বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

হতদরিদ্রদের ক্ষুধা মেটাতে ১ টাকায় আহার

শুক্রবার দুপুরে নওগাঁর বাটার মোড়ে খাবারের আয়োজন করে ‘ফ্রেন্ডস প্যানেল’। ছবি: দৈনিক বাংলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১১:২৬

নওগাঁয় হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের ক্ষুধা মেটাতে এক টাকায় একবেলা আহারের ব্যতিক্রমী এক খাদ্য কর্মসূচি চালু করেছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। চলতি বছরের মে থেকে নিয়মিত প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে দেড় শতাধিক হতদরিদ্র মানুষকে এক টাকার বিনিময়ে দুপুরের খাবার দিচ্ছে সংগঠনটি। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের বাটার মোড় আসমান সিটি শপিংমলে ভরপেট দুপুরের খাবারের আয়োজন করে ‘ফ্রেন্ডস প্যানেল’ নামের সংগঠনটি।

খাবারের এ আয়োজনে ভাতের সঙ্গে মুরগির মাংস ও রোস্ট এবং ডিম-আলুর তরকারি থাকে। আবার কখনো কখনো ঝাল বিরিয়ানি ও মাছ ভুনার আয়োজন করা হয়। নওগাঁ শহর ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা মানুষ একবেলা খাবারের আশায় প্রতি শুক্রবার ছুটে আসেন বাটার মোড় আসমান সিটি শপিংমলে। সেখানে রান্না শেষে তাদের মাঝে এক টাকার বিনিময়ে যত্নসহকারে খাবার পরিবেশন করেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

শহরের কাঁঠালতলী মহল্লা থেকে খাবার নিতে এসেছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভিক্ষুক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘৩০ বছর ধরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করছি। ভিক্ষার টাকা দিয়ে সন্তানদের খাইয়ে বড় করে তুলেছিলাম। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক হওয়ায় তারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। এখন বয়সের ভারে চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। তাই আর আগের মতো ভিক্ষাও করতে পারি না। প্রতি সপ্তাহে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এখানে খেতে আসি। এক টাকার বিনিময়ে পেট ভরে খেতে পারি। এই খাওয়া দিয়েই দিন পার করে দিই।’

নওগাঁ বউবাজার মহল্লা থেকে আসা বৃদ্ধা মাজেদা বেওয়া বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বামীকে হারিয়েছে। দুই মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর ঘরে চলে গেছে। কেউ-ই আমার খোঁজখবর নেয় না। তাই বাধ্য হয়েই ভিক্ষায় নেমেছি। প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে ভিক্ষা করার পর দুপুরের মধ্যেই এখানে চলে আসি। মুরগির মাংসসহ ভালো ভালো খাবার তৃপ্তি মতো খেতে পারি। আমাদের কথা এই সমাজের কেউ-ই ভাবেন না। অথচ এই অল্প বয়সী ছেলেগুলো ভাবছে। আল্লাহ এদের মঙ্গল করুক।’

সদর উপজেলার দুবলহাটী গ্রাম থেকে আসা রিকশাচালক আব্দুস সামাদ বলেন, ২৪ বছর ধরে রিকশা চালাই। সংসারে দুটি মেয়ে ছিল, তাদের বিয়ে দিয়েছি। এখন ১২ বছর বয়সী একটি ছেলে আছে। ছেলের পড়ালেখার খরচ চালাতে গিয়ে দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে হিমশিম খাচ্ছি। বেশির ভাগ সময়ই একবেলা খেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকতে হয়। এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম। খুব ক্ষিদে লেগেছিল। কিন্তু সকাল থেকে তেমন ভাড়া পাইনি। তাই খাবার কেনার মতো টাকাও কাছে নেই। রাস্তায় দেখলাম লাইন ধরে সবাই মার্কেটের ভেতরে খেতে ঢুকছে। তাই আমিও এসে পেটপুরে খেলাম।’

ফ্রেন্ডস প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক আলো হোসেন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশজুড়ে অনেক মানুষ এখন আয়-ব্যয়ের সমীকরণ মেলাতে পারছেন না। এই সংকটকালে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন হতদরিদ্র অসহায় মানুষ। তাদের অনেকেই অর্ধাহারে-অনাহারে দিন পার করছেন। তাই তাদের মুখে একবেলা খাবার তুলে দিতে আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ। এসব মানুষ যখন ভরপেট খেয়ে তৃপ্তি পায়, তাদের মুখে অন্য রকম একটা খুশির ছাপ ভেসে ওঠে। এটি দেখেই আমরা তৃপ্তি পাই।’

সংগঠনের সভাপতি রিমন আলী বলেন, ‘নিজ জেলায় সমাজসেবামূলক কাজ করার পাশাপাশি বন্যাকালীন দেশের বিভিন্ন জেলায় আমরা শুকনো খাবার বিতরণ করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। তবে ইচ্ছে থাকলেও মানুষের জন্য খুব বেশি কিছু করতে পারি না। একটি মোবাইল দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত আছি। কত টাকাই-বা বেতন পাই? আমাদের অন্য সদস্যদেরও একই অবস্থা। বেশির ভাগই মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোয়নি। আমরা কেউ-ই ধনী ঘরের ছেলে না। এখন কিছু কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আমাদের সহযোগিতা করছে বলে এই যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এক টাকায় আহারের ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সমাজের বিত্তবানদের সুদৃষ্টির পাশাপাশি সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর মাত্র ৩৯ জন সদস্য নিয়ে ‘ফ্রেন্ডস প্যানেল’ আত্মপ্রকাশ করে। এরপর থেকেই সংগঠনটি নওগাঁ পৌরসভার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শীতবস্ত্র বিতরণ, এক টাকায় বিভিন্ন ফল বিতরণ, মানবতার দেয়াল, করোনাকালীন সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণসহ নানাবিধ সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিচ্ছে। শহরজুড়ে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম সুধীজনদের নজরে আসায় সম্প্রতি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বেশকিছু ব্যবসায়ীপ্রতিষ্ঠান। তাদের আর্থিক সহযোগিতা ও সদস্যদের চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে এক টাকায় একবেলা আহারের আয়োজন করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নীতিমালা হচ্ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

রাজধানীর শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সংবাদকর্মীদের ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুতই একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, দালালদের দৌরাত্ম্য কেবল কোনো নির্দিষ্ট হাসপাতালের সমস্যা নয়; এটি সারা দেশের একটি জাতীয় ব্যাধি। অসচ্ছল ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের বিভ্রান্ত করে অনৈতিকভাবে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো কর্মকাণ্ড স্পষ্টতই অপরাধ। এসব অপকর্ম দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সংবাদকর্মীদের এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালের আশপাশে যত্রতত্র প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন কঠিন করা এবং সরকারি চিকিৎসকদের সেসব প্রতিষ্ঠানে কাজের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা সম্ভব—যদি সঠিক নজরদারি থাকে। স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে কিছু স্থানে জমে থাকা ময়লা দেখে তা দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিষেধক ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাস ডেঙ্গুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা যেন এডিস মশার মাধ্যমে নতুন করে আক্রান্ত না হন, সে জন্য সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া এবং সেবাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা। প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার ও সাধারণ মানুষের সচেতনতার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের সব অনিয়ম দূর করে শৃঙ্খলায় ফেরানো হবে।

এদিকে হাসপাতালের প্রধান ফটকের পাশে অবস্থিত মর্গ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থান সংকুলান হলে জনস্বার্থে মর্গটি সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ২১টি মর্গের পরিবেশ উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) গ্রহণ করা হয়েছে, যার কাজ চলতি বছরেই শুরু হবে।


নির্বাচিত

খুলনায় ধানের শীষে সোনালী দুর্গা দেবী বরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

ধানের সোনালী শীষে সজ্জিত দুর্গার প্রতিমা শিল্প, সংস্কৃতি ও কৃষিভিত্তিক বাংলার ঐতিহ্যকে এক সুতোয় গেঁথে খুলনায় সৃষ্টি করেছে শারদীয় উৎসবের অন্যরকম আবহ। খুলনা মহানগরীর ‘বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দির’-এ প্রচলিত সাজসজ্জার বাইরে গিয়ে চিনিগুঁড়া ধানের শীষকে প্রতিমার মূল অলংকরণে ব্যবহার করায় দুর্গোৎসবে যোগ হয়েছে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী মাত্রা।

সোনালী ধানের নান্দনিক বিন্যাসে প্রতিমার রূপে ফুটে উঠেছে বাংলার কৃষকের শ্রম, ফসলের সমৃদ্ধি ও গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা আবহ, যা দেখার জন্য ইতোমধ্যেই নগরজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। খুলনা শহরের সার্বজনীন পূজা উদযাপনের ইতিহাসে এমন উদ্যোগ এটাই প্রথম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরটি ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয়। এরপর প্রতি বছরই এখানে বিভিন্ন প্রজা অর্চনা হয়ে আসছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল ১৯৯৮ ও '৯৯ সালে। ওই সময় বৈদ্যুতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিমার মধ্যে সিংহের গর্জন স্থাপন করা হয়। যা ব্যাপক সাড়া পড়ে।

