বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সিলেটে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলা, তর্জন গর্জনই সার

সিলেট নগরে দ্রুত বাড়ছে বহুতল ভবনের সংখ্যা। এর অনেকই গড়ে উঠছে অনুমোদনহীনভাবে এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় না রেখেই। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১১:২১
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১০:৩৮

দেশে ভূমিকম্পের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল সিলেট। একাধিক চ্যুতি সক্রিয় থাকায় সিলেটকে ভূমিকম্পের ‘ডেঞ্জার জোন’ বলে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। গত দুই বছরে সিলেটে অন্তত ১৫ বার ভূমিকম্প হয়েছে। তবে ঝুঁকি থাকলেও তা মোকাবিলায় এখানে নেই কার্যকর উদ্যোগ। কয়েক দফায় উদ্যোগ নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করলেও সেগুলো এখনো রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এসব ভবনে নিয়মিত জনসমাগমও ঘটছে। আটকে আছে বহুতল ভবনের ভূমিকম্পের সহনীয়তা পরীক্ষার উদ্যোগও। ফলে এখন পর্যন্ত তর্জন গর্জনেই আটকে আছে ঝুঁকি মোকাবিলার উদ্যোগ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, গত কয়েক বছরে সংঘটিত ভূমিকম্পের অন্তত ২০টির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের ভেতরে। যার মধ্যে ১১টির উৎপত্তিস্থল সিলেট অঞ্চলে। বাকি ২৭টি ছিল সীমান্ত এলাকাসহ আশপাশের দেশে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার ভূমিকম্প হওয়ার অর্থ এখানকার চ্যুতি লাইনগুলো সক্রিয় আছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন-সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২০২১ ও ২২ সালে কয়েক দফায় ভূমিকম্পের পর ঝুঁকি মোকাবিলায় কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল সিলেট সিটি করপোরেশন। ভূমিকম্পের ক্ষতি কমাতে ২০২১ সালের মে মাসে ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি বিপণিবিতান বন্ধ করে দেয় সিটি করপোরেশন। এগুলো ভেঙে ফেলা হবে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল। তবে ভেঙে তো ফেলা হয়নিই, উল্টো কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের খুলেছে ঝুঁকিপূর্ণ বিপণিবিতানগুলো। এদিকে, সিলেটের ৪২ হাজার বহুতল ভবনের ভূমিকম্পের সহনীয়তা পরীক্ষার উদ্যোগও আটকে আছে। সিটি কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থের অভাবে ভবন পরীক্ষা করানো যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের মে ও জুনে পরপর ছয় দফা ভূমিকম্পের পর বড় ভূমিকম্পে ক্ষতি কমিয়ে আনতে নগরের সব বহুতল ভবনের ভূমিকম্প সহনীয়তা পরীক্ষা ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে ফেলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এরপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নগরের বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার এলাকার কিছু ভবন পরীক্ষা করা হয়।

এই বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য ছিলেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পুর প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সিলেটের ভবনগুলো গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভবনই ভূমিকম্পের কথা চিন্তা না করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই ৮০ শতাংশ বহুতল ভবন ভেঙে পড়তে পারে।’

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘দু-চারটি ভবন নয়, বরং নগরের সব ভবন একসঙ্গে পরীক্ষা করাতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ সব ভবন ভেঙে না ফেলে রেকটিফাইটিংও করা যেতে পারে। সাপোর্টিং পাওয়ার দিয়ে ভূমিকম্প প্রতিরোধক হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।’

জানা গেছে, বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার পর ২০২১ সালের ৩০ মে নগরের ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রকাশ করে সিটি কর্তৃপক্ষ। ওই দিনই নগরের সুরমা মার্কেট, সিটি সুপার মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেট, সমবায় মার্কেট, মিতালী ম্যানশন ও রাজা ম্যানশন নামের সাতটি বিপণিবিতানকে ১০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। একই সময়ে নগরের প্রায় ৪২ হাজার বহুতল ভবন পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিল সিটি করপোরেশন। কিন্তু কোনো উদ্যোগই আর আগায়নি।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘১০টি অতিঝুঁকিপূর্ণ ভবন বন্ধ করার নির্দেশনা আমরা দিয়েছিলাম। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে এগুলো সংস্কার করার জন্যও আমরা মালিকপক্ষকে বলেছিলাম। কিন্তু তারা তা শোনেননি। আবার ভবনগুলো ভাঙতে গেলে তারা আদালতে মামলা করে বসেন।’

ভবন পরীক্ষার উদ্যোগ প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নগরের ৪২ হাজার ভবনে ভূমিকম্পের সহনীয়তা নিয়ে প্রকৌশলগত বিস্তারিত মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এ জন্য ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপও করি। ওই প্রতিষ্ঠানটি চারতলা একটি ভবন মূল্যায়নের জন্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ফি চায়। সেই হিসেবে সব মিলিয়ে নগরীর ৪০-৪২ হাজার ভবন পরীক্ষা করাতে ২৫-৩০ কোটি টাকার প্রয়োজন। কিন্তু সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই খাতে এত বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করার মতো তহবিল নেই। তাই এখনো আমরা এ ব্যাপারে কোনো চুক্তি করতে পারিনি।’

নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী ভবন পরীক্ষার টাকা সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদেরই দেয়ার কথা। কিন্তু কেউই টাকা দিতে রাজি হচ্ছে না। এখন সিটি করপোরেশনের পক্ষে এই খাতে এত টাকা ব্যয় অসম্ভব।

সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান আয়তন ৭৯ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। ২০২১ সালে সীমানা বর্ধিত করার পূর্ব পর্যন্ত আয়তন ছিল ২৬ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। পূর্বের আয়তনের তালিকাভুক্ত হোল্ডিংয়ের সংখ্যা প্রায় ৭৪ হাজার। এর মধ্যে দুই থেকে ২১তলা পর্যন্ত ভবন রয়েছে ৪১ হাজার ৯৯৫টি। সীমানা বাড়ানোর পর ভবনের সংখ্যা আর জরিপ করা হয়নি।

সিটি করপোরেশন সূত্র বলেছে, ২০১৬ সালে আরেকবার নগরের বহুতল ভবনগুলোর ভূমিকম্প সহনীয়তা পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়। তখনো মাঝপথেই আটকে যায় সে উদ্যোগ।

সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের মতে, নগরীর ৪২ হাজার ভবন পরীক্ষা করা গেলে কয়েক শ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে এগুলো ধসে পড়ে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ২০২১ সালের মে মাসে নগরের জিন্দাবাজার এলাকার রাজা ম্যানশন বন্ধ করে দিয়েছিল সিটি কর্তৃপক্ষ। তবে কিছুদিন পর তা আবার চালু হয়। বৃহস্পতিবার ওই বিপণিবিতানে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটে নতুন রং করানো হয়েছে। রং পাল্টানো ছাড়া আর কোনো সংস্কার কাজের চিহ্ন নেই। তবে ভবনের ভেতরে খোলা আছে সব দোকানই। চলছে বেচাকেনা।

এ প্রসঙ্গে রাজা ম্যানশন ব্যবসায়ী কমিটির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক বলেন, ‘২০১৬ সালে অনেকটা অনুমান করে মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছিল। তবে পরে বিভিন্ন জরিপ ও পরীক্ষা করে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ভবনটি রেক্টোফিটিং করে এর স্থায়িত্ব বাড়ানো যাবে। সয়েল টেস্টের পরীক্ষাও মার্কেটের অনুকূলে।’ তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন মার্কেটটি বন্ধ করে দেয়ার পর আমরা ভবন সংস্কার করি। সংস্কারের পর এটি চালু হয়েছে। ফলে এখন আর তেমন ঝুঁকি নেই।’

সিলেটের অনেক ভবনেরই অনুমোদন নেই জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, সিলেটের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা বলেন, ‘সিলেটের অনেক বহুতল ভবনই নির্মাণ করা হয়েছে অনুমোদনহীনভাবে। অলিগলির রাস্তাও সরু। ফলে আমাদের গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। এ ব্যাপারে নগর কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হতে হবে।’


নেত্রকোণায় আগুনে প্রাণ গেল ৮ গরুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৮:০০
নেত্রকোণা প্রতিনিধি

নেত্রকোণায় এক কৃষকের গোয়াল ঘরে আগুন লেগে আটটি গরু পুড়ে মারা গেছে। এ ঘটনায় জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধ থাকা প্রতিবেশীদের দায়ী করছেন গরুর মালিক।

সোমবার রাতে জেলার বারহাট্টা উপজেলার আসমা গ্রামে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আসমা গ্রামের শেখ হাবিবুর রহমান ও শেখ আতিকুর রহমান দুই ভাই। তাদের আটটি গরু একই গোয়াল ঘরে রাখেন। রাতে হঠাৎ করে গোয়ালে আগুন দেখে চিৎকার দেন তারা। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে গোয়ালে শুকনো খড় থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। ততক্ষণে গোয়াল ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে গোয়ালে থাকা আটটি গরু পুড়ে মারা যায়।

জেলার বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রতিবেশী যাদের সঙ্গে পূর্ববিরোধ রয়েছে এ ঘটনায় তাদের হাত আছে বলে সন্দেহ করছেন ভুক্তভোগীরা। যদি এমনটা হয় তাহলে তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের শুকনো খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়। এছাড়াও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সুবিবেচনা করা হবে।’

বিষয়:

নওগাঁয় পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ ও বিক্রি চক্রের ৩ জন আটক

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৩৫
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর ধামইরহাট থেকে পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ ও বিক্রয় চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার মঙ্গলবাড়ী বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

আটকরা হলেন, ধামইরহাট উপজেলার মুকুন্দপুর গ্রামের নিত্য সরকার (২৪) এবং জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার বিল্লা গ্রামের শহিদ হোসেন (২২) ও দোগাছী গ্রামের সিফাত হোসেন (১৮)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধামইরহাট উপজেলার মঙ্গলবাড়ী বাজারে পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণ করে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ইলেকট্রিক ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটারের দোকান থেকে স্থানীয় কিশোর ও স্কুল পডুয়া ছাত্রদের কাছে পর্নোগ্রাফি ভিডিও সরবরাহ করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অশ্লীল সিনেমা ও গানের ভিডিও ক্লিপ আপলোড ব্যবসার পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি সরবরাহের বিষয়টি তদন্ত শুরু করে এবং তদন্তে এর সত্যতা পায় র‌্যাব-৫ গোয়েন্দা দল। মঙ্গলবার ভোরে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট এর সদস্যরা। এসময় নিত্য সরকার, শহিদ হোসেন ও সিফাত হোসেনকে তাদের দোকান থেকে আটক করা হয়। তারা তাদের নিজস্ব কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে অশ্লীল সিনেমা ও গানের ভিডিও ক্লিপ আপলোডের ব্যবসা করত। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ধামইরহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

বিষয়:

শীতল পাটির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে একটি পরিবার

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:৪১
মো. রুবেল আহমেদ, গোপালপুর (টাঙ্গাইল)

বাঙালির প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী এক শিল্প হলো শীতল পাটি। মুর্তাগাছের বেত দিয়ে নয়নাভিরাম বুননের মাধ্যমে তৈরি হয় মসৃণ এই মাদুর।

একটা সময় সর্বত্র ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল এই শীতল পাটি। শীতল পাটি ছাড়া গ্রামের বিয়ে ছিল কল্পনাতীত। তীব্র গরমে এই পাটি পেতে ঘুমানো ছিল পরম প্রশান্তির। কালের পরিক্রমায়, আধুনিক চাকচিক্যের আড়ালে শীতল পাটির জনপ্রিয়তায় খানিকটা ভাটা পড়েছে। পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকতা ও পরিচর্যার অভাবে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে হুমকির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যারা পাটি বানাতেন তাদের স্থানীয়ভাবে বলা হতো পাইততা। নগদা শিমলা ইউনিয়নের বাইশকাইল গ্রামে প্রায় ২৫০টি হিন্দু পাইততা পরিবারের বসবাস ছিল। তারাই মূলত ছিল শীতল পাটির কারিগর।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাইশকাইলের পাইততা পাড়ায় গণহত্যা চালায়। যে কজন বেঁচে ছিল, তারাও আতঙ্কে দেশ ছাড়ে চলে যায়।

সেই পাইততা পাড়ায় এখন বৃদ্ধ নরেশ চন্দ্র চন্দ (৮৫) কেবল পূর্ব-পুরুষের পাটি বানানোর পেশা ধরে রেখেছেন। আর এ পাটি বুননের কাজে তাকে সহায়তা করেন স্ত্রী কমলা রানী (৮০)। সেই পাটি হাট-বাজারে বিক্রি করেন তাদের একমাত্র ছেলে মন্তোস চন্দ্র চন্দ (৪৫)। একটি শীতল পাটি বানাতে সময় লাগে ৬-৭ দিন। এগুলো দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। এই একটি পরিবারের হাত ধরেই এখানে টিকে আছে শীতল পাটির গৌরব। তবে তারাও যেকোনো সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান।

বৃদ্ধা কমলা রানী বলেন, ‘আমরা একটি পরিবার হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। উৎসব, পূজা, পার্বণ একাই করতে হয়। কেউ মারা গেলে দাহ করার মানুষ পাই না। আমাদের অনেক জমি বেদখল হয়ে আছে, কিছুদিন আগে গণভবনে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়নি, তবে লিখিত আবেদন দিয়ে এসেছি।’

বৃদ্ধ নরেশ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘সরাসরি আমাদের কেউ কিছু না বললেও, এখানকার একমাত্র হিন্দু পরিবার হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বাড়ির সীমানা নিয়েও বিভিন্নভাবে আমাদের মানসিক চাপে রাখা হয়। আমাদের সমস্যার সমাধান হলে আমরা এখানেই থাকতেই চাই।’

গোপালপুর বাজারের ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘বাইশকাইল গ্রামে আমাদের পূর্ব-পুরুষের বাড়ি ছিল। গণহত্যার পর থেকেই মূলত হিন্দু পরিবারগুলো বিভিন্ন স্থানে যেতে থাকে। আমরাও গোপালপুর চলে আসি। ওই পরিবারটি একা হয়ে যাওয়ায় সমস্যা হয়ে গেছে। গোপালপুর উপজেলায় একটিমাত্র পরিবার পূর্ব-পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। তারা চলে গেলে গোপালপুরে পাটি বানানোর ঐতিহ্য পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ঐতিহ্যটি টিকিয়ে রাখতে এবং গণহত্যার স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই।’

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের গোপালপুর শাখার সভাপতি হরিপদ দেব মঙ্গল বলেন, পরিবারটি একা হয়ে যাওয়ায় ওখানে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। তাদের জমিজমা-সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে চলমান। তাই এখন পর্যন্ত তারা সেখানে রয়েছে।

নগদা শিমলা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান সোহেল বলেন, ডিজিটালের ছোঁয়ায় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পাটির চাহিদা কমে যাওয়ায় মূলত বিভিন্ন পেশায় স্থানান্তরিত হয়েছে শীতল পাটির কারিগররা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নরেশ চন্দ্রের পরিবারটিকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। সরকার যদি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে আলাদাভাবে কোনো সহযোগিতা করে, তবে তা অবশ্যই তাদের নিকট পৌঁছানো হবে।

উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা এখলাছ মিয়া বলেন, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের উপজেলায় কোনো প্রকল্প চালু নেই। নরেশ চন্দ্র চন্দকে বয়স্ক ভাতার আওতায় এনে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।’

ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাব।’

বিষয়:

দেড় দশকে কমেছে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:০৮
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

মাছচাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় উত্তরবঙ্গের শস্যভাণ্ডারখ্যাত সিরাজগঞ্জে পুকুর কাটার হিড়িক পড়েছে। যে জমিতে বছরে তিনবার ফসল ফলত, সে জমিও এখন কেটে পুকুর বানিয়ে ফেলা হচ্ছে।

জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধানের আবাদ হয় তাড়াশে। এই উপজেলায় এক্সকাভেটর দিয়ে জমি কেটে পুকুর খনন করার ফলে প্রতি বছর আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে বছর শেষে ফসলি জমির পরিমাণ ভয়ংকরভাবে হ্রাস পাবে।

এ জেলায় প্রচুর পরিমাণ ধান, গম, খিরা, শসা, পাট, বেগুন, ডাল, রসুন, কাঁচা মরিচ, আখসহ বিভিন্ন রকমের ফসল উৎপাদিত হয়, যার উদ্বৃত্ত অংশ দেশের অন্যত্র বিক্রি হয়। কিন্তু অচিরেই খাদ্যে উদ্বৃত্ত এই জেলায় খাদ্য সংকট দেখা দেবে। এর প্রভাব পড়বে সারা দেশেও।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জে ২ হাজার ৫৩৯টি পুকুর খনন করা হয়েছে। এই দেড় দশকে ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আবাদি জমি কমেছে। শুধু কৃষি জমিই নষ্ট হচ্ছে না, মাটি বহনকারী ডাম ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সড়ক-মহাসড়কেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেল-জরিমানা করেও পুকুর খনন বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে ধানের উৎপাদন কমে আসবে। দ্রুত এর অবসান না হলে জলাবদ্ধতাসহ পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছেন হাজি বাবু নামে একজন। ভায়াট গ্রামের আলামিন জমি ইজারা নিয়ে পুকুর খনন করছেন। লালুয়া মাঝিড়া গ্রামের উত্তর মাঠে একটি বড় পুকুর খনন করছেন খোকা নামে এক ব্যক্তি। সরকারি অফিসের অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এ রকম অধিকাংশ গ্রামে রাতের আঁধারে কৃষিজমির এমন ধ্বংসযজ্ঞ চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চললেও কৃষিজমিসহ নদী ও খাসজমি দখল করে চলছে পুকুর খনন।

বাঁশবাড়িয়া গ্রামের পুকুর খননকারী হাজি বাবু ও আলামিন জানান, কয়েক বছর ধরে তাড়াশের বিভিন্ন স্থানে পুকুর খনন করা হচ্ছে। তাই তারাও করছেন। সবারটা বন্ধ হলে তারাও আর খনন করবেন না।

কালিদাসনিলি গ্রামের তারিকুল ইসলাম, শাজাহান আলী ও আখতার হোসেন জানান, হাজি বাবু বাঁশবাড়িয়া গ্রামে আবাদযোগ্য জমিতে ৪৫ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে একটি পুকুর খনন করছেন। পুকুরটির খনন শেষ হলে উত্তর ও দক্ষিণের মাঠের পানি নামতে পারবে না। তখন জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।

একই ইউনিয়নের জহুরুল ইসলাম নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন, ‘আমার ১০ কাঠা জমি ছিল। সলঙ্গা থানার কুমার গাইলজানি গ্রামের সাচ্চু নামের একজন মাঠের ১৫ জন কৃষকের জমি ইজারা নিয়েছেন পুকুর খননের জন্য। শেষমেশ আমিও দিতে বাধ্য হই। নয়তো আমার ওইটুকু জমি পুকুরের এক কোণায় পানিতে তলিয়ে থাকত।’

তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে পুকুর খনন করার অপরাধে গত এক মাসে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে ৮টি, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ১০টি এবং সাধারণ কৃষকরা বাদী হয়ে ২টি মামলা করেছে।

তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ হাসান বলেন, পুকুর খননের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতে বেশ কয়েকজনকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাড়াশের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে বছরে তিন ফসলিসহ বিভিন্ন জাতের ধান ও রবিশস্যের আবাদ হয়। তারপরও কৃষকরা তাদের জমি কেটে পুকুর খনন করছেন। মূলত মধ্যস্বত্বভোগী একটি চক্র কৃষকের সব দায়ভার নিয়ে পুকুর খনন করে দিতে উৎসাহিত করছেন।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (উপ-পরিচালক) বাবলু কুমার সূত্রধর বলেন, এই জেলার মতো উর্বর এবং তিন থেকে চার ফসলি জমি দেশের খুব কম এলাকায় আছে। সে কারণে সিরাজগঞ্জ জেলা শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত। ভবিষ্যতে সেই সুনাম ধরে রাখা সম্ভব হবে না। মানুষ বুঝতে চাচ্ছে না, আবাদি জমি কমে গেলে তাদের জীবন সংকটাপন্ন হবে। ফসলি জমিতে পুকুর খনন বা শিল্পায়ন কঠোর হাতে দমন করা জরুরি।

বিষয়:

শ্রীমঙ্গলে মাটিবোঝাই ট্রাক চলাচলে সড়কের অচলাবস্থা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৫:৪৭
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি আবাসিক এলাকায় মাটি বোঝাই ট্রাক চলাচলের ফলে কাঁচা সড়কের বেহাল অবস্থা। ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে এ সড়কের পাশে সরকারিভাবে নির্মিত গাইড ওয়ালটিও বিভিন্ন জায়গায় হেলে পড়েছে ও ভেঙে গেছে।

উপজেলার ৩নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের সবুজবাগ এলাকার সরকারপাড়া থেকে হাইল হাওর যাওয়ার সড়কে এমনটাই দেখা যায়। এ বিষয়ে গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারপাড়া থেকে হাইল হাওরে যাওয়ার পথে পীযুষ পালের বাড়ির উঠোন ও একটি জলাশয় ভরাট করার জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যাচ্ছিল। মাটি বোঝাই ট্রাকের কারণে চলাচলের রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ও কাদামাটি তৈরি হওয়ায় স্থানীয়রা ট্রাকচালক ও মাটি ভরাটের কাজের ঠিকাদার ধিরু মালাকারকে এই সড়ক নষ্ট না করার জন্য অনুরোধ জানায়; কিন্তু ঠিকাদার বলের, তিনি নাকি প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই কাজ করছেন। সড়কের কোথাও যদি কোনো সমস্যা হয় তাহলে পুরো সড়কটি তিনি ঠিক করে দেবেন। মাটির সড়কের ওপর মাটি বোঝাই ট্রাক চালানোর ফলে এখন সড়কের পাশের সরকারিভাবে নির্মিত গাইড ওয়ালটির বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে ও হেলে পড়েছে। সড়কের অনেক গর্ত তৈরি হয়েছে। এখন এই সড়ক ব্যবহার করে কেউ হাঁটাচলা করতে পারছে না। কোনো রোগী অসুস্থ হলে বাসা থেকে বের করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে ঠিকাদার এলেই প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে রাস্তা নষ্ট করে জলাশয় ভরাট করেছে কি না সেটা স্থানীয়দের জানা নেই।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত ঠিকাদার ধিরু মালাকারকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সন্দ্বীপ তালুকদার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি ঠিকাদার ধিরু মালাকারকে একাধিকবার ফোন দিয়েছি। তিনি ফোন ধরেননি। আমরা বিষয়টি দেখছি। আমাদের লোকজন ঘটনাস্থলে যাবে; প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’


কক্সবাজারে ভাইয়ের হা‌তে ভাই খুন

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:০৭
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে চাচাত ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরকীয়ার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর নিদানিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হোসেন।

নিহত ছৈয়দ করিম (৪৫) জালিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর নিদানিয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তবে ঘটনায় অভিযুক্ত ছালামত উল্লাহকে (৩৮) এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ওসি।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘সকালে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের উত্তর নিদানিয়া গ্রামের স্থানীয় স্টেশন থেকে ছৈয়দ করিম বাড়ী ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তেতুলতলা নামক স্থানে পৌঁছলে আপন চাচাত ভাই ছালামত উল্লাহ আকস্মিক তার উপর হামলে পড়ে। এক পর্যায়ে ছৈয়দ করিমের বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা তাৎক্ষনিক তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। এসময় হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

ওসি বলেন, ‘কী কারণে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে পুলিশ তা নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছালামত উল্লাহর স্ত্রীর সঙ্গে ছৈয়দ করিমের পরকীয়া রয়েছে এমন সন্দেহে এ ঘটনা ঘটেছে।’

নিহতের ছোট ভাই মিজানুর রহমান বলেন, ‘একটা সময় তার বাবা ও চাচার মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। পরে তা সামাজিক সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। এ নিয়ে তার বাবার প্রতিপক্ষরা মনে মনে ক্ষুদ্ধ ছিল। এই ক্ষুদ্ধতাবশত গত ২-৩ বছর আগেও তাকে (মিজানুর) মাথায় ছুরিকাঘাত করেছিল ছালামত উল্লাহ। পূর্ব শত্রুতার জেরে তার ভাইকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।’

ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে রয়েছে বলে জানান ওসি শামীম হোসেন।

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।


পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪ উদ্বোধন করেছেন।

এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘স্মার্ট পুলিশ, স্মার্ট দেশ, শান্তি ও প্রগতির বাংলাদেশ’।

প্রধানমন্ত্রী খোলা জিপে চড়ে বাংলাদেশ পুলিশের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন পুলিশ বাহিনী বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী সাহসী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৫ পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম-বীরত্ব) এবং ৬০ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-বীরত্ব) প্রদান করেন।

এছাড়া ৯৫ জন পুলিশ সদস্য বিপিএম সেবা পদক এবং ২১০ জন পিপিএম সেবা পদক পেয়েছেন।

সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন।

দৈনিক সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে এবং টিভি চ্যানেলগুলো পুলিশ সপ্তাহে বিশেষ আলোচনার আয়োজন করবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন তাঁকে স্বাগত জানান।

এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।


স্যালাইন-ট্যাং পানের পর শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ৩

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৩:৪১
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইনের পানি পানের পর জিম খাতুন (৩) বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওই শিশুর মাসহ আরও তিনজন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দোকানদার ও সেলসম্যানসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার রাতে বেলকুচি উপজেলার বেলগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু জিম খাতুন উপজেলার বেলগাছি গ্রামের কায়েম উদ্দিনের মেয়ে। অসুস্থরা হলেন, জিমের মা পারভিন খাতুন, বোন রিয়া ও মিথিলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় শবে বরাতের নফল রোজা রেখে ইফতারিতে খাওয়ার স্যালাইন ও ইস্পি ট্যাংয়ের মিশ্রণ গুলিয়ে পান করেন পারভিন খাতুন। এ সময় তার তিন সন্তান জিম, রিয়া ও মিথিলা ওই পানীয় পান করে। ইফতার শেষে পারভিন ও তার তিন শিশু সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ডা. ফয়সাল হোসেন জানান, অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাদের সিরাজগঞ্জের প্রেরণ করেন। এখানে আসার পর জিম খাতুন নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য অসুস্থ অপর তিনজনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। জিমের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে দোকানদার আমিনুল ইসলাম, স্যালাইনের সেলসম্যান আনিছুর রহমান, হাফিজ শেখ ও সাগর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য থানায় আনা হয়েছে।’

বেলকুচি থানার ওসি - তদন্ত মো. আব্দুল বারিক বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে ওরস্যালাইন এবং ইস্পি ট্যাংয়ের খালি প্যাকেট ও মিশ্রণের পানি সংগ্রহ করেছি। এতে দেখা গেছে, ওরস্যালাইনের প্যাকেটের মেয়াদ নেই আর ইস্পি ট্যাংয়ের মেয়াদ স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওরস্যালাইনের যেহেতু মেয়াদ নেই এটা থেকে বিষক্রিয়া হতে পারে। তবে ডাক্তারা পরীক্ষা নিরীক্ষা ও ল্যাব টেষ্ট করে রিপোর্ট দিলে সঠিকটা জানা যাবে।’

বিষয়:

নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:০৮
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগাছায় নিখোঁজের দুই দিন পর উম্মে হাবিবা (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে উপজেলার চালুনিয়া বিলের একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হাবিবা উপজেলার চালুনিয়া পানাতিপারা গ্রামের আব্দুল হাকিমের মেয়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশান্ত কুমার সরকার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় উম্মে হাবিবা। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তার সন্ধান পাননি পরিবারের লোকজন। সোমবার সকালে বাড়ির পাশের চালুনিয়া বিলের একটি পুকুরে শিশু উম্মে হাবিবার মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওসি সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

বিষয়:

বিএনপিকে ভুলের খেসারত দিতে হবে : ওবায়দুল কাদের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:২৭
বাসস

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচনে না এসে বিএনপি যে ভুল করেছে, তার খেসারত তাদের সামনে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অচিরেই তারা (বিএনপি) টের পাবে রাজনীতিতে কতটা সংকুচিত। তারা জনগণের কাছে নালিশ না দিয়ে বিদেশিদের কাছে নালিশ দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।’

সোমবার দুপুরে ফেনীর দাগনভূঞা, বসুরহাট সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন ভণ্ডুল করতে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউকে ভয় করেননি। সাহস নিয়ে দৃঢতার সঙ্গে তিনি চক্রান্ত মোকাবিলা করেছেন। বিশ্বে দীর্ঘস্থায়ী নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়েছেন।’

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রসঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এবার উপজেলা নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন দিচ্ছি না। নৌকা প্রতীকও দেওয়া হবে না। সবকিছু উন্মুক্ত থাকবে। সবকিছু উন্মুক্ত থাকার যে অভিজ্ঞতা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই অভিজ্ঞতা নিতে চান।’

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। এর দুই পাশে দুটি সার্ভিস লেন হবে। অদূর ভবিষ্যতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উন্নীত করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।’

এসময় ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি, জেলা প্রশাসক মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


পাবনায় বিদেশি অস্ত্রসহ ৫ যুবক গ্রেপ্তার

আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৫:৫৮
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় বিদেশি অস্ত্রসহ পাঁচ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পাবনা সদর থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ বেশকিছু ধারাল অস্ত্র জব্দ করা হয়।

সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী।

এর আগে রোববার রাতে শহরের দক্ষিণ রামচন্দ্রপুরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, পাবনা পৌর এলাকার দিলালপুর আফনান আহমেদ আবির (২০), শালগাড়িয়া শাপলা প্লাস্টিক গলি এলাকার ইসতিয়াক জামান নূর (২০), দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর পলিথিন রোড এলাকার মিজানুর রহমান নাঈম (২০), আবু হুরায়রা জনি (২০) এবং শান্তিনগর এলাকার রাফসান আবির (২৪)।

ওসি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাবাজার পলিথিন মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিদেশি রিভলবার, দুই রাউন্ড গুলি, হাত কুড়াল, দুইটা টিপ চাকু জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশ একাধিক মামলার আসামি। তারা শহরে প্রায় সময়ই বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে থাকে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হবে।’

বিষয়:

ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:৫২
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়। মৃত ওই কয়েদি ঝিনাইদহ জেলা শহরের পরবহাটি গ্রামের আতিয়ার লস্করের ছেলে মিলন লস্কর।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা কারাগারের জেলার মহিউদ্দিন হায়দার।

তিনি জানান, কারাগারেরর চিত্রা ৩নং ওয়ার্ডের কয়েদি ছিলেন মিলন। ফজরের নামাজ শেষে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত ২ জানুয়ারি মিলনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। সেই থেকে কারাগারের চিত্রা ৩ নং ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল তাকে। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বিষয়:

২ সন্তানসহ সৎ খালাকে হত্যার দায়ে এক জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৫:৪৯
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সৎ খালা ও তার দুই ছেলেকে হত্যার দায়ে আইয়ুব আলী নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফজলে খোদা মো. নাজির এ আদেশ দেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্টোনোগ্রাফার রাশিদুল ইসলাম প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে আইয়ুব আলী তার সৎ খালা রওশন আরার বাড়িতে যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া তাঁত শ্রমিক আইয়ুব আলী রওশন আরার কাছে টাকা ধার চায়। পরে ধার না পেয়ে গভীর রাতে রওশন আরার ঘরে থাকা চারটি ট্রাংক খুলে টাকা চুরির চেষ্টা করে সে। পরে রওশন আরা ঘুমের মধ্যে নড়ে উঠলে চুরির বিষয়টি বুঝতে পেরেছে ধারণা করে তার বুকে শিল পাথর দিয়ে আঘাত করে আইয়ুব। এরপর গলাটিপে তাকে হত্যা করে। এসময় রওশন আরার পাশে ঘুমিয়ে থাকা তার তিন বছরের শিশু মাহিন কান্নাকাটি শুরু করলে তাকেও গলাটিপে হত্যা করে আইয়ুব। তখন রওশন আরার অপর সন্তান জিহাদ জেগে উঠলে তাকেও গলাটিপে হত্যা করে ঘরের দরজা লাগিয়ে পালিয়ে যায় আইয়ুব। ঘটনার তিনদিন পর ১ অক্টোবর বিকেলে নিজ ঘর থেকে সুলতান আলীর স্ত্রী রওশন আরা, তার দুই শিশু সন্তান মাহিন ও জিহাদের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওইদিন রাতেই নিহতের ভাই নুরুজ্জামান বাদী হয়ে বেলকুচি থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বেলকুচি থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম রোববার (২ অক্টোবর) দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে উল্লাপাড়ার নন্দিগাতি গ্রাম থেকে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা আইয়ুব আলীকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে আলামত উদ্ধার করা হয়। পরে আইয়ুব আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত শেষে আইয়ুব আলীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মোট ১৩ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামীর উপস্থিতিতে আজ আদালত এ রায় দেন। রায়ের পর আসামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়:

banner close