রোহিঙ্গা শিবিরে আলোচিত দুটি নাম; সলিম মাস্টার ওরফে রায়েত ও মো. মুসা। মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বড় বড় সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আসছে তাদের নাম।
সলিম (৩১) জেলে থাকলেও থেমে নেই তার অপরাধ কর্মকাণ্ড। আর মুসা (৩৫) নামের স্থানীয় যুবক আড়ালে-আবডালে থেকে বাস্তবায়ন করছেন মিয়ানমারে অবস্থান করা আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার ওরফে জুনুনির সব অপকর্ম।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করা একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও থানা পুলিশ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আগস্টের শেষ সপ্তাহে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে জানা যায়, সেখানকার সব খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, গুম, ধর্ষণসহ নানা অপরাধের সঙ্গেই আরসা কর্মীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হাত রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত ৫ বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুনের ঘটনা ঘটেছে ১২১টি, এগুলোর বেশিরভাগের সঙ্গে আরসার সংশ্লিষ্টতা ছিল। যদিও এতদিন সরকারের পক্ষ থেকে আরসার উপস্থিতি স্বীকার করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গত ২৮ আগস্ট দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আসলে কে আরসা আর কে আরাকান আর্মি, সেটা কোনো বিষয় নয়। সেখানে যারাই অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, মুহিব উল্লাহ খুনের পর বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ৪১৪ জন আরসা সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএন। তাদের মধ্যে আরসার প্রধান নেতা আতাউল্লাহর আপন ভাই শাহ আলীও রয়েছেন। যদিও পুলিশের ভাষ্য, এরা আরসা নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গ্রেপ্তারের চেয়ে এই সংগঠনের সদস্যসংখ্যা আরও অনেক বেশি। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য তালিকায় দেখা যায়, ওই সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাবে। অবশ্য আরসা প্রধান বিভিন্ন সময় দাবি করতেন, অন্তত ১৬ হাজার সদস্য আছে তাদের এই সশস্ত্র সংগঠনে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মাস কয়েক আগ পর্যন্ত বলা হয়েছে যে, রোহিঙ্গা শিবিরে আরসার অস্তিত্ব নেই। তবে রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ খুন হওয়ায় পর আরসার অপতৎপরতা নিয়ে তেমন প্রশ্ন কারো মধ্যে নেই। বরং এদের দমন করার উপায় খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের তথ্য বলছে, সংগঠনটির প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার ওরফে জুনুনি মাসোহারা ভিত্তিতে ক্যাম্পগুলোতে এজেন্ট নিয়োগ করেছেন। তাদের হাতে ভারী অস্ত্র দিয়ে নানা অপকর্ম বাস্তবায়ন করিয়ে নিচ্ছেন । তার ও সংগঠনের অন্য নেতাদের নির্দেশনা এজেন্টদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন মুসা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ক্যাম্প এজেন্টদের প্রধান ও নিয়ন্ত্রক ৩১ নম্বর ক্যাম্পের মাস্টার সলিম। সর্বশেষ ৯ আগস্ট সলিমের করা ছকেই উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। এতে ১৫ নম্বর শিবিরের হেড মাঝি আবু তালেব ও সাব মাঝি সৈয়দ হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে আরসা সদস্যরা।
প্রথম দিকে আরসাকে নিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভিন্ন মত থাকলেও সম্প্রতি দুই নেতা, তিন মাঝি, ছয় মুসল্লিসহ অনন্ত দুই ডজন খুনে সরাসরি আরসা সদস্যরা জড়িত ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। এমনকি রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রেও খুনের সঙ্গে আরসার যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। যদিও সংগঠনটির প্রধান আতাউল্লাহসহ শীর্ষ নেতাদের নাম না থাকা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা আছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় এপিবিএনের কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদককে বলছেন, চার মামলায় গ্রেপ্তার সলিম জেলে থাকলেও মুসার সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
তবে এপিবিএন-৮ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, গত ১৭ জুন উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আমেরিকার তৈরি একটি অত্যাধুনিক এম-১৬ রাইফেল ও ৪৯২ পিস বুলেট উদ্ধার করা হয়। প্রথমবারের মতো উদ্ধার হওয়া এই ভারী অস্ত্রের সরবরাহকারী ছিলেন মুসা। সম্ভবত তিনি ক্যাম্প ১৯ অথবা ২০-এ অবস্থান করছেন।
নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া একাধিক ক্যাম্পের হেড মাঝি বলেছেন, ক্যাম্পে নিয়মিত ভারী ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাতে মহড়া দেয় একটি গ্রুপ। তারা প্রত্যেক ব্লকে ব্লকে গিয়ে যুবকদের সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দিতে আহ্বান জানায়। কারো কারো ক্ষেত্রে আবার বাধ্য করা হয়।
এপিবিএন বলছে, ক্যাম্পে এসব অস্ত্রের জোগানদাতা মুসা। তথ্য আছে, কক্সবাজার জেলার উত্তর দিকে এক উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা তিনি। শুরুর দিকে একবার গ্রেপ্তার হলেও দীর্ঘদিন ধরে আরসা প্রধানের গানম্যান হিসেবে কাজ করছেন। তবে তিনি বেশির ভাগ সময়ই থাকেন ক্যাম্পে। যাতায়াত করেন পাহাড়ে পাহাড়ে। তবে আরসা এজেন্টদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করেন তুমব্রু সীমান্তে।
সন্ত্রাসী এই সংগঠনের হুমকিতে দিন পার করছেন খুন হওয়া মুহিব উল্লাহর সংগঠন এআরএসপিএইচের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মেদ জুবায়ের। লম্বাশিয়া শিবিরে এই বাসিন্দা দৈনিক বাংলাকে বলেন, প্রতিনিয়তই প্রকাশ্যে আরসার নাম করে তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে তার পরিণতিও মুহিবুল্লার মতোই হবে। পরিবারসহ খুন করা হবে তাকে। এ ছাড়াও মাঝে মাঝেই মালয়েশিয়ার একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোনে হুমকি দেয়া হয় তাকে। বিষয়গুলো জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকেও (ইউএনএইচসিআর) লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
মোহাম্মেদ জুবায়ের বলেন, ‘প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা ও অধিক জনপ্রিয়তার কারণেই ক্যাম্পে থাকা আরসার এজেন্টরা তাকে প্রতি মুহূর্তে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।’
আরসার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের এদেশে আসার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। দিনটিকে ঘিরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে। সবগুলো আয়োজন থেকে দাবি তোলা হয় প্রত্যাবাসনের। তারা বলেছেন, সম্মানের সঙ্গে নিজ আদি ভূমিতে ফিরতে চাওয়ার আকুতি ছিল তাদের মধ্যে। রোহিঙ্গারা ২৫ আগস্টকে ‘কালো দিন’ বলেন। কিন্তু কথিত আরসা সদস্যরা এই প্রত্যাবাসনবিরোধী। কোনো আয়োজন না করা আর করলেও প্রত্যাবাসন নিয়ে কথা না বলতে ক্যাম্পে ক্যাম্পে হুমকি দিয়ে বেড়ান তারা। সহিংসতা ঘটতে পারে বলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে থানায় অভিযোগ করেন।
উখিয়া-টেকনাফ থানা পুলিশ সূত্র বলছে, ২৫ আগস্ট নিয়ে আরসার নেতারা ক্যাম্পে থাকা বিভিন্ন মাঝিদের হুমকি দিয়েছেন বলে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। জানা গেছে, গত এক মাসে আরসার হুমকি নিয়ে টেকনাফ ও উখিয়া থানায় ৫টি অভিযোগ পড়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মাদ আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আরসার হুমকির বিষয়ে আমরা অবগত। সাধারণত ক্যাম্প থেকে যারা অভিযোগ করেন তারা ক্যাম্পের সিআইসির সুপারিশ নিয়ে অভিযোগ থানায় জমা দেন। ঘটনার তদন্তে থানা পুলিশ অধিকাংশ সময় ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা এপিবিএনের সাহায্য নিয়ে থাকেন।’
আরসা ও তার নেতৃত্ব
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০টি চৌকিতে হামলা চালানোর জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষ আরসাকে দায়ী করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনী ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে, আর সেই হত্যা, ধর্ষণ এবং নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৭ লাখের মতো রোহিঙ্গা।
মিয়ানমার সরকার আরসাকে একটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী বলে ঘোষণা করে, কারণ এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
সংগঠনটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের ঘোর বিরোধী। তাদের নেতারা কখনও মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান না। কারণ বর্মী সেনাবাহিনী তাদের খুঁজছে। গেলে তাদের দণ্ড ভোগ করতে হবে। এ জন্য তারা চান না যে রোহিঙ্গারাও তাদের দেশে ফিরে যাক।
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, আরসার নেতৃত্বে রয়েছেন ‘আতাউল্লাহ’ নামে একজন রোহিঙ্গা, যার জন্ম করাচিতে, বেড়ে উঠেছেন সৌদি আরবে। গোপনে অবস্থান করছেন মিয়ানমারে।
এপিবিএন সূত্র বলছে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মোট ৩৪টি ক্যাম্প আছে। প্রতিটি ক্যাম্পেই আরসা সদস্যরা সক্রিয়। তাদের সদস্য সংখা কমপক্ষে পাঁচ হাজার। এখন পর্যন্ত তাদের ১০ জন কমান্ডারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা হলেন, আলি জোহর, হোসেন জোহর, জয়নাল, মো. সেলিম, আয়াত উল্লাহ, বশির উল্লাহ এবং ওবাইদ উল্লাহ। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন আলমগীর, মৌলভী মোস্তাক, ওস্তাদ খালেদ ওরফে খালিদ, ইব্রাহিম।
তুমব্রু সীমান্তে আরসার গোপন বৈঠক
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের তুমব্রু, থোয়াইংগা ঝিরি সীমান্তের ক্যাম্পে থাকা আরসার এজেন্টদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক হয়। বৈঠকগুলো সমন্বয় করেন আরসা প্রধানের গানম্যান হিসেবে পরিচিত মুসা। কারাগার থেকে ফোনে যুক্ত হয় মাস্টার সলিম। বৈঠকে যোগ দেন ৩৪ ক্যাম্পে আরসার জিম্মাদারদের প্রধানরা।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক জিম্মাদারের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব জিম্মাদার জানান, ওই বৈঠকে মূলত ক্যাম্পে আরসার তৎপরতা সামনের ৩ মাসে কেমন হবে তার দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। যা বাস্তবায়ন করেন তারা। কোনো মাঝি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তাহলে তাকে নিয়েই বৈঠকে বেশি আলোচনা হয়। কারণ সাধারণ রোহিঙ্গাদের কবজায় আনতে হলে মাঝিদের আগে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। আর নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে হত্যার পরিকল্পনা বা নির্দেশনা আসে।
সম্প্রতি সরেজমিনে তুমব্রু ও থোয়াইংগা ঝিরি সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, মিয়ানমার-বাংলাদেশ মৈত্রী সড়কের পাশ ঘেঁষে বয়ে গেছে সরু খাল। যা মিশেছে নাফ নদীতে গিয়ে। দুই দেশের সীমানাপ্রাচীরকে ভাগ করেছে এ খাল। দুই পাড়েই আছে অসংখ্য পাহাড়। যেখানে বাংলাদেশিদের চলাচলে কঠোরতা থাকলেও রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ রয়েছে। তবে গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় গোপন রেখে সেখানে পৌঁছায় দৈনিক বাংলার এই প্রতিবেদক। কথা হয় নো-ম্যান্সল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে। তারাও অবগত আরসার বৈঠক সম্পর্কে। এর বেশি বলতে চাননি জিরো পয়েন্টে থাকা এসব রোহিঙ্গারা।
আরসার অনুসারীদের জামিনের জন্য আছে আলাদা চক্র
আরসার সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের অল্প কিছুদিন পরই জামিনে বেরিয়ে আসেন। তাদের এই দ্রুত জামিন পাওয়া নিয়ে বেশ বিভ্রান্তি দেখা গেছে স্থানীয় প্রশাসনের মাঝে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আরসা অনুসারী বা রোহিঙ্গাদের কেউ গ্রেপ্তার হলে তাদের জামিনে কাজ করে একটি সিন্ডিকেট। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদের জামিন করানোর ব্যবস্থা করা। এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন কক্সবাজার শহরের মৌলভী ইলিয়াছ নামের এক ব্যক্তিসহ কয়েকজন। ইলিয়াস ৯০ দশকের মাঝামাঝি মিয়ানমার থেকে এদেশে এসে বসতি স্থাপন করেন।
সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের নিয়োগ করা আইনজীবীর মাধ্যমে আটক করা আসামিকে আদালত থেকে দ্রুত ছাড়িয়ে নেন।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা বা আরসা অনুসারীদের জামিনের ব্যাপারে একটা গোষ্ঠী কাজ করে, যাদের কাজ হচ্ছে মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা। আমরা আইনের মধ্যে থেকে এটা প্রতিহত করার চেষ্টা করছি।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বিভক্ত আরসা
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর হেড মাঝি ও আরসার মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। এ দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ আরসার ছায়াতল থেকে সরে আসা চেষ্টা অথবা মাঝির একক আধিপত্য বিস্তার। তা ছাড়া অবৈধ আয়ের ভাগবাঁটোয়ারা নিয়েও দ্বন্দ্ব তো আছেই। এসব কারণে আরসা অনুসারী মাঝিরা সংগঠন থেকে বিভক্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু সংগঠনের মূল শক্তি জানান দেয়া ও অন্যদের কাছে এই বার্তা পৌঁছানোর জন্য হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। সর্বশেষ হত্যার শিকার জামতলি এফডিএমএন ক্যাম্প-১৫ এর সি ব্লকের হেড মাঝি আবু তালেবও ছিলেন আরসার সাবেক সদস্য।
১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, সম্প্রতি ক্যাম্পে খুনগুলো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে।
জানতে চাইলে অভিবাসন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আসিফ মুনীর দৈনিক বাংলাকে বলেন, আরসা আছে কী আরসা নেই এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ক্যাম্পে এত রক্তপাত কারা ঘাটাচ্ছে? যদি আরসাই করে থাকে তাহলে গত ৪ বছরে এটা না জানা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চরম ব্যর্থতা। আর জেনেও চুপ করে থাকলে তাদের প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে।
সর্বশেষ গত মাসের শেষ সপ্তাহে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা শেষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিনা কারণে রক্তপাত হচ্ছে। হানাহানি হচ্ছে। মাদক ও সন্ত্রাস বেড়ে যাচ্ছে। এগুলো বন্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও যেকোনো সময় অভিযান করতে পারবে, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন দৈনিক বাংলার কক্সবাজার প্রতিনিধি মুহিবুল্লাহ মুহিব)
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় বাস, এম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়েছেন, আহত হয়েছেন পাঁচ জন।
রোববার (২২ মার্চ) ভোর চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনের কাজ চলছিল। এসময় একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীর গতিতে পার হচ্ছিল। এমতবস্থায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এঘটনায় বাস অ্যাম্বুলেন্স কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেল ও আরও কিছু বাসের জট লেগে যায়। কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস জটলার মধ্যে ধাক্কা দেয়। এতে বাসা, এম্বুলেন্স মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় একজন মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার, ও একজন যাত্রী নিহত হয়। ৫ জন আহত হয়। নিহতদের মরদেহ ফেনী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
এখন পর্যন্ত কারো নাম পরিচয় জানা যায়নি।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১৫ জন। আহতদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে বাসটি উঠে পড়লে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ অবস্থায় বাসটিকে হিঁচড়ে আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নিয়ে যায় ট্রেনটি।
ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। তারা সবাই বাসের যাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, রেলওয়ে ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত নার্স জানান, হাসপাতালে ১২ জনের মরদেহ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪ জন আহত রোগী ভর্তি আছেন এবং আরো প্রায় ১৫ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় রেললাইনে উঠে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর দেশের অন্যতম বৃহৎ ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর ৩৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭ নম্বর ইউনিটে পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাত ২টা থেকে ইউনিটটি পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরেছে বলে কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৫ সালের ১৪ জুন এই ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে শুক্রবার রাত থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করা সম্ভব হয়।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরেই গ্যাস সংকটের কারণে একাধিক ইউনিট বন্ধ ছিল। ২০২৫ সালের ৯ জুন ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৫ নম্বর ইউনিট, ১৩ জুন ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪ নম্বর ইউনিট এবং ১৪ জুন ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৭ নম্বর ইউনিট উৎপাদন থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, ২০১০ সালের জুনে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৬ নম্বর ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডে টারবাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৪ সালের জানুয়ারিতে, যখন ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট উৎপাদনে আসে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিট চালু হয়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুটি ইউনিটও দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ঈদের আনন্দ ভ্রমণে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত একটি ভাসমান সেতুতে অতিরিক্ত মানুষের চাপে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনের এলাকায় সেতুর ওপর মানুষের ভারে সেটি হঠাৎ উল্টে যায়।
এতে নদে ডুবে ভাইবোনসহ মোট চার জন মারা গেছেন। নিহতরা হলেন—উপজেলার ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ১২ বছরের মেয়ে খাদিজা ও ৬ বছরের ছেলে আব্দুল মোতালেব, ডাকাতিয়াপাড়া এলাকার জয়নাল মিয়ার ১০ বছরের মেয়ে মায়ামনি এবং গামারিয়া এলাকার ১৬ বছরের কিশোর আবির।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার রবিউল ইসলাম সন্ধ্যায় চার জনের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এতে কয়েকজন আহতও হয়েছেন, যাদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঈদের দিন এমন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং পুরো এলাকা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে ভাসমান এই সেতুটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ উঠে পড়ায় ভারসাম্য হারিয়ে সেটি নদে উল্টে যায়।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এ সকালে তালামুক্ত হওয়ার পর থেকে বন্দীদের উৎসবমূখর পরিবেশে দেখা যায়, সকালের নাস্তা শুরু হয় সুস্বাদু পায়েস ও মুড়ি দিয়ে, সকাল ৯.৩০ মিনিটে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদের নামাজ পরেন বন্দীরা, নামাজ শেষে কারা বিভাগ এবং দেশ ও জাতীর মঙ্গল কামনায় মোনাজাত করা হয়, তারপর বন্দীদের উদ্দেশ্যে কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ মো: মোতাহের হোসেন এর বিশেষ বাণী পড়ে শোনান অত্র কারাগারের জেলার মো: আখেরুল ইসলাম।
বেলা ১২.০০ টায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/ডিসি কারাগারে আসলে তাকে রিসিভ করেন জেলার ও কারাগারের অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ।
দুপুরে বন্দীদের বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়, অত্র কারাগারের জেলারের উপস্থিতিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিজে কিছুক্ষণ বন্দীদের খাবার পরিবেশন করেন।
পোলাও, গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগীর রোস্ট, ডাল, সালাদ, মিস্টি ও পান সুপারী খাবারের ম্যেনুতে ছিলো। রাতে মাছ, আলুর দম আর সাদা ভাত রাখা হয়েছে বলে জেলার জানান। সবমিলিয়ে চমৎকার পরিবেশে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বন্দীদের ঈদ-উল-ফিতর। সার্বিক ম্যানেজমেন্টে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জেলারকে ধন্যবাদ জানান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল আকস্মিক ভাবে ঈদুল ফিতরের দিন শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক সেবার মান পরিদর্শনে আসেন। তিনি সরাসরি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রন্ধনশালায় যান এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি করা রোগীদের খাবার নিজেই খেয়ে মান যাচাই করেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সাথে খোলামেলা কথা বলে খোঁজখবর নেন।
তিনি খুবই আন্তরিকতার সাথে কারো কোনো সমস্যা বা অসুবিধা আছে কি না, এব্যাপারে প্রত্যেকের সাথে কথা বলেন।পরিদর্শন কালে এক অসচ্ছল গ্যাস্ট্রো নারী রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাকে তাৎক্ষণিক ভাবে রাজধানীর বিশেষায়িত গ্যাস্ট্রো হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সার্বিক বিবেচনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ভালো আছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান সন্তোষ জনক রয়েছে। জনবল কাঠামো সংকটের সমাধানে দীর্ঘদিন ডেপুটেশনে থাকা দশজন চিকিৎসকের অর্ডার আগামী এক মাসের মধ্যে বাতিল করবেন বলে তিনি জানান। কুকুর এবং বিড়ালের কামড়ের ভ্যাক্সিন এবং এক্স-রে ফিল্ম সংকটে দেয় বরাদ্দের খোঁজখবর নেন।
এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, এলাকাবাসী, কাপাসিয়া প্রেসক্লাব ও স্থানীয় বিএনপি দলীয় নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানান। পাশ্ববর্তী মনোহরদীর কৃতিসন্তান হিসাবে কাপাসিয়াকে বিশেষ বিবেচনায় রাখার জন্য মন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান। ডিউটি চলাকালীন সময়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের রোগী দেখার ব্যাপারে সতর্ক করে দেন এবং এসব বিষয়ে স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও উন্নত ও স্বচ্ছ করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আরও আধুনিক ও উন্নত সেবাকেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিএনপি সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা বদ্ধ। আগামী এক মাসের মধ্যে দেশব্যাপী স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন কালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ডাঃ তামান্না তাসনীম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহীনুর আলম, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন, গাজীপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, তরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বদরুজ্জামান বেপারী, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব জুনায়েদ হোসেন লিয়নসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘাতের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের আব্দুর রবের কলেজপড়ুয়া মেয়ে ও ভাগনির ছবি এবং ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে ফিরোজ মিয়া পক্ষের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনার জেরে পূর্ব থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা ঈদের নামাজ শেষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
খবর পেয়ে গোপলার বাজার পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নারীর সম্মানহানি এবং দাঙ্গার এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পাবনা সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা) পিতৃ-মাতৃহীন নিবাসীদের ঈদ এবার কাটল অন্যরকম এক আমেজে। উৎসবের দিনে বাবা-মায়ের অভাব ভুলিয়ে দিতে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন পাবনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. শাহেদ মোস্তফা। পরম মমতায় তিনি ভাগ করে নিলেন ঈদের আনন্দ, মেতে উঠলেন উৎসবের উচ্ছ্বাসে।
শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে পাবনা শহরের সরকারি শিশু পরিবার চত্বরে নিবাসীদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন ও কুশল বিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তার সহধর্মিণী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, লাল-নীল রঙের নতুন পোশাকে সেজেছিল শিশু পরিবারের নিবাসীরা। ড. শাহেদ মোস্তফা প্রতিটি শিশুর কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং পরম স্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা হাসিমুখের খুদে নিবাসীদের মাঝে জেলা প্রশাসক ও তার পরিবারের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ ঈদ উপহার ও মিষ্টান্ন।
এ সময় ড. শাহেদ মোস্তফা বলেন, "এই শিশুরা আমাদেরই সন্তান। ঈদের আনন্দ যেন তাদের জীবন থেকে হারিয়ে না যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা আজ তাদের মাঝে এসেছি। পরিবারহীন এই শিশুদের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটাতে পারাই আমাদের ঈদের আসল সার্থকতা। তারা যেন সমাজ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে না করে, সরকার ও প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে আছে।"
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিশু পরিবারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। উপহার বিতরণ শেষে নিবাসীদের সঙ্গে দুপুরের বিশেষ ভোজে অংশ নেন অতিথিরা। জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক ও আন্তরিক উদ্যোগে শিশু পরিবারের নিবাসীদের মাঝে এক আবেগঘন ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ফরিদপুরের সদরপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উৎসবের মধ্যে পাগলা কুকুরের অতর্কিত আক্রমণে শিশুসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সদর এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের জামাত শেষে মুসল্লিরা যখন একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক সেই সময় একটি পাগলা কুকুর পথচারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কুকুরটি সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই কামড়ে রক্তাক্ত করলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
আক্রান্ত এক শিশুর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি জানান, কুকুরটি হঠাৎ করেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং তার ১৩ বছরের ভাতিজা আরাফাতকেও কামড়ে আহত করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মমিনুর রহমান সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহতদের মধ্যে ১১ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত বাকি ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপন ঈদের শিক্ষাকে কেবল একদিনের জন্য সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর অন্তরে ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে বরিশালের গৌরনদী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, ঈদ আমাদের ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়াতে শেখায় এবং এই ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনা বজায় রাখলে সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করা সম্ভব।
একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নৈতিকতার চর্চাকে অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ অত্যন্ত জরুরি। মানুষ হিসেবে বিনয়ী হওয়া এবং অন্যের কষ্ট অনুভব করার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, ঈদের শিক্ষা দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত হলে সমাজে বৈষম্য কমে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আনসার উদ্দিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে তথ্যমন্ত্রী অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষা বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ফেনী জেলা কারাগারে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সকাল থেকে বন্দীর আত্নীয় স্বজন যারা কারা ক্যাম্পাসে আসছেন তাদের ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড ও ফুল দিয়ে বরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে আপ্যায়ন । দর্শনার্থীদের ওয়েলকামড্রিংস, বিশুদ্ধ পানি, মিষ্টি, পিঠা, পায়েস, চা/কপি ইত্যাদির মাধ্যমে আপ্যয়ন করা হচ্ছে।
ঈদের দিনে দর্শনার্থী সেবা সহজীকরণে বিশেষ হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। ঈদুল ফিতরে দর্শনার্থী, কারাবন্দী এবং গার্ডিং স্টাফদেরকে নিয়ে একই সাথে একই আঙ্গিনায় সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে কারা কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া ফ্রি হেলথ চেক আপ কর্নারের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জরুরী চিকিৎসার পাশাপাশি ডায়বেটিস, প্রেসার, ওজন ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে।
কারাগারের সামনে ঈদ শুভেচ্ছা কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। এখানে শিশুসহ দর্শনার্থীরা বন্দীর জন্য ছোট শুভেচ্ছা বার্তা লিখছেন। পরবর্তীতে তা বন্দীদের কাছে প্রদর্শন করা হবে।
দর্শনার্থী শিশুদের জন্য ড্রয়িং কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। শিশুদের আঁকা ছবি তার প্রিয়জন বন্দীর কাছে প্রদর্শন করা হবে। শিশুদের জন্য মেহেদী উৎসব, ওয়েলকাম ড্রিংস, চকলেট, চিপস, বেলুন, স্টীকার, বিভিন্ন ধরনের রং পেন্সিল, ক্লে ইত্যাদি বিতরণ করা হয়।
ঈদের জামাত আদায়ের সুব্যবস্থা, তিন বেলা ১৪ প্রকারের উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। বন্দীদের জন্য তাদের আত্নীয় স্বজন এর সাথে (ডিউ/আনডিউ) ব্যাতীত একবার বিশেষ সাক্ষাৎ করার অনুমতি প্রদান করা হয়।
ফেনী জেলা কারাগার -২ এর জেলার ফেরদৌস আহমেদ জানান, বন্দীদের কারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিনোদন, খেলাধুলার আয়োজন হয়েছে। বিজয়ী বন্দীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরন এবং ঘরোয়াভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিদেশে যাওয়াকে কেন্দ্র করে টাকা লেনদেনের বিরোধে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২১ মার্চ) বিকেলে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে একই এলাকার মাস্টারবাড়ির বাবুল মিয়া খয়েরপুর মুন্সিবাড়ির আজিজুল ইসলামকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যান। তবে সেখানে আজিজুলকে ভালো কাজ দিতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়া আকামার জন্য টাকা নেওয়া হলেও সেটির ব্যবস্থা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন আজিজুল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
একপর্যায়ে মালয়েশিয়ায় থাকতে না পেরে আজিজুল ইসলাম দেশে ফিরে আসেন। সম্প্রতি বাবুল মিয়া দেশে ফিরলে আজিজুল তার কাছে টাকা ফেরত চান এবং বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছেও বিচার দেন।
শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় কদমচাল বাজারে আজিজুলকে পেয়ে বাবুল মিয়া তার বিরুদ্ধে বিচার দেওয়ার বিষয়টি জানতে চান। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের লোকজন এতে জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েব খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন মোশাররফ হোসেন (৪০)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তব হলো না। সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় নিহত হয়ে ১২ দিন পর কফিনবন্দি অবস্থায় নিজ গ্রাম টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্ত্তনখোলায় ফিরলেন তিনি— ঠিক ঈদের আগের দিন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার মরদেহ পৌঁছায়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে দুপুরের দিকে গ্রামের বাড়িতে আনা হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন-প্রতিবেশীদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৮ বছর আগে পরিবারের অভাব দূর করতে সৌদি আরবে যান মোশাররফ। আল খারিজ শহরের কাছে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। গত ৮ মার্চ ইফতারের আগমুহূর্তে মিসাইল হামলায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। বাবা সূর্যত আলী ও মা জহুরা বেগম শোকে বাকরুদ্ধ। মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। স্ত্রী কবরী আক্তার জানান, ঘটনার আগের রাতেও স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। তিনি ঈদের আগে টাকা পাঠানোর কথা বলেছিলেন। সেই কথাই এখন তার কাছে অসহ্য স্মৃতি।
দুই ছেলে মাহিম (১৫) ও মিহান (৬) এখনো পুরো ঘটনা বুঝে উঠতে পারেনি। ছোট ছেলে মিহান কখনো বাবার নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে থাকে, আবার কখনো আশপাশের কান্না দেখে বিস্মিত হয়।
উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহ বিমানবন্দরে পৌঁছায় এবং দুপুর ২টার দিকে বাড়িতে আনা হয়। আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তিন বছর আগে স্বল্প সময়ের জন্য দেশে এসেছিলেন মোশাররফ। এরপর আবার পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় প্রবাসে ফিরে যান। কিন্তু সেই যাত্রা শেষ হলো না জীবনের আলো নিয়ে— শেষ হলো এক হৃদয়বিদারক পরিণতিতে।