রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

রূপগঞ্জে ছাত্রদলের দুই  পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৭

রূপগঞ্জে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০৮
প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০৭

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে।

উপজেলার ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বুধবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুস্তাফিজুর রহমানের সমর্থক ও ছাত্রদল নেতা নাহিদ হাসানকে সভাপতি ও জুবায়ের রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান মনির সমর্থিত ছাত্রদল নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদসহ তাদের অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হন। বিভিন্ন সময় মাসুদুরের নেতৃত্বে পদবঞ্চিতরা বিক্ষোভও করেন।

বুধবার নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় ছাত্রদলের নতুন কমিটির নেতাদের পরিচিতি সভা হওয়ার কথা ছিল। সে লক্ষ্যে ভুলতা-গোলাকান্দাইল এলাকায় পদধারীদের অনুসারীরা বাসে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে পদবঞ্চিত মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে পদবঞ্চিতরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আশপাশের মার্কেট ও হাটবাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হামলায় আবু হোসেন, নিরা দাস, মোহাম্মদ শুভ, ইমরান হোসেনসহ অন্তত ৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তার লোকজনের ওপর হামলা করা হয়েছে। এর উপযুক্ত বিচার না হলে ছাড় দেয়া হবে না।

হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতা মাসুদুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির দুঃসময়ে আমরা হাল ধরেছি। মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে অন্যদের পদে আনা হয়েছে।’

মাসুদুর রহমান বলেন, ‘সম্পূর্ণ দুর্নীতি করে জেলা ছাত্রদলের কমিটি দেয়া হয়েছে। এ কমিটি বাতিল করে নতুন করে ত্যাগী ও নির্যাতিতদের পদ দেয়া হোক।’

দুই পক্ষের সংঘর্ষের বিষয়ে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার ব্যাপারে আমাদের জানা নেই। খোঁজখবর নেয়া হবে।’

বিষয়:

চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ কমিটিতে সভাপতি-সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ১৪০০ জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরই মধ্যে গঠন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আগ্রহীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এ দুটি পদে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন ১৪০০ জন। তারা পদে আসতে নানাভাবে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি নগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে জীবনবৃত্তান্ত গ্রহণ করা হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি ছিল শেষদিন। পরে সময় বাড়িয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়।

জানা গেছে, প্রায় দুই দশক ধরে নগর ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ এমইএস এবং সিটি কলেজ বলয়কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। এবারও নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে এই দুটি কলেজের ছাত্রদের আধিক্য বেশি। তবে এবার নতুন কমিটির শীর্ষ দুটি পদের একটি এই দুই কলেজের বলয়ের বাইরে যেতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ১৪০০টি জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়লেও আলোচনায় আছে ১৫ থেকে ২০ জন। এদের মধ্যে থেকেই শীর্ষ পদে আসতে পারেন। তাদের বেশির ভাগই নগরের এমইএস, সিটি ও ইসলামিয়া কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগ নেতা। তবে এবার তিন কলেজকে ডিঙিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ সরকারি মহসীন কলেজ। ১৯৮২ সাল থেকে সাড়ে তিন দশক ধরে ছাত্রশিবিরের দখলে ছিল চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসীন কলেজ। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শিবিরের দখলমুক্ত করে নগর ছাত্রলীগ। এরপর থেকে ছাত্রলীগের কার্যক্রম শক্তভাবে চলে আসছে। এ কারণে এ দুই কলেজকে প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নগর ছাত্রলীগের কমিটির জন্য পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা মূলত দুটি বলয়ে বিভক্ত। তাদের একটি পক্ষ হচ্ছে প্রয়াত সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। এই পক্ষ বর্তমানে মহিউদ্দিনপুত্র শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী বলে নিজেদের পরিচয় দেন। অন্য পক্ষটি হলো নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলয়ের।

ছাত্রলীগের নতুন কমিটির পদ ভাগিয়ে নিতে নওফেল ও নাছির অনুসারীদের মধ্যে স্নায়ু লড়াই চলছে। নগর যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটির শীর্ষ পদ ভাগিয়ে নিয়েছেন নওফেল অনুসারীরা। ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও কী নওফেল অনুসারীরা প্রাধান্য পাবে- তা এখন বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং নগর কমিটির সভাপতি পদপ্রত্যাশী মাহমুদুল করিম বলেন, ‘আমি সিভি জমা দিয়েছি। চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ শিবিরমুক্ত করতে আমরা কি করেছি সেটা সবাই জানে।

আমাদের প্রত্যাশা, ত্যাগী ও কর্মঠ কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে।’

নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, ‘নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের জানিয়েছি। তারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই দ্রুত কমিটি ঘোষণা করবেন বলে আশা করি।’

নগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. নূরুন নবী সাহেদ, ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হায়দার, কোতোয়ালি থানা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিন্দ্য দেব, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পলাশ, মহসিন কলেজের মায়মুন উদ্দীন, ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের জাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ হানিফ, সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের আশীষ সরকার, মুহাম্মদ তাসিন, ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের মীর মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, শাহাদাত হোসেন হীরা, ইমন হোসেন, আজিজুর রহমান, মিজানুর রহমান, নগর ছাত্রলীগের উপ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রাশেদ চৌধুরী, উপ-ছাত্রবৃত্তিবিষয়ক সম্পাদক এস এম হুমায়ন কবির আজাদ, নগর ছাত্রলীগ নেতা ফাহাদ আনিস ও খালেকুজ্জামান, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।

এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি এম এ আহাদ চৌধুরী রায়হান বলেন, চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে স্থান পেতে ১ হাজার ৪০০ বায়োডাটা জমা পড়েছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবেন কি করা যায়। কেন্দ্রের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেটা সিদ্ধান্ত নেবেন।

২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর ইমরান আহমেদ ইমুকে সভাপতি ও নুরুল আজিম রনিকে সাধারণ সম্পাদক করে নগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন নুরুল আজিম রনি। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরকে।


বাংলাদেশের সীমান্তে ভাসছিল বিএসএফ সদস্যের মরদেহ

শনিবার সকালে ইছামতি নদীর চর থেকে বিএসএফ সদস্যর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে বিজিবি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৮:৫১
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা দেবহাটা উপজেলার হাড়দ্দহায় ইছামতি নদীর চর থেকে এক ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) সদস্যর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার সকালে বিএসএফ সদস্যের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বিজিবিকে খবর দেন স্থানীয়রা।

সাতক্ষীরার শাখরা বিওপি ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নায়েক সুবেদার আনিসুর রহমান জানান, নিহত বিএসএফ সদস্যের নাম মোহাম্মাদ রিয়াজ উদ্দীন (৩০)। তিনি ভারতের ৮৫ বিএসএফ ব্যাটেলিয়নের আওতাধীন সোবাহাম বিএসএফ ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নদী ইছামতিতে টহলে বের হন। ওই সময় ঝড় ও বৃষ্টির কবলে পড়ে নৌকাটি উল্টে যায়। টহলে থাকা অন্য তিন সদস্য সাঁতার কেটে কুলে উঠতে পারলেও রিয়াজ ডুবে মারা যান। পরবর্তীতে ইছামতির বাংলাদেশ সীমান্তের পাড়ে মরদেহ ভাসতে থাকে। বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ উদ্যোগে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিএসএফ সদস্যদের কাছে মরদেহ ফেরত দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সানবির হাসান মজুমদারও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিষয়:

গজারিয়ায় অটোরিকশার ধাক্কায় নারী পথচারী নিহত

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৩৮
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা সড়কের গজারিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গজারিয়া ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াদ হোসেন।

নিহতের নাম সীমা আক্তার (২৮)। তিনি গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের টেংগারচর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল গাফফার মিয়ার মেয়ে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দ্রুত গতির একটি অটোরিকশা পথচারী সীমা আক্তারকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই রিয়াদ বলেন, ‘মরদেহ বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আমরা অটোরিকশাটি শনাক্তের চেষ্টা করছি।’


নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় শারমীন আক্তার (৩০) নামে এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সাটুরিয়ার ধানকোড়া ইউনিয়নে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত শারমিন আক্তার সাটুরিয়ায় ধানকোড়া ইউনিয়নের বরুন্ডি এলাকার মো. মনোয়ার হোসেনের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১২টার দিকে সাটুরিয়া কৃষি ইনস্টিটিউটের পাশে শারমীন আক্তারের গলাকাটা মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের গলায় ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও পুলিশ জানায়।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম মোল্যা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে তাকে জবাই করে হত্যা করা হতে পারে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বিষয়:

মোংলায় ৯৫০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ডুবোচরে আটকা লাইটার জাহাজ

আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:২৪
বাগেরহাট প্রতিনিধি

মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়া এলাকায় ৯৫০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে তলা ফেটে ডুবোচরে আটকা পড়েছে এমভি ইশরা মাহমুদ নামক একটি লাইটার জাহাজ।

জাহাজটি কয়লা বোঝাই করে শনিবার সকালে যশোরের নোয়াপাড়ায় যাওয়ার পথে মোংলার পশুর নদীর কানাইনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এসময় জাহাজটির চালক নৌযানটিকে নদীর তীরে উঠিয়ে দেয়ায় জাহাজটি পুরোপুরি ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।

বাংলাদেশ লাইটার শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সহ-সভাপতি মাইনুল হোসেন মিন্টু জানান, মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়া-৬ নম্বর এলাকায় অবস্থানরত এমভি পারস নামক একটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ৯৫০ মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই করে এমভি ইশরা মাহমুদ লাইটারটি। শনিবার সকালে লাইটারটি ছেড়ে যায় নোয়াপাড়ার উদ্দেশে। পশুর চ্যানেলের কানাইনগর এলাকায় ডুবোচরে আটকে তলা ফেঁটে যায় লাইটারটির। দ্রুত চালক নৌযানটিকে নদীর তীরে উঠিয়ে দেয়। এতে লাইটারটি ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপটেন শাহীন মজিদ জানান, লাইটার জাহাজটি পশুর নদীর জাহাজ চলাচলের মূল চ্যানেলের বাইরে থাকায় অন্যান্য জাহাজ বা নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বিষয়:

ভালো নেই মৃৎশিল্পের কারিগররা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাজুল ইসলাম, সারিয়াকান্দি (বগুড়া)

কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন ব্যবহার কমছে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের। প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে মাটির তৈরি এসব জিনিসের বদলে বাজার দখল করছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকসহ অন্যসব সামগ্রী। তাই প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মাটির তৈরি অনেক পণ্যই হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাটির তৈরি কিছু তৈজসপত্র এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। শহরবাসীর দালান-কোটা সাজাতে মাটির তৈরি নানা ফুলদানির কদর রয়েছে এখনো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার যমুনা তীরবর্তী ধাপ এলাকার ওই পল্লীর গোপাল চন্দ্র পালের স্ত্রী শ্রীমতি সন্ধ্যা রানী ও অমিল চন্দ্র পালের উঠানজুড়ে রয়েছে হাঁড়ি-পাতিল, কড়াই, মাটির ব্যাংক, পিঠা ভাজার খাঁচ, দইয়ের বাটিসহ ছোট-বড় নানা রকমের পাত্র। একাধিক বয়স্ক নারী-পুরুষ কারিগররা তাদের নিজ হাতে মাটি দিয়ে তৈরি করে শিল্পকর্মগুলো খুব যত্নসহকারে রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ তাতে রঙের কাজও করছেন। আর তাদের সাহায্য করছে পাড়ার ছোট ছোট বাচ্চারা। এ সময় কথা হয় গোপল চন্দ্র পালের সঙ্গে তিনি এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। অল্প কাজ করতেই হাঁপিয়ে ওঠেন।

তিনি আরও বলেন, ২০ বছর আগেও এ উপজেলায় মৃৎশিল্পের দাপট ও কদর ছিল। তখন উপজেলার অনেক পরিবার মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করত। ওই সময় গোটা উত্তরাঞ্চলে চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাটির তৈরি এসব তৈজসপত্র সরবরাহ করা হতো। তবে বর্তমানে এ উপজেলায় ধাপ এলাকার পাঁচ-সাত ঘর পরিবার মৃৎশিল্পের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। আগের মতো চাহিদা আর পারিশ্রমিকের ন্যায্যমূল্য না থাকায় এ পেশার লোকজন অত্যন্ত দুঃখ-দুর্দশা আর হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় অন্য পেশায় তেমন খাপ খাওয়াতে পারছেন না তারা। কম লাভ জেনেও শুধু পারিশ্রমিকের আসায় বাপ-দাদার পুরানো ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো মাটি দিয়ে তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের হাঁড়ি, সরা, কলস, বাসন, মুড়ি ভাজার খোলা, কোলা, ভাটি, পিঠা তৈরির খাঁজ ইত্যাদি।

তার স্ত্রী সন্ধ্যা রানী পাল বলেন, আগের তুলনায় মাটির হাঁড়ি-পাতিলের চাহিদা কম। কম তৈরি করছেন, বিক্রিও কম। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এ কাজ করে রোজগারের টাকা বাঁচিয়ে তিনি তার এক কন্যাসন্তানকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করিয়েছেন। এখন অর্থের অভাবে পরবর্তী শিক্ষা শেষ করাতে পারবেন কি না তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি কিংবা স্থানীয় মেয়র-কাউন্সিলরদের কাছ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অমিল চন্দ্র পাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, জন্ম থেকেই তিনি এ পেশায় জড়িত আছেন। বাপ-দাদার পেশাকে ধরে রাখতেই তারা এ পেশাকে আঁকড়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, আগে কলাগাছের পাতা দিয়ে মাটির তৈরি তৈজসপত্র পোড়ানো হতো। কিন্তু এখন তা আর পাওয়া যায় না। কাঠের গুঁড়া দিয়ে তাদের পোড়ানোর কাজ করতে হয়। এতে খরচ বেশি পড়ে। তা ছাড়া যে মাটি এক হাজার টাকায় কিনত বর্তমানে সেই মাটি ও জ্বালানির দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। শুধু বাড়েনি কুমোরদের পারিশ্রমিক। এখন তাদের টিকে থাকার আর কোনো রাস্তা নেই। এই কাজে হাড়ভাঙা খাটুনি অথচ আয় নামমাত্র। খরচ বাদ দিয়ে যে সামান্য আয় হয় তা দিয়ে খেয়েপরে বেঁচে আছেন। পরবর্তী বংশধরদের জন্য যে কিছু রেখে যাবেন, সে ব্যবস্থাও নেই তাদের। সন্তানরা এখন শিক্ষিত হয়ে এ পেশাকে পরিবর্তন করে জড়িয়ে যাচ্ছে অন্য পেশায়। তারপরও তারা তাদের এই পেশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মৃৎশিল্পকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন।

কথা হয় ইবুতি মোহন পালের স্ত্রী চায়নার সঙ্গে। তিনি বলেন, নিজের এলাকায় মৃৎশিল্প তৈরির মাটি না পাওয়ায় বগুড়ার মাটিডালি থেকে মাটি সংগ্রহ করতে প্রতি ট্রাকের খরচ হিসেবে আট হাজার টাকা দিতে হয়। তবে পণ্যের চাহিদা কম থাকায় এনজিও থেকে বেশি সুধে ঋণ নিয়ে তারা কোনোমতে নুনভাত খেয়ে বেঁচে আছেন।

শ্রী অমিল চন্দ্র পালের কলেজ পড়ুয়া ছাত্র উজ্জ্বল কুমার পাল বলেন, তিনি কাজীপুর সরকারি মুনসুর আলী কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র। তার বাবা-মা অনেক কষ্ট করে তার পড়াশোনার খরচ দিয়েছেন। লেখাপড়া শেষ করে বাপ-দাদার পেশাকে বাদ দিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তিনি দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে চান।


কোটি টাকা আত্মসাৎ ঘটনার কূলকিনারা হয়নি ২৩ দিনেও

আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৫:০০
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ভুয়া বিল-ভাউচারে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ২৩ দিনেও কোনো কূলকিনারা হয়নি। চিহ্নিত হয়নি টাকা আত্মসাৎকারীরা। এখনো হয়নি মামলা।

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জয়শ্রী মজুমদার রশ্মি বলেন, ‘আমাদের তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্ত শেষ হলেই বলা যাবে। এ বিষয়ে আমি কোনো কিছু বলতে পারব না।’

একই বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাবরক্ষক ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল আসিফ বলেন, ‘তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তদন্ত শেষ করতে আরও সময় লাগবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তর পাহাড়তলী থেকে পণ্য কেনার জন্য কোনো ধরনের টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। কেনাকাটা হয়নি কোনো পণ্য। কিন্তু পণ্য কেনাকাটা হয়েছে বলে ভুয়া বিল ভাউচার দাখিল করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দি কসমোপলিটন করপোরেশনের নামে গত ৩১ জানুয়ারি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে ৮৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে যায়। টেন্ডার ছাড়া ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি জানাজানির পর পূর্বাঞ্চল রেলে তোলপাড় শুরু হয়। এই ঘটনায় ১১ ফেব্রুয়ারি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব এবং অডিট শাখার ৭ কর্মকর্তা–কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া সাত কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন- রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাবরক্ষক মামুন হোসেন, মো. আবু নাছের, শিমুল বেগম, সৈয়দ সাইফুর রহমান, অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর ইকবাল মো. রেজাউল করিম ও অফিস সহায়ক মাকসুদুর রহমান।

পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে ৮ ফেব্রুয়ারি চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জয়শ্রী মজুমদার রশ্মিকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। এছাড়া হিসাবরক্ষক আব্দুল্লাহ আল আসিফকে সদস্যসচিব, সুগ্রীব চাকমা ও মো. জহিরুল ইসলামকে সদস্য করা হয়। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।

একই সঙ্গে কমিটিকে বলা হয়েছিল, কসমোপলিটন করপোরেশনকে পরিশোধ করা বিলটি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করা প্রয়োজন। কীভাবে বিলটি পাস ও পরিশোধ করা হলো যাচাই-বাছাই করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সুপারিশ করতে হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা মো. সাইদুর রহমান সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। রিপোর্ট পেলে সব পরিষ্কর হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে রেলের বেশ কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়। এর মধ্যে চারটি কাজের বিল তিন কোটি ৬২ লাখ টাকা কসমোপলিটনকে পরিশোধের জন্য হিসাব বিভাগকে চিঠি দেন প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ফরিদ উদ্দীন। সে টাকা তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সমস্যা সৃষ্টি হয় এই টাকার বাইরে আরও ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে তুলে নেওয়া হয়। রেলওয়েকে কোনো পণ্য না দিয়ে এত টাকা নিয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

গত ৩১ জানুয়ারি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হলেও ৮ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি জানতে পেরেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তার দপ্তর (এফএঅ্যান্ডসিএও)। এ কাজে রেলের হিসাব বিভাগ থেকে শুরু করে ব্যাংকের কর্মীরাও জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অপরদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কসমোপলিটন করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী নাবিল আহসান টাকা উত্তোলনের বিষয়টা অস্বীকার করে আসছেন।

তিনি বলেন, ‘মালামাল সরবরাহ বাবদ প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য টাকা গত ২৮ ডিসেম্বর চারটি চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে ভুয়া বিল-ভাউচারে পাঁচ নম্বর চেকটি অর্থাৎ ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। এই চেক কসমোপলিটন করপোরেশনের পক্ষে কেউ গ্রহণ করেননি। ওই চেকের টাকা রেলওেয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এখানে আমাদের সংশ্লিষ্টতা নেই।’

বিষয়:

রৌমারি: ১০ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষক ৫ জন

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
আপডেটেড ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৪:৫৭
মাসুদ রানা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বরাদ্দের অর্থ কাজ না করে আত্মসাৎ, সভাপতির স্বাক্ষর জাল করা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, পাঠদানে অনীহা, প্রতিষ্ঠাতার নাম পরিবর্তন ও বিদ্যালয় অন্যত্র নেওয়ার পাঁয়তারাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শামছুল আলমের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কারণে বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ঘটনাটি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর সিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, রৌমারী উপজেলার ধনারচর সিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শামছুল আলম প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী শিক্ষক। পরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) পদ পেয়ে নানা অনিয়ম করে আসছেন। এসব অনিয়মের অভিযোগ দিলেও আমলে না নিয়ে অর্থের মাধ্যমে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শামছুল আলমের পক্ষে সাফাই গাইছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নানা অভিযোগ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হচ্ছেন। এর ফলে সিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে যাচ্ছে। এ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ১২ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৯ জন, ২য় শ্রেণিতে ১৪ জন, ৩য় শ্রেণিতে ১০ জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ৯ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৭ জন, এখন পর্যন্ত ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬১ জন রয়েছে; কিন্তু বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। আর তাদের পড়ানোর জন্য বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোছা. হোসনে আরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বরাদ্দের স্লিপ, রুটিন মেইনটেন্স, ক্ষুদ্র-মেরামতের অর্থ দিয়ে কাজ না করে আত্মসাৎ করেন প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শামছুল আলম। আমার স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন সময়ে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে কাজ না করে আত্মসাৎ করেন। এর প্রতিবাদ করলে আমাকে হুমকিসহ সভাপতি পদ বাতিল করবেন বলে জানায় প্রধান শিক্ষক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানালেও রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেন না। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সপ্তাহে তিন দিন উপস্থিত হন। বাকি দিনগুলো তিনি বাড়ির কাজে ব্যস্ত থাকেন। তিনি উপস্থিতি না হয়েও হাজিরা খাতায় অগ্রিম স্বাক্ষর করেন বলে আমাকে অভিযোগ করেছে শিক্ষকরা। আমি নিজেও দেখেছি তিনি স্কুলে উপস্থিত থাকেন না; কিন্তু এসব অভিযোগের সঠিক তদন্ত না হওয়ায় তিনি এখন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এবং তার এমন অপকর্মের জন্য স্কুলে দিন দিন ছাত্রছাত্রী কমে যাচ্ছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক ও তার স্ত্রী জীবন নাহার একই স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে থাকায় তারা ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকে সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এ কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাশের বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসংখ্যা শূন্যের কোঠায়। বর্তমানে সব ক্লাস মিলে উপস্থিতি হয় ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী। তাই দ্রুত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তার স্ত্রীকে বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করে দেওয়ার জোর দাবি জানান তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রপ্ত) শামছুল আলম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে নানা সময়ে সহকারী শিক্ষকরা এবং কিছু শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও সভাপতি মিথ্যা রটাচ্ছেন। আমার ব্যক্তিগত কারণে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনের কবলে পড়ায় শিক্ষার্থী কমছে। শিক্ষার্থীদের বাড়ি দূরবর্তী হওয়ায় উপস্থিতি কমছে। আর বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করিনি বরং সঠিকভাবে কাজ করেছি। কারও স্বাক্ষর জাল করেনি।’

কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না এ বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়টি সরেজিমন গিয়ে দেখেছিলাম এবং সমস্যাগুলোর কথা শুনেছি। এখন দেখেশুনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, তাদের পারিবারিক সমস্যা বেশি। কারণ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তিনি, তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক ও ভাতিজি সহকারী শিক্ষক এবং সভাপতি ভাতিজার স্ত্রী। এসব কারণে তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে জানতে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমার আমলে এসব বরাদ্দ হয়নি। তাই বলতে পারব না।’

বিষয়:

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় চলছে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ)

