নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পাকিস্তানের ভাবধারায় চলা ব্যক্তিদের শহীদ মিনারে মায়াকান্না করা মানায় না। কারণ তারা এ দেশের কখনো কল্যাণ চায় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দেশ আছে বলেই ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আজ গর্ব করে বলতে পারি আমরা কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছে গেছি।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় শহীদ মিনার চত্বরে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যত দিন শেখ হাসিনার হাতে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ। এটা কোনো স্লোগান নয়, এটা হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস। মানুষ জেনে গেছে শেখ হাসিনাই পারেন একটি স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে। বাংলাদেশ পৃথিবীতে উন্নয়নের রোল মডেল।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি, সেই পাকিস্তানের অবস্থা কী? পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘পাকিস্তান দেউলিয়া হয়ে গেছে।’ এই পাকিস্তান দেউলিয়া হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে ভাষা আন্দোলনসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের রক্ত বৃথা যায়নি।
আলোচনা সভায় বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফছানা কাওছারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র সবুজার সিদ্দিক সাগর, সাধারণ সম্পাদক রমাকান্ত রায়, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, বিরল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া নাহার মঞ্জু, ওসি রেজাউল হাসান রেজা প্রমুখ।
প্রধান অতিথি এর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে একুশের প্রভাতফেরিতে অংশ নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে তিনি উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মালেকের কন্যা জান্নাতুন ফেরদৌস জান্নাতের মৃত্যুতে তার শাহাপাড়ার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে গভীর শোক প্রকাশ ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি শুরু হয়, যা সাধারণত প্রতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে পরিচালিত হয়ে থাকে।
বুধবার (৬ মে) সকাল ১০টায় উপজেলা খাদ্য গুদাম চত্বরে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সুলতানা পারভীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা। এছাড়া ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, এপিএপিও আলি হাসান, কৃষক প্রতিনিধি মো. আব্দুল কুদ্দুস, শেখ আব্দুল গফফার, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কৃষি মন্ত্রণালয় ও খাদ্য বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়। বর্তমান ব্যবস্থায় ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে লটারিতে নির্বাচিত নিবন্ধিত কৃষকরাই গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পান।
এ সময় জানানো হয়, ধানের আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে এবং ধান অবশ্যই পরিষ্কার, পুষ্ট ও চিটামুক্ত হতে হবে। ধানের মূল্য সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনও সবিতা সরকার বলেন, ধান সংগ্রহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দালালচক্রের হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। প্রকৃত কৃষকরাই যেন সরকারি সুবিধা পান, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। তিনি কৃষকদের ধান ভালোভাবে শুকিয়ে ও পরিষ্কার করে নির্ধারিত মান বজায় রেখে গুদামে আনার আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই ধান বিক্রির সুযোগ নিশ্চিত করা হবে এবং মূল্য সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা গুদাম চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান।
নারায়ণগঞ্জ শহরের বোয়ালিয়া খাল এলাকায় র্যাব-১১ এর তিন সদস্যকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযান পরিচালনা করে যৌথ বাহিনী। এতে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী সহ ১৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৬ মে ) সকাল সাড়ে ১১ টায় র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আটককৃতরা হলেন - মোঃ সোহেল রানা (৪০), মোঃ আঃ রাজ্জাক (৪০), জোবায়ের হোসেন (২২), মোঃ শামিম আহম্মদ (২২), মিঠুন (৩৪), মোঃ ইমন প্রধান (২৬), মোঃ আকাশ (৩০), মোঃ রুবেল (৩৭), মোঃ আরাফাত হোসেন (২৮), মোঃ সুজন (৩২), মোঃ হৃদয় মিয়া (৩২), মোঃ টুটুল খান (৩৮), মোঃ রেজাউল করিম (৪৮)। তারা সকলে মাসদাইর এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী। তাদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব কর্মকর্তা জানায়, ৫ মে দুপুরে রামগঞ্জ শহরের মাসদাইর বোয়ালিয়া খাল এলাকায় তথ্য সংগ্রহকালে সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় ৩ জন র্যাব সদস্যদের শরীর জখম ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায়, ৫ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা হতে রাত ১২ টা পর্যন্ত শহরের মাসদাইর এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে এই চক্রের ১৩ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের আস্তানা থেকে ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ছুরি-চাকু ১০টি, চাইনিজ কুড়াল ৭টি, রামদা ২টি, চাপাতি ৩টি, সিসি ক্যামেরা ৪টি, ড্রোন ১টি, নগদ ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া ২৩৫ কেজি গাঁজা, ১১ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে, যা তারা এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। এ ঘটনায় আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব-১১ এর চার সদস্যের একটি টিম বোয়ালিয়া খাল এলাকায় গিয়ে নানা তথ্য সংগ্রহ করে। এসময় এক দল সন্ত্রাসী র্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধারালো অস্ত্রসহ ধাওয়া দেয় ও তিন জন সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত র্যাব সদস্যরা হলেন- ইব্রাহিম, মাহী ও নাজিবুল। তাদের মধ্যে নজিবুল গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। এবং অপর দুজনকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তার সৎ বাবা মতি মিয়াকে (৪৪) আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ। অভিযুক্ত মতি মিয়া উপজেলার মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে শিশুটির মা নিজ স্বামীকে অভিযুক্ত করে সিংগাইর থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভুক্তভোগীর মাকে বিয়ে করেন মতি মিয়া। গত ১ মে গভীর রাতে নিজ ঘরেই শিশুটির ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় সে। ঘটনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে পরদিন সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগী শিশুকে প্রথমে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। এই জঘন্য অপরাধের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধভাবে শীতলক্ষ্যা নদীর সীমায় মাটি কাটার দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনশৃঙ্খলা বিনষ্টের দায়ে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৬ মে ২০২৬) উপজেলার বরিহাটি, তুমলিয়া, ব্রাহ্মণগাঁও ও বক্তারপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
অভিযানে শীতলক্ষ্যা নদীর সীমার মধ্যে অনুমতি ছাড়া মাটি কাটার অপরাধে যমুনা স্পেসটেক জয়েন্টভেঞ্চার লিমিটেডের এইচআর অ্যাডমিন মো. সুজাত উদ্দিনকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণগাঁও এলাকার মো. জহিরুল ইসলাম (৩৬) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযানে মোট দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটিতে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং অপর মামলায় একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কালীগঞ্জ থানার এএসআই স্বপন কুমার পাল এবং বেঞ্চ সহকারী হিসেবে ছিলেন মাহবুবুল ইসলাম।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ভোলার চরফ্যাশনে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (২য় সংশোধিত) প্রকল্প’-এর আওতায় বুধবার সকালে চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই মানবিক সহায়তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও মৎস্য বিভাগের সহযোগিতায় উপজেলার মোট ২ হাজার নিবন্ধিত জেলে পরিবারের হাতে এই বিশাল খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। জনপ্রতি প্যাকেজে দেওয়া হয়েছে ১২ কেজি আটা, ৮ কেজি মসুর ডাল, ১৬ কেজি আলু, ১০ লিটার সয়াবিন তেল, ৪ কেজি চিনি এবং ৪ কেজি লবণ। উদ্বোধনী পর্ব শেষে উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে সুশৃঙ্খলভাবে এই বিতরণ কাজ সম্পন্ন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু।
এসময় অতিথি হিসেবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও রুমানা আফরোজ বলেন, 'ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় সরকার যখন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তখন যেন আমাদের শ্রমজীবী জেলে ভাইদের কষ্ট না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। এই খাদ্য সহায়তা জেলেদের সংকটকালীন সময়ে টিকে থাকতে বড় ভূমিকা রাখবে।'
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় মৎস্য বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রকৃত জেলেরা যেন এই সুবিধার আওতায় আসে, সে বিষয়ে কঠোর তদারকি করা হচ্ছে।
বিপুল পরিমাণ এই খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে জেলেরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, বর্তমান বাজার দরের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এই সহায়তা তাদের পরিবারে বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে। এর ফলে ইলিশ রক্ষায় সরকারি আইন মেনে চলতে তারা আরও উৎসাহিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাগেরহাটের শরণখোলায় সংখ্যালঘু (হিন্দু) একটি পরিবারের ওপর হামলা, বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে ভুক্তভোগী রবীন ঢালী ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জামাল শিকদারের ছেলে রাজু শিকদার এবং রাজৈর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে নাইম ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই এলাকার প্রভাবশালী সোবাহান হাওলাদারের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল রবীন ঢালীর বাড়িতে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা দা, হাতুড়ি, শাবল ও লাঠিসোটা নিয়ে বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘর ও ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে। বাধা দিতে গেলে বাড়ির নারী সদস্যদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রবীন ঢালী বলেন, “আমি বাইরে থাকার সুযোগে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বসতঘরসহ সব কিছু ধ্বংস করে এখন আমি নিঃস্ব, এই দেশে থাকার মতো অবস্থাও নেই।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ঘটনার পরদিন দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা জানান, এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, তবে তার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মামলা হয়েছে, দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
চরফ্যাশনে কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা দায়েরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। বিএনপির বহিষ্কৃত এক নেতার করা এ মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক’ উল্লেখ করে তা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে চরফ্যাশন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা এতে অংশ নিয়ে সংহতি জানান।
সভায় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণের চেষ্টা করছেন। তারা বলেন, ওই নেতা প্রথমে সাংবাদিকদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন এবং পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রতিহিংসাবশত বরিশাল সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন।
সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, 'সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার জন্য এ ধরনের মামলার আশ্রয় নেওয়া মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য চরম হুমকি। ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগ করে সত্যের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা অতীতেও সফল হয়নি, বর্তমানেও হবে না।' তারা আরও বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ বিঘ্নিত হলে সমাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নষ্ট হবে।
বক্তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। হয়রানিমূলক এই মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল মামলাটি দায়ের করা হলে আদালত তা রেকর্ডভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনার পর থেকেই চরফ্যাশনের সাংবাদিক সমাজে অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রতিবাদ সভায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৬ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের হাজীপাড়ায় মৃত আনারুল ইসলামের ছেলে সানোয়ার হোসেন পলাশের বাড়ির গেটের সামনে থেকে বস্তুটি উদ্ধার করা হয়।
সানোয়ার হোসেন পলাশের চাচাতো ভাই শামীম হোসেন জানান, সকালে হাঁটতে বের হয়ে বাড়ির মূল ফটকের সামনে কালো টেপে মোড়ানো একটি বস্তু দেখতে পান। পরে বিষয়টি সানোয়ার হোসেন পলাশ ও পুলিশকে জানানো হয়।
সানোয়ার হোসেন পলাশ জানান, বোমা সদৃশ বস্তুটিতে লেখা ছিল হাত দিলেই বাস্ট। তবে কে বা কারা এটি সেখানে রেখে গেছে, তা তিনি জানাতে পারেননি।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বস্তুটি নিরাপত্তার জন্য পানিভর্তি বালতিতে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে পৃথক দুইটি অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব এ.টি.এম কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে গত ৪ ও ৫ মে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ৪ মে উপজেলার ছাতিয়ানী এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় সামশুল হক খন্দকার (৬৫), পিতা- ইউসুফ আলী খন্দকারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া ৫ মে রাথুরা এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে একই আইনে আরও একজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
উভয় অভিযানে বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোঃ আলামিন ভূইয়া।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়, অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার (৬ মে) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব-১৪ এর একটি দল তাকে আটক করে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলা থেকে র্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ) এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। দুপুরের দিকে র্যাবের পক্ষ থেকে আসামিকে আমাদের হাতে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। আসামিকে আমাদের হাতে হস্তান্তরের পর যত দ্রুত সম্ভব আমরা তাকে আদালতে প্রেরণ করব।”
তিনি আরও বলেন, “আসামিকে হাতে পাওয়ার পর যদি সময় থাকে, আমরা আজকেই তাকে আদালতে প্রেরণ করব। অন্যথায় আগামীকালকে তাকে আদালতে প্রেরণ করতে হবে।”
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ দুপুর ১২টায় আলোচিত এই মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিষয়ে র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক প্রেস ব্রিফিং করবেন।
চৈত্রের খরতাপ পেরিয়ে বৈশাখের শুরুতেই এক পশলা বৃষ্টির জন্য হাহাকার থাকে জনজীবনে। মাঠভরা সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর হন কৃষক; কিন্তু প্রকৃতির অকাল খেয়াল ঋতুচক্রের হিসাব এবার সব ওলটপালট করে দিয়েছে। অসময়ের টানা বৃষ্টি আশীর্বাদ নয়, বরং আকাল হয়ে হানা দিয়েছে কৃষকের ঘরে ঘরে। দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত জেলাগুলোয় কান পাতলে কেবলই কৃষকের হাহাকার শুনতে পাওয়া যায়। দৈনিক বাংলার
প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন বিস্তারিত।
তারা বলছেন, ধান ঘরে ওঠার কথা ছিল স্বস্তি হয়ে; কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই স্বস্তিই এখন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা বৃষ্টি আর রোদের অভাবে বস্তাবন্দি ভেজা ধানে জন্ম নিচ্ছে সাদা অঙ্কুর। সোনালি ধান আজ যেন চিন্তার রঙে ঢেকে গেছে; খোলা আকাশের নিচে চলছে কৃষকের ধান বাঁচানোর লড়াই।
কৃষকেরা প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়া খেত থেকে যা ধান তোলা গেছে, তা খুবই সামান্য। তোলা ধানের অনেকটাই সময়মতো শুকাতে না পারায় নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের দিকে তাকালেই তাদের বুক কষ্টে ভরে ওঠে। যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা, সেখানে এখন খলায় আছে মাত্র ১০–২০ মণ। অনেকেই ধান দিয়ে শোধ করার শর্তে আগাম ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। এখন সেই ঋণের বোঝা আরও ভারি হয়ে উঠেছে। ঋণ শোধ তো দূরের কথা; বছরের খোরাকিও জুটবে না।
এদিকে, সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০,০০০ হেক্টর জমির বোরো ধান ও ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে এই ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ হেক্টর পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার : রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের অন্তেহরি গ্রামের চিত্র সবচেয়ে বেশি খারাপ। পাকা ধানের খেত পানির নিচে, কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যায়নি। অনেক ধান পচে গেছে, কোথাও আবার অঙ্কুর গজিয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে অন্তেহরি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জুমাপুর সড়ক থেকে অন্তেহরি বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধান ও খড় বিছানো। গ্রামে ফাঁকা জায়গা বলতে কিছু নেই—সবখানেই ভেজা ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। কোথাও যন্ত্রে ধান মাড়াই চলছে। হাওরের দিকে নারী–পুরুষ ছড়িয়ে কাজ করছেন। ধান শুকাতে ব্যস্ত সবাই।
একটি খলার পাশে দাঁড়িয়ে সুমি রানি দাস বলছিলেন, খলায় এ সময় চাইরবায় (চারপাশে) ধানর গিলা (স্তূপ) থাকে। এখন ধানই নাই। খলায় এখন ২০-২৫ মণ ধান আছে। এবার ধান অইছিল খেতে। ২০-২২ মণ ধান অইলোনে কিয়ারও (১ কিয়ার=৩০ শতাংশ)। ২২ কিয়ার করছিলাম। যদি দিন দেয়, তাইলে সাত কিয়ার তোলা যাইব। বড় খলা করছিলাম, ৭০ মণ ধান আটে। ৪০০ থাকি সাড়ে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা। ১০০ মণ পাইমু কি না সন্দেহ আছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, দুশ্চিন্তা শুধু ফলনহানিই নয়, ঋণ শোধ নিয়েও। অনেক কৃষক ৮০০ টাকা মণ দরে ধান দেওয়ার শর্তে আগাম টাকা নিয়েছিলেন। দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সুদ বা দাদন ছাড়া ঋণের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে বাধ্য হয়েই এ ধরনের শর্তে ঋণ নিতে হয়।
অন্তেহরি গ্রামের সুখেন দাস বলেন, যেদিন ধান কাটার পরিকল্পনা করছি, শ্রমিক জোগার করছি। ওইদিনই এক রাইতে ক্ষেতর মধ্যে কোমরসমান পানি। চাইর আনাও ধান কাটা অইছে না। ঋণের জ্বালায় প্রায় জনরই বাড়িঘর ছাড়া লাগব। ১৫ বছরর মাঝে এত ক্ষতি অইছে না।
তিনি বলেন, ভাবছিলাম ২০০ মণ ধান পাইমু। ১০০ মণে ঋণ দিমু। ১০০ মণ থাকব। এখন ধান, খেড় সব গেছে।…এখন গরু বাঁচব, না মানুষ বাঁচব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন গতকাল মঙ্গলবার বলেন, জেলার হাওরাঞ্চলে ৩ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে ৪০০ হেক্টরের মতো হতে পারে। হাওরে পানি সামান্য বাড়ছে। এক দফা কৃষকের ক্ষতি হয়ে গেছে।
হবিগঞ্জ: ডুবাইল থাকা ধান তেইক্কা যদি ঘরের খাওনের লাগি কিছু ধান তুলতাম পারি তই খুশি, অখন চেষ্টা করতাছি অন্তত ঘরের খাওনটা যাতে তুলতাম পারি। আঞ্চলিক ভাষায় কথাগুলো বলছিলেন বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুরের সিংগের বিল হাওরের কৃষক রমজান আলী (৫৫)।
রমজান আলীর মতো হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের এখন একটাই চেষ্টা—ডুবে থাকা জমি থেকে অন্তত পরিবারের খাবারের ধানটুকু ঘরে তোলা।
টানা বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল তলিয়ে গেছে। জেলার কৃষি বিভাগের হিসাবে, ছয় উপজেলার প্রায় ৪৫ শতাংশ বোরো জমি পানির নিচে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক প্রায় ২০ হাজার।
গত এক সপ্তাহে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে জেলায়। এর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের হাওরের পানি এসে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই, নবীগঞ্জের আংশিক, বাহুবল ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন হাওর প্লাবিত করেছে। জেলার বৃহত্তম গুংগিয়াজুরী হাওরও একইভাবে ডুবে আছে।
বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের সিংগের বিল হাওরে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কোথাও ভাসছে ধানের শিষ, কোথাও পুরো খেত ডুবে গিয়ে শুধু শিষের মাথা দেখা যাচ্ছে। পাশের পৈলারকান্দি, মন্দরী ও মক্রমপুর ইউনিয়নের হাওরেও একই চিত্র। হাওরের বুকজুড়ে ছোট ছোট ডিঙিনৌকা। তাতে দাঁড়িয়ে বা বসে কৃষকেরা ধান কাটছেন। কেউ কোমরসমান পানিতে নেমে কাস্তে চালাচ্ছেন। দেখে বোঝার উপায় নেই নিচে ফসলি জমি।
শতমুখা গ্রামের কৃষক শামছু মিয়া (৫০) বলেন, ভাই, এভাবে ধান কাটতে হবে কখনো ভাবিনি। জমি তো চোখেই পড়ে না, আন্দাজে কাটতেছি।
একই এলাকায় নৌকায় বসে ধান কাটছিলেন সাইদুল হক। মাঝেমধ্যে ঢেউয়ে নৌকা দুলে উঠছে, তবু কাজ থামছে না। তিনি বলেন, পানি যদি ৭ দিন থেকে ১০ দিন পরে আসত, তাহলে অন্তত ঘরের খাওয়ার ধানটা কাটা সম্ভব হতো। এখন তো ডুবে থাকা ধান তোলা কঠিন হয়ে গেছে শ্রমিক–সংকটে।
হাওরের অন্য প্রান্তে কয়েকজন মিলে দল বেঁধে ধান কাটছিলেন। একজন কাটছেন, আরেকজন নৌকায় তুলছেন। তাদের চোখেমুখে সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। একজন কৃষক বলেন, ‘ক বছর খাটছি এই জমির জন্য। এখন যদি সব পানিতে ডুবে যায়, তাহলে সংসার চলবো কীভাবে?
ষাটোর্ধ্ব কৃষক আইযুব আলী বলেন, হাওরের মানুষ পানির সঙ্গে লড়াই করতে জানে; কিন্তু এবার পানি খুব তাড়াতাড়ি আইছে। এই ক্ষতি পুষানো কঠিন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক দিপুল কুমার পাল জানান, চলতি মৌসুমে হবিগঞ্জে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ হাওরাঞ্চলে। তবে আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে এখনো ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো চলছে।
শেরপুর: ঝিনাইগাতীতে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। এবার ফলন ভালো হলেও ধানের দাম নিয়ে অসন্তোষ কৃষক। এক মণ ধানের দামেও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে একজন শ্রমিকের জন্য এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কষ্টে ফসল ঘরে তুলতে না তুলতেই কৃষকের মুখ মলিন হয়ে গেছে।
উপজেলার জুলগাঁও গ্রামের কৃষক মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, একসঙ্গে মাঠের সবার ধান পেকে গেছে; তার ওপর বৃষ্টি। নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ কিন্তু ধানের দাম পড়ে গেছে। এখন ধান ঘরে তুলব কীভাবে, বুঝতে পারছি না।
জানা গেছে, এলাকায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। চারদিকে মাঠভরা পাকা ধান। তবে এই সম্ভাবনার মাঝেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ঝড়-বৃষ্টি। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
বালিয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সাদ্দাম মণ্ডল বলেন, ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, কীটনাশক সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ধার-দেনা, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের ধান চাষ হয়েছে। ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। ধান ৮০ ভাগ পেকে গেলেই কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শিলা বৃষ্টি ও আগাম পানির কারণে কৃষক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এ ছাড়া কৃষকেরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান।
কুড়িগ্রাম: টানা ঝড় ও বৃষ্টিতে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঋণ করে ফলানো পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকের শ্রম আর আশা। এতে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কয়েকদিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে অনেক জমির পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও আবার ঝড়ে ধানের শীষ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ফলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, মৌসুমজুড়ে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারা বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু ঠিক ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে এমন দুর্যোগে সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে।
কৃষক মমিনুর ইসলাম বলেন, অনেক কষ্ট করে ধান লাগাইছিলাম, কিন্তু বৃষ্টিতে সব নষ্ট হইয়া গেল। এখন কীভাবে সংসার চলবে বুঝতেছি না।
মজিবর রহমান নামে অপর এক কৃষক বলেন, টানা বৃষ্টি আর ঝড়ে আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। যে ধান কাটার জন্য প্রস্তুত ছিল, সেগুলো এখন পানির নিচে। অনেক জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণ করে চাষ করছিলাম, এখন কীভাবে সেই টাকা পরিশোধ করবো বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে আমরা সাহায্য চাই।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, কৃষকদের সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে কিছু জমির ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হতে পারে।
সুনামগঞ্জ : দেখার হাওর পাড়ের গোবিন্দপুর গ্রামের দুই সহোদর এমরান মিয়া ও সামরান মিয়া ধারদেনা করে ১৭ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হলেও এখনো পুরো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি তারা।
তাদের মধ্যে ১০ বিঘার ধান কোনোভাবে কেটে খলায় তুললেও বাকি ৭ বিঘা জমি এখনো পানির নিচে। জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে হারভেস্টার নামানো সম্ভব হয়নি, আবার শ্রমিকের সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে দুই ভাইয়ের।
এমরান মিয়া বলেন, খরচ তো করলাম অনেক। কিন্তু এখন ধান শুকানোর সুযোগ নেই। বেপারীরা এসে কম দাম বলতেছে, বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই চিত্র জেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায়।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের জানিগাঁও গ্রামের কৃষক জব্বার মিয়া বলেন, সরকার ধান কিনবে ১৪৪০ টাকায়, এই খবরই আমাদের ঠিকমতো জানানো হয়নি। বেপারীরা এসে ৬০০–৭০০ টাকা বললেই বিক্রি করতে হয়।
জলিলপুর গ্রামের কৃষাণী রংমালা বিবি জানান, বৃষ্টির কারণে ধান ভেজা অবস্থায় খলাতেই নষ্ট হচ্ছে। অনেক ধানে অঙ্কুরও গজিয়েছে। বেপারীরা ৭০০ টাকা দাম দিছে, আর অপেক্ষা করার উপায় নাই।
তবে জেলা খাদ্য বিভাগ বলছে, কৃষকদের সচেতন করতে মাইকিংসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বি এম মুশফিকুর রহমান জানান, এ বছর জেলায় ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ২০ হাজার ১৬০ হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে।
নেত্রকোনা: টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়া স্বপ্ন বাঁচাতে বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন কৃষকেরা। দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর গতকাল মঙ্গলবার রোদের দেখা মেলায় হাওরজুড়ে ধান মাড়াইয়ের ব্যস্ততা বাড়লেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। একদিকে শ্রমিক সংকট ও উচ্চ মজুরি, অন্যদিকে ধানের পানির দর, সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার কয়েক লাখ কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৮০১ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। প্রায় ২৯ হাজার ৩৭১ হেক্টর জমির ধান কাটা হলেও এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ ফসল মাঠেই রয়ে গেছে। কেবল অতিবৃষ্টির কারণেই পুরো জেলায় ১৮ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলেই রয়েছে ১১ হাজার ২৩০ হেক্টর।
আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী বাগরা হাওরের কৃষক কামাল মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে ধান কাটাই যাচ্ছিল না। বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। এত খরচ দিয়ে ধান কেটে বাজারে নিচ্ছি, কিন্তু দাম পাচ্ছি মাত্র পাঁচ-ছয়শ টাকা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ধলিপুরি খালটি বন্ধ থাকায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না, যা জলাবদ্ধতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করছে।
জেলা প্রশাসনের (স্থানীয় সরকার) উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, তালিকা সঠিকভাবে করার জন্য কৃষি বিভাগকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে, যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৬৯ হাজার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম জানান, খালিয়াজুরী হাওরেই ৬ হাজার ১৯০ হেক্টর জমি সরাসরি আক্রান্ত হয়েছে। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
নওগাঁ : বরই ধান ঘরে তোলার কথা থাকলেও হঠাৎ বৃষ্টির পানিতে তা এখন তলিয়ে গেছে। এতে কয়েকশ কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে এমন পরিস্থিতিতে তাদের মাথায় হাত পড়েছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন, ফলে ক্ষতির আশঙ্কা আরও বাড়ছে।
স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অনেক মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন।
ঢাকা-১৭ এলাকার মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, কড়াইল, ভাষানটেক, সাততলার মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প, নির্মাণ সবখানে তাদের শ্রম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
তিনি আরও বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের বড় একটি অংশ প্রায় ৪২.৬ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তারা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না কারণ অসুস্থতা মানেই আয় বন্ধ।
ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে।
ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব। এ ল্যাবকে ঘিরে দেশের উত্তর-মধ্য অঞ্চলে কৃষিতে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। আনারসের নতুন জাত ফিলিফাইনের এমডি-২, জি-নাইন (G-9) কলা এবং সবজিসহ বিভিন্ন ফল ও ফসলের রোগমুক্ত চারা উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে এই সেন্টারটি।
উদ্যানতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশের কৃষি এখন আর শুধু সনাতন পদ্ধতিতে আটকে নেই, বরং জীবপ্রযুক্তি ও আধুনিক বিজ্ঞানের এক অভূতপূর্ব অভিযাত্রায় প্রবেশ করেছে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার ধীরে ধীরে এই কৃষি-বিপ্লবের একটি নতুন প্রতীক হয়ে উঠছে।
প্রকল্পের নাম: সরকারের ‘টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প’।
মেয়াদকাল: ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত চলবে।
উৎপাদন শুরু: ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ল্যাবটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
অন্য কেন্দ্র: দেশব্যাপী বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় ধনবাড়ী ছাড়াও সাভারের রাজালাখ, বান্দরবানের বালাঘাটা, কুমিল্লা এবং ভোলার চরফ্যাশনেও আধুনিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ল্যাবের সম্ভাব্য সুবিধা ও প্রভাব: ধনবাড়ী সেন্টারটি ভৌগোলিক ও কৃষি সম্ভাবনার দিক থেকে বিশেষ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে দক্ষ টিস্যু কালচারিস্ট নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
এমডি-২ আনারসের সম্প্রসারণ: মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী আনারসকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন করার জন্য এ ল্যাবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এমডি-২ জাতের আনারসের চারা উৎপাদন করা হবে। এর মিষ্টতা, আকর্ষণীয় সোনালি রং, দীর্ঘ সংরক্ষণক্ষমতা ও রপ্তানিযোগ্য মানের কারণে মধুপুরের আনারস শক্তিশালী ব্র্যান্ডে পরিণত হতে পারে।
ফ্লোরিকালচার জোন: জারবেড়া ও অর্কিড চাষের মাধ্যমে ‘ফ্লোরিকালচার জোন’ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
রোগমুক্ত চারা ও বহুমুখী কৃষি: উন্নত জাতের পেঁপে, বিভিন্ন সবজি ও বহুমুখী কৃষির সম্প্রসারণ এবং রোগজীবাণুমুক্ত চারা নিশ্চিত করা হবে।
ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ রাসেল পারভেজ তমাল বলেন, কৃষির আধুনিকায়নের এই যুগে রোগমুক্ত উন্নত জাতের চারা সরবরাহই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ধনবাড়ীর টিস্যু কালচার ল্যাব এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিনির্ভর চারা উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়বে, প্রতারণা কমবে এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।
তিনি আরো বলেন, ল্যাবটির উৎপাদন শুরু হলে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য জাতের ফসল উৎপাদন হবে, যার সুফল মাঠপর্যায়ের চাষিরা পাবেন। এতে শুধু কৃষকের উপকারই হবে না, বরং দেশীয় সীমা পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও সৃষ্টি হবে।