২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সারের একটি নকল কারখানা সিলগালা করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সাড়ে পাঁচ বছর পরে এসেও ওই কারখানায় আবার নকল সার পাওয়া গেছে। কারখানাটি থেকে নকল সার নিয়ে বগুড়ার সরকারি বাফার গোডাউনে গিয়ে সম্প্রতি একটি চালান ধরা পড়েছে।
ওই সময় সার কারখানাটির মালিক ছিলেন যমুনা মিশ্র ফার্টিলাইজারের মালিক সাইদুর রহমান। সিলগালার পর আবারও কারখানা চালু করে সেখানেই নকল সারের ব্যবসা করছিলেন তিনি। সিলগালা হওয়া কারখানাটি দুই বছর আগে চালু হয়েছিল।
দৈনিক বাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুলিশের রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) ঢাকার কমান্ড্যান্ট পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে কারখানাটি চালাচ্ছিলেন সাইদুর রহমান। বছর দুয়েক এটি সিলগালা অবস্থায় ছিল। তারপর আবারও ভাড়া নিয়ে একই কাজ করছিলেন তিনি।
সাভার থানার হেমায়েতপুরের আলীপুর ব্রিজসংলগ্ন ৫৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে গোডাউনটির অবস্থান। বাড়িটি চারপাশ উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। রয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা। সেখানেই তৈরি হয় নকল সার। গোডাউনটির মালিক মিজানুর রহমান এখনো ঢাকার কমান্ড্যান্ট পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবেই কর্মরত আছেন।
এসপি মিজানের বিরুদ্ধে ২০১২ ও ২০১৭ সালে দুটি পৃথক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ ছিল, তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ আয় করেছেন। নকল সারের কারখানা পরিচালনা করেছেন। ওই দুটি অভিযোগ থেকেই তিনি মুক্তি পান।
টেলিফোনে এসপি মিজানুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি সেটা আরেকজনকে ভাড়া দিয়েছি। সেখানে কী হয় সেটা আমি জানি না।’ এর আগেও তো এই একই ব্যক্তি সেখানে নকল সার তৈরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন, তাহলে আবার কেন ভাড়া দিলেন, জানতে চাইলে তিনি এর কোনো উত্তর দিতে চাননি।
সরেজমিনে নকল সারের সন্ধানে
গত ২৭ আগস্ট চট্টগ্রামের পতেঙ্গা টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে ছেড়ে আসা ১৭টি ট্রাকের মধ্যে ১২টি ট্রাক ২৮ আগস্ট সকাল ১০টার মধ্যে হেমায়েতপুরে সাইদুর রহমানের গোডাউনে এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে ছয়টি ট্রাকের সুনির্দিষ্ট সন্ধান নিতে পেরেছে দৈনিক বাংলা। এগুলো হলো ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-০৫৮৭, ঢাকা মেট্রো-ট-১১-১০৪১, ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৯৩২৩, ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৫৩৮৫, ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-০৮৯৯ ও ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-৩০১৫। ওপরে ট্রাকগুলোর মধ্যে মেট্রো-ট-১৮-৩০১৫ নম্বরের ট্রাকটিতে গত ২৮ আগস্ট রাত সাড়ে নয়টায় নকল সার আনলোড করা হয়। নকল সার আনলোডের ভিডিও এই প্রতিবেদক গোপনে ধারণ করেন।
গত ২৮ আগস্ট রাত সাড়ে নয়টা থেকে দশটা পর্যন্ত এই প্রতিবেদক কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, হাজার হাজার নকল সারের বস্তা। ট্রাক থেকে আসল সার নামিয়ে আলাদা করে স্তূপকারে রাখা হয়েছে। আর নকল সারের বস্তার মুখ সেলাই করে তোলা হচ্ছে ট্রাকে। নকল টিএসপি কারখানার ভেতরে দেখা যায়, এসিডি মিশিয়ে চুন নরম করা হচ্ছে। তারপর একটি হাঁড়িতে সেই চুন ফেলা হচ্ছে। হাঁড়ি যন্ত্রের সাহায্যে ঘুরছে। কিছু সময় পর সেখান থেকে অবিকল টিএসপি সার বের হচ্ছে। সেই টিএসপি সার শুকানোর পর বস্তায় ভরা হচ্ছে। এরপর সরকারি আসল সার ট্রাক থেকে নামিয়ে সেখানে নকল সার তোলা হচ্ছে।
নকল সারের কারখানা চালানোর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাঈদুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটা আগে করতাম এখন করি না।’
২৮ আগস্ট এই প্রতিবেদক কারখানার ভেতর গিয়ে নকল সার উৎপাদন এবং ট্রাকে বোঝাই করার দৃশ্য ভিডিও করেছে জানালে সাইদুর রহমান বলেন, এখন থেকে আর করব না। চলেন আমরা কোথাও দেখা করি। যেখানে আসতে বলবেন সেখানে আসব।
বগুড়ায় নকল সার যেভাবে ধরা পড়ল
দৈনিক বাংলার এই প্রতিবেদক বগুড়ার বাফার গোডাউনের ইনচার্জ মো. মোস্তফা কামালকে গত ২৯ আগস্ট সকাল ১০.৩০টায় সুনির্দিষ্ট ৬টি ট্রাকের নম্বর দিয়ে জানান, ট্রাকে আসল সারের বদলে নকল সার এসেছে। এই সারগুলো পরীক্ষা করার অনুরোধ জানান তিনি।
টেলিফোনে মোস্তফা কামাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ট্রাকে আসা সার দেখে আমার নকল মনে হয়নি। তারপরও দেখব।’
এ প্রসঙ্গে তাকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, ‘নকল সার দেখে বোঝার সুযোগ নেই। আপনাকে নকল বুঝতে গবেষণাগারে পাঠাতে হবে।’
গত ২৯ আগস্ট সকালে বগুড়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল রাজশাহী মৃত্তিকা সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠান নমুনা সার। রাজশাহী মৃত্তিকা সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো নমুনা সারের বিষয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন আসে, সেখানে বলা হয় ওই সার আসল নয়, নকল। এদিনই এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের তিন মাথা রেলগেট এলাকায় বাফার গুদাম চত্বর থেকে ১৩ জনকে আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১২)।
গত শুক্রবার বগুড়া বাফার টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় নকল সার দেয়ার অভিযোগে এমএইচআরের মালিক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ও তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বাকি ১৬ ব্যক্তি হলেন ট্রাকের চালক ও চালকের সহকারী।
নকল সারের হোতা যারা
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মালিকানাধীন চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় টিএসপি সার কারখানার সার দেশের ২৬টি বাফার গোডাউনে ট্রাকে করে পৌঁছে দেয়ার কাজ পেয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে এম.এইচ.আর করপোরেশন ও সৈয়দ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে আসল সার বদলিয়ে নকল সার গছিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের গত ১৭ মার্চ টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মোহাম্মদ সোলায়মান সৈয়দ এন্টারপ্রাইজের মালিক আহসান হাবিবসহ আরও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি থানায় সরকারি টিএসপি পরিবহনকালে চুরি করে নকল টিএসপি দেয়ার অভিযোগে মামলা করেন।
ভেজাল সারে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নের শঙ্কা
ঢাকার মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের দুজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিএসপি ফসফেট সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার। এ সারে শতকরা ২০ ভাগ ফসফরাস, ১৩ ভাগ ক্যালসিয়াম এবং ১.৩ ভাগ গন্ধক থাকে। ফসফরাস ফসলের শিকড়ের বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক বিশিষ্ট মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ড. মো. মকবুল হোসেন টেলিফোনে বলেন, নকল সারে যে উপাদান থাকার কথা সেটা থাকে না। এখন গাছে নানান ধরনের নিউট্রিয়েন্টস বা অনুখাদ্যের প্রয়োজন হয়। যদি গাছ সেগুলো পর্যাপ্ত না পায় তাহলে গাছের ফলন কমে যাবে। কৃষক টিএসপি ভেবে টাকা দিয়ে সার কিনল কিন্তু সেটি আসলে টিএসপি না। এটা কৃষকের সঙ্গে প্রতারণা।
ঈদুল আযহা-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের ভাতাভোগী সদস্য-সদস্যা ও কর্মচারীদের জন্য ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের আয়োজন করেছে। সদস্যদের কল্যাণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করার লক্ষ্যে গৃহীত এ উদ্যোগের সমাপনী অনুষ্ঠান শনিবার (২৩ মে) ঢাকার খিলগাঁওস্থ বাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
এই উদ্যোগের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ভাতাভোগী সদস্য-সদস্যা এবং ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট ২৮,৩৬৫ জনের মধ্যে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপহারের প্যাকেটে ছিল পোলাউয়ের চাল, সেমাই, সুজি, গুঁড়া দুধ, নুডলস,চিনি, এবং বিভিন্ন ধরনের রান্নার মসলা। পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে সদস্য ও কর্মচারীদের মাঝে আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহ সৃষ্টি করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সংস্কার পরিকল্পনা ২০৩৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমাদের সুসংগঠিত ও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন আমরা আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হই। পেছনে ফিরে তাকানোর সময় এখন নয়; বরং সামনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি আরও বলেন যে, আমাদের সক্ষমতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রা বহুগুণে ত্বরান্বিত হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্বশীল, কর্মনিষ্ঠ ও আত্মনিবেদিত হয়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপমহাপরিচালকবৃন্দসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।
এ ধরনের কল্যাণমুখী উদ্যোগ বাহিনীর সদস্য ও কর্মচারীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা, সহমর্মিতা এবং মানবিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল প্রতিফলন। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত এই উপহার বিতরণ কর্মসূচি সদস্যদের মাঝে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, প্রেরণা ও কর্মউদ্দীপনা আরও সুদৃঢ় করবে, যা বাহিনীর সামগ্রিক মনোবল, ঐক্য ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আর মাত্র কয়দিন পরেই ঈদুল আযহা। এরই মধ্যে কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের চাপ বাড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে। তবে পশুবাহী ট্রাকের চাপ বাড়লেও দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি ছাড়াই সরাসরি ফেরির নাগাল পাচ্ছে পশুবাহী যানবাহনগুলো। এতে খুশি গরুর মালিক ও বেপারীসহ গাড়ির চালকরা। শনিবার (২৩ মে) দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে এমন চিত্র দেখা যায়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা গেছে, গত একদিনে এই ঘাট ব্যবহার করে নদী পারাপার হয়েছে ২ হাজার ৪১৩টি যানবাহন। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাস ৩১৩টি, পণ্যবাহী ট্রাক ৯৯৪টি, ছোট গাড়ি ৯৭৮টি ও ১২৮টি মোটরসাইকেল। এরমধ্যে গরুর গাড়ির সংখ্যা ছিল ৪৬৪টি।
কুষ্টিয়া থেকে ট্রাকে আসা গরুর ব্যবসায়ী মো. শুকুর আলি শেখ বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার পর থেকে ঘাটে কোনো দুর্ভোগ নেই। এ বছরও কোনো সিরিয়ালে আটকে থাকতে হয়নি, সরাসরি ঘাটে এসে ফেরিতে উঠতে পারছি। পদ্মা সেতু চালুর পর এ রুটে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমলেও ঈদ মৌসুমে তা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে গরু নিয়ে আমাদের ঘাটে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছেনা।
ঝিনাইদহের আরেক ব্যবসায়ী বাবু সরদার বলেন, বিগত ২-৩ বছর যাবত ঘাটে দুর্ভোগ নেই। পদ্মা সেতু হওয়ার আগে দৌলতদিয়া ঘাটে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে এই তীব্র গরমে অনেক গরু গাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখন পদ্মা সেতু হওয়ায় ফেরিতে চাপ কম পড়ায় কোনো ধরনের দুর্ভোগ ছাড়াই ঝিনাইদহ থেকে সরাসরি দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে পেরেছি এবং সময়মতো গরু ঢাকায় নিতে পারবো বলে আশা করছি।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহা মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে আসা গরুবাহী ট্রাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নদী পারাপার করা হচ্ছে। ঘাটে এসে তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছেনা। এছাড়াও গরুর গাড়ি সহ সকল যানবাহনেন নিয়াপত্তার জন্য প্রশাসন সহ আমরা সর্বক্ষণ নজরদারি করছি। বর্তমানে এ নৌপথে ছোট-বড় ১৫টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, পদ্মা সেতু হওয়াতে দৌলতদিয়া ঘাটে চাপ কমে গেছে। তারপরও আমরা ঘাট দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।
তিনি বলেন, ঘাটে আসা পশুবাহী গাড়িগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেন পার হতে পারে, ঘাটে এসে যেন অপেক্ষা করতে না হয় সে জন্য আমরা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ জানান, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের গতিবিধি মনিটরিং ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। নদীপথে পশুবাহী ট্রলারের চলাচলে গোয়ালন্দ থানা পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে। সড়কে নিরাপত্তায় হাইওয়ে পুলিশ কাজ করবে।
খুলনার ডুমুরিয়ায় পার্টনার প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডি এল আর ১.২ এর আওতায় উত্তম কৃষি চর্চা GAP বাস্তবায়নের জন্য কৃষক পর্যায়ে দিন ব্যাপী উত্তম কৃষি চর্চা GAP সার্টিফিকেশন বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ ডুমুরিয়া কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষনে সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা উপ পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি বলেন, "বর্তমান বিশ্বে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিই শেষ কথা নয়, উৎপাদিত ফসল কতটা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তম কৃষি চর্চা বা GAP (Good Agricultural Practices) অনুসরণের মাধ্যমে আমরা এমন ফসল উৎপাদন করতে চাই যা রাসায়নিক ও জীবাণুমুক্ত এবং মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।"
রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন: তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডুমুরিয়ার উৎপাদিত সবজি ও ফলমূলের সুনাম দেশজুড়ে। যদি কৃষকরা GAP সার্টিফিকেশন লাভ করতে পারেন, তবে এই অঞ্চলের পণ্য খুব সহজেই ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এটি কৃষকদের ফসলের সঠিক মূল্য পেতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাবে।
পরিবেশ ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা: প্রধান অতিথি কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যত্রতত্র রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। GAP-এর নিয়ম মেনে সুষম সার এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) মো: তৌহিদীন ভূইয়া, বলেন
পার্টনার প্রোগ্রামের লক্ষ্য: তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের 'পার্টনার' (PARTNER) প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হলো কৃষিকে আধুনিক, বাণিজ্যিক ও লাভজনক করা। ডিএলআর ১.২-এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সরাসরি প্রশিক্ষিত করে তোলার এই উদ্যোগ ডুমুরিয়ার কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। আপনারা শুধু ফসলের উৎপাদক নন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের পাহারাদার। মাঠ থেকে ভোক্তার পাত পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সততা ও সঠিক পদ্ধতি বজায় রাখুন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কেবল খাতায় কলমে না রেখে, আগামীকাল থেকেই নিজের জমিতে প্রয়োগ করুন এবং ডুমুরিয়াকে নিরাপদ কৃষির মডেল হিসেবে গড়ে তুলুন।" তিনি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সকল কৃষককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
খুলনা অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন প্রধান আলোচক হিসাবে হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন
“আপনারা মুখে শোনার চেয়ে নিজের চোখে দেখলে এবং নিজে হাতে করলে বিষয়টি সারাজীবন মনে থাকবে। উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) কোনো কঠিন বিষয় নয়, এটি হলো নিয়ম মেনে সঠিক উপায়ে চাষাবাদ করা।
মাটিতে কখন, কতটুকু সার দেবেন, পোকা দমনে কখন বিষমুক্ত ফাঁদ ব্যবহার করবেন এবং কীটনাশক দেওয়ার কতদিন পর ফসল তুলবেন, কিভাব কিউআর কোড তৈরি করে ব্যবহার করবেন—এগুলো আপনাদের আজ আমি নিজে হাতে করে দেখালাম। আপনারা যদি এই নিয়মগুলো মাঠে সঠিকভাবে মানেন, তবেই আপনাদের ফসল 'নিরাপদ ফসল' হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং আপনারা GAP সার্টিফিকেট পাবেন। এই সার্টিফিকেট থাকলে আপনাদের উৎপাদিত ফসল দেশের বড় বড় সুপারশপসহ বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।"
প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ হামিদুল ইসলাম। এক দিনের প্রশিক্ষণে ৩০জন কৃষক ও কৃষাণি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার পূর্ব কালুরঘাটে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা থেকে প্রায় ৫৯ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাব-৭।
গত শুক্রবার (২২ মে) রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসানো র্যাবের অস্থায়ী চেকপোস্টে অটোরিকশাটি (চট্টগ্রাম-থ-১৪-৬৪৩৬) ধরা পড়ে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির যাত্রীদের পেছনে মালামাল রাখার স্থানে একটি সাদা রঙের প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগে কালো রঙের স্কচটেপ মোড়ানো ১০টি নীল পলিজিপার প্যাকেটে ১৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় যাত্রী সিটে থাকা নগরীর চান্দগাঁও কে বি আমান আলী রোডের জালাল আহমদ সওদাগর বাড়ির মৃত কালা মিয়ার ছেলে বাদশা মিয়া (৪৭) এবং কক্সবাজার জেলার উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা মৃত আব্দুল শুক্করের মেয়ে তাহেরা বেগম শমসিদাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার দুইজন ও জব্দ করা ইয়াবা ট্যাবলেট থানায় সোপর্দ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। তাদের গতকাল শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
নাড়ির টানে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে বাড়ি ফেরার শুরুতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার রাজধানী থেকে ট্রেন, সড়ক ও নৌপথে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ বাড়ার পাশাপাশি দেশের পাঁচটি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, যশোর, ফরিদপুর ও গাজীপুরে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ঘরমুখো মানুষের চাপে সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা ও গতি বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুষ্টিয়ার খোকসায় যাত্রীবাহী বাস ও ড্রাম ট্রাকের সংঘর্ষে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে একটি বাস খাদে পড়ে চারজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী রাফিয়া এবং ২৮ বছর বয়সী যুবক নাবিল রয়েছেন; বাকি দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে রানীগঞ্জ বাজারে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন কাইয়ুম মিয়া, সৈকত ও আলামিন। পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করার পাশাপাশি ট্রাকের হেলপারকে আটক করেছে।
যশোর সদর উপজেলার চাউলিয়া এলাকায় ইজিবাইক, ভ্যান ও কাভার্ডভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক নারীসহ আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। খুলনা থেকে যশোরগামী একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর দুটি যানবাহনকে ধাক্কা দিলে ইজিবাইক চালক আইয়ুব আলী ও যাত্রী বৃষ্টি সাহা ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আনোর আলী নামের আরও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় চার বছর বয়সী এক শিশুসহ আরও দুইজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নওয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসড়ক পার হতে গিয়ে বাসের চাপায় খোকন ব্যাপারী নামের ৪৮ বছর বয়সী এক পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের চুমুরদী এলাকায় দ্রুতগতির একটি বাস তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হাইওয়ে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘাতক বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মালবাহী ট্রাকের পেছনে একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নাসির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ঘাতক পিকআপ ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে বলে নাওজোর হাইওয়ে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই সড়ক দুর্ঘটনায় এতগুলো প্রাণ ঝরে যাওয়ায় ঘরমুখো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনাস্থল থেকেই হাইওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘাতক যানবাহনগুলো জব্দের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো এবং অসতর্কভাবে মহাসড়ক পারাপার হওয়ার কারণে এসব প্রাণহানি ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়ে এমন অকাল মৃত্যু রোধে চালক ও পথচারী উভয়ের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা ও ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার হাউসদি গরু-ছাগলের হাটবাজারের কালাপাহাড় নজর কেড়েছে সবার । আসন্ন কুরবানীকে কেন্দ্র করে বাজারে বিক্রয়ের জন্য ওঠা উক্ত গরুর মালিক মোঃ কাওছার মিয়ার কাছে গরুটির মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, গরুটির দাম দশ লক্ষ টাকা, আমি এটা রাজশাহী থেকে এখানে নিয়ে এসেছি বিক্রয়ের জন্য এবং এর দামাদামি চলছে। শনিবার (২৩ শে মে) দুপুরে উক্ত হাট-বাজারটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় সেখানে হৃষ্টপুষ্ট হরেক রকমের শত-শত গরুছাগলের সমাহার। ইতিমধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি ও বেঁচাকেনায় সরগরম হয়ে উঠতে শুরু করেছে উক্ত বাজারটি সহ মাদারীপুরের সর্বত্র।
উল্লেখিত হাটের ইজারাদার মোঃ মিজান ফরাজী জানান, বিশৃঙ্খলা এড়াতে মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদিত হাটবাজারটিতে একটি কমিটি গঠন করে সিসি ক্যামেরা সহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল আলীম ফরাজী বলেন, আঞ্চলিক পাকাসড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত থাকায় দূর-দূরান্ত থেকেও পাইকার সহ গরু-ছাগলের ক্রেতা-বিক্রেতারা এখানে আসতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ীমূল্যে ছোট-বড়-মাঝারি সকল প্রকার কুরবানীর পশু এখানে পাওয়া যাচ্ছে, তবে সড়ক থেকে অনেকটা দূরে তারা এই হাট বসিয়েছেন যা'তে মানুষের যাতায়াতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে। তারা আরো বলেন, মাদারীপুর প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক আমাদের এই হাট-বাজারটি মনিটরিং করছেন, যা'তে কেউ চাঁদাবাজি, বিশৃঙ্খলা অথবা জাল টাকার ব্যবহার করতে না পারেন। আগামী কুরবানীর আগের দিন পর্যন্ত এই হাটবাজারটি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন বাজার কমিটি কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে মাদারীপুরের গরু-ছাগলের হাটবাজারগুলোর সর্বত্রই এখন বেঁচাকেনার ধূমধাম পড়ে গেছে।
প্রখর ও উত্তপ্ত রোদে যখন মানুষ অস্বস্তিতে দিশেহারা, ঠিক তখনই প্রশান্তির পরশ ছড়িয়ে দিচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভিন্ন রূপে সজ্জিত সোনালু ফুল। গরমে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন ডায়না চত্বরে থাকা সোনালু গাছগুলোর নিচে। কেউ মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ ঝরে পড়া সোনালু ফুল কুড়িয়ে কানে গুঁজে মেতে উঠছেন সাজসজ্জায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতেই সবুজের প্রাচীরজুড়ে এখন উঁকি দিচ্ছে সোনালি আভা। মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্য উপভোগ করতে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন ছবি তুলতে। প্রকৃতির অপূর্ব এক উপহার যেন এই ‘সোনালু ফুল’।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে এখন সারিবদ্ধ সোনালু গাছ নজর কাড়ছে সবার। পাতাঝরা গাছগুলোর ডালজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে উজ্জ্বল হলুদ ফুল। হালকা বাতাসে ফুলগুলো ঝরে পড়ে সবুজ ঘাসের ওপর তৈরি করছে যেন হলুদের গালিচা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্ণচূড়া, জারুল ও রক্তকাঞ্চনের পাশাপাশি সোনালু যোগ করেছে প্রকৃতির নতুন মাত্রা।
ক্লাস ও পরীক্ষার ক্লান্তি শেষে সোনালু গাছের শীতল ছায়া আর চোখজুড়ানো দৃশ্য শিক্ষার্থীদের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তি। অবসাদ দূর করতে অনেকে সময় কাটাচ্ছেন এই ছায়াতলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক বলেন, “বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহের মাঝেও প্রতিবছরের মতো এবারও ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সোনালু গাছগুলো। ঝরে পড়া হলুদ পাপড়িতে ডায়না চত্বরজুড়ে তৈরি হয়েছে নান্দনিক এক আবহ, যা শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত ক্যাম্পাস জীবনে এনে দিচ্ছে এক চিলতে প্রশান্তি। তীব্র গরমের মাঝেও সোনালুর এই সোনাঝরা হাসি ইবি ক্যাম্পাসকে করে তুলেছে এক জীবন্ত ক্যানভাস।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, "ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার চাপের ফাঁকে অনেকেই বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাই সোনালুর ছায়াতলে। ইট-পাথরের ব্যস্ত জীবনে ক্যাম্পাসের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানসিক প্রশান্তি এনে দেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসাও বাড়িয়ে তোলে।"
সোনালু মূলত গ্রীষ্মকালীন ফুল। এর বৈজ্ঞানিক নাম Cassia fistula। বাংলায় এটি ‘সোনালু’ বা ‘বানরলাঠি’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ নলাকার ফলের কারণে গ্রামীণ জনপদে একে ‘বানরলাঠি’ বলা হয়। তবে এর ইংরেজি নাম ‘Golden Shower’ যেন ফুলটির সৌন্দর্যকে সবচেয়ে নিখুঁতভাবে প্রকাশ করে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, গাছ থেকে ঝরে পড়ছে সোনালি রঙের ঝর্ণাধারা।
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মাত্র দেড় থেকে দুই মিনিটের আকস্মিক টর্নেডোতে গাছচাপা পড়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অর্ধশতাধিক কাঁচা ও টিনশেড ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা, বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। গতকাল শনিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে উপজেলার নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বৃদ্ধার নাম বেগম (৬৫)।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ ঘূর্ণির মতো প্রবল বাতাস কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। আকস্মিক এ টর্নেডোর সময় উপড়ে পড়া একটি গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বেগম।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নন্নী পশ্চিমপাড়া, নন্নী উত্তরবন্দ, যোগানিয়া, ছাইচাকুড়া ও হাতিপাগার এলাকার কয়েকটি গ্রাম। অনেক ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, 'ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।'
টাঙ্গাইল শহরের মাহমুদুল হাসান কলেজ মার্কেটের দুটি কসমেটিকস প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল।
তিনি জানান, মাহমুদুল হাসান কলেজ মার্কেটের তুলি ও অন্তু বিউটি কনসেপ্ট নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পণ্যের মূল্যতালিকা সংরক্ষণ না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনবিহীন প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রির অভিযোগসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের বিভিন্ন বিষয় পরিলক্ষিত হলে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়াও শহরের রাবনা বাইপাস এলাকায় অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গণপরিবহনের চালক ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি চুরির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া মামলার নথিটি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার ( ২৩ মে) দুপুর একটার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) নওগাঁ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে মামলার নথিগুলো হারিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সদর উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের সিংবাচা বাজার এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে এস এম আকাশ (২৬), সদর উপজেলার খয়রা বাদ এলাকার করিম সরদারের ছেলে ও
জেলা যুগ্ম ও দায়রা জজ আদালত-২ এর পিয়ন পলাশ এবং তার ভাই সাপাহার সাব জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং রানীনগর উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের আমজাদের ছেলে সবুজ (৪০)।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ আমাকে জানায় ৯০৪/২০২২ নং মামালার নথিগুলো হারিয়ে গেছে এবং একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল দিয়ে মামলার নথি ফিরিয়ে দিবে মর্মে আদালতের কর্মচারির নিকট ত্রিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। বিশেষ এই টিমটি প্রথমে রাজশাহীর বাগমারা এলাকায় অভিযান চালায়। পরে মূল চোরকে সনাক্ত করে সদর উপজেলার সিংবাচা বাজার এলাকা থেকে এসএম আকাশ নামে একজনকে গ্রেপ্তার কর হয়। তাকে জিজ্ঞেসাবাদ করা হলে সে খড়ের একটি পালা থেকে মামলার নথিগুলো বের করে দেয়। আকাশ এই চক্রের সাথে জড়িত বাকিদের নাম জানালে অভিযান চালিয়ে তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছিলো। আর কিছুদিন পরেই মামলাটির রায় ঘোষণা করা হবে। নথি চুরির পিছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে তা উদঘাটন করা হচ্ছে। তাদের সকলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং দেশব্যাপী নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিরুদ্ধে বরগুনার পাথরঘাটায় মানববন্ধন ও প্রতীকী ফাঁসি কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকাল ১০টায় পাথরঘাটা পৌর শহরের গোলচত্বরে জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ক্লাইমেট এলায়েন্সের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের পাশাপাশি একটি প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করে প্রতিবাদ জানানো হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেয় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর মধ্যে ছিল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস, সিসিডিবি, প্রত্যয়, পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, ধ্রুবতারা ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, তারুণ্যের বাংলাদেশ যুব সংস্থা, দৃষ্টি মানবকল্যাণ সংস্থা, লোক মোর্চা, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, সোনার বাংলা ব্লাড ফাউন্ডেশন ও এক্টিভিস্টা বরগুনাসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ক্লাইমেট এলায়েন্সের সভাপতি সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সমাজকর্মী মেহেদী সিকদার, উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন এসমে, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর কবির মৃধা, জাকির হোসেন মিরাজ, চিত্ত রঞ্জন শীল এবং পাথরঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সালেহ জসিমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, শিশু রামিসার ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো সমাজকে নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। একইসঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
ময়মনসিংহ জেলার উত্তর প্রান্তে এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকা হালুয়াঘাটে শখের বসে শুরু হওয়া আঙুর চাষ এখন রীতিমতো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উপজেলার উত্তর খয়রাকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা তরুণ উদ্দ্যোক্তা মনোয়ার হোসেন সোহাগ শখের বশবর্তী হয়ে আঙুর চাষে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। তার এই উদ্দ্যোগ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আধুনিক কৃষির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এই আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই দূর দূরান্ত হতে নানা শ্রেনী-পেশার কৌতূহলী মানুষের আগমন ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা যায় সৌখিন কৃষি গার্ডেন নামে তরুণ এই উদ্দ্যোক্তার পরিপাটি বাগানে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে নজরকাড়া থোকায় থোকায় আঙুর। মাত্র ১৫ শতক জমিতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আঙুর চাষ করে সোহাগ দেখিয়েছেন সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রতিকুল পরিবেশেও লাভজনক কৃষিকাজ সম্ভব।
বাজারে আঙুরের চাহিদা থাকায় দেশীয়ভাবে উৎপাদিত আঙুরের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার সুস্বাদু আঙুর আমদানিকৃত আঙুরের তুলনায় মানের দিক থেকেও বেশ সুস্বাদু ও উৎকৃষ্ট। এই বাগানের আঙুর স্বাদে অনন্য। সবুজ ও বেগুনি রঙের আঙুরগুলো যেন নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। আধুনিক কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকেই স্বল্প পরিসরে আঙুরের চারা রোপণ করেন মনোয়ার হোসেন সোহাগ।
মনোয়ার হোসেন সোহাগ জানান ২০২২ সালে ঝিনাইদহ থেকে ৬টি চারা এনে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেছিলেন তিনি। ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে তিনি উদ্ভুদ্ধ হন। জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ, নিয়মিত পানি দেওয়া, নেট, বেষ্টনী ও রশির মাচা তৈরি করে দীর্ঘদিন যাবত চারাগুলোর নিবিড় পরিচর্যা করে। আঙুর ছাড়াও সোহাগের বাগানে রয়েছে আনার, লংগান, আম, জাম, কাঠাল, লিচু, মাল্টা, পেয়ারা, মাল্টা, কমলা, বড়েই, জামরুল, জলপাই, লিচু ও আমলকি।
অনেকেই বলছেন, এ অঞ্চলের মাটিতে আঙুর চাষ সম্ভব এ ধারণা আগে তাদের ছিল না। শুরুতে বাগান করার বিষয়টি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর অবগত ছিল না। পরে বিষয়টি জানার পর তারা সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের আশা করছেন মনোয়ার হোসেন সোহাগ। শখের বসে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন এলাকার কৃষিতে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।