১০০ শয্যাবিশিষ্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোর উন্নয়ন দেখলে মনে হবে ভেতরে বেশ ভালোই চলছে এর চিকিৎসাসেবা। তবে সেখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসছেন, তাদের বেশিরভাগ বাড়ি ফিরছেন মুখ ভার করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকার এসব রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য সরকার চিকিৎসা সরঞ্জামসহ সবকিছুর জোগান দিলেও দায়িত্বরত চিকিৎসকদের উদাসীনতা, সময়মতো না আসা, অনিয়মিতভাবে ডিউটি করার কারণে রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। এ ছাড়াও রয়েছে দালালদের দৌরাত্ম্য। যন্ত্রপাতি থাকলেও এখানে হয় না প্যাথলজির পরীক্ষা। কোটি টাকা দিয়ে সরকারের কিনে দেওয়া ডিজিটাল এক্সরে মেশিন আছে বাক্সবন্দি, একই অবস্থা কোটি টাকার অত্যাধুনিক জেনারেটর মেশিনটিরও- সেটিও রয়েছে বাক্সবন্দি অবস্থায়। হাসপাতালে রোগীদের টয়লেটের অবস্থা নাজুক। দুটি টয়লেট তালাবদ্ধ রাখায় একটিতেই যেতে হচ্ছে নারী-পুরুষ রোগীদের। রোগীদের দুর্দশা ও ভোগান্তির যেন শেষ নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার হওয়ায় হাসপাতালটিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় চিকিৎসার সব আধুনিক সরঞ্জামাদি। অন্যান্য ১০০ শয্যা হাসপাতাল থেকে জনবলও এখানে অনেক বেশি। ধাপে ধাপে চিকিৎসক বাড়িয়ে এখন কর্মরত রয়েছেন ২৪ জন চিকিৎসক। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র হলেও আছেন কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌন, মেডিসিন, গাইনি, শিশু বিভাগের চিকিৎসকসহ অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ। আছেন দাঁতের চিকিৎসক। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে সরেজমিন কোটালীপাড়া হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ২৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৮ থেকে ১০ জন দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি চিকিৎসকদের এক সপ্তাহেও দেখা পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দুই-তৃতীয়াংশ চিকিৎসক একসঙ্গে কী করে অনুপস্থিত থাকেন, মেলেনি তার কোনো সদুত্তর।

চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীরা অসহায় : গত রোববার সকালে সরেজমিনে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লেবার ওয়ার্ডে গিয়ে কথা হয় আঁখি ঢালী নামে এক সন্তানসম্ভবা রোগীর সঙ্গে। তার বাড়ি উত্তর কোটালীপাড়ার জহরেরকান্দি গ্রামে। এর দুদিন আগে শুক্রবার সকালে গর্ভকালীন জটিলতা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা নিয়ে কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন তিনি। দুদিন ধরে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ না পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায় কাতরাচ্ছিলেন। আঁখির স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির তিন দিন অতিবাহিত হলেও কোনো ডাক্তারের সাক্ষাৎ পাননি। তারা বলেন, শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করে হাসপাতালের বাইরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. ঝুমা পালের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন তারা।

একই অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লেবার ওয়ার্ডে ভর্তি কোটালীপাড়ার শুয়াগ্রামের চম্পা মজুমদারের স্বামী বিভূতি বল্লভ। তিনি বলেন, ডাক্তাররা ওয়ার্ডে আসেন না। কোনো সমস্যা দেখা দিলে রোগীদের নিচতলায় জরুরি বিভাগে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করে গত শনিবার ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে যান উপজেলার বান্ধাবাড়ী গ্রামের খাদিজা বেগম। খাদিজা বেগমের স্বামী গাউস গোলদার জানান, দুদিন হলো ভর্তি হয়েছি। তেমন কোনো সেবা পাচ্ছি না। ওষুধ ও টেস্ট সব বাইরে থেকে করতে হচ্ছে। তেমন কোনো উন্নতিও হচ্ছে না। হাসপাতালে ভর্তি থেকে কী লাভ? তাই নিজেরাই নাম কেটে চলে যাচ্ছি।

গত রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে গাইনি ওয়ার্ডে ছুটে আসেন দায়িত্বপ্রাপ্ত গাইনি বিশেষজ্ঞ জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রাজিব রায়। তবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

হাসপাতালটিতে কর্মরত ৩২ জন নার্স। বেশিরভাগ নার্সই ঠিকমতো ডিউটি করেন না বলে অভিযোগ রোগীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা বলেন, নার্সদের ডাকলেও সময়মতো পাওয়া যায় না। একাধিকবার ডাকলে তারা বিরক্তি প্রকাশ করেন।

চিকিৎসাসেবায় মানা হচ্ছে না সময়সূচি

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত আউটডোরে রোগী দেখার নিয়ম থাকলেও সাড়ে নয়টার আগে খোলা হয় না টিকিট কাউন্টার। ডাক্তাররাও আসেন আরও পরে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ২৪ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে একজন চিকিৎসককে (জুনিয়ার কনসালট্যান্ট মেডিসিন) ডেঙ্গুকালীন সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন হাসপাতালে প্রেষণে পাঠানো হয়। রোববার সরেজমিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায় মাত্র ৫-৬ জন চিকিৎসককে রোগী দেখার কাজে নিয়োজিত। রোগীর চাপ থাকায় এসব চিকিৎসককে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হচ্ছিল। কোটালীপাড়ায় ১১টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে দূরবর্তী ৮টি কেন্দ্রে চিকিৎসক পদায়ন আছে। কিন্তু ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পদায়নকৃত চিকিৎসকরা কখনও যান না। ইউনিয়নের কেউ কখনও ওইসব উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যসেবা পান না বলে ইউনিয়নবাসী অনেকের অভিযোগ।

একটি সূত্র জানিয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে চিকিৎসকরা কেবল কাগজে-কলমে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্তব্য পালন করছেন বলে দেখাচ্ছেন। বাস্তবে তারা এসব উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বরাবরই অনুপস্থিত থাকেন।

শুয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যজ্ঞেশ্বর বৈদ্য অনুপ অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা সেখানে আসেন না। পদায়নকৃত চিকিৎসকরা স্ব স্ব উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে চিকিৎসা দিলে দরিদ্র অসহায় মানুষদের দূর-দূরান্ত থেকে অর্থ ব্যয় ও কষ্ট করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসার নামে হয়রানির শিকার হতে হতো না।

এসব বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নন্দা সেন গুপ্তের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে বাক্সবন্দি

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক যুগ আগের এনালগ এক্সরে মেশিনে সনাতনি পদ্ধতিতে নামমাত্র চলছে এক্সরের যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তবে রোগীদের অভিযোগ, প্রায় সময় নষ্ট থাকে মেশিনটি। কোনো রিপোর্ট দেওয়া হয় না। রোগীদের ধরিয়ে দেওয়া হয় শুধু এক্সরে ফিল্ম। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য সরকার বরাদ্দ দিয়েছে কোটি টাকা মূল্যের পোর্টেবল ডিজিট্যাল এক্সরে মেশিন। সেই অত্যাধুনিক মেশিনটি ৬-৭ বছর ধরে বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে, যা কোনো কাজে লাগছে না। এক্সরে করার জন্য নিয়োজিত রয়েছে ২ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও অ্যান্ড ইমেজিং)। একই অবস্থা ডিজিটাল জেনারেটর মেশিনেরও। কোটি টাকা মূল্যের জেনারেটর মেশিনটি ব্যবহার না করে বাক্সবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে বছরের পর বছর। এ কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতালে ভুতুড়ে অবস্থার সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী কর্মচারীর অভিযোগ, তার ধারণা- জেনারেটর ব্যবহার না করলেও ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে তেলের বিল তোলা হচ্ছে। তবে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ডেন্টাল ইউনিটটি তেমনভাবে কার্যকর নয়। ডেন্টাল সার্জন ডা. নাজিয়া ইয়াসমিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনে যন্ত্রপাতিহীন একটি ফাঁকা কক্ষে বসে চিকিৎসা দেন। অথচ পুরাতন ভবনে দাঁতের চিকিৎসার জন্য যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ একটি ডেন্টাল ইউনিট রয়েছে। তবে সেটি বর্তমানে স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বন্ধ রয়েছে প্যাথলজি পরীক্ষা

১০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে প্যাথলজি পরীক্ষার যন্ত্রপাতিসহ সব উপকরণ থাকলেও বন্ধ রয়েছে এই সেবা। শুধু থেরোলজি কিছু পরীক্ষা হচ্ছে নামমাত্র। যেকোনো রোগীর রোগ নির্ণয়ের জন্য প্যাথলজির সিবিসি, আরবিএস, এইচবিএস এজি, ইউরিন আরই, ভিডিআরএল, ক্রস ম্যাচিংয়ের মতো নরমাল রোগ নির্ণয় পরীক্ষাও এখানে না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন রোগীরা। এখানে সব সুবিধা থাকার পরও তা কার্যকর না থাকায় প্যাথলজির সব টেস্ট হাসপাতালের সামনের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করতে হচ্ছে। অথচ এখানে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) হিসেবেও ৩ জন টেকনিশিয়ান কর্মরত রয়েছেন।

এ ব্যাপারে এখানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) কনিকা রায় বলেন, আসবাবপত্রের অভাবে রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য প্যাথলজির সরঞ্জামাদি স্থাপন করতে না পারায় বন্ধ রয়েছে এই সেবা। তবে রোগীদের অভিযোগ, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

নামমাত্র চলে অপারেশন থিয়েটার

গাইনি ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট থাকলেও তারা নিয়মিত অফিস করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্যানুযায়ী জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপ্তাহে দুই দিন ওটি করা হয়। জানুয়ারি মাসে ৯টি সিজারিয়ান অপরেশন ও ২৭টি নরমাল ডেলিভারি করা হয়। সাধারণ দরিদ্র রোগীরা হাসপাতালে ওটির সুযোগ পান না। সাধারণত বিশেষ শ্রেণির মানুষ ও হাসপাতালে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিচিতজনরা এ সুবিধা পেয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগীর স্বামী জানান, অনেক চেষ্টা করেও এখানে সিজার করাতে পারেননি। বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে তার স্ত্রীকে সিজার করাতে হয়েছে।

এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪টি প্রাইভেট ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকে গড়ে প্রতিমাসে প্রায় ২০০-এর অধিক সিজার অপারেশন হয়। হাসপাতালের কর্মকর্তার যোগসাজশ ও দালালদের দৌরাত্ম্যের ফলে রোগীরা হাসপাতালে সিজার অপারেশনের সুযোগ পায় না বলে অভিযোগ করেন রোগীরা।

রোগীদের টয়লেটের বেহাল দশা

হাসপাতালের নতুন ভবনের ৪ তলায় রয়েছে পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ড। এই ৩ ওয়ার্ডের রোগীদের জন্য রয়েছে ৪টি টয়লেট। তবে ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় দুটি টয়লেট রয়েছে স্থায়ী তালাবদ্ধ। একটি টয়লেট হাসপাতালের স্টাফরা ব্যবহার করেন। এটিও তালাবদ্ধ থাকে। অপর ১টি মাত্র টয়লেট পুরুষ-মহিলা সব রোগীকে একসঙ্গে ব্যবহার করতে দেখা যায়। রোগীদের ব্যবহারের টয়লেটটি ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর দেখা যায়। মনে হবে একটি ডাস্টবিনের ভাগাড়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা রোগী আক্ষেপ করে বলেন, অনেক মহিলা পর্দা করেন। তারা পুরুষদের সঙ্গে একই টয়লেটে কীভাবে যাবে? তাছাড়া টয়লেটটি ঠিকমতো পরিষ্কার না থাকায় দুর্গন্ধে যাওয়া যায় না। তাই অনেক মহিলা রোগী বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন বাড়িতে যায়।

এ ব্যপারে ডিউটিরত একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, দুই মাস ধরে টয়লেট দুটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ইউএইচএফপিও ম্যাডাম বলতে পারবেন।

রোগীদের টয়লেট তালাবদ্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালপ্রধান (ইউএইচএফপিও) ডা. নন্দা সেন গুপ্তা বলেন, রোগীরা ঠিকমতো টয়লেট ব্যবহার করতে জানে না। টয়লেট দুটি তাই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এখনো এগুলো পরিষ্কার করতে না পারার কারণে ২ মাস ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল মাধ্যমে রয়েছে অনিয়ম

