রোহিঙ্গা শিবিরে আলোচিত দুটি নাম; সলিম মাস্টার ওরফে রায়েত ও মো. মুসা। মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বড় বড় সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আসছে তাদের নাম।
সলিম (৩১) জেলে থাকলেও থেমে নেই তার অপরাধ কর্মকাণ্ড। আর মুসা (৩৫) নামের স্থানীয় যুবক আড়ালে-আবডালে থেকে বাস্তবায়ন করছেন মিয়ানমারে অবস্থান করা আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার ওরফে জুনুনির সব অপকর্ম।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করা একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও থানা পুলিশ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আগস্টের শেষ সপ্তাহে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে জানা যায়, সেখানকার সব খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, গুম, ধর্ষণসহ নানা অপরাধের সঙ্গেই আরসা কর্মীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হাত রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত ৫ বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুনের ঘটনা ঘটেছে ১২১টি, এগুলোর বেশিরভাগের সঙ্গে আরসার সংশ্লিষ্টতা ছিল। যদিও এতদিন সরকারের পক্ষ থেকে আরসার উপস্থিতি স্বীকার করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গত ২৮ আগস্ট দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আসলে কে আরসা আর কে আরাকান আর্মি, সেটা কোনো বিষয় নয়। সেখানে যারাই অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, মুহিব উল্লাহ খুনের পর বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ৪১৪ জন আরসা সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএন। তাদের মধ্যে আরসার প্রধান নেতা আতাউল্লাহর আপন ভাই শাহ আলীও রয়েছেন। যদিও পুলিশের ভাষ্য, এরা আরসা নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গ্রেপ্তারের চেয়ে এই সংগঠনের সদস্যসংখ্যা আরও অনেক বেশি। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য তালিকায় দেখা যায়, ওই সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাবে। অবশ্য আরসা প্রধান বিভিন্ন সময় দাবি করতেন, অন্তত ১৬ হাজার সদস্য আছে তাদের এই সশস্ত্র সংগঠনে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মাস কয়েক আগ পর্যন্ত বলা হয়েছে যে, রোহিঙ্গা শিবিরে আরসার অস্তিত্ব নেই। তবে রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ খুন হওয়ায় পর আরসার অপতৎপরতা নিয়ে তেমন প্রশ্ন কারো মধ্যে নেই। বরং এদের দমন করার উপায় খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের তথ্য বলছে, সংগঠনটির প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার ওরফে জুনুনি মাসোহারা ভিত্তিতে ক্যাম্পগুলোতে এজেন্ট নিয়োগ করেছেন। তাদের হাতে ভারী অস্ত্র দিয়ে নানা অপকর্ম বাস্তবায়ন করিয়ে নিচ্ছেন । তার ও সংগঠনের অন্য নেতাদের নির্দেশনা এজেন্টদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন মুসা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ক্যাম্প এজেন্টদের প্রধান ও নিয়ন্ত্রক ৩১ নম্বর ক্যাম্পের মাস্টার সলিম। সর্বশেষ ৯ আগস্ট সলিমের করা ছকেই উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। এতে ১৫ নম্বর শিবিরের হেড মাঝি আবু তালেব ও সাব মাঝি সৈয়দ হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে আরসা সদস্যরা।
প্রথম দিকে আরসাকে নিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভিন্ন মত থাকলেও সম্প্রতি দুই নেতা, তিন মাঝি, ছয় মুসল্লিসহ অনন্ত দুই ডজন খুনে সরাসরি আরসা সদস্যরা জড়িত ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। এমনকি রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রেও খুনের সঙ্গে আরসার যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। যদিও সংগঠনটির প্রধান আতাউল্লাহসহ শীর্ষ নেতাদের নাম না থাকা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা আছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় এপিবিএনের কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদককে বলছেন, চার মামলায় গ্রেপ্তার সলিম জেলে থাকলেও মুসার সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
তবে এপিবিএন-৮ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, গত ১৭ জুন উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আমেরিকার তৈরি একটি অত্যাধুনিক এম-১৬ রাইফেল ও ৪৯২ পিস বুলেট উদ্ধার করা হয়। প্রথমবারের মতো উদ্ধার হওয়া এই ভারী অস্ত্রের সরবরাহকারী ছিলেন মুসা। সম্ভবত তিনি ক্যাম্প ১৯ অথবা ২০-এ অবস্থান করছেন।
নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া একাধিক ক্যাম্পের হেড মাঝি বলেছেন, ক্যাম্পে নিয়মিত ভারী ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাতে মহড়া দেয় একটি গ্রুপ। তারা প্রত্যেক ব্লকে ব্লকে গিয়ে যুবকদের সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দিতে আহ্বান জানায়। কারো কারো ক্ষেত্রে আবার বাধ্য করা হয়।
এপিবিএন বলছে, ক্যাম্পে এসব অস্ত্রের জোগানদাতা মুসা। তথ্য আছে, কক্সবাজার জেলার উত্তর দিকে এক উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা তিনি। শুরুর দিকে একবার গ্রেপ্তার হলেও দীর্ঘদিন ধরে আরসা প্রধানের গানম্যান হিসেবে কাজ করছেন। তবে তিনি বেশির ভাগ সময়ই থাকেন ক্যাম্পে। যাতায়াত করেন পাহাড়ে পাহাড়ে। তবে আরসা এজেন্টদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করেন তুমব্রু সীমান্তে।
সন্ত্রাসী এই সংগঠনের হুমকিতে দিন পার করছেন খুন হওয়া মুহিব উল্লাহর সংগঠন এআরএসপিএইচের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মেদ জুবায়ের। লম্বাশিয়া শিবিরে এই বাসিন্দা দৈনিক বাংলাকে বলেন, প্রতিনিয়তই প্রকাশ্যে আরসার নাম করে তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে তার পরিণতিও মুহিবুল্লার মতোই হবে। পরিবারসহ খুন করা হবে তাকে। এ ছাড়াও মাঝে মাঝেই মালয়েশিয়ার একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোনে হুমকি দেয়া হয় তাকে। বিষয়গুলো জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকেও (ইউএনএইচসিআর) লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
মোহাম্মেদ জুবায়ের বলেন, ‘প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা ও অধিক জনপ্রিয়তার কারণেই ক্যাম্পে থাকা আরসার এজেন্টরা তাকে প্রতি মুহূর্তে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।’
আরসার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের এদেশে আসার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। দিনটিকে ঘিরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে। সবগুলো আয়োজন থেকে দাবি তোলা হয় প্রত্যাবাসনের। তারা বলেছেন, সম্মানের সঙ্গে নিজ আদি ভূমিতে ফিরতে চাওয়ার আকুতি ছিল তাদের মধ্যে। রোহিঙ্গারা ২৫ আগস্টকে ‘কালো দিন’ বলেন। কিন্তু কথিত আরসা সদস্যরা এই প্রত্যাবাসনবিরোধী। কোনো আয়োজন না করা আর করলেও প্রত্যাবাসন নিয়ে কথা না বলতে ক্যাম্পে ক্যাম্পে হুমকি দিয়ে বেড়ান তারা। সহিংসতা ঘটতে পারে বলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে থানায় অভিযোগ করেন।
উখিয়া-টেকনাফ থানা পুলিশ সূত্র বলছে, ২৫ আগস্ট নিয়ে আরসার নেতারা ক্যাম্পে থাকা বিভিন্ন মাঝিদের হুমকি দিয়েছেন বলে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। জানা গেছে, গত এক মাসে আরসার হুমকি নিয়ে টেকনাফ ও উখিয়া থানায় ৫টি অভিযোগ পড়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মাদ আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আরসার হুমকির বিষয়ে আমরা অবগত। সাধারণত ক্যাম্প থেকে যারা অভিযোগ করেন তারা ক্যাম্পের সিআইসির সুপারিশ নিয়ে অভিযোগ থানায় জমা দেন। ঘটনার তদন্তে থানা পুলিশ অধিকাংশ সময় ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা এপিবিএনের সাহায্য নিয়ে থাকেন।’
আরসা ও তার নেতৃত্ব
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০টি চৌকিতে হামলা চালানোর জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষ আরসাকে দায়ী করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনী ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে, আর সেই হত্যা, ধর্ষণ এবং নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৭ লাখের মতো রোহিঙ্গা।
মিয়ানমার সরকার আরসাকে একটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী বলে ঘোষণা করে, কারণ এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
সংগঠনটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের ঘোর বিরোধী। তাদের নেতারা কখনও মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান না। কারণ বর্মী সেনাবাহিনী তাদের খুঁজছে। গেলে তাদের দণ্ড ভোগ করতে হবে। এ জন্য তারা চান না যে রোহিঙ্গারাও তাদের দেশে ফিরে যাক।
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, আরসার নেতৃত্বে রয়েছেন ‘আতাউল্লাহ’ নামে একজন রোহিঙ্গা, যার জন্ম করাচিতে, বেড়ে উঠেছেন সৌদি আরবে। গোপনে অবস্থান করছেন মিয়ানমারে।
এপিবিএন সূত্র বলছে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মোট ৩৪টি ক্যাম্প আছে। প্রতিটি ক্যাম্পেই আরসা সদস্যরা সক্রিয়। তাদের সদস্য সংখা কমপক্ষে পাঁচ হাজার। এখন পর্যন্ত তাদের ১০ জন কমান্ডারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা হলেন, আলি জোহর, হোসেন জোহর, জয়নাল, মো. সেলিম, আয়াত উল্লাহ, বশির উল্লাহ এবং ওবাইদ উল্লাহ। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন আলমগীর, মৌলভী মোস্তাক, ওস্তাদ খালেদ ওরফে খালিদ, ইব্রাহিম।
তুমব্রু সীমান্তে আরসার গোপন বৈঠক
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের তুমব্রু, থোয়াইংগা ঝিরি সীমান্তের ক্যাম্পে থাকা আরসার এজেন্টদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক হয়। বৈঠকগুলো সমন্বয় করেন আরসা প্রধানের গানম্যান হিসেবে পরিচিত মুসা। কারাগার থেকে ফোনে যুক্ত হয় মাস্টার সলিম। বৈঠকে যোগ দেন ৩৪ ক্যাম্পে আরসার জিম্মাদারদের প্রধানরা।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক জিম্মাদারের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব জিম্মাদার জানান, ওই বৈঠকে মূলত ক্যাম্পে আরসার তৎপরতা সামনের ৩ মাসে কেমন হবে তার দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। যা বাস্তবায়ন করেন তারা। কোনো মাঝি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তাহলে তাকে নিয়েই বৈঠকে বেশি আলোচনা হয়। কারণ সাধারণ রোহিঙ্গাদের কবজায় আনতে হলে মাঝিদের আগে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। আর নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে হত্যার পরিকল্পনা বা নির্দেশনা আসে।
সম্প্রতি সরেজমিনে তুমব্রু ও থোয়াইংগা ঝিরি সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, মিয়ানমার-বাংলাদেশ মৈত্রী সড়কের পাশ ঘেঁষে বয়ে গেছে সরু খাল। যা মিশেছে নাফ নদীতে গিয়ে। দুই দেশের সীমানাপ্রাচীরকে ভাগ করেছে এ খাল। দুই পাড়েই আছে অসংখ্য পাহাড়। যেখানে বাংলাদেশিদের চলাচলে কঠোরতা থাকলেও রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ রয়েছে। তবে গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় গোপন রেখে সেখানে পৌঁছায় দৈনিক বাংলার এই প্রতিবেদক। কথা হয় নো-ম্যান্সল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে। তারাও অবগত আরসার বৈঠক সম্পর্কে। এর বেশি বলতে চাননি জিরো পয়েন্টে থাকা এসব রোহিঙ্গারা।
আরসার অনুসারীদের জামিনের জন্য আছে আলাদা চক্র
আরসার সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের অল্প কিছুদিন পরই জামিনে বেরিয়ে আসেন। তাদের এই দ্রুত জামিন পাওয়া নিয়ে বেশ বিভ্রান্তি দেখা গেছে স্থানীয় প্রশাসনের মাঝে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আরসা অনুসারী বা রোহিঙ্গাদের কেউ গ্রেপ্তার হলে তাদের জামিনে কাজ করে একটি সিন্ডিকেট। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদের জামিন করানোর ব্যবস্থা করা। এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন কক্সবাজার শহরের মৌলভী ইলিয়াছ নামের এক ব্যক্তিসহ কয়েকজন। ইলিয়াস ৯০ দশকের মাঝামাঝি মিয়ানমার থেকে এদেশে এসে বসতি স্থাপন করেন।
সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের নিয়োগ করা আইনজীবীর মাধ্যমে আটক করা আসামিকে আদালত থেকে দ্রুত ছাড়িয়ে নেন।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা বা আরসা অনুসারীদের জামিনের ব্যাপারে একটা গোষ্ঠী কাজ করে, যাদের কাজ হচ্ছে মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা। আমরা আইনের মধ্যে থেকে এটা প্রতিহত করার চেষ্টা করছি।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বিভক্ত আরসা
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর হেড মাঝি ও আরসার মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। এ দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ আরসার ছায়াতল থেকে সরে আসা চেষ্টা অথবা মাঝির একক আধিপত্য বিস্তার। তা ছাড়া অবৈধ আয়ের ভাগবাঁটোয়ারা নিয়েও দ্বন্দ্ব তো আছেই। এসব কারণে আরসা অনুসারী মাঝিরা সংগঠন থেকে বিভক্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু সংগঠনের মূল শক্তি জানান দেয়া ও অন্যদের কাছে এই বার্তা পৌঁছানোর জন্য হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। সর্বশেষ হত্যার শিকার জামতলি এফডিএমএন ক্যাম্প-১৫ এর সি ব্লকের হেড মাঝি আবু তালেবও ছিলেন আরসার সাবেক সদস্য।
১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, সম্প্রতি ক্যাম্পে খুনগুলো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে।
জানতে চাইলে অভিবাসন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আসিফ মুনীর দৈনিক বাংলাকে বলেন, আরসা আছে কী আরসা নেই এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ক্যাম্পে এত রক্তপাত কারা ঘাটাচ্ছে? যদি আরসাই করে থাকে তাহলে গত ৪ বছরে এটা না জানা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চরম ব্যর্থতা। আর জেনেও চুপ করে থাকলে তাদের প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে।
সর্বশেষ গত মাসের শেষ সপ্তাহে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা শেষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিনা কারণে রক্তপাত হচ্ছে। হানাহানি হচ্ছে। মাদক ও সন্ত্রাস বেড়ে যাচ্ছে। এগুলো বন্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও যেকোনো সময় অভিযান করতে পারবে, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন দৈনিক বাংলার কক্সবাজার প্রতিনিধি মুহিবুল্লাহ মুহিব)
