রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬
৭ চৈত্র ১৪৩২

আঞ্চলিক সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ দিল্লিতে

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর। অলংকরণ: মামুন হোসাইন
জেসমিন পাপড়ি
প্রকাশিত
জেসমিন পাপড়ি
প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১১:৩৯

দুই দেশের জাতীয় নির্বাচন ও পরিবর্তিত বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলছেন কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফর এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তারা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটের মধ্যে এ অঞ্চলের আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি মূলত সফরকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

তিন বছর পর কাল সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে ভারতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সফর দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ছাড়াও আঞ্চলিক রাজনীতি-সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে জানান, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি নানা বৈশ্বিক সংকট, বিশেষ করে মার্কিন-চীন প্রতিযোগিতার বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করবেন দুই নেতা। অনেকটাই অচল আঞ্চলিক ফোরাম সার্কের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ায় আশা জাগাচ্ছে। এ অবস্থায় হাসিনা-মোদি বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতীয় পক্ষেও এ সফর নিয়ে ব্যাপক আশাবাদ রয়েছে। শেখ হাসিনার সফর সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফরসহ উচ্চপর্যায়ের সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এবারের সফর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে বহুমুখী সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

সফরের বিষয়ে ধারণা পেতে দৈনিক বাংলা কথা বলেছে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, এ সফরে বড় ধরনের কোনো চুক্তি হচ্ছে না। কয়েকটি রুটিন এমওইউ স্বাক্ষর হবে। তবে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্যনিরাপত্তা, বাণিজ্য, পানিবণ্টন, সংযুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীও মনে করেন, সফরটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। গত সপ্তাহে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় হাইকমিশনার বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও পরিবহন যোগাযোগের উন্নতি হলে শুধু ভারত-বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও তা বড় ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ভারতের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নিয়ে আলোচনা চলছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেগুলোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হতে পারবে সেগুলোই স্বাক্ষর হবে।

তবে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব তৌহিদ হোসেন মনে করেন, এ সফর থেকে বড় কোনো প্রাপ্তির সম্ভাবনা নেই। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের নানা দিক নিয়েই আলোচনা হবে। বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো ভারতকে জানানো হবে। তবে ভারত যে সেগুলোর সমাধান সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেবে, এমন কোনো সম্ভাবনা নেই।

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারতের চাওয়াগুলো আমরা (বাংলাদেশ) মোটামুটি পূরণ করেছি। ভারত তাতে খুশি। আমাদের চাওয়াগুলোর বেশির ভাগই সমাধান হয়নি। ভারত ধরে নিয়েছে, তারা যদি বাংলাদেশের ইচ্ছাগুলো পূরণ না-ও করে তাহলেও বাংলাদেশ তাদের পাশেই থাকবে। কাজেই বাংলাদেশের সমস্যা সমাধানে ভারত অতটা জরুরি প্রয়োজন বোধ করছে না।’

তবে এই সফরের রাজনৈতিক দিকটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতিক বিশ্লেষকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিসের (সিজিএস) পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে। এর বড় কারণ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উলফার মতো বিচ্ছিন্নতাবাদীরা একসময় বাংলাদেশে আশ্রয় পেলেও আওয়ামী লীগ সরকার তা বন্ধ করেছে। ফলে ওই এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা বজায় রাখা নিয়ে ভারতের যে চিন্তা ছিল তা শেখ হাসিনার শাসনকালে নেই। তাই হাসিনা সরকারের ওপর সে দেশের মানুষ ও রাজনীতিকদের আস্থা প্রকট।

ড. ইমতিয়াজের মতে, ভারত চাইবে বাংলাদেশে এমন একটি দল ক্ষমতায় থাকুক, যাদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের যে উন্নয়ন হয়েছে তাতে যেন কোনো ভাটা না পড়ে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বৈশ্বিক রাজনীতির বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য ড. দেলোয়ার হোসেন।

দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, গত এক যুগে বাংলাদেশ-ভারতের অংশীদারত্ব এবং সম্পর্কের যে প্রসার ঘটেছে, তা আরও এগিয়ে নেয়াই হবে প্রধান ইস্যু। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব যখন একধরনের মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে; সেখানে চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা, অর্থাৎ আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে খোলামেলা কথাবার্তা হতে পারে।

সম্পর্কের স্বর্ণ-সময়েও চাওয়া-পাওয়ায় ভারসাম্যহীনতা

বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্কের স্বর্ণ-সময় পার করছে বলে দাবি করে আসছেন দুই দেশের নেতারা। তার পরও গত এক দশকে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তির জায়গায় বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, ভারতকে সড়কপথে ট্রানজিট দেয়া, চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের অনুমতি, ভারত-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে বাংলাদেশের সহায়তার মতো বড় সহযোগিতার বিনিময়ে দেশটির কাছ থেকে বাংলাদেশের পাওয়ার পরিমাণ তুলনামূলক কম। এক দশক ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি না হলেও ত্রিপুরার সাব্রুম অঞ্চলের মানুষের পানির কষ্ট মেটাতে ফেনী নদীর পানি দিয়েছে বাংলাদেশ।

২০১০ সালে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় তিন দফায় ৭ দশমিক ৮৬২ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে ভারত। নানা শর্তের কারণে এই অর্থ কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।