সরকারি নিয়ম অনুসারে হাসপাতালের সব বিল অটোমেশন পদ্ধতিতে হওয়ার কথা। তবে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানা হচ্ছে না সে নিয়ম। শুধু রোগীদের টিকিট অটোমেশন পদ্ধতিতে হলেও রোগীদের কেবিন ভাড়া, এক্সরে, আলটাসনোগ্রাফি, ইসিজি ইত্যাদি পরীক্ষার বিল নেওয়া হয় হাতে লেখা রশিদের মাধ্যমে। এ ছাড়া হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুবিধার জন্য ডিজিটাল হাজিরা মেশিনে ১৫ মিনিট সময় কমিয়ে রাখা হয়েছে এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

কোটালীপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ দাড়িয়া অভিযোগ করে বলেন, ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করেন। এরপর ধাপে ধাপে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ ও আধুনিক ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করা হয়। ১০০ শয্যায় উন্নীত হওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগের থেকে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। কিন্তু সবকিছু থাকার পরও চিকিৎসকদের উদাসীনতার কারণে রোগীরা সেবা না পেয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে ও জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যারা আছেন তারা বাসা ও প্রাইভেট ক্লিনিকে প্র্যাকটিস নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অনেক রোগী জানেন না, কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন। হৃদরোগের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন- আমি নিজেও জানি না। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সব ব্যবস্থা করলেও এ যেন কাজির গরু কিতাবে আছে, কিন্তু গোয়ালে নেই এমন অবস্থা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তার অদক্ষতাকে এ জন্য দায়ী করেন তিনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ নির্বাচনী এলাকায় ২টি ১০০ শয্যার হাসপাতাল। একটি টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় অন্যটি কোটালীপাড়া উপজেলায়। টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যা হাসপাতালে ওখানকার রোগীরা যে সেবা পাচ্ছে, আমরা তার ছিটেফোঁটাও পাই না। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ভোটারদের চিকিৎসাসেবার জন্য কোটালীপাড়া হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও স্টাফ দিয়েছেন। শুধু একজন স্বেচ্ছাচারী ও অদক্ষ কর্মকর্তার কারণে সাধারণ রোগীরা বঞ্চিত রয়েছেন সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে।

এসব অভিযোগের বাইরে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নন্দা সেন গুপ্তা বলেন, জনবল সংকটের কারণে কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার বিষয়ে ইতোমধ্যে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি বাক্সবন্দি থাকার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা চলমান থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। রোগীদের অভিযোগ ও গণমাধ্যমের পর্যবেক্ষণ পাত্তা দিতে নারাজ তিনি।

কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয় অবগত রয়েছেন কি না জানতে চাইলে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. জিল্লুর রহমান জানান, কোটালীপাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও হাসপাতালপ্রধানের দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।

বিষয়:

ময়লার গাড়ির ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, মহাসড়ক অবরোধ-ভাঙচুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর মহানগরের কুনিয়া তারগাছ এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় এক পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর জেরে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং ময়লার ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নিহত ওই নারী শ্রমিকের নাম মুনিরা (৩০)। তিনি স্থানীয় বার্নহাজ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড কারখানায় পোশাক কারখানায় অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার অশোক কুমার পাল বলেন, ‘সকালে কুনিয়া তারগাছ এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হচ্ছিল ওই নারী পোশাক শ্রমিক। এসময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ি ওই নারীকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শ্রমিক নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে গাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং ময়লার গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ। উত্তেজিত শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।’


অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধে চট্টগ্রাম বিভাগে শুরু হচ্ছে অভিযান

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

জেলা-উপজেলায় অনুমোদনহীন অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধে কঠোর হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আগামী রোববার এ জন্য চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে বিশেষ অভিযান।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তালিকা সংবলিত চিঠি ১১ জেলার সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম ১০ কার্যদিবসের মধ্যে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তালিকায় ১১৮টি হাসপাতাল ও ১২২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে লাইসেন্সবিহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় অনিবন্ধিত হাসপাতালের সংখ্যা ৬টি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ১১টি।

ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ইফতেখার আহমেদ জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকা তৈরি করে সিভিল সার্জনদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। যেসব প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স ছাড়াই সেবাদান কার্যক্রম চলছে, তাদের তালিকা দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রকৃতপক্ষে জেলা ও উপজেলায় অবৈধভাবে চলমান হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে মত ভুক্তভোগীদের। জেলায় স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫৮০টিরও বেশি। শুধু লাইসেন্স কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্র নয়, অনুমোদন থাকা অনেক হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সদের নিয়োগপত্রও নেই। এমনকি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তালিকা না থাকা, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবের লাইসেন্স, প্যাথলজিস্ট, রিপোর্ট প্রদানকারী চিকিৎসক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের নামও নেই অনেক হাসপাতাল-ক্লিনিকে।

লাইসেন্স না থাকাসহ নানান অভিযোগে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের চারটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল সাময়িক বন্ধের নির্দেশ দেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী। এগুলো হলো- অগ্রণী ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সেবা ডেন্টাল অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি সেন্টার, নিউ চাঁদের আলো হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ন্যাশনাল চক্ষু হাসপাতাল।

পটিয়া উপজেলায় গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডেন্টাল কেয়ার। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ৩০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে। এর মধ্যে অধিকাংশই নিবন্ধনহীন। আবার নিবন্ধন থাকলেও নবায়ন করা হয় না। এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে নোংরা পরিবেশ, অদক্ষ নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই চলছে চিকিৎসা। একই চিত্র বোয়ালখালীতেও।

আনোয়ারায় বাধা ছাড়াই চলছে ১৮টিরও বেশি অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক। বাঁশখালীতে নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেসরকা‌রি হাসপাতাল, ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থে‌কে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বাঁশখালী পেশেন্ট কেয়ার হাসপাতাল, মাতৃসদন হাসপাতাল, সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মিনি ল্যাব, প্রাইম ডায়াগনস্টিক সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।

হাটহাজারীতে ১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অভিযানে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি, মিলেছে নানান অনিয়ম। ফটিকছড়ির তকিরহাটে এক বছর ধরে কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে চলছিল মডেল ল্যাব নামে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। খবর পেয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি ল্যাবটি বন্ধ করে দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরেফিন আজিম।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ২৮টি রোগ নির্ণয় কেন্দ্র, ৬টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে অধিকাংশের নিবন্ধন নেই। তবে কেউ কেউ নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন। গত মাসে রাউজানে সদরের রাউজান ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, স্টার ল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ইনটেনসিভ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় এবং অনিয়মের কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করতে নির্দেশ দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন ধর।

মীরসরাইয়ে ৩৩টি ক্লিনিক, ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আছে। সেখানে নেই বিশেষ তদারকি। সাতকানিয়ায় ৯টি হাসপাতাল এবং ১৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি হাসপাতালের অধীনে চলছে ৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারও।

বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১০টি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেগুলো হলো- বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের কপি প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশপথের সামনে দৃশ্যমান স্থানে অবশ্যই স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করতে হবে। সব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্যাদি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য একজন নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকতে হবে। একইসঙ্গে তার ছবি ও মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল হিসেবে আছে; কিন্তু শুধু ডায়াগনস্টিক অথবা হাসপাতালের লাইসেন্স রয়েছে তারা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যতিরেকে কোনোভাবেই নামে উল্লিখিত সেবা প্রদান করতে পারবে না। ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে যে ক্যাটারগরিতে লাইসেন্স প্রাপ্ত, শুধু সে ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না। ক্যাটারগরি অনুযায়ী প্যাথলজি বা মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে।

বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতালের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রকারভেদ ও শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী সব শর্তাবলি বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়োজিত সব চিকিৎসকের পেশাগত ডিগ্রির সনদ, বিএমডিসির হালনাগাদ নিবন্ধন ও নিয়োগপত্রের কপি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। হাসপাতাল, ক্লিনিকের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অপারেশন বা প্রসিডিউর জন্য অবশ্যই রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখতে হবে।

কোনো অবস্থাতেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত বা নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ছাড়া চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেস্থেশিয়া প্রদান করা যাবে না। বিএমডিসি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ছাড়া যেকোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/ইন্টারভেনশনাল প্রসেডিউর করা যাবে না। সব বেসরকারি নিবন্ধিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল, ক্লিনিকে লেবার রুম প্রটোকল অবশ্যই মেনে চলতে হবে। নিবন্ধিত বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল, ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অবশ্যই নিয়ম মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান জানান, রোববার থেকে অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানে হাসপাতালে ১০টি নির্দেশনার বাস্তবায়ন না থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


অবৈধ মজুত করে যারা ক্রাইসিস তৈরি করে তারা দেশের শত্রু: খাদ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, অবৈধ মজুত করে যারা ক্রাইসিস তৈরি করে তারা দেশের শত্রু।

শুক্রবার বিকেলে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রাধানগরে শিবনদীর উপরে ১৯২ মিটার দীর্ঘ নবনির্মিত সেতুর চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

অবৈধ মজুতকারীরা বিএনপির দোসর উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা শেখ হাসিনাকে উৎখাত করতে চায়-বেকায়দায় ফেলতে চায়। আমাদের দেশকে রক্ষা করতে হবে। আপনারা যে ভোট দিয়েছেন তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।’

নির্বাচনের দুই দিন আগে হঠাৎ করে অসৎ ব্যবসায়ীরা চালের দাম ৮/১০ টাকা বাড়িয়ে দেয়। তারা মনে করেছিল অন্য কেউ খাদ্যমন্ত্রী হলে বুঝতে বুঝতে একমাস পার হয়ে যাবে। যখন তারা দেখেছে মন্ত্রী সাধন মজুমদার হয়েছে তখন তারা বেকায়দায় পড়েছে, আমাদেরও বেকায়দায় ফেলেছে। চালের বাজার ঠিক রাখতে জেলায় জেলায় বৈঠক করতে হয়েছে। মজুতবিরোধী অভিযানও চালাতে হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাস করে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ সে চেতনার পক্ষে রায় দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন।

সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, রাধানগর সেতু রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে সড়ক যোগাযোগ ক্ষেত্রে। গ্রামের সঙ্গে শহুরের মানুষের যোগাযোগ সহজ ও দ্রুততর হওয়ার ফলে কৃষক সহজেই তার পণ্য বাজারজাত করতে পারবে।


এক পায়ে ভর করেই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিযুদ্ধে শরিফুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় নিজের এক পা হারিয়ে ফেলেন শরিফুল। এরপর এক পায়ের ওপর ভর করেই জীবনের পথচলা শুরু করেন। বহু প্রতিবন্ধকতা আসলেও দমে যাননি তিনি। বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তার ইচ্ছে পড়াশোনা শেষ করে সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার।

শুক্রবার ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে লাঠিতে ভর দিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে আসেন শরিফুল ইসলাম। পরে বেরোবি প্রশাসনের গাড়িতে করে তাকে পরীক্ষা হলে নিয়ে যাওয়া হয়।

শরিফুল ইসলামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানায়। তিনি বলেন, ‘২০১২ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে থাকতে দেয়ালে চাপা পড়ে পা ক্ষত হয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসা নিতে বিলম্ব হওয়ায় পায়ে পচন ধরে এবং সেবছরই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক পা কেটে ফেলতে হয়। এরপর পিতামাতার সাহায্যে কিছুদিন চলাফেরা করার পর লাঠিতে ভর দিয়ে একপায়ে চলাচল করি। এভাবে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে নিই।’

তিনি বলেন, ‘পা হারালেও কারো বোঝা হতে চাই না। এজন্য কষ্ট হলেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। পড়াশোনা শেষ করে ভালো সরকারি চাকরি করে পরিবারের হাল ধরব।’

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের (সাবেক ‘খ’ ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন শরিফুল।

এই ইউনিটে মোট আসন সংখ্যা রয়েছে ২ হাজার ৯৩৪টি। বিপরীতে ১ লক্ষ ২২ হাজার ২৭৯ জন শিক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়েছে। সেই হিসাবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে লড়তে হবে ৪২ জন শিক্ষার্থীকে।


banner close