি নতুন ধরনের কিছু মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এসব মাদক ইনজেকশনের মাধ্যমে সেবন করতে হয়। সীমান্ত দিয়ে এসব মাদক যাতে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সীমান্তে ড্রোনসহ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।

সরাইল রিজিয়ন বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

মাগুরায় সার মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির দায়ে জরিমানা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা সদরের আলমখালী বাজারে অবৈধভাবে সার মজুদ এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় মেসার্স আলীম ট্রেডার্স নামে এক সার ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে দোকান থেকে ৭৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে আলমখালী বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে মেসার্স আলীম ট্রেডার্সের দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধভাবে সার মজুদ এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির সত্যতা পাওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অভিযানকালে দোকান থেকে ৭৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত সার ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের স্বার্থে সার মজুদ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

হাতির পিঠে চড়ে আগাম প্রচারণায় সেলুন ব্যবসায়ী ফেরদৌস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। ভোটের তারিখও নির্ধারিত হয়নি। তবে এরই মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম তৎপরতা শুরু হয়েছে। আর সেই প্রচারণায় ব্যতিক্রমী আয়োজন করে আলোচনায় এসেছেন সেলুন ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস মিয়া।

হাতির পিঠে চড়ে ঢাকঢোল ও ব্যান্ড পার্টি নিয়ে তিনি এলাকায় প্রচারণা চালিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বিন্নাটি চৌরাস্তা মোড়ে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ সড়কে দেখা যায় এ দৃশ্য। হাতির পিঠে বসে ফেরদৌস মিয়া এগিয়ে যাচ্ছিলেন, আর তার সঙ্গে চলছিল ব্যান্ড পার্টির বাদ্যযন্ত্র। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে উৎসুক মানুষ এ আয়োজন দেখেন, অনেকে আবার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, ফেরদৌস মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিন্নাটি বাজারে সেলুনের ব্যবসা করছেন। ব্যবসার সুবাদে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার পরিচিতি তৈরি হয়েছে। কয়েক বছর ধরে তিনি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজে অংশ নিচ্ছেন। এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ইচ্ছা নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

ফেরদৌস মিয়া বলেন, তার মায়ের ইচ্ছা ছিল তিনি একদিন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই মা মারা যান। মায়ের সেই ইচ্ছাকেই নিজের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, হঠাৎ করে নয়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। এলাকার সুখ-দুঃখে অংশ নিয়েছেন। তাই ভোট হলে সাধারণ মানুষ তাকে সমর্থন করবেন বলে তার বিশ্বাস।

স্থানীয় বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, সেলুন ব্যবসার কারণে ফেরদৌস মিয়া এলাকায় পরিচিত মুখ। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ থেকেই তিনি হাতি নিয়ে ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালিয়েছেন।

ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, ফেরদৌস চার-পাঁচ বছর ধরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুই ছেলেকে নিয়ে সেলুন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল না হলেও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন বলেই তারা তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন।

ফেরদৌসের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, তাদের দাদির ইচ্ছা ছিল তার বাবা চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন। পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী তারা বাবার পাশে থাকবেন এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন নিয়েই এগিয়ে যেতে চান।


নির্বাচিত

banner close