ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন এখন চোরাকারবারিদের দখলে। বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা। ট্রেনে করে লাখ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য ভারত থেকে আসছে অবাধে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সামনেই চোরাচালান পণ্য পাচারের প্রতিযোগিতা চলে বেনাপোল রেলস্টেশনে।
চোরাকারবারিদের দমনে মাঝে মাঝে কাস্টমস, র্যাব ও বিজিবি অভিযান চালিয়ে ভারতীয় পণ্য জব্দ করলেও কমছে না তাদের দৌরাত্ম্য। গত দুই দিনে কাস্টমস ও র্যাব খুলনা-কলকাতা বন্ধন ট্রেনের যাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৯১ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে।
২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রা শুরু হয় বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনের। কলকাতা-খুলনা চলাচলকারী ট্রেনটি রোব ও বৃহস্পতিবার সপ্তাহে দুদিন চলাচল করে। বর্তমানে এ ট্রেনের অধিকাংশ যাত্রীরই চোরাকারবারি। প্রতিবার ট্রেনে করে ৫০৭ জন করে যাত্রী যাতায়াত করে দুই দেশের মধ্যে। ট্রেনটি আন্তর্জাতিক হলেও নেই তেমন কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা। চোরাচাকারবারিরা বেনাপোল, যশোর ও খুলনা এলাকার হওয়ায় অন্য যাত্রীদের সিটের ওপর চোরাই পণ্য তুলে দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। মাঝেমধ্যে টাকা-পয়সাও কেড়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন ভ্রমণকারীরা।
আলাদা রুটে যাতায়াত
ট্রেনটি ধারণক্ষমতার দ্বিগুণসংখ্যক যাত্রীসহ চোরাচালান পণ্য নিয়ে যাওয়া-আসা করছে বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটি। তবে এসব চোরাকারবারি যাওয়ার সময় যায় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে আর ফিরে আসে বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনে। ফলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্টেশনে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার না থাকায় বিজিবি ও পুলিশের সামনে চোরাচালান পণ্য নিয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা যায় তাদের। অথচ যাত্রীদের লাগেজ স্ক্যানিং করার পরও ব্যাগ তল্লাশি করা হয় এমন অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের। বিশেষ করে বন্ধন এক্সপ্রেস বেনাপোল স্টেশনে আসার পরপরই বহিরাগত চোরাচালানিরা ঘিরে ফেলে প্লাটফর্ম। মাঝেমাঝে চোরাচালান পণ্য জব্দ করতে গিয়ে বিজিবি ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে।
পুলিশের নীরব ভূমিকা
গতকাল সকালে ভারত থেকে আসা জাহিদুর রহমান জানান, বন্ধন ট্রেনে সাধারণ যাত্রীর চলাচলের পরিবেশ নেই। ট্রেনের সব বগি চোরাকারবারিদের দখলে থাকে। চোরাকারবারিরা একেক জন পাঁচ থেকে ছয়টি কম্বলসহ একাধিক লাগেজ নিয়ে ট্রেনের সিটের ওপর ইচ্ছামতো রেখে দেয়। যাত্রীরা কিছু বললে তারা বাজে ব্যবহার করে থাকে। বেশি খারাপ ব্যবহার করে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। ১৪ থেকে ১৫ জনের দল বিপুল পরিমাণ চোরাই পণ্য নিয়ে ট্রেনে ওঠে। এদের কিছু বললেই গালিগালাজ করে। ট্রেনের ভেতর রেলওয়ে পুলিশ থাকলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করে। এভাবে চলতে থাকলে এ ট্রেনে সাধারণ যাত্রী চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
বেনাপোল রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়কোবাদ বলেন, ‘বন্ধন ট্রেনের কোনো যাত্রী যাতে কারও দ্বারা হয়রানির শিকার না হন তার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকি। যাত্রীরা আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন, সেটা সঠিক নয়। ট্রেনের ভেতর কোনো যাত্রী অন্য যাত্রীকে বিরক্ত করার ঘটনা আমরা জানতে পারলে সেটা সমাধান করে থাকি।’
কোটি টাকার পণ্য জব্দ
বেনাপোল কাস্টমসের জয়েন্ট কমিশনার আব্দুল রশিদ মিয়া জানান, খুলনা-কলকাতা চলাচলকারী বন্ধন ট্রেনের যাত্রী এখন চোরাকারবারি। এসব চোরাকারবারি ট্রেনের পরিবেশ নষ্ট করছে। এটা আন্তজার্তিক মানের ট্রেন হলেও চোরাকারবারিদের কারণে যাত্রীদের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। চোরাকারবারিদের দমনে বন্ধন ট্রেনে অভিযান চালিয়ে গত দুই দিনে প্রায় ৯১ লাখ টাকার ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান বলেন, বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। তবে ট্রেনে লাগেজ পার্টির (চোরাকারবারি) সংখ্যা বাড়ছে ক্রমেই। এরাই রেলওয়ে স্টেশনে বিশৃঙ্খলা করছে। বিজিবি স্টেশনে উপস্থিত থাকলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করে থাকে। বিষয়টি রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মাহাবুবুর রহমান জানান, ‘ট্রেনের ভেতর কী হচ্ছে, আমরা সেটা জানব কেমন করে? তা ছাড়া আমরা ট্রেন স্টেশনে ডিউটি পালন করি কিন্তু ট্রেনের ভেতর উঠি না। বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে ঝামেলা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।’
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ও দুই শিশুর হামে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সবশেষ তথ্যে এ মৃত্যুর খবর জানা যায়।
একই সময়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১৯১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৯২ জনের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তারা হামে আক্রান্ত।
দেশব্যাপী এই রোগের প্রাদুর্ভাব তীব্রতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই আশঙ্কাজনক তথ্য সামনে এলো।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৩৪ জন শিশু ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হাম সংক্রমণে মৃত্যুবরণ করেছে। এছাড়া আরও ১৭২ জন শিশু এই রোগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে মোট দুই হাজার ৭২১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল।
পরবর্তীতে ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, এই সংখ্যা বেড়ে তিন হাজার ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুসারে, সারাদেশে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৩৫২ জন সম্ভাব্য হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৪৯৬ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহণ শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান নদী তিস্তার দুই বিপরীত রূপে। শুষ্ক মৌসুমে নদী যেখানে পরিণত হয় ধূধূ বালুচরে, সেখানে বর্ষা মৌসুম এলেই তা ভয়াবহ বন্যা ও তীব্র নদীভাঙনের রূপ নেয়। এই দুই চরম অবস্থার মাঝখানে আটকে পড়ে সারা বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া, ভাঙনে বসতভিটা হারানো এবং জীবিকার অনিশ্চয়তায় এই জনপদের মানুষ এখন চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
বিশেষ করে নোহালী ইউনিয়নের মিনার বাজার থেকে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো আনন্দবাজার, বাগডহরা, মটুকপুর, বিনবিনা, ইচলি, শংকরদহ ও কাশিয়াবাড়ি, চরছালাপাক চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
শুষ্ক মৌসুম এলেই তিস্তার পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। অনেক স্থানে নদী শুকিয়ে গিয়ে বালুচরে পরিণত হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। নদীতে পানি না থাকায় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, মাছের উৎপাদন কমে যায় এবং জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ কাজ হারিয়ে ফেলেন। কৃষকরাও সেচের পানির সংকটে পড়ে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকেন।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন,শুকনো মৌসুমে পানি থাকে না, জমিতে সেচ দেওয়া যায় না। এতে ফসল উৎপাদন কমে যায়।
অন্যদিকে বর্ষা এলেই তিস্তা নদী হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীর তীর ভেঙে পড়ে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। প্রতি বছর শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। কেউ হারাচ্ছেন বসতভিটা, কেউ বা হারাচ্ছেন জীবিকার শেষ সম্বল।
৭০ বছর বয়সি প্রবীণ আলতাফ হোসেন বলেন, আমার জীবনের সত্তর বছর তিস্তার ভাঙন আর বন্যা দেখে কেটে গেছে। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত একই চিত্র শুকনো মৌসুমে পানি নেই, আর বর্ষায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বহু সরকার এসেছে, অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো স্থায়ী কাজ হয়নি। এখন বয়স হয়ে গেছে, আর বেশি কিছু চাই না। শুধু চাই,একটা বাঁধ নির্মাণ হোক, যেন আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অন্তত শান্তিতে থাকতে পারে।
আউলীয়ার হাট এলাকার শফিকুল (৪৫) বলেন,আমি ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি তিস্তার ভাঙন। আমার বাবাকে নিজের হাতে নয়বার বাড়ি সরাতে হয়েছে। প্রতিবার নতুন করে ঘর বানিয়েছি, আবার নদী এসে তা নিয়ে গেছে। আমাদের জীবনে কোনো স্থায়িত্ব নেই। কখন যে ঘর ভেঙে যাবে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়। অনেক প্রতিবেশী এলাকা ছেড়ে চলে গেছে, কেউ শহরে, কেউ অন্য জেলায়। আমরা এখনো এখানে টিকে আছি কষ্ট করে। একটা বাঁধ হলে আমরা অন্তত নিরাপদে থাকতে পারতাম।
নোহালী চর আনন্দবাজার এলাকার স্নাতক শিক্ষার্থী আল-আমিন বলেন, শুকনো মৌসুমে নদী হেঁটে পার হওয়া যায়, কিন্তু বর্ষায় নৌকা ছাড়া চলাচল সম্ভব নয়। এতে নিয়মিত ক্লাস করা কঠিন হয়ে যায়।
ইচলি গ্রামের স্কুলছাত্রী রিমা আক্তার জানায়, আমাদের স্কুল নদীতে ভেঙে গেছে। এখন অনেক দূরে গিয়ে পড়তে হয়। বর্ষায় রাস্তা ভেঙে গেলে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন ও বন্যার কারণে এই অঞ্চলে কোনো স্থায়ী উন্নয়ন গড়ে ওঠেনি। প্রতি বছর বরাদ্দ এলেও তা টেকসই সমাধান দিতে পারছে না। বর্ষার পানিতে অনেক উন্নয়ন কাজই ভেসে যায়।মিনার বাজার থেকে মহিপুর পর্যন্ত একটি স্থায়ী নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণই হতে পারে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার একমাত্র সমাধান।
কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা চাই একটি বাঁধ। এতে আমরা নিজেরাই চলতে পারব।
গঙ্গাচড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি ও দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছি।
এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের পাশাপাশি একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে নদীতীর রক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিস্তার শুকনো মৌসুমের পানি শূন্যতা এবং বর্ষার ভয়াবহ বন্যায় এই দুই বিপরীত চিত্রে দিশেহারা গঙ্গাচড়ার মানুষ এখন একটি স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায়। তাদের বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করা হলে বদলে যাবে এই জনপদের চিত্র, ফিরবে স্বস্তি ও নিরাপদ জীবন।
দেশের চা-শিল্পের প্রাণ ভোমরা চা-শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার প্রধান অবলম্বন প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) এখন চরম সংকটে। ১৬৭টি চা-বাগানের মধ্যে ৫৮টি বাগানে শ্রমিকদের সঞ্চিত পিএফ-এর বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া পড়ে আছে। ফলে অবসরের পর বা জরুরি প্রয়োজনে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ পাওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার শ্রমিক।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে চা-শ্রমিকদের মূল বেতনের ৭.৫% টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডের জন্য কেটে নেওয়া হয়। বাগান কর্তৃপক্ষ সমপরিমাণ অর্থাৎ আরও ৭.৫% অর্থ যোগ করে মোট ১৫% টাকা এই তহবিলে জমা দেওয়ার কথা। এ ছাড়া প্রশাসনিক ব্যয় বাবদ এই মোট অর্থের ওপর আরও ১৫% অর্থ বাগান কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, শ্রমিকদের অংশ ঠিকই কেটে নেওয়া হচ্ছে, অথচ মালিকপক্ষ সেই টাকা সময়মতো তহবিলে জমা দিচ্ছে না।
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকের টাকা কেটে নিয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ তা দিয়ে ব্যবসা করছে। সময়মতো টাকা জমা না হওয়ায় শ্রমিকরা কেবল দুশ্চিন্তায় নেই, বরং তাদের প্রাপ্য সুদের অংকও কমছে।
ভবিষ্যত তহবিল নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ২৮ ফেব্রুয়ারির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ৫৮টি চা-বাগানে পিএফ-এর টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়ার মেয়াদ বাগানভেদে ৩ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত। শ্রমিক নেতাদের মতে, বকেয়া অর্থের পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে সাম্প্রতিক তৎপরতায় প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায় সম্ভব হয়েছে।
আলীনগর চা-বাগানের শ্রমিক সত্য নারায়ন জানান, নিয়ম অনুযায়ী অবসরের ৩ মাসের মধ্যে টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তাকে ১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পঙ্কজ কুন্দ বলেন, স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের জন্য এই সঞ্চয়টুকুই শেষ ভরসা। সেটি অনিশ্চিত হয়ে পড়লে বড় ধরনের জীবন সংকট তৈরি হবে।
বাগান মালিকদের পক্ষ থেকে সাতগাঁও চা-বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের লোকসান এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় চায়ের দাম কম হওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক (নিয়ন্ত্রক প্রভিডেন্ট) মহব্বত হোসাইন জানান, বকেয়া আদায়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। তিনি বলেন, আমরা ৬টি বাগানের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে মামলা করেছি এবং ৫৮টি বাগানকে বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়মিত পরিদর্শন ও তদারকি চলছে।
শ্রম অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত একটি ট্রাস্টি বোর্ড এই তহবিল পরিচালনা করে। শ্রমিকদের দাবি, তদারকি আরও জোরদার করে প্রতি মাসের টাকা প্রতি মাসেই জমা নিশ্চিত করা হোক, যাতে তাদের শেষ বয়সের সম্বলটুকু রক্ষা পায়।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পদ্মা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে সাড়ে ২৫ কেজি ওজনের বিশাল এক কাতলা মাছ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোররাতে দৌলতদিয়া পদ্মা নদীর গায়া ফ্যাশন জাল ফেলে এই বিশাল আকৃতির কাতলা মাছটি ধরা পরে জাফরগঞ্জের জেলে সুব্রত হলদারের জালে। পরে এই মাছটি সকালে দৌলতদিয়া ৫ নং ফেরি ঘাটে নিয়ে আসলে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা।
১৮’শত টাকা কেজি দরে ৪৫ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে উন্মুক্ত নিলামে কিনে নেন। এ সময় কাতল মাছটি একনজর দেখার জন্য উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পরে মাছটি ১৯’শত টাকা কেজি দরে ৪৮ হাজার ৪৫০ টাকায় ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন চান্দু মোল্লা।
এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, বর্তমানে নদীতে মাঝে মধ্যেই জেলেদের জালে বড় মাছ ধরা পড়ছে। এসব মাছ বেশিরভাগ ফ্যাশন জালে ধরা পরে। এ ধরণের পদ্মার মিঠা পানির মাছ খেতে খুবই সুস্বাদু।
চান্দু মোল্লা বলেন, এই মৌসুমে এত বড় কাতলা মাছ আগে দেখা যায়নি। এটি পদ্মা নদীর সবচেয়ে বড় কাতলা মাছ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের পর ঢাকার গুলশানের এক ব্যবসায়ী কেজিতে ১০০ টাকা লাভ দিয়ে ৪৮ হাজার ৫০০ টাকায় মাছটি কিনে নেন। দুপুরের দিকে মাছটি ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর কলেজ এলাকার একটি ইটভাটার পুকুর থেকে নাসিমা খাতুন (১৪) নামের এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই এলাকার ইকো ব্রিকসের পুকুর থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। কিশোরী নাসিমা খাতুন উপজেলার সলেমানপুর গ্রামের মৃত নাজমুল মীরের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানায়, কোটচাঁদপুর-কালীগঞ্জ সড়কের ইকো ব্রিকস’র পুকুরে এক কিশোরীর লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে পরিচয় শনাক্ত করলে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
স্বজনরা জানায়, গত বুধবার সকালে বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে।
কোটচাঁদপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
পিরোজপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নতুন এই ভবনের পাইলিং স্থাপন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু সাঈদ।
দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবরেটরি সংকটে থাকা এই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ৬ তলা বিশিষ্ট এই মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বর্তমানে বিশালাকার হাইড্রোলিক মেশিনের সাহায্যে ভবনের ‘পাইল ফাউন্ডেশন’ স্থাপনের কাজ চলছে।
উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান ও উপর্যুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা এই আধুনিক ভবনটি নির্মাণ করছি। এটি জেলার শিক্ষা প্রসারে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে আমরা কাজের সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিত করছি।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় একটি আধুনিক রূপ পেতে যাচ্ছে। এই ভবনটি হবে জেলার অন্যতম নান্দনিক শিক্ষা কাঠামো।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত ড্রয়িং ও ডিজাইন অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পাইলিং কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভবনের মূল কাঠামো দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাবর তালুকদার বলেন, ‘৬ তলা বিশিষ্ট ভবনটি নির্মিত হলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ডিজিটাল ক্লাসরুম, আধুনিক ল্যাব ও লাইব্রেরি সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হবে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সেরা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
রাতের আঁধারে রূপগঞ্জের কৃষি জমিতে চলে ভেকুর তান্ডব। দেড় বছর ধরে এই জনপদে উন্নয়নের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে একদল বালু ও মাটিখেকো চক্র। করটিয়া, আঙ্গারজোড়া, ইসলামপুর, রানীপুরা, বিরাব ও আতলাপুরে এই চক্র তৎপরতা চালিয়ে জিম্মি করে ফেলেছে কৃষকদের।
রূপগঞ্জের বাতাসে ভেসে বেড়ায় ভেকুর কর্কশ শব্দ আর অবৈধ ড্রাম ট্রাকের ধুলা। তিল তিল করে গড়ে ওঠা কৃষকের স্বপ্ন আর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আবাসন প্রকল্পের ভরাট করা বালু-সবই এখন প্রভাবশালী রাক্ষুসে চক্রের দখলে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভোলাবর দুটি আবাসন প্রকল্পের জন্য ফেলা কোটি কোটি টাকার বালু রাতারাতি গায়েব হয়েছে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে| পাশাপাশি কৃষকের জমির মাটিও লুটে নেয়া হচ্ছে| সূত্র বলছে, সব মিলিয়ে প্রতিদিন ১০টি ভেকুতে কেটে প্রায় ৬০০ ড্রাম ট্রাক মাটি বালু লুট করা হচ্ছে। লুষ্ঠিত এসব মাটির মূল্য পাঁচ কোটি টাকার বেশি। স্থানীয় প্রশাসন মাঝমধ্যে লোক-দেখানো অভিযান চালালেও এই অপরাধকান্ডের মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ভরাট করা বালু ভেকু দিয়ে তুলে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বাইরের ইটভাটায় ও স্থানীয় বালুর গদিগুলোতে। করটিয়া এলাকার চা-বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যা অওনের পরে পরেই টেরাক (ট্রাক) টেরাক বালু নেয়। দিনো কম। রাইতো বেশি।’ স্থানীয়রা বলছেন, কৃষিজমিও রেহাই পাচ্ছে না লুটেরাদের হাত থেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক জানান, বর্তমানে প্রতি রাতে ৪৫০ থেকে ৬০০ ড্রাম ট্রাক বালু পাচার হয়। প্রতি ট্রাক বালুর দাম দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা। সে হিসাবে মাসে পাচার করা হচ্ছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বালু। এক ভেকুচালক বলেন, ‘আমরা নির্দেশ মাইনাই চলি।
রিকশাচালক আতাউর বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষগো ভাই। তয় ধুলার লেইগ্যা গাড়ি চালান যায় না। সন্ধ্যা তাইলে বালু চুরির গাড়ির লাইন নামে।’ রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা করে ফেলে।
জমির হোসেন নামে এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের জমি থেকে মাটি নিয়া জমিই শেষ কইরা দিছে। এখন আমরা কই যামু? আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিচার দিয়াও প্রতিকার পাচ্ছি না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় তিন প্রভাবশালী ‘মাটিখেকো’। তাদের অধীনে রয়েছে শক্তিশালী ক্যাডার বাহিনী। তারা রাতে পাহারা দিয়ে পুরো অপারেশন নির্বিঘ্ন রাখে| কটিয়াদি এলাকায় বসে এই চক্রের মূল হোতারা পুরো কাণ্ড পরিচালনা করে।
গত বছরের ২২ মে ভুক্তভোগী মোজাফফর হোসেন ভূইয়া রূপগঞ্জ থানায় মাটি চুরির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। সেখানে আসামি করা হয় করটিয়ার বাসিন্দা কবির মিয়া (৫৫), তারেক (২২), শামীম (৩৫) ও আরিফ (২৬): রানীপুরার বাচ্চু ওরফে চাল বাচ্চু (৫২), ইমন (২৮); কুরাইল আতলাপুরের সুমন (৩২), গুতুলিয়ার হুমায়ূন কবীর জুয়েল (৪৪), পূর্বের গাাঁওয়ের মুহিত মোয়া (৪২), সেলিম মোল্লা (৫২), কেরাব চৌধুরীপাড়ার আশ্রাফুল, ইসমাইল (৪০)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নির্বিচারে বালু ও মাটি উত্তোলন চলতে থাকনে রূপগঞ্জের ভৌগোলিক গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে| সৃষ্টি হতে পারে বড় ধরনের ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়| সব মিলিয়ে ‘উন্নয়নের’ নামে চলা এই লুটপাট রূপগঞ্জকে ঠেলে দিচ্ছে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, আমি নতুন এসেছি। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।
পটুয়াখালীর বাউফলের ধুলিয়া লঞ্চঘাটে একটি শিশুকে লঞ্চে রেখে চলে গেছেন এক ব্যক্তি। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বন্ধন-৫ লঞ্চে ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক ব্যক্তি তার সন্তান পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে লঞ্চে রেখে বলেন, তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট ধরে লঞ্চটি ধুলিয়াঘাটে অবস্থান করলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। বর্তমানে শিশুটি ‘বন্ধন-৫’ লঞ্চে নিরাপদে রয়েছে বলে জানা গেছে।
লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির প্রকৃত পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শিশুটিকে কেউ চিনে থাকলে দ্রুত ‘বন্ধন-৫’ লঞ্চে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। যোগাযোগ: ০১৬৮৫৪৩৬১৫৪।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোণা বাজারে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অবৈধ মজুদ রাখার দায়ে মেসার্স সংকর সাহা এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স রাজিব ট্রেডার্স নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, এদিন সকালের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামছুজ্জামান আসিফের নেতৃত্বে ঠাকুরাকোণা বাজারে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে মেসার্স সংকর সাহা এন্টারপ্রাইজ এবং মেসার্স রাজিব ট্রেডার্সে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা বিপুল পরিমাণ ডিজেলের সন্ধান পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ করার অপরাধে প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয় এবং ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়া, অভিযানে আনুমানিক ৩১ হাজার লিটার ডিজেল সরকারের অনুকূলে জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত ডিজেলের আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা।
নেত্রকোনা জেলায় নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বা অন্য কোনো পণ্য মজুদ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং মজুদকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মোবাইল কোর্টের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বগুড়াবাসীর। আগামী ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। ওই দিন অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি নতুন সিটি করপোরেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করার কথা আছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর বগুড়ায় এটি তারেক রহমানের প্রথম সফর। এই সফরে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভা ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
এ নিয়ে বুধবার বগুড়া সার্কিট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী ২০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় সড়কপথে ঢাকা থেকে বগুড়া সার্কিট হাউজে পৌঁছাবেন। তার সফর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) কর্মকর্তারা সার্কিট হাউজে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও ছিলেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, বগুড়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী জজ কোর্টে গিয়ে অনলাইনে বেলবন্ড প্রদান কার্যক্রম এবং বার সমিতির নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করবেন। পরে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন হিসেবে উদ্বোধন করবেন। এ ছাড়া গাবতলীর বাগবাড়িতে পৈতৃক ভিটায় গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল পরিদর্শন এবং খাল কাটা কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে বিকাল সাড়ে ৩টায় শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি ঢাকার উদ্দেধে বগুড়া ত্যাগ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে বগুড়া সার্কিট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভেন্যু পরিদর্শন করেন। এ সময় বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু ও অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। জনসভা ও যেখানে যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন সেগুলো সাজানো হচ্ছে।
জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাসহ আমরা কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই ২০ এপ্রিল বগুড়া সফরের বিষয়টি জানান। সফরকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভিটা গাবতলীর নশিপুর ইউনিয়নের বাগবার জিয়াবাড়ি পরিদর্শন করবেন।’
বগুড়া সিটি করপোরেশনের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আরও কিছু উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে তিনি বগুড়ায় আসছেন। তার আগমন ঘিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।’
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া পৌরসভা ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা এবং ২১টি ওয়ার্ডে বিভক্ত। ১৮৭৬ সালে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন নগরী ও বাণিজ্যকেন্দ্র বগুড়া শহর পরিচালনার জন্য পৌরসভা গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর আয়তন ১.২৫ বর্গ মাইল এবং মাত্র ৭ হাজার জনসংখ্যা ছিল। ১৯৮১ সালের ১ আগস্ট এটি ক শ্রেণিতে উন্নীত হয় এবং এর আয়তন ১৪.৭৬ বর্গ কিমি করা হয়। ২০০৬ সালে আয়তন বেড়ে ৬৯.৫৬ বর্গ কিমি হয়। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বগুড়া পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ৪, ০০, ৯৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২১০,০৯৩ জন এবং নারী ১৯০,৮৯০ জন। পৌর এলাকায় মোট হোল্ডিং রয়েছে ৯৩ হাজার ৩৫১টি।
সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষকে বরণ করল জাতি। চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ছিল নানা অনুষ্ঠান। এসবের মধ্যে ছিল বৈশাখী শোভাযাত্রা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, হালখাতা, পুতুল নাচ, ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানো ও লোকজ মেলা। দৈনিক বাংলার নিজস্ব প্রতিবেদক, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
ঢাকা: সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের ঐতিহ্যকে ধারণ করে রাজধানীর রমনা বটমূলের ঐতিহ্যবাহী প্রভাতী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেয় ছায়ানট। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্ভীক সমাজের দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল—‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় প্রভাতী আয়োজন। গানটি পরিবেশন করেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, ঐশ্বর্য সমাদ্দার, প্রিয়ন্তু দেব ও সমুদ্র শুভম।
অনুষ্ঠানে মোট ২৪টি পরিবেশনা ছিল, যার মধ্যে আটটি ছিল সম্মেলক সংগীত এবং ১৪টি একক গান ও আবৃত্তি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে সকাল নটায় বের হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার শুরুর দিকে ছিল অশ্বারোহী। তারপর পর্যায়ক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশের পতাকা হাতে শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট, প্রক্টরিয়াল টিম, সবশেষে শোভাযাত্রার প্রধান ব্যানার। শোভাযাত্রার এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় উপস্থিত হন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য, প্রক্টর ও শিক্ষকরা। এছাড়া ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে সকাল থেকেই পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’ প্রতিপাদ্যে বর্ষবরণ পর্ষদের আয়োজনে দিনব্যাপী উৎসব ও মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সকাল ৯টায় দেশাত্মবোধক ও বৈশাখী গানের সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ‘আমার সোনার বাংলা’, ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ এবং ‘এসো হে বৈশাখ’ গানে একসঙ্গে কণ্ঠ মেলান শিল্পীরা, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে দেয় নববর্ষের আমেজ। রাজধানী ছাড়াও বর্ণিল আয়োজনে সারাদেশে নববর্ষকে বরণ করা হয়। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় নানা রকমের আয়োজন করা হয়।
বরগুনা: বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরগুনায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন আয়োজনে মেতে ওঠেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
সকালে বরগুনা শহরের শিমুলতলায় সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘এসো হে বৈশাখ’ শিরোনামে গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।
পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া একইভাবে জেলার পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন করা হয়।
রাজশাহী : ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’-সময়োপযোগী এ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে উদযাপিত হয় পহেলা বৈশাখ। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশ নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ রঙিন পোশাক ও বৈশাখী সাজে সজ্জিত হয়ে জড়ো হন। ব্যানার-ফেস্টুন ও বাঙালিয়ানা ঐতিহ্যের নানা উপকরণে সাজানো শোভাযাত্রাটি নগরজুড়ে সৃষ্টি করে এক উৎসবমুখর আবহ।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
পরে সেখানে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় বর্ষবরণের গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
বান্দরবান : বান্দরবানে নববর্ষ উৎসব ঘিরে ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় আয়োজন। এসময় বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বান্দরবান ৩০০ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু।
এসময় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় বাঙালি সম্প্রদায় ছাড়াও পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী- পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশগ্রহণ করে।
লক্ষ্মীপুর: আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে লক্ষ্মীপুরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে বেলুন উড়িয়ে বাংলা নববর্ষ এবং তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেন।
নেত্রকোনা: ঐতিহাসিক মোক্তার পাড়া মাঠের মুক্ত মঞ্চে জাতীয় সংগীত ও এসো হে বৈশাখ এসো এসো সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নেত্রকোনায় পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নেওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে জেলা শহরের মোক্তারপাড়া মাঠ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র শিক্ষক, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সমাজের নানা শ্রেণিপেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণ করে।
সকাল ১০টায় বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী বর্ষবরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। পরে অতিথিবৃন্দ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে।
এছাড়াও জেলা শহরে মিতালী সংঘ, প্রত্যাশা সাহিত্য গোষ্ঠী, মধুমাছি কচি-কাঁচার মেলা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল, নেত্রকোনা জেলা শাখা সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে পৃথক পৃথক স্থানে র্যালি, গ্রামীন খেলাধুলা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করে।
ময়মনসিংহ: আনন্দ শোভাযাত্রা ও দেশীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে উদযাপন করেছে ময়মনসিংহের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ। মোরগ, ঘোড়া, পায়রা, টেপা পুতুল, ইলিশ পালকি, জেলে, কামার-কুমার কিংবা কৃষক সাজে এতে অংশ নেয় অনেকেই। প্রথমবারের মতো সিটি করপোরেশনে উদ্যোগে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং সিটি প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকানসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ যোগ দেন। এরপর নগরীর ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয় থেকে আলাদা আরেকটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে জেলা প্রশাসন। শোভাযাত্রাটি জয়নুল আবেদিন উদ্যানে গিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে। এ সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয় পহেলা বৈশাখ। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের পৌর মুক্তমঞ্চ থেকে একটি বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়।
এতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ বর্ণিল সাজে অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় ফারুকী পার্ক চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লাঠিখেলা, মোরগ লড়াইসহ নানা অনুষ্ঠান হয়।
এতে অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফসহ আরও অনেকে। এদিকে ফারুকী পার্ক চত্বরে বসে দিনব্যাপী লোকজ মেলা। এছাড়া শহরের শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত ভাষা চত্বরে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ: নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে ৬টায় গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্কে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ পালনের কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে সেখানে এসো হে বৈশাখ গান গেয়ে পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া শিশু একাডেমির আয়োজনে চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামানের নেতৃত্বে বের করা হয় বৈশাখীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-০২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত কুমার দেবনাথ।
নওগাঁ: ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণিল আয়োজনে নওগাঁয় নতুন বছরকে বরণ করা হয়েছে। সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের এটিম মাঠ থেকে বের করা হয় একটি আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন শোভাযাত্রায়।
শেরপুর: অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনায় শেরপুরে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয় বাঙালির জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণ। বৈশাখী শোভাযাত্রা পুলিশ বাদকদলের ব্যান্ডের তালে তালে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডিসি উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, পালকি, হাতপাখা, একতারা, নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুনসহ গ্রাম-বাংলার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। পরে ডিসি উদ্যানে তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।
এসময় জেলা পরিষদ প্রশাসক মামুনুর রশিদ পলাশ, পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাঁকন রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভুঁঞা, পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হকসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
গত বছরে প্রবল বৃষ্টিপাতে ভেঙে পড়া জীবননগরের ৪টি ব্রিজ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও মেরামত করা হয়নি। এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় কোনোরকম সংস্কার করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছেন পথচারীরা। সাইকেল, মোটরসাইকেল ও পাখিভ্যান পার হলেও ভারি যানবাহনগুলো ব্রিজের উপর দিয়ে পারাপার করতে পারছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে ওই এলাকার ২৫-৩০টি গ্রামের মানুষ।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ভারি বৃষ্টিপাতে জীবননগর উপজেলার সিংনগর বাওড়ের বাঁধ ভেঙে পানির প্রবল স্রোতে ভৈরব নদীতে থাকা ৪টি ব্রিজ ভেঙে পড়ে। সিংনগর, উথলী গ্রামের আচামিতে ব্রিজ, সন্তোষপুর ব্রিজ ও মনোহরপুর গ্রামের ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ে। এর মধ্যে মনোহরপুর গ্রামের ব্রিজটি ভেঙে পড়ে চলাচল বন্ধ আছে। বাকি তিনটি ব্রিজ স্থানীয়দের সহযোগীয় কিছুটা মেরামত করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারীভাবে ব্রিজ সংস্কারের জন্য এখনো পর্যন্ত কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
সিংনগর গ্রামের আহাদ আলী বলেন, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ব্রীজটি ঝুঁকিপূর্ণভাবে আছে।
সাধারণ পথচারীদের যাতায়াত ও মালামাল আনা নেওয়া করতে চরম অসুবিধা হচ্ছে। কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য ঘরে তুলতে ও বাজারজাত করতে কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ব্রিজটি সংস্কার করার জন্য মানববন্ধনসহ অনেকের জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
সন্তোষপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুস ছাত্তার বলেন, ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পরে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তারা এসে পরিদর্শন করে গেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক ঝন্টু নিজ উদ্যোগে কিছু ইট ও খোয়া দিয়ে সংস্কার করে দিয়েছিল। তারপর থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এই ব্রিজের উপর দিয়ে মানুষ যাতায়াত করছে।
মনোহরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এই গ্রামের মানুষ ব্রিজটি ব্যবহার করে মাঠের ফসল ঘরে আনে ও বিভিন্ন গ্রামে যাতায়াত করে। কিন্তু ব্রিজটি ভেঙে পড়ে যাওয়ার কারণে আর চলাচল করা যায় না। সাধারণ মানুষ পানির মধ্যে দিয়ে হেটে ব্রিজের ওপারে তাদের কৃষিজমিতে যায়।
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, ব্রিজগুলো ভেঙে যাওয়ার কারণে অনেকের ১০-১২ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হয়। এ বছরে বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতে ব্রিজের বাকি অংশগুলো ভেঙে গেলে গৃহবন্দি হয়ে পড়বে ২৫-৩০ টি গ্রামের মানুষ। বর্ষা মৌসুমের আগে ব্রিজগুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
যেন প্রাণের উৎসব, উৎসবে আনন্দে মাতোয়ারা হাজারো দর্শক। পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে মারমা সম্প্রদায় পালন করছেন মাহা সাংগ্রাই রি লং পোয়ে বা সাংগ্রাই জল উৎসব। তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটানোর মাধ্যমে সব দুঃখ-গ্লানি ধুয়েমুছে দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন।
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিংম্রং বৌদ্ধবিহার মাঠে সাংগ্রাই জল উৎসব উদ্যাপন কমিটির আয়োজনে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সাংগ্রাই জল উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এ সময় তিনি বলেন, ‘এটি মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে এখানে সকল ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোষ্ঠীর মিলন ঘটেছে। এ দেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ।’
সাংগ্রাই জল উৎসব উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক উথোয়াই মং মারমা সভাপতিত্ব করেন। পরে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান পরিবেশনার পাশাপাশি মাঠের একপাশে মারমা তরুণ-তরুণীরা জল খেলায় মেতে ওঠেন। এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও সাংগ্রাই মহা শোভাযাত্রা বের করা হয়।
সাংগ্রাই জল উৎসবে অংশ নিতে আসা মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা বলেন, ‘আজ আমরা সাংগ্রাই উৎসবে এসেছি জল ছিটাতে। পুরাতন বর্ষকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে। এটা আমাদের প্রাণের উৎসব।’