প্রয়াত প্রখ্যাত সাংবাদিক এ বি এম মুসার নামে ফেনীর ফুলগাজীতে সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের ইসলামিয়া বাজার-ঘাটঘর-বকশী বাজার সড়কে হাজির ভাগনা খালে সেতুটি উদ্বোধন করেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার।
২০১৭ সালের ১৮ মে ‘সাংবাদিক এ বি এম মুসা সেতুর’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। ৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।
ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজমীরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন মজুমদার, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদ আল ফারুক, ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমীন, ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসিম, সাংবাদিক এ বি এম মুসার কন্যা মরিয়ম মুসা ও সাংবাদিক লোটন একরাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা জাসদের সভাপতি নুরুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, মুন্সিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, দরবারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন মজুমদার প্রমুখ।
মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিংয়ের মাধ্যমে দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে কোন জমি কৃষি, আবাসন, শিল্প বা অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও কৃষিজমি সুরক্ষায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নীলফামারীতে মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং বিষয়ে জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ কর্মশালা হয়েছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্পের যুগ্ম সচিব ও প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
কর্মশালায় বলা হয়, মৌজা ও প্লটের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের পাশাপাশি ভূমির ব্যবহার অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকা চিহ্নিত করা হবে। এতে ভূমির বর্তমান ব্যবহার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে কোনো এলাকায় আবাসিক, শিল্প বা কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও এসব তথ্য কাজে লাগবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও দ্রুত নগরায়ণের ফলে দেশের কৃষিজমি, জলাভূমি ও অন্যান্য ভূমির ওপর চাপ বাড়ছে। পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনা না থাকলে কৃষিজমি কমে যাওয়া, অপরিকল্পিত স্থাপনা তৈরি এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবের ঝুঁকি থাকে। ডিজিটাল জোনিংয়ের মাধ্যমে ভূমির শ্রেণি ও ব্যবহার সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা করা সহজ হবে।’
সাধারণ মানুষের জন্যও এর সুফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো জমি কেনাবেচা বা উন্নয়নকাজের আগে ওই জমির অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা সহজ হবে। ভূমিসংক্রান্ত সরকারি সেবায় একই তথ্য ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে তথ্যের অসামঞ্জস্য কমার পাশাপাশি নাগরিকদের ভোগান্তিও কমতে পারে।
এ ছাড়া কৃষিজমি সংরক্ষণ, জলাভূমি রক্ষা, শিল্পাঞ্চল নির্ধারণ, আবাসিক এলাকার পরিকল্পনা এবং সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ডিজিটাল ভূমি তথ্য ব্যবহার করা যাবে। দুর্যোগপ্রবণ ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করেও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সভাপতি হাসান রাব্বি প্রধান, সহসভাপতি আনোয়ারুল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাহ, তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের সভাপতি তাসনিম ফৌজিয়া ওপেলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পটুয়াখালীতে অটোচালক মো. জাকারিয়া শরীফ (২৮) হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ইয়াবা দেওয়ার কথা বলে নেওয়া ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে জাকারিয়াকে হত্যা করা হয়। পরে তার অটোর তিনটি ব্যাটারি চুরি করে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পটুয়াখালীর সাইফুল ইসলাম (২৯), মামুন হাওলাদার (২৯) ও মহিপুরের শুক্কুর আকন (৪৫)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাইফুল ও মামুন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত এবং শুক্কুর চোরাই ব্যাটারি কিনেছিলেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে মুচিরপোল স্ট্যান্ড থেকে অটো নিয়ে বের হওয়ার পর জাকারিয়া আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে জৈনকাঠী ইউনিয়নের শৌলা খেয়াঘাটসংলগ্ন লোহালিয়া নদীতে তার লাশ ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে তাকে ক্যাবল বা চিকন তার দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তে শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সাইফুল ও মামুনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর থেকে সাইফুল, পটুয়াখালী সদর থেকে মামুন এবং মহিপুর থেকে শুক্কুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, সাইফুলের সঙ্গে জাকারিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সাইফুল ও মামুন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাইফুল জাকারিয়াকে জৈনকাঠী খেয়াঘাটে নিয়ে যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্যাবল দিয়ে জাকারিয়ার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন সাইফুল এবং মামুন তার পা চেপে ধরেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
পরে জাকারিয়ার অটো থেকে তিনটি ব্যাটারি খুলে শুক্কুরের কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় বলে পুলিশ জানায়। অভিযান চালিয়ে অটো ও চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত চলছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
রাজশাহীতে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপি। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দলটির সমাবেশ, মিছিল ও কর্মসূচিকে ঘিরে রাজপথে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি বেড়েছে। রাজশাহীতে সাম্প্রতিক সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও কথিত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ধারাবাহিকভাবে মাঠে নামছে বিএনপি। বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, মহিলাদল, সেচ্ছাসেবক দলও জানান দিচ্ছে তাদের উপস্থিতির মাধ্যমে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও কথিত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বাটার মোড়ে সমাবেশ হয়। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশে মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন।
২৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী জেলা বিএনপির উদ্যোগে নগরীর বাটার মোড়ে সমাবেশ হয়। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির নেতারা বক্তব্য দেন। তারা রাজশাহীকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ভোরে নগরীর ভদ্রা মোড় এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মীদের ব্যানারসহ একটি ঝটিকা মিছিলের কথা জানায় রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। এ ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।পরে তদন্তে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর কয়েক দিন পর নগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। পুলিশের দাবি, তারা ঝটিকা মিছিল, লিফলেট বিতরণ ও সরকারবিরোধী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এদিকে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে রাজশাহীতে বিএনপির একাধিক কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির নেতারা তাদের সমাবেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কথিত নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা তুলে ধরছেন। অন্যদিকে পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায়।
সব মিলিয়ে রাজশাহীর রাজনীতিতে বর্তমানে একদিকে বিএনপির প্রকাশ্য মিছিল-সমাবেশ, অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান—এই দুই চিত্রই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাজশাহীর রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে থাকবে।
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে ফের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলার ১৮ থানায় একযোগে পরিচালিত সর্বশেষ অভিযানে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে সাম্প্রতিক তিন দফার অভিযানে আটক হয়েছেন মোট ১ হাজার ২৯৩ জন।
গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন।
পুলিশ জানায়, এর আগে কিশোর গ্যাংবিরোধী পৃথক দুই অভিযানে ৬২৪ ও ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। সর্বশেষ ৪১৫ জনসহ তিন দফায় আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৩ জনে।
এর মধ্যে প্রথম অভিযানে ৬২৪, দ্বিতীয় অভিযানে ২৫৪ এবং তৃতীয় অভিযানে ৪১৫ জন আটক হন। আগের দুই অভিযানে যাচাই-বাছাই শেষে ৫৯৭ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালতে পাঠানো হয় ২৮১ জনকে।
সর্বশেষ অভিযানে আটক ৪১৫ জনের বিষয়ে চলছে যাচাই-বাছাই। অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর মধ্যে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নগরীর বাসিন্দা সুমন আহমেদ বলেন, ‘নগরীতে চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ কমছে। তবে অভিযানে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, কিশোর-তরুণদের নিরাপদ রাখা এবং অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযানে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফরিদপুর শহরের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে চুরির ছয় দিনের মধ্যেই কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার ও ছয়টি পিতলের প্রতিমাসহ অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, চোরচক্র মন্দিরের একাধিক তালা কেটে প্রায় ২০ কেজি ওজনের কালীমূর্তিটি নিয়ে যায়। পরে বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পেছনে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর জেলা পুলিশ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূজা-অর্চনা শেষে কালীমাতাকে শয়ন দিয়ে মন্দিরের দরজা ও গেটে তালা লাগিয়ে চলে যান মন্দিরের সেবায়েত ও কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী। পরদিন ভোরে মন্দিরে গিয়ে তিনি একাধিক তালা কাটা ও দরজা খোলা দেখতে পান। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, শ্বেতপাথরের শিবমূর্তির ওপর স্থাপিত কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি নেই। একই সঙ্গে মূর্তির সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার, বিভিন্ন পিতলের প্রতিমা এবং মহাদেবের রৌপ্যের অলংকারও চুরি হয়েছে।
এ ঘটনায় কুশল চক্রবর্তীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়।
পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), কোতোয়ালি থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে একাধিক দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আলফাডাঙ্গা থানার বুড়াইচ গ্রামের আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), তার মা সাজেদা বেগম (৬৫), বোয়ালমারী থানার কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) এবং আতিয়ার রহমান।
অন্যদিকে আসাদুজ্জামান সাদ্দাম ও আল আমিন মোল্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোয়ালমারী থানার রূপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পেছনে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান সাদ্দামের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা, ডাকাতি ও মূর্তি চুরিসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। আল আমিন মোল্লার বিরুদ্ধেও একই ধরনের আটটির বেশি মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি বলেন, প্রথমদিকে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র না থাকায় ঘটনাটি ক্লু-লেস মনে হয়েছিল। তবে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ছয় দিনের মধ্যে চুরির রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে কালীমূর্তিসহ অধিকাংশ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানি থাকায় চলতি মৌসুমে নওগাঁয় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে ভালো হয়েছে পাটের আঁশের গুণগত মানও। ফলে মৌসুমের শুরুতেই মানসম্মত পাটের চাহিদা বেড়েছে বাজারে। আর চাহিদা থাকায় অন্য বছরের তুলনায় এবার ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষকরা।
জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে মান ও জাতভেদে প্রতি মণ শুকনা পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার মণপ্রতি দাম বেড়েছে অন্তত ৬০০ টাকা। কোথাও কোথাও ভালো মানের পাটের দাম আরও বাড়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে নওগাঁয় পাটের আবাদ ও উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২১-২০২২ মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। ওই মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ১৫ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন। ২০২২-২০২৩ মৌসুমে ৫ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়ে উৎপাদন হয়েছিল ১৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে আবাদ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৬০ হেক্টরে। ওই মৌসুমে উৎপাদন হয় ১২ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। এরপর ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে ৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। সেখান থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৯ হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন পাট। চলতি ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে। এ পরিমাণ জমি থেকে সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ টন পাট।
মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় পাট বিক্রি করে সন্তোষ প্রকাশ করছেন চাষিরা। জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ শুকনা পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে মান ও জাতভেদে জেলার বৃহত্তম পাটের হাট হিসেবে পরিচিত মান্দার সতীহাটে প্রতি মণ পাটের দাম উঠছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
পাট চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে পাট আবাদ করতে জমি চাষ, বীজ, সার, পরিচর্যা, পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোসহ গড়ে খরচ হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট লাভ করছেন কৃষকরা।
জেলার বৃহত্তম পাটের হাট হিসেবে পরিