পাবনার পাকশীতে ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে রেলের জায়গা দখল করে হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পাকশী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) এলাকায় পাকা সীমানাপ্রাচীর ঘিরে স্থাপনা নির্মাণ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালনশাহ সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় এলাকাটিকে কেপিআই তালিকাভুক্ত করে নিরাপত্তার নির্দেশনা দেয়া আছে। সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণ করা হচ্ছে।
গতকাল রোববার সকালে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দেখা যায়, লালনশাহ সেতুসংলগ্ন সড়ক বিভাগের পরিদর্শন বাংলোর সামনে কয়েকজন শ্রমিক ইট-সিমেন্টের দেয়ালে পাকা সীমনাপ্রাচীর তৈরিতে ব্যস্ত। ঝোলানো সাইনবোর্ডে লেখা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পিকনিক স্পট অ্যান্ড লালনশাহ কফিশপ। বিশাল এলাকা ঘিরে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ, বসার ছাউনি ও সিমেন্টের চেয়ার। নদীশাসনে ব্যবহৃত রেলের পাথর তুলেও নির্মাণকাজে ব্যবহার করতে দেখা গেল শ্রমিকদের। এসব নির্মাণাধীন স্থাপনায় ঢাকা পড়েছে সড়ক বিভাগের পরিদর্শন বাংলোর মূল ফটকও।
স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েক বছর আগে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে টং ঘরের মতো খাবারের দোকান করেন মোক্তার হোসেন। সেখানে ব্যবসা ভালো হওয়ায় কিছুদিন পর পরিসর বাড়িয়ে আধাপাকা দেয়াল ও টিনের চালের ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি পুরো এলাকা ঘিরে রিসোর্ট তৈরির কাজ চলছে।
শ্রমিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে রিসোর্ট নিয়ে কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন মোক্তার হোসেন। নিজেকে সাবেক যুবলীগ নেতা ও রেলওয়ের ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে মোক্তার বলেন, জনস্বার্থেই তিনি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট তৈরি করেছেন। এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন না থাকার কথাও স্বীকার করেন তিনি।
মোক্তার হোসেন বলেন, ১৯৮৪ সালে তার বাবা রেলের কিছু জমি কৃষিকাজের জন্য লিজ নেন। প্রতিদিন পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালনশাহ সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প দেখতে দেশের নানা প্রান্তের পর্যটক এখানে ছুটে আসেন। পিকনিক মৌসুমে আসেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কিন্তু এখানে তাদের বসে সময় কাটানোর মতো ব্যবস্থা নেই। শৌচাগার, হাতমুখ ধোয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তারা ভোগান্তিতে পড়তেন। তাদের স্বস্তি দিতেই এই হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেপিআই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেপিআই এলাকা সাধারণ এলাকা থেকে পৃথক রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার ও সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কেপিআই এলাকায় কোনো অবৈধ স্থাপনা যাতে নির্মাণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সজাগ থাকবে এবং স্থাপনা নির্মাণ হলে উচ্ছেদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকশী বিভাগীয় রেলের এক কর্মচারী বলেন, রেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই পিকনিক স্পট নির্মাণ করছেন মোক্তার।
কেপিআই এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্ব পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির। নির্মাণাধীন পিকনিক স্পট থেকে ফাঁড়ির দূরত্ব ৫০ গজেরও কম।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব গোস্বামী বলেন, নিরাপত্তা নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো স্থাপনা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগীয় রেলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, কেপিআই এলাকায় পিকনিক স্পট নির্মাণের কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তার গাফিলতি আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
পাবনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। এর আগে গত সোমবার বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।
পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত সেমাবার (৮ জুন) একজন এবং গতকাল দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
প্রসঙ্গত, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নাটোরের লালপুর, রাজশাহীর বাঘা ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার সংযোগস্থলে পদ্মার চরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে আজিজুল হক (৩৫) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে লালপুর থানার চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাসমান একটি স্পিডবোট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আজিজুল হক ওরফে ঝড় নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাবনাপাড়া গ্রামের আবদুল শেখ ও হাসিনা বেগম দম্পতির ছেলে। তিনি কুষ্টিয়ার বহুল আলোচিত ‘কাকন বাহিনী’র সদস্য। চরে বিভিন্ন পক্ষের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, মারামারির ঘটনাস্থলটি তিন জেলার তিন উপজেলার সংযোগস্থলে হওয়ায় ঠিক কোন থানায় মামলা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে লাশটি যেহেতু পদ্মা নদীতে ভাসমান স্পিডবোট থেকে উদ্ধার হয়েছে তাই লক্ষ্মীকুন্ডা নৌপুলিশ তদন্ত করবে। মামলা হবে লালপুর থানায়।
লালপুর থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় লোকজন উপজেলার চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি নীল-সবুজ রঙের স্পিডবোট ভাসতে দেখেন। লাল রঙের ছাউনি দেওয়া স্পিডবোটের ভেতরে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে লালপুর থানার পুলিশ ও লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ সেখানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ লাশটি উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে রিজিয়া বেগম (৯৫) নামের এক বৃদ্ধা মাকে খুনের অভিযোগ উঠেছে তার আপন মেয়ের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে হরিরামপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের মধ্যধুসুরিয়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নিহত রিজিয়া বেগম ওই এলাকার সোবহানের স্ত্রী। আর অভিযুক্ত ৬০ বছরের মেয়ে রোকেয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জানা যায়, সকালে মা ও মেয়ে একসাথে সকালের খাবার খান। এরপর ঘরের ভিতরে ঘুমিয়ে পড়েন রেজিয়া বেগম। তখন তার মেয়ে রোকেয়া বেগম তরকারি কাটার ধারালো বটি দিয়ে ঘুমন্ত মাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বাড়ির লোকজন তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।
হরিরামপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, ‘ঘটনার পর মেয়ে রোকেয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
ঢাকার সাভারে এক নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত রিয়া মণির (২১) মা-বাবা বিদেশে থাকেন। বিয়ের আগে তিনি সাভারের সোবহানবাগ এলাকায় মামা সাদ্দাম হোসেনের বাসায় থাকতেন। গত সোমবার দুপুরে সাভারের ছায়াবীথি মহল্লার একটি আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
অভিযুক্ত রনি চৌধুরী (২২) কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা এলাকার ফকিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাভারের পৌর এলাকা ছায়াবীথি মহল্লায় বসবাস করছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।
নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে রিয়া মণিকে বিয়ে করেন রনি চৌধুরী। এরপর তারা ছায়াবীথি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
রিয়া মণির মামা সাদ্দাম হোসেন জানতে পারেন রিয়া মণি মারা গেছেন। পরে তিনি ওই বাসায় গিয়ে দরজা বাইরে থেকে তালা দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। তিনি রিয়া মণির স্বামী রনি চৌধুরীকে আশপাশে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি বিষয়টি সাভার মডেল থানা পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজার তালা ভেঙে খাটের ওপর থেকে রিয়া মণির মরদেহ উদ্ধার করে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে রিয়া মণিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রনি চৌধুরীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে নিহত ব্যক্তির মামা সাদ্দাম হোসেন গত সোমবার রাতে মামলা করেছেন। রনি চৌধুরীকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’
‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা হয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসন আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুনের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ। সভায় জানানো হয়, দেশে প্রতি বছর তামাকের কারণে ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়, অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় ১৮ জন। জেলা প্রশাসক তরুণ সমাজকে তামাক কোম্পানির বিভিন্ন প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সভায় তামাকবিরোধী সর্বোচ্চসংখ্যক মোবাইলকোর্ট পরিচালনার জন্য কয়রা ইউএনও মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী এবং সহকারী কমিশনার মো. মেহেদী হাসানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর আগে শহীদ হাদিস পার্ক থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণে কৃষকদের আরও দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০টায় রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ হলরুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় এই কংগ্রেস হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মো. রিয়াজউদ্দিনসহ স্থানীয় জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের নেতারা।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত শতাধিক কৃষক-কৃষাণি অংশ নিয়ে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। ইউএনও তার বক্তব্যে কৃষকদের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি যখন চতুর্থ শ্রেণির একজন কোমলমতি ছাত্র, তখন তার দাদির কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া একটি ছোট্ট ভেড়াই ছিল জীবনের প্রথম সম্পদ। সেই একটি মাত্র ভেড়াকেই জীবনের মূল পুঁজি ও স্বপ্ন হিসেবে ধরে শুরু হয়েছিল তার পথচলা। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের অক্লান্ত পরিশ্রম, অসীম ধৈর্য আর গভীর মমতায় আজ সেই একটি মাত্র ভেড়া বংশবৃদ্ধি করে দাঁড়িয়েছে ৯৮টির এক বিশাল পালে। গেল ঈদুল আজহার কোরবানির বাজারকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই তিনি একবারে ২৬টি বড় ভেড়া বিক্রি করে নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আয় করেছেন। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ২২ বছর বয়সি তরুণ আশিক চৌধুরীর এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের গল্প এখন এলাকার বেকার তরুণদের কাছে এক নতুন অনুপ্রেরণা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আশিক চৌধুরী উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হরেন্দা চৌধুরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আলহাজ আব্দুর রহিম চৌধুরীর সুযোগ্য ছেলে। আশিক অত্যন্ত মেধাবী; তিনি ২০২২ সালে হাকিমপুর কৌজুরী বেগম নুরজাহান রিয়াজ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ঢাকার ডেমরার বিখ্যাত ডক্টর মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি পুরো সময় দিচ্ছেন তার এই ভেড়ার খামারে। তবে ভবিষ্যতে সুযোগ ও অনুকূল পরিবেশ হলে আবারও উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা রয়েছে তার।
সরেজমিনে কুসুম্বা-চানপাড়া সড়কের পাশের একটি বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, আশিক প্রাণবন্ত হাসিমুখে তার বিশাল ভেড়ার পাল চরাচ্ছেন। এ সময় তিনি শোনালেন নিজের এক যুগের দীর্ঘ সংগ্রাম আর সাফল্যের পেছনের গল্প। আশিক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমি যখন ক্লাস ফোরে পড়ি, তখন আমার দাদি আমাকে শখ করে একটি ভেড়া উপহার দেন। আমার পড়াশোনার কারণে শুরুর দিকে সেই ভেড়ার দেখাশোনা ও যত্ন নিতেন আমার মা। পরে ভেড়াটি প্রথম বাচ্চা দেয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়তে থাকে। পড়াশোনার শত ব্যস্ততার মাঝেও আমি কখনও হাল ছাড়িনি। নিয়মিত যত্ন নিয়েছি, বিভিন্ন রোগবালাই থেকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। আজ সেই একটি ভেড়া থেকে আমার খামারে ৯৮টি ভেড়ার পাল গড়ে উঠেছে, যা দেখে আমার নিজেরই খুব আনন্দ হয়।’
তিনি আরও জানান, পবিত্র কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ভেড়ার চাহিদা ও দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এ বছর ঈদের আগেই তিনি ভালো লাভে ২৬টি সুস্থ ভেড়া বিক্রি করেছেন ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। ভবিষ্যতে এই ভেড়ার খামার আরও বড় ও আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি একটি বড় গরুর ডেইরি খামার গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে তার।
