শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
২২ ফাল্গুন ১৪৩২

মিয়ানমার সীমান্তে ফের গুলির আওয়াজ

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্ত। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৪:৪১

দুই দিন বন্ধ থাকার পর সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে ফের উত্তেজনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে থেমে থেমে ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দ ভেসে আসছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তে।

স্থানীয়রা বলছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত কিছুক্ষণ পর পর গুলির আওয়াজ ভেসে এসেছে মিয়ানমারের দিক থেকে। এ পরিস্থিতিতে ফের উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে দুই দিন ফায়ারিং বন্ধ ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। তবে সীমান্তের আকাশে কোনো হেলিকপ্টার বা যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায়নি।’

স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশার লাইনম্যান নুরুল আবছার জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেছিলেন তারা। ওই দিন বাইশপারি সীমান্তে দুটি মর্টার শেলও পড়েছিল। এরপর দুই দিন বন্ধ থাকায় সীমান্তের মানুষ কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছিল। এখন আবারও আতঙ্ক ছড়িয়েছে তাদের মাঝে।

এ বিষয়ে জানতে বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।

মিয়ানমার সীমান্তে গত প্রায় এক মাস ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওপারের সীমান্ত থেকে আসা মর্টার শেলসহ নানা ভারী অস্ত্রের আওয়াজে এ পারের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু ও বাইশপারী এলাকার মানুষের ঘুম হারাম কয়েক দিন ধরে।

গত ২৮ আগস্ট পরপর দুটি মর্টার শেল এসে পড়েছিল সীমান্তের তুমব্রু উত্তরপাড়া এলাকায়। পরে সেনাবাহিনীর লোকজন ভারী গোলাটি নিষ্ক্রিয় করে। বৃহস্পতিবার সকালেও তুমব্রুর পশ্চিম, উত্তর ও মধ্যমপাড়ায় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় পরপর ১৫টি ভারী অস্ত্র নিক্ষেপের আওয়াজ শোনা যায়।


সিংড়ায় গ্রামবাসীর হামলায় তিন পুলিশ সদস্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের থেলকুড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, কনস্টেবল আশরাফুল ইসলাম (কালিগঞ্জ ফাঁড়ি), এসআই বিপ্লব কুমার রায় (কালিগঞ্জ ফাঁড়ি) এবং এসআই নেজাম ইসলাম (সিংড়া থানা)। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল আশরাফুল ইসলামকে নন্দীগ্রাম উপজেলার একটি হাসপাতালে ও দুইজন পুলিশকে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে থেলকুড় গ্রামের সিয়াম আলী (১৯) সরিষা মারাই করার একটি গাড়ি নিয়ে রাস্তা থেকে মাঠে নামার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় গাড়িটি উল্টে গেলে সিয়াম গাড়ির নিচে চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নন্দীগ্রামের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে সিংড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

পুলিশ জানায়, হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা মৃত্যুর কাগজপত্র থানায় জমা দিয়ে দাফন সম্পন্ন করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হন। পরে সিংড়া থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আ.ব.ম আব্দুন নূর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাতে একটি মৃত্যুর ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ থেলকুড় গ্রামে যায়। সেখানে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পুলিশের গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে। এ ঘটনার মূল উস্কানিদাতাকে শনাক্তের কাজ চলমান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


সারিয়াকান্দির ‘ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্র’ উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ নারীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ‘কর্ণেলস্ ফাউন্ডেশন’। এরই ধারবাহিকতায় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ‘ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্র’ উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন হওয়ায় গ্রামীণ নারীদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সেলাই কেন্দ্রটি চালু হওয়ায় এলাকার বেকার নারীরা ঘরে বসে না থেকে কাজের সুযোগ পাবেন, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখবে।

গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলার নারচী ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামে প্রতিষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করেন ‘কর্ণেল ফাউন্ডেশনের স্বত্ত্বাধিকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জগলুল আহসান। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জগলুল আহসান বলেন, গ্রামীণ জনপদের নারীরা আজ আর পিছিয়ে নেই। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তারা নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারে। ‘ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্র’ বাঁশগাড়িসহ সারিয়াকান্দি-সোনাতলা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নারীদের দর্জি বিজ্ঞানে দক্ষ করে তুলবে এবং তাদের আত্মকর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করবে।

তিনি আরও বলেন, এই সেলাই কেন্দ্রে নারীরা শুধু শ্রমের বিনিময়ে অধিক ভাবে সাবলম্বী হতে পারবেন। কেননা, সেলাই কেন্দ্র থেকেই সেলাই মেশিন, কাপড় সহ যাবতীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হবে এবং নারীদের প্রস্তুতকৃত পোশাক বিভিন্ন শপিংমলে বিক্রয়মূল্যের অর্ধেক টাকা পোশাক প্রস্তুতকারীদের প্রদান করা হবে। এছাড়াও আধুনিক পোশাক তৈরীতে নারীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে এই সেলাই কেন্দ্র থেকেই। অনুষ্ঠানে নারচী ইউনিয়নের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক, ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্রের প্রশিক্ষক এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি সেলাই কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষনার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন।


শরনখোলার খালে কচুরিপানা, ব্যাহত পানি প্রবাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় অধিকাংশ খাল কচুরিপানা ও বিভিন্ন আগাছায় ভরে গেছে। ফলে খালগুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় এ পানি ব্যবহারও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আগে এসব খালের পানি রান্না, গোসল, থালাবাসন ধোয়া এবং গবাদিপশুর পানীয় জলের কাজে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে পানি নিষ্কাশনেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রায়েন্দা খালসহ নলবুনিয়া খাল, শরণখোলার বড় খাল এবং বিভিন্ন ছোট খাল বর্তমানে আগাছা ও কচুরিপানায় প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন খালগুলো পরিষ্কার না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চালরায়েন্দা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুল জমাদ্দার বলেন, ‘একসময় খালগুলো পরিষ্কার ছিল, তখন এখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন আগাছা ও কচুরিপানায় ভরে গেছে। নৌকা চলাচলও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’

আরেক বাসিন্দা সালেহা বেগম বলেন, ‘খালের পানি এখন নষ্ট হয়ে গেছে। কচুরিপানার কারণে এই পানি ঘরের কাজেও ব্যবহার করা যায় না।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের মাঝখানে চায়না দুয়ারী জাল ও বুচনা জাল পেতে মাছ ধরার কারণে কচুরিপানা ও আগাছা আটকে থাকে। এতে খালগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘নতুন কর্মরত হওয়ায় বিষয়টি জেনেছি। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আগামী ঈদের পরপর স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততায় খালগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত খালগুলো পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে শরণখোলার খালগুলো আবারও আগের মতো স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে পাবে।


রৌমারিতে রেলপথ সম্প্রসারণে সম্ভাব্যতা যাছাই কার্যক্রম শুরু

সৃস্টি হবে কর্মসংস্থান, বাড়বে আর্থসামাজিক উন্নয়ন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম জেলার মূল ভূখণ্ড হতে ব্রহ্মপুত্র নদবিচ্ছিন্ন রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা। প্রতিদিন দুই উপজেলা থেকে মামলা মোকদ্দমা, স্কুল-কলেজ, অফিসিয়াল ও চিকিৎসাজনিত নানা কাজে মানুষজনকে জেলা সদর কুড়িগ্রামে যাতায়াত করতে হয়। জেলা সদরে যাতায়াতে দীর্ঘ নৌ-পথ পাড়ি দেওয়ার অধিকাংশ সময় কেটে যায় নৌকায়। একদিনে প্রয়োজনীয় কাজ সমাধান করে বাড়িতে ফেরাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। রাত যাপন করলে হোটেলে থাকা খাওয়াসহ খরচ হয় অতিরিক্ত টাকা। নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তসহ সব শ্রেণির মানুষের জন্য যা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই কষ্টের হাত থেকে রেহাই পেতে রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো পাকিস্তান আমল থেকেই জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে রৌমারী পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ব্রিজ, সরকারি কলেজ, চৌকি-আদালত, রৌমারীকে মুক্তাঞ্চল ও জেলা ঘোষণা, রৌমারী পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণাসহ প্রায় ২১ দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছিলেন। অবশেষে জামালপুর থেকে শেরপুর, শ্রীবরদী, বকশীগঞ্জ ও রৌমারী রেলপথ সম্প্রসারণে সম্ভাব্যতা যাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রেলপথ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুবিভাগের শাখা-২ এর উপসচিব শেখ শামছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, জামালপুর থেকে শেরপুর হয়ে নাকুগাও স্থলবন্দর পর্যন্ত নতুন সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়। পরে গত ১ জানুয়ারি প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে শেরপুর-রৌমারী রেলওয়ে কানেকটিভিটির জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হিসেবে প্রকল্পটির নাম করণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিষয়টি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে আরএডিপিতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়। আরএডিপি প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।

নির্দেশনাপত্রে স্বাক্ষর করেন রেণপথ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুবিভাগের শাখা-২ এর উপসচিব শেখ শামছুর রহমান। গত ১ জানুয়ারি এক স্মারকের একটি পত্র মারফত তিনি নতুন নির্দেশনা জারি করেন। উপসচিব শেখ শামছুর রহমান ওই স্মারকপত্রে স্বাক্ষর করেন ৪ জানুয়ারি-২০২৬। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শেরপুর জেলার ৩টি উপজেলা, জামালপুর জেলার ২টি উপজেলা ও কুড়িগ্রাম জেলার ২টি উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। রেলপথ প্রতিষ্ঠা হলে নাকুগাও স্থলবন্দর, বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর স্থল বন্দর ও রৌমারি স্থলবন্দর এবং রৌমারী-চিলমারী ফেরি সার্ভিন এর মাধ্যমে সোনাহাট স্থলবন্দরের সাথে সংযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে রৌমারী-চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদেও সেতু নির্মাণ হলে সরকার রেলখাত থেকে রাস্ট্রের রাজস্ব আয় বাড়বে। উন্নত হবে ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন সীমান্ত ঘেঁষা বাংলাদেশের দারিদ্র্যতম মঙ্গাপিড়িত বৃহত্তর কুড়িগ্রাম-রংপুর অঞ্চলের মানুষের জীবনের অর্থনীতির মানচিত্র।

রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি সাধারণ সম্পাদক শাহ আবদুল মোমেন বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার শেরপুর, জামালপুর- রৌমারী পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভ্যবতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনের এ দাবি বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।


বাসাইলে হতদরিদ্রদের মধ্যে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইলে অসহায় হতদরিদ্রদের মধ্যে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের জশিহাটী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ২৫ টি অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে দুইটি করে ৫০টি ছাগল বিতরণ করা হয়।

এসময় টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হতদরিদ্রদের মধ্যে ছাগল বিতরণ করেন।

যুগবানী সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দেওয়ান হুমায়ুন কবির রিপনের সঞ্চালনায় এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্ল্যা,জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নূরনবী আবু হায়াত খান নবু,বাসাইল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু সহ উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সংসদ সদস্য আহমেদ আযম খান ঝিনাই নদীর ভাঙন পরিদর্শন করেন।


হরিরামপুর বাজারে আগুনে ক্ষতি কোটি টাকা, সহায়তা চান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে উপজেলার আন্ধারমানিক বাজারে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে এই আগুনে নিঃস্ব হয়েছেন বেশ কয়েকজন দোকানদার। দোকানে থাকা মুদি মনোহারি আসবাবপত্র সবই পুড়ে গেছে। মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন মিন্টু দত্ত নামের ডিজেল অকটেন পেট্রোল ব্যবসায়ী।

মিন্টু দত্তের শরীরের একাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ইউনিটে তাকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পুরাতন এই বাজারটির বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ভাড়ায় দোকান নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। পুরাতনের বাজারটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত বলেও জানা গেছে। এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি যারা ব্যবসা পরিচালনা করতেন তাদেরকে যেন সহযোগিতা করা হয়। আর দোকান মালিকদের দোকান পুড়ে যাওয়ায় তাদের ক্ষতির পরিমাণ কম হলেও তারাও সহযোগিতা চান। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- বিল্টু দত্তের ডিজেল অকটেন ও পেট্রোল দোকানে থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে। মিন্টু দত্তের দোকানে মজুত থাকা প্রায় ১০ লাখ টাকার ডিজেল অকটেন পেট্রোল পুড়ে গেছে। পাশে ইমদাদুল বিশ্বাসের দোকানে থাকা এলপি গ্যাস, চাউল নগদ টাকাসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। নুর ইসলামের মুদি দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার মুদি মনোহারী পণ্য, মধুসূদন দত্তের প্রায় ২৫ লাখ টাকার মুদি পণ্য, সুজনের হোটেলে ৫০ হাজার আর নগদ ৫০ হাজার মোট ১ লাখ টাকা, লালনের ফলের দোকানের ৫০ হাজার টাকা, সুভাষ কুন্ডুর চালের দোকানে থাকা লাখ টাকার চাল, দুর্গা মন্দির, বিদ্যুতের মিটার তার, ডিস লাইনের ট্রান্সমিশন তারসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকা, গোপালের ফলের দোকানে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো ফল, বিষ্ণুর দোকানের প্রায় ২০ হাজার টাকার মত মুদি মনোহারী, মজরউদ্দিনের দোকানের মুদি মনোহারীর প্রায় ১০ হাজার টাকা, একটি দুর্গা মন্দির, মেহেরের কাচামাল আর অস্থায়ী বেশ কয়েকটি কাঁচামালের দোকানের প্রায় ১ লাখ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব পাওয়া গেছে। এর বেশিরভাগ ব্যবসায়ী স্থানীয় এনজিও থেকে লোন এনে ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলেও জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সুজন জানান, হোটেল ব্যবসা করে কোনরকমে দিন পরিচালনা করতেন তিনি। তার যতটুকু সম্পদ ছিল, সবটুকুই আগুনে পুড়ে গেছে। সেই সাথে পুড়ে গেছে আমার স্বপ্ন।

ফল ব্যবসায়ী লালন জানান, বাজারের সবচেয়ে ছোট ব্যবসায়ী আমি। আমার দুই টাকা ক্ষতি মানেই কোটি টাকার সমান। এখন আমার সংসার চালানো আর কিস্তি চালানো দুঃসাধ্য হয়ে গেছে। আমি এখন কী করবো। দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন, আমি যেন আবার কোনরকম ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করে বেঁচে থাকতে পারি।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে আমরা জেলায় পাঠাবো। সহযোগিতা আসলে আমরা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতাটা পৌছে দিব। আপনারাও সহযোগিতা করবেন।

এরই মধ্যে পরিদর্শন করেছেন, হরিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন, হরিরামপুর উপজেলা বিএনপি নেতাসহ স্থানীয় নেতারা।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় স্থানীয় প্রশাসন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সহ সকলের কাছে আকুল আবেদন জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।


গৌরনদী বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে গৌরনদী উপজেলার কসবা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনাগামী যাত্রীবাহী বাস টেকেরহাট এক্সপ্রেসএর সঙ্গে বরিশালগামী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা পাঁচজন গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইক্রোবাসের চালক মো. রিপন ও যাত্রী মো. ইলিয়াস হোসেন (৫৮)-কে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইলিয়াস হোসেন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকার বাসিন্দা আ. ওয়াহিদের ছেলে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় আহত অপর তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বরিশাল গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। সড়ক থেকে যান দুটি সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


নওগাঁয় সুবিধাবঞ্চিত ৪১১ পরিবার পেল খাদ্যসামগ্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁর মহাদেবপুরে সুবিধাবঞ্চিত ৪১১ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বেলজিয়ামের দাতা সংস্থা কারামা সলিডারিটি অর্থায়নে সোশ্যাল এইড এর আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সোশ্যাল এইড এর ডিরেক্টর ফিন্যান্স এন্ড এডমিন মোহাম্মদ আলী, নির্বাহী পরিচালক বাবুল আকতার, জেলা সমন্বয়কারী ফজলুল হক খান, নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রায়হান আলম প্রমুখ।

খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিলো- ২৫ কেজি চাল, ৫ লিটার তেল, ৩ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি ছোলা, ২ কেজি চিনি, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি গুড়া দুধ, সেমাই ৪০০ গ্রাম, খেজুর ১ কেজি ও ৩০ পিচ ডিম।


ভেড়ামারায় পদ্মানদীতে গোসল করতে গিয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম নকিবুল ইসলাম নাকিব (১৪)। সে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১২ মাইল এলাকার আবুল বাশার মাস্টারের একমাত্র পুত্র এবং ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ১২ মাইল বালুরঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকাল ৪টার দিকে নাকিব তার বন্ধু সায়েম ও খালাতো ভাই জুনায়েদকে নিয়ে পদ্মা নদীতে গোসল করতে যায়। তারা প্রথমে একটি খালি ডিঙি নৌকায় করে নদীর এপার-ওপার ঘুরতে থাকে। পরে সকলে মিলে নদীর কিনারায় গোসল শুরু করে।

জুনায়েদ জানান, বিকাল পাঁচটার দিকে তিনি ও সায়েম গোসল শেষ করে উপরে উঠে আসেন। কিন্তু নাকিব নদী থেকে না উঠতে পেরে আরও গভীর পানিতে চলে যায়। সাঁতার না জানার কারণে সে ডুবতে শুরু করে। সায়েম তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে জুনায়েদের চিৎকারে আশপাশের জেলেরা ডিঙি নৌকা নিয়ে এগিয়ে আসেন। তারা সায়েমকে উদ্ধার করতে পারলেও নাকিব ততক্ষণে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর।

নাকিবের চাচা মাসুদ করিম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ভাতিজা তার বাবার একমাত্র সন্তান ছিল। পদ্মা নদীতে গোসল করতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে কখনো ভাবি নাই। পুরো পরিবার ও এলাকাতে এখন শোকের মাতম চলছে।

এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হবে। এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


কালীগঞ্জে তর্ক-বিতর্ক থেকে সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মেশিনের ফর্মা বানানোকে কেন্দ্র করে দুই ওয়ার্কশপ মালিকের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক বৃদ্ধ নিহত ও একজন যুবক আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের মধ্য খলাপাড়া গ্রামের ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও সিকদার ওয়ার্কশপ মালিকদের মধ্যে মেশিনের ফর্মা তৈরি করা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি তর্ক-বিতর্ক থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কয়েকজন হামলাকারী ভাই ভাই ওয়ার্কশপের মালিক সজীব মোল্লাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। তার চিৎকার শুনে পাশের বাড়ির মোহাম্মদ হবি সিকদার এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হবি সিকদারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সজীব মোল্লাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াদুল ইসলাম মৃতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


ইরানের মিসাইল হামলায় কুয়েতে প্রবাসী যুবকের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার বলি হলেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ পৌরসভার রহমতপুর এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন। কুয়েতে এক মিসাইল হামলায় মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন (২৮) নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহত জাহেদ হোসেন রহমতপুর এলাকার কামাল দফাদারের ছোট ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে কুয়েতের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে হওয়া এক মিসাইল হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রবাসে থাকা সহকর্মীরাই প্রথম তার পরিবারকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহতের ভগ্নিপতি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কুয়েত সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিসাইল হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলার পরপরই সহকর্মীদের কাছ থেকে আমরা জাহেদের মৃত্যুর খবর জানতে পারি।’

পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে হারিয়ে জাহেদের বাড়িতে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাহেদ নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন, তার অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতায় এই নিয়ে সন্দ্বীপের দুই প্রবাসীর প্রাণহানি ঘটল। এর আগে গত রোববার বাহরাইনে ইরানের হামলায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের আজিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল মহসিন ওরফে তারেক (৫২) নিহত হন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই উপজেলার দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে সন্দ্বীপে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।


পূবালী ব্যাংকের লকার থেকে গ্রাহকের ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ‘গায়েব’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাট শহরের পূবালী ব্যাংকের লকার থেকে এক ব্যবসায়ীর প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার গায়েব হওয়ার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সুমন কুমার দাস নামের ভুক্তভোগী ওই গ্রাহক।

অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) শহরের খানজাহান আলী সড়কের ব্যাংক শাখা পরিদর্শন করে তদন্তকাজ শুরু হয়েছে বলে জানান বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন। ঘটনা জানাজানির পর বিকালে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরীও ব্যাংক পরিদর্শন করেছেন।

পূবালী ব্যাংকের ওই শাখায় গিয়ে দেখা যায়, সিআইডি, জেলা পুলিশ ও পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত। সেখানে তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন।

এ বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মনিরুল আমিন বলেন, ‘লকার খুলতে দুটি চাবি লাগে। দুটি চাবির একটি গ্রাহকের কাছে, অন্যটি ব্যাংকের কাছে থাকে। অভিযোগকারী গ্রাহকের চাবি তার কাছেই ছিল, যা ছাড়া গ্রাহকের লকার খোলা সম্ভব নয়। এখানে তিনি কী রেখেছিলেন, তার কোনও ঘোষণাও ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়া ব্যবসায়ী সুমন কুমার দাসের বাড়ি বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপারি ব্যবসা করে আসছেন। সুমন কুমার দাস বলেন, ‘ব্যাংকে আমার একটি লকার আছে। সেখানে গত বছরের ১৫ অক্টোবর আমার মা, খালা, ভাই, স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন আত্মীয়ের প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার একটি বাক্সে জমা রাখি। গত বুধবার বাড়িতে পারিবারিক একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেজন্য ব্যাংকে এসে লকার খুলে দেখি কোনও স্বর্ণালঙ্কার নেই। লকার খালি। আমি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেছি। তারা তদন্ত করছে।’

এদিকে, ব্যাংকের লকার থেকে গ্রাহকের রাখা মালামাল খোয়া গেছে—এমন খবর পেয়ে লকার ব্যবহারকারী অনেক গ্রাহকই ব্যাংকে ছুটে আসেন। তারা তাদের লকার খুলে দেখেন।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের লকার থেকে থেকে স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে স্পষ্ট হওয়া যাবে বিষয়টি। তবে লকারটি আমরা সুরক্ষিত পেয়েছি। ব্যাংকের সুরক্ষিত লকার থেকে কীভাবে বিপুল পরিমাণ অলঙ্কার খোয়া গেলো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’


গাজীপুরে সুজনের সহ-সভাপতি খুন, হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) গাজীপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. কামরুজ্জামান মোল্লাকে (৬৫) শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার (৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরের পূর্ব ধীরাশ্রম এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

কামরুজ্জামান মোল্লা গাজীপুর মহানগরের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপুরা এলাকার বাসিন্দা ও ইদ্রিস আলীর ছেলে। তিনি সুজনের জেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে কামরুজ্জামান নিজ বাসা থেকে গাজীপুর আদালতে একটি মামলাসংক্রান্ত কাজে যান। নির্ধারিত বিচারক উপস্থিত না থাকায় আদালতের কার্যক্রম হয়নি। পরে তিনি আইনজীবীর চেম্বার থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেননি। রাত গভীর হলেও তিনি না ফেরায় স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের তার লাশ উদ্ধারের খবর দেয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, বুধবার (৪ মার্চ) রাত ১১টার আগেই কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা তাকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ধীরাশ্রম এলাকার একটি সড়কের পাশে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

গাজীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের ছেলে কৌশিক জামান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।


banner close