পাবনার পাকশীতে ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে রেলের জায়গা দখল করে হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পাকশী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) এলাকায় পাকা সীমানাপ্রাচীর ঘিরে স্থাপনা নির্মাণ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালনশাহ সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় এলাকাটিকে কেপিআই তালিকাভুক্ত করে নিরাপত্তার নির্দেশনা দেয়া আছে। সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণ করা হচ্ছে।
গতকাল রোববার সকালে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দেখা যায়, লালনশাহ সেতুসংলগ্ন সড়ক বিভাগের পরিদর্শন বাংলোর সামনে কয়েকজন শ্রমিক ইট-সিমেন্টের দেয়ালে পাকা সীমনাপ্রাচীর তৈরিতে ব্যস্ত। ঝোলানো সাইনবোর্ডে লেখা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পিকনিক স্পট অ্যান্ড লালনশাহ কফিশপ। বিশাল এলাকা ঘিরে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ, বসার ছাউনি ও সিমেন্টের চেয়ার। নদীশাসনে ব্যবহৃত রেলের পাথর তুলেও নির্মাণকাজে ব্যবহার করতে দেখা গেল শ্রমিকদের। এসব নির্মাণাধীন স্থাপনায় ঢাকা পড়েছে সড়ক বিভাগের পরিদর্শন বাংলোর মূল ফটকও।
স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েক বছর আগে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে টং ঘরের মতো খাবারের দোকান করেন মোক্তার হোসেন। সেখানে ব্যবসা ভালো হওয়ায় কিছুদিন পর পরিসর বাড়িয়ে আধাপাকা দেয়াল ও টিনের চালের ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি পুরো এলাকা ঘিরে রিসোর্ট তৈরির কাজ চলছে।
শ্রমিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে রিসোর্ট নিয়ে কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন মোক্তার হোসেন। নিজেকে সাবেক যুবলীগ নেতা ও রেলওয়ের ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে মোক্তার বলেন, জনস্বার্থেই তিনি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট তৈরি করেছেন। এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন না থাকার কথাও স্বীকার করেন তিনি।
মোক্তার হোসেন বলেন, ১৯৮৪ সালে তার বাবা রেলের কিছু জমি কৃষিকাজের জন্য লিজ নেন। প্রতিদিন পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালনশাহ সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প দেখতে দেশের নানা প্রান্তের পর্যটক এখানে ছুটে আসেন। পিকনিক মৌসুমে আসেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কিন্তু এখানে তাদের বসে সময় কাটানোর মতো ব্যবস্থা নেই। শৌচাগার, হাতমুখ ধোয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তারা ভোগান্তিতে পড়তেন। তাদের স্বস্তি দিতেই এই হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেপিআই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেপিআই এলাকা সাধারণ এলাকা থেকে পৃথক রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার ও সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কেপিআই এলাকায় কোনো অবৈধ স্থাপনা যাতে নির্মাণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সজাগ থাকবে এবং স্থাপনা নির্মাণ হলে উচ্ছেদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকশী বিভাগীয় রেলের এক কর্মচারী বলেন, রেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই পিকনিক স্পট নির্মাণ করছেন মোক্তার।
কেপিআই এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্ব পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির। নির্মাণাধীন পিকনিক স্পট থেকে ফাঁড়ির দূরত্ব ৫০ গজেরও কম।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব গোস্বামী বলেন, নিরাপত্তা নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো স্থাপনা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগীয় রেলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, কেপিআই এলাকায় পিকনিক স্পট নির্মাণের কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তার গাফিলতি আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পাহাড়ি-বাঙালিসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের সম্প্রীতি ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে চিংসা প্রু কেসিকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বান্দরবানের অধিকাংশ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য এ জেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের সম্প্রসারণ এবং দুর্গম এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর ও দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাদের মতে, চিংসা প্রু কেসি সামাজিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষাবিস্তারে ভূমিকা এবং পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে এ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন।
বান্দরবানের সার্বিক উন্নয়নে এমন একজন চেয়ারম্যান প্রয়োজন, যিনি পাহাড়-সমতল সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে পারবেন। তারা মনে করি, চিংসা প্রু কেসি সেই যোগ্যতা রাখেন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, ‘ব্যক্তি নয়—যোগ্যতা, সততা ও উন্নয়নমুখী চিন্তাধারাই হওয়া উচিত নেতৃত্ব নির্বাচনের মূল মানদণ্ড।’ তারা আশা করছেন, বান্দরবানের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসবে।’
দলিয় সূত্রে জানা যায়, চিংসা প্রু কেসি বান্দরবান জেলা বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা। যিনি, ১৯৯২ সাল থেকে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে বান্দরবান জেলা বিএনপির অবিসংবাদিত নেতা জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপির ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০০৯ সালে সাচিং প্রু জেরীর নির্দেশনায় রোয়াংছড়ি, রুমা এবং থানছি উপজেলায় বিএনপির রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। এ সমস্ত, ত্যাগ, তিতিক্ষার করেও তাকে সদ্য ঘোষিত বান্দরবান জেলা বিএনপির ৪৬ বিশিষ্ট কমিটি হতে বঞ্চিত করা হয়েছে।
দলের ত্যাগী নেতার মূল্যায়নের দাবিতে এই নেতাকে আগামী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করার জোর দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া তিনি একসময় সফলভাবে জেলা পরিষদের সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করেছে বলে জানায় স্থানীয়রা। বান্দরবান দুর্নীতি দমন কমিটির সভাপতি অং চ মং জানান, বান্দরবান জেলার সকল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে জেলা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ পালন করে থাকে। এই পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির পক্ষ থেকে চিংসা প্রু কেসিকে নির্বাচিত করা হলে জনগণ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
সমাজকর্মী মং ক্য শৈ নেভী বলেন, ‘জনকল্যাণে নিজেকে নিযুক্ত রাখবেন এমন চেয়ারম্যান আদিষ্ট হোক সকলেরই প্রত্যাশা। এরই পরিপ্রেক্ষীতে আগামীতে দলীয় ও সামাজিক আলোচনায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে আসার সম্ভাব্য যে বা যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে চিংসা প্রু কেসিকে নির্বাচিত করা হলে জনগণের প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ হবে’ বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
এবিষয়ে চিংসা প্রু কেসি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত ও জনগণের প্রত্যাশাকে মূল্যায়ন করবেন বলে জানান তিনি।
তিস্তা নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পাড়ের মানুষের জানমাল রক্ষায় কোনো ধরনের বিচ্ছিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না। একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনার আওতায় নদীর শাসন ও খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সোমবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান। রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, অতীতে তিস্তা অববাহিকায় বিক্ষিপ্তভাবে নেওয়া নানা প্রকল্পের কারণে এই অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুফল পায়নি। তাই নতুন করে যেন কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে তিনি শুরু থেকেই জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন ও বাজেটে বৈষম্য নিরসনে নিজের বিশেষ দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বিগত সরকারের সময় এই অঞ্চলের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে। এই বৈষম্যের কারণে স্থানীয় মানুষের মনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। রংপুরের সন্তান হিসেবে তিনি আগামী বাজেটে এই বিভাগের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন। এই অঞ্চলের প্রতিটি প্রকল্প যেন ন্যায্যতার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয় এবং রংপুর বিভাগ যেন উন্নয়নের মূলধারায় শামিল হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি দপ্তরগুলোতে বিদ্যমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনকে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রব্যমূল্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষের জনজীবন যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ প্রদান করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের চাহিদামাফিক প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের আরও বেশি আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি মনে করেন, সমাজ থেকে এসব ব্যাধি নির্মূল করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। আজকের এই মতবিনিময় সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পরবর্তীতে নিয়মিত তদারকি বা ফলোআপ করা হবে। এর আগে মন্ত্রী তাঁর দুই দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনে লালমনিরহাটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বর্তমান সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ের এই প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডেমরা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, এক তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজস্ব স্টুডিওতে একদিন আটকে রাখেন নোবেল। এ সময় জোর করে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী গত বছরের ১৩ আগস্ট আদালতে মামলা করেন। পরে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন–কে। ২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের এসআই নুরুজ্জামান আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। একই দিন আদালত মাইনুল আহসান নোবেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং ডেমরা থানা পুলিশকে আসামিদের আইনের আওতায় এনে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।
ডেমরা থানার অপারেশন অফিসার মো. মুরাদ বলেন, ‘আদালত থেকে নোবেলসহ ৪ জনের নামে ওয়ারেন্ট জারি করে ডেমরা থানা পুলিশকে অবহিত করলে থানা পুলিশ ওয়ারেন্ট তামিল করে প্রধান আসামি নোবেলকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালন করেছে রাজধানীর বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল প্রভাতফেরি, দেয়ালিকা উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অমর একুশের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে কলেজ প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছিল বর্ণিল সাজে। একুশের প্রথম প্রহরে কলেজের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে বের করা হয় এক বিশাল প্রভাতফেরি। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ এই কালজয়ী গানের সুরে সুরে নগ্ন পায়ে সবাই কলেজের শহীদ মিনারে উপস্থিত হন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
দিবসটি যথাযথভাবে পালন উপলক্ষে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয় বিশেষ আলোচনা সভার। কলেজের রেক্টর প্রফেসর তরুণ কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ভেন. প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. সঞ্জয় কুমার ধর এবং মাতৃভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে তথ্যবহুল বক্তব্য দেন শিক্ষক প্রতিনিধি মোস্তাকিয়া মাহমুদা পারভীন ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শাফাকাত চৌধুরী সায়াদ।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যেখানে ছিল দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা আবৃত্তি। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কলেজে জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলা বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক রতন কুমার ধর এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক রানজুনি চাকমা। উল্লেখ্য যে, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে গত ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন ও সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারকে এই সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। গত রবিবার প্রকাশিত এই আদেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশনেও নতুন প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী নতুন পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।
সিটি করপোরেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিরবচ্ছিন্ন সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে নগরের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর শওকত হোসেন সরকার তাঁর প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা প্রদান করেছেন। তিনি প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর মতে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
নতুন প্রশাসক হিসেবে তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে নগরের পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা এবং মশা নিধনে কার্যকরী ও ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা। এছাড়া শিল্পনগরী গাজীপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে তিনি বিশেষ নজর দেবেন। তিনি উল্লেখ করেন, নগরবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর উপহার দিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন। প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণেরও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে গাজীপুর নগরীর সেবামূলক কার্যক্রমগুলো নতুন প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাস থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোরের এই দুর্ঘটনায় শিশুসহ একই পরিবারের সাতজন গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হালিশহর এইচ ব্লকের ৬ তলা বিশিষ্ট 'হালিমা মঞ্জিল' নামক ভবনের তৃতীয় তলার একটি বাসায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যখন বাসিন্দারা ঘুমে ছিলেন, ঠিক তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়ে পুরো ফ্ল্যাটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে কোনোভাবে চুলার লাইন বা সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে পুরো ঘরে জমাট বেঁধে ছিল। ভোরে চুলা জ্বালাতে গিয়ে বা বৈদ্যুতিক সুইচের স্পার্ক থেকে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়।
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরের ভেতর থেকে দগ্ধদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম অপারেটর জানান, দগ্ধদের শরীরে আগুনের ক্ষত বেশ গভীর এবং তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ভবনের ওই ফ্ল্যাটের দরজা, জানালা এবং ভেতরের আসবাবপত্র চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। এমনকি পাশের ফ্ল্যাটগুলোর দেয়ালেও ফাটল দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখছেন। আবাসিক এলাকায় এমন দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত গ্যাস লাইন পরীক্ষা ও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জানুয়ারি মাসে দেশে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত ও ১ হাজার ২০৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সময়ে রেলপথে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত ও ২৮ জন আহত এবং নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত, ৬ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ফলে সড়ক, রেল ও নৌ—এই তিন পথে মোট ৫৯৭টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৮৬ জনের এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৩৮ জন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ২০৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২২৩ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৮৬ শতাংশ এবং মোট নিহতের ৪০.৮৪ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ৩২৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন ২৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হন।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ১৩১ জন চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৭৯ জন শিক্ষার্থী, ৬২ জন নারী, ৬৭ জন শিশু ও ৫৩ জন পরিবহন শ্রমিকের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১২৭ জন চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৫৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু, ৫৭ জন শিক্ষার্থী, ২১ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮ জন শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