তবে চুক্তির প্রায় ৪০ বছর পরে ছিটমহল বিনিময়কে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি বলে ধরা হয়। ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য সরবরাহ সহজ হলেও ভারত হয়ে তৃতীয় দেশে পণ্য পাঠানোর বাধা দূর হয়নি বাংলাদেশের। এ ছাড়া সীমান্ত হত্যা নিয়ে এখনো উদ্বেগ রয়ে গেছে। ভারতের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ঘোষণা দিলেও আশানুরূপ ভারতীয় বিনিয়োগ এখনো পাওয়া যায়নি। এমনকি রোহিঙ্গা সংকটেও ভারতকে প্রত্যাশিতভাবে পাশে পায়নি ঢাকা।

স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ভারত-বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে বরাবরই স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের মতে, শ্রীলঙ্কায় চীনের প্রভাব নিয়ে সব সময় অস্বস্তি ছিল ভারতের। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কোন্নয়নও ভাবাচ্ছে ভারতকে। ফলে সব সময়ের জন্য ভারতমুখী বাংলাদেশ দেখতে চাওয়া নয়াদিল্লি আসন্ন বৈঠকে বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের মাত্রার বিষয়টিও তুলতে পারে। ঢাকার পক্ষ থেকে সে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার-পরবর্তী পরিস্থিতিও আলোচনায় আসতে পারে। সেই সঙ্গে এ অঞ্চলে বাড়তে থাকা ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার উপ-আঞ্চলিক শাখার বিস্তার নিয়েও আলোচনা করবে দুই দেশ।

ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় না দিয়ে সেভেন সিস্টার্স-খ্যাত ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে শান্তি ফেরানোয় বাংলাদেশের ভূমিকার কথা সব সময় স্বীকার করে আসছে প্রতিবেশী দেশটি। এ বছরের মে মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সফরকালে উলফা দমনে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাবাংলাদেশের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও ওপর গুরুত্ব দেবে ভারত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত হত্যা কমে এলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে এটি নিয়েও জোর দেবে বাংলাদেশ। সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাতে মানব, মাদক ও সব ধরনের চোরাচালান বন্ধের মতো বিষয়ও তোলা হবে। এ ছাড়া দুই দেশেই সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছেন, এ সফরে প্রতিরক্ষা খাতে নতুন কোনো চুক্তি সই হবে না। ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছিল। ওই সময় ঋণচুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ভারত। তবে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ওই ঋণের সদ্ব্যবহার করেনি বাংলাদেশ।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে এ বছরের আগস্টের শুরুতে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের প্রতিরক্ষা সংলাপে ওই ঋণচুক্তির ব্যবহারসহ সহযোগিতার নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাণিজ্য ও জ্বালানি

বাংলাদেশ ও ভারত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা)’ বিষয়ে একটি যৌথ সমীক্ষার ফল নিয়ে দুই দেশই ইতিমধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এ চুক্তির বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক ড. দেলোয়ার হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের অর্থনীতির আকার অত্যন্ত বৃহৎ এবং শক্তিশালী। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি এবং অভ্যন্তরীণ শিল্প যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি বিবেচনায় রেখে সেপা চুক্তি করতে হবে। এই চুক্তির শর্তগুলো বাংলাদেশের জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং উদীয়মান অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, সেটা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি মাথায় রাখতে হবে।’

গবেষণা সংস্থা সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, যথাযথ দর-কষাকষির মাধ্যমে এ চুক্তি করলে ভারতে রপ্তানি বাড়বে। একই সঙ্গে ভারতের বিনিয়োগ বাড়বে। ভারতের বিনিয়োগকারীদের উৎপাদিত পণ্য তাদের দেশে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানি হবে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দুই দেশের মধ্যকার ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে পাট রপ্তানির ওপর ভারতের আরোপিত ‘অ্যান্টি-ডাম্পিং’ শুল্ক অপসারণের বিষয়টি তুলবে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়ে, বিশেষ করে গম, চাল, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের বিষয়টি দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। এসব পণ্য আমদানির চাহিদা ভারতকে আগাম জানানো হলে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানির বিষয়টি বিবেচনায় রাখার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আগামী ৬ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এ ঘোষণা দিতে পারেন। এ ছাড়া জ্বালানি খাতে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জানা যায়, পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করতে ঢাকাকে প্রস্তাব দিয়েছে নয়াদিল্লি।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমানে ভারত জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে আমরা তাদের সহায়তা চাইব, তাদের উদ্বৃত্ত থাকলে তাদের কাছ থেকে জ্বালানি আনার জন্য চুক্তি করতে চায় ঢাকা।’

ভারতের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বা উপ-আঞ্চলিক এনার্জি হাব গঠন নিয়েও আলোচনা করবেন হাসিনা-মোদি। বাংলাদেশ নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আনতে চায়। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা কানেকটিভিটি বিষয়টি নিয়েও যৌথভাবে কাজ করতে চায়। এ জন্য ভারতের ভূমি ব্যবহার করে নেপাল-ভুটানে যাতায়াতের সুবিধা চায় বাংলাদেশ।

অন্যদিকে কানেকটিভিটির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি­। ১৯৬৫ সালের আগের কানেকটিভিটিতে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ বেশি তাদের। রেলওয়ের ক্ষেত্রে আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ, খুলনা-মোংলা রেল সংযোগ এবং দুই দেশের মধ্যে নতুন ট্রেন মিতালি এক্সপ্রেস চালুতে সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেন দুই নেতা। এ ছাড়া দুই দেশের রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশিক্ষণের জন্য একটি সমঝোতা প্রস্তুত করা হয়েছে।

জানা যায়, দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকে এলওসি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এলওসির আওতায় তিন দফায় ৭ দশমিক ৮৬২ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও এখন পর্যন্ত ১ বিলিয়ন ডলারের মতো ছাড় করেছে ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দুই দেশই এ বিষয়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছে, যা সমাধান করে অর্থ ছাড়ের ঘোষণা আসতে পারে এই সফরেই।

আলোচনায় কুশিয়ারার পানি

দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তির জন্য এবারও তাগিদ দেবে বাংলাদেশ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে ২০১১ সাল থেকে ঝুলে থাকা তিস্তা নিয়ে এবার কোনো সুখবর পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে,তীয় গণমাধ্যমের ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে দিল্লি গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তারপরও যে তিস্তা নিয়ে কোনো সুখবর আসছে না তা নিশ্চিত।

তবে দীর্ঘ ১২ বছর পরে গত ২৫ আগস্ট যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে কুশিয়ারার নদীর পানি বণ্টনের লক্ষ্যে এমওইউ চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৫৪টি অভিন্ন নদীর মধ্যে মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বণ্টনের রূপরেখা নিয়ে সমঝোতার বিষয়টি এবার আলোচনা হবে। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় এই নদীর পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতে দেশের যৌথ সমীক্ষার ঘোষণা আসতে পারে দুই নেতার বৈঠক শেষে।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের পরিবারের জন্য বৃত্তি

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচির তথ্য থেকে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বা গুরুতর আহত ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ২০০ সদস্যের উত্তরসূরিদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের ‘মুজিব স্কলারশিপ’ দেবেন শেখ হাসিনা। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যথাক্রমে এককালীন ৫০০ এবং ১ হাজার ডলার করে দেয়া হবে। প্রসঙ্গত, বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের বৃত্তি দিয়ে আসছে ভারত।

অন্যদিকে টেকসই উন্নয়নে নেতৃত্ব দেয়ায় শেখ হাসিনাকে পুরস্কৃত করবে দিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (টেরি)। সাবেক টাটা এনার্জি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এখন টেরি নামে পরিচালিত হচ্ছে।

নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজার জিয়ারত দিয়েই সফর শুরু

সফরসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ সেপ্টেম্বর ভারতে পৌঁছাবেন। সেখানে তাকে স্বাগত জানাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিল্লিতে হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়ার দরগাহ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তার ভারত সফরের কর্মসূচি শুরু করবেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এই মাজার জিয়ারত করতেন।

সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার সকালে দিল্লির রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা একান্ত এবং প্রতিনিধি পর্যায়ে বৈঠক করবেন। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তালিকায় থাকা সমঝোতা স্মারক সই হবে। একই দিন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনা।

৭ সেপ্টেম্বর ভারতের বিভিন্ন কোম্পানির সিইও এবং ব্যবসায়ী কমিউনিটির সঙ্গে শেখ হাসিনা বৈঠক করবেন। ওই দিন দুপুরে তিনি দিল্লি থেকে রাজস্থানে আজমির শরিফ দরগাহে যাবেন। সেখানে হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন। ৮ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যাবেন মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিবসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একদল প্রতিনিধি। থাকবেন ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরাও।

এর আগে ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর দিল্লি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগের বছরও দিল্লি সফর করেন তিনি।


কুমিল্লায় বাস উল্টে আহত ১০, দুজনের অবস্থা গুরুতর

আপডেটেড ১৯ মার্চ, ২০২৬ ১০:৩৫
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একুশে পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই কুমিল্লা অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে টানা বৃষ্টি হচ্ছিল, এতে মহাসড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। রাতে ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী একুশে এক্সপ্রেস নামের বাসটি সৈয়দপুর এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর উল্টে যায়। এতে চালক ও তার সহকারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং আহতদের উদ্ধার করে ময়নামতি ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে রেকার দিয়ে উল্টে যাওয়া বাসটি সরানো হয়। তবে কিছু যানবাহন উল্টোপথে চলাচল শুরু করায় যানজট আরও বেড়ে যায়। রাত ১২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত পুলিশ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।

ওসি আব্দুল মমিন জানান, ফাঁকা সড়ক পেয়ে বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল। সৈয়দপুর এলাকায় এসে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে কেউ নিহত হয়নি, তবে কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


রুনা'কে মনস্তাত্ত্বিকভাবে হ্যারেজ করে সভাপতি দায়িত্ব থেকে সরাতে চেয়েছিল, দাবি পরিবারের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

সাম্প্রতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ কক্ষে কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমান কতৃক নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। এটা 'পরিকল্পিত হত্যা' ও সভাপতি দায়িত্ব থেকে সরাতে চেয়েছিল বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এমনটা দাবি করেছেন নিহত শিক্ষিকার পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত শিক্ষিকা যখন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখনও তিনি চেয়ারে বসতে পারেননি। শিক্ষক শ্যাম সুন্দর সরকার দায়িত্বে না থাকলেও তিনি এবং শিক্ষিকা মমতা মোস্তারী মিলে রুনাকে প্রায় এক থেকে দেড় মাস দায়িত্ব গ্রহণ করতে দেননি।

এবং শিক্ষিকা নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত সভাপতি'র দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার। বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে রুনাকে বিভাগের কাজে চরম অসহযোগিতা করা হয়েছে। যার ফলে রুনা সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে আসতে চেয়েছিলেন। বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরাও তাকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে হ্যারেজ করে সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরাতে চেয়েছিল।

পরবর্তীতে প্রশাসনের আদেশে রুনা চেয়ারে বসেন। সাধারণত পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান সকল ভাউচার ও কাগজপত্র শিক্ষক শ্যামকে হস্তান্তর করেন কিন্তু পরবর্তীতে শিক্ষক শ্যাম রুনাকে কোন ডকুমেন্টস হস্তান্তর করেনি। তৎকালীন প্রশাসন শ্যামের পক্ষ নিয়ে সাদিয়াকে কটু কথা বলে। তাদের বক্তব্য ছিল অনেকটা এমন "সে তোমাকে হিসাব দিচ্ছে না তাতে তোমার সমস্যা কী? সেটা শ্যাম বুঝবে। তুমি যেখান থেকে দায়িত্ব পেয়েছ সেখান থেকেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাও।"

এমতাবস্থায় নিহত শিক্ষিকা ব্যাংক থেকে বিগত ছয় বছরের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করেন। তিনি, প্রথম চেয়ারম্যান এবং দ্বিতীয় চেয়ারম্যানের আয়-ব্যয়ের সেই হিসাবকে দুই ভাগে ভাগ করেন। বিশেষ করে তিনি দ্বিতীয় চেয়ারম্যানের সময়ের হিসাবে অনেক গরমিল খুঁজে পান। পরবর্তীতে রুনা একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং ডেকে সকল ভাউচার দেখতে চান। কিন্তু তখন তাঁকে দম্ভের সাথে বলা হয়, "ভাউচার ইচ্ছে হলে দেব, না হলে দেব না; আপনি কী করবেন?" এই বলে দ্বিতীয় চেয়ারম্যান শ্যাম সরকার মিটিং থেকে বের হয়ে যান।

পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, দীর্ঘ ৮ বছর তাদের অসহযোগিতার কথা শুনছেন তারা। হাবিবুর রহমান বিভাগের যোগদানের পর ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও নথিপত্রগুলো তাঁকে দেওয়ার জন্য রুনাকে কয়েকবার অনুরোধ করেন। প্রকৃতপক্ষে মমতা, শ্যাম এবং বিশ্বজিৎ এই তিনজনই চরম প্রতারক। শিক্ষিকা মমতা মোস্তারী যদি আমেরিকা না যেতেন তাহলে এই মামলায় তিনি দুই নম্বর আসামি হতেন। এসব হীন চক্রান্তের মূল হোতা ছিলেন মমতা। মমতা চলে যাওয়ার পরেই শ্যাম এবং বিশ্বজিৎ এসব বিষয়ে আরও তৎপর হয়ে ওঠেন। মাঝে নিহত শিক্ষিকা সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগও করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তারা।

শ্যাম সুন্দরের এসব কর্মকাণ্ডের মূল সমর্থক ছিলেন মমতা। সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ সভাপতির সামনে সবসময় পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকতেন বলে জানা যায়। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভাগের চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও নূন্যতম সৌজন্যবোধ দেখাত না বিশ্বজিৎ এমনটাই জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ।

এদিকে, সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসও বিভাগের দায়িত্ব নতুন সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হককে বুঝিয়ে দিয়ে যায়নি। মোজাম্মেল বিভাগে আসার পরেও বিশ্বজিৎ তাঁর চেয়ার ছেড়ে দেননি এবং দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি।

নিহিত শিক্ষিকার পরিবার জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে অনেক কিছু নীলনকশা এক সাথে বাস্তবায়ন হয়েছে এবং এমন একজন ব্যক্তিকে দ্বারা হিট করা হয়েছে যার লাইফের কোন মূল্য নেই।

বাকি তিন আসামির গ্রেফতারের ব্যপারে তারা জানান, শিক্ষক শ্যাম সুন্দর ও হাবিবুর রহমান এবং সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ যদি দোষী না হয় তাহলে কেন পালাবে? তারা সরাসরি আত্মসমর্পণ করবে।

থানা সূত্রে মামলার অগ্রগতি বিষয়ে জানা গেছে, পলাতক আসামিদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের সকল ইমিগ্রেশন পয়েন্টে নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতেও বার্তা পাঠানো হয়েছে। যেকোনো সময় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে এবং আদালতে তোলার মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইমাম হোসাইন জানান, তাকে (প্রধান আসামি) সপ্তাহখানেক আগে রেফার করা হয়েছিল। সে এখন মোটামুটি সুস্থ অর্থাৎ বিপদ সীমার বাহিরে আছে। ঢাকা মেডিকেলে সার্জারি জন্য রেফার করা হয়েছে। এই সার্জারি হলে সে ভালোভাবে কথা বলতে পারবে বলে আশা করা যায়। তবে, ওনারা এখান থেকে নিয়ে যেতে গড়িমসি করছে।

এদিকে, প্রধান আসামির রিমান্ডের বিষয়ে পুলিশ জানায়, “আসামি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। মেডিকেল ছাড়পত্র পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব। অসুস্থ অবস্থায় রিমান্ডে নেওয়ার আইনগত এখতিয়ার আমাদের নেই, কারণ এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে।”

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্বামী।

হত্যাকাণ্ডের পর গুরুতর আহত অবস্থায় ফজলুর রহমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং মামলায় নাম আসায় দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তা এখনো পলাতক রয়েছেন।


বগুড়ায় ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেন লাইনচ্যুত, আহত অর্ধশতাধিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এতে ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ কারনে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কয়েক জেলার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী। তবে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহার জংশন ছেড়ে যাওয়ার পরপরই বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর সোয়া ২টার দিকে লাইনচ্যুত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার আদমদীঘি ও সান্তাহারের মাঝামাঝি এলাকায় লাইচ্যুত হয়। ওই স্থানে রেললাইনের মেরামত কাজ চলছিল। লাল পতাকা টানানো ছিল। তবে চালক খেয়াল না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ট্রেনের ছাদে ও ভেতরে থাকা অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ করছে।

সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান বলেন, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে এসে দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনে বিরতি করে। সান্তাহার স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কিছু সময় পরেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। বগিগুলো উদ্ধারের জন্য কাজ চলছে। ঘটনাস্থলে সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় উত্তরবঙ্গের ৫ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। লাইনচ্যুত বগি সরিয়ে নিতে ঈশ্বরদী জংশন থেকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে উদ্ধারকারী ট্রেন।

সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান বলেন, লাইনের কাজ চলছিল এবং সেখানে লাল পতাকা টাঙ্গানো ছিল কিন্তু ট্রেনের ইঞ্জিলে অতিরিক্ত যাত্রী থাকার কারনে লাল পতাকা দেখতে না পেয়ে ট্রেন চালক ট্রেন চালিয়ে যাওয়ার কারনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি আদমদীঘি ও সান্তাহারের মাঝামাঝি এলাকায় লাইনচ্যুত হয়।

বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশর মাস্টার সাজেদুর রহমান সাজু জানান, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মতো সময় লাগতে পারে।


ইউএনওকে যাত্রী ভেবে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ঘরেফেরা যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলাকারী বাহিনীসহ দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড ও ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
সাথী দাস। বুধবার (১৮ মার্চ) মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডের দুই জন চালক ইউএনওকে যাত্রী ভেবে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় দুইজন মাহেন্দ্র চালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার মাহেন্দ্র স্ট্যান্ড, লঞ্চ ঘাট ফেরি ঘাট ও বাস টার্মিনালে দায়িত্ব পালনকালে বাসের দুজন যাত্রীর কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হয় এবং মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় দুইজন মাহেন্দ্র চালককে জরিমানা করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাথী দাস জানান, যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত গৃহীত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার অভিযোগে দুইজন চালককে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারা অনুযায়ী ৫০০ টাকা করে মোট ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তিনি আরও জানান, যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্নে ও ঘাটে কোন ভোগান্তি ছাড়া যেন সবাই বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসন সর্বক্ষণ নজরদারি করবে এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।


কৃষকদের ফসল সুরক্ষায় ইন্সুরেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে: কৃষি মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কৃষকদের উৎপাদিত ফসলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ফসল ইন্সুরেন্স (বীমা) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে বীমার মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, যাতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন না হন।

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করেছিলেন এসব প্রতিশ্রুতি কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে; কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সেগুলো বাস্তবায়ন করছেন। তিনি বলেন, বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রমাণ করে যাচ্ছেন, বিএনপি যা বলে; তা বাস্তবায়ন করে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। শুরুতে এসব উদ্যোগ নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন, কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বাস্তবে তা কার্যকর করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ফসল বীমা চালু হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কৃষি খাতে প্রণোদনা, সহায়তা এবং ঋণ সুবিধা সহজীকরণের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে এবং তা দিয়ে আগামী কয়েক মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। দেশের কোনো মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে না- এমন নিশ্চয়তা দিতে সরকার কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুণ্ডু। আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক নজরুল হক ভূইয়া স্বপন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারন সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, মহানগর বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে আমড়াতলী ইউনিয়নের এক হাজার ৮৭৯ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।


সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ভয়াবহ মিসাইল হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫)। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের সন্তান মামুন গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডাক্তার সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের পিতা।

উল্লেখ্য, গত রোববার (৮ মার্চ) ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির ক্যাম্পে সংঘটিত ওই ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণে মামুনের শরীরের প্রায় ৭২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এই একই মর্মান্তিক ঘটনায় ইতিপূর্বে কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়া ও টাঙ্গাইলের মোশাররফ হোসেন নিহত হন এবং মামুনসহ আরও কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন।

নিহতের মামাতো ভাই শাওন মড়ল শোক প্রকাশ করে জানান যে, "বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে মামুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরে সেখানেই মারা যান।" বর্তমানে আব্দুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে এবং তাঁর একটি পুত্র সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে মামুনের অকাল মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তাঁর পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে এবং শোকার্ত স্বজনরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন।


বগুড়ায় মাইক্রোবাসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার শেরপুরে চলন্ত মাইক্রোবাসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন শিশুসহ আরও ৯ যাত্রী দগ্ধ হয়েছেন।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, শিউলী বেগম (৪৮), তায়েবা খাতুন (৩৫) এবং মাইক্রোবাসের চালক রিন্টু (৪৭)। আহতরা হলেন, ফাতেমা (১০), শহিদুল (৪০), তৌছিব (৩০), তাসমিয়া (২০), হেলেনা (৬০), তারিকুল (৩৬), ফাতেমা (২), আরহাম (৭) ও হামিম (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা যাত্রীবোঝাই মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো চ-১৯-৩০৪১) উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই পুরো গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