এবারের পূজায় বাগমারা তেঁতুলতলা মণ্ডপ হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ কেন্দ্র। ৩০ কেজি চিনিগুঁড়া চালের ধান ব্যবহার করা হয়েছে প্রতিমা তৈরিতে। ৪০ দিন ধরে চারজন শিল্পী নিপুন হাতে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন। যাতে ব্যয় হয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে তৈরি এই দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা দর্শনার্থী ও ভক্তদের কাছে এক ভিন্নধর্মী আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক উপকরণে গড়া এই অনন্য শিল্পকর্ম দেখতে প্রতিদিন উপচেপড়া ভিড় সামলাতে হচ্ছে আয়োজকদের। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে এই আয়োজন ঘিরে দারুণ উচ্ছ্বাস ও ব্যাপক কৌতূহল দেখা গেছে। এই নান্দনিক সৃষ্টি দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন দর্শনার্থীরা।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা জানান, খুলনা শহরে প্রায় ৭০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে, যার মধ্যে কেবল বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপেই সম্পূর্ণ আলাদা ও ব্যতিক্রমীভাবে এই ধানের প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পূজা পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘আমাদের মণ্ডপে এবার চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। খুলনা শহরের প্রায় ৭০টি মণ্ডপের মধ্যে আমাদেরটাই একমাত্র ব্যতিক্রমী আয়োজন। আমাদের তরুণ প্রজন্ম, মন্দির কমিটি এবং পূজা পরিচালনার সাথে যুক্ত সবার অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতায় এই রূপ সম্ভব হয়েছে। এই বিশেষ আয়োজনের কারণে এবার আমাদের মণ্ডপ আরও অনেক বেশি জমজমাট ও মুখরিত হয়ে উঠেছে। আমরা সবাইকে সপরিবারে আমন্ত্রিত জানাচ্ছি।

মন্দির কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবারই চিরাচরিত প্রতিমা তৈরি করা হলেও এবার দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর চাহিদা মেনে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম কিছু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য সুব্রত সরকার উচ্ছ্বাসের সাথে বলেন, ‘সবাই বলত, ‘আপনারা এবার একটু ব্যতিক্রম কিছু করেন।’ সবার মন জয় করার জন্যই আমরা এবার ধানের প্রতিমা তৈরি করেছি। আমাদের সময় লেগেছে প্রায় এক মাস দশ দিন। খুলনার সব প্রতিমার মধ্যে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রতিমাটি গড়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি হবে ধরে নিয়েই আমরা সবকিছু ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছি।

মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রবীণ সদস্য পিন্টু কুমার বিশ্বাস এই মন্দিরের ঐতিহ্য ও দর্শকদের সাড়া নিয়ে বলেন, ‘আমাদের এই তেঁতুলতলার প্রাচীন মন্দিরে ১৯৯৮-’৯৯ সালে সিংহের গর্জনের প্রতিমা করেছিলাম, আর এবার করলাম ধানের প্রতিমা। এটা দেখে দর্শনার্থী থেকে শুরু করে ছোট-বড় সবাই প্রচণ্ড আনন্দিত ও উৎফুল্ল। দর্শকরা আমাদের যে অভূতপূর্ব সাড়া ও উৎসাহ দিচ্ছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ জনজীবনে ধানের স্থান শীর্ষে। মাঠে পাকা ধানের শীষ দুলতে শুরু করলে কৃষকের ঘরে ঘরে যেমন নতুন আশার আলো জ্বলে ওঠে, তেমনি মণ্ডপে দেবী দুর্গার গায়ে সোনালী ধানের এই অলংকার বাংলার মাটি ও মানুষের আত্মিক সম্পর্ককে গভীরভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় কিছুটা দূরে সরে যাওয়া ঐতিহ্যকে মণ্ডপে জীবন্ত করে তোলার এই প্রয়াস নতুন প্রজন্মের কাছে কৃষিসংস্কৃতি ও লোকজ শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরার এক অনবদ্য মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, ধানের শীষে সজ্জিত এই সোনালি দুর্গাপ্রতিমা কেবল একটি দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম নয়; এটি কৃষি, ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও সৃজনশীলতার এক আনন্দময় উল্লাস।


নির্বাচিত

সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ধকরাহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

* প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে নতুন গতি
ধকরাহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. তোজাম্মেল হক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

অবকাঠামোগত সংকট, কম শিক্ষার্থী এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কাটিয়ে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ধকরাহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। গত ১৬ মার্চ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. তোজাম্মেল হক। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

উদ্যমী এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিদ্যালয়টি ছিল নানা সমস্যায় জর্জরিত। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক অগোছালো অবস্থার কারণে ব্যাহত হচ্ছিল স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম, যার ফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল শিক্ষার্থীর সংখ্যা। শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রে নয়, অবকাঠামোগত দিক থেকেও পিছিয়ে ছিল প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল বিদ্যালয়ের জমির খারিজ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাজ।বিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বীকৃতি, ৫ আগষ্ট ২০২৪-এর পর পরিচালনা কমিটি, উন্মুক্ত সীমানা, নামফলক বা সাইনবোর্ড না থাকা, ভাঙাচোরা চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ ও পরিত্যক্ত আসবাবপত্রের স্তূপের কারণে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ছিল অনুপস্থিত।

তবে তোজাম্মেল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যায়ক্রমে জটিল সমস্যাগুলো সমাধানের সাহসী উদ্যোগ নেন। তিনি ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি, পরিচালনা কমিটি,জমির খারিজ এবং খাজনা সংক্রান্ত কাজ দ্রুত শেষ করেন।শিক্ষক সমাবেশ করেন কয়েক দফা, ২০২৭ সালের এসএসসি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভা, নিরাপত্তার স্বার্থে সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে এবং তৈরি করা হয়েছে এক পার্শ্বের সীমানা প্রাচীর এবং ফুলের বাগান। একই সাথে প্রতিষ্ঠানে নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন, ভাঙাচোরা আসবাবপত্র সংস্কার ও প্রয়োজনীয় নতুন বেঞ্চ-টেবিল, আলমিরার ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) তোজাম্মেল হক বলেন, ‘বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন যে অবস্থায় ছিল, তা থেকে উত্তরণ ঘটানো ছিল আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ। আমি মাত্র কাজ শুরু করেছি। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে একপার্শ্বের সীমানা প্রাচীর, সিসি টিভি স্থাপন এবং আসবাবপত্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই ধকরাহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এলাকাটির অন্যতম সেরা ও আধুনিক মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।’


নির্বাচিত

ব্যাটারি ছাড়াই বায়ুশক্তি ব্যবহারে হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন

* নওগাঁয় ১০৬ উদ্ভাবন নিয়ে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রদর্শন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:২৬
নওগাঁ প্রতিনিধি

বিজ্ঞানের কৌতূহল, প্রযুক্তির নতুন ভাবনা আর উদ্ভাবনের স্বপ্ন। সব মিলিয়ে নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা। মেলায় নিজেদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছে চার শতাধিক শিক্ষার্থী। তাদের তৈরি ১০৬টি প্রকল্পে উঠে এসেছে বিজ্ঞানের নানা প্রয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং আগামীর সম্ভাবনার কথা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নওগাঁর বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলায় প্রতিষ্ঠানটির চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা, গবেষণাধর্মী চিন্তা ও উদ্ভাবনী ধারণা কাজে লাগিয়ে তারা উপস্থাপন করে ১০৬টি প্রকল্প। উদ্বোধনের পর মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

মেলায় শিক্ষার্থীদের প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা জান্নাতের ‘উইন্ড পাওয়ার এলইডি চার্জিং সিস্টেম’। বায়ুশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা নিয়ে কাজ করেছে সে। জ্বালানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের ভাবনা থেকেই তার এ উদ্যোগ।

ফাতেমা জান্নাত নামের শিক্ষার্থী বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চিন্তা থেকেই আমাদের এ প্রকল্প। ব্যাটারি ছাড়াই বায়ুশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা তুলে ধরেছি আমরা। বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিয়ে নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে উদ্ভাবনী কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছি।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিত্য চৌধুরী বলেন, বিজ্ঞান মেলা তাদের প্রচলিত চিন্তার বাইরে নতুন কিছু ভাবতে এবং নিজেদের ধারণা সবার সামনে তুলে ধরতে উৎসাহিত করে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনে আগ্রহী হবে।

বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শরিফুর রহমান বলেন, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো এবং তাদের চিন্তা ও উদ্ভাবনী ধারণা সবার সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের পাশাপাশি নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছি। পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তবমুখী চিন্তার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও নতুন কিছু আবিষ্কারের আগ্রহও বাড়ে। নওগাঁয় আয়োজিত এ বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের সেই সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বলে মনে করছি।


নির্বাচিত

ভবন নির্মাণে আইনবহির্ভূত কাজ করলে আইনের আওতায় আনা হবে: গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভবন নির্মাণের সময় কেউ আইনবহির্ভূত কাজ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের সড়ক নম্বর সংবলিত পিলারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সম্প্রতি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় অনেকেই বাধা প্রদান করছেন। সরকারের এ ধরনের কাজে যারা বাধা দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এদিন সকাল থেকে রাজশাহী নগরীতে চলমান এবং উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। দুপুরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর তিনি ‘আরডিএ প্রান্তিক আবাসিক এলাকা’র উদ্বোধন করেন এবং সেখানকার একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

এছাড়াও নাটোর রোড (রুয়েট) থেকে রাজশাহী বাইপাস রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক ও ফ্লাইওভারের উদ্বোধন শেষে সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন মন্ত্রী। এ সময় আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, আরডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট তার বক্তব্যে বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের শহরগুলোর মতো রাজশাহীর প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি সড়কে নম্বর প্রদান করে নম্বর সংবলিত পিলার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অচিরেই পুরো নগরীতে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’


নির্বাচিত

কুমিল্লায় নিখোঁজ চার স্কুলছাত্রী উদ্ধার, মোবাইল বিক্রি করে যায় ঢাকায়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে বাড়ি ছাড়ে তারা। পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন বিক্রি করে পাওয়া টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় যায়। পরে সেখান থেকে ঝুমুরের দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চলে যায় তারা।

উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থী হলো কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিন আক্তার (১২), ঝুমুর (১২), সোনিয়া (১৩) এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাত (৮)। জান্নাত মাহিনের ছোট বোন।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তারা। তবে স্কুলে উপস্থিত হয়নি কেউই। বিকেলে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পুলিশকে জানানো হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। গত

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

তিনি জানান, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানোর পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় চার ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিক্রি করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় অভিভাবকদের সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।


নির্বাচিত

মাগুরায় ৫০০ নারী-পুরুষ পেলেন বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরায় ব্র্যাকের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০০ নারী-পুরুষকে চক্ষু পরীক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) মাগুরা সদর উপজেলার ১৭ নম্বর বারাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ‘দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার পথ—গ্রামীণ চক্ষু সেবার উদ্যোগ’ প্রতিপাদ্যে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির মাগুরা সদর অফিস এ উদ্যোগ গ্রহণ করে। চিকিৎসাসেবা দেয় ফরিদপুরের ইসলামী চক্ষু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল।

ক্যাম্পে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রোগীদের চোখ পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। নিকটদৃষ্টির সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ আর্থিক অসচ্ছলতা, সচেতনতার অভাব এবং চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগের কারণে সময়মতো চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছানি, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া ও চোখের অন্যান্য সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের রিজিওনাল ম্যানেজার ফারহানা বিনতে সেলিম, আবু মুছা আশয়ারী, সাউথইস্ট ডিভিশনের ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেটর (লিড জেনারেশন) মো. জামির আলী, মাগুরার পারনান্দুয়ালী শাখার কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন, মাগুরা সদর শাখার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক ও ইয়াং প্রফেশনাল অভিষেক রায়, রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম এবং সুনীল মিস্ত্রি।

এ সময় ইসলামী চক্ষু হাসপাতাল, ফরিদপুরের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সহকারী সার্জন ডা. মো. আরাফাত হোসেন এবং আশীষ কুমার সাহা উপস্থিত থেকে চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা করেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষ সহজে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাবেন।


নির্বাচিত

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বিনষ্ট করলে ছাড় নয়: এমপি জাহান্দার আলী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

জনপ্রিয় মোবাইল কোম্পানি ‘ভিভো’ এর নারায়ণগঞ্জ ‘রিজনের’ তৃতীয় ব্রাঞ্চ মাদারীপুরের প্রধান ব্যবসায়িক কেন্দ্র পুরান বাজারে উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে এর উদ্বোধন করেন মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া (এমপি)। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উক্ত কোম্পানির চায়না ডেলিগেট মি. ডুক্সিন, মি. এ্যান্ড্রু, মাদারীপুর বণিক সমিতির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন (শফিক খান), বিএনপি নেতা মর্তুজা আলম ঢালি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তাক আহম্মেদ, কাজী লিপু, নান্নু গৌড়াসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যম কর্মীরা।

উদ্বোধনকালে এক বক্তব্যে এমপি জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উদার ও উন্মুক্ত বাণিজ্যনীতির পরিবেশ তৈরিতে বদ্ধ পরিকর। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল করে দেশ ও জনসাধারণকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি কৃষি-শিক্ষা-শিল্প, খেলাধুলা, সবুজ বনায়ন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ড, খাল খনন, কৃষি ভর্তুকি, মাদকে জিরো টলারেন্স, চাঁদাবাজ- দুর্নীতিবাজ দমন, কিশোরগ্যাং ও মবের মতো বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধে কঠোর ভূমিকায় রয়েছেন বর্তমান সরকারপ্রধান। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বিনষ্ট করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ব্যবসায়ী সমাজ- যারা দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছেন, মাদারীপুরের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে ব্যবসায়ীদের নিরাপদ-নির্বিঘ্ন রাখা আমাদের নৈতিক কর্তব্য, সরকারের উদারনীতি হলো- তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধান। কেননা, স্বৈরাচারী আমলে ঝিমিয়ে পড়া ও বর্তমানতা ক্রমবর্ধমান সচল হওয়া ব্যবসা কেন্দ্র যেকোনো মূল্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’ ‘ভিভো’ মাদারীপুরের নতুন ব্রাঞ্চের কর্ণধার ও ডিলার আল মামুন এক সাক্ষাৎকারে রাজনীতিবিদ, প্রশাসন, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ, সাধারণ মানুষ, গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাদের ব্যবসা প্রসারে সহযোগিতা চেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের বিশ্বমানের এই অত্যাধুনিক প্রোডাক্টস ব্যবহারের আমন্ত্রণ জানান।


নির্বাচিত

চাঁদপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ডের জনসচেতনতামূলক অভিযান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সুবিশাল সমুদ্র, উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জাটকা নিধন প্রতিরোধ, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে গুরুত্বসহকারে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

মা ইলিশ সংরক্ষণে চাঁদপুরে নিয়মিত অভিযানসহ জনসচেতনতামূলক এই কার্যক্রম পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ‘মা ইলিশ’ সংরক্ষণ ও নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকল্পে গত ০৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কোস্ট গার্ড তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান ও কঠোর নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

‘মা ইলিশ সংরক্ষণ-২০২৬’ সফলভাবে বাস্তবায়ন ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কোস্ট গার্ড কর্তৃক নদী ও সমুদ্র উপকূলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে সকলকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সাথে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি “আজকের সংরক্ষণই আগামী দিনের প্রাচুর্য”। আসুন, সবাই মিলে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি এবং মা ইলিশ রক্ষার মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সহায়তা করি।

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনসহ যেকোনো অনিয়মের তথ্য জানাতে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ কল করার জন্য সর্বসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছি।


নির্বাচিত

অষ্টগ্রামে পূজা মণ্ডপের অর্থ সংক্রান্ত বিরোধের অবসান, সমঝোতায় উপ-কমিটি গঠন

অষ্টগ্রামে পূজা ঘিরে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও পূজা কমিটির সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সমঝোতার মাধ্যমে একটি উপ-কমিটি গঠন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​মো. নজরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ (অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে পূজা মণ্ডপের অর্থ সংক্রান্ত বিরোধ ও প্রকাশিত সংবাদের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে অবসান ঘটেছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও পূজা কমিটির সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সমঝোতার মাধ্যমে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

​উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজনু মিয়া, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন, উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ অষ্টগ্রাম শাখার আহবায়ক দেবেশ চন্দ্র দাস, সদস্য সচিব জীবন ময় শীল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট অষ্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অজিত দত্ত ও বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট অষ্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অসীম বনিকসহ বিভিন্ন মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।

​সভায় উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষীদের কথা শুনে উদ্ভূত সমস্যার সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান করা হয়। পূজা পরিচালনা ও অনুদানের অর্থ সুষ্ঠুভাবে ব্যয়ের লক্ষ্যে সর্বসম্মতিক্রমে জীবন ময় শীলকে আহ্বায়ক এবং অজিত দত্ত, অসীম বনিক, নজরুল ইসলাম সাগর, হেমচন্দ্র ঋষি দাস ও সুকুমার চন্দ্র দাসকে সদস্য করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়।


নির্বাচিত

নির্বাচনি পরিবেশ ভালো, ঠাকুরগাঁওয়ে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না: নির্বাচন কমিশনার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এই উপনির্বাচনে প্রায় তিন গুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত সন্তোষজনক রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

বুধবার সকাল ১০টায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় নির্বাচন কমিশনার একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ উপনির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি শতভাগ প্রতিপালন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটাররা যেন কোনো ধরনের ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

সভায় উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নির্বাচনী পরিবেশ সমুন্নত রাখা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যকার পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড’-এর কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ওই ওষুধ কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

কিস্তি শোধেই শেষ আয়ের বড় অংশ, ঋণচক্রে দরিদ্র পরিবার

* ক্ষুদ্রঋণের প্রকৃত সুদ ২৭ শতাংশ * মহাজনি ঋণে ৫০–৬০ শতাংশ * কৃষিযন্ত্র কিনতেও বাড়ছে ঋণনির্ভরতা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার আশায় ঋণ নিচ্ছেন গ্রামের অসচ্ছল মানুষ। কিন্তু সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেই ফুরিয়ে যাচ্ছে আয়ের বড় অংশ। সংসারের খাবার, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা উৎপাদনশীল কাজে ব্যয়ের জন্য হাতে থাকছে সীমিত অর্থ। ফলে ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার বদলে অনেক পরিবার জড়িয়ে পড়ছে ঋণ পরিশোধের এক অন্তহীন চক্রে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় উঠে এসেছে গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের এমন উদ্বেগজনক চিত্র।

গবেষণায় দেখা গেছে, হতদরিদ্র পরিবারের ৭৯ শতাংশ তাদের আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় করে বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা ও স্থানীয় মহাজনদের ঋণের কিস্তি পরিশোধে। ২০১০ সালে এ ধরনের পরিবারের হার ছিল ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ, এক দশকের বেশি সময়ে ঋণের কিস্তির চাপে থাকা হতদরিদ্র পরিবারের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গত সোমবার বিআইডিএস ও আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই) আয়োজিত এক কর্মশালায় গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। ‘দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ’স রুরাল ক্রেডিট মার্কেট সিন্স ২০০০: এভিডেন্স ফ্রম ন্যাশনালি রিপ্রেজেন্টেটিভ সার্ভেজ’ শীর্ষক গবেষণায় গ্রামীণ ঋণবাজারের পরিবর্তন, ঋণের উৎস এবং কৃষিতে অর্থায়নের চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক কাজী ইকবাল জানান, সব ঋণগ্রহীতার মধ্যে আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি কিস্তি পরিশোধে ব্যয় করেন এমন মানুষের হার ২০১০ সালের ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে দুই বা তার বেশি ঋণ নেওয়া পরিবারের হার ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৩ শতাংশ।

গবেষকের ভাষ্য, এ প্রবণতা দরিদ্র মানুষের ঋণনির্ভরতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে ঋণের বোঝা বৃদ্ধির পেছনে কোন কোন কারণ কতটা ভূমিকা রাখছে, তা এই গবেষণায় সরাসরি অনুসন্ধান করা হয়নি।

ঋণ সহজলভ্য, কিন্তু খরচ কমছে না: গ্রামীণ ঋণবাজারে ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলোর প্রভাব এখন ব্যাপক। গবেষণা অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার প্রতি চারটি ঋণের তিনটিই আসে এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে। ঋণদাতার সংখ্যা ও ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়লেও ঋণের প্রকৃত খরচ কমেনি উল্লেখযোগ্যভাবে।

গবেষণায় ক্ষুদ্রঋণের প্রকৃত সুদের হার প্রায় ২৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো কাগজে-কলমে ১৫ শতাংশ সুদের কথা বললেও ঋণের প্রকৃত খরচ হিসাব করলে হারটি বেড়ে যায়। তুলনায় ব্যাংকঋণের সুদের হার প্রায় ১০ শতাংশ। অন্যদিকে, স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিলে সুদের হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

কাজী ইকবালের মতে, ঋণদাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লেও ক্ষুদ্রঋণের প্রকৃত সুদ কমানোর ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি। তার ভাষ্য, উচ্চ সুদেও ঋণের চাহিদা ব্যাপক থাকায় সুদের হার কমছে না।

ঋণের খরচ কমাতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে (এমআরএ) আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, বড় ও জাতীয় পর্যায়ের এনজিওগুলো চাইলে সুদের হার কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃষিতে ঋণের ব্যবহার কমছে: গবেষণায় গ্রামীণ ঋণের ব্যবহারে পরিবর্তনের চিত্রও উঠে এসেছে। আগে গ্রামীণ ঋণের বড় অংশ কৃষিতে ব্যয় হলেও এখন এ খাতে ঋণের ব্যবহার ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৬ শতাংশে নেমেছে। গবেষকেরা একে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের একটি লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

কৃষিঋণের অর্থ মূলত সার, বীজ, গবাদি পশু কেনা এবং জমি ভাড়ার খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক কৃষিযন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার তুলনামূলক কম। নগদ টাকায় জমি ভাড়া নিয়ে চাষ করেন এবং বর্গাচাষি—এমন কৃষকেরাই বেশি ঋণ নেন। তবে ব্যাংকঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে জমির মালিকানা এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

কৃষিযন্ত্র কিনতেও ঋণের চাপ: কর্মশালায় আইএফপিআরআইয়ের আরেক গবেষণায় কৃষিযন্ত্র কেনার অর্থায়নসংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, কৃষিযন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংক মাত্র ২ থেকে ৭ শতাংশ অর্থায়ন করে। কম্বাইন হারভেস্টর মালিকদের মাত্র ৫ শতাংশ ব্যাংকঋণ নিয়ে যন্ত্রটি কিনেছেন। অন্যদের মধ্যে ৩২ শতাংশ আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে, ২৭ শতাংশ এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা থেকে এবং ৮ শতাংশ স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তবে অর্থায়নের প্রধান উৎস যন্ত্রপাতি বিক্রয়কারী ডিলাররা। তারা হারভেস্টরের মোট দামের প্রায় ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত বাকিতে কেনার সুযোগ দেন, যা ১৮ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। জামানত হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা সই করা ফাঁকা চেক রাখেন।

যন্ত্র মেরামতের খরচও মালিকদের জন্য বড় চাপ। হারভেস্টর মালিকদের এক-তৃতীয়াংশ মেরামতের অর্থ জোগাতে ঋণ নেন। তাদের বড় অংশ আত্মীয়স্বজন বা মহাজনদের দ্বারস্থ হন। উদ্বেগের বিষয়, এসব মেরামতসংক্রান্ত ঋণের প্রায় অর্ধেকই পরিশোধ করা সম্ভব হয় না।

এ ছাড়া হারভেস্টর মালিকদের আয়ের প্রায় ৬৪ শতাংশ আসে এপ্রিল থেকে জুন মাসে। ফলে বছরের বাকি নয় মাস তাঁদের অনেককেই অর্থসংকট সামলাতে হয়। আয় ও কিস্তি পরিশোধের সময়ের এই অসামঞ্জস্য ঋণ পরিশোধকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষিযন্ত্রকে জামানত হিসেবে বিবেচনা করে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা বা ‘মেশিনারি-ব্যাকড লোন’ চালুর পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। পাশাপাশি ফসলের মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিস্তি নির্ধারণ এবং অন্তত তিন বছরের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তাঁরা। অন্যের জমিতে যন্ত্র দিয়ে কৃষিসেবা দেওয়াকেও কৃষিকাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কৃষিঋণের প্রচলিত নিয়ম সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।

ঝুঁকি ভাগাভাগিতে পশুপালনের উদ্যোগ: কর্মশালায় আইএফপিআরআই ও উইগ্রোর আরেকটি গবেষণায় গবাদি পশু পালনে ঝুঁকি ভাগাভাগির একটি মডেল পর্যালোচনা করা হয়। এ ব্যবস্থায় উইগ্রো গরু কেনার পুরো অর্থ দেয় এবং লাভের এক-তৃতীয়াংশ নেয়। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ পান কৃষক। কোনো কারণে লাভ না হলে কৃষককে উইগ্রোকে অর্থ পরিশোধ করতে হয় না। এ ধরনের ব্যবস্থা কৃষকের প্রাথমিক পুঁজি ও লোকসানের ঝুঁকি কমাতে পারে কি না, তা গবেষণার বিষয় ছিল।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, এমআরএর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের। এতে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক।

গবেষণার তথ্য বলছে, শুধু ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়ালেই দরিদ্র মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি নিশ্চিত হয় না। ঋণের প্রকৃত খরচ, আয় ও কিস্তির সময়ের সামঞ্জস্য এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়নের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পরিবর্তন না এলে ঋণ অনেক পরিবারের জন্য দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের পথ না হয়ে আর্থিক চাপের স্থায়ী উৎস হয়ে থাকতে পারে।


নির্বাচিত

banner close