ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আইসিপি, লাকসাম-আখাউড়া রেলওয়ে প্রকল্প এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান।
বুধবার তিনি বিজিবির সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধীনস্থ আখাউড়া আইসিপি পরিদর্শন করেন। বিজিবি প্রধান আখাউড়া আইসিপিতে পৌঁছালে বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ার কমান্ডার তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বিএসএফের একটি চৌকস দল বিজিবি মহাপরিচালককে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি উপস্থিত বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
আখাউড়া আইসিপি পরিদর্শন শেষে বিজিবি মহাপরিচালক আখাউড়া আইসিপি বিওপি পরিদর্শন করেন এবং সৈনিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। মধ্যাহ্নভোজের পর তিনি বিজিবির সরাইল ব্যাটালিয়নের (২৫ বিজিবি) অধীনস্থ ফকিরমোড়া বিওপি পরিদর্শন করেন। এরপর বিজিবি মহাপরিচালক লাকসাম-আখাউড়া রেলওয়ে প্রকল্পের কসবা স্টেশন এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘এটি আমাদের জাতীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। প্রকল্পটির দুটি স্থান বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে হওয়ায় বিএসএফের বাধার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারত উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে এ ব্যাপারে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিজিবি- বিএসএফের মধ্যেও কার্যকর যোগাযোগ অব্যাহত আছে। খুব শিগগির এ প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করা হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
এর আগে বিজিবি মহাপরিচালক সরাইল রিজিয়ন সদর দপ্তর এবং এর অধীনস্থ সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি কোয়ার্টার গার্ডে সালাম গ্রহণ এবং বৃক্ষরোপণ করেন। পরে বিজিবি মহাপরিচালক সরাইল রিজিয়নের সব স্তরের বিজিবি সদস্যের বিশেষ দরবার গ্রহণ করেন এবং অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
বিজিবি মহাপরিচালকের পরিদর্শনকালীন সরাইল রিজিয়ন কমান্ডার, বিজিবির ঊর্ধ্বতন অফিসার ও ব্যাটালিয়ন অধিনায়কসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শরৎকে কেবল প্রকৃতির ঋতু হিসেবে নয়, মানুষের মিলন ও আনন্দের উপলক্ষ হিসেবেও দেখতে চায় সাংস্কৃতিক সংগঠন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। সুর, নৃত্য, আবৃত্তি আর রঙের আঁচড়ে সেই ভাবনারই প্রকাশ ঘটল সংগঠনটির ‘শরৎ উৎসব-১৪৩৩’-এ। শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, শিল্পীদের গান আর শরৎকে ঘিরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুরান ঢাকার সীমান্ত গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণের সাহারা মঞ্চে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। সেখানে শৈশবের সাংস্কৃতিক আয়োজনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি উৎসবের মধ্য দিয়ে মানুষে মানুষে সংযোগ বাড়ানোর তাগিদ দেন অভিনেতা মামুনুর রশীদ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় সরোদ বাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। যন্ত্রসংগীতশিল্পী শামীম জহিরের পরিবেশনার পর মঞ্চে আসে শিশুদের নানা পরিবেশনা। একক ও দলীয় সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি এবং আলোচনা পর্বে সাজানো ছিল দিনব্যাপী আয়োজন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শুরু হয় শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। ‘শরৎ ঋতু’ বিষয়ক এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১০০ শিশু-কিশোর। বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী ১২ জনকে দেওয়া হয় পুরস্কার।
উৎসবে স্বাগত বক্তব্য ও ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সহসভাপতি, লেখক, গবেষক ও নৃত্যশিল্পী অধ্যাপক নিগার চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মোরশেদ আহমেদ চৌধুরী এবং স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান দুলু।
উৎসবের গানে গানে উঠে আসে ঋতুর আবহ ও সাংস্কৃতিক চর্চার বৈচিত্র্য। একক সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, অনিমা রায়, ফেরদৌসী কাকলি, রত্না সরকার, মাহমুদুল হাসান, সঞ্জয় কবিরাজ, নবনীতা জাহিদ চৌধুরী অনন্যা, শ্রাবণী গুহ রায়, তামান্না নিগার তুলি, এস এম মেজবা ও শান্তা সরকার। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন নাইলা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি ও বেলায়েত হোসেন।
দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় শিশু-কিশোর সংগঠন সীমান্ত খেলাঘর আসর, গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচা মেলা, সুরবিহার ও শিল্পবৃত্ত। নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যফ, স্পন্দন, স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্র ও অংশী। এ ছাড়া সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, নির্ঝরিণী একাডেমি ও সুরনন্দনের শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন।
‘শরৎ কথন’ পর্বে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অভিনেতা মামুনুর রশীদ। তার কথায় উঠে আসে শৈশবের সাংস্কৃতিক উৎসবের স্মৃতি এবং সমসাময়িক সময়ে মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার আক্ষেপ। তিনি বলেন, ‘একসময় এ ধরনের উৎসবে সবাই একসঙ্গে মিলিত হতেন। সেই মিলনের আনন্দ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে মানুষ ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।’
মামুনুর রশীদের মতে, উৎসব-অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষকে একত্র করা এবং সবার মনের কথা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা। আয়োজনের মধ্য দিয়ে যদি ঐক্যের সুর প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে একজন মানুষ সবার হয়ে উঠতে পারেন। অন্যথায় উৎসব মানুষকে এক করার বদলে বিভাজনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ভিন্নতা ও বিভেদকে প্রাধান্য না দিয়ে একই চেতনা থেকে সম্মিলিতভাবে সাংস্কৃতিক আয়োজন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় মুগ্ধতার কথাও জানান এই অভিনেতা। তাদের গান, নাচ ও উপস্থাপনার মধ্যে তিনি খুঁজে পান নিজের শৈশবের সাংস্কৃতিক পরিবেশের স্মৃতি। তার অনুভূতিতে, উৎসবের আয়োজনে যেন এক টুকরো শরৎ এসে ধরা দিয়েছে।
তারুণ্যের শক্তিকে দেশ গঠন, সামাজিক উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কলেজভিত্তিক ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, দেশপ্রেম, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুস্থ ক্রীড়াচর্চায় উদ্বুদ্ধ করছে এ প্রশিক্ষণ। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চগড়ে প্রশিক্ষণের প্রথম ধাপের সমাপনী, বৃক্ষ ও সনদ বিতরণ এবং দুই কলেজের প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন তরুণদের বহুমুখী বিকাশের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ, সদর ও আটোয়ারী উপজেলার কালিগঞ্জ বিএম কলেজ, শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ এবং মির্জা গোলাম হাফিজ সরকারি কলেজে কলেজভিত্তিক ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণের প্রথম ধাপের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে বৃক্ষ ও প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করা হয়। বৃক্ষ বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ সনদ তাদের অর্জিত দক্ষতার স্বীকৃতি প্রদান করে। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করছে।
একই দিন বিকেল ৩টায় আটোয়ারীর মির্জা গোলাম হাফিজ সরকারি কলেজ মাঠে ওই কলেজ ও শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় চ্যাম্পিয়ন দলকে ৫ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ দলকে ৩ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এ ক্রীড়া আয়োজন শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, দলীয় সংহতি, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব বিকাশে ভূমিকা রাখে। প্রশিক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ও ক্রীড়াচর্চার সমন্বয়ে এসব উদ্যোগ তরুণদের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পথ সুগম করছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় আনসার-ভিডিপির সদস্য, প্রশিক্ষণার্থী ও বিপুলসংখ্যক দর্শকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রশিক্ষণার্থীরা বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির প্রতি তাদের ভালোবাসা ও উদ্দীপনা প্রকাশ করেন। বাহিনীর সদস্যদের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় প্রশিক্ষণ, বৃক্ষ বিতরণ ও ক্রীড়াচর্চার সমন্বিত এ আয়োজন তরুণদের শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দেশ গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং পঞ্চগড় জেলা কমান্ড্যান্ট মো. ফরিদ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জে কোস্ট গার্ডের অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন এস এইচ এস ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১১টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক একটি কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি করে প্রায় ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ১২৯৭ পিস ভারতীয় শাড়ি, ২৭৩ পিস ভারতীয় ব্লাংকেট ও বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনীসহ কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়। এ সময় চালক ও হেলপারের মুচলেকা নিয়ে কাভার্ড ভ্যানসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।
জব্দকৃত সকল আলামতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি ডিভিশন সিদ্দিকবাজার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।’
গ্যালারি ভর্তি হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে মাগুরা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনালে মহম্মদপুর উপজেলা একাদশকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাগুরা পৌরসভা একাদশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে দীর্ঘদিন পর গ্যালারিতে প্রায় ৭ হাজার দর্শক টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা উপভোগ করেছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোতাকাব্বীর আহমেদের সভাপতিত্বে ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান।
ফাইনাল খেলার প্রথমার্ধে মাগুরা পৌরসভা একাদশের পক্ষে সিফাত ও বাপ্পি একটি করে দুটি গোল করেন। অন্যদিকে মহম্মদপুর উপজেলা একাদশের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন তারিকুল। ফাইনাল ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয় চ্যাম্পিয়ন দলের শাহরিয়ার বাপ্পি।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল্লাহ হারুন। মাগুরা জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের, পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার, ক্রিড়া সংস্থার সদস্য সচিব রুবায়েত হোসেন খানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই এবং জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’
টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে ঘিরে জেলা স্টেডিয়ামে সংস্কৃতিক পরিবেশনা উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দর্শকদের মাঝে ১৫টি ফুটবল পুরস্কার দেওয়া হয়।
ভোরের কুয়াশা চিরে যখন পাহাড়ি টিলার বুক চিরে আলো ফোটে, তখন হাতছানি দেয় চিরহরিৎ এক মায়াবী রূপ। পিঠে ঝুড়ি আর আঙুলের নিখুঁত টানে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ তোলার দৃশ্য দেখে পর্যটকের ক্যামেরার ফ্রেম হয়তো মোহগ্রস্ত হয়; কিন্তু সেই সবুজের গহীন আড়ালে লুকিয়ে থাকে শতবর্ষের নীরব দীর্ঘশ্বাস আর বঞ্চনার নির্মম এক বাস্তবতা।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী, চাম্পারায়, পাত্রখোলা কিংবা মাধবপুর—সব বাগানের চিত্রনাট্য প্রায় একই সূত্রে গাঁথা। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন শ্রম, রোদ-বৃষ্টি-কাদার সাথে লড়াই। অথচ দিনশেষে হাতে ওঠে মাত্র ১৭৮ টাকার নামমাত্র মজুরি। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই যুগে ১৭৮ টাকায় একবেলার সদা মেটানোই যেখানে অসম্ভব, সেখানে পুরো পরিবারের অন্নসংস্থান চা শ্রমিকদের কাছে যেন এক অলৌকিক টিকে থাকার লড়াই।
দুপুরের চড়া রোদে যখন শরীর নুয়ে পড়ে, তখন বাগানের ছায়ায় বসে শ্রমিকদের আহারের চিত্রটি দেশের চা-শিল্পের আসল কঙ্কালসার রূপটি উন্মোচন করে। কারো পলিথিনের পুটুলিতে পান্তা ভাত, কারো মোটা আটার শুকনো রুটি। তরকারি কেনা যেখানে বিলাসিতা, সেখানে ভাতের সঙ্গী হয় চা-গাছের কচি পাতা বেটে তৈরি ঝাল মিশ্রণনস্থানীয় ভাষায় যা ‘পাতিচখা’ বা পাতা চাটনি। কচি চা পাতা, পোড়া আলু, কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের সাথে সামান্য চানাচুর মিশিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেন তারা।
শ্রমিক গীতা মাদ্রাজী বলছিলেন, ডাল-তরকারি তো দূরের স্বপ্ন, চাল জোগাড় করতেই প্রাণ যায়। রুটির সাথে গাছের পাতা আর মরিচ চটকে পেট ভরিয়ে আবার কাজে নামি। এই আমাদের জীবন।
কমলগঞ্জের ২২টি বাগানের আধুনিক চা-শিল্প দাঁড়িয়ে আছে মূলত এই শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনির ওপর। অথচ মান্ধাতা আমলের বসতবাড়ি, ভঙ্গুর স্যানিটেশন আর নামমাত্র চিকিৎসা নিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই মাটির বুকেই আবদ্ধ হয়ে আছেন তারা।
এ বিষয়ে বাগান ব্যবস্থাপকরা শ্রমিকদের কঠোর জীবনের কথা স্বীকার করেন।
চাম্পারায় চা বাগানের ব্যবস্থাপক রাহেল রানা জানান, শ্রমিকদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং তাদের মানোন্নয়নে কাজ চলমান রয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার জানান, স্থানীয় প্রশাসন সবসময় শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং অসুস্থতাসহ জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
পর্যটকদের কাছে যা চোখজুড়ানো সবুজ স্বর্গ, চা শ্রমিকদের কাছে তা ঘাম আর বঞ্চনার এক অদৃশ্য খাঁচা। ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’র অর্থনীতি চাঙা থাকলেও ১৭৮ টাকার মজুরিতে আজও বদলায়নি তাদের নুন-ভাতের ভাগ্য।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদ গেটের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, আবু সাঈদ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিকৃতি। তার আত্মদানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছেছিল। আবু সাঈদের পাশাপাশি সারা দেশে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আত্মদান করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে। রংপুরের সন্তান আবু সাঈদের জন্য এ অঞ্চলের মানুষ গর্ববোধ করেন।
দুলু বলেন, আবু সাঈদের স্মৃতি ধরে রাখতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে আবু সাঈদ গেট নির্মাণের উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে এই পথ দিয়ে চলাচলকারী মানুষ গেটটি দেখে তার আত্মত্যাগের কথা জানতে পারবেন। জুলাইয়ে আত্মদানকারীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাত্র ১০ মিনিটের তাণ্ডব! আর তাতেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল কয়েক হাজার বিঘা জমির শত শত কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল কলা আর পেঁপে বাগান। টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে হঠাৎ এক আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে। তাতেই ঝড়ের তীব্র বাতাসে মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে বিঘার পর বিঘা কলা ও পেঁপের বাগান।
কৃষি বিভাগ বলছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় সফরে থাকায় তার পক্ষে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকারসহ বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের সাথে দেখা করে তাদের সাথে কথা বলেছে।
সরেজমিনে শোলাকুড়ি ইউনিয়নের জয়না গাছা, হরিনধরা, গাবগাইছাসহ বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি, অরণখোলা, ফুলবাগচালা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের প্রায় ৬০টি গ্রামে এভাবেই ১০ মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে কলার বাগান বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। হঠাৎ তীব্র ঝড়ে প্রায় ৭০০ কৃষকের অতি কষ্টে চাষ করা কলা ও পেঁপের বাগান ধ্বংস হয়ে গেছে। ধারদেনা করে আবাদ করা ফসলের ক্ষতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।
স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ফলন্ত কলাগাছগুলোর মাজা ভেঙে গেছে, কোথাও বা পুরো গাছ উপড়ে পড়েছে। চাষিরা এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে থাকার কারণে তিনি আসতে পারেনি।’ তাকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে সভাপতি জাকির হোসেন সরকার তার দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন।
জাকির হোসেন সরকার আরও বলেন, ‘কয়েকটি ইউনিয়নে হঠাৎ কয়েক মিনিটের ঝড়ে অনেক ক্ষতি হয়েছে।’ এ সময় তিনি কৃষকদের সাথে কথা বলে তাদের সমবেদনা জানান।
শোলাকুড়ি ইউপি সদস্য খোকন মিয়া (৫০) জানান, প্রচুর পরিমাণে কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। কোনো জমিতেই খাড়া গাছ নাই। কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
হরিণধরা গ্রামের কৃষক নূর মুহাম্মদ (৪৫) জানান, পেঁপে দুই বিঘা, লাউ পাঁচ বিঘা জমির ফসল একেবারে নষ্ট হয়েছে। তার অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
গাবগাইছা গ্রামের কৃষক আবেদ আলী (৫৮) জানান, তার ১৭০০ কলাগাছ ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গেছে। তার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ টাকার মতো হবে বলে জানান এই কৃষক।
একই গ্রামের কৃষক জিয়াউল হক (৪৮) বলেন, ‘তার ৫০ বিঘা জমির কলাসহ গাছ ভেঙে গেছে।’ হঠাৎ ঝড়ে এমন ক্ষতি তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তার পেঁপে-কলা নিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।
আরেক কৃষক আব্দুস ছাত্তার (৩৫) জানান, তার ৭ হাজার কলাগাছ, ৩ হাজার পেঁপে বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) ঝড়ে একদম ভেঙে পড়েছে। তার ক্ষতির পরিমাণ ধারণা করছে প্রায় ৭৫ লাখ টাকার মতো।
শুধু নূর মোহাম্মদ, আব্দুস ছাত্তার, জিয়াউল হকই নয়, ছোট-বড় প্রায় ৭ কৃষকের আবাদি কলা-পেঁপে ঝড়ে নষ্ট হয়েছে।
কৃষকরা তাদের ধারদেনা ঋণ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কী দিয়ে এবার ঋণ পরিশোধ করবে?
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলছে, কলাচাষিদের কাছে এই ক্ষতি শুধু কিছু গাছের মৃত্যু নয়, এর সাথে মিশে ছিল তাদের পুরো পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন ও ধারদেনার হিসাব। ধারদেনা ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে করা এই চাষ মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় হাজারো কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দাবি, সরকারিভাবে দ্রুত সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা হলে, এই বিপুল ক্ষতি কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবিএম খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে কৃষি বিভাগ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে যাচ্ছে। কৃষকের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মধুপুরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কৃষি ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলছে, এ ঝড়ে ৭০০ কৃষকের কলা-পেঁপেসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে সরকারি সহযোগিতা পেলে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
এমন ক্ষতিতে সার-বীজ ও পরিচর্যা করতে গিয়ে তাদের ধারদেনা ব্যাংক ঋণ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সুদমুক্ত ঋণ ও সরকারি সহযোগিতা চান কৃষকরা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে।
লন্ডন থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ প্রথমে তাঁর বাসভবনে নেওয়া হবে, যেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা তাঁকে শেষ বিদায় জানাবেন।
পরবর্তীতে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মরদেহ বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে রাখা হবে। বিকেল ৩টায় সেখানেই তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং জানাজা শেষে বিকেল ৫টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ও সাবেক সহকর্মীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁর ছেলে রাদ শারার খালিদী জানান, তাঁর বাবা সাংবাদিকতায় সবসময় সততা, সততা ও বস্তুনিষ্ঠতার নীতি বজায় রেখে চলতেন এবং পেশাগত জীবনে নানান প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও আদর্শের সঙ্গে কখনো আপস করেননি।
উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে অবস্থানকালে গত ১ অক্টোবর রাতে তৌফিক ইমরোজ খালিদী হঠাৎ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন। দ্রুত লন্ডনের সেন্ট বার্থোলোমিউস হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ অক্টোবর দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ময়নামতি রানীর বাংলো পেরোলেই চোখে পড়ে চারা উৎপাদনকারীদের কর্মব্যস্ততা। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হয় বীজতলা তৈরি, চারার পরিচর্যা, পানি দেওয়া ও বিক্রির কাজ। দুপুরে কিছুটা বিরতি থাকলেও বিকেল গড়াতেই আবার শুরু হয় ব্যস্ততা। শীতের আগমুহূর্তে চারা বিক্রির মৌসুম জমে ওঠায় এখন দিন-রাতের বেশির ভাগ সময়ই মাঠে কাটছে কৃষকদের।
এমন দৃশ্য কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমেশপুরের। এ গ্রামের সবজির চারা এখন যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে এ এলাকায় চলে আসছে সবজির চারা উৎপাদন। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ থেকে ২০ একর জমিতে উৎপাদিত চারা বিক্রি করে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন চাষিরা। তবে সম্ভাবনাময় এ খাতে সেচ সংকট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, মানসম্মত বীজ ও মাটি পরীক্ষার সুযোগের অভাবসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন তারা।
এই জনপদে উৎপাদিত হচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, শিম, লাউ, কুমড়া ও ব্রকলিসহ অন্তত ২৩ ধরনের সবজির চারা। এক দফা চারা বিক্রি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় নতুন করে বীজ বপনের প্রস্তুতি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে কেউ চারায় পানি দিচ্ছেন, কেউ চারা তুলছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ক্রেতাদের সঙ্গে দরদামে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের গাড়িতে চারা তুলে দিচ্ছেন চাষিরা। পলিথিনে ঢাকা ছোট ছোট তাবুর ভেতর মাচার ওপর সারিবদ্ধ ট্রেতে কোকোপিটে বেড়ে উঠছে নানা জাতের সবজির চারা।
চারা উৎপাদনকারী আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘১৯৬৬ সাল থেকে সমেশপুরে সবজির চারা উৎপাদন হয়ে আসছে। এখানকার চারা দেশের অন্তত ৩৪টি জেলায় যায়। গ্রামের প্রায় দেড়শ পরিবার চারা উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।’
আরেক চারা উৎপাদনকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে অন্তত ৫০ কোটি টাকার চারা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারা উৎপাদন ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।’
চাষি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বুড়িচংয়ে ধানের পর চারা উৎপাদন থেকেই কৃষকদের অন্যতম বেশি আয় হয়। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে তারা তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। বিশেষ করে ভালো বীজ ও মাটি নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।’ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া গেলে চারা উৎপাদন আরও বিস্তৃত করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
চাষিরা জানান, এখন চারা বিক্রির মূল মৌসুম। অথচ এ সময়েই দেখা দিয়েছে সেচের সংকট। আবার বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চারা উৎপাদন। মানসম্মত বীজ ও সার সংগ্রহের পাশাপাশি মাটি পরীক্ষা নিয়েও রয়েছে নানা জটিলতা। এসব সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও তাদের।
সমেশপুরের কৃষকদের সমস্যাগুলো শুনেছেন জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিন আক্তার বলেন, ‘চারা উৎপাদনকারীদের সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, বুড়িচং উপজেলায় ধানের পর কৃষকদের আয়ের অন্যতম বড় উৎস সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সমেশপুরের চারা উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের সবজি উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ জনপদ।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবির নজরদারি ও অপারেশনাল সক্ষমতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় নবনির্মিত ‘ছোট আগলা টিওবি’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন নবনির্মিত এ টিওবিটির উদ্বোধন করেন।
বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন ও রামু সেক্টরের অধীনস্থ রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ছোট আগলা এলাকায় এই টিওবি’র নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। সীমান্তের নিকটবর্তী এ স্থাপনা থেকে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, সীমান্তে কার্যকর নজরদারি এবং অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
উদ্বোধনকালে রিজিয়ন কমান্ডার টিওবি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিজিবি রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার-উল-আলম, কক্সবাজার রিজিওনের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মফিজুর রহমান ভূঁইয়া, রামু বব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরুল কায়েস মেহেদী, সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন এবং বিজিবির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সীমান্ত থেকে বিদ্যমান বিওপিগুলোর দূরত্বের কারণে এ এলাকায় নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছিল। নতুন টিওবি স্থাপনের ফলে সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূর্ব অষ্টগ্রাম পীর সাহেব বাড়ি জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকা শরীফের তিনতলা নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর ওই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অত্র দরবার শরীফের গদিনশীন পীর আলহাজ ফজলুল করিম উপস্থিত থেকে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি এবং সার্বিক মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পবিত্র আল-কোরআনের কাব্য অনুবাদকারী আলহাজ মোহাম্মদ তৈয়ব আলী ও আলহাজ শাফিউদ্দিন সরদার।
এ সময় এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, স্থানীয় মুরুব্বি এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ইটভাটার দেয়াল ধসে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চরপুমদী ইউনিয়নের রামপুর এলাকায় মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্সের ইটভাটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকরা হলেন, দক্ষিণ চরপুমদী এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান উৎপল (২৭) এবং একই গ্রামের মৃত ছফির উদ্দিনের ছেলে গোলাপ মিয়া (৬০)। তারা দুজনই ওই ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রামপুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্সের ইটভাটায় কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে ইটের দেয়াল ধসে শ্রমিকদের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটাটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তাঁদের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তর এর আগে ইটভাটাটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। এরপরও পাশের একটি বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ইটভাটাটির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোমিন ভূঁইয়া জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া মেসার্স মায়ের দোয়া ব্রিকস পরিচালনার দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার জানা মতে, সেখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার কথা নয়।
খুলনা জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও মতবিনিময় সভা গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষকসহ কেসিসি ও কেডিএ’র কর্মকর্তা এবং নাগরিক নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা সিটি করপোরেশন ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। সভায় জিয়া হল কমপ্লেক্সে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে সে বিষয়ে উপস্থিত সকলের মতামত গ্রহণ করা হয় এবং মতামতের ভিত্তিতে জিয়া হল কমপ্লেক্সের নকশা প্রণয়ন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় কেসিসি প্রশাসক জিয়া হল কমপ্লেক্সের নকশায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের দাবির বিষয় তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘একটি আধুনিক সিনেপ্লেক্স, আধুনিক লাইব্রেরি ও টপ ফোরে ফুডকোর্ট রাখার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি রয়েছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ত বিশিষ্টজনরা আর্ট এক্সিবিশন আয়োজনের জন্য একটি আর্ট গ্যালারি, নৃত্যকলার জন্য একটি স্পেস, ওপেন নাট্যমঞ্চ রাখারও দাবি জানিয়েছেন। সবকিছুর সম্মেলন ঘটিয়ে একটি নান্দনিক স্থাপন্য নির্মাণ করাই আমাদের লক্ষ্য।’ শিববাড়ি মোড়কে নগরীর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকদের চাহিদা ও রুচিবোধের সাথে সমন্বয় রেখে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই চত্বরের ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিকল্পনায় রেখে জিয়া হল কমপ্লেক্সের নকশা প্রণয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. খোন্দকার মাহফুজ উদ দারাইন, সহযোগী অধ্যাপক এস এম নাজিমউদ্দীন কেসিসির সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলম, কেসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, সিসভাসের স্বত্বাধিকারী এস এম নাজিমুদ্দিন পায়েল, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ, নাগরিক ফোরামের মহাসচিব এস এম ইকবাল হাসান তুহিন, নাগরিক নেতা শেখ আশরাফ উজ্জামান, বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খোকন, নারী উদ্যোক্তা শামীমা সুলতানা শিলু উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে উপস্থিত সকলে জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণের স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করেন।