নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
শনিবার বিকেলে বেগমগঞ্জের দুর্গাপুর ইউনিয়নের সরুরগো পোল এলাকায় নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর নাম জোসনা আক্তার (১১)। সে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের মোল্লাবাড়ির সাইফুল ইসলামের মেয়ে।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, পরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতদের মধ্যে পাঁচজনের নাম জানা গেছে। এরা হলেন সোনাইমুড়ীর কাশিপুর গ্রামের মোল্লাবাড়ির আল আমিন (৮), জহুরা বেগম (৫৫), আবুল খায়ের (৬০), রিজভী (২৭), বেলাল হোসেন (৫৫), মনোয়ারা (৫৫)।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে বাঁধন পরিবহনের একটি বাস নোয়াখালীর সোনাপুরের দিকে যাচ্ছিল। নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক সড়কের সরুরগো পোল এলাকায় বাসটি রং সাইডে ঢুকে পড়ে। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটির সঙ্গে সোনাইমুড়ীর কাশিপুর থেকে ছেড়ে আসা বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসে থাকা শিশু জোসনা মারা যায়। আহত হন মাইক্রোবাসের আরও ১০ যাত্রী।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া দৈনিক বাংলাকে বলেন, দুর্ঘটনায় বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এ কারণে মাইক্রোবাসের যাত্রীরা বেশি হতাহত হন। বাসটি আটক করা গেলেও চালক পালিয়ে গেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দিঘী সদগুনা মডার্ণ একাডেমি রুরাল জুনিয়র গার্লস স্কুলের চারপাশের কাঁটাতারের বাউন্ডারি (বেড়া) ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বেষ্টনী এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর পরই স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটি বালিকা বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমরা কষ্ট করে এই কাঁটাতারের বাউন্ডারিটি দিয়েছিলাম। কিন্তু গতকাল রাতে শত্রুতা করে দুর্বৃত্তরা এটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের সম্পত্তির যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনি আমাদের ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও হুমকিতে পড়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো হাবিবুর রহমান বলেন,খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে স্কুলের এই ক্ষয়ক্ষতি করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের টিম কাজ করছে।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ঘটনাটি শুনেছি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার নির্দেশ দিয়েছি। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসী জানান, দিঘী সদগুনা মডার্ণ একাডেমি রুরাল জুনিয়র গার্লস স্কুলটি স্থানীয় মেয়েদের শিক্ষার আলো ছড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্রামীণ পরিবেশের এই বালিকা বিদ্যালয়টির নিরাপত্তা বেষ্টনী এভাবে ভেঙে ফেলায় তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সাথে নোটিশে মৃত নবজাতকের পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দেশের সকল হাসপাতালের মা ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালকের উদ্দেশ্যে অনলাইনে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও শিশু অধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে একাধিক নবজাতকের মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনায় দেশব্যাপী গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অভিভাবকদের দেওয়া তথ্যের বরাতে নোটিশে বলা হয়, গভীর রাতে সদ্য জন্ম নেওয়া একাধিক নবজাতক হঠাৎ একসঙ্গে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে অবিরাম কান্না, বমি ও শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখা দেয় এবং একই সাথে কয়েকজন প্রসূতি মা-ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে যে, এমন চরম সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত জরুরি চিকিৎসা সেবা, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হয়নি।
নোটিশে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মীদের উপস্থিতি ও তৎপরতা যেমন পর্যাপ্ত ছিল না, তেমনি সংকটাপন্ন নবজাতকদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত কেন্দ্রে স্থানান্তরেও অবহেলা ও বিলম্ব করা হয়েছে। ফলে একের পর এক নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে, যা সমগ্র জাতিকে ব্যথিত করেছে। এই ঘটনাটি দেশের হাসপাতালসমূহে মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডের নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার গুরুতর দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষ করে নবজাতক ও প্রসূতি মায়েদের সুরক্ষায় কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে এই নোটিশে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে এবং সেই দাবিগুলো হল-
১) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২) ক্ষতিগ্রস্ত নবজাতকদের পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ও কার্যকর আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
৩) দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মাতৃত্ব ও নবজাতক ওয়ার্ডে জরুরি চিকিৎসা, রোগীর নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে কার্যকর নির্দেশিকা বা প্রটোকল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
এবং ৪) প্রতিটি হাসপাতালের নিরাপত্তা, সেবার মান ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির জন্য একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা বা তদারকি কমিটি গঠন করা।
নোটিশে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় কোরবানির পশুর চামড়া কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন শত শত মৌসুমি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী। সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি করা তো দূরের কথা, বাজারে কোনো বড় পাইকার বা ট্যানারি মালিকের দেখা না মেলায় মাঠপর্যায়ের এই ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র হতাশা দেখা দিয়েছে। এর ফলে জেলার বিভিন্ন বাজার ও সড়কের পাশে স্তূপ আকারে পড়ে আছে শত শত গরুর চামড়া। দীর্ঘ সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় এবং তীব্র রোদ ও গরমের কারণে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক জায়গায় চামড়ায় সময়মতো লবণ না দেওয়ায় ইতিমধ্যে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলার গোমকোট বাজারের মৌসুমি ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন জানান, তিনি লাভের আশায় গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি পিস গরুর চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু বাজারে এনে কোনো বড় ক্রেতা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই শিল্পটি এখন ধ্বংসের মুখে এবং লোকসানের কারণে ভবিষ্যতে আর কখনো এই ব্যবসা করবেন না। একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী বাবলু ৮২টি চামড়া সংগ্রহ করে বাজারে এনে এখন দিশেহারা। তিনি জানান, গাড়িভাড়া দিয়ে চামড়া বাজারে আনার পরও কোনো কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না, উল্টো চামড়াগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এদিকে লাকসাম উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের বাস্তব প্রয়োগ না থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, টেলিভিশনে দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো ক্রেতাই তা মানছেন না, যার ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে বিপদে পড়েছেন। আরেক ব্যবসায়ী আবুল কালাম উল্লেখ করেন, দ্রুত লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা না গেলে চামড়াগুলো পচে যাবে, কিন্তু সেই বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য অনেকেরই নেই। আজ শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন বাজারে কয়েক শ ব্যবসায়ী চামড়া নিয়ে ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনো পাইকার না আসায় চরম হতাশ হয়ে অনেকে চামড়া সড়কেই ফেলে চলে গেছেন বলেও জানা গেছে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রাম সংলগ্ন নদী থেকে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও আলামত দেখে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২৯ মে) সকাল দশটার দিকে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামের পূর্ব পাশের নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল সাতটার দিকে নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের শত শত উৎসুক জনতা নদীর পাড়ে ভিড় জমায়। পরে খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা কাউসার হোসেন জানান, সকালে লাশটি নদীতে ভেসে থাকতে দেখা যায়। মেয়েটি আমাদের এলাকার নয়। মরদেহের ডান চোখ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরনের সালোয়ার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো আছে। প্রাথমিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে জোয়ারের টানে লাশটি এখানে ভেসে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, "খবর পাওয়ার পর সকাল দশটার দিকে আমরা মরদেহটি উদ্ধার করেছি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। নিহতের পরিচয় শনাক্তকরণসহ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।"
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় ঈগল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি থ্রি-হুইলার বা লেগুনার প্রলয়ংকরী মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্ণফুলীর ভেল্লাপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন তালতল ক্রসিং এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার অবহিত করেছেন যে, হাসপাতালে আনার পর এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে এখনো পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈগল পরিবহনের একটি বাস অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিয়ম ভেঙে উল্টো পথে কর্ণফুলী ক্রসিংয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ওই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী লেগুনার সঙ্গে বাসটির সজোরে সংঘর্ষ হয়। এতে লেগুনাটি প্রচণ্ড আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এর ভেতরে থাকা যাত্রীরা মারাত্মকভাবে জখম হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন এবং আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কর্ণফুলী থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” পুলিশ ঘাতক বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত লেগুনাটি তাদের হেফাজতে নিয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে। স্থানীয়দের মাঝে এই দুর্ঘটনার ফলে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ক্রসিং এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, একটি দ্রুতগামী বাস ও মাহিন্দ্রার মধ্যে এই সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই প্রবল ছিল যে মাহিন্দ্রাটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুজন প্রাণ হারান। খবর পাওয়ার পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বেল্লাপাড়া ক্রসিংয়ের তালতল এলাকায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ঈগল পরিবহনের একটি বাসের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ক্রসিং পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা পরিতোষ জানিয়েছেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।’
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের নাম-পরিচয় শনাক্তের আগেই দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ক্রসিং পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘বেল্লাপাড়া এলাকায় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’ দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বিঘ্নিত হলেও পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন দুটি জব্দ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ঈদের দিন আর বাড়ি ফেরা হলো না টাঙ্গাইলের সখীপুরের কলেজ শিক্ষার্থী কানন আহমেদের (১৭)। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের কচুয়া পুকুরপাড় মোড়ে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।
নিহত কানন উপজেলার জিতাশ্বরী গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে এবং টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দ্রুতগতির দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে সড়কে ছিটকে পড়েন আরোহীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাননকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কাননের ফুফাতো ভাই আশিকুর রহমান (১৬) এবং অপর মোটরসাইকেল চালক শফিকুল ইসলাম (৩৫)। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বজনরা জানান, ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দে সময় কাটাচ্ছিল কানন। কেউ ভাবতেও পারেনি, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আনন্দ পরিণত হবে শোকে। সন্তানের মরদেহ দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা, নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা। বাড়ির আঙিনাজুড়ে এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি।
একটি সম্ভাবনাময় তরুণ প্রাণের এমন আকস্মিক বিদায়ে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বন্ধু, সহপাঠী ও প্রতিবেশীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কাননের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছেন।
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখানের ১১টি শহীদ পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কুরবানির গোশত পৌঁছে দিয়েছেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ হাফিজ ইব্রাহিম। ঈদের দিন এমপি পুত্র দৌলতখান-বোরহানউদ্দিনের তরুণ সমাজের পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার মোঃ মারুফ ইব্রাহিম আকাশের তত্ত্বাবধানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ পরিবারের বাড়িতে গিয়ে এই উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেন।
জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণ এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ঈদের আনন্দ যাতে শহীদ পরিবারগুলোও ভাগাভাগি করে নিতে পারে, সে লক্ষ্যেই কুরবানির গোশতসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় সংসদ সদস্য মোঃ হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও ভালোবাসা সবসময় থাকবে। ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি।”
ব্যারিস্টার মোঃ মারুফ ইব্রাহিম আকাশ বলেন, “শহীদ পরিবারের সদস্যরা যেন কখনো নিজেদের একা মনে না করেন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা সবসময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”
কুরবানির গোশত পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে শহীদ নয়নের বাবা বলেন, “আমার ছেলে দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। আজ ঈদের দিনে আমাদের খোঁজ নেওয়ায় খুব ভালো লাগছে। এমপি হাফিজ ইব্রাহিম ও ব্যারিস্টার আকাশ আমাদের যে সম্মান ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা আমরা কখনো ভুলবো না।”
এ সময় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্বের অংশ। স্থানীয় এলাকাবাসীও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
পবিত্র ঈদের দিন পটুয়াখালীর গলাচিপায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। উৎসবের আনন্দের দিনে এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন সড়কে একটি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের একজন হলেন গলাচিপা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের শ্যামলীবাগ এলাকার মো. ঝিলাম মিয়ার ছেলে তামিম ইকবাল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী ও চালকরা গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তামিম ইকবালকে মৃত ঘোষণা করেন। এ দুর্ঘটনায় অপর একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, এতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ জনে।
দুর্ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা হলেন— রতনদী হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা ইমরান হোসেন এবং শ্যামলীবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. ফয়সাল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেমেকহ) স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঈদের দিনে তরুণ যুবকের এমন অকাল মৃত্যু এবং মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল আজহার ১৯৯তম বড় জামাত। দেশের সর্ববৃহৎ এ ঈদ জামাতে এবারও মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মো. ছাইফুল্লাহ। শোলাকিয়ার দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী শটগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঈদগাহ ময়দানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও দেশের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় চারস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি মুসল্লিদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করে দুই প্লাটুন বিজিবি। মাঠজুড়ে বসানো হয় আর্চওয়ে, ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন ক্যামেরা ও ভিডিও নজরদারির ব্যবস্থা।
সকাল থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহের দিকে আসতে থাকেন। বৃষ্টির কারণে মাঠে পানি জমে গেলেও উৎসাহে ভাটা পড়েনি।
চট্টগ্রামের চকরিয়া থেকে আসা আব্দুল হাই বলেন, “অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ পড়ার। প্রথমবার এসে খুব ভালো লাগছে।”
গাজীপুরের পূবাইলের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বর্তমানে কাতারে থাকেন। তিনি বলেন, “বড় জামাতে নামাজ আদায় করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়, এই বিশ্বাস থেকেই শোলাকিয়ায় এসেছি।”
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের বাসিন্দা হৃদয় হাসান বলেন, “নিজ জেলার মানুষ হয়েও সচরাচর শোলাকিয়ায় আসা হয় না। এবার বৃষ্টিতে ভিজে নামাজ পড়ে অন্যরকম ভালো লাগছে।”
দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ভৈরব-ময়মনসিংহ রুটে চালানো হয় ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামে দুটি ট্রেন।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।”
এবার শোলাকিয়ার জামাতে অংশ নেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।
তারা শান্তিপূর্ণভাবে জামাত আয়োজনের জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মুসল্লিদের ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহের পাশে জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী ও এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন। আহত হন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৬ মুসল্লি। তবে সেই ঘটনার পরও শোলাকিয়ার ঈদ জামাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণে কোনো ভাটা পড়েনি।
জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮২৮ সালে শাহ সুফি সৈয়দ আহমদের ইমামতিতে শোলাকিয়ায় প্রথম ঈদ জামাতে ‘সোয়া লাখ’ মুসল্লি অংশ নেন। সেই ‘সোয়া লাখ’ শব্দ থেকেই পরে ‘শোলাকিয়া’ নামটির প্রচলন হয়।
১৯৫০ সালে হয়বতনগরের দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ ঈদগাহের জন্য ৪ দশমিক ৩৫ একর জমি ওয়াকফ করেন। পরে আরও জমি যুক্ত হয়ে বর্তমানে প্রায় সাত একর জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে পিকআপ চালক ও হেলপারের মধ্যে সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত যুবকের নাম ইমন হাসান (১৮)। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৭ মে) রাতে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের খিদিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমন হাসান সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ইসদাইর এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে। তিনি একটি পিকআপের হেলপার হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পিকআপ চালকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে চালক ও হেলপার ইমনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন ইমন হাসান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখলাস উদ্দিন নামে একজনকে আটক করে। তালতলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশিদ বলেন, বিকাশের টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে সংঘর্ষে ইমন হাসান নিহত হন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদের আনন্দের সকালেই চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক রাজমিস্ত্রির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
আজ ২৮ মে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাড়াদি ইউনিয়নের আঠারোখাদা গ্রামের একটি মাঠের গাছ থেকে বখতিয়ার হোসেন (৩৫) নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত বখতিয়ার হোসেন উপজেলার গাংনি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের নজু মালিথার ছেলে। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আঠারোখাদা গ্রামের বাসিন্দারা। পথে মাঠের একটি গাছে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ ঝুলতে দেখে তারা চমকে ওঠেন। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। পরে স্থানীয়রা আলমডাঙ্গা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে নিচে নামায়।
এদিকে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। তাদের অভিযোগ, বখতিয়ারকে অন্য কোথাও পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করার পর মরদেহ এখানে এনে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই পরিষ্কার হবে। ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ছুটির দিনেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পবিত্র ঈদুল আজহা নামাজ আদায় করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। এতে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত বিদেশী শিক্ষার্থী, কর্মচারী, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মী সহ প্রায় দুই শত ব্যক্তির মাঝে কুরবানির গোশত বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী এদিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের নিচে একটি গরু এবং একটি খাসি কুরবানির মাধ্যমে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে কুরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।
এদিকে কেন্দ্রীয় মসজিদে ইবি উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা'সহ ইবি শাখা ছাত্রদল নেতাকর্মী, ইবি শাখা ছাত্রশিবির নেতাকর্মী, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম, কর্মকর্তা সমিতি'সহ স্থানীয় এলাকাবাসীরা ঈদুল-আযহা'র সালাত আদায় করেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ঈদুল আজহা'কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কুরবানির সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। উপাচার্যের নির্দেশক্রমে আমি নিজ দায়িত্বে এই কুরবানির মাংস বিদেশি শিক্ষার্থী কর্মচারী, নিরাপত্তাকর্মী, পুলিশ ও প্রতিবন্ধী-সহ অসহায় দুস্থদের মাঝে সুষম বণ্টন করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এক এম মতিনুর রহমান বলেন, ঈদুল আজহা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষা আমাদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার হিসেবে আমরা সবাই মিলেমিশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছি। এতে ক্যাম্পাসে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর ও প্রায়ত দেশনেত্রী বেগম জিয়া'র পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে এই কুরবানি করা হয়েছে। পরিশেষে, সকলকে পবিত্র ঈদুল আজহা'র শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।