আশিকের মা রেহেনা খাতুন গর্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘শুরুর দিকে এটা ছিল আমাদের কাছে একটা সাধারণ শখের মতো। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন ভেড়ার সংখ্যা বাড়তে থাকল, তখন আমরা এটিকে গুরুত্ব দিই। ছোটবেলা থেকেই আশিক পশুপাখি খুব ভালোবাসে। সে নিজের সন্তানের মতো করে রাত-দিন এই ভেড়াগুলোর যত্ন নেয়। তার এই নিষ্ঠা, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের ফল এখন সবাই চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে। সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো আর্থিক সহযোগিতা পেলে আমার ছেলের এই খামারকে আরও অনেক বড় করার ইচ্ছা আছে।’
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা সাজু মিয়া আশিকের প্রশংসা করে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এবং আধুনিক উপায়ে পশুপালন করেও যে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সফল উদ্যোক্তা হওয়া যায়, আশিক আমাদের সমাজে তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। দাদির উপহার পাওয়া মাত্র একটি ভেড়া থেকে সে আজ শত ভেড়ার মালিক। তার এই গল্প নতুন প্রজন্মের বেকার যুবকদের চাকরি না খুঁজে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখাবে।’
পাঁচবিবি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. হাসান আলী আশিকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আশিক চৌধুরী একটি মাত্র ভেড়া থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যত্ন নিয়ে অনেকগুলো ভেড়ার মালিক হয়েছেন। তিনি একজন অত্যন্ত সফল ও আদর্শ খামারি। আমাদের প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে নিয়মিত ফ্রি ভ্যাকসিন, ওষুধসহ সকল ধরনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয়।’
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় নিখোঁজের ১৫ দিন পর এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া শেরকোল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বৃদ্ধা মরিয়া বেগম ওরফে শরিফা বেগম (৭৮)। তিনি আগপাড়া শেরকোল গ্রামের মৃত মোজাহার আলী সরদারের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে দুপুরের পর নিজ বাড়ি থেকে পাশ্ববর্তী বন্দর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন মরিয়া বেগম। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় গত ৬ জুন তার মেয়ে মর্জিনা বেগম সিংড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৫টার দিকে আগপাড়া শেরকোল গ্রামের মরিয়া বেগমের বাড়ির সামনে নাসির উদ্দিনের পুকুরে কচুরিপানার মধ্যে একটি সাদা রঙের মুখ বাঁধা বস্তা দেখতে পায় স্থানীয়রা। বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে এবং কয়েকটি কুকুর সেটি টানাটানি করতে থাকলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি সিংড়া থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তার ভেতর থেকে মরিয়া বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে পুলিশের এক অভিনব ও ঝটিকা অভিযানে ১৬৭ পিস ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) রাত ১০টার দিকে অষ্টগ্রাম থানার একটি চৌকস টিম ছদ্মবেশ ধারণ করে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের শেখেরহাটির বাসিন্দা মিলু ভূইয়ার ছেলে রাহিম ভুইয়া (৪০) ও তার স্ত্রী রিমা বেগম টুক্কি (৩৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত রাহিম ও তার স্ত্রী রিমা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল কৌশলের আশ্রয় নিয়ে নিজেদের পরিচয় আড়াল করতে ছদ্মবেশ ধারণ করেন— কেউ পরেন নারীদের বোরকা, আবার কেউ সাজেন সাধারণ অটোরিকশা চালক।
এই অভিনব ছদ্মবেশে পুলিশ মাদক চক্রটির আস্তানায় হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই তাদের নিজ বাড়ি থেকে হাতেনাতে ১৬৭ পিস ইয়াবাসহ এই দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়।
থানা পুলিশ জানায়, "গ্রেফতারকৃত রাহিম ভূইয়া ও রিমা বেগম টুক্কি উভয়ের বিরুদ্ধেই এলাকায় মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।"
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুকনুজ্জামান এ প্রতিনিধিকে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে অষ্টগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নতুন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।তাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের এমন সাহসী ও ব্যতিক্রমী অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল কেবল নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারই লুট করেনি, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রী ও তার স্কুলপড়ুয়া (১৫) কন্যাকে গণধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করেছে।
গত সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে তারা অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে। ডাকাতরা ঘরের মূল্যবান মালামাল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। একপর্যায়ে তারা প্রবাসীর স্ত্রী ও তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরী কন্যাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় রক্তাক্ত অবস্থায় মা-মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ জানান: "বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকার সুযোগে ডাকাতদল আমার বোনের বাড়িতে হানা দেয়। তারা সব লুট করার পাশাপাশি আমার বোন ও ভাগ্নির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে আমার ভাগ্নির অবস্থা বর্তমানে খুবই আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।"
ঘটনার খবর পেয়েই চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ এবং থানা পুলিশের একাধিক টিম তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশি অভিযানে ঘটনায় আটককৃতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— রেজাউল, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত ও তানজিদ। আটককৃতদের সবার বাড়ি একই ইউনিয়নে বলে জানা গেছে।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ মাসুদ ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনির হোসেন ৬ জনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ টিম এখনো মাঠে কাজ করছে।
এই অমানুষিক ও বর্বরোচিত ঘটনার পর পুরো মাতামুহুরী এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা খনন করে পুকুর তৈরী করে টিনের বেড়া দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যসহ কয়েকটি পরিবারের লোকজন। এ ঘটনার প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ১৫ বছর আগে ৪ ফুট রাস্তাসহ কাজী ইমান আলী ও তাঁর ভাই কাজী হোসেন আলী গংদের কাছ থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ৯ জন মিলে ৪০ শতক জমি কিনেন। পরবর্তীতে তারা বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। ১৫ বছর ধরে সাধারণ জনগনসহ স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা ব্যবহার করে যাতায়াত করছেন। সম্প্রতি কাজী ইমান আলী ও তাঁর ভাই হোসেন আলীর পারিবারিক দ্বন্দ্বে চলাচলের রাস্তা কেটে পুকুর তৈরী করে টিন দিয়ে বেড়া দিয়েছেন। এতে সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ ৯টি পরিবারের সদস্যদের চলাচল চরমভাবে ব্যহত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চলাচলের রাস্তা ঘেঁষেই পুকুর খনন করে টিন দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। পুকুরে কোন পাড় ও প্যালাসাইডিং না থাকায় রাস্তা ভেঙ্গে পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
অভিভাবকেরা তাদের বাচ্চাদের হাত ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। রাস্তা ক্রমাগত ভেঙ্গে যাওয়ায় পাশে থাকা চারতলা বিশিষ্ট একটি ভবনও অনেকটাই ঝুঁকিতে রয়েছে। আরেকটু সামনে গেলে দেখা যায় চলাচলের পুরা রাস্তায় কেটে ফেলা হয়েছে। সেইখানে পচা পানি দিয়ে এক হাতে জুতা নিয়ে চলতে হচ্ছে তাঁদের।
ভুক্তভোগীরা জানান,আমরা ৯ সদস্য মিলে রাস্তাসহ ৪০ শতক জমি ক্রয় করে বাসাবাড়ি করেছি। যা আমাদের দলিলেও উল্লেখ আছে। এ রাস্তা আমরাসহ অন্যান্যরাও ব্যবহার করে শান্তিপূর্ন ভাবে চলাচল করে আসছি। হঠাৎ তাদের দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে কাজী হোসেন আলী রাস্তা কেটে পুকুর বানিয়েছেন। কতক জায়গায় পুরো রাস্তায় কেটে ফেলেছেন। এখন আমরা তাদের ভাইদের দ্বন্দ্বের শিকার হয়েছি।
তামান্না আক্তার বলেন, আমাদের জমি কেনার সময় দাতা নিজ দক্ষিণ পাশে রাস্তা দিয়েছেন। দুই ভাইয়ের পারিবারিক কলহে এখন আমাদের রাস্তা বন্ধ করে দিছেন। আমরা এখন কোন কাজ করতে পারতেছিনা। আর যারা বাসা করেছে তারাও চলাচল করতে পারতেছেনা। তাদের ভাইয়ে -ভাইয়ে সমস্যায় আমাদের সাজা ভোগ করতে হচ্ছে। আমরা তাদের দ্বন্দ্বের নিরসন ও রাস্তা চাই।
লীমা আক্তার বলেন, জীবনের সব শেষ করে জমি কিনে এখানে বাসা করেছি। তাঁদের পারিবারিক দ্বন্দ্বে আমাদের বাসার সাথে রাস্তা কেটে পুকুর বানিয়েছেন। এখন বাসা থেকে বের হতে পারি না , গেইটে প্রায় সবসময়ই তালা দিয়ে রাখতে হয়। মাঝখানে আমার বাচ্চা পা ফসকে পুকুরে পড়ে যায়। আল্লাহ জানে আবার কখন কোন বাচ্চা পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। আমরা চাই তারা দ্রুত আমাদের রাস্তার সমাধান করে দিক। আমরা আর বন্ধি থাকতে চাই না।
মোশারফ হোসেন বলেন, এটি আগে থেকেই চলাচলের রাস্তা ছিল। দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্বে বিল্ডিং ভেঙ্গে পুকুর খনন করেছে। এতেই আমাদের চলাচলের রাস্তা ধ্বসে গেছে। আমার বিল্ডিংটিও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমার ছোট্ট চারটি বাচ্চা আছে তারাও স্কুলে যেতে পারছেনা। আমরা খুব আতংকে আছি কখন জানি কোন বাচ্চা ঐ গর্তে পড়ে মারা যায়। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে ভোগান্তি থেকে পরিত্রানের দাবি জানান তিনি।
এ নিয়ে অভিযুক্ত কাজী হোসেন আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন ,আমার ভাই জোর করে শুধু আমার জমি দিয়েই রাস্তা নিতে চায় তাই রাস্তা আটকে দিয়েছি। এ জমি ছাড়াও আরো সমস্যা আছে। মিলেঝিলে পরে রাস্তা নিতে হবে এর আগে কোন রাস্তা হবে না।
কাজী ইমান আলী বলেন, আমিসহ আমরা ৪ ভাই রাস্তা দিয়েই তাদের কাছে জমি বিক্রি করেছি। আর ওই রাস্তাটি নতুন রাস্তা নয় এটি বহু বছরেরই পুরনো রাস্তা।
আমার সাথে ছোট ভাই হোসেন আলীর অন্য জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় খামাখা সে ওই পরিবারগুলোর রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে তাদেরকে ভোগান্তিতে ফেলেছেন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ দৈনিক বাংলা কে বলেন, এ বিষয়ে পৌর প্রশাসককে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রশাসন এই কর্মশালার আয়োজন করে।
‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চল যাই গ্রাম আদালতে’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল থেকে উপজেলা মিনি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, গ্রামীণ জনপদে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা অপরিসীম। স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সমন্বিতভাবে কাজ করে, তবে সাধারণ মানুষ গ্রাম আদালতের সুবিধা সম্পর্কে আরও বেশি জানতে পারবে। এর ফলে আদালতে মামলার জট যেমন কমবে, তেমনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ঘরে বসেই অল্প সময়ে ও নামমাত্র খরচে সঠিক বিচার পাবেন। এজন্য উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে গ্রাম আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
উক্ত কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও এনজিও কর্মীগণ অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দলগত আলোচনার মাধ্যমে গ্রাম আদালতের প্রচার ও প্রসারে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।
বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামে এক চিকিৎসাকর্মীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতেরা ঘরে ঢুকে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (৮ জুন) দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত উপ-কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল মতি মিয়া জানান, রাতের কোনো এক সময় ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাঁর বাড়ির জানালার গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ঘরে থাকা তাঁর ছোট ভাই আব্দুস সালামকে বেঁধে ফেলে ডাকাতেরা। পরে তারা আলমারি ভেঙে ঘরের বিভিন্ন মালামাল তছনছ করে।
ডা. মতি মিয়া বলেন, “ডাকাতেরা আমার আলমারিতে থাকা ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাকাতেরা বেশ কিছু সময় ধরে বাড়ির ভেতরে অবস্থান করে মূল্যবান জিনিসপত্র খুঁজে নেয়। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান।