শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষাপদক প্রদানের প্রার্থী বাছাই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:০২
প্রতিনিধি, ঝালকাঠি
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, ঝালকাঠি
প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:৫৯

চলতি বছরের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষাপদক প্রদানের প্রার্থী বাছাই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায়। অভিযুক্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আরজুদা বেগম।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে বাছাই পরীক্ষা হলেও সেই ফলাফল বাতিল করে পুনরায় উপজেলা পর্যায়ে বাছাই পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষাপদক-২০২৩ উপলক্ষে ইউনিয়ন পর্যায়ে যাচাইবাছাই শেষে উপজেলা পর্যায়ে চারটি বিষয়ে বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এই পর্বে চারটি বিষয়ে ৪ জন ছেলে ও ৪ জন মেয়েসহ মোট ৮ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। উপজেলার মঠবাড়ী ও শুক্তাগড় ইউনিয়নসহ উপজেলা পর্যায়ের বাছাইপর্বের প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে ছিলেন আরজুদা বেগম।

ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশ্নপত্র ভিন্ন হওয়ার কথা থাকলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে দক্ষিণ বাঘড়ী ক্লাস্টার, মঠবাড়ী ও শুক্তাগড়ের সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের প্রশ্নে হুবহু মিল রেখেছেন আরজুদা বেগম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, উপজেলার মঠবাড়ী ও শুক্তাগড় ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বায়িত্ব আরজুদা বেগমের। তাই তার দ্বায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করার জন্য এই অসাধু পন্থা অবলম্বন করেছেন।

অভিযুক্ত আরজুদা বেগম বলেন, 'প্রশ্নগুলো আমার হাতে করা তাই কিছু মিলে গিয়েছে। এ কারণে স্যার উপজেলা পর্যায়ে পূর্বে অনুষ্ঠিত হওয়া বাছাই পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে দিয়েছেন।'

রাজাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিবুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে পূর্বে অনুষ্ঠিত হওয়া বাছাই পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করা হয়েছে। আগামী সোমবার এই পরীক্ষা পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে।’


প্রথম দিন পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮২ লাখ, বঙ্গবন্ধুতে টোল আদায়ে নতুন রেকর্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ ও ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

ঈদুল আজহার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ছুটছে মানুষ। তাদের বহনকারী ব্যক্তিগত পরিবহন ও গণপরিবহনে মহাসড়কগুলোতে দেখা দিয়েছে ঠাসা ভিড়। এ ছাড়া পণ্যবাহী ট্রাকগুলো বিধিনিষেধের কারণে চলাচল কম করলেও মফস্বল থেকে ঢাকার পথে আসছে গরুবাহী ট্রাক। ফলে দুই পাড়ের দুই বড় নদী পদ্মা ও যমুনার ওপরে নির্মিত দুই সেতুর টোলপ্লাজায় টোল আদায়ও বেশ জমজমাট। এবারের ঈদের তিন দিন ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার মিলে যাওয়ায় টানা ৫ দিনের ছুটি পেয়েছেন কর্মজীবীরা। গতকাল শুক্রবার ছিল ছুটির প্রথম দিন। শুক্রবারের ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮২ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা, পারাপার হয়েছে ৪৪ হাজার ৩৩টি যানবাহন। অন্যদিকে টোল আদায়ের রেকর্ড করে ফেলেছে বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলপ্লাজায়। এদিন ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়েছে ৫৩ হাজার ৪০৭টি যানবাহন, টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৬৩ হাজার ৪০০ টাকা। বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সেতু চালু হওয়ার পর থেকে গত ২৬ বছরে এটি নতুন রেকর্ড। আজ শনিবার উভয় সেতুর কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এবারের ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির প্রথম দিনে শুক্রবার (১৪ জুন) পদ্মা সেতু পারাপার হয়েছে ৪৪ হাজার ৩৩টি যানবাহন, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

পদ্মা সেতুর ব্যবস্থাপক (টোল) মো. আহমেদ আলী জানান, ‘১৪ জুন ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে পারাপার হয়েছে ৪৪ হাজার ৩৩টি যানবাহন, যা থেকে সর্বমোট আয় হয়েছে ৪ কোটি ৮২ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে পদ্মা সেতু পার হয় ২৮ হাজার ৮৯৬টি যানবাহন, যা থেকে নগদ টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫০ টাকা। এ ছাড়া বাকিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের যান পারাপারে টোল রয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫০ টাকা। আর চলন্ত অবস্থায় ইটিসিএস পদ্ধতিতে টোল জমা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা। অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত থেকে সেতু পার হয়েছে ১৫ হাজার ১৩৭টি যানবাহন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা বকেয়াসহ মোট আয় হয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ ১৯ হাজার ৩০০ টাকা।’

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব সাইট অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাত ১২টা থেকে শুক্রবার (১৪ জুন) রাত ১২টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ এক দিনে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৬৩ হাজার ৪০০ টাকা আদায় করা হয়েছে এবং এর বিপরীত সেতুর উভয় টোল দিয়ে ৫৩ হাজার ৪০৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ১৯৯৮ সালে সেতুটি উদ্বোধনের পর এর চেয়ে বেশি টোল আদায় আর কখনো হয়নি।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব সাইট অফিস সূত্র আরও জানায়, শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব অংশের ঢাকা ও ময়মনসিংহের দিকে ৩৩ হাজার ২৫টি যানবাহন পারাপার হয়। এ থেকে টোল আদায় হয় ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং সিরাজগঞ্জ সেতু পশ্চিম অংশে উত্তরবঙ্গের দিকে ২০ হাজার ৬৮৩টি যানবাহন পারাপার হয়। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ৪০০ টাকা।

এর মধ্যে সেতুর টাঙ্গাইলের পূর্ব প্রান্তে ও সিরাজগঞ্জের পশ্চিম প্রান্তে ১০ হাজার ১০৫টি মোটরসাইকেল পারাপার হয়েছে। হালকা ছোট যানবাহনের সংখ্যা ১৯ হাজার ৯৭২টি, বাস পারাপারের সংখ্যা ১২ হাজার ৮৭১টি এবং ট্রাক পারাপার হয়েছে ১০ হাজার ৭৬০টি। এদিকেও যানবাহন পারাপারে বেশি রয়েছে।

২০২৩ সালের ২৮ জুন ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ এক দিনে ২৪ ঘণ্টায় সেতুর ওপর দিয়ে ৫৫ হাজার ৪৮৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ২০০ টাকা। এটিই ছিল সর্বশেষ এ বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আদায়ের রেকর্ড, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন করা হয়। আর ২০২২ সালের ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন।


রাঙামাটিতে বজ্রাঘাতে নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু  

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে এক নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

লংগদু থানা পুলিশের ওসি হারুনুর রশিদ গণমাধ্যমকে বজ্রাঘাতে চার জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লংগদু উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের করল্যাছড়ি চেয়ারম্যান টিলার মো. ইব্রাহিমের স্ত্রী রিনা বেগম (৩৬) নিজ বাড়িতে বজ্রপাতে মারা যান। এ ছাড়া কাপ্তাই হ্রদে বোট চলমান অবস্থায় বজ্রপাতে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

অন্য আরেকটি সূত্র থেকে জানা যায়, উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের একজন ও কাপ্তাই হ্রদে চলমান বোটে বজ্রপাতে তিনজন নিহত হন।

আটরকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আল আমিন বলেন, ‘আটারকছড়া ইউনিয়নের করল্যাছড়ি চেয়ারম্যান টিলার ইব্রাহিম ভাইয়ের স্ত্রী রিনা বেগম (৩৬) বজ্রপাত নিহত হয়েছেন।’

ভাসান্যদম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, ‘মাইনীমুখ থেকে মিনা বাজার যাওয়ার পথে বজ্রপাতে তিনজন নিহত হন এবং একজন পানিতে ডুবে নিখোঁজ রয়েছেন।’

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লংগদু সার্কেল) মো. আবদুল আউয়াল জানান, লংগদু উপজেলার দুই স্থানে বজ্রপাতে মোট চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছেন।


শোলাকিয়ায় ঈদুল আজহার জামাত সকাল ৯ টায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউএনবি

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদুল আজহার জামাত নির্বিঘ্নে করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জামাত শুরু হবে ঈদের দিন সকাল ৯টায়।

জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, ঈদগাহ কমিটির কর্মকর্তাদের তৎপরতা ও দিন-রাতের পরিশ্রমে নামাজের উপযোগী হয়ে উঠছে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। এ মাঠে একসঙ্গে এক লাখের বেশি মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করেন। রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে বন্দুকের গুলির শব্দে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়ার সংকেত দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে মাঠে দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ শোলাকিয়া ময়দানকে জামাতের উপযোগী করার কাজ শেষ হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে ওজুখানা ও টয়লেট। চলছে শোভাবর্ধনের কাজও।

তাছাড়া মুসল্লিদের জন্য সুপেয় পানি, মেডিক্যাল টিম, দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাসহ নানা আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে এরই মধ্যে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বহুসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও কয়েকটি মেডিক্যাল টিম।

দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ট্রেন দুটি মুসল্লি নিয়ে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে এসে নামাজের শেষে আবার ফিরে যাবে।

শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, সুষ্ঠুভাবে জামাত অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জামাতের মুসল্লিদের জন্য দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। যেন মুসল্লিরা নিরাপদে জামাতে এসে নির্বিঘ্নে ফিরে যেতে পারেন। জামাতে শুধু টুপি, মাস্ক ও জায়নামাজ ছাড়া কিছুই বহন করা যাবে না।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ জানান, ২০১৬ সালে শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার কথা মাথায় রেখে এবারও অন্যান্য বারের চেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাঠসহ আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি জানান, নামাজের সময় ২ প্লাটুন বিজিবি, বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব. আনসার সদস্যের সমন্বয়ে নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি মাঠে সাদা পোশাকে নজরদারি করবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। এছাড়াও মাঠসহ প্রবেশ পথগুলোতে থাকছে সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার। আর আকাশে উড়বে পুলিশের ড্রোন ক্যামেরা। এর ফলে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিন্তে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারবেন।

মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়বত খান বাহাদুর কিশোরগঞ্জের জমিদারি প্রতিষ্ঠার পর ইংরেজি ১৮২৮ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ৭ একর জমির উপর এ ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন। সে বছর শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি অংশ নেন বলে মাঠের নাম হয় “সোয়া লাখি মাঠ”। সেখান থেকে উচ্চারণের বিবর্তনে পরিণত হয়ে নাম হয়েছে আজকের শোলাকিয়া মাঠে। মাঠে একসঙ্গে দুই লাখেরও বেশি মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করেন। প্রায় সাত একর আয়তনের মাঠটিতে নামাজের ২৬৫টি কাতার রয়েছে। এবার এ মাঠে ১৯৭তম ঈদের জামাত হবে।


ঘুষ না দিলে বিল আটকে রাখেন গণপূর্তের হিসাবরক্ষক

আপডেটেড ১৫ জুন, ২০২৪ ১৪:৪৮
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনায় চাহিদা মতো ঘুষ না দেওয়ায় বিভাগীয় হিসাবরক্ষক গণপূর্ত বিভাগের তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের বিল আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সম্প্রতি ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা নেত্রকোনা গণপূর্ত কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ওই হিসাব রক্ষকের একটি এলিয়ন ব্যান্ডের সাদা রঙের ব্যক্তিগত গাড়ি আটক করে বিক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা। পরে আবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুপারিশে হিসাব রক্ষক নাছিমা আক্তার রেখার চালকের কাছে গাড়ীর কাগজপত্রসহ গাড়ী ফেরত দেন ঠিকাদাররা। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত নেত্রকোনা গণপূর্ত অফিসের সামনে ঠিকাদাররা গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই হিসাব রক্ষককে প্রত্যাহারের দাবি জানান ।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, যোগদানের পর থেকেই নাছিমা আক্তার রেখা টাকা ছাড়া কোনো বিল-নথিতে হাত দেন না। যারা তাকে টাকা দেন তিনি তাদের বিল ছেড়ে দেন। এ ছাড়া তার চাহিদা মতো টাকা আগে না দিলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে বিল আটকে রাখেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাদিরা কনস্টাকশনের স্বত্ত্বাধিকারী জিল্লুর রহমান বলেন, ‘গত দুই বছর আগে আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২ লাখ ৬১ হাজার টাকার সংস্কার কাজ করি। যথাসময়ে কাজ শেষ করে বিল জমা দেই। নিয়ম মাফিক অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী বিলে স্বাক্ষর করলেও হিসাবরক্ষক নাছিমা আক্তার রেখা বিলটি টাকার জন্য আটকে রাখেন। গত জুন মাসে আমার কাছে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ চাইলে ওই সময় নগদ ৮ হাজার টাকা দেই। কিন্তু তার চাহিদা পূরণ না হওয়ায় তিনি বিভিন্ন অজুহাতে আমার বিলটি আটকে রাখেন।’

চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সুজন ভূঁইয়া বলেন, ‘নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে সংস্কার কাজ শেষে ২০২২ সালের জুলাইয়ে ১৫ লাখ টাকার বিল জমা দেই। কিন্তু হিসাব রক্ষক ওই কার্যালয়ে যোগদান করেই আমার কাছে ৭৫ হাজার ঘুষ চান। টাকা না দেওয়ায় তিনি আমার বিলের পুরো ফাইলটি গায়েব করে দিয়ে এখন বলছেন আমি নাকি কোনো বিল জমা দেইনি। পরে আমি ফটোকপি দেখালে তিনি বলেন এক লাখ টাকা নিয়ে আসেন। এমনকি ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েও কাজ করছেন না। তিনি দামি গাড়িতে করে অফিস করেন।’

ঠিকাদার এনামুল হক রুমেল বলেন, হিসাব রক্ষককে টাকা না দেওয়ায় তার ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বিল আটকে রেখেছেন দেড় বছর ধরে। আমার মতো এ রকম সূচি কনস্টাকশন, নাহিদ এন্টারপ্রাইজ, সরকার এন্টারপ্রাইজ, সাদ এন্টারপ্রাইজ, চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ, ইমন এন্টারপ্রাইজ, নাদিরা কনস্ট্রাকশন, সরকার ট্রেডার্স, রহিমা এন্টারপ্রাইজ, জয়শ্রী এন্টারপ্রাইজ, এস. এ এন্টারপ্রাইজ সহ ২০ জন ঠিকাদারের বিল আটকে রেখেছেন।

জানতে চাইলে হিসাব রক্ষক নাছিমা বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলবো না। আমি কারো কাছ থেকে টাকা নেইনি। আর টাকা চাইলেই সহজেই কি কেউ দিয়ে দেয়?’ গাড়িটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদাররা এভাবে আমার গাড়ির আটকে রেখে কাগজপত্র নিতে পারে না। তবে গাড়িটি আমার না। এটা আমার বোন জমাইয়ের।’ নেত্রকোনা গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসিনুর রহমান বলেন, ‘হিসাব রক্ষকের বিষয়ে অভিযোগ শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিব।’


ঈদ ঘিরে দর্শনীয় স্থানগুলো দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেটেড ১৫ জুন, ২০২৪ ১৩:৫৭
হোসেন রায়হান, পঞ্চগড়

ঈদে পঞ্চগড়ের বিনোদনের স্থানগুলো থেকে অবৈধ স্থাপনাসমূহ সরিয়ে নিয়ে পর্যটকদের ভ্রমণ স্বাচ্ছন্দময় করতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সমাজের সচেতন মহল।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষজন ছুটে এসেছেন বাড়িতে। উৎসবের এই আয়োজনকে ঘরে ছুটিকালীন পরিবার-পরিজন নিয়ে জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে ভ্রমণ করেন সবাই। কিন্তু একটি সুবিধাভোগী মহল জেলার এসব পর্যটন কেন্দ্রে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে। তারা পর্যটকদের জিন্মি করে প্রতারণাসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় ফেলে। এলোমেলো পার্কিং, রাস্তা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, স্থানীয় ক্লাব সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজি করে সাধারণ মানুষকে করা হয় হয়রানি। বিশেষ করে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের মহারাজার দিঘি, চাওয়াই অববাহিকা, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো শহরের তুলারডাঙ্গা হিমালয় পার্ক, বোদার টাঙ্গন ব্যারেজ এলাকায় ঘটে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। ফলে এসব পর্যটন কেন্দ্রে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটকরা।

জেলা নাগরিক কিমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এরশাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। প্রকৃতির অপরূপ সাজে সজ্জিত এই সীমান্ত নগরী। অসংখ্য নদনদী, সমতলের চা, মাল্টা, আমের বাগান, মহানন্দর তীরে বসে ভারতীয় সার্চ লাইটের তীর্যক আলোকরশ্মি, বাংলাবান্ধা সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের যৌথ প্যারেড, রওশনপুরে কাজী অ্যান্ড কাজীর আনন্দধারাসহ মহানন্দা থেকে নীল নুড়ি পাথর সংগ্রহের অপরুপ সৌন্দর্য দেখার জন্যে ছুটে আসে মানুষ। জেলা সদর থেকে সোজা উত্তরে ১৫ কিলোমিটার দূরে পঞ্চগড় বাংলাবান্ধা জাতীয় মহাসড়ক ঘেঁষে চাওয়াই নদীর পাড়ে ‘৭১ এর মুক্তাঞ্চল’। প্রশাসনের উচিত এসব পর্যটনস্থল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় চাওয়াই নদীর ওপর সেতুটি বিধ্বস্ত করে দেয় মুক্তিবাহিনী। ফলে পাক বাহিনী প্রবেশ করতে পারেনি এ এলাকায়। যুদ্ধের পুরোটা সময় তাই মুক্ত ছিল এ অঞ্চ। স্বাধীনতার পর চাওয়াই এর ওপর নির্মিত হয়েছে নতুন সেতু। চাওয়াই এর অববাহিকায় কংক্রিটের সুন্দর স্থাপনায় তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। উপজেলা প্রশাসন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এখানে গড়ে তুলেছে শিশুদের জন্যে পার্ক, ভ্রমণকারীদের জন্য নদীর তীর ঘেঁষে বসার ব্যবস্থা, সীমান্ত জেলার নামকরণ ফলক। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত পর্যটকদের পদচারণায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠে এ এলাকা। শীত মৌসুমে এখানে দাঁড়িয়ে সোজা উত্তরে তাকালে চোখে পড়ে সুনীল আকাশ আর হিমালয় দাঁড়িয়ে আছে পাশাপাশি। প্রতি বছর শীত মৌসুমে দেশের নানা স্থান থেকে তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসে অসংখ্য পর্যটক। এই অববাহিকায় সড়ক বিভাগের পরিত্যক্ত সড়কের বিশাল অংশে পর্যটকদের জন্য খোলা স্থানে পার্কিংসহ শিশুদের জন্যে খাবার দোকান, খেলনার দোকানসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পর্যটকরা স্বচ্ছন্দেই সেই জায়গাটি ব্যবহার করে আসছে। হঠাৎ করেই স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী সেটি দখল করে পুরো জায়গাটিতে স্তূপ করে রেখেছে বালি পাথর। ফলে বিড়ম্বনায় পড়েছে সাধারণ পর্যটকরা।

জেলা সদর থেকে বেড়াতে আসা পুলিশ কর্মকর্তা কাইয়ুম আলী বলেন, ‘শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে মানুষ অবসরে পরিবার-পরিজন নিয়ে চাওয়াই নদীর মুক্ত বাতসে ছুটে আসে। সড়ক বিভাগের পরিত্যাক্ত সড়কের ওপর পার্কিং করে এলাকা ভ্রমণ করে। হঠাৎ করেই কিছু বালি ব্যবসায়ী জায়গাটি দখলে নিয়ে বালি পাথরের স্তূপ করেছে। এতে সমস্যায় পড়েছে সকলে।’

জেলা শহরের ব্যবসায়ী হাজী আকতারুল ইসলাম বলেন, শহরে শিশুদের বিনোদনের কোন জায়গা নেই। চাওয়াই অববাহিকায় মানুষজন পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে আসে। সুন্দর নান্দনিক এই পরিবেশটি এখন অবৈধ বালি ব্যবসায়ীদের দখলে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। স্থানীয় অমরখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘মহানন্দা, করতোয়া, চাওয়াই, ডাহুক, গবরা, তিরনইসহ অসংখ্য ছোট নদ নদীর পানিপ্রবাহ, সমতলের চা বাগান, শুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা, রুপ লাবণ্যে ভরা টিউলিপ, সীমান্ত নদীর নীল নুড়ি পাথর পর্যটকদের নানা ভাবে বিমোহিত করে আসছে। সামনে ঈদে এখানে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটবে। পরিষদের পক্ষ থেকে এলাকাটি দখলমুক্ত করতে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শিল্প কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে শীতলক্ষ্যা এখন মৃত প্রায়!

দুর্গন্ধযুক্ত পানি নদী-তীরবর্তী এলাকার পরিবেশে বিপর্যয় ডেকে আনছে
আপডেটেড ১৫ জুন, ২০২৪ ১১:০৪
মো. লতিফ আহম্মেদ আকাশ, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সীমানায় এক সময়ের পরিবেশবান্ধব ও পরিষ্কার পানির ভাণ্ডার শীতলক্ষ্যা নদী এখন মৃত প্রায়। অসংখ্য শিল্প কারখানার অপরিশোধিত বিষাক্ত বর্জ্য ও ডিএনডি এলাকার ময়লা অবাধে নদীতে মিশে পরিবেশ আজ বিপন্ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিচ্ছে। তবে দূষণের এই পাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরতে পারছে কেউই। এতে নদীটি এখন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিল্পবর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এক সময়ের নজরকাড়া শীতলক্ষ্যা। নদীর পানিতে তরল নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানের বিষাক্ত বর্জ্য পড়তে পড়েতে ভিন্ন রং ধারণ করেছে। দুর্গন্ধযুক্ত পানি নদী-তীরবর্তী এলাকার পরিবেশে বিপর্যয় ডেকে আনছে। পানি দূষিত হওয়ায় নদীর জলজ প্রাণী মরে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে নদীর সৌন্দর্য।

স্থানীয়দের মতে একসময় শীতলক্ষ্যা নদীর পানি আয়নার মতো পরিষ্কার থাকলেও কালের পরিবর্তনে আর অসাধু শিল্প কারখানা মালিকদের প্রয়োজন মিটাতে গিয়ে শীতলক্ষ্যা কালো পানির নদীতে পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, নদীর পাড়ে যেসব প্রতিষ্ঠান পানি শোধনাগার ইটিপি প্ল্যান না করেই নদীতে বর্জ্য ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সক্রিয় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর।

আব্দুল করিম নামে শিমড়াইল এলাকার বাসিন্দা দৈনিক বাংলাকে বলেন, এক সময়ে এই নদী ছিল আয়নার মতো। পানি টলমল করত তার। এই পানি খেয়ে পিপাসা মিটাত সবাই। আজ তা এখন সুদূর অতীত। নদীটি এখন মরা খালে রূপ নিয়েছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আবার যদি ফিরে পেতাম সেই নদীটি। তাহলে কতই না শান্তি পেতাম।’ আমেনা আক্তার নামে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘নদীর পাড়ে বসবাসকারীরা এখন নদীর পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ। এ ছাড়া নদীর কালো পানি গায়ে লাগলে নানাবিধ অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়ে পড়ি আমরা।’

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শীতলক্ষ্যার দূষণ রোধে নদী-তীরবর্তী এলাকার সব তরল নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানকে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও সাবধান করা হচ্ছে। নদীটি রক্ষায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছি।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, শীতলক্ষ্যা নদী আমাদের ঐতিহ্য। তাকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।


প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে গেল জাহাজ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

চাল, ডাল, পেঁয়াজ, তেলসহ নানা ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও মালামাল নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে এমভি ‘বারো আউলিয়া’ নামে একটি জাহাজ।

আজ শুক্রবার (১৪ জুন) দুপুর ২টা ১৫মিনিটের দিকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

জানা যায়, জাহাজটিতে দেড় শতাধিক লোকজন ও সরকারি সহায়তায় খাদ্যপণ্য এবং পাঁচটি কোরবানির গরু রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. ইয়ামিন হোসেন জানান, দ্বীপের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজটি পাঠানো হয়েছে। এটি বঙ্গোপসাগর দিয়ে টেকনাফ পৌঁছে ঘোলারচর হয়ে সেন্টমার্টিন পৌঁছাবে। পণ্য সামগ্রীর পাশাপাশি কক্সবাজারে আটকে পড়া সেন্টমার্টিনের অনেক বাসিন্দাও এই জাহাজে করে সেন্টমার্টিন যাবেন।

শুক্রবার সকাল ১০টায় বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ‘এমভি বারো আউলিয়া’ জাহাজে তোলা হয় চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ নানা ধরনের ভোজ্যপণ্য। একই সঙ্গে কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়া সেন্টমার্টিনের বাসিন্দারাও জড়ো হন নিজ এলাকায় ফেরার জন্য।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকালে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের নিরাপত্তায় সেন্টমার্টিন থেকে তিনটি ট্রলারে করে দুই শতাধিক মানুষ টেকনাফ পৌঁছান। এ সময় টেকনাফ থেকে চারটি ট্রলারে করে তিন শতাধিক লোক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে চারটি ট্রলার লোকজন নিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যায়। সেখান থেকে অন্তত দুই শতাধিক মানুষ টেকনাফে ফিরে আসেন। এসময় বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা নিরাপত্তা জোরদার করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে সংঘাতের জেরে টেকনাফ সেন্টমার্টিন নৌরুটের নাফ নদীর নাইক্ষ্যংদিয়া পয়েন্টে বাংলাদেশি ট্রলারকে লক্ষ করে মিয়ানমার থেকে বার বার গুলি ছোঁড়া হয়। এ ঘটনায় গত এক সপ্তাহ ধরে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বীপটিতে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার থেকে কক্সবাজার থেকে বিকল্প পথে জাহাজ চলাচল শুরু করা হয়।


টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালকসহ চারজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন।

আজ শুক্রবার (১৪ জুন) ভোরে কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া এলাকায় বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইলের কলেজের সামনে ভোরে ট্রাক ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে প্রাইভেট কারের চালকসহ তিনজন নিহত ও চারজন আহত হন।

নিহত ব্যক্তিদের এখনো কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে এক ব্যক্তি প্রাইভেটকারের চালক ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ বিষয়ে অ্যালেঙ্গা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মো. সাজেদুর রহমান বলেন, ‘মাঝ রাতের কোনো এক সময় কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া এলাকায় একটি গরু বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে একটি প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ৭ জনকে নেওয়া হয়।’

এ সময় জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ছয় জনের মধ্যে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এখনো নিহত দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কে কালিহাতী উপজেলার পৌলী নামক স্থানে সকাল ৮টার দিকে সিমেন্ট ভর্তি ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে একজন মারা যান।

এ ছাড়াও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।


বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফিরছেন মানুষ, মহাসড়কে ধীরগতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ ট্রাক-পিকআপ কেউ বা মোটরসাইকেলযোগে ছুটছেন। বাড়ি ফিরছেন কর্মস্থল থেকে ঘরমুখো মানুষ।

আজ শুক্রবার (১৪ জুন) সকাল থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের অ্যালেঙ্গা ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

এদিকে, ঈদযাত্রায় মহাসড়কে স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে প্রায় আড়াইগুণ যানবাহন চলাচলের চাপ বেড়েছে। ফলে ঈদে ছুটির প্রথম দিনই মহাসড়কে উত্তরবঙ্গগামী লেনে যানবাহনের দীর্ঘদিন লাইন সৃষ্টি হয়েছে।

ঈদের ছুটি পেয়ে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরছেন গাইবান্ধার হাসান আলী ও তার পরিবার।

তিনি বলেন, ভোরে সাভার থেকে বাসে উঠেছি। এলেঙ্গা এসে যানজটে না পড়লেও গাড়ি চলাচলে ধীরগতি।

পোশাককর্মী জাহানারা সুলতানা বলেন, তার বাড়ি বগুড়ার সান্তাতার। চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস পর্যন্ত কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি তার। কিন্তু সেখান থেকে সেতু পূর্ব আসতে সময় লেগে দুই ঘণ্টার মতো।

অপরদিকে, উত্তরবঙ্গগামী লেনের পুংলী হতে আশেকপুর বাইপাস পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে মালামালসহ ট্রাক সরিয়ে নেওয়ার পর পরিবহনগুলো ধীরগতি চলাচল করছে।

অ্যালেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মীর মো. সাজেদুর রহমান জানান, ভোরে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক পুংলী এলাকায় উল্টে ট্রাকে থাকা বস্তাগুলো সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। এতে কিছু সময় পরিবহন চলাচল বন্ধ ছিল উত্তরবঙ্গগামী লেনে।

তিনি আরও জানান, সার্ভিস লেন চালু রাখা হয়েছিল। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকটি সরিয়ে নেওয়ার পর উত্তরবঙ্গ লেন খুলে দেয়া হলে তখন থেকেই উত্তরবঙ্গগামী লেনে যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করছে এবং মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ রয়েছে।


পদ্মা সেতুতে ঘরমুখো যানবাহনের ঢল

ঈদে ঘরমুখো যানবাহনের ঢল নামে পদ্মা সেতুতে। শুক্রবার সকালের ছবি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

ঈদের ছুটির প্রথম দিন সূর্য ওঠার আগেই যানবাহনের ঢল নামে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার পদ্মা সেতুতে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

আজ শুক্রবার (১৪ জুন) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উত্তর টোল প্লাজামুখী যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ি এই অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়।

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘রাতে পদ্মা সেতু সংলগ্ন ওয়েট স্কেলে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রাখায় শুক্রবার ভোরে মহাসড়কে যানবাহনের জটলা দেখা দেয়। এতে প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের ধীর গতি ছিল।’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা বুথসহ সাতটি বুথে নিরবচ্ছিন্ন টোল আদায় করা হচ্ছে। রাতের অপেক্ষমাণ পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানও এখন চলাচল শুরু করেছে। ফলে টোল আদায়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।’

সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় যানবাহনগুলোকে টোল দিতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে কিছু সময়। সেতু এলাকায় যানবাহন এগুচ্ছে ধীরগতিতে।

মাগুড়াগামী বাসযাত্রী সোহেল রানা বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করি। প্রতিবছরের মত ঈদ ছুটির প্রথম দিনে বাড়ি যাচ্ছি। মহাসড়কে আসতে কোন অসুবিধা না হলেও পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় যানজটে পড়েছি।’

পদ্মা সেতু টোল প্লাজায় অপেক্ষমাণ যাত্রী পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা আলী আহসান বলেন, ‘দেশে গিয়ে কোরবানির পশু কিনবো। বাড়িতে সবাই আমার অপেক্ষায় আছেন। তাই ঈদ ছুটির প্রথম দিনই বাড়ির দিকে রওনা হয়েছি। সেতু এলাকায় ৪০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করছি।’

মোটরসাইকেল চালক ফয়সাল শাহপরাণ বলেন, ‘ভোরে মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে রওনা হয়েছি বাড়ির উদ্দেশ্যে। ভেবেছিলাম ভোরে সেতুর টোল প্লাজা ফাঁকা থাকবে। কিন্তু এখানে এসে কিছুটা ধীরগতিতে পড়েছি। তারপরও তেমন কষ্ট হচ্ছে না। সেতু পার হতে পারলেই আর বেশি সময় লাগবে না বাড়ি পৌঁছতে। এটা ভেবেই ভালো লাগছে।’


ঈদুল আজহা: বাংলাবান্ধায় ৭ দিন বন্ধ থাকেব আমদানি-রপ্তানি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৪ জুন, ২০২৪ ১৩:২০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

মুসলমান ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে চার দেশের সঙ্গে পাথরসহ সকল প্রকার পণ্য আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম ৭ দিন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এসময় বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভূটানের সঙ্গে পণ্য আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে।

আজ শুক্রবার সকালে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই খুদা মিলন এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৫ জুন) চারদেশীয় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে নোটিশ জারি করে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপ।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভারতের ফুলবাড়ি এক্সপোর্টসরস এ্যাসোসিয়েশন, সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক, উল্লিখিত সাপ্তাহিক ছুটিসহ ৭ দিন ব্যাবসায়িক কার্যক্রম বন্ধের একটি চিঠি এরই মধ্যে উভয় স্থল শুল্ক স্টেশন কাস্টমস কর্মকর্তা, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন ও স্টেশন, বাংলাদেশ,সভাপতি/সচিব, মেচি কাস্টমস ক্লিয়ারিং ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, কাকরভিটা, মেছিনগর, নেপাল, ভুটান এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনকে দেওয়া হয়েছে।

সেখানে আগামী ১৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত টানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে৷ সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার থাকায় আগামী শনিবার (২২ জুন) বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর স্থল বন্দরে যথারীতি বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।

এ বিষয়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই খুদা মিলন বলেন, ঈদুল আযহা ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট ৭ দিন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকবে৷

বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অমৃত অধিকারী জানান, ঈদ উপলক্ষে ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক থাকবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার।


সাত দিন পর ঝুঁকি নিয়ে সেন্ট মার্টিনে চলাচল শুরু

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টেকনাফে (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাতায়াতকারী নৌযান লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের কারণে ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বিজিবি ও কোস্টগার্ডের নিরাপত্তায় শুরু হয়েছে ট্রলার চলাচল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ২৫০ যাত্রী নিয়ে অন্তত ১০টি ট্রলার টেকনাফের মুন্ডারডেইল ঘাটে ভেড়ে। তবে সাগর উত্তাল ঝুঁকি নিয়ে এসব ট্রলার থেকে লোকজনকে সরাসরি কূলে ওঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরে কূল থেকে কয়েকটি ডিঙি নৌকা উপকূলের কিছু দূরে সাগরে অবস্থানকারী ট্রলারগুলোর কাছে পাঠানো হয়।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক-সংলগ্ন টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডারডেইল এলাকার সাগর উপকূলের পয়েন্ট দিয়ে সেন্ট মার্টিন থেকে ট্রলারযোগে এসব মানুষ ফিরেছেন বলে জানান।

টেকনাফের ইউএনও মো. আদনান চৌধুরী বলেন, দুপুর ১টার দিকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জেটি ঘাট থেকে ৩টি ট্রলারযোগে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের নিরাপত্তায় তিন শতাধিক মানুষ টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেয়। বিকেল ৩টার দিকে ট্রলারগুলো টেকনাফের মুন্ডারডেইল সাগর উপকূলে পৌঁছে। কিন্তু সাগরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে পণ্যবাহী ট্রলার যাওয়া সম্ভব হয়নি।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, গত ৭ দিন দ্বীপে আসা-যাওয়া বন্ধ থাকায় দ্বীপের খাদ্য পণ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এখন বিকল্পভাবে ট্রলার চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি মিলছে। যে ট্রলারগুলো গেছে ওইসব ট্রলার নিয়ে টেকনাফে থাকা মানুষ ফিরে আসবে।

টানা ৭ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক জরুরি সভায় বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রী আসা-যাওয়া এবং পণ্যবাহী ট্রলার চলাচল শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এ নিয়ে ইউএনও আদনান জানান, বৃহস্পতিবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটের সাগরের বিকল্প পথে যাত্রী পারাপার শুরু হলেও পণ্যবাহী কোনো ট্রলার সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে টেকনাফ ছাড়েনি।

টেকনাফের নাফ নদীর সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কাছে টানা দুই দিন ধরে দেখা মিলছে বড় ধরনের একটি জাহাজের। আর সেই জাহাজ ও মিয়ানমারের স্থলভাগে বুধবার রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত চলেছে গোলাগুলি। এ সময় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ভেসে আসছে টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকায়।

বিষয়:

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের চাবি হস্তান্তর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারা বাংলা ডেস্ক

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, দৈনিক ভোরের পাতা ও দ্য ডেইলি পিপলস্ টাইমের সম্পাদক ও প্রকাশক, এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক ড. কাজী এরতেজা হাসান সিআইপির নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় জেলা শহরের সুলতানপুর বড়বাজার সড়কের ডে-নাইট কলেজ মোড়ে প্রতিষ্ঠিত অস্থায়ী কার্যালয়ে ড. কাজী এরতেজা হাসানের পক্ষে চাবি হস্তান্তর করেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ।

এসময় দলের পক্ষে চাবি গ্রহণ করেন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একে ফজলুল হক। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আখতার হোসেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন অনু, জেলা তাঁতীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি এস এম তুহিন, জেলা তাঁতীলীগের সহ-সভাপতি জাবেদ হোসেন টিপু, পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াস কবির, পৌর যুবলীগের আসাদুজ্জামান রনি, জেলা ছাত্রলীগের শেখ জুবায়ের আল জামান, পৌর যুবলীগের সদস্য মাসুম বিল্লাহ,মিলন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ড. কাজী এরতেজা হাসান নিজ খরচে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের একটি স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেটি হওয়ার আগ পর্যন্ত কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য ২০২২ সালের ১২ জুন ২ হাজার বর্গফুটের ওপর নিজ খরচে অত্যাধুনিক অঙ্গসজ্জায় সজ্জিত এই অস্থায়ী কার্যালয়টি নির্মাণ করে দেন।


banner close