দুই দেশের জাতীয় নির্বাচন ও পরিবর্তিত বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলছেন কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফর এ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তারা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটের মধ্যে এ অঞ্চলের আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি মূলত সফরকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
তিন বছর পর কাল সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে ভারতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সফর দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ছাড়াও আঞ্চলিক রাজনীতি-সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে জানান, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি নানা বৈশ্বিক সংকট, বিশেষ করে মার্কিন-চীন প্রতিযোগিতার বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করবেন দুই নেতা। অনেকটাই অচল আঞ্চলিক ফোরাম সার্কের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ায় আশা জাগাচ্ছে। এ অবস্থায় হাসিনা-মোদি বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতীয় পক্ষেও এ সফর নিয়ে ব্যাপক আশাবাদ রয়েছে। শেখ হাসিনার সফর সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফরসহ উচ্চপর্যায়ের সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এবারের সফর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে বহুমুখী সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
সফরের বিষয়ে ধারণা পেতে দৈনিক বাংলা কথা বলেছে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, এ সফরে বড় ধরনের কোনো চুক্তি হচ্ছে না। কয়েকটি রুটিন এমওইউ স্বাক্ষর হবে। তবে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্যনিরাপত্তা, বাণিজ্য, পানিবণ্টন, সংযুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীও মনে করেন, সফরটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। গত সপ্তাহে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় হাইকমিশনার বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও পরিবহন যোগাযোগের উন্নতি হলে শুধু ভারত-বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও তা বড় ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ভারতের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নিয়ে আলোচনা চলছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেগুলোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হতে পারবে সেগুলোই স্বাক্ষর হবে।
তবে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব তৌহিদ হোসেন মনে করেন, এ সফর থেকে বড় কোনো প্রাপ্তির সম্ভাবনা নেই। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের নানা দিক নিয়েই আলোচনা হবে। বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো ভারতকে জানানো হবে। তবে ভারত যে সেগুলোর সমাধান সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেবে, এমন কোনো সম্ভাবনা নেই।
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারতের চাওয়াগুলো আমরা (বাংলাদেশ) মোটামুটি পূরণ করেছি। ভারত তাতে খুশি। আমাদের চাওয়াগুলোর বেশির ভাগই সমাধান হয়নি। ভারত ধরে নিয়েছে, তারা যদি বাংলাদেশের ইচ্ছাগুলো পূরণ না-ও করে তাহলেও বাংলাদেশ তাদের পাশেই থাকবে। কাজেই বাংলাদেশের সমস্যা সমাধানে ভারত অতটা জরুরি প্রয়োজন বোধ করছে না।’
তবে এই সফরের রাজনৈতিক দিকটিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতিক বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিসের (সিজিএস) পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে। এর বড় কারণ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উলফার মতো বিচ্ছিন্নতাবাদীরা একসময় বাংলাদেশে আশ্রয় পেলেও আওয়ামী লীগ সরকার তা বন্ধ করেছে। ফলে ওই এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা বজায় রাখা নিয়ে ভারতের যে চিন্তা ছিল তা শেখ হাসিনার শাসনকালে নেই। তাই হাসিনা সরকারের ওপর সে দেশের মানুষ ও রাজনীতিকদের আস্থা প্রকট।
ড. ইমতিয়াজের মতে, ভারত চাইবে বাংলাদেশে এমন একটি দল ক্ষমতায় থাকুক, যাদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের যে উন্নয়ন হয়েছে তাতে যেন কোনো ভাটা না পড়ে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বৈশ্বিক রাজনীতির বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য ড. দেলোয়ার হোসেন।
দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, গত এক যুগে বাংলাদেশ-ভারতের অংশীদারত্ব এবং সম্পর্কের যে প্রসার ঘটেছে, তা আরও এগিয়ে নেয়াই হবে প্রধান ইস্যু। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব যখন একধরনের মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে; সেখানে চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা, অর্থাৎ আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে খোলামেলা কথাবার্তা হতে পারে।
সম্পর্কের স্বর্ণ-সময়েও চাওয়া-পাওয়ায় ভারসাম্যহীনতা
বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্কের স্বর্ণ-সময় পার করছে বলে দাবি করে আসছেন দুই দেশের নেতারা। তার পরও গত এক দশকে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তির জায়গায় বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, ভারতকে সড়কপথে ট্রানজিট দেয়া, চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের অনুমতি, ভারত-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে বাংলাদেশের সহায়তার মতো বড় সহযোগিতার বিনিময়ে দেশটির কাছ থেকে বাংলাদেশের পাওয়ার পরিমাণ তুলনামূলক কম। এক দশক ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা চুক্তি না হলেও ত্রিপুরার সাব্রুম অঞ্চলের মানুষের পানির কষ্ট মেটাতে ফেনী নদীর পানি দিয়েছে বাংলাদেশ।
২০১০ সালে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় তিন দফায় ৭ দশমিক ৮৬২ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে ভারত। নানা শর্তের কারণে এই অর্থ কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা।
তবে চুক্তির প্রায় ৪০ বছর পরে ছিটমহল বিনিময়কে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি বলে ধরা হয়। ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য সরবরাহ সহজ হলেও ভারত হয়ে তৃতীয় দেশে পণ্য পাঠানোর বাধা দূর হয়নি বাংলাদেশের। এ ছাড়া সীমান্ত হত্যা নিয়ে এখনো উদ্বেগ রয়ে গেছে। ভারতের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ঘোষণা দিলেও আশানুরূপ ভারতীয় বিনিয়োগ এখনো পাওয়া যায়নি। এমনকি রোহিঙ্গা সংকটেও ভারতকে প্রত্যাশিতভাবে পাশে পায়নি ঢাকা।
স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ভারত-বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে বরাবরই স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের মতে, শ্রীলঙ্কায় চীনের প্রভাব নিয়ে সব সময় অস্বস্তি ছিল ভারতের। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কোন্নয়নও ভাবাচ্ছে ভারতকে। ফলে সব সময়ের জন্য ভারতমুখী বাংলাদেশ দেখতে চাওয়া নয়াদিল্লি আসন্ন বৈঠকে বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের মাত্রার বিষয়টিও তুলতে পারে। ঢাকার পক্ষ থেকে সে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার-পরবর্তী পরিস্থিতিও আলোচনায় আসতে পারে। সেই সঙ্গে এ অঞ্চলে বাড়তে থাকা ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার উপ-আঞ্চলিক শাখার বিস্তার নিয়েও আলোচনা করবে দুই দেশ।
ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় না দিয়ে সেভেন সিস্টার্স-খ্যাত ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে শান্তি ফেরানোয় বাংলাদেশের ভূমিকার কথা সব সময় স্বীকার করে আসছে প্রতিবেশী দেশটি। এ বছরের মে মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সফরকালে উলফা দমনে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বাংলাদেশের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও ওপর গুরুত্ব দেবে ভারত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত হত্যা কমে এলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে এটি নিয়েও জোর দেবে বাংলাদেশ। সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাতে মানব, মাদক ও সব ধরনের চোরাচালান বন্ধের মতো বিষয়ও তোলা হবে। এ ছাড়া দুই দেশেই সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছেন, এ সফরে প্রতিরক্ষা খাতে নতুন কোনো চুক্তি সই হবে না। ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছিল। ওই সময় ঋণচুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ভারত। তবে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ওই ঋণের সদ্ব্যবহার করেনি বাংলাদেশ।
মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে এ বছরের আগস্টের শুরুতে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের প্রতিরক্ষা সংলাপে ওই ঋণচুক্তির ব্যবহারসহ সহযোগিতার নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাণিজ্য ও জ্বালানি
বাংলাদেশ ও ভারত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা)’ বিষয়ে একটি যৌথ সমীক্ষার ফল নিয়ে দুই দেশই ইতিমধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এ চুক্তির বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক ড. দেলোয়ার হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের অর্থনীতির আকার অত্যন্ত বৃহৎ এবং শক্তিশালী। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি এবং অভ্যন্তরীণ শিল্প যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি বিবেচনায় রেখে সেপা চুক্তি করতে হবে। এই চুক্তির শর্তগুলো বাংলাদেশের জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং উদীয়মান অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, সেটা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি মাথায় রাখতে হবে।’