গাজীপুরের কালীগঞ্জে যুবক ইমন শেখ ওরফে ইলিয়াস শেখ (২৪) হত্যা মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচগিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে কালীগঞ্জ থানাধীন দক্ষিণবাগ এলাকার উত্তরপাড়া কুড়িলটেক ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার পশ্চিম পাশে জনৈক শামিম মিয়ার ধানক্ষেতে হাঁটু পানির মধ্যে থেকে নিহত ইমন শেখ ওরফে ইলিয়াস শেখের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইমন শেখ কালীগঞ্জ উপজেলার ছৈলাদী গ্রামের শরীফ শেখ ও লাইলী বেগমের ছেলে।
এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় এফআইআর নং-০৩, তারিখ ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ রানা শামীম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার উত্তরা আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি হানিফা কাজী (৫৫)কে গ্রেপ্তার করেন। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণবাগ এলাকার বাসিন্দা।
পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানাধীন দোলন বাজারে তার দোকান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচগিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে গাজীপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক মাদক কারবারিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে সিমান্তে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ ও নিষিদ্ধ ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতপুর আল্লার দরগাহ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে শফি (৩৫) নামের এক মাদক কারবারীকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ১৪ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দোষী সাব্যস্ত করে শফিকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত গাঁজা ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
অপরদিকে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে চিলমারী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী মরারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা।
গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে চরচিলমারী বিওপির টহল দল ডিগ্রীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৫০০ পিস ভারতীয় সিলডিনাফিল ট্যাবলেট উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত এসব ট্যাবলেটের আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক রাশেদ কামাল রনি জানান, মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ব্যাটালিয়ন সিজার স্টোরে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হবে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবির অভিযান জোরদার রয়েছে বলে তিনি জানান।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল সায়দাবাদে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২ গ্রুপের সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম মোস্তাকিম (১৪)। সে সায়দাবাদ গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৩৪) নামে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সায়দাবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় হানিফ মাস্টার ও এরশাদ মিয়ার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে দুপক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গোলাগুলির মধ্যে পড়ে কিশোর মোস্তাকিম গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আধিপত্য বিস্তারের জেরে সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তিনি আরও জানান, আহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
মানবসেবা শুধু কর্তব্য নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও মানবিকতার গভীরতম প্রকাশ। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য তারিকুল ইসলাম খাঁন তারেক দীর্ঘ ১২ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে বাঁশঝাড়ের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করা চর-চতিলা ফারাজিপাড়ার নাসির উদ্দিনের জন্য নির্মাণ করে দিয়েছেন একটি “মানবিক ঘর”, যা এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দোচালা টিনের ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নাসির উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, সমাজের সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে অসহায়দের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।
এর আগে “তীব্র শীতেও খোলা আকাশের নিচে ঘুমায় নাসির” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান টিন ও আর্থিক সহায়তা দেন। পাশাপাশি প্রবাসী মো. শফিকুল ইসলাম চৌকি, মশারি, তোশক ও বালিশ উপহার দেন।
তারিকুল ইসলাম খাঁন তারেক বলেন, আমার কোন কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই, মানবিক দিক বিবেচনা করে আমি নাসির ভাইকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি আল্লাহর সন্তুষ্টিরঅর্জনের জন্য। মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন মানবিক কাজে সহযোগিতার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে বিভিন্নস্থানে টিউবওয়েল স্থাপন করে দিয়েছি।
স্থানীয়দের মতে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ সমাজে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং অন্যদেরও এমন কাজে উৎসাহিত করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
কিছুটা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত দিনমজুর নাসির উদ্দিন নতুন ঘর পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
নওগাঁয় জুনায়েদ সাকী (৩৭) নামে এক রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের সামনে থেকে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে মরদেহটি পিকআপ থেকে ফেলে দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন চালক ও তার সহযোগী (হেলপার)। নিহত জুনায়েদ বরিশাল জেলার পিরোজপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকা রাজস্ব বোর্ডে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. রাশেদ।
জানা যায়, ঢাকা থেকে ট্রেন যোগে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে নেমে নওগাঁর মহাদেবপুরে স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দ্যেশ্যে আসছিলেন জুনায়েদ। তবে ভোরে ট্রেন থেকে নামার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। হলুদ রঙয়ের একটি পিকআপ ভোর সাড়ে ৫টায় তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ২৫০ শয্যা নওগাঁ হাসপাতালের সামনে এসে ফেলে রেখে পালয়ে যায়। এরপর সেখানকার কর্মচারীরা তাকে অজ্ঞাত অবস্থ্যায় উদ্ধার করে জরুরী বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুনায়েদকে মৃত ঘোষণা করেন।
নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. রাশেদ বলেন, সান্তাহার থেকে নওগাঁ আসার পথে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বলে আমরা ধারণা করছি। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানালে তারাও হাসপাতালে এসেছিলো। থানা পুলিশ মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।
২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রেহনুমা মুনমুন বলেন, মরদেহটি আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হিসেবে প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করেছি। পরে থানা পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়।
ফেনীর মহিপাল কুরিয়ার সার্ভিস এস এ পরিবহনে বিজিবি-সেনাবাহিনী-পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমান ভারতীয় চোরাচালানী মালামালসহ ২ জনকে আটক করেছে। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য এক কোটি দুই লক্ষ পনের হাজার আটশত টাকা। এ সময় এস.এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিস থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রী পিস, তেল, বডি স্প্রে, সাবান, টুথপেস্ট, ফেশওয়াশ, আতশবাজি জব্দ করে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার আতিকুর রহমানকে বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের এস.এ পরিবহনে বিজিবি অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের সময় ফেনী ৪ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্নেল মোশারফ হোসেন, ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চয়ন বড়ুয়া, বিজিবি সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পরে উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ করে ফেনী জায়লকরস্থ বিজিবি হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যায়।
ওখানে জব্দকৃত মালামাল সিজার লিস্ট করা হয় ।মালামাল ও আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ফেনী সদর মডেল থানার সোপর্দ করা হয়েছে।
ফেনী ৪ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্নেল মোশারফ হোসেন বলেন, বিজিবি বর্তমানে নির্বাচন ডিউটিতে মোতায়েন থেকেও একই সাথে সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) কর্তৃক আভিযানিক কর্মকান্ড ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ ৬টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাসহ দুজনের নামে মামলা করা হয়েছে এবং সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি শহরের পুরোনো আদালত রোডের মারইয়াম প্রেসের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে (৪০) গতকাল বিকেলে অবৈধ সিল, একটি কম্পিউটার ও মুঠোফোনসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি হলেন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ (৩৪), যার বিরুদ্ধে ওই সিলগুলো তৈরির অর্ডার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, সৌরভ হোসেন ছয়টি ভোটের সিল তৈরির জন্য ব্যবসায়ী সোহেল রানার দোকানে অর্ডার দেন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা সৌরভের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থীর একাধিক ছবির সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছেন। তবে বর্তমানে সৌরভ হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং পুলিশ তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। যদিও লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুন অর রশীদ দাবি করেছেন যে, ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সৌরভ হোসেনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “সিলসহ সোহেল রানা নামে যাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি জামায়াতের কর্মী বলে জানতে পেরেছি। হয়তো তাঁর পদ-পদবিও রয়েছে। একটি কম্পিউটারসহ ছয়টা সিল জব্দ করা হয়েছে। সিলগুলো যিনি বা যাঁরা বানিয়েছেন, নিশ্চয়ই এর পেছনে অনেক কলকবজা রয়েছে, একটা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের হিসাব-নিকাশ রয়েছে।” তিনি এই জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা ইন্ধনদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং সিলের পাশাপাশি ব্যালট ছাপানোর কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপির এই সংবাদ সম্মেলনের পরপরই লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী এবং সেখানে দলের প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, “ভোটের সিলসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে জামায়াতকে জড়িয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যেকোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অতীতের মতোই আরেকটি দলের মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল জামায়াতের কেউ নন। এ ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত রয়েছে, প্রশাসন তদন্ত করে বের করবে। এ রকম একটি ঘৃণিত ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহেদ পারভেজ জানিয়েছেন যে, গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সৌরভ হোসেনের অর্ডার অনুযায়ী তিনি এসব সিল তৈরি করছিলেন। উদ্ধার হওয়া সিলগুলো ভোটারদের প্রশিক্ষণ বা মহড়া দেওয়ার জন্য নাকি নির্বাচনের দিন ভোট কারচুপির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, পুলিশ তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। সিল তৈরির প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা আছে কি না তা নিশ্চিতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় হাঁস চুরির অভিযোগ তুলে এক যুবককে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার মালিগাঁও গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নিহত যুবকের নাম সাঈদ ভূইয়া (২৩)। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মালিগাঁও গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মিয়া সাঈদের বাবার কাছে অভিযোগ করেন, তার ছেলে রাজ্জাকের হাঁস চুরি করেছে। এ সময় সাঈদের বাবা আলাউদ্দিন ভূইয়া জানান, তার ছেলে দোষী হলে বাড়িতে ফিরলে তিনি বিচার করে হাঁসের ক্ষতিপূরণ দেবেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজ্জাক মিয়া সেখান থেকে চলে যান।
পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাজ্জাক মিয়া পরিবারের কাউকে না জানিয়ে কৌশলে সাঈদকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে রাজ্জাক মিয়া, তার ছেলে রাব্বি ও জাহিদ, ভাতিজা শাওনসহ আরও কয়েকজন মিলে হাঁস চুরির অপবাদ দিয়ে সাঈদকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গ্রামের আলমের মুদি দোকানের সামনে ফেলে রাখা হয়।
খবর পেয়ে রাত প্রায় ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাঈদের বাবা ছেলেকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মালিগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে সাঈদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলাউদ্দিন ভূইয়া দাউদকান্দি মডেল থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মালিগাঁও গ্রামের মো. জসিম মিয়া (৩৫) ও মো. ওমর সানি (৩০) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় এক হাজতির বাবার মরদেহই আনা হয়েছে কারাগারে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫) বর্তমানে রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহ কারাগারে এনে তাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। মিলন মিয়ার বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পরিবার ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, বাবার জানাজায় অংশ নিতে মিলন মিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। তবে আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারাগারে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মিলন মিয়ার চাচা মতিউর রহমান বলেন, “কারাগারের ভেতরে বাবার মরদেহ দেখে মিলন বারবার লুটিয়ে পড়েছে। প্যারোলে মুক্তির অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। জীবনে এমন ঘটনা আর দেখিনি।”
স্বজনরা জানান, সকাল ১০টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স জেলা কারাগারে পৌঁছায়। মিলনের এক চাচাকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনরা পান সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ।
চাচাতো ভাই সালাম মিয়া বলেন, “৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। এই সময় দাফন-কাফনে থাকার কথা ছিল, অথচ আমাদের ছুটতে হচ্ছে আদালত আর কারাগারে।”
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূইয়া তুহিন বলেন, “মিলন মিয়া কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা জানান, “জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের গেটে মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।”
চট্টগ্রাম বোয়ালখালীতে একটি বসতঘর থেকে নগদ টাকাসহ স্বর্ণের গয়না চুরি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের মধ্যম শাকপুরা গ্রামের বৈদ্য বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় লাভলী বড়ুয়া বোয়ালখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঘরের দরজা তালাবদ্ধ করে সারোয়াতলীতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বিকেলে ডাক্তার দেখাতে নগরে যাই। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে ঘরের তালা খুলে দেখি পেছনের দরজা খোলা। সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো। ২টি আলমিরা লক ভেঙে নগদ ৩ লাখ টাকা ও ১৪ লাখ টাকা মূল্যমানের ৬ ভরি স্বর্ণের গয়না নিয়ে গেছে।
লাভলী বড়ুয়ার স্বামী শিমুল বিকাশ বড়ুয়া জানান, তিনি স্থানীয় ধম্মানন্দ বিহারের কোষাধ্যক্ষ। বিহারটি উন্নয়ন কাজের নগদ টাকা এবং তার চাকুরি থেকে পাওয়া মাসের বেতন আলমিরা ড্রায়ারে রেখেছিলেন।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে HEAT-ATF এর একটি সাব প্রজেক্টের সহযোগিতায় মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের আয়োজনে ‘রিসার্চ মেথোডোলজি, ননইনভেসিভ টেকনোলজি ফর সীফুড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রাইটিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) পবিপ্রবির ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্রের কনফারেন্স কক্ষে সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য প্রফেসর ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান, ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদ, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ সাজেদুল হক।
প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লোকমান আলী, প্রশিক্ষণ পরিচালক হিসেবে ছিলেন মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে।
প্রথম অধিবেশনে সকাল ১০.০০-১১.৩০ পর্যন্ত গবেষণা পদ্ধতি ও ফিসারিজ সাইন্স বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ লোকমান আলী। দ্বিতীয় অধিবেশনে দুপুর ১২.০০- ১.০০ পর্যন্ত সামুদ্রিক খাবার বিশ্লেষণের জন্য ননইনভেসিভ টেকনোলজি বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান।
তৃতীয় অধিবেশন দুপুর ২:০০-৩:৩০ টা পর্যন্ত দেশে এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কারিগরি ফেলোশিপ/বৃত্তি বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ডিন, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ (পিজিএস), পবিপ্রবি। চতুর্থ অধিবেশনে বিকাল ৩:৪০-বিকাল ৪:৩০ সাইন্টিফিক রাইটিং বিষয়ে সেশন নেয় অধ্যাপক ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান।
পরবর্তীতে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও অংশগ্রহণকারী দের সার্টিফিকেট প্রদান ও পবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান এর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে বিকাল ৫ টায় অনুষ্ঠানটির সমাপ্ত হয়।
প্রশিক্ষণ পরিচালক ও মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, "ইউজিসি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে HEAT পরিচালিত একটি সাব-প্রজেক্টের আওতায় মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সীফুড অ্যানালাইসিস ও সায়েন্টিফিক রাইটিং বিষয়ক একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সীফুডের গুণগত মান বজায় রাখা, সীফুড উৎপাদনে ব্যবহৃত আধুনিক ও নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারছে এবং বাস্তবভিত্তিক এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাদের গবেষণামুখী হতে উৎসাহিত করবে।"
তিনি আরও বলেন, "নিরাপদ সামুদ্রিক খাদ্য ভোক্তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্বে নতুনভাবে উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে ‘ফ্লোরোসেন্স ফিঙ্গারপ্রিন্টিং’ প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যা খুব সহজে ও অল্প সময়ে সীফুডের নিরাপত্তা ও মান যাচাই করতে সহায়তা করে। পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের মৎস্য ও সামুদ্রিক খাদ্য খাতে নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে এসব আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখতে পারে এবং বাংলাদেশের মাৎস্য ও মাৎস্যজাত পন্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়।
পবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, "রিসার্চ ভ্যালিডেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ যেকোনো গবেষণার ক্ষেত্রেই ত্রুটি থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাসিক রিসার্চের ক্ষেত্রে হয়তো ৫ থেকে ১০ শতাংশ ত্রুটি নেগলিজিবল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে ভ্যালিডেশনের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এ সময় তিনি গবেষণা পদ্ধতি (রিসার্চ মেথডোলজি) অনুসরণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং গবেষণা বিষয়ক এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"
শিক্ষাজীবন শেষে নার্স ও মিডওয়াইফারিদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘জব ফেয়ার‘ বা চাকরি মেলার আয়োজন করেছে সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ) সকাল ১১ টায় সিরাজগঞ্জে সদরে নার্সিং ইনস্টিটিউটের হল রুমে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় এ মেলার আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ রেহানা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আকিকুর নাহার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন–ডেপুটি সিভিলে সার্জন রিয়াজুল ইসলাম ,নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ( সমন্বয় ও প্রশিক্ষক) ফরিদা ইয়াসমিন ও এসেক্ট প্রজেক্টের, মেন্টর, কাওসার আলম। এছাড়াও এসময় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও মেলায় আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আকিকুর নাহার বলেন, ‘জব ফেয়ার‘ হলো এক ধরণের প্ল্যাটফর্ম। যেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো জবের ক্ষেত্রে যারা নিয়োগ কর্তা, নিয়োগদাতা তাদের মধ্যে একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এটা খুবই চমৎকার উদ্যোগ। এজন্য জব ফেয়ারকে অনেক সময় বলা হয় ক্যারিয়ার এক্সপোর্ট। কাজেই এই জব ফেয়ার খুবই চমৎকার একটা প্ল্যাটফর্ম, যা কাজের সুযোগ তৈরি করে।
সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ রেহানা খাতুন বলেন, আমরা প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, সবার থেকেই সাড়া পেয়েছি। জব ফেয়ারের স্টেকহোল্ডারদের কাছে আমরা স্টুডেন্টসদের সিভি দিয়েছি। প্রতিষ্ঠানগুলো চাকরিপ্রার্থী উপযুক্ত নার্স ও মিডওয়াইফারিদের বাচাই করে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে মেলায় স্টল দেয়া ও উপস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট দেয়া হয়। সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ সিরাজগঞ্জে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ ‘জব ফেয়ারে‘ সিরাজগঞ্জ জেলায় অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। যাদের মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান মেলায় স্টলও দিয়েছে।
নাটোরের সিংড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র তৈরির কাচা মাল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বামিহাল বাজারে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে অস্ত্র তৈরির তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে। এতে আব্দুল্লাহ (২৯) নামে একজনকে আটক করা হয় ও মোটরসাইকেল গ্যারেজ থেকে একটি দেশি অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র তৈরির মালামাল উদ্ধার করে। পরে তাকে সিংড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটককৃত আব্দুল্লাহ ঈশ্বরদী উপজেলার রুপপুর গ্রামের বকুলের পুত্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুন নূর।