খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশস্থলে দলে দলে মিছিল নিয়ে আসছেন নেতা-কর্মীরা। সেখানে চলে এসেছেন কেন্দ্রীয় নেতারাও। মঞ্চও প্রায় তৈরি।
খুলনা মহানগরীর কে ডি ঘোষ রোডের কেসিসি মার্কেট ও জেলা পরিষদ ভবনের সামনে শনিবার দুপুরের পর দলটির সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর কথা রয়েছে।
খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাত ১১টা থেকে এখানে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতারাও চলে এসেছেন। বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে নেতা-কর্মীরা আসছেন। আশা করি আজ খুলনায় জনতার ঢল নামবে।’
তিনি বলেন, ‘সমাবেশের জন্য আমরা সোনালী ব্যাংক চত্বর অথবা শহীদ হাদিস পার্কের যেকোনো একটি জায়গা চেয়েছিলাম। তা না দিয়ে আমাদের কেসিসি মার্কেটের কাছে জায়গা দেয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুর থেকে আমরা মাইক টানানো ও রাত থেকে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করেছি। এখন সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিশেষ অতিথি থাকবেন ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী, বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কণ্ডু, সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান, সহ-তথ্য সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান ও সহ-ধর্ম সম্পাদক অমলেন্দু দাস।
এ ছাড়া বিভাগের ১০ জেলার শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা।
খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান মিল্টন বলেন, ‘খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, আওয়ামী সরকারের দমন-পীড়ন, আওয়ামী সন্ত্রাস নির্যাতনের প্রতিবাদ, বিদ্যুৎ গ্যাস ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য কমানোসহ ১০ দফা দাবিতে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে দেশের সব বিভাগীয় শহরে এই সমাবেশ করছে।’
তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সপ্তাহব্যাপী খুলনায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়। জেলায় জেলায় হাট-বাজার ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে লিফলেট বিতরণ করা হয়। আজকের সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসবে।’
সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট। তবে যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানা থেকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়।
আশুলিয়া ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে বয়লার বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে বাইপাইল সড়কে তীব্র যানজট থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে আগুনের প্রকৃত অবস্থা, কতটুকু এলাকায় ছড়িয়েছে কিংবা কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আগুনের পরিস্থিতি এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
খুলনায় সন্ত্রাস দমনে বিলুপ্ত হওয়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৬-এর সাফল্য থাকলেও নতুন রূপে আসা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্চ। গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে এসআরবি খুলনাঞ্চলে তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে র্যাব-৬ সুন্দরবনের বিভিন্ন ডাকাত দলকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করাতে সক্ষম হয়েছে; ফলে পর্যটক, জেলে এবং বনজীবীদের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ ও বিচরণ করা আরও সহজ ও নিরাপদ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রধানরা।
এসআরবি সূত্রে জানা গেছে অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স বা কঠোর অবস্থানের নীতির আলোকে, এলিট ফোর্স এসআরবি দেশজুড়ে অপরাধী, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
র্যাব-৬ গত ৮ মাসের অভিযানে ৬৩৪ জন সন্দেহভাজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া এই সময়ে বিভিন্ন অভিযানে তারা ৩৫ জন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করেছে।
খুলনাস্থ র্যাব-৬-এর মিডিয়া উইংয়ের তথ্যমতে, এই অভিযানগুলো ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে এলিট ফোর্সটি ৪৬টি অবৈধ অস্ত্র, ১৯৫ রাউন্ড গুলি, ১৩টি ম্যাগাজিন এবং ৮৪টি বোমা ও ককটেল জব্দ করে।
এ ছাড়া তারা ১,৯৫৬ বোতল নিষিদ্ধ ফেনসিডিল, ৪২,০১৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩২৩ দশমিক ২ কেজি গাঁজা, ২৩৮ দশমিক ৮৪ লিটার দেশি মদ, ১,২৩৯ বোতল নিষিদ্ধ ফেয়াড্রিল, ১ দশমিক ৫১ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ৬,৯৯৫ বোতল নিষিদ্ধ ইসকাফ সিরাপ, ২২,৮২৪টি নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১৫,২৯৮ বোতল নিষিদ্ধ উইংকারিক্স এবং ৯৬,০০০টি ভারতীয় পাতা বিড়ি জব্দ করেছে।
সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য অভিযানগুলোর মধ্যে, গত জুন মাসে বাগেরহাটের রামপালে পরিচালিত একটি অভিযানে এই এলিট বাহিনী ছোট জাহাঙ্গীর জলদস্যু দলের অস্ত্র, খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহকারী ৫১ বছর বয়সি ছাবুর শেখকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে তিনটি ওয়ান-শট গান’ উদ্ধার করা হয়।
খুলনার কয়রা থানার অন্তর্গত বেতকাশি এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী ৪০ বছর বয়সি সশস্ত্র জলদস্যু আজহারুল ওরফে খানজাকান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে; তার বিরুদ্ধে ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। তার কাছ থেকে দুটি ওয়ান-শট গান এবং ৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলনার র্যাবের (বর্তমান এসআরবি-৬) -এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান, খুলনা অঞ্চল ও সুন্দরবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং বর্তমান এসআরবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক জলদস্যুবিরোধী কার্যক্রমের ফলে গত ৩১ আগস্ট সুন্দরবনের পাঁচটি সক্রিয় জলদস্যু দলের ৫৯ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করে।
আত্মসমর্পণের পর বনাঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালানো হয়; ফলে জলদস্যুতার কাজে ব্যবহৃত ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।’
এসআরবি-৬-এর কমান্ডার আশা প্রকাশ করেন যে, কর্তৃপক্ষের কাছে এই ৫৯ জন জলদস্যুর আত্মসমর্পণের ফলে বননির্ভর মানুষের নিরাপদ জীবিকা, পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ৫৯ জন জলদস্যুর আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে; কারণ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস হলো এই সুন্দরবন।
জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় জানালার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চোর চক্রের ৩ সদস্য ও চোরাই অলংকার কেনার অভিযোগে ২ জনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকার। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পিবিআই জামালপুর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এ ঘটনায় আগে থেকে গ্রেপ্তার আরও ৫ জন কারাগারে রয়েছে।
পিবিআই জানায়, চলতি বছরের ৩০ জুন সন্ধ্যায় শহরের আমলাপাড়ায় স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের ভবনে বিচারক দম্পতি আহমাদুল কবির শাকিল ও নুসরাত জেরিন জেনির ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। ভবনের তিনতলার ওই ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে চোরচক্রের সদস্যরা নগদ ১ লাখ টাকাসহ প্রায় ১৯ লাখ ১৭ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরের দিন আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.কে.এম ছরোয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত জামালপুর পৌর শহরের বাগেরহাটা এলাকার হাবু মিয়ার দুই ছেলে রাহুল (২৪) ও বিশাল (২১) কে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় চোরচক্রের আরেক সদস্য ডাকপাড়া এলাকার দুখু মিয়া (২৪) কে। চোরচক্রকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর পৌর শহরের বানিয়াবাজার এলাকা থেকে চোরাই স্বর্ণালংকার ক্রেতা মাসুদ রানা (৪২) ও মাদারগঞ্জ উপজেলার মিলন বাজার থেকে মোশারফ হোসেন (৩৮) কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চুরির পর রূপান্তর করা ২৩.১৯ গ্রাম স্বর্ণ, রূপান্তর করা স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ২৬ ভরি রুপার অলংকার জব্দ করে পুলিশ।
এদিকে, চুরির ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনার কয়েকদিন পর তদন্তের সূত্র ধরে প্রথমে একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী নিলুফাকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, জেলা শহরের গোলাপবাগ এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়া (৩৯), কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব, শহরের আমলাপাড়া এলাকার চান মিয়া ওরফে কালাচান, মেলান্দহ উপজেলার চরপলিশা গ্রামের নিলুফা ও সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়ার হাওয়া বেগম। এরপর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৫ জুলাই অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের আদালতে রিমান্ড আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়। বর্তমানে তারা এখনো কারাগারে রয়েছে।
তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক শাহিনুর রহমান বলেন, ‘আমি ব্যস্ত আছি।’ থানায় এসে ফোন দিয়েন- এই কথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এক মসজিদের ইমাম নিজের উদ্যোগে টানা ৩৪ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে বদলে দিয়েছেন একটি গ্রামের চিত্র। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ আবাস গড়ে তোলা এবং সদকায়ে জারিয়ার উদ্দেশে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় গ্রামের বিভিন্ন সড়কের দুই পাশ আজ সবুজ বৃক্ষরাজিতে সুশোভিত।
এই ব্যতিক্রমী মানুষটি হলেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রেজাউল কিবরিয়া বাবুল (৬০)। তিনি স্থানীয় কালাপানিয়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে প্রায় দুই যুগ ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা যায়, ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ লাগিয়ে সড়কটিকে নতুন রূপ দিয়েছেন তিনি। শুধু তালগাছই নয়, ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছও রোপণ করেছেন বিভিন্ন এলাকায়। বর্তমানে বাউল সড়কসহ অন্তত পাঁচটি সড়কের দুই পাশে তার লাগানো গাছ সবুজ ছায়া ছড়িয়ে পথচারীদের দিচ্ছে স্বস্তি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় সাধারণ গ্রামীণ সড়ক হিসেবে পরিচিত এই পথ এখন জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় সবুজ সড়কে পরিণত হয়েছে। গাছের ছায়ায় কৃষক ও পথচারীরা বিশ্রাম নেন, আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এখানে আসেন। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এ দৃশ্য।
রেজাউল কিবরিয়া বাবুল জানান, ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রায় ৮ লাখ টাকায় পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে স্থানীয় ভূইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে মানুষকে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তার সবুজ অভিযাত্রার শুরু।
তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছি। এর মধ্যে শুধু তালগাছের বীজই রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার। সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব না হলেও বৃক্ষরোপণের কাজ এখনো অব্যাহত আছে।
বজ্রপাতের ঝুঁকি বিবেচনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তালগাছ রোপণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বন বিভাগের পরামর্শও নেন নিয়মিত।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও তুহিন বলেন, ‘হুজুরের লাগানো তালগাছ এখন ফল দিচ্ছে। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাছ দেখে মনে হয় যেন সবুজ কোনো প্রবেশদ্বার দিয়ে চলাচল করছি। এই সৌন্দর্য দেখতে অনেক দূর থেকেও মানুষ আসে। তার উদ্যোগ আমাদেরও গাছ লাগাতে অনুপ্রাণিত করেছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, ‘তার উদ্যোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
মাগুরার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মাগুরা টাউন হল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত জায়েদ বিন কবির নিশান এবং চিত্রশিল্পী আশীষ রায় স্মরণে নাগরিক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ স্মরণসভার আয়োজন করে মাগুরা প্রেসক্লাব।
স্মরণ সভায় মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, কবি বিকাশ মজুমদার, মাগুরা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবু সাঈদ মোল্লা, জেলা কালচারাল অফিসার পার্থ প্রতিম দাস, অ্যাডভোকেট বিধান কৃষ্ণ বিশ্বাস, মাগুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, সহসভাপতি শামীম আহমেদ খান, নাট্য ব্যক্তিত্ব ফসিয়ার রহমান, সপ্তক সাহিত্যচক্রের সাধারণ সম্পাদক সিকদার ওয়ালিউজ্জামান, মাগুরা সাংস্কৃতিক একাডেমির সভাপতি শরীফ মিজানুর রহমান, পরিবর্তনে আমরাই সংগঠনের পরিচালক নাহিদুর রহমান দুর্জয়, শওকত জং শক্তি, সাংবাদিক শামীম শরীফ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অপরাজিতার পরিচালক কল্যাণী বিশ্বাস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক আলিমুজ্জামান উজ্জল।
অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, মাগুরার সাংস্কৃতিক উন্নয়নে প্রয়াত জায়েদ বিন কবির নিশান ও চিত্রশিল্পী আশিষ রায়ের অবদান অনেক। মাগুরার নাট্য অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন জায়েদ বিন নিশান । পাশাপাশি মাগুরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে চিত্রশিল্পী আশীষ রায়ের সৃজনশীল কাজ মাগুরাবাসী ভুলবে না সংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাদের এই দুটি পরিবারের পাশে থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে মাগুরার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাহিত্য সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। মায়ের দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় তুহিন (১৯), ফাহিম ও আনাস নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতীমের মায়ের আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে বাবার সঙ্গে খাবার খেয়ে বিকেল ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। ছবি তোলার জন্য সে মায়ের আইফোনটি সঙ্গে নিয়েছিল। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়।
অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কোটবাড়ি–গন্ধমতী এলাকায় ফোনটির সর্বশেষ অবস্থান পাওয়া যায়। গত শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লালমাই–সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে কোটবাড়ির বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এসপি আনিসুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহিম ও আনাসকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
তিনি জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুহিন প্রথমে বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে। পরে ফাহিম ও আনাসও তাকে মারধর করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা আইফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এদিকে অপ্রতীম হত্যার প্রতিবাদে ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। গতকাল রোববার দুই দফা জানাজা শেষে কোটবাড়ি এলাকার বাগমারা কবরস্থানে অপ্রতীমকে দাফন করা হয়।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। আইনানুগ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সিআইডির ফরেনসিক টিমকে সেখানে ডেকে পাঠানো হয়।
এর আগে, অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করা ও ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর এবং শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর একই দিনে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিননামা দাখিল করেন গাজী নজরুল ইসলাম।
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে রাতের অন্ধকারে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাহরাস্তি পৌর আহ্বায়ক শেখ রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই নারীর শ্বশুর হারুনুর রশিদ। অভিযোগের পর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবারের দাবি, শেখ রহমত উল্লাহ ও ওই নারীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে তারা দুজন বাড়ি থেকে একসঙ্গে পালিয়ে যান এবং এরপর থেকে তাদের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাদের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করার পর রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে রহমত উল্লাহর স্ত্রী ও প্রবাসীর দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে থানায় উপস্থিত হন।
প্রবাসীর ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর আলমও ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগকারী হারুনুর রশিদ দাবি করেছেন, তাঁর পুত্রবধূ বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সাথে করে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচের কারণে কৃষিকাজে সেচ ব্যয় যখন কৃষকদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা দেখছেন ঝিনাইদহের প্রান্তিক কৃষকেরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সোলার পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে সেচ খরচ কমানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে কৃষকদের।
জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩টি, কোটচাঁদপুরে ১টি এবং মহেশপুরে ৩২টি পাম্প রয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও সোলার পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পিকেএসএফ’র কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা হচ্ছে এসব সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প।
সোলার পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকরা জানান, প্রচলিত ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থার তুলনায় সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পে পরিচালন ব্যয় কম। এতে নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য কৃষকদের জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি উপার্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে মহেশপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় ফুলচাষিদের জন্য এ উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সোলার পাম্প স্থাপনে তার ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে আরআরএফের ‘স্মার্ট’ প্রকল্প থেকে ৪৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন তিনি।’
মহেশপুরের কৃষক সাদিকুল রহমান বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় আরআরএফ প্রথমবারের মতো ফুলচাষিদের নিয়ে কাজ করছে। প্রকল্পের ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে সোলার পাম্প স্থাপন করেছেন তিনি। নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য ১৫ বিঘা জমিতেও সেচ দিচ্ছেন।’
ফুলচাষি গফুর মিয়া বলেন, ‘সোলার পাম্প স্থাপনের পর তার তেল ও বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে না। নিজের জমির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জন করতে পারছেন তিনি।’
আরআরএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মণ্ডল বলেন, ‘পিকেএসএফের সহায়তায় ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সামনে আরও ১০০টির বেশি পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৪০০-৫০০ টাকা খরচ হলেও সোলার পাম্পে খরচ হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা। এতে কৃষকদের সেচ খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমবে।’
ভেটেরিনারি পেশার কাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়ন, পেশাগত স্বকীয়তা ও অধিকার রক্ষায় তিন দফা দাবিতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানববন্ধন করেছেন ভেটেরিনারি মেডিসিন অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স (এফভিএমএএস) অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ, প্রশাসনিক ভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ। দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে ভেটেরিনারি চিকিৎসকেরা দীর্ঘদিন ধরে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে আসছেন।
জনসংখ্যা ও প্রাণিসম্পদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে প্রাণিজ আমিষ ও প্রাণি স্বাস্থ্যসেবার চাহিদাও বেড়েছে। একই সময়ে দেশে ভেটেরিনারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে জনবল কাঠামো সেই অনুপাতে সম্প্রসারিত হয়নি এমন দাবি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, পাকিস্তান আমলে ১৯৬০-এর দশকে থানা পর্যায়ে প্রাণিসেবা
নিশ্চিত করতে ‘থানা সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন’ পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৩-৮৪ সালে নবম গ্রেডে ক্যাডারভুক্তির মাধ্যমে পদটি ‘ভেটেরিনারি সার্জন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ছয় দশক পরও উপজেলা পর্যায়ে একজন ভেটেরিনারি সার্জন দিয়ে পুরো উপজেলার প্রাণিচিকিৎসা ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়নি বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে ‘সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার’ নামে ৪৯২টি নতুন পদ
সৃষ্টির বিষয়ে অর্থ বিভাগের সম্মতির খবর প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে পদগুলো সৃষ্টির পরিকল্পনা
রয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৪৬টি এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে আরও ২৪৬টি।
মানববন্ধনে ভেটেরিনারি অনুষদের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ নাসিম আহম্মেদ বলেন, প্রাণিসম্পদ খাত শুধুদুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত নয়, প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণ, প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ প্রাণিজ
খাদ্য নিশ্চিত করার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই মাঠপর্যায়ে দক্ষ ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভেটেরিনারি জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।
জনবান্ধব জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়ার কর্মকাল নরসিংদীতে মাত্র ৫ মাস। এই সময়ে জেলার নান্দনিক ও সৃজনশীল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য গর্বিত নরসিংদীবাসী। এক কথায় সাহস, সততা এবং কর্মযোগ্যতা দিয়ে নরসিংদীর মানুষের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
ইসরাত জাহান কেয়া তার স্বীয় কর্মপ্রতিভার বিচক্ষণ দিয়ে স্পর্শ করে চলেছেন প্রতিটি মানুষের মন। ইসরাত জাহান কেয়া মনে করেন, প্রতিটি মানুষ যদি তার স্বীয় কর্মকে সৃষ্টিশীলতা দিয়ে আন্তরিকতার সাথে সর্বোচ্চ নিপুণভাবে সম্পন্ন করেন তবে তা অবশ্যই প্রশংসিত হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, ‘আমি অ্যাওয়ার্ড বা পুরস্কার প্রাপ্তির প্রত্যাশায় কোনো কাজ করি না। আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব, নীতি এবং আদর্শের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ সৃজনশীলতা ও আন্তরিকতা দিয়ে করার চেষ্টা করি। এতে যদি কোনো প্রাপ্তি এসে যায় নিশ্চয়ই তা আমাকে প্রেরণা জোগায়।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্বখ্যাত অন্ধ লেখিকা হেলেন কেলার আমাদের মতো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন আমি অন্ধ, তোমরা যারা দেখতে পাও তাদের একটা কথা আমি বলে যেতে চাই, চোখ দুটোকে তোমরা এমনভাবে ব্যবহার করো যেন আগামীকালই তুমি অন্ধ হয়ে যাবে, আর দেখবে না। তোমার অপর সব ইন্দ্রিয়ের বেলায়ও এমন করেই ভাবতে শেখো।
সুরের আওয়াজ, পাখির গান, বাদ্যকারের বাজনা এমনভাবে শুনবে যেন কালই তুমি বধির হয়ে যাবে। প্রতিটি জিনিস এমনভাবে ছুঁয়ে দেখবে যেন সর্বশক্তি অবলুপ্ত হবে আগামীকালই। এভাবে নেবে ফুলের ঘ্রান, আর খাদ্যের স্বাদ, যেন আগামীকাল আর গন্ধ কিংবা স্বাদের অনুভূতি অবশিষ্ট থাকবে না। সব ইন্দ্রিয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করো, প্রকৃতির সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করো। হেলেন কেলারের এই উক্তিগুলোর মতোই যদি যেকোনো কাজে ইচ্ছে শক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করি, সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে স্বীয় কর্মকে সম্পন্ন করা যায় নিশ্চয়ই প্রশংসিত হবে।’
ইসরাত জাহান কেয়া ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভাঢ্যা গ্রামের এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মো. মাহাবুব আলী। পারিবারিক ঐতিহ্যগত কারণেই ইসরাত জাহান কেয়া জাতীয়তাবাদী আদর্শিক চেতনায় বড় হয়েছেন। ফলে তার সকল কাজে জাতীয়তাবাদী আদর্শিক চেতনা লক্ষ্য করা যায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন আত্মপ্রত্যয়ই ও স্বপ্নচারী নারী।
তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ইসরাত জাহান কেয়া ২৮তম ব্যাচে বাংলাদেশ সিভিল সাভির্সের প্রসাশন ক্যাডারে যোগদান করেন। জেলা প্রশাসক নরসিংদী হিসেবে পদায়ন হওয়ার আগে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি চলতি এ বছরের ৭ এপ্রিল নরসিংদীর ২২তম জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। এ জেলায় তিনি দ্বিতীয় নারী জেলা প্রশাসক। ইসরাত জাহান কেয়া নরসিংদীতে যোগদানের পর থেকে যে সমস্ত কাজে নরসিংদী জেলার নান্দনিক সৃজনশীল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য এখানকার মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি বুধবার গণশুনানি করেন।
ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেলেও কোনো হতাহত বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, জড়িতদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
জানা যায়, দুর্বৃত্তরা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন বাসের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ঘটনাস্থল স্বাভাবিক করা হয়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম জানান, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় টার্মিনাল এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গভীর রাতে একটি পরিবহন বাসে এ ধরনের অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশে বাসটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে বাসটির মালিকপক্ষের কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সুপার জানান, পরিবারের সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে। এতে দেখা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন নামের এক তরুণ অপ্রতীমকে সাথে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলের দিকে যাচ্ছে। মরদেহ উদ্ধারের আগেই সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দেহভাজন তুহিনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে যে, অপ্রতীমের আইফোনটি হাতিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে ওই নির্জন স্থানে নেওয়া হয়েছিল। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ফাহাদ এবং ফাহাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কামরুল নামের অপর সহযোগীকে আটক করে। প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরবর্তীতে তুহিনের দেখানো মতে তার নিজ বাড়ি থেকে অপ্রতীমের ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সিয়াম নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে তার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে জেলা পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে নির্জন বনে অপ্রতীমের ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল শক্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘাতকেরা ফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার আরও উল্লেখ করেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে এবং আলোচিত লামিসা হত্যা মামলার মতো এ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াও যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সে ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের মাধ্যমে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।