গবেষণা সংস্থা সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, যথাযথ দর-কষাকষির মাধ্যমে এ চুক্তি করলে ভারতে রপ্তানি বাড়বে। একই সঙ্গে ভারতের বিনিয়োগ বাড়বে। ভারতের বিনিয়োগকারীদের উৎপাদিত পণ্য তাদের দেশে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানি হবে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দুই দেশের মধ্যকার ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে পাট রপ্তানির ওপর ভারতের আরোপিত ‘অ্যান্টি-ডাম্পিং’ শুল্ক অপসারণের বিষয়টি তুলবে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়ে, বিশেষ করে গম, চাল, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের বিষয়টি দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। এসব পণ্য আমদানির চাহিদা ভারতকে আগাম জানানো হলে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানির বিষয়টি বিবেচনায় রাখার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আগামী ৬ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এ ঘোষণা দিতে পারেন। এ ছাড়া জ্বালানি খাতে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জানা যায়, পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করতে ঢাকাকে প্রস্তাব দিয়েছে নয়াদিল্লি।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমানে ভারত জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে আমরা তাদের সহায়তা চাইব, তাদের উদ্বৃত্ত থাকলে তাদের কাছ থেকে জ্বালানি আনার জন্য চুক্তি করতে চায় ঢাকা।’
ভারতের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বা উপ-আঞ্চলিক এনার্জি হাব গঠন নিয়েও আলোচনা করবেন হাসিনা-মোদি। বাংলাদেশ নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আনতে চায়। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা কানেকটিভিটি বিষয়টি নিয়েও যৌথভাবে কাজ করতে চায়। এ জন্য ভারতের ভূমি ব্যবহার করে নেপাল-ভুটানে যাতায়াতের সুবিধা চায় বাংলাদেশ।
অন্যদিকে কানেকটিভিটির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি। ১৯৬৫ সালের আগের কানেকটিভিটিতে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ বেশি তাদের। রেলওয়ের ক্ষেত্রে আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ, খুলনা-মোংলা রেল সংযোগ এবং দুই দেশের মধ্যে নতুন ট্রেন মিতালি এক্সপ্রেস চালুতে সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেন দুই নেতা। এ ছাড়া দুই দেশের রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশিক্ষণের জন্য একটি সমঝোতা প্রস্তুত করা হয়েছে।
জানা যায়, দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকে এলওসি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এলওসির আওতায় তিন দফায় ৭ দশমিক ৮৬২ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও এখন পর্যন্ত ১ বিলিয়ন ডলারের মতো ছাড় করেছে ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দুই দেশই এ বিষয়ের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছে, যা সমাধান করে অর্থ ছাড়ের ঘোষণা আসতে পারে এই সফরেই।
আলোচনায় কুশিয়ারার পানি
দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তির জন্য এবারও তাগিদ দেবে বাংলাদেশ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে ২০১১ সাল থেকে ঝুলে থাকা তিস্তা নিয়ে এবার কোনো সুখবর পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে,তীয় গণমাধ্যমের ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে দিল্লি গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তারপরও যে তিস্তা নিয়ে কোনো সুখবর আসছে না তা নিশ্চিত।
তবে দীর্ঘ ১২ বছর পরে গত ২৫ আগস্ট যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে কুশিয়ারার নদীর পানি বণ্টনের লক্ষ্যে এমওইউ চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৫৪টি অভিন্ন নদীর মধ্যে মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বণ্টনের রূপরেখা নিয়ে সমঝোতার বিষয়টি এবার আলোচনা হবে। এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় এই নদীর পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতে দেশের যৌথ সমীক্ষার ঘোষণা আসতে পারে দুই নেতার বৈঠক শেষে।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের পরিবারের জন্য বৃত্তি
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচির তথ্য থেকে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বা গুরুতর আহত ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ২০০ সদস্যের উত্তরসূরিদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের ‘মুজিব স্কলারশিপ’ দেবেন শেখ হাসিনা। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যথাক্রমে এককালীন ৫০০ এবং ১ হাজার ডলার করে দেয়া হবে। প্রসঙ্গত, বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের বৃত্তি দিয়ে আসছে ভারত।
অন্যদিকে টেকসই উন্নয়নে নেতৃত্ব দেয়ায় শেখ হাসিনাকে পুরস্কৃত করবে দিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (টেরি)। সাবেক টাটা এনার্জি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এখন টেরি নামে পরিচালিত হচ্ছে।
নিজামুদ্দিন আউলিয়ার মাজার জিয়ারত দিয়েই সফর শুরু
সফরসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ সেপ্টেম্বর ভারতে পৌঁছাবেন। সেখানে তাকে স্বাগত জানাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিল্লিতে হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়ার দরগাহ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তার ভারত সফরের কর্মসূচি শুরু করবেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এই মাজার জিয়ারত করতেন।
সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার সকালে দিল্লির রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা একান্ত এবং প্রতিনিধি পর্যায়ে বৈঠক করবেন। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তালিকায় থাকা সমঝোতা স্মারক সই হবে। একই দিন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনা।
৭ সেপ্টেম্বর ভারতের বিভিন্ন কোম্পানির সিইও এবং ব্যবসায়ী কমিউনিটির সঙ্গে শেখ হাসিনা বৈঠক করবেন। ওই দিন দুপুরে তিনি দিল্লি থেকে রাজস্থানে আজমির শরিফ দরগাহে যাবেন। সেখানে হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন। ৮ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যাবেন মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিবসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একদল প্রতিনিধি। থাকবেন ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরাও।
এর আগে ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর দিল্লি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগের বছরও দিল্লি সফর করেন তিনি।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে HEAT-ATF এর একটি সাব প্রজেক্টের সহযোগিতায় মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের আয়োজনে ‘রিসার্চ মেথোডোলজি, ননইনভেসিভ টেকনোলজি ফর সীফুড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রাইটিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) পবিপ্রবির ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্রের কনফারেন্স কক্ষে সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য প্রফেসর ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান, ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদ, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ সাজেদুল হক।
প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লোকমান আলী, প্রশিক্ষণ পরিচালক হিসেবে ছিলেন মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে।
প্রথম অধিবেশনে সকাল ১০.০০-১১.৩০ পর্যন্ত গবেষণা পদ্ধতি ও ফিসারিজ সাইন্স বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ লোকমান আলী। দ্বিতীয় অধিবেশনে দুপুর ১২.০০- ১.০০ পর্যন্ত সামুদ্রিক খাবার বিশ্লেষণের জন্য ননইনভেসিভ টেকনোলজি বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান।
তৃতীয় অধিবেশন দুপুর ২:০০-৩:৩০ টা পর্যন্ত দেশে এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কারিগরি ফেলোশিপ/বৃত্তি বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ডিন, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ (পিজিএস), পবিপ্রবি। চতুর্থ অধিবেশনে বিকাল ৩:৪০-বিকাল ৪:৩০ সাইন্টিফিক রাইটিং বিষয়ে সেশন নেয় অধ্যাপক ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান।
পরবর্তীতে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও অংশগ্রহণকারী দের সার্টিফিকেট প্রদান ও পবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান এর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে বিকাল ৫ টায় অনুষ্ঠানটির সমাপ্ত হয়।
প্রশিক্ষণ পরিচালক ও মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, "ইউজিসি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে HEAT পরিচালিত একটি সাব-প্রজেক্টের আওতায় মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সীফুড অ্যানালাইসিস ও সায়েন্টিফিক রাইটিং বিষয়ক একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সীফুডের গুণগত মান বজায় রাখা, সীফুড উৎপাদনে ব্যবহৃত আধুনিক ও নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারছে এবং বাস্তবভিত্তিক এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাদের গবেষণামুখী হতে উৎসাহিত করবে।"
তিনি আরও বলেন, "নিরাপদ সামুদ্রিক খাদ্য ভোক্তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্বে নতুনভাবে উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে ‘ফ্লোরোসেন্স ফিঙ্গারপ্রিন্টিং’ প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যা খুব সহজে ও অল্প সময়ে সীফুডের নিরাপত্তা ও মান যাচাই করতে সহায়তা করে। পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের মৎস্য ও সামুদ্রিক খাদ্য খাতে নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে এসব আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখতে পারে এবং বাংলাদেশের মাৎস্য ও মাৎস্যজাত পন্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়।
পবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, "রিসার্চ ভ্যালিডেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ যেকোনো গবেষণার ক্ষেত্রেই ত্রুটি থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাসিক রিসার্চের ক্ষেত্রে হয়তো ৫ থেকে ১০ শতাংশ ত্রুটি নেগলিজিবল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে ভ্যালিডেশনের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এ সময় তিনি গবেষণা পদ্ধতি (রিসার্চ মেথডোলজি) অনুসরণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং গবেষণা বিষয়ক এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"
শিক্ষাজীবন শেষে নার্স ও মিডওয়াইফারিদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘জব ফেয়ার‘ বা চাকরি মেলার আয়োজন করেছে সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ) সকাল ১১ টায় সিরাজগঞ্জে সদরে নার্সিং ইনস্টিটিউটের হল রুমে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় এ মেলার আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ রেহানা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আকিকুর নাহার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন–ডেপুটি সিভিলে সার্জন রিয়াজুল ইসলাম ,নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ( সমন্বয় ও প্রশিক্ষক) ফরিদা ইয়াসমিন ও এসেক্ট প্রজেক্টের, মেন্টর, কাওসার আলম। এছাড়াও এসময় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও মেলায় আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আকিকুর নাহার বলেন, ‘জব ফেয়ার‘ হলো এক ধরণের প্ল্যাটফর্ম। যেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো জবের ক্ষেত্রে যারা নিয়োগ কর্তা, নিয়োগদাতা তাদের মধ্যে একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এটা খুবই চমৎকার উদ্যোগ। এজন্য জব ফেয়ারকে অনেক সময় বলা হয় ক্যারিয়ার এক্সপোর্ট। কাজেই এই জব ফেয়ার খুবই চমৎকার একটা প্ল্যাটফর্ম, যা কাজের সুযোগ তৈরি করে।
সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ রেহানা খাতুন বলেন, আমরা প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, সবার থেকেই সাড়া পেয়েছি। জব ফেয়ারের স্টেকহোল্ডারদের কাছে আমরা স্টুডেন্টসদের সিভি দিয়েছি। প্রতিষ্ঠানগুলো চাকরিপ্রার্থী উপযুক্ত নার্স ও মিডওয়াইফারিদের বাচাই করে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে মেলায় স্টল দেয়া ও উপস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট দেয়া হয়। সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ সিরাজগঞ্জে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ ‘জব ফেয়ারে‘ সিরাজগঞ্জ জেলায় অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। যাদের মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান মেলায় স্টলও দিয়েছে।
নাটোরের সিংড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র তৈরির কাচা মাল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বামিহাল বাজারে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে অস্ত্র তৈরির তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে। এতে আব্দুল্লাহ (২৯) নামে একজনকে আটক করা হয় ও মোটরসাইকেল গ্যারেজ থেকে একটি দেশি অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র তৈরির মালামাল উদ্ধার করে। পরে তাকে সিংড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটককৃত আব্দুল্লাহ ঈশ্বরদী উপজেলার রুপপুর গ্রামের বকুলের পুত্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুন নূর।
৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে পাবনার সাঁথিয়য় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাবনার সাঁথিয়য় সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা পরিষদের সামনে সাঁথিয়া এবং উপজেলা সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম এর পরিচালনায় উক্ত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কেএম শামসুল হক, বোয়ালমারী কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর আব্দুল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন রানা, সহকারী অধ্যাপক এম এ হাই, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহবায়ক নাড়িয়াগোদাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান, শালঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম রিপন,সাঁথিয়া সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন, সাংগঠনিক বজলুর রহমান, ইসমাইল হোসেন কিরণ, আনিসুর রহমান লিটন , ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল হাদি, কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ফার্মাসিস্ট রাসেল আহমেদ সোহাগ, প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, আরিফা আঞ্জুমান আরা, প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, ২১ জানুয়ারি কমিশন রিপোর্ট জমা দিলেও অর্থ উপদেষ্টা গেজেট প্রকাশ না করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে কালক্ষেপণ করছেন। ৬ তারিখের আগে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ৬ তারিখের মহাসমাবেশে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো সমাবেশ থেকে।
এ সময় এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল কলেজ এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরা এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের উত্তর চাকামইয়া মানবিক সোসাইটির উদ্যোগে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে গরুর গোস্ত বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের উত্তর চাকামইয়া মীরা বাড়ির সামনে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে সোসাইটির পক্ষ থেকে একটি গরু জবাই করে স্থানীয় অসহায় দরিদ্র পরিবার ও মিয়া বাড়ি মসজিদে গোস্ত বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি তানজিল মীর ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম দফাদার ও সিনিয়র সহ সভাপতি মোসাঃ এমি এর নেতৃত্বে অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিববুল্লা, কোষাধ্যক্ষ কাওসার সিকদার, প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া মীর, এলী, সহ সভাপতি নোমান, হারুন মীর, হাকিম মুসুল্লি, ইদ্রিস, মহসিন, কামাল মীর, তামিম মীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। তারা বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা জানান, উত্তর চাকামইয়া মানবিক সোসাইটি নিয়মিতভাবে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, রমজানে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানবিক উদ্যোগের কারণে সংগঠনটির কার্যক্রম এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বাঙ্গালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আনুমানিক বিকাল ৪ ঘটিকায় সারিয়াকান্দি উপজেলাধীন সদর ইউনিয়নের পাইকপাড়া নামক স্থানে বাঙ্গালী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিসস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতিকুর রহমান।
অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত মেশিনটি অপসারণ করা হয়।
এছাড়াও বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত পাইপ ভেঙে বিনষ্ট করা হয়। জনস্বার্থে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ঐ কর্মকর্তা।
চট্টগ্রামের হালদা নদীতে আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা দুইটার দিকে হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাস মুন্সির হাট এলাকায় নদীতে মৃত অবস্থায় ভাসমান ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়।
ওই এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীর মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করেন। পরে তিনি নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগকে জানান।
এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর রামদাস মুন্সির হাট এলাকা থেকেই আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার হয়েছিল; আঘাতের কারণে যেটির মৃত্যু হয়েছিল বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন।
এদিকে হাটহাজারী উপজেলার সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, নদীর মদুনাঘাটের দিক থেকে জোয়ারের সময় ডলফিনটি ভেসে এসেছিল। এটির দৈর্ঘ্য্ চার ফুট দুই ইঞ্চি এবং প্রস্ত এক ফুট। ওজন প্রায় ২৭ কেজি। বয়স আনুমানিক ২ বছর হতে পারে।
তিনি বলেন, তিন-চারদিন আগে ডলফিনটি মারা গেছে। জালে আটকা পড়ে অথবা শক্ত কিছুর সাথে আঘাতে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। শরীরে বড় কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পঁচন ধরেছিল। পরে সেটি মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।
হালদা নদীর মদুনাঘাট অংশে কিছু ড্রেজার চলাচল করে জানিয়ে সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. শওকত আলী বলেন, গত বছর হালদায় চারটি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। এই ডলফিনটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক। স্বাভাবিক মৃত্যুর বয়স হয়নি।
হালদা নদীর গড়দুয়ারা, রামদাস মুন্সির হাট ও মাছুয়াঘোনা এলাকায় এখনো নিয়মিত ডলফিন দেখা যায়। কিন্তু নিয়মিতভাবে ডলফিনের মৃত্যু আশঙ্কাজনক। ডলফিন রক্ষায় সবার আরো সচতেন হওয়া উচিত।
হালদা নদীতে মারাত্নক দূষণ, ইঞ্জিত চালিত ড্রেজারের অবৈধ প্রবেশ, অবৈধ জাল এর ব্যবহারের কারণে ডলফিনের মৃত্যু বাড়ছে উল্লেখ করে বিষয়টি হালদা নদীর জীববৈচিত্রের জন্য হুমকি বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত হালদায় ৪৮টি ডলফিনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
এর আগে গত বছরের ২৫ অগাস্ট হালদা নদীর কাটাখালী খাল থেকে একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল। তার আগে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজার উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া খালে একটি মৃত ডলফিন পাওয়া গিয়েছিল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাউজান উপজেলার বিনাজুরি ইউনিয়নের সিপাহিঘাট এলাকায় হালদা নদী থেকে আরেকটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়।
২০২৪ সালেও হালদায় মোট চারটি মৃত ডলফিন পাওয়া গিয়েছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় কার্প জাতীয় মাছের অন্যতম প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। এই নদী দেশের মিঠাপানির ডলফিনেরও অন্যতম প্রধান বিচরণ ক্ষেত্র। এক সময় কর্ণফুলী নদীতেও ডলফিনের আনাগোনা ছিল। তবে দূষণের কারণে এখন তা খুবই কমে গেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মৌলভীবাজার জেলায় এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা কৌশলের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন যাচাই-বাছাই ও আধুনিক প্রশিক্ষণ কারিকুলামের মধ্য দিয়ে নিজেদের যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করেছেন। নির্বাচনী নিরাপত্তার কারিগরি দিক তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মোট ১৩ জন সদস্য সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ৩ জন ও সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ২ জন অস্ত্রধারী সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে যেকোনো তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে দুইজন সদস্যকে বিশেষভাবে নির্বাচনী সুরক্ষা সফটওয়্যারে ‘End User’ বা প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
সমাবেশে জানানো হয় যে, মৌলভীবাজার জেলার মোট ৫৫৪টি ভোটকেন্দ্রে ৭,২০২ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন এবং একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে কাজ করার লক্ষ্যে তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অতিরিক্ত মহাপরিচালক তাঁর ভাষণে প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে আনসার সদস্যদের শৃঙ্খলাবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভূমিকা অত্যন্ত অপরিহার্য। তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের চাপ বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার না করে বাহিনীর নির্দেশনা যেন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়। মূলত বাহিনীর এভিএমআইএস (AVMIS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে সকল সদস্যের তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং তরুণ শক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে যৌথবাহিনী। নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে এক বিশেষ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ বাজার এলাকায় ব্রীজের নিচে যৌথবাহিনী একটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পাকিস্তানে প্রস্তুতকৃত একটি রিভলবার, পাঁচটি ককটেল বোমা, দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং একটি বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত বোমা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত বৈদ্যুতিক বোমাটি সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিম নিরাপদে ধ্বংস করে। অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযানে সেনাবাহিনীর ৫৪ জন সদস্য ও পুলিশের ২১ জন সদস্য অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, যৌথবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে অভিযানটি সম্পন্ন করেছে এবং যে কোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট আয়োজনের লক্ষ্যে যৌথবাহিনী সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়। নির্বাচন ঘিরে মানিকগঞ্জ জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপু ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া এলাকা থেকে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ওয়ান শুটারগানসহ আকরামুজ্জামান সুমন (৪০) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সে ওই এলাকার মৃত মোস্তফা মাস্টারের ছেলে।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১০ সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের চৌকস আভিযানিক দল ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪ টার দিকে রাজবাড়ী সদর খানখানাপুর মল্লিকপাড়া এলাকার একটি বসত বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে হতে ১ টি দেশীয় ওয়ান শুটারগান’সহ একজন আসামী’কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদর থানায় ১ টি মামলা রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় র্যাব।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিঃ সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার জানান, এই অভিযান প্রমাণ করে যে, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে র্যাব সদা প্রস্তুত ও সচেষ্ট। জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রিয় স্বার্থে র্যাব ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। র্যাব-১০ এর এই সফল অভিযানে দেশের জনগণ আরও একবার আশ্বস্ত হয়েছে যে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে সক্রিয় ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নং ফেরিঘাটে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পদ্মা নদীতে মোঃ রেজাউল শিকদার (৩৫) নামে এক ব্যাক্তি নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ ব্যাক্তি বাহিরচর শাহাদাৎ মেম্বার পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় ৩ নম্বর ফেরিঘাট হতে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন তিনি। নিখোঁজ ব্যাক্তির সন্ধানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ চলমান রেখেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রত্যক্ষদর্শী রিয়াজুল শেখ নামে একজন জানান, নিখোঁজ রেজাউল ফেরির একজন যাত্রীর সাথে পন্টুনে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নদীতে লাফ দিলে যাত্রীও সাথে সাথে নদীতে লাফ দেয়। স্থানীয়রা এক পর্যায়ে যাত্রীকে উঠাতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ রেজাউল সাঁতরে পাড়ে উঠতে গিয়ে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা পরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফোন দেয়। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মানিকগঞ্জে ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
নিহতের বড় ভাই মোঃ হারুন শিকদার বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়ত আমার ভাইকে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। ভাইকে খুঁজে পাওয়ার পর আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশনের লিডার মোঃ আব্দুল বাছেদ জানান, খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ও আমরা ঘটনাস্থলে এসে মানিকগঞ্জ ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা সন্ধ্যা ৬ টার দিকে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলমান থাকলেও মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাতে উদ্ধার কাজ চলবে কিনা এ বিষয়ে উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে কারাদণ্ড ও এক ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান আদালত পরিচালনা করে এই রায় দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামে ফসলী জমি কেটে মাটি বিক্রি করছেন স্থানীয় বাসিন্দা সুজন খান (২৮) নাইমুল ইসলাম (২৪), মিজানুর রহমান (৪৩) ও ইকবাল হোসেন (৩২)নামে চার ব্যক্তি। এক পর্যায়ে ফসলি জমি নষ্ট করায় এবং আশেপাশের জমি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় এলাকার অন্যান্য জমির মালিকরা মাটি কাটতে বাধা দিলেও তোয়াক্কা করেনি এই চার ব্যক্তি।
এতে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে অভিযোগ করলে এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালতে সুজনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা এবং অন্যদেরকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। গত কয়েক দিনে এই চার ব্যক্তি লক্ষাধিক টাকার মাটি বিক্রি করেছেন বলে জানা যায়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় এসব ব্যক্তিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ফসলি জমি রক্ষায় এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এ বিষয়ে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাবের তদন্তের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলাকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বারবার শুনানির তারিখ পেছানো হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই– আর কত দিনে এই মামলার তদন্ত শেষ হবে?’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও তাকে কোনো অগ্রগতির তথ্য প্রদান করা হচ্ছে না এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখাসহ স্বাক্ষর জাল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওসমান হাদিকে গুলির ৫৩ দিন অতিবাহিত হলেও প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত না হওয়ায় তিনি অভিযোগ করেন যে তদন্তের নামে অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে এবং এমতাবস্থায় লেবাননের রফিক হারিরি হত্যার নজির অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক তদন্তই একমাত্র সমাধান।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে ব্যর্থতা প্রকাশ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘গত চার দিন ধরে সব ধরনের চেষ্টা করেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। তিনি যদি সত্যিই জনগণের সরকার হন, তাহলে শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এত প্রতিবন্ধকতা কেন?’ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে কেবল সিসি ক্যামেরায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত সম্ভব নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ ৪৫ হাজার কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বডি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে এবং পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অস্পষ্ট অবস্থানের সমালোচনা করেন এবং হুঁশিয়ারি দেন যে হাদি হত্যার বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার দায়ভার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকেই বহন করতে হবে।