শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৮ ফাল্গুন ১৪৩২

রেলের জমিতে পিকনিক স্পট

কেপিআই এলাকায় নির্মাণাধীন পিকনিক স্পট। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৫:১৯
প্রতিনিধি, পাবনা
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, পাবনা
প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০৯:৫২

পাবনার পাকশীতে ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে রেলের জায়গা দখল করে হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পাকশী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) এলাকায় পাকা সীমানাপ্রাচীর ঘিরে স্থাপনা নির্মাণ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালনশাহ সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় এলাকাটিকে কেপিআই তালিকাভুক্ত করে নিরাপত্তার নির্দেশনা দেয়া আছে। সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণ করা হচ্ছে।

গতকাল রোববার সকালে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দেখা যায়, লালনশাহ সেতুসংলগ্ন সড়ক বিভাগের পরিদর্শন বাংলোর সামনে কয়েকজন শ্রমিক ইট-সিমেন্টের দেয়ালে পাকা সীমনাপ্রাচীর তৈরিতে ব্যস্ত। ঝোলানো সাইনবোর্ডে লেখা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পিকনিক স্পট অ্যান্ড লালনশাহ কফিশপ। বিশাল এলাকা ঘিরে তৈরি হচ্ছে মঞ্চ, বসার ছাউনি ও সিমেন্টের চেয়ার। নদীশাসনে ব্যবহৃত রেলের পাথর তুলেও নির্মাণকাজে ব্যবহার করতে দেখা গেল শ্রমিকদের। এসব নির্মাণাধীন স্থাপনায় ঢাকা পড়েছে সড়ক বিভাগের পরিদর্শন বাংলোর মূল ফটকও।

স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েক বছর আগে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে টং ঘরের মতো খাবারের দোকান করেন মোক্তার হোসেন। সেখানে ব্যবসা ভালো হওয়ায় কিছুদিন পর পরিসর বাড়িয়ে আধাপাকা দেয়াল ও টিনের চালের ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি পুরো এলাকা ঘিরে রিসোর্ট তৈরির কাজ চলছে।

শ্রমিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে রিসোর্ট নিয়ে কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন মোক্তার হোসেন। নিজেকে সাবেক যুবলীগ নেতা ও রেলওয়ের ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে মোক্তার বলেন, জনস্বার্থেই তিনি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট তৈরি করেছেন। এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন না থাকার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

মোক্তার হোসেন বলেন, ১৯৮৪ সালে তার বাবা রেলের কিছু জমি কৃষিকাজের জন্য লিজ নেন। প্রতিদিন পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালনশাহ সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প দেখতে দেশের নানা প্রান্তের পর্যটক এখানে ছুটে আসেন। পিকনিক মৌসুমে আসেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কিন্তু এখানে তাদের বসে সময় কাটানোর মতো ব্যবস্থা নেই। শৌচাগার, হাতমুখ ধোয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তারা ভোগান্তিতে পড়তেন। তাদের স্বস্তি দিতেই এই হোটেল ও পিকনিক স্পট নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেপিআই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেপিআই এলাকা সাধারণ এলাকা থেকে পৃথক রাখতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার ও সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কেপিআই এলাকায় কোনো অবৈধ স্থাপনা যাতে নির্মাণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সজাগ থাকবে এবং স্থাপনা নির্মাণ হলে উচ্ছেদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকশী বিভাগীয় রেলের এক কর্মচারী বলেন, রেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই পিকনিক স্পট নির্মাণ করছেন মোক্তার।

কেপিআই এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্ব পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির। নির্মাণাধীন পিকনিক স্পট থেকে ফাঁড়ির দূরত্ব ৫০ গজেরও কম।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব গোস্বামী বলেন, নিরাপত্তা নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো স্থাপনা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগীয় রেলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, কেপিআই এলাকায় পিকনিক স্পট নির্মাণের কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তার গাফিলতি আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

বিষয়:

পটুয়াখালীতে মা-ছেলেকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর বাউফলে ময়লা পানির পাইপকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জাহানারা বেগম (৬০) ও তার ছেলে অলিউর রহমান (৩২) আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুরাইনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার আলম ব্যাপারীর বাড়ি থেকে বের হওয়া একটি ময়লা পানির পাইপ পাশের কৃষি জমির দিকে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে অলিউর রহমানের চাষকৃত মুগডালের ক্ষেতে পানি গিয়ে ফসলের ক্ষতি হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অলিউর রহমান পাইপটি ভেঙে ফেলেন।

এ ঘটনার জের ধরে আলম ব্যাপারীর নেতৃত্বে রুম্মান, আলাউদ্দিন ব্যাপারী ও নাজমা বেগম হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় জাহানারা বেগমের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং অলিউর রহমানও আহত হন।

আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা দেন।

তবে অভিযুক্ত আলম ব্যাপারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বাড়িতে তারা হামলা চালিয়েছে। আমি বাধা দিলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাদের নিজেদের আঘাতেই জাহানারা আহত হন।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কমলগঞ্জে গাছে গাছে আমের মুকুল, ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

বাতাসে ভাসছে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা দিচ্ছে আমের মুকুল। মৌমাছিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই কুহুতানে মাতাল করতে আবারও এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। ছোট-বড় আম গাছে ফুটতে শুরু করেছে নতুন মুকুল। মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। যে ঘ্রানে মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।

আবহমান গ্রামবাংলায় সাধারণত আগাম জানান দেয় তার আগমনী বার্তা। তেমনি ঋতুরাজ বসন্ত কমলগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় আম গাছে আমের মুকুল জানান দিচ্ছে মধু মাসের আগমনী বার্তার।

কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সরেজমিন দেখা যায়, থানার পাশে, বাড়ির আঙ্গিনায়, পুকুরপারে রাস্তার কিনারে সর্বত্রই আম গাছগুলো তার মুকুল নিয়ে হলুদ রঙ ধারণ করতে চলেছে। ধীরে-ধীরে আমের মুকুলে ছেয়ে যাচ্ছে গাছের প্রতিটি ডাল। সৌন্দর্য বাড়তে শুরু করেছে প্রকৃতির।

স্থানীয়রা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে বসন্তের আগেই আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। তবে মাঘ মাস শেষ। ফাল্গুন মাসের শুরুতে প্রতিটি গাছে পুরোপুরিভাবে মুকুল ফুটতে শুরু হয়েছে। তারা আরও জানান, এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ না হলেও স্থানীয়রা বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে বিভিন্ন প্রকার চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করে থাকেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, আমের মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা। কুয়াশার কারণে আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। তবে আমের মুকুল আগে পরে যে আবহাওয়া প্রয়োজন তা এখনো বিরাজমান রয়েছে। এবার আবহাওয়ার কারণে আম গাছে আগাম মুকুল এসেছে। ভালোভাবে পরিচর্যা করা হলে ফলন ভালো হবে।

কমলগঞ্জ পৌর শহরের তানিম হাসান বলেন, ‘ফাল্গুন মাসের প্রথম দিকে আম গাছে আমের মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। এবার আমের মুকুল অন্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি ফুটেছে। বৃষ্টির জন্য অনেক মুকুল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।’

ভানুগাছ বাজারের সালমা বেগম বলেন, ‘অন্যবারের চেয়ে কিছুটা আগে এসেছে মুকুল। মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়েন্ত কুমার রায় জানান, ‘এবার গরমের আগেই চলে এসেছে গাছে মুকুল। কিছু কিছু গাছে মাথা ফাটছে। আবার কিছু কিছু গাছে মুকুল এসেছে। কমলগঞ্জের আমের নির্ধারিত কোন বাগান নাই। যাই আছে ব্যক্তিগত। যদি কেউ বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ করার আগ্রহী থাকে, তাকে উপজেলা কৃষি অফিস সুপরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।’


সাঁথিয়ায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার সাঁথিয়ায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল গফুর (৭০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের খয়েরবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি খয়েরবাড়িয়া গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে এবং চার জনকে আটক করেছেন পুলিশ। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খয়েরবাড়িয়া গ্রামের আবু তালেবের ছেলে ময়েন উদ্দিন(৪৫) দীর্ঘদিন এলাকায় মাদক ব্যবসা করে আসছে। ঘটনার আগের দিন বুধবার নিহত আব্দুল গফুরের ছেলে আলমের সাথে টাকা ধার নেওয়া নিয়ে ময়েনের ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়েন তার লোকজন নিয়ে আলমের বাড়ীতে যায়। কথাকাটা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আলমের পিতা আব্দুল গফুর (৭০), মৃত- আবুল হোসেন এর ছেলে মানিক হোসেন(৪৩),আবু তালেব এর ছেলে ময়েন উদ্দিন (৪৫), সেলিম এর স্ত্রী ময়ুরী খাতুন (৩৪) আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল গফুরকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মানিক হোসেনকে পাবনা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ময়েন উদ্দিন(৪৫), তার স্ত্রী রেশমা খাতুন (৩৪), মানিক হোসেন (৪৩) ও সজিব হোসেন(২৫) কে থানা পুলিশ আটক করেছে।

নিহত আব্দুল গফুরের ছেলে আলম জানান, ময়েন আমার নিকট থেকে আগে একবার টাকা ধার নিয়ে আর দেয়নি। এরপর আবার টাকা ধার চেয়েছিল আমি টাকা ধার না দেওয়ায় তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার ময়েন আমাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং মারধর করে আমার বাবাকে হত্যা করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

সাঁথিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, টাকা পয়সা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে আব্দুল গফুর নামে ওই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩জনকে আটক করা হয়েছে।


এলপিজির দাম বৃদ্ধিতে শরণখোলায় রান্নায় ব্যবহার হচ্ছে জ্বালানির কাঠ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। গ্যাসের বিকল্প জ্বালানির সন্ধানে অনেকেই ঝুঁকছেন কাঠের দিকে, ফলে আশপাশের বন ও গাছপালা কাটার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হিরু জমাদ্দার জানান, কয়েক মাস আগেও যে সিলিন্ডার সহজে কেনা যেত, এখন তার দাম বেড়ে যাওয়ায় নিয়মিত গ্যাস ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। তাই রান্না ও দৈনন্দিন কাজে লাকড়িই প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।

সাহেলা বেগম নামে আরেকজন গৃহিণী বলেন, ‘গ্যাস কিনতে গেলে সংসারের অন্য খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে কাঠ ব্যবহার করছি।’ পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে বনজসম্পদ দ্রুত হ্রাস পাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। তারা সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত ও সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।


নেত্রকোনা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং, ফুটপাত দখলমুক্ত ও উচ্ছেদ অভিযান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

পবিত্র মাহে রমজান মাসকে সামনে রেখে নেত্রকোনা জেলা ও পৌর প্রশাসন উদ্যোগে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ বাজার মনিটরিং ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম এবং পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) নেত্রকোনা স্বজল কুমার সরকার, নেত্রকোনা সদর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা বিনতে রফিক, নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ওসি মো. -আল মামুন সরকার। অভিযানটি পৌরসভার সামনের সড়ক থেকে শুরু করে মাছ বাজার, তেরী বাজার ও ছোট বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচালিত হয়।

সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখা, ভেজাল ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধ এবং এ সময় বিভিন্ন দোকানে মূল্যতালিকা টাঙানো আছে কিনা তা যাচাই করা হয় এবং নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে পণ্য বিক্রি না করার জন্য ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারির কথা জানানো হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানপাট অপসারণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা ও জনদুর্ভোগ কমাতে নিয়মিত বাজার তদারকি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুলিশের নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের বাজার মনিটরিং ও দখলমুক্ত অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।


রমজানে সঠিক তদারকির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। সেই অনুযায়ী আমরা সর্বোচ্চ প্রদক্ষেপ নিচ্ছি। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতেও মনিটরিং করা হচ্ছে। আশা করি, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবো।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।

নিম্ন আয়ের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি জায়গায় ন্যায্যমূল্যে মাংস, দুধ, ডিম বিক্রি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এটি জেলা পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়া হবে, বলেন প্রতিমন্ত্রী।

রমজানে নিত্যপণ্যের বাড়তি চাহিদা নিয়ে তিনি বলেন, রমজানে প্রয়োজনীয় সব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ আছে, কোথাও কোনো ঘাটতি নেই। সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে। এতে সবার সার্বিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।

এছাড়া মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাংমুক্ত নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়াসহ সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সবার সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউর রহমান আজাদ, সাবেক সভাপতি জাফর আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নিজ জেলা টাঙ্গাইলে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।


নকলের মতো মাদক-সন্ত্রাস-কিশোর গ্যাংমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে : শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁদপুর প্রতিনিধি

নকল দূরীকরণের ন্যায় মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংমুক্ত দেশ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এহছানুল হক মিলন বলেন, কচুয়া উপজেলা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও ইভটিজিংমুক্ত করা হবে। যেভাবে কচুয়া থেকে নকলমুক্ত এর যাত্রা শুরু হয়েছিল, ঠিক সেভাবে যাত্রা শুরু হবে। দুর্নীতিমুক্ত এর যাত্রাও কচুয়া থেকে শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এসব বাস্তবায়ন করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ তিনি নিজ এলাকা চাঁদপুরের কচুয়ায় উপস্থিত হন।

এ সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসানসহ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে : অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম পোর্টের কার্যক্রম উন্নত করতে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম পোর্টের কার্যক্রম আরো উন্নততর করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের মাধ্যমেই তো বাণিজ্যিক রাজধানী হবে। আমাদেরকে সেদিকে হাঁটতে হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজ জেলা চট্টগ্রামে আসেন তিনি। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার চট্টগ্রামে আসার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভালো লাগছে। আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে এসেছি। একটি নির্বাচিত সংসদ, সরকার হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে খসরু বলেন, ‘অনেক পরিকল্পনা আছে। এগুলো তো এক কথায় বলা যাবে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কর্মসংস্থান। আমরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে সব কাজ করব।’

বিমানবন্দরে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, নগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা, নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলমসহ নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতারা তাকে স্বাগত জানান।

চট্টগ্রাম সফরে তিনি নগরের আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলীর নাজির বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবর জিয়ারত এবং কদমতলী মাদারবাড়ী জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের কর্মসূচি রয়েছে।

দুপুরের পর নগরের মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করবেন তিনি। বিকেল তিনটায় একই স্থানে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে বন্দর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরে রাত ৮টা ২৫ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তার।


সড়কে চাঁদাবাজির সুযোগ নেই: পানি সম্পদ মন্ত্রী

পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

সারাদেশের সড়কে চাঁদাবাজির সুযোগ নেই বলে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সড়কে চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ উঠলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

লক্ষ্মীপুরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে বৃহত্তর নোয়াখালীর আওতায় একটি নতুন প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। এ্যানি চৌধুরী বলেন, লক্ষ্মীপুরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য ইতিমধ্যে বৃহত্তর নোয়াখালীর মধ্যে একটি নতুন প্রকল্প- ভুলুয়া নদী খনন এবং রহমতখালী খান পুনঃখনন। আমরা যদি এ প্রকল্পটি হাতে নিতে পারি লক্ষ্মীপুরে যে জলাবদ্ধতা-ব্যাধি দীর্ঘদিনের মানুষের যেই কষ্টের জায়গা, সেখান থেকে আমরা মুক্ত হতে সক্ষম হবো।

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প আমরা গ্রহণ করার ইচ্ছে রয়েছে, আমরা সেই দিকেই নজর দিচ্ছি। মেঘনা নদী ও রহমতখালী খাল পাড়ে ভাঙন রয়েছে, পিজিভিলিটি স্ট্যাডির মাধ্যমে তা সমাধান করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী খাল খনন করা হবে। ১৮০ দিনের কর্মসূচি মধ্যে সর্বোচ্চ সেটা করা হবে। খুব শিগগিরই খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে। সেটার মধ্যে লক্ষ্মীপুরও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার রাতে নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরে পৌঁছান তিনি। সকালে সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এর আগে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।


গোলপাতার খেতে মিলল বৃদ্ধের রক্তাক্ত মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল সদর উপজেলায় গোলপাতার একটি খেতে এক বৃদ্ধের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী (৬১)। গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামের বাদামতলা এলাকায় বসুরহাট-কাশিপুর বাজার সড়কের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, সড়কের উত্তর পাশে একটি গোলপাতার খেতে দেলোয়ার হোসেনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত দেলোয়ার হোসেন বরিশাল সদর উপজেলার উত্তর কড়াপুরের বসুরহাট এলাকার মৃত নজির চৌধুরীর ছেলে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তার মাথার বামপাশে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, গত বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত সোয়া ৯টার মধ্যে যে কোনো সময় হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।


গাজীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে পুলিশ সদস্য আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে কাটা পড়ে ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের এস আই এর হাত এবং পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মো. কাইয়ুম আলী। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের ৪ নম্বর লাইনে ঢাকাগামী চাপাই এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে রেঞ্জের গাজীপুর জেলায় কর্মরত এসআই (স.) হাবিবের ডান হাত এবং পা কাটা পড়ে।

জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. কাইয়ুম আলী গণমাধ্যমকে জানান, এস আই হাবিব ফোনে কথা বলছিলেন। ওই সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘চাপাই এক্সপ্রেস’ ট্রেনে কাটা পড়ে পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পর স্টেশনে কর্তব্যরত অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


মেঘনার ডুবোচরে অবৈধ ঘেরের জাল ও খুঁটি জব্দ, আটক ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হিজলা (বরিশাল) প্রতিনিধি 

মেঘনা নদীর বরিশালের হিজলা উপজেলায় একটি ডুবোচর ঘিরে অবৈধভাবে মাছ নিধনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ঘেরজাল ও খুঁটি জব্দ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌপুলিশ। এ সময় তিন জেলেকে আটক করা হয়েছে।

জানা গেছে, হিজলা উপজেলার লঞ্চঘাট সংলগ্ন মেঘনার একটি ডুবোচর কৌশলে ঘেরজাল দিয়ে আটকে কিছু অসাধু জেলে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরছিলেন। এতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছিল, যা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সমীর কুমার বসাকের নেতৃত্বে মৎস্য অধিদপ্তর ও হিজলা নৌপুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রায় দুই হাজার খুঁটি, বিপুল পরিমাণ অবৈধ ঘেরজাল এবং দুটি ট্রলার জব্দ করা হয়।


ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগঞ্জের মুড়ি ভাজার কারিগর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

রোজার মাস মানেই সিরাজগঞ্জের কালিয়া গ্রামে মুড়ি ভাজার কারিগরদের জন্য ব্যস্ততার চরম সময়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের ঘরে-ঘরে, বাড়ি-ঘরে ভেজা মুড়ির খোঁজ চলে। এই সময়, ছোট্ট গ্রামে তৈরি মুড়ি শহরের বাজার থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী গ্রামে মানুষের মুখে পৌঁছে যায়।

অনিকা সাহা, একসময় ঘরে বসেই পরিবারের খাবার-দাবার যোগাড় করতেন, আজ কালিয়া গ্রামের মুড়ি ভাজার কারিগরদের অন্যতম। তিনি বলেন, সারা বছরই আমাদের কাজ থাকে, তবে রোজার সময় ব্যস্ততা দ্বিগুণ। মানুষ এসেই তাদের চাল নিয়ে মুড়ি ভেজে নেয়। কেউ কেউ আগেভাগে জানিয়ে যায় যাতে আমরা তাদের জন্য মুড়ি প্রস্তুত রাখি।

শান্তা রানী সাহা আরও জানান, এই ব্যবসার মাধ্যমে আমাদের পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, সংসারের দৈনন্দিন খরচ সবই মেটানো সম্ভব হচ্ছে। এক যুগ ধরে আমরা এই ব্যবসা করি। পুরনো আর্থিক সমস্যার অনেকটাই এভাবেই দূর হয়েছে।

মুড়ি ভাজার এই ছোট্ট কারখানায় প্রতিদিন নানা মানুষের দেখা মেলে। আবুল হোসেন জানিয়েছেন, আমি প্রতিদিন অন্তত ২০ কেজি চাল মুড়ি ভাজার জন্য নিয়ে আসি। নিজের জন্য এবং আত্মীয়স্বজনের জন্য। প্রতি কেজি চালের জন্য মুজুরি হিসেবে ৩০ টাকা দিতে হয়।

সিরাজগঞ্জ শহরের রায়পুর মহল্লার আব্দুস ছামাদ বলেন, বাজারের মুড়িতে নানা কেমিক্যাল মিশানো থাকে, যা স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। কালিয়া গ্রামের কারিগররা আমাদের সামনে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মুড়ি ভেজে দিচ্ছে। তাই এখানে সবাই ভরসা করে আসে।

মুড়ি ভাজার এই প্রথা শুধু আর্থিক জীবিকা নয়, এটি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কারিগরদের সম্পর্ককেও দৃঢ় করে। সকাল থেকে রাত, রোজা-রোজার মধ্যে ব্যস্ততায় তারা কাজ করে চলেছেন, আর তার বিনিময়ে তাদের ঘরে এসেছে অর্থ, পরিবারের আনন্দ এবং গ্রামের সুস্বাদু মুড়ির গন্ধ।


banner close