শনিবার, ৯ মে ২০২৬
২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

উপহার পাওয়া গাড়ি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বানাবেন হিরো আলম 

উপহার পাওয়া গাড়ি নিতে মঙ্গলবার হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পৌঁছান হিরো আলম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৪৪
প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ
প্রকাশিত : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৪০

বগুড়া-৪ আসনের উপনির্বাচনের আগের দিন ফেসবুক লাইভে এসে হিরো আলমকে নিজের ব্যবহৃত গাড়ি উপহার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার নরপতি গ্রামের এম মুখলিছুর রহমান। মঙ্গলবার গাড়ি নিতে এসে হিরো আলম জানিয়েছেন, উপহারে পাওয়া গাড়িটি ব্যবহৃত হবে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে।

হিরো আলম বলেন, ‘অনেক অসহায় ও গরীব রোগী আছেন যারা টাকার অভাবে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে যেতে পারেন না। উপহারের এই নোয়া গাড়িটি তাই আমি তাদের সেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স বানাব। এ গাড়িতে আমি বসব না।’

বগুড়া-৪ আসনের উপনির্বাচনে হেরে যাওয়া এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, ‘আমি হিরো আলম, হিরোই থাকব। কেউ জিরো বানাতে পারবে না। আমার উদ্দেশ্য সৎ, তাই কোনো অপশক্তি আমাকে গ্রাস করতে পারবে না।’

মঙ্গলবার দুপুরে মুখলিছুর রহমানের বাড়িতে উপস্থিত হন হিরো আলম। গত ৩১ জানুয়ারি হিরো আলমকে গাড়ি উপহার দেবেন বলে ফেসবুকে এসে লাইভ করেন কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ এম মুখলিছুর রহমান। ভিডিওটি ব্যাপক ভাইরাল হয়। বিষয়টি পৌঁছায় হিরো আলমের কানেও। গণমাধ্যমেও আসে এই সংবাদ। পরে গাড়ি দিতে গড়িমসি করছেন মুখলিছুর রহমান, এমন সংবাদ প্রকাশ হলে মুখলিছুর রহমান আবারও ফেসবুকে লাইভ করেন, তিনি গাড়ি দেয়ার জন্য অপেক্ষায় আছেন। পরে মঙ্গলবার চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হিরো আলম।

গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন হিরো আলম। নির্বাচনে একতারা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ৮৩৪ ভোটে হেরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন তিনি। রাজনীতির মাঠেও আলোচনায় আছেন এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর।


জন্মের পর ছেলেকে কোলে নিতে পারেনি, ১৬ দিন পর কফিনবন্দীতে এলো মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

আকামা শেষ করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল মুরাদের। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রেখে তার স্বামী সৌদি আরব যান। ছেলের জন্মের পর বাবা তাকে কোলেও নিতে পারেননি, আহাজারি করে সেই কথাই বলছিলেন সৌদি আরবের জুবাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মুরাদ হোসেনের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন।

কাঁদতে কাঁদতে তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বলতো, তাড়াতাড়ি বাড়ি আসব, আমার বাবাকে কোলে তুলে নিব।’

বড় মেয়ে মাইশা খাতুন বলেন, ‘দুর্ঘটনার দুই ঘণ্টা আগে বাবার সঙ্গে তার ফোনে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ভালোভাবে কথা শোনা যাচ্ছিল না। বাবা বলেছিলেন, পরে ফোনে কথা বলবে। সেই কথা আর বলা হয়নি।’

নিহত মুরাদ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ৬নং ওয়ার্ড দরাপের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের ছেলে।

দীর্ঘ ১৬ দিন পর শনিবার (৯ মে) ভোর সাড়ে ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় তার মরদেহ। গতকালই ১১টায় উজানচর দুদুখান পাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকাল ৯টায় মুরাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে বাড়িসহ চারপাশের আকাশ কান্নায় ভারী হয়ে উঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাড়িতে মুরাদের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, দুটি শিশু কন্যা ও ১০ মাস বয়সী একজন পুত্র সন্তান রয়েছে। মুরাদের মরদেহ দেশে আনতে পরিবারের অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের অ্যাম্বেসীতে যোগাযোগ করে অবশেষে দীর্ঘ ১৬ দিন পর মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।

আরও জানা যায়, সৌদি আরবে বসবাসরত গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া তোরাপ শেখের পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসাইন যোগাযোগ ও অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে মুরাদের মরদেহ দেশে পাঠান। এ ছাড়াও অনেক প্রবাসী মুরাদের মরদেহ দেশে পাঠাতে সহযোগিতা করেছেন। মুরাদের পরিবার তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

মুরাদের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিলেন মুরাদ। তার মৃত্যুতে স্ত্রী ও তিন সন্তান অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে সকলকে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।’

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মুরাদ শেখ (৩৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।


লামায় পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

লামায় পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে উদ্যোক্তা-চাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নে লামায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে উদ্যোক্তা-চাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ‘এক জেলা, এক পণ্য’ কর্মসূচির আওতায় গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার সরই ইউনিয়নের ক্যায়াজুপাড়াস্থ মেরিডিয়ান অ্যাগ্রো সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ প্রধান অতিথি ছিলেন। মেরিডিয়ান অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান কোহিনূর কামালের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক বেবী রানী কর্মকার, পরিচালক কুমকুম সুলতানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুবল চাকমা প্রমুখ।

এতে আধুনিক কৃষিপণ্য চাষ পদ্ধতি ও বাগান ব্যবস্থাপনা, ফল সংগ্রহ, গ্রেডিং, হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পরিচালনা ও প্যাকেজিং পদ্ধতির ওপর বিস্তারিত ধারণা দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা।

এ সময় বাংলাদেশ রাবার বাগান মালিক সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন ও মেরিডিয়ান অ্যাগ্রোর সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ কলিম উদ্দিন রপ্তানি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, বাজারজাতকরণ, ক্রেতার উৎস্য ও রপ্তানি বাজার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাগান উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক এবং কৃষকরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।


মধুপুর গড়ে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ফসল আনারস ঘিরে শিল্পকারখানা না থাকায় ন্যায্য দাম পাচ্ছে না কৃষকরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

লাল মাটির মধুপুর গড়ের নাম শুনলেই মনে হয় শালবন আর আনারসের কথা। গড় এলাকার মাটি আবহাওয়া ভূপ্রকৃতি কৃষি ফসলের জন্য বিশেষ উপযোগী। সমতল ও উঁচু স্থান হওয়ায় বন্যার পানি ওঠে না। গড়ের পুরো এলাকা বন থেকে বিস্তর এলাকাজুড়ে এঁকে বেঁকে বয়ে গেছে বাইদ ছোট ছোট নালা। যে কারণে জলাবদ্ধতাও তেমন হয় না। যে কারণে আনারস কলাসহ নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় কৃষি ফসল চাষের অপার সম্বাবনা রয়েছে। মাটির গুণের কারণে ফসলও ভালো হয়। দেশের অন্যতম একটি ফলের নাম আনারস।

সারাদেশ ও দেশের বাইরেও রয়েছে এ ফলের সুনাম যশ খ্যাতি। সারাদেশে সমাগম ঘটে থাকে আনারসের। কিন্তু আনারসকেন্দ্রিক কোনো শিল্পকারখানা গড়ে না ওঠায় চাষিরা তাদের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না বলে জানালেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি মধুপুর আনারসের শিল্পকারখানা হলে জুস জেলিসহ পণ্য দেশ ও বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে বলে মনে করেন তারা। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মধুপুরের ভাবমূর্তি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে এমনটাই ধারণা স্থানীয়দের।

ঘাটাইলের আনোয়ার হোসেন জানান, মধুপুরের আনারেসর কারখানা হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আনারস নষ্ট হবে না। কারখানার কাঁচামালের সহজলভ্যতা হবে। পরিবহন খরচ কমে যাবে না। এতে চাষিরা তাদের উৎপাদিত আনারসের ন্যায্য দাম পাবে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মধুপুরে আনারস আবাদের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। গড় (উঁচু) এলাকার আউশনারা ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের গারো নারী ভেরেনা সাংমা ষাটের দশকের শেষ দিকে গিয়েছিলেন ভারতের মেঘালয়ে। সেখানে প্রচুর আনারস হয়। তিনি কয়েকটি জায়ান্টকিউ জাতের আনারসের চারা নিয়ে আসেন। বাড়িতে রোপণ করেন। প্রথমবারেই ভালো ফলন হয়। খেতেও সুস্বাদু ছিল। পরে আরও বেশি জমিতে আনারস আবাদ করেন। তার দেখাদেখি অন্যরাও আনারসের আবাদ করতে থাকে। এভাবে তার মাধ্যমেই আনারস চাষের যাত্রা শুরু। জায়ান্টকিউর পাশাপাশি গত কয়েক বছর জলডুগিও হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলের আনারস জলডুগি।

গারো বাজারের কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, আনারস যদি সারা বছর পাওয়া যায় তাহলে ভোক্তারা ক্রয় করতে চায় না। আকর্ষণ কমে যায়। আবার সারা বছর চাষ করতে গেলে কেমিক্যাল প্রয়োগ করতে হবে। তার মতে, দেশের মানুষের খাদ্যভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য তিনি শিল্পকারখানা স্থাপনের গুরুত্ব দেন। যখন আনারস বেশি পেকে যায় তখন যেন প্রক্রিয়াজাত করা যায়, সে জন্য শিল্পকারখানা স্থাপন দরকার বলে তিনি মনে করেন।

কৃষক আরশেদ আলী জানান, আনারসের বাজার ব্যবস্থা, সিন্ডিকেট ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা না থাকাসহ নানা কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গ্যাস সংযোগ থাকলে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিক আনারসের ন্যায্য দাম পেত বলে তিনি জানান, এতে করে মধুপুরের ভাবমূর্তি আরও বেড়ে যেত, হতে পারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। সিন্ডিকেট বিপণন ব্যবস্থা ভালো হতো।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুবায়ের হোসেন জানান, মধুপুরে আনারস চাষ হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। তার মতে, শিল্পকারখানা আরও আগেই হওয়ার দরকার ছিল বলে তিনি মনে করেন। কারখানা হলে জুস, জেলি, বিস্কুট, জেমসহ নানা প্রোডাক্ট তৈরি করা যাবে। শিল্পকারখানা হলে অনেক বেকার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে তিনি মনে করেন। এর পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আনারসের ন্যায্য দাম পেত বলে জানান।

মধুপুর গড়ের মধুপুর ফুলবাড়িয়া, মুক্তাগাছা, ঘাটাইল, সখিপুরসহ আশপাশের উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষ হয় রসালো ফল আনারস। খরচের তুলনায় লাভের মুখ দেখা বর্তমান সময়ে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আনারসের ঐতিহ্যসহ চাষিদের লাভ এবং দেশ বিদেশে আনারসের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করতে পারলে কৃষকরা হবে লাভবান। আর দেশ পাবে বৈদেশিক মুদ্রা। তাই স্থানীয় কৃষকরা মধুপুরে আনারসকেন্দ্রিক শিল্পকারখানা স্থাপনের দাবি জানিয়েছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে মধুপুরে ৬ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমিতে আনারস আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৪ হেক্টরে জলডুগি এবং ৬ হাজার ১২৫ হেক্টরে ক্যালেন্ডার প্রজাতির আনারস আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে এমডি-টু জাতের আনারস আবাদ শুরু হয়েছে। এ বছর ৫০০ কোটি টাকার আনারসের বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পকারখানা গড়ে ওঠলে জুস, জেলি, চকোলেট নানা পণ্য তৈরি হবে।’ এতে চাহিদা বাড়বে, কৃষকরা আরও বেশি দাম পাবে এমনটাই মনে করেন তিনি।


বগুড়ায় নবজাতককে গলা কেটে হত্যা, মা-বাবা গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়া সদরে নবজাতককে গলা কেটে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে মা ও তার বাবার বিরুদ্ধে। শনিবার (৯ মে) উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা গ্রামের উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে বগুড়া সদরের নারুলী এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে শুকুর আলীর সঙ্গে গাবতলী উপজেলার উঞ্চুরখী এলাকার নিপার বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে চলতি বছরের মার্চ মাসে বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের নুর আলমের ছেলে দুলালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নিপা।

গত শুক্রবার (৮ মে) রাতে নিপা একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। পরে লোকলজ্জার ভয়ে নবজাতকে হত্যা করে মরদেহ বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। গতকাল শনিবার দুপুরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নিপা ও তার বর্তমান স্বামী দুলালকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, এমন নির্মম ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামোর ৩৬ কোটি টাকার কাজের টেন্ডারে অনিয়ম, তদন্তের নির্দেশ প্রধান প্রকৌশলীর

আপডেটেড ৯ মে, ২০২৬ ১৯:৩৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আওয়ামী লীগ দোসর আত্মীয়-স্বজনের নামে কাজ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের এপিএস তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন এমন অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন। প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলামকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) তদন্ত শুরু হবে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে ২৩ জুন বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশল হিসেবে মো. মেহেদী হাসান খান যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি আওয়ামী লীগ দোসরদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পরেছেন। ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজসে তিনি কামিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা এমন অভিযোগ ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের।

জলবায়ু প্রকল্পের খাল খননে অনিয়ম হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো প্রকল্পের টাকা ছাড় করে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে গত মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬ কোটি দরপত্র আহ্বান করে। এ দরপত্রে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গত ২০ এপ্রিল পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম ও অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে ওই কাজ পাইয়ে দেয় নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খাঁনসহ তিন প্রকৌশলী এমন অভিযোগ ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের। আগামী ১৪ মে এ টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কাজ শুরু হবে বলে জানান এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম। তিনি তদন্ত করতে নোটিশ করেছেন। বরগুনা এলজিইডির রেস্ট হাউসে তদন্ত করবেন তিনি।

এ টেন্ডার কার্যক্রমের অনিয়মের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাজ পাইয়ে দেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সকলেই আওয়ামী লীগের দোসর এবং নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন প্রকৌশলীর আত্মীয়-স্বজন।

নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের নিকটাত্মীয় বরিশাল এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স, শেখ সেলিমের ভাগনে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস নুর কনস্ট্রাকশন, সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর নিকটাত্মীয় নড়াইল জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেলিন-দিপ (জয়েন্ট বেঞ্চার) এসএম লেলিন ট্রেডার্স, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল গাইনের নিকটাত্মীয় ঝিনাইদহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিশিত বসু ট্রেডার্স।

এ ছাড়া আমতলী-তালতলী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির সংস্কারকাজে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ টাকা নিয়ে ঠিকাদারদের দিয়ে দায়সারা কাজ করিয়ে তাদের বরাদ্দ টাকা ছাড় দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন।

তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহের দুর্নীতির চিত্র। গুলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মসজিদ সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু ঠিকাদার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। বিষয়টি বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসানকে জানানো হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’ খুরিয়ার খেয়াঘাট সবুর গাজী চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদার মাত্র এক লাখ টাকার কাজ করেছেন। বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি; কিন্তু তিনি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাতো নেননি উল্টো ঠিকাদার যা করেছেন তাই মেনে নেওয়ার নির্দেশ দেন।’ কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার বলেন, ‘ঢালাই দেওয়ার পরে সড়ক থেকে পিচ ওঠে গেছে; কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেনেও অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।’

ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, ‘বরগুনা জেলা স্থানীয় সরকার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল গাইন ও গ্রামীণ অবকাঠামোর প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজসে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আমতলী-তালতলীর ৩৬ কোটি টাকার কাজ ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের নিকটাত্মীয় ও আওয়ামী লীগ দোসরদের দিয়েছেন।’

এ দরপত্রে তারা মোটা অংকের ঘুস নিয়ে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। তদন্ত করলেই তাদের দুর্নীতির বাস্তব চিত্র বেড়িয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১৪ মে তদন্ত কাজ শুরু হবে । তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে নোটিশ দিয়েছেন।’ বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খাঁন বলেন, ‘কেন অভিযোগ দিয়েছেন তা যিনি অভিযোগ দিয়েছেন তিনিই বলতে পারবেন? আমি টেন্ডার প্রক্রিয়ার কোনো অনিয়ম করিনি।’ এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম মুঠোফোন বলেন, ‘তদন্ত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ মে তদন্ত কাজ শুরু হবে।’


রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত রিয়াদ রশিদের পরিবারে শোকের মাতম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহত রিয়াদ রশিদ (২৮) উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রশিদের ছেলে। তার মৃত্যুতে আহাজারি করছেন স্বজনরা।

গত শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টায় নিহত রিয়াদ রশিদের বন্ধু লিমন দত্ত ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে এ মৃত্যুর সংবাদ জানান। লিমন দত্ত রাশিয়াতে রিয়াদের সাথে সেনাবাহিনীর একই ক্যাম্পে চাকরি করেন। তার বাড়ি নরসিংদী জেলায়।

লিমন দত্ত জানান, রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে গত ২ এপ্রিল। এ ঘটনায় দুজন বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরিয়ান সৈন্য নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন। হামলায় লিমন দত্ত নিজেও একটি পা হারিয়ে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি রিয়াদ রশিদের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারকে জানান।

রিয়াদ রশিদের চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ রিয়াদ রশিদ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি কোম্পানির চাকরি করতে রাশিয়াতে গমন করেন। গত এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে রিয়াদ রশিদসহ আরও অনেক বাংলাদেশি যোগদান করেন। রিয়াদ রশিদের ব্যাচ নম্বর হচ্ছে ৭৩৫।’

তিনি আরও জানান, রিয়াদ রশিদের সাথে পরিবারের শেষ কথা হয় গত ২৮ এপ্রিল। আর ম্যাসেঞ্জারে তাকে অনলাইনে দেখা গেছে ২৯ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত। রিয়াদ রশিদের মরদেহের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় কী করণীয় কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।

রিয়াদ রশিদের বাবা জাফরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আব্দুর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে যোগদানের কথা আমাকে জানায়নি। জানলে আমি আমার ছেলেকে কখনোই যোগদান করতে দিতাম না। ছেলের মরদেহের সন্ধান পাচ্ছি না। ড্রোন হামলায় নাকি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বাবা হিসেবে এ কষ্ট কেমন করে সহ্য করব?’

জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, ‘রিয়াদ রশিদ খুবই ভালো ছেলে। সবার সাথে তার সম্পর্ক ছিল। ঘটনাটি জানার পর তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরিবারে শোকের মাতম চলছে।’

করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো. এমরানুল কবির বলেন, ‘পুলিশ নিহত রিয়াদ রশিদের বাড়িতে গিয়েছিল। পরিবারের সদস্যের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।’


৩৭ লাখ টাকার ভবনে নেই সিঁড়ি! 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার তালতলা সপ্তপল্লী উচ্চবিদ্যালয়ে প্রায় ৪ বছর আগে ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় দুই তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন। তবে ভবনটির দোতলায় ওঠার জন্য তৈরি করা হয়নি কোনো সিঁড়ি। ফলে দোতলার কক্ষগুলো পড়ে আছে অকার্যকর অবস্থায়। বাধ্য হয়ে নিচতলায় গাদাগাদি করে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।

বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, দোতলাবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণে জেলা পরিষদ থেকে ৪ দফায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ লাখ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে আরও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মোট ৩৭ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মূল কাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও অত্যাবশকীয় অবকাঠামো—দোতলায় ওঠার সিঁড়ি—নির্মাণ করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় ক্লাস চললেও দ্বিতীয়তলা পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে নিচতলায় গাদাগাদি করে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই কক্ষে অস্থায়ী পার্টিশন দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, যা পাঠদানের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে অনেক সময় ঠিকমতো বসার সুযোগও থাকে না। দোতলায় কক্ষ থাকা সত্ত্বেও সিঁড়ি না থাকায় তা ব্যবহার করতে না পারায় তাদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

এদিকে শিক্ষকদের অভিযোগ, শুধু ভবন সংকটই নয়—বিদ্যালয়ে নেই খাবার কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা। পাশাপাশি খেলার মাঠটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে কাদায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়, ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ বন্ধু রায় বলেন, ‘জেলা পরিষদের বরাদ্দে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সিঁড়ি না থাকায় শিক্ষার্থীরা সেটি ব্যবহার করতে পারছে না। দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে সিঁড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।’

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘ধাপে ধাপে বরাদ্দ নেওয়ায় এমনটি হয়েছে হয়তো। এককালীন বরাদ্দ হলে এটা ঘটত না। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিঁড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়—তা যেন ব্যবহারযোগ্য হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। তাই দ্রুত সিঁড়ি নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন একটি স্কুল ভবন তৈরি হলো তার কোনো সিঁড়ি থাকবে না এটা কেমন কথা? তাহলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কীভাবে সেখানে প্রবেশ করবে এ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ!


তিন সন্তানকে বাঁচিয়ে আগুনে পুড়ে মারা গেলেন স্বামী–স্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দোহার প্রতিনিধি

ঢাকার দোহারের বিলাশপুর রাধানগর গ্রামে আগুনে পুড়ে স্বামী–স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, গতকাল গভীর রাতে হঠাৎ আবদুস সালাম শিকদার ও নাসিমা বেগম দম্পতির বাড়িতে আগুন লাগে। এ সময় তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। তাঁরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এই দম্পতি তিন সন্তানকে নিরাপদে ঘর থেকে বের করেন। তবে নিজেরা আর বের হতে পারেননি। ঘটনাস্থলেই তাঁরা মারা যান।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ভোর চারটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। টিন ও কাঠ দিয়ে বানানো পুরো ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘সালাম ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য প্রক্রিয়া চলছে। তবে ঘটনাটি কী নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’


বরিশালে হামে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১০৮ রোগী, মৃত্যু ২ শিশুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল বিভাগে হাম রোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগজুড়ে নতুন করে ১০৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ১১১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে ৬১ জন রোগী বাড়ি ফিরেছেন। এ সময় হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেবাচিমে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৩ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৭০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত একদিনে ১১ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। একই সময়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মারা যাওয়া শিশুদের একজন মোহাম্মদউল্লাহ (১০ মাস)। তার বাবার নাম মো. আব্বাস। বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার বাদারা এলাকায়। গত ৫ মে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ৮ মে তার মৃত্যু হয়।

অপর শিশুটির নাম আয়শা (৭ মাস)। তার বাবার নাম ইলিয়াস। বাড়ি পটুয়াখালীর পাগলা এলাকায়। গত ১ মে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ৯ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকরা জানান, দুই শিশুই গুরুতর নিউমোনিয়া ও হাম রোগে আক্রান্ত ছিল।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল সদর হাসপাতালে ১৩ জন, পটুয়াখালীতে ২৪ জন, ভোলায় ১০ জন এবং বরগুনায় ১১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ঝালকাঠি ও পিরোজপুরে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে মোট ৪ হাজার ৪৬৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম পাওয়া গেছে। একই সময়ে ২৮ জন সন্দেহজনক এবং ৩ জন নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

এ পর্যন্ত বিভাগে মোট ৪ হাজার ৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে ৩ হাজার ৫৬০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, কাশি, শরীরে লালচে দানা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভাগজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।


কর্ণফুলীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কর্ণফুলী উপজেলায় কোরবানির পশু নিয়ে জমে উঠেছে প্রস্তুতি। গবাদিপশু প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার খামারিরা। তবে এবার স্থানীয় চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি হওয়ায় ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার কর্ণফুলীতে কোরবানির জন্য দেড় হাজারের বেশি ছোট-বড় খামারে প্রায় ৩৩ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও বিপুলসংখ্যক পশু দেশের অন্যান্য এলাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে— ১৪ হাজার ৫২টি ষাঁড়, ৫ হাজার ৮৪৩টি বলদ, ১ হাজার ৯৪৩টি গাভী, ১ হাজার ৬৩৫টি মহিষ, ৮ হাজার ৩৬০টি ছাগল এবং ৫৮৬টি ভেড়া। গত বছর এ এলাকায় কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল প্রায় ২৭ হাজার ৯৬০টি। সে হিসাবে চলতি বছরে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পশুপালনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, “উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতাল থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১০ জন কর্মী নিয়মিত খামারিদের সেবা দিচ্ছেন। এছাড়া কোরবানির পশুর হাটে ১০ সদস্যের মেডিক্যাল টিম ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল দায়িত্ব পালন করবে, যাতে কোনো পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “খামারেই পর্যাপ্ত পশু উৎপাদন হওয়ায় এবার সরবরাহ বেশি থাকবে বলে আশা করছি। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গরু না এলে স্থানীয় খামারিরা ন্যায্য মূল্য ও ভালো মুনাফা পাবেন।”

বিশ্লেষকদের মতে, কোরবানির পশুর হাট দেশের অন্যতম বড় মৌসুমি অর্থনৈতিক কার্যক্রম। এ হাটকে কেন্দ্র করে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল থাকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, “সরকার নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এতে যানজট, জনভোগান্তি ও অনিয়ম কমবে।” তিনি আরও জানান, হাটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। চাঁদাবাজি ও জাল টাকা প্রতিরোধে নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্বেচ্ছাসেবক টিম রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কর্ণফুলীর ফকিনীরহাট, ফাজিলখাঁর হাট, কলেজবাজার ও মইজ্জ্যারটেকসহ স্থানীয় হাটগুলোতেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে এবং দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

অন্যদিকে ক্ষুদ্র খামারি মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, “বছরজুড়ে যত্নে লালন-পালন করা পশু বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছি। যদিও পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য ও চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পশু আসতে শুরু করেছে। তবুও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ্।”

খামারিদের প্রধান দাবি, বাজারে পশুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। তাদের মতে, সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা ও অনুকূল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় থাকলে তারা লাভবান হবেন।

কর্ণফুলী ডেইরী ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ ছালেহ জহুর বলেন, আশা করা যাচ্ছে স্থানীয় খামারিরা তাদের উৎপাদিত পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু সরবরাহ থাকায় শেষ পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।



মেহেরপুরের ১৪০০ কেজির কালু যাবে রাজধানীর হাটে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহেল রানা বাবু, মেহেরপুর প্রতিনিধি 

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মেহেরপুর গাংনীতে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে কালু নামের বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়।

প্রায় ১৪"শ কেজি গরুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন নিজ ও অন‍্য জেলার নানা বয়সী মানুষ।

গাংনী উপজেলার মটমুড়া গ্রামের বাসিন্দা মালোয়েশিয়া প্রবাসী জহুরুল ইসলামের বাড়ির বিশাল দেহের ষাঁড়টি দেখতে।

তবে ষাঁড়টি নিজ সন্তানের মত লালন-পালন করে বড় করেছে তার স্ত্রী হোসনেয়ারা খাতুন।

কালো ও হালকা লাল রঙের মিশেলে গড়া পাকিস্তান শাইহিয়াল জাতের গরুটির শক্তপোক্ত গঠন সহজেই নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।

গৃহবধু হোসনেয়ারার দাবি, শাইহিয়াল জাতের ষাঁড়টির বতর্মান ওজন প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি বা ৩৫ মণ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গরুটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন তার বাড়িতে। কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছেন।

তিনি আরো জানান,কালু জন্ম নেয়ার পর থেকে আড়াই বছর ধরে পরিবারের সদস্যের মতো বড় করা হয়েছে।

কোনো ধরণের ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ছাড়াই ঘাস, তুষ ও চালের গুঁড়া,খৈল,ছেলটি গুড় খাইয়ে লালন-পালন করা হয়েছে।

গরুটির পেছনে বতর্মানে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্রেতা বাড়িতে এসে গরুটি দেখে গেছেন। তবে দামে দরে মেলেনি। আমার দাবি কালুর সাড়ে ৭ ফিট লম্বা,আর উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট। আর খুব শান্ত সভাবের। আমরা এবার কালুকে নিয়ে ঢাকায় যাবো। তবে উপযুক্ত দাম পেলে বাড়ি থেকেই বিক্রি করে দেবো।

প্রতিবেশি আতিয়ার রহমান বলেন, হোশনেয়ারা খুব পরিশ্রমী একটা মেয়ে। ওর স্বামী বিদেশে থাকে অথচ তার বাড়িতে এখন এগারোটা গরু আছে। সব গুলো সে লালন পালন করে। তবে সব গরুগুলোর মধ‍্যে কালো লাল রংয়ের মিশ্রিত বিষাল ষাঁড়। আর তার নাম রেখেছে কালু। ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন লোক আসছে।

শাহাজান আলী বলেন, আমি ও ভাইয়ের সাথে মালোয়েশিয়াই থাকি ঈদ করতে ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। আমার বড় ভাবি আড়াই বছর ধরে কালুকে নিজের সন্তানের মত পেলে বড় করেছে। আমার আসা দশদিন হবে,সে কালুকে খাওয়ানো, গোসল করানো, গরম লাগলে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা সবই করে। তার ভালোবাসার মূল‍্য অর্থ দিয়ে হবে না।

আরেক প্রতিবেশি হাফিজ আলী বলেন, আমাদের এই এলাকায় কালুর মত এতো বড় ষাঁড় আর দ্বিতীয়টি নেই। আমাদের এলাকায় বড় গরুর চাহিদা কম থাকাই,ভালো দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা থিকে। যে কারনে ভালো দাম পেতে কালুকে ঢাকার হাটে তুলবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছোট বড় এক হাজার খামারি রয়েছেন। এ বছর মেহেরপুর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু।

এর মধ্যে ষাঁড় গরু রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৯টি, বলদ চার হাজার ৮৪৪টি এবং গাভি আট হাজার ৫০৯।

এছাড়া মহিষ রয়েছে ৪৮২টি, ছাগল এক লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি এবং ভেড়া দুই হাজার ৭২০টি। জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি পশু। সেই হিসেবে প্রায় ৮২ হাজার ৩৩৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকছে।


হাওর থেকে আমদানি হওয়া ধানের নায্য মূল্য পাচ্ছেন না কৃষক 

আপডেটেড ৯ মে, ২০২৬ ১৪:৪৪
রাজীবুল হাসান, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

চলতি বোরো মৌসুমে হাওরাঞ্চল থেকে আসা নতুন ধানের নায্য মূল্য পাচ্ছেন কৃষকরা। ভৈরবের মোকামে আধা পচা ভেজা ধান নিয়ে বিপাকে আড়ৎদার ও ধানের বেপারিরা।

ভৈরব বাজার মেঘনা নদীর পাড়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাওর থেকে আসা নৌকা বোঝাই করা নতুন ধান শ্রমিকরা মাথায় করে নামাচ্ছেন। মোকামে পর্যাপ্ত ধানের ক্রেতা না থাকায় কয়েক হাজার ধানের বস্তা স্তুপে স্তুপে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তলিয়ে গেছে হাওরাঞ্চলে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর ধানের জমি। এসব ধানের জমি থেকে কৃষকরা ধান কাটার পর বিক্রির জন্য বন্দরনগরী ভৈরব বাজারে নিয়ে আসছে। বৈশাখের শুরুতেই নতুন ধানের দাম অর্ধেক কমে গেছে। দাম কমের কারণে কৃষক ও ধানের বেপারিরা হতাশ।

ভৈরবে প্রতিমণ নতুন ধান বিক্রি হয়েছে ৭৮০/৮০০ টাকায়। অথচ একমাস আগে এখানে প্রতিমণ পুরাতন ধান বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। প্রতিবছর নতুন ধান বাজারে আমদানি হলে দাম কিছুটা কমে যায়। কিন্তু এবার অর্ধেক দাম কমে গেছে বলে জানান স্থানীয় আড়ৎদাররা।

জানা যায়, প্রতি বছর বোরো মৌসুমে হাওরে ধান কাটা শুরু হলে এসব ধান ভৈরব বাজারে আমদানী হয়। তবে গতবারের তুলনায় ভৈরবের আড়ৎতে ধানের আমদানি কমেছে। হাওরের কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ জেলার ৩০টি উপজেলা এলাকা থেকে ট্রলারযোগে কৃষকরা ধান নিয়ে ভৈরবের আড়ৎগুলিতে আমদানী করে থাকে। আড়ৎদারা কৃষকের ধান ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করে। বিগত বছর থেকে এবার ধানের দাম বেশী কমে গেছে বলে জানায় কৃষকরা। গত বছর বৈশাখের শুরুতে প্রতিমণ ধান ৯০০/১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিস্ত এবার শুরুতেই ৭৮০/৮০০ টাকা। নতুন ধানের দাম এত কম হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত। কৃষকরা বলছে এত কম দাম থাকায় ধানের উৎপাদন ব্যয় উঠে আসবে না।

অষ্টগ্রামের কদমচাইল এলাকা থেকে নৌকা বোঝাই করে ধান বিক্রির জন্য ভৈরব মোকামে আসছেন মনির মিয়া। তিনি বলেন, আমাদের নৌকায় দুই হাজার বস্তা নেয়া যায়। কিন্তু উজানের পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ধানের আমদানি কম। মাত্র এক হাজার বস্তা ধান নিয়ে ভৈরব মোকামে বিক্রি করতে আসছেন। কিন্তু বাজারে ধানের নায্য মূল্য পাচ্ছি না।

নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলার কৃষক আবদুর রশিদ বলেন, আমি ধান কাটার পর ১০০ মণ ধান ট্রলারে ভৈরবে আমদানী করার পর ৭৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। এত কম দামে ধান বিক্রিতে উৎপাদন খরচও উঠবেনা। একই কথা বলেন সুনামগঞ্জ থেকে আসা কৃষক রফিক মিয়া। তিনি ২০০ মণ ধান আমদানী করে ৭৬০ টাকা মণ দরে বিক্রি করে এখন হতাশ।

ভৈরব বাজারের আড়ৎদার আলী হোসেন বলেন, হাওরে উজানের পানিতে ধানের জমি তলিয়ে যাওয়ায় মোকামে ধানের আমদানি কম। তবে সেসব ধান মোকামে আমদানী হচ্ছে তা বেশি ভাগই আধাপচা ও ভেজা ধান। কৃষকরা ধান কাটার পর আধা কাচা ধান নিয়ে আসে। মিলাররা কাচা ধান চাল করলে পরতা হয়না। এই কারণে ধানের দাম কম। তবে একমাস আগে পুরাতন ধানের দাম ১৪০০ টাকা মণ ছিল স্বীকার করেন তিনি। ভৈরবে প্রতিদিন ট্রলারে হাজার হাজার মণ ধান হাওর থেকে আমদানী হচ্ছে বলে তিনি জানান। এসব ধান আশুগঞ্জ, মিরকাদিম, নর্থবেঙ্গলসহ স্থানীয় রাইস মিল মালিকরা ক্রয় করছে।

ভৈরব চেম্বারের সভাপতি জাহিদুল হক জাভেদ বলেন, ধানের দাম বেশী কমে গেছে। তবে সরকার ধান ক্রয় শুরু করছে এবং শুকনা ধান আমদানী হলে কয়েকদিনের মধ্য দাম আরও বাড়তে পারে। তিনি আরো বলেন এবার শুরুতেই ধানের দাম কম, তাই কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে।

এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম জানান, হাওরাঞ্চলের কৃষকরা ধান কেটে কাচা ধান বিক্রি করতে ভৈরবে নিয়ে আসে। তবে এবছর টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে ধানের জমি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আধা পচা, আধা কাচা ধান বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন। তাই কৃষক দাম কম পাচ্ছে। শুকনা ধান হলে দাম আরও বেশী পেত। তবে একমণ ধান উৎপাদন করতে ৫০০/৬০০ টাকা কৃষকের খরচ হয়। সরকারি ভাবে কৃষকদের নায্য মূল্যে ধান কেনা শুরু হয়েছে সেখানে ধানের নায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারবেন। কাজেই কৃষকদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলে জানান তিনি।


দর্শনার বেগমপুর ইউপিতে ভুয়া জন্মনিবন্ধন চক্রের সন্ধান, গ্রেপ্তার ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরির একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে প্রশাসন। অভিযানে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রায়হান মাহমুদ (৩৫) ও উদ্যোক্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম (৩০) দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলার নাগরিকদের ভুয়া ঠিকানায় জন্মনিবন্ধন সনদ তৈরি করে আসছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার লোকজনকে বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দেখিয়ে ডিজিটাল জন্মসনদ দেওয়া হতো।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ৭ মে ২০২৬ তারিখে, যখন এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল নম্বরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নামে উপজেলা প্রশাসন এবং সেখানেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

সরেজমিন তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশ্চিত হন, যাদের নামে জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে তারা কেউই বেগমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নন, এমনকি স্থানীয়রাও তাদের চিনেন না। আরও জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত নিবন্ধন আইডি অপব্যবহার করে উদ্যোক্তা আরিফুল ইসলাম নিজেই জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অসদুপায়ে জন্মনিবন্ধন তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভুয়া জন্মসনদ তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুকি তৈরি করতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হিমেল রানা বলেন, ইউএনও মহোদয়ের তদন্ত শেষে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, জন্মনিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবায় এমন জালিয়াতি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, বরং ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনা হবে।



banner close