মহাসড়কের পাশে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগ খুবই কম ছিল। চালক গাড়ির ভেতরেই দগ্ধ হয়ে মারা যান। খবর পেয়ে শেরপুর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রোকন উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। এতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজন। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


ডিজিটাল সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ঈদ কার্ড হারিয়ে গেছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

আধুনিকতায় ছোঁয়া লেগেছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। হাতে মোবাইল নেই, এমন পরিবার খুব কমই আছে। ঈদ এলে প্রেমিক-প্রেমিকা, প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধব সবাই ঈদ কার্ডের শুভেচ্ছা বিনিময় করত। এখন মেসেঞ্জার, ফেসবুকে, টুইটারে, ইন্সটাগ্রামে, টেরিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হচ্ছে।

এখন আর পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে, অলিগলিতে বাহাড়ি ঈদ কার্ডের দোকান চোখে পড়ে না। কার্ড কেনার জন্য ছোট শিশুরাও আর বায় না ধরে না। স্কুল খরচের টাকা বাঁচিয়ে ঈদ কার্ড কেনার আনন্দ এখন স্মৃতির অতল গহীনে হারিয়ে গেছে।

মাইশা ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, ‘আগের মতো এত সময় কই, তা ছাড়া খুঁজে খুঁজে কার্ড বিতরণ করার দিন শেষ।’

ডিজিটাল যুগে কয়েক সেকেন্ডেই হাজারও মানুষের কাছে ‘কপি-পেস্ট’ করা শুভেচ্ছা পৌঁছে যায়।’ এক সময় ঈদ মানেই ছিল প্রিয়জনদের হাতে হাতে ঈদ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার এক অদ্ভুত শিহরণ। আজ তথ্যপ্রযুক্তির কারণে সবকিছু বদলে গেছে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের উৎসবগুলো হয়ে ওঠেছে যান্ত্রিক।

আমাদের বাবা-মায়েদের কিশোর বা তরুণ বয়সে রোজা শুরুর পর থেকেই শুরু হতো ঈদ কার্ড সংগ্রহের তোড়জোড়। পাড়ার মোড়ে মোড়ে বসত ছোট ছোট কার্ডের দোকান। কেউ বেছে নিতেন প্রাকৃতিক দৃশ্যের কার্ড, কেউবা নিতেন গ্লিটার মাখানো ঝকঝকে কোনো নকশা। নিজের হাতে কার্ডের ভেতরে দু-এক লাইন শুভেচ্ছা বাণী লেখা আর নিচে নাম লিখে দেওয়া- সে এক অন্যরকম পাওয়া। প্রিয় বন্ধু বা আত্মীয়ের হাতে সরাসরি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে যে আন্তরিকতা ছিল, তা আজকের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার নীল টিকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে সত্য; কিন্তু কেড়ে নিয়েছে অনেক প্রাণবন্ত ঐতিহ্য। এখন ঈদের শুভেচ্ছা মানেই একটি ফরোয়ার্ড করা মেসেজ, মেসেঞ্জারের ইমোজি কিংবা ফেসবুকে আপলোড করা একটি পোস্ট। ক্লিক করলেই শুভেচ্ছা পৌঁছে যাচ্ছে হাজার মাইল দূরে; কিন্তু সেই বার্তার পেছনে সময় দেওয়ার ধৈর্য কিংবা মনের টান আজ অনেকটা ম্লান। আমরা হয়তো সময় বাঁচাচ্ছি; কিন্তু অজান্তেই হারিয়ে ফেলছি সম্পর্কের সেই ‘ব্যক্তিগত পরশ’।

দুঃখজনক হলেও সত্যি, আধুনিকতার চাকচিক্যের নিচে চাপা পড়ে গেছে আমাদের পূর্বসূরিদের সেই মায়াভরা ঈদ কার্ডের প্রচলন। আমরা অনেক কিছু উন্নত করতে পারি; কিন্তু শৈশব বা কৈশোরের সেই স্মৃতিগুলোকে তো আর আধুনিক করা যায় না। কার্ডের ভাঁজে লেগে থাকা সেই ভালোবাসা আজ কেবলই অ্যালবামের কোণে ধুলো জমা এক দীর্ঘশ্বাস। মা-বাবার কাছে যখন সেই দিনগুলোর গল্প শুনি, তখন বোঝা যায় আমরা কতটা যান্ত্রিক এক বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়েছি।

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে আমরা অস্বীকার করছি না, তবে ঐতিহ্যের এই মৃত্যু আমাদের কিছুটা রিক্ত করে দেয়। ডিজিটাল শুভেচ্ছা আসুক; কিন্তু হৃদয়ের মলাটে মোড়ানো সেই পুরোনো ঈদ কার্ডের আবেদন চিরকাল অমলিন থাকুক আমাদের স্মৃতির মণিকোঠায়। হয়তো একদিন আবার কোনো নতুন প্রজন্ম এই যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে ফিরে তাকাবে সেই ফেলে আসা রঙিন দিনগুলোর দিকে।


রাতের ঝড় কেড়ে নিলো অর্ধশত পরিবারের ঈদ আনন্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত দুইটা। দক্ষিণ থেকে ধেয়ে আসা আকস্মিক ঝড় শুরু হয় ভোলার চরফ‌্যাশন উপজেলার সাগর মোহনাঘেঁষা দশটি এলাকার ওপর দিয়ে। এতে ওইসব এলাকার অর্ধশত বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। সেই সাথে অসংখ‌্য গাছপালাও উপড়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

প্রতিদিনের মত ঢালচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ তার পরিবারের সদস‌্যদের নিয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়েছেন। সেহেরির সময়ের দুই ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ থেকে ধেঁয়ে আসা তীব্র গতির বাতাসে তার বসতঘরের চালা উড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে তিন দিন পরেই ঈদ। ঈদের আগেই আমাদের মাথাগোঁজার ঠাই হারিয়ে ফেলেছি। ঝড় আমাদের ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। শুধু আমি না, আমার মত বহু পরিবার বসত ঘর হারিয়ে পথে বসেছে।’
একই ভাবে ঢালচরের কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হাসান, মো. ইব্রাহিম, মো. জসিম, আক্তার, মো. রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, মো. আনোয়ার ও মো.গিয়াস উদ্দিনের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত প্রায় ২ টার দিকে হঠাৎ করেই প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। প্রথমে হালকা বাতাস থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ঝড়ের সাথে গুড়ি গুড়ি শিলা বৃষ্টিও হয়। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, টিনের ছাউনি উড়ে যায় এবং কাঁচা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। অনেক পরিবার রাতের আঁধারেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করতে থাকে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢালচর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাদের বেশিরভাগই কাঁচা ঘরে বসবাস করায় ঝড়ের আঘাত সহ্য করতে পারেনি। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ‌্যমতে, চরফ‌্যাশন উপজেলার ঢালচর, কুকরি মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকি, চর মানিকা, নজরুল নগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অর্ধশত বাড়িঘর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্চপিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম বলেন, ‘আমি একজন ব‌্যবসায়ী। বাতাসের প্রবল চাপে চর কচ্চপিয়া বাজারের ঘরের চালা উড়ে যায়।’

ঢালচর ইউনিয়নে প্রশাসক ও ঢালচর বন কর্মকর্তা মুইনুল মুঠোফোনে জানান, হঠাৎ ঝড়ে প্রায় ঢালচরে ত্রিশটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের প‌্যানেল চেয়ারম‌্যান মিনারা বেগম জানান, চর মানিকা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিশটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।


ভোজ্যতেলের বিকল্প হিসেবে অনেকে ঝুঁকছেন সূর্যমুখী চাষে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

ভোজ্য তেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও সরবরাহ সংকটের কথা চিন্তা করে অনেক কৃষক এখন সূর্যমুখী চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক কৃষকের কাছে সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ বছর আগের তুলনায় বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, কৃষকদের মাঝেও সৃষ্টি করছে নতুন আশার আলো। উপজেলার দক্ষিণ তাফালবাড়ি গ্রামের কৃষক সুবাস মাঝি বলেন, ‘ভোজ্যতেলের বাড়তি দাম থাকার কারণে আমরা নিজেরাই তেল উৎপাদনের কথা ভাবছি। সূর্যমুখী চাষে খরচ কম এবং ফলনও ভালো হয়। তাই এবার এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা দেবব্রত সরকার জানান, উপকূলীয় এলাকার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা করলে প্রতি বিঘা জমিতে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা সূর্যমুখী চাষে আরও আগ্রহী হন।

কৃষি বিভাগের মতে, সূর্যমুখী বীজ থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যসম্মত এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এ কারণে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঈদ উপহার পেলেন রাসিকের ১২৩৭ পরিচ্ছন্নকর্মী

বিতরণ করলেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নগর ভবনের গ্রিন প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১২৩৭ (১ হাজার ২ শত সাঁইত্রিশ) জন পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে অনুদানের অর্থ তুলে দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১ হাজার ২ শত ৩৭ জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে সর্বমোট ৬১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এবার প্রথমবারের মতো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঈদ উপহার পেলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাসিক প্রশাসক। এছাড়া তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীর শহীদ আলী রায়হান ও অন্যান্য শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, সেই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ইতঃপূর্বে কোনদিন এভাবে পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ উপহার প্রদান করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের খালি হাতে আসিনি। তার উপহার নিয়েই এসেছি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক আশা করে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজশাহীকে আরো সুন্দর ও উন্নত করতে হবে। আমি সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাব ইনশাল্লাহ। রাসিক প্রশাসক বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষষদের জন্য খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। যা সারাদেশের কৃষকদের উপকার হবে।

তিনি আরও বলেন, হাতের আংগুলে ভোটের কালির দাগ শুকানোর পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরে ৫ কোটি মানুষকে ফ্যামিল কার্ড প্রদান করা হবে। তিনি ঈমাম, মোয়াজ্জিম, খাদেমদের সম্মানী ভাতা দিয়েছেন। যা ইতঃপূর্বে কেউ দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। তার জন্য সকলে দোয়া করবেন।
রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, সিটি করপোরেশন নাগরিক সেবার প্রতিষ্ঠান। আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার মাধ্যমে নাগরিকদের নাগরিক সেবা প্রদান করব। রাজশাহী মহানগরবাসী যা চায়, আমরা তা করব। নগরীর যেসব উন্নয়ন কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, সেগুলো সমাপ্ত করব। আগামীতে রাজশাহীকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, সুন্দর, সুখী, আধুনিক ও তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একাজে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন। অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, রাসিকের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেয়ে খুঁশি ও উচ্ছ্বসিত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। পরিচ্ছন্ন কর্মী রাজিবুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন রাজশাহী সিটি করপোরেশনে চাকরি করছি। চাকরিজীবনে কোনদিন এভাবে অনুদান পাইনি। অনুদান পেয়ে আমরা অনেক খুঁশি।


পরিচ্ছন্ন কর্মী মরিয়ম ও সুমাইয়া বলেন, ঈদে অনেক খরচ। কীভাবে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভালোভাবে ঈদ করব, এই নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। তারপর যখন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেলাম তখন চিন্তা মুক্ত হলো। এবার ভালোভাবে ঈদ করতে পারব। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি যেন এভাবেই আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারেন।


পরিচ্ছন্নকর্মী হারুনুর রশীদ বলেন, ঈদ উপহার পেয়ে আমরা অনেক আনন্দিত। এই অনুদান পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কাজে আমাদের আরও উৎসাহ যোগাবে।


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাকৃবির মাইলফলক, দুই গোল্ডসহ ৪ পুরস্কার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং অঙ্গনে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)-এর শিক্ষার্থীরা। কৃষি ও বায়োসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ‘কৃষি ও জৈবব্যবস্থা প্রকৌশলের আন্তর্জাতিক কমিশন’ (সিআইজিআর) আয়োজিত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ২০২৫-২৬-এ চারটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে জয়লাভ করেছে বাকৃবির চারটি পৃথক দল।

আমেরিকা, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, ঘানা, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন প্রান্তের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রতিযোগিতা করে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা দুটি গোল্ড (প্রথম স্থান) এবং দুটি ব্রোঞ্জ (তৃতীয় স্থান) পদক লাভের গৌরব অর্জন করেছে।

প্রতিযোগিতার ফলাফলে দেখা যায়, ‘এনার্জি ইন অ্যাগ্রিকালচার’ (টেকনিক্যাল সেকশন-৪) ক্যাটাগরিতে কৃষিতে জ্বালানি ও শক্তি ব্যবহারের আধুনিকায়ন নিয়ে কাজ করে প্রথম স্থান (গোল্ড) অধিকার করে বাকৃবির একটি দল। দলের সদস্যরা হলেন- মো. আবু হোরায়রা আল রেজন, আমিনা আরিফ রিয়া এবং শোয়াইব আহমেদ সতেজ।

খামার ব্যবস্থাপনা ও কর্মপরিকল্পনা অপ্টিমাইজেশনের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত ‘সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট’ (টেকনিক্যাল সেকশন-৫) বিভাগেও প্রথম স্থান অর্জন করেছে বাকৃবির আরও একটি দল। স্বর্ণপদক জয়ী এই দলের সদস্যরা হলেন- তানভীর হোসেন, খৈরম অনন্ত অনি এবং নুসরাত জাহান মুমু।

সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় ব্রোঞ্জ পদক জয়েও উজ্জ্বল ছিল বাকৃবির নাম। স্থাপত্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রকৌশল সমাধানের লক্ষ্যে ‘স্ট্রাকচারস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ (টেকনিক্যাল সেকশন-২) ক্যাটাগরিতে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন সাবিদুর রহমান শেজান এবং নুসরাত জাহান জুঁই।

এ ছাড়া ‘সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগে আরও একটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে এম. রাহাত মিয়া এবং খন্দকার জুনায়েদ আহমেদের দল।

আন্তর্জাতিক এই অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ গোল্ড মেডেল জয়ী বাকৃবির দুটি দলের প্রত্যেকটি ৫০০ মার্কিন ডলার এবং ব্রোঞ্জ মেডেল জয়ী বাকি দুটি দলের প্রত্যেকটি ২০০ মার্কিন ডলার করে অর্থ পুরস্কার ও সনদপত্র লাভ করবে। আগামী ২০২৬ সালের জুন মাসে ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিতব্য ‘সিআইজিআর ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।


মাদারীপুরে বেসরকারি সংগঠনের ঈদ বস্ত্র পেয়ে খুশীতে আত্মহারা সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মাদারীপুরে গরীব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করল বেসরকারি সামিজক সংগঠন ‘তারুণ্য পরিবার’। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে মাদারীপুর বণিক সমিতির কার্যালয়ে ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সোহাগ হাসানের পরিচালনায় ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজের সঞ্চালনা এ সময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্তিত থেকে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার গোলাম সরোয়ার, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা শাখার সভাপতি এনায়েত নান্নু, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী শরীফ মো. ফায়েজুল কবীর, সমাজকর্মী রেজাউল ইসলাম রেজা প্রমুখ।

ওই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিতে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত এসব গরীব ও অসহায়দের মাঝে এরুপ মহৎ কাজ তথা ঈদ বস্ত্র বিতরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

এ সময় অর্ধশতাধিক শিশুদের মাঝে তাদের মায়েদের উপস্থিতিতে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়। পোশাক পেয়ে শিশুদের মুখে অনেক হাসি ফোটে। তারুণ্য পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সোহাগ হাসান সহ তাদের কর্মকর্তারা বলেন, সকলের ভালোবাসায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


banner close