বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র ১৪৩৩

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কারণে চালের দাম কমেছে: মন্ত্রী

নওগাঁয় ওএমএসের চাল বিতরণ কার্যক্রম কেন্দ্র পরিদর্শন করেন খাদ্যমন্ত্রী। ছবি: দৈনিক বাংলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৪:৩৩

দেশজুড়ে ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কারণে চালের দাম কেজিতে ৫-৬ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এ ছাড়া চালের দাম আরও সহনশীল পর্যায়ে আসবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁর পোরশা উপজেলার সরাইগাছী মোড়ে ওএমএসের চাল বিতরণ কার্যক্রম কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে টিসিবি, খাদ্যবান্ধব ও ওএমএস’র চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এ কর্মসূচিতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবার এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ অগ্রাধিকার পাচ্ছেন।

চাল বিতরণে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, রোপা আমন মৌসুমে কৃষকরা যাতে উৎপাদিত ধানের নায্য মূল্য পান; সেদিকে খেয়াল রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষকদের ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।

এ সময় মন্ত্রী সুবিধাভোগী সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ-খবর নেন। মন্ত্রীর সঙ্গে খাদ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


কারা মহাপরিদর্শক মোতাহের হোসেনকে প্রত্যাহার

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেনকে কারা মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুনরায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বদলি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বুধবার (১৯ আগস্ট) এ বদলির আদেশ দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর (সেনাবাহিনী) কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেনকে তার বর্তমান প্রেষণ পদ কারা মহাপরিদর্শক, কারা অধিদপ্তর থেকে প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার চাকরি সংশ্লিষ্ট বিভাগ অর্থাৎ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলির এই আদেশ জনস্বার্থে এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে।


টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ৩ জনের অর্থদণ্ড

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছিল প্রভাবশালী একটি মহল। এতে নদীভাঙনের শিকার ও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল নদীপাড়ের মানুষ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয়দের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সিরাজকান্দী এলাকার বাগানবাড়ী নামক অবৈধ বালু ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান।

এ সময় যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৩ শ্রমিককে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয় এবং অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রমে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

তারা হলেন- উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পলশিয়া গ্রামের ছালাম (৪৫), পুনবার্সন গ্রামের চান মিয়া (৪০), কাওয়াখোলা গ্রামের রফিক (৪৮)। অভিযানে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম রেজাউল করিম, উপপরিদর্শক (এসআই) লাল মিয়াসহ স্থানীয় নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান বলেন— যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করায় সিরাজকান্দি এলাকার বাগানবাড়ী নামক অবৈধ বালু ঘাটে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জনস্বার্থ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


খুলনা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থার তাগিদ

কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা শহরের জলবায়ু সহনশীলতা কৌশল, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) নিয়ে দিনব্যাপী পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। কেসিসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন (সিসিএইউডি)’ প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক সংস্থা এএমসি এ কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় কেসিসি, খুলনা ওয়াসা, কেডিএ, ডিপিএইচই, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ সরকার, জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও কেসিসি যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

সভাপতির বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বর্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগে সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা কমানো গেলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা প্রয়োজন।’ নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসস্থলে নিরাপদ পানির ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তিনি খুলনা ওয়াসার প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি পানির এটিএম বুথ স্থাপন এবং মৌসুমভেদে পানির লবণাক্ততার পরিবর্তন সম্পর্কে নগরবাসীকে আগাম সতর্ক করার ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা। ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এর আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে গবেষণা সংস্থা সানেমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহ, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খানসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।


দৌলতপুরে নদীভাঙনের হুমকিতে ২০০ বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে ও যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের বাকসাইষ্টা, চরভারেঙ্গা, সুবুদদিয়া, চরবাচামারা, জিয়নপুর ইউনিয়নের আমতলী হাট, আমতলী ফেদু সেক উচ্চবিদ্যালয়, আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আবু ডাংগা, বড়টিয়া, বৈন্যা এলাকায় প্রায় ৩০০টি বসতবাড়ি, তিন শতাধিক দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বিএনপি নেতা ও আমতলী হাটের ইজারদার আশরাফ আলী জানান, যমুনা নদীর একটি শাখা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে গত কয়েক দিন ধরে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বৈন্যা গ্রামের অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জিয়নপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘নদীভাঙনে আমরা দিশেহারা। চোখের সামনে বাপ-দাদার শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষা করতে পারছি না। সাবেক মেম্বারের স্ত্রী ছকিনা বেগম বলেন, ‘পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কী করব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’ নদীভাঙন রোধে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে বৈন্যা গ্রামের মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করার দাবি জানিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমতলী হাট, ফেদু সেক উচ্চবিদ্যালয় ও আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বৈন্যা গ্রামের বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে।’

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হবি বলেন, ‘প্রায় ৫০০ ফুট এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা হলে প্রায় ২০০ পরিবারকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এতে আমতলী হাট ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রক্ষা পাবে। নদী থেকে মাত্র প্রায় ২০০ গজ দূরে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির দিকে যেভাবে ভাঙন এগোচ্ছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সেগুলো নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

সংরক্ষিত ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম বলেন, ‘আর কয়েক দিন এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে আমার বাড়িঘরও নদীভাঙনের মুখে পড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও বসতভিটাসহ সবকিছু রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান জানান, নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধের পাশাপাশি পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত আছি। জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নদীপাড়ের মানুষের দাবি, দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শত শত পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


বৃহস্পতিবার বিএনপির সাবেক মহাসচিবের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ও বিএনপির সাবেক সফল মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)। ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার ১৯৩৬ সালের ৪ নভেম্বর জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মুলবাড়ী গ্রামের তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার জামালপুর জেলার মধ্যে একজন দানশীল ও ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন।

ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার বিএনপির মহাসচিব, সরকারের এলজিআরডিমন্ত্রী ও বাংলাদেশের একজন আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ ছিলেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তিনি ছিলেন চারদলীয় ঐক্যজোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সফলতার সাথে চারদলীয় লিঁয়াজো কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় ও আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় ও ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে জামালপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৯ সালের ২০ আগস্ট হার্টের বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠন তার কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, শোক র‌্যালি, আলোচনা সভা ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করেছে। ওই অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত থাকবেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ভাতিজা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপি।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদ্রাসাছাত্র সংঘাত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাদ্রাসাছাত্রদের বাধা দেওয়া ও পরে পুলিশের লাঠিপেটা ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে জেলা পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ লাইন্সের গেট ও কম্পাউন্ডে দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগমন উপলক্ষে পুলিশ লাইন্সে ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পরও অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় উচ্চ শব্দে গান বাজানোর প্রতিবাদ জানিয়ে পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সে যান।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে ঢুকে পড়লে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন বলে জানা যায়।


পাটের পর আমন ধান চাষে ব্যস্ত শিবচরের কৃষকরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

পাট কাটার পর এবার আমন ধান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাদারীপুরের শিবচরের কৃষকরা। পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এ উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে শুরু হয়েছে আগাম রোপা আমন ধানের চাষ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে চলছে জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা রোপণের কর্মযজ্ঞ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কৃষকরা ব্যস্ত আমন চাষে। কেউ জমিতে হালচাষ করে কাদাময় করে রোপণের উপযোগী করছেন, কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, আবার কেউ সারিবদ্ধভাবে জমিতে চারা রোপণ করছেন।

শিরুয়াইল, বহেরাতলা, নিলখী, দত্তপাড়া, বন্দরখোলা, মাদবরেরচর, সন্যাসিরচর ও কুতুবপুর ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন মাঠ এখন আমন চাষের ব্যস্ততায় মুখর। পাট কাটার পর একই জমিতে আমন চাষ করে বাড়তি ফসল ঘরে তুলতে চান কৃষকরা।

কৃষক আলকাছ মোল্লা বলেন, ‘পাট চাষ শেষ হওয়ার পর আমন ধান আমাদের জন্য একটি বাড়তি ফসল। পাট চাষে লোকসান হলেও আমন ধান চাষ করে কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারব, ইনশাআল্লাহ।’

সন্যাসিরচর ইউনিয়নের কৃষক সামাদ মুন্সি বলেন, ‘প্রতি বছরই পাট কাটার পর রোপা ও রিলে আমন চাষ করি। এ বছরও প্রায় ৩ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি।’

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, শিবচরে রোপা আমন, বোনা আমন ও রিলে আমন মিলিয়ে এবার মোট ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলিমুজ্জামান খান জানান, কৃষকদের সহায়তায় চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ১০ কেজি করে বীজধান ও ২০ কেজি করে সার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকেরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে আমনের ভালো ফলন হবে। এতে পাটের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।


হাওরের স্ট্রোক-প্রসবের রোগীর একমাত্র ভরসা নৌকা, দ্রুত চান নৌ-অ্যাম্বুলেন্স

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম এই তিন হাওর উপজেলা এখন দেশের উন্নয়নের চমৎকার উদাহরণ। অলওয়েদার রোডের কল্যাণে এখন আর বছরের ১২ মাস যাতায়াতের চিন্তা করতে হয় না। কিন্তু এই আধুনিক সড়কের চাকচিক্য ঢাকা দিয়ে রেখেছে এখানকার করুণ এক বাস্তবতা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র জনশুমারি অনুযায়ী এই তিন উপজেলার জনসংখ্যা সাড়ে চার লাখের বেশি হলেও বর্তমানে তা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। অথচ এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য আধুনিক চিকিৎসাসেবা বলতে কার্যত কিছুই নেই।

যখন কোনো মানুষের হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়, কিংবা কোনো প্রসূতি মায়ের প্রসব বেদনা শুরু হয় তখনই এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা থমকে দাঁড়ায়। চারদিকের থৈ থৈ জলরাশি আর হাসপাতালের সংকট মিলে এই জনপদকে পরিণত করেছে এক ‘মরণফাঁদে’।

ইটনা, মিঠামইন বা অষ্টগ্রামের কোথাও হৃদরোগ বা স্ট্রোকের রোগীর জীবন বাঁচানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। স্ট্রোকের পর রোগীর জীবন রক্ষায় যে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ প্রয়োজন, তা হাওরের দীর্ঘ নৌপথের ধস্তাধস্তিতেই শেষ হয়ে যায়। যথাসময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে বহু স্ট্রোক রোগীর মৃত্যু হয়েছে, আবার অনেকে বেঁচে থাকলেও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। বর্ষায় উত্তাল হাওর পাড়ি দিয়ে জেলা সদরে পৌঁছানো অত্যন্ত দুরূহ। এখানে রোগীকে রেফার করার অর্থ মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া, কারণ মাঝপথে জীবন বাঁচানোর কোনো আধুনিক ব্যবস্থা নেই।

হাওর অঞ্চলের প্রসূতি মায়েদের পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সিজারিয়ান সেকশন বা প্রসবকালীন উন্নত সেবার সরঞ্জাম থাকলেও সেবা নেই বললেই চলে। প্রসব বেদনায় ছটফট করা মাকে নিয়ে জেলা সদরে ছোটার পথে দীর্ঘ ঝাঁকুনিপূর্ণ যাতায়াতে সিএনজি বা নৌকায় ডেলিভারি হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এমন অনিরাপদ পরিস্থিতিতে অনেক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। সিজারের জন্য রোগীকে দূরে পাঠানো বা নরমাল ডেলিভারির অনিশ্চয়তা এই দুইয়ের মাঝে পিষ্ট হচ্ছে হাজারো পরিবার।

উন্নত চিকিৎসাসেবা বা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স তো দূরে থাক, জীবন রক্ষাকারী একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সেরও দেখা মেলে না এই হাওরে। সংকটাপন্ন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে চাইলে একমাত্র ভরসা সাধারণ ট্রলার কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্পিডবোট। উত্তাল ঢেউয়ের বুকে এই জলযানগুলোতে রোগী তোলার পর প্রতিটি মুহূর্ত কাটে চরম উৎকণ্ঠায়। ন্যূনতম চিকিৎসা সরঞ্জামবিহীন এসব জলযানে রোগীর অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে।

প্রশ্ন উঠেছে, হাওরে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে সাথে কেন স্বাস্থ্যখাতে এই উপেক্ষার দেয়াল? উপজেলাগুলোতে অবকাঠামো থাকলেও নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গাইনি ও অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার কিংবা অপারেশন থিয়েটার পরিচালনার সক্ষমতা। হাওরে অলওয়েদার রোড হলেও বর্ষায় একটি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুতগতিতে জেলা সদরে রোগী নিয়ে যেতে পারে না, কারণ সংযোগ ও ফেরি ব্যবস্থা জরুরি সেবার উপযোগী নয়।

এই করুণ দশা থেকে উত্তরণে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের জন্য একটি ‘ট্রমা সেন্টার’ এবং অন্তত একটি উপজেলায় সিজার ও হৃদরোগের প্রাথমিক চিকিৎসাসম্পন্ন ‘পূর্ণাঙ্গ আধুনিক হাসপাতাল’ স্থাপন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। পাশাপাশি বর্ষায় জরুরি রোগীদের দ্রুত পরিবহনের জন্য সরকারি উদ্যোগে লাইফ সাপোর্টযুক্ত দ্রুতগতির নৌ-অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করতে হবে।

হাওরবাসী আর কতকাল অবহেলায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে? উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের এই উন্নয়ন এক অসম্পূর্ণ গল্প হয়েই থেকে যাবে।


ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বার্ডো―এর নির্বাহী পরিচালকের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সাথে বুধবার (১৯ আগস্ট) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ব্লাইন্ড অ্যাডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

এসময় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেন, ‘প্রতিটি মানুষ সমমর্যাদা প্রদান করা এবং মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া আমাদের কর্তব্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ স্বেচ্ছায় প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মায় না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আমাদের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। মানুষকে মর্যাদা প্রদান করা সংসদ-সদস্যদের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব।’

প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎকালে বৈশ্বিক পরিসরে প্রতিবন্ধীদের যথাযথ সুরক্ষা প্রদান, শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতকরণ ও মানুষ হিসেবে সমতার অধিকার নিশ্চিতে মতবিনিময় করেন। এ সময় রাজনৈতিক দলে প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধিত্ব এবং সংসদীয় ককাস গঠনের মাধ্যমে তাদের যথাযথ আইনি সুরক্ষা ও মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বার্ডো মূলত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, পুনর্বাসন এবং স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে। এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনে অনন্য অবদানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’-এ ভূষিত হয়েছেন।


গভর্নরের সঙ্গে ​আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের সভা

সাবহেড-সঞ্জীবন প্রকল্প, CBS বাস্তবায়ন, জনবল নিয়োগ ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণে অগ্রগতির আশ্বাস
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এফসিএমএ’র সঙ্গে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সার্বিক আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জন্য আধুনিক ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক ও আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, এসজিপি, বিএএম, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।

সভায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বহুল প্রতীক্ষিত ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’-এর Pre-Finance সুবিধা অনুমোদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ বিষয়ে গভর্নর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সঞ্জীবন প্রকল্পের মঞ্জুরী দ্রুত অনুমোদনের বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেন, যা বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

এ ছাড়াও, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে Core Banking System (CBS) সফল বাস্তবায়ন ও ব্যাংকের সার্বিক আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের BSC-এর মাধ্যমে ২০৫টি পদে নিয়োগ কার্যক্রম আগামী ০৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করা হয়।

প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে ব্যাংকের প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং CBS বাস্তবায়ন ও আধুনিক ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। সভায় আরও আলোচনা করা হয় যে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে CBS বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।

একই সঙ্গে গ্রাহকসেবা আধুনিকায়ন এবং দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে BACH, NPSB, BEFTN/EFT এবং অন্যান্য জাতীয় পেমেন্ট ও ক্লিয়ারিং ব্যবস্থায় সদস্যপদ ও কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ভবিষ্যতে বেতন-ভাতা গ্রহণ, Inter-Bank Fund Transfer, ডিজিটাল পেমেন্ট, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার এবং অন্যান্য আধুনিক ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদভাবে গ্রহণ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মহোদয়ের এই ইতিবাচক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার আশ্বাস আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আধুনিক ব্যাংকিং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একটি লক্ষ্য— আধুনিক ব্যাংকিং। একটি অঙ্গীকার—বাহিনীর সদস্যদের দোরগোড়ায় নিরাপদ ও ডিজিটাল আর্থিক সেবা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেন মহোদয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. কবীর আহমেদ এবং ডেপুটি গভর্নর মো. সারওয়ার হোসেন।


সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের আলোকচিত্র প্রদর্শনী

বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে দুইদিনব্যাপী আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জীবন, সংগ্রাম এবং হতাশার বিপরীতে আশাবাদের গল্প তুলে ধরেছে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্র সহ মিশ্র মাধ্যমে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে তারা তাদের গল্প তুলে ধরেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে দুইদিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

'স্লো জার্নালিজম : রিসার্চ অ্যান্ড স্টোরিটেলিং ইন ননফিকশন রাইটিং' প্রকল্পের আওতায় গত আট মাস ধরে কাজ করে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ওই প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্ব হিসেবে নিজেদের কাজগুলোকে প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন।

প্রদর্শনীতে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সাতজন শিক্ষার্থীর কাজ স্থান পায়। তারা হলেন তাবাসসুম মনির জিনিয়া, ইয়ারুন নেসা সারা, ইসরাত জাহান হ্যাপী, হুমায়রা কবীর প্রাপ্তি, জুবাঈদা নাসরিন, মোহাইমিনা খাঁন ও রাহিমা নেসা স্নেহা।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. পারভীন হাসান, আলোকচিত্র সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শহীদুল আলম, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

এ সময় ড. পারভীন হাসান বলেন, 'সাংবাদিকতা সমাজকে তুলে ধরার একটি বড় শক্তি। সাংবাদিকদের ভূমিকা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শিক্ষার্থীরা এ পেশায় দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের গড়ে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।'

তিনি আরো বলেন, 'দৃক-এর সহযোগিতায় বড় মাপের এ কাজটি সম্ভব হয়েছে। আমাদের পাশে থাকার জন্য তাদের আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি আশা করবো ভবিষ্যতেও তারা আমাদের পাশে থাকবে।'

আলোকচিত্রী ও দৃক-এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল আলম বলেন, ‌'শিক্ষার্থীদের কাজগুলো পেশাদার মানের হয়েছে। এমন উন্নত মানের কাজ আরো বড় পরিসরে প্রদর্শিত হওয়া দরকার।'

তিনি বলেন, 'আগেও আমি এখানে এসে তাদের প্রাথমিক কাজগুলো দেখেছি। শুরু থেকেই দেখেছি, তাদের কাজগুলো বেশ ভালো। আমরা অনেক সময় বড় প্রদর্শনীগুলো যে করি, সেখানে নারী সাংবাদিকদের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকে না। আমার মনে হচ্ছে এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে এই জায়গাটি পূরণ করবে।'

জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারপার্সন সজীব সরকার বলেন, 'গণমাধ্যমগুলো কে কার আগে খবর প্রকাশ করবে, এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতা বেড়েছে। কিন্তু, দ্রুততার সঙ্গে খবর দিতে গিয়ে সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। স্লো জার্নালিজম-এর ধারণা সত্যিকার অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলোকে নৈতিকতা মেনে এবং মান বজায় রেখে প্রকাশের ক্ষেত্র তৈরি করবে।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইলিয়াস আহমেদ বলেন, 'ছবি অনেক শব্দের চেয়েও বেশি কথা প্রকাশ করে। মানুষের মনে ছবি যে প্রভাব তৈরি করতে পারে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ-বিগ্রহ সহ ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনায় জনমত তৈরিতে ছবির এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার আমরা অনেকবারই দেখেছি।'

উল্লেখ্য, দৃক ট্রাস্ট-এর সহযোগিতায় পরিচালিত 'স্লো জার্নালিজম : রিসার্চ অ্যান্ড স্টোরিটেলিং ইন ননফিকশন রাইটিং' প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ। প্রকল্পটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে দৃক-এর পক্ষে ছিলেন সায়দিয়া গুলরুখ ও সামিয়া রহমান প্রিমা। জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের পক্ষে তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রভাষক কাজী নাফিয়া রহমান ও আশরাফুন নাহার। প্রদর্শনীটি আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন দৃক-এর জেনারেল ম্যানেজার এএসএম রেজাউর রহমান।


যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন রোধে আইন প্রণয়নে মহিলা পরিষদের ৯ দাবি

জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারী ও মেয়ে শিশুরা ক্রমাগত যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হলেও তা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটি যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসহ নারী ও মেয়ে শিশুর নিরাপত্তায় ৯টি দাবি জানিয়েছে

বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম।

লিখিত বক্তব্যে ফওজিয়া মোসলেম বলেন, উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন জাতীয় সংসদে পাস ও বাস্তবায়ন জরুরি এবং এর কোনো বিকল্প নেই। এই আইনের মাধ্যমে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের হাত থেকে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে, যা যৌন সহিংসতামুক্ত পরিবার ও সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।

পরিষদের সভাপতি বলেন, ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট বিভাগ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে অভিযোগ কমিটি গঠন এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহিলা পরিষদ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইনের খসড়া প্রণয়ন করে ২০১০ সালে আইন কমিশন ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার ও নারী সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে আইন প্রণয়নের দাবিতে সভা, অ্যাডভোকেসি, লবিং ও জনমত গঠন করে আসছে। তবে দীর্ঘ সময়েও আইনটি প্রণীত না হওয়ায় নারী ও মেয়ে শিশুরা ক্রমাগত যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হচ্ছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ -এর খসড়া উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে খসড়াটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার পর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে জরুরি ভিত্তিতে আইনটি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে মহিলা পরিষদ।

মহিলা পরিষদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ধারায় বর্ণিত উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের সংজ্ঞা হালনাগাদ এবং যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারাগুলো হালনাগাদ করা।

এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন এবং এসব কমিটির কার্যক্রম মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। যৌন হয়রানি ও নিপীড়নকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ব্যাপক প্রচারণা চালানো, পাঠ্যসূচিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও নারী নির্যাতনবিরোধী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ছেলে-মেয়েদের মধ্যে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তকরণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিরও দাবি জানানো হয়েছে।

মহিলা পরিষদ আরও বলেছে, উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, লিগ্যাল এইড সেক্রেটারি রেখা সাহা ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


‘নিবন্ধন ছাড়া কোনো কিন্ডারগার্টেন বা প্রাথমিক বিদ্যালয় চলবে না’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন নিবন্ধন ছাড়া কোনো কিন্ডারগার্টেন বা প্রাথমিক বিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের পিটিআই কনফারেন্স রুমে ‘প্রাথমিক শিক্ষার রূপান্তর ও কর্মপরিকল্পনা’ নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, বেসরকারি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে এবং নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও কঠোর নজরদারি চালানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনগুলোতে কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ওপর শক্তভাবে মনিটরিং করা হয়নি। অনেক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে তদারকি করা হয়নি। এমনকি মনিটরিংয়ের জন্য কার্যকর নীতিও তৈরি করা হয়নি।

তিনি বলেন, এখন এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো বিদ্যালয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। পাশাপাশি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিয়মিত ও কঠোরভাবে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।


banner close