এই সময়ে দুর্ঘটনায় জড়িত ৮২৯টি যানবাহনের মধ্যে ২৮.৪৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩.৬৪ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-লরি, ১৪.৩৫ শতাংশ বাস, ১৩.৬৩ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক এবং ৫.৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিল।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৮.৩৬ শতাংশ ক্ষেত্রে গাড়িচাপা, ২৮.৬২ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ১৬.৮৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ৪২.৫৭ শতাংশ দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.৮৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২৪.০৯ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে।
সংগঠনটি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নীতিগত দুর্বলতা, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টো পথে যান চলাচল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও নছিমন-করিমনের নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল এবং মহাসড়কে পর্যাপ্ত রোড সাইন ও ডিভাইডারের অভাবকে দায়ী করেছে।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে উন্নত দেশের নীতি অনুসরণ, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানবাহনের ফিটনেস সনদ প্রদান, সিসিটিভির মাধ্যমে আইন প্রয়োগ, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট চালুর সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
ফেনীর দাগনভূঞা থানার পুকুর থেকে পুলিশের লুট হওয়া ১২ বোর শটগানের ২১৯টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনে দাগনভূঞা থানা থেকে বেশ কিছু অস্ত্র ও গুলি লুট হয়। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, থানা ভবন-সংলগ্ন পুকুরে লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি রয়েছে।
পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুকুর সেচের নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে পুকুরের উত্তর পাড়ের মাটির ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১২ বোর শটগানের ২১৯ রাউন্ড লিডবল কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী–দাগনভূঞা সার্কেল) সৈয়দ মুমিদ রায়হান জানান, উদ্ধার হওয়া কার্তুজে বাংলাদেশ পুলিশ লেখা রয়েছে। থানা থেকে লুট হওয়া অবশিষ্ট অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেওয়া সফল উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় খাল পুনর্খনন কর্মসূচি শুরু করা হলো। তার দেখানো পথ ধরে কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে এই উদ্যোগ। এর মাধ্যমে মরাখালে জোয়ার-ভাটা ফিরিয়ে এনে উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের ন্যায্য পানি নিশ্চিত করা হবে।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার শরিকল ইউনিয়নে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ফলে তৎকালীন সময়ে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সুফল মিলেছিল- তা আজ প্রমাণিত সত্য। পরবর্তী সময়ে খালগুলো মরে যাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদন যে ব্যাহত হয়েছে তাও প্রমাণিত। সেই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার পানি সরাসরি কৃষকের জমিতে পৌঁছে যাবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রান্তিক কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে খাল খনন এবং কৃষি বিষয়ক নানা প্রসঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকার সারা দেশে খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বরিশালে খাল পুনর্খনন কর্মসূচি শুরু করা হলো।
এছাড়া বনায়নের অংশ হিসেবে গাছ রোপণ কর্মসূচিও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় তামাক ক্ষেত থেকে এক মাংস ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটার দিকে উপজেলার কাকারা শাহ ওমর মাজার সংলগ্ন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো সামনে তামাক ক্ষেত থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহতদের চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুজিবুর রহমান নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারী) সরেজমিনে নিহত আব্দুল মজিদের বাড়িতে গেলে পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি উঠে পুরো এলাকা। এসময় অশ্রুসিক্ত নয়নে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায় নিহত আব্দুল মজিদের দুই শিশু পুত্র আট বছরের আব্দুর রহমান ও ছয় বছরের মোহাম্মদ মাহিম এর সাথে।
একটু এগিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তাদের চোখের কোনে জমে থাকা পানি মুছে কাছে আসলো। জানতে চাইলাম তাদের পিতাকে কে মেরেছে?! কান্না জড়িত কন্ঠে শিশুপুত্র আব্দুর রহমান বললেন, 'ইফতারের পর আমার বাবা বের হয়েছিলো। কিছুক্ষণ পর খবর আসে বাবাকে মেরে ফেলেছে। কারা মেরেছে জানতে চাইলে শিশু মাহিম বলে উঠে ; "জানিনা। যারা মেরেছে তাদের ফাঁসি চাই,শাস্তি চাই" আমার বাবা আমাদের কাল নতুন কাপড় নিয়ে দিবে বলেছিলো। এখন আমার বাবা মারা গেছে নতুন পাঞ্জাবি কে নিয়ে দেবে? কে নিয়ে দিবে নতুন কাপড়? এ'কথা বলতেই চোখে পানি চলে আসে তাদের।
নিহত মাংস ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান (৪২) চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ফকির আহমদের ছেলে। তিনি সংসার জীবনে পাঁচ মেয়ে দুই সন্তানের জনক। টানাপোড়েনের এই সংসারের হাল ধরবে কে বলে বিলাপ ধরতে দেখা যায় তাঁর স্ত্রীকে।
নিহত মুজিবের স্ত্রী আনোয়ারা জানান, প্রতিবেশী আরিফ ইফতারের আগে বাডি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে নিহত মুজিব বাড়ি ফেরার পথে ডাকাতদের কবলে পড়ে এবং তাকে সহ আরও কয়েকজনকে মারধর করে তামাক ক্ষেতে ফেলে দেয়। ঘটনায় যে জড়িত থাকুকনা কেনো আমি তার শাস্তি চাই। আমার এই টানাপোড়েনের সংসার এখন কে দেখবে?
অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম (২২) ওই এলাকার জহির আহমদের ছেলে। আরিফকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চকরিয়া থানা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আরিফের মা শারমিনা আক্তার (৪৮) বলেন, আমার ছেলে ঘটনাস্থলের পাশে স্ত্রী নিয়ে ঘর করে থাকছে কিছুদিন ধরে। সে বাড়িতে আসার পথে মুজিব সহ কয়েকজনকে হাতমুখ বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তাদের পরিবারকে খবর দেয়। নিহত আব্দুল মজিদের সাথে আট বছর আগে আমাদের পারিবারিক দন্দ্ব ছিলো। আমার ছেলে যদি হত্যাকারী হতো তাহলে সে বাড়িতে বসে থাকতোনা পালিয়ে যেতো। আমার ছেলে তাদের উদ্ধার করেছে এখন পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার ছেলে হত্যাকারী বানানোর চেষ্টা করছে। আমি আইনের কাছে সঠিক তদন্ত অনুযায়ী বিচার চাই।
ঘটনায় আহত মোজাম্মেল হক (৪৮) বলেন, আব্দুল মজিদ সহ আমরা কয়েকজন একটা দাওয়াতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে তামাক ক্ষেত থেকে উঠে এসে ১৫/২০ জন লোক আমাদের উপর হামলা করে হাত পা বেঁধে ফেলে রাখে। প্রায় পনেরো মিনিট পর আরিফ আমাদের হাত পা খোলে দিয়ে উদ্ধার করে। আমি তাকে হত্যাকারী বলতে পারবোনা। তবে যেই হোক সঠিক তদন্তে আসল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার দাবি রইলো প্রশাসনের প্রতি।
চকরিয়া থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের কার্যক্রম শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরিফকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে টঙ্গীর দত্তপাড়া সাহাজ উদ্দিন সরকার স্কুল রোডের রাশিদা মঞ্জিলের নিচতলা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের বাসা তল্লাশি করে ৮১ কেজি গাঁজা ও মাদক বিক্রির নগদ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪শত টাকা উদ্ধার করা হয়। গতকাল রোববার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-১ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) রাকিব হাসান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গোপালগঞ্জ জেলা সদরের কাটিগ্রাম এলাকার হারেস মিয়ার মেয়ে লাভলী আক্তার (৩৪) ও ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার মোঘলটোলা সফুল্লখিলা গ্রামের আব্দুল হাই এর ছেলে ইসরাফিল (২২)।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় টঙ্গী দত্তপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে উল্লেখিত মাদক ও মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের শেষে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার হাটাব নরাবোটেক এলাকায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৫০ বছর বয়সী দুই প্রবীণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন ছানায়োর ও নুরু (৫০)।
ভুক্তভোগী শিশু (১২) পিতা নবী হোসেন, একই এলাকার বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কিছু অসাধু ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করছে। এতে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
সচেতন নাগরিকরা দাবি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ছানায়োর ও নুরুকে দ্রুত পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি যারা অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি সাবজেল জানান, ‘এ বিষয়ে আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এলাকাবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এমন জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস নয়, দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-নেত্রকোনার উদ্যোগে নেত্রকোনা পৌরসভার সামনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত ছাদেই লুকিয়ে আছে জ্বালানি সমাধান- রুফটপ সোলারে জাতীয় অগ্রাধিকারের আহ্বান জানিয়ে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ফোরাম এর আহ্বায়ক আলী আমজাদ এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ডিডিএলজি ও পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার, ময়মনসিংহ অনন্য চিত্র ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা, ফোরামের সদস্য সচিব এআরএফবি চেয়ারম্যান দিলওয়ার খান।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন এআরএফবি প্রোগ্রাম অফিসার পারভেজ কামাল, এআরএফবি সেক্রেটারি চন্দন নাথ চৌধুরী সহ ফোরামের নেতারা। মানববন্ধন শেষে ফোরামের নেতারা পৌর প্রশাসকের নিকট স্মারক লিপি হস্তান্তর করেন। সমাবেশে স্থানীয় সাংবাদিক, যুব প্রতিনিধি, নারী নেত্রী এবং পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নিয়ে জ্বালানি খাতের এই পরিবর্তনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন।