তৌফিকুল ইসলাম
চালকের লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমে আসবে। তবে এর উল্টোচিত্র হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এই খাত। উৎপাদনকারীরা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে মোটরসাইকেলের বিক্রি কমে যাবে, কমে যাবে উৎপাদনও। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে আসবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও খুচরা বিক্রতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কারও কাছে মোটরসাইকেল বিক্রি করা যাবে না। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কেউ মোটরসাইকেল বিক্রি করলে বিআরটিএ তা নিবন্ধন করবে না। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্ঘটনা কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিআরটিএ থেকে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিআরটিএ বলছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আহনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নতুন নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী এবং বিক্রয়কারী সবাইকে নিয়ে আমরা বসেছিলাম। তারা তিন মাস সময় চেয়েছিল এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য। আমরা তাদের সময় দিয়েছি। তাই আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল বিক্রি করতে পারবে না। কেউ যদি লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল বিক্রিও করে সেটি বিআরটিএ থেকে নিবন্ধন করতে পারবে না।’
মোটরসাইকেলের বেড়েছে
বিআরটিএর তথ্য বলছে, বর্তমানে সারা দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল আছে ৩৭ লাখ ৯০ হাজার ১৪২টি। সর্বশেষ ২০২১ সালে নিবন্ধিত হয়েছে পৌনে চার লাখ মোটরসাইকেল। এই সংখ্যা প্রতিবছরই লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। নিবন্ধিত মোট মোটরসাইকেলের মধ্যে শুধু ঢাকায় চলাচল করে ৯ লাখ ৭২ হাজার ৭৮০টি।
বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) তথ্য বলছে, দেশ স্বাধীনের পর থেকে ৪৯ বছরে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়েছে ৪৮ গুণ। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল সংখ্যাও প্রায় ৫ লাখ হবে।
দুর্ঘটনার চিত্র
সরকার মূলত সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও দুর্ঘটনা রোধ করতে চালকের লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল বিক্রি না করার নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে। কারণ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০১৯ সালে মোট ১ হাজার ১৮৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মারা যান ৯৪৫ জন। ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি দুর্ঘটনায় মারা যান ১ হাজার ৪৬৩ জন। পরের বছর ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় মারা যান ২ হাজার ২১৪ জন। আর ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান ১ হাজার ৫৬৬ জন।
জানতে চাইলে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নিবন্ধনের শর্ত দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ করলেই দুর্ঘটনা কিছুটা কমবে। তবে দুর্ঘটনা কমাতে হলে মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক সড়কে যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চলে সেটিও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ভারী যানবাহনও ধাক্কা বা চাপা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাই সড়কে ভারী যানবাহনও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’
ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে শিল্প
বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলার্স ও ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল শিল্পের বাজার বড় করতে সরকার থেকে নানা সুবিধা দেয়ায় এই শিল্প গত কয়েক বছরে সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে দেশে নয়টির মতো কারখানা আছে। আর এই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় আট হাজার কোটি টাকা।
অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে দেশের বাজারে বছরে সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজার ছোট হয়ে যেতে পারে। লোকসানে পড়তে পারে এই শিল্প। তারা আরও জানান, এই খাত থেকে সরকার প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। মোটরসাইকেল বিক্রি কমে গেলে সরকারের সেই রাজস্ব আয়ও কমে আসবে।
এই বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ও উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মোটরসাইকেল বিক্রির সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি বিআরটিএর একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে মোটরসাইকেল শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে কম আর নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বিক্রি আরও কমে যাবে। ধারণা করছি, বিক্রি ২০ থেকে ৪০ ভাগ কমে যাবে। তাতে লোকসানে পড়তে হবে আমাদের।’
মতিউর রহমান আরও বলেন, ‘লাইসেন্স ছাড়া কেউ মোটরসাইকেল বিক্রি করছে কি না, তা মনিটর করবে কে? সেই বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই।’
জানতে চাইলে বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘মোটরসাইকেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে অনেক সুযোগ-সুবিধার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো নির্দেশনা নেই। নীতিমালায় বলা উচিত ছিল, দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী কী পরিমাণ মোটরসাইকেল সড়কে চলবে এবং সেই অনুযায়ী উৎপাদন হবে। তাতে মোটরসাইকেলের সংখ্যাটা নিয়ন্ত্রণ হতো।’
‘নাজরান ফিশারীজ এন্ড এগ্রো প্রজেক্ট’ নামের একটি ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের বিরুদ্ধে জনসাধারণের প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)।
সিআইডির প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মো. ওবায়দুল্লাহকে (৩৩) সিআইডি-র ঢাকা মেট্রো উত্তর ইউনিটের একটি দল ঢাকার সবুজবাগ থানার বাসাবো এলাকা থেকে আটক করে।
তদন্তকারীদের মতে, এই প্রতারক চক্রটি উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীদের প্রলুব্ধ করত এবং দাবি করত যে এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে মাসে তিন হাজার টাকা মুনাফা পাওয়া যাবে এবং ৩৩ মাসের মধ্যে তা দ্বিগুণ হবে।
ভুক্তভোগীদের অতিরিক্ত বড় অংকের বিনিয়োগ করতে এবং প্লট কেনার জন্যও চাপ দেওয়া হতো।
সিআইডি সূত্র জানিয়েছে যে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, রিসিপ্ট এবং সার্ভার ডেটা থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, হাজার হাজার ভুক্তভোগী এই প্রতারণামূলক প্রকল্পে আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি একাই ১৪টি ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ২.৫ কোটি টাকার লেনদেন পরিচালনা করেছেন বলে জানা গেছে।
বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের পর প্রতারকরা তাদের অফিস বন্ধ করে দেয় এবং আত্মগোপনে চলে যায়। গোয়েন্দা ভিত্তিক ট্র্যাকিং এবং টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে যে-কোনো বিনিয়োগ করার আগে সতর্ক থাকতে এবং পরিচয়পত্র যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।
চুক্তিবন্ধ বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির রুটি। নোংরা পরিবেশে তৈরি এসব প্যাকেটজাত খাদ্য খাওয়ার ফলে শিশুদের শরীরে পুষ্টি জোগানের পরিবর্তে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাপ্তাহিক রুটিনে পচা ডিম ও কৃত্রিমভাবে পাকানো কলা দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এসব চিত্র নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে ও শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। এই সংস্থাটি কিশোরগঞ্জ উপজেলার ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১ হাজার ৩৩৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি (মিড ডে মিল) প্রকল্পের খাদ্য সরবরাহ করে আসছে। প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী সপ্তাহে ৬ দিন রুটিন মোতাবেক রুটি, কলা, ডিম, দুধ সরবরাহ করে থাকে।
গত ২৮ এপ্রিল ১ নম্বর উত্তর চাঁদখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরঞ্জাবাড়ি বটতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ওই বিদ্যালয় দুটিতে চুক্তিবদ্ধ এনজিওর একজন কর্মী ছোট ছোট চিকন (চাম্পা) কলা নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষের সামনে দাড়িয়ে আছেন। এ সময় দেখা যায় কলাগুলোর মধ্যে অনেক কলা থেথলে গিয়ে কালো হয়ে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে কলাগুলো কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে। এ সময় ওই কর্মীকে কলার সাইজ এত ছোট কেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘কলা প্রতি বরাদ্দ ৫ টাকা তাই এর থেকে বড় কলা দেওয়া সম্ভব নয়। অথচ সরকারিভাবে প্রতি পিস কলার বরাদ্দ ১০ টাকা ধরা রয়েছে।’
গত ২৯ এপ্রিল চাঁদখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চড়কবন প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাগুড়া ইউনাইটেড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা কোনো কোনো দিন পুরো খাবার পাই না। আমাদের রুটির প্যাকেট ছিড়ে একটি করে রুটি, দুধের প্যাকেট কেটে এককাপ করে দুধ ও ডিম কেটে অর্ধেক করে দেয়। চাঁদখানা সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষার্থী আশা মনি, রাজিয়া আক্তার বলে, ‘রুটির প্যাকেট একটি রুটি খেয়ে দেখি রুটিটি শক্ত ও টক তাই অন্যটি আর খেতে পারিনি।’
মাগুড়া ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনন্ত কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের বরাদ্দ সংকট তাই একজনের বরাদ্দ দুজনকে দিয়ে দেই।’ এটা করার কোনো নিয়ম আছে কি না প্রশ্ন করলে তিনি তার কোনো জবাব দেননি।
চাঁদখানা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনিছুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পেয়ে একটি প্যাকেট খুলে দেখি রুটিগুলো শক্ত ও টক হয়ে গেছে তাই শিক্ষার্থীরা খেতে অনিহা প্রকাশ করেছে।’
পুষনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক মনোয়ার হোসেন ও সালমা বেগম বলেন, ‘পুষনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হয়। কয়েকদিন আগে ওই স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম বিতরণ করা হলে আমরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে অবহিত করি। বাচ্চারা এসব খাবার খেলে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই বিষয়টির তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদা বেগম ঘটনার বিষয় স্বীকার করে বলেন, ‘পচা ডিম বিতরণের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’
এ সময় প্যাকেটের গায়ে দেখা যায়, স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে তৈরিকরা রুটিগুলো নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের তৃপ্তি বেকারি থেকে উৎপাদন করা হয়েছে। ৩০ এপ্রিল দুপুরে ওই বেকারির সামনে গিয়ে দেখা যায়, বেকারিটির সামনে মশামাছি ভ্যান ভ্যান করছে। একদম গেট-সংলগ্ন স্থানে অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে শিশুদের জন্য তৈরিকৃত রুটিগুলো রাখা হয়েছে। এ সময় উৎপাদন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কাছে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকদের পরিহিত পোশাকগুলো ময়লা তারা ভালো করে মুখ হাত পরিষ্কার না করে কারখানায় কাজ করছে। কারখানাটির টয়লেটগুলো অপরিষ্কার ও নোংরা।
কারখানাটির মালিক রফিকুল ইসলামের সাথে এসব বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, ‘ভাই আমার কাগজপত্র সব ঠিক আছে তবে আমার সাথে ওই সংস্থা কোনো চুক্তি করেনি। তারা আমার কাগজপত্র নিয়ে অন্য কারও সাথে চুক্তি করেছে।’ কিন্তু প্যাকেটের গায়েতো আপনার বেকারির নাম রয়েছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছ থেকে ১০ হাজার প্যাকেট নেওয়া হয় বাকিগুলো কে দেয় আমি জানি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভাই এগুলা নিয়ে লেখালেখি করলে আমার বাকিটাকা তুলতে সমস্যা হবে। আপনারা দয়া করে এনজি প্রতিনিধি সাথে কথা বলেন।’
সরকারের সাথে চুক্তিবন্ধ এনজিও ইএসডিওর জেলা ম্যানেজার ও প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সামছুল আলমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘ভাই আমরা তৃপ্তি বেকারির সাথেই চুক্তি করেছি।’ এ রকম নোংরা পরিবেশে উৎপাদিত খাবার কীভাবে শিশুদের খাওয়াচ্ছেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ভাই আপনারা অনেক সিনিয়র সাংবাদিক আপনারাতো জানেন বিষয়টি নিয়ে নিউজ হলে আগে আমরাই সমস্যায় পড়ব। আমাদের সংশোধনের সুযোগ দেন।’ এর আগেওতো শুরুর দিকে পচা রুটি দিয়েছিলেন, বললে তিনি বলেন, ‘ভাই আগের রুটিগুলো লালমনির হাট থেকে নিয়েছিলাম সমস্যার হওয়ার পর আর নেইনি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুনের সাথে কথা বলার জন্য তার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার সাথে মোবাইলে কথা হলে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকায় ট্রেনিংয়ে এসেছি বলে কল কেটে দেন।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন আগে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে পচা ডিম সরবরাহ করা হয়েছিল বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে এটা জেনেছি। আমি বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়গুলো সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।’
ভোলার চরফ্যাশনে কর্মরত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। বিএনপির বহিষ্কৃত এক নেতার দায়ের করা এই মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে চরফ্যাশন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিক নেতারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সভায় উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীরা সংহতি প্রকাশ করে যোগ দেন।
প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছেন। বক্তারা বলেন, ‘ওই নেতা প্রথমে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে অবমাননাকর বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তিনি প্রতিহিংসাবশত বরিশাল সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে এই মামলাটি করেন।’
সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, ‘সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার জন্য এ ধরনের মামলার আশ্রয় নেওয়া মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য চরম হুমকি। ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগ করে সত্যের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা অতীতেও সফল হয়নি, বর্তমানেও হবে না।’ তারা আরও বলেন, ‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ বিঘ্নিত হলে সমাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নষ্ট হবে।
সভায় বক্তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।’ হয়রানিমূলক এই মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা না হলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল মামলাটি দায়ের করা হলে আদালত তা রেকর্ডভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনার পর থেকেই চরফ্যাশনের সাংবাদিক সমাজে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রতিবাদ সভায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা স্থানীয় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর পরিত্যক্ত বাসভবন ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুরে জুলাই ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া একদল শিক্ষার্থী বাসভবনের সামনে স্থাপিত টিনের বেড়া অপসারণ করে এবং প্রধান গেট কেটে উন্মুক্ত করে দেয়।
বিগত সরকার পতনের দিন ৫ আগস্ট বিকেলে বিক্ষুব্ধ জনতা আমুর ঝালকাঠির বাসভবনটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ওই বাড়ির সামনে স্থানীয়রা ময়লা ফেলার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল।
তবে সম্প্রতি অজ্ঞাত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বাড়িটির প্রধান ফটক টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলে। ফলে সেখানে ময়লা ফেলা এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে টিনের বেড়া অপসারণ করে। একই সঙ্গে তারা ইলেকট্রিক কাটার মেশিন ব্যবহার করে প্রধান গেট কেটে ফেলে। পরে খুলে ফেলা ঢেউটিন তাৎক্ষণিকভাবে দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি, পরিত্যক্ত স্থাপনাকে ঘিরে এ ধরনের অবরোধ সৃষ্টি করে জনসাধারণের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত করা ঠিক নয়। তারা স্থানটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণের অপরূপ সমুদ্রসৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটা এখন শুধু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করার জন্যই নয়, নতুন নতুন মনোরম প্রাকৃতিক স্পটের কারণেও আলোচনায়। এরই মধ্যে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত মনোরম প্রাকৃতিক স্পট। পাশাপাশি এর কাছেই অবস্থিত ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’ ও পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। এই দুই স্থানকে ঘিরে আগ্রহ প্রকৃতিপ্রেমীদের।
কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত সবুজ বনভূমি, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, লেক ও সমুদ্রের ঢেউয়ের অপূর্ব সম্মিলনে গড়ে ওঠা এক অনন্য নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গা। বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর, ছোট ছোট টিলা, নীল আকাশ ও নির্মল বাতাসের কারণে এক নৈসর্গিক আবহ বিরাজ করছে।
এখানে এসে পর্যটকরা সবুজ প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, ছবি তোলা, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘোরাঘুরি এবং নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেক ভ্রমণপিপাসু এখানে তাঁবু টানিয়ে রাত কাটান। এখানকার অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হলো—একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিরল অভিজ্ঞতা।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মৌরি ও বাপ্পা দম্পতি বলেন, ‘আমরা অনেক জায়গায় ঘুরেছি; কিন্তু এক জায়গা থেকে সূর্য ওঠা ও ডোবা দুটোই দেখা যায়—এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল। এখানকার পরিবেশ খুবই শান্ত ও মনোরম।’
আরেক পর্যটক রাব্বানী বলেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ডে এসে মনে হচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছি। এখানকার নীরবতা আর নির্মল বাতাস আলাদা এক শান্তি দেয়।’
স্থানীয় ট্যুর গাইড আবুল কালাম জানান, শুরুতে স্থানীয় কয়েকজন মিলে জায়গাটিকে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে ডাকতেন। পরে ভ্রমণব্লগার মি. লাক্সছু মোটরসাইকেলে করে কুয়াকাটার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভিডিও ধারণ করেন। কাউয়ারচর ও গঙ্গামতির লেকসহ আশপাশের দৃশ্য তার ভিডিওতে ওঠে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই জায়গাটি দেশজুড়ে পরিচিতি পেতে শুরু করে।
মি. লাক্সছু বলেন, ‘প্রথম যখন এখানে আসি, জায়গাটি তেমন পরিচিত ছিল না। চারদিকে সবুজ গাছ, নীল আকাশ আর সাগরের শান্ত ঢেউ দেখে মনে হয়েছিল—এ যেন বাংলাদেশের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক টুকরো সুইজারল্যান্ড। সেই ভাবনা থেকেই ব্লগে ‘‘মিনি সুইজারল্যান্ড’’ নামটি ব্যবহার করি।’
কুয়াকাটার আরেক আকর্ষণ ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’। সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার দৌড়ে বেড়ানোর দৃশ্য পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। আশপাশের সবুজ বনভূমি ও শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এলাকাটি ধীরে ধীরে ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও লাল কাঁকড়ার দ্বীপকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে কুয়াকাটায় পর্যটনের নতুন মাত্রা যোগ হবে। কুয়াকাটার মাস্টার প্লানে এই পর্যটন স্পট দুটিকে সম্পৃক্ত করুন।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কুয়াকাটাবাসীর’ সভাপতি ও মহিপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো হাফিজুর রহমান আকাশ বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই এলাকাকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম স্পটে পরিণত করা সম্ভব। তবে পরিবেশ সংরক্ষণে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, পর্যটন ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, ‘এখানে পরিকল্পিতভাবে ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন চাঙা হবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের গাইড, নৌ-ট্যুর অপারেটর ও পর্যটনভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে এলাকার অর্থনীতি আরও শক্ত হবে।’
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসচেতন পর্যটকের কারণে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাউন্ড বক্স বাজানো, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা এবং ময়লা-আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে এই নিরিবিলি প্রকৃতি।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘এই এলাকাকে ঘিরে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যটন স্পটগুলোর সড়ক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো, কাউছার হামিদ বলেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পর্যটন প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যটন কুয়াকাটার মাস্টার প্লানের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।’
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে।
‘মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কার্পজাতীয় মাছের আধিক্য বাড়াতে মাছের পোনা অবমুক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধে চলমান নিষেধাজ্ঞাকালে কর্মহীন হয়ে পড়া প্রায় ২৬ হাজার জেলে পরিবারের মাঝে বিশেষ ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) সকালে বিএফডিসির ফিশারি ঘাটে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইমাম উদ্দিন কবীরের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, রাঙামাটি পৌর প্রশাসক মো. মোবারক হোসেন খান এবং চট্টগ্রাম নৌপুলিশ ইউনিটের পুলিশ সুপার বি. এম. নুরুজ্জামান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রাঙামাটি বিএফডিসির নিজস্ব হ্যাচারিতে উৎপাদিত প্রায় ৬০ মেট্রিক টন মাছের পোনা কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত করা হবে, যা হ্রদের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খুব শিগগিরই খনন কাজ শুরু করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদ বাংলাদেশের ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ হ্রদের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষেধাজ্ঞাকালে সকল জেলেকে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হ্রদে কোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না এবং এ বিষয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়, যাতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে জেলেরা অধিক মাছ আহরণ করতে পারবেন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞাকালে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।’
তিনি জেলেদের প্রতি আহ্বান জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে যেন কোনো ধরনের অবৈধ মাছ শিকার না করা হয় এবং সবাই মিলে কাপ্তাই হ্রদের সম্পদ রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালন করা হয়।
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসার সামনে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিচে পড়ে জান্নাতি (৫) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বেলা ৩টার দিকে কামরাঙ্গীরচর সিলেটী বাজার ৭ নম্বর গলিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনেরা শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বিকেল সোয়া ৪টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
কামরাঙ্গীরচর সিলেটী বাজার ৭ নম্বর গলিতে থাকে শিশু জান্নাতির পরিবার। নিহত শিশুর বাবা মো. মোস্তফা ইসলামবাগে দিনমজুরের কাজ করেন। মা লাভলী আক্তার অন্যের বাসায় কাজ করেন।
শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা খালা নার্গিস আক্তার ও প্রতিবেশী আবদুস সালাম জানান, ঘটনার সময় বাসার সামনের গলিতে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল জান্নাতি। তার মা বাসার ভেতরে ঘরের কাজ করছিলেন। তখন আরেক শিশু জান্নাতিকে অচেতন অবস্থায় কোলে করে বাসার ভেতর নিয়ে আসে। সে জানায়, গলিতে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা জান্নাতির ওপর দিয়ে উঠিয়ে দিয়েছিল। রিকশাচালক পালিয়ে গেছে।
তারা আরও জানান, এ কথা জানার পর শিশুটিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু চিকিৎসক পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে মারা গেছে বলে জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য কামরাঙ্গীরচর থানায় জানানো হয়েছে।
অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যম দ্রুত বিস্তৃত হওয়ায় সাংবাদিকতার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা এবং আচরণবিধির (কোড অব কন্ডাক্ট) প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একইসঙ্গে তথ্য কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিন বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. জাহেদ বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সাংবাদিকতার পেশাগত মান ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত নীতিমালা ও রেগুলেটরি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।
সাংবাদিকদের তথ্য প্রদানে রাজনৈতিক চাপের প্রশ্নে জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ডিসিদের সঙ্গে আলোচনায় রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি আসেনি। বরং মূলত ডিজিটাল মিডিয়ার বিস্তার এবং সেটি ঘিরে সৃষ্ট বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, খুব সহজে এখন অনলাইনভিত্তিক মিডিয়া চালু করা যাচ্ছে। সেখানে নীতিমালার একটা অভাব আছে। জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা এসেছে যে সাংবাদিক হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও আচরণবিধি থাকা প্রয়োজন, যাতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে প্রশাসন ও গণমাধ্যম—উভয় পক্ষেরই সুবিধা হয়। এ কারণে তথ্য মন্ত্রণালয় সাংবাদিকতার জন্য একটি নীতিমালা ও কোড অব কন্ডাক্ট তৈরির বিষয়ে কাজ করছে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারের তথ্যপ্রকাশ ও স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এবং ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়। তাই তথ্য গোপনের প্রবণতা থেকে সরকার সরে আসবে বলেই তিনি মনে করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তথ্য গোপন করার যে প্রবণতা আগে দেখা গেছে, যুক্তি বলে এই সরকার সেটা করতে যাবে না।
সাংবাদিকদের তথ্যপ্রাপ্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘদিন কার্যকর না থাকা তথ্য কমিশন দ্রুত পুনর্গঠন করা হবে। কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তথ্যপ্রাপ্তি-সংক্রান্ত অভিযোগ ও সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।
গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। এ নিয়ে তিনি জানান, ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম জোরদার করতে ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ের তথ্য অবকাঠামোকে সমন্বিত করা হবে।
তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে সরকারের তথ্যসেবা কাঠামোকে নতুন ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তার মতে, বিদ্যমান তথ্যসেবা কাঠামো নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে, তবে যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেখানে দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে দেশে আরও উন্মুক্ত ও কার্যকর তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে ভাবমূর্তি ‘ক্ষুণ্ন’ করায় হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
বুধবার (৬ মে) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানি-১) ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়া তার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
এছাড়াও তিনি ব্যক্তিস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারীদের ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান, প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদের নামে মিথ্যা ও অসত্য কুৎসা প্রচারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বৈধ আদেশ পালন না করতে অন্যান্য কর্মচারীদের ইন্ধন দিয়ে অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, যা গুরুতর অসদাচরণ ও অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপরাধ বর্ণিত বিধির ৪(১) বিধি অনুযায়ী দণ্ডনীয়, যার সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরি হতে বরখাস্তকরণ। বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আসামি সুদীপ চক্রবর্তীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক কাজী ইকবাল হোসেন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মধুসূদন দেব জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর উত্তর বাড্ডার নিজ বাসা থেকে মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় তার মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া...।’
এই ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সুদীপ চক্রবর্তীকে আসামি করে বাড্ডা থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ২৭ এপ্রিল তাকে প্রথমবার আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে গত রোববার আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। রিমান্ড শেষে বুধবার (৬ মে) আবারও তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলো।
নিজের দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য জানালেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। আজ বুধবার নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য জানান তিনি।
রফিকুল ইসলাম মাদানী মারকাযু শাহাবুদ্দিন আল ইসলামী মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আমার আল্লাহকে ভয় করি... গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে চাই।
এই চাওয়াটাই আমাকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে—দ্বিতীয় বিয়ে। এই সমাজে কত মানুষ আছে, যারা বিবাহিত হয়েও হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, গোপনে গোনাহ করে। আমি সেই পথের একজন হতে চাইনি। আমি চাইনি নিজেকে কোনো হোটেল, পার্ক কিংবা অন্ধকার কোনো পথে খুঁজে পাই।
আমি চেয়েছি হালালের মধ্যে থাকতে, আল্লাহর বিধানের মধ্যে থাকতে।
জানি, আমার এই সিদ্ধান্তে আমার প্রথম আহলিয়ার কষ্ট হয়েছে... হচ্ছে। এটা ভাবলেই আমার বুকটা ভেঙে যায়। তবুও আমি বিশ্বাস করি, এটি কোনো মানুষের বানানো নিয়ম নয়—এটি আমাদের সবার রবের বিধান।
তিনি যা হালাল করেছেন, সেটাকেই আঁকড়ে ধরতে চেয়েছি।
কিছুদিন ধরে আমি তাকে বুঝিয়েছি... অসংখ্য রাত আমি আল্লাহর কাছে কেঁদে দোয়া করেছি—যেন তাঁর মনটা নরম হয়, যেন তিনি বিষয়টি মেনে নিতে পারেন। কখনো মনে হয়েছে তিনি বুঝছেন, আবার হঠাৎই ভেঙে পড়েছেন, না বলে দিয়েছেন।
আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাই—আল্লাহ তাআলা যেন আমার দুই পরিবারকে ধৈর্য দান করেন, তাদের অন্তরে প্রশান্তি দেন এবং এই বিষয়টি সহজভাবে মেনে নেওয়ার তাওফিক দেন।
ইনসাফ করা—এটাই সবচেয়ে বড় শর্ত।
আর আমি আল্লাহর কাছে মাথা নত করে দোয়া করি, যেন তিনি আমাকে সেই তাওফিক দেন। যেন আমি কারো হক নষ্ট না করি, কারো প্রতি জুলুম না করি। আর আমাকে এমন তাওফিক দিন, যেন আমি সত্যিই ইনসাফের সঙ্গে, তার সন্তুষ্টির জন্যই আমার সংসার পরিচালনা করতে পারি।’
হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ (বুধবার) খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতি খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছাঃ মাহফুজা খাতুন বলেন, হামের বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনে গৃহভিত্তিক যাচাই জোরদার এবং শিশুদের টিকা গ্রহণে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, হামের টিকার পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সব পক্ষকে সোচ্চার হতে হবে। হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
স্বাগত বক্তৃতা করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মিজানুর রহমান। হাম-রুবেলা টিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুর রহমান সজিব। সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, খুলনা জেলার নয়টি উপজেলায় এক লাখ ৫৬ হাজার ৪২০ শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন চলবে।
ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আজ বুধবার (৬ মে) দুপুরে মহাসড়কের ব্যস্ততম দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।অভিযানের নেতৃত্ব দেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী। এ সময় ফুটপাত ও মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট গুঁড়িয়ে দিয়ে রাস্তা দখলমুক্ত করা হয়।অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি মাহবুবুর রহমান, পৌরসভার সচিব নওশীন আহমেদ, ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর আহাম্মদ। অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী জানান, মহাসড়কে পথচারী ও যানবাহন চলাচল ঝুঁকিমুক্ত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনস্বার্থে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এই উচ্ছেদ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। মহাসড়ক কোনোভাবেই দখল করতে দেওয়া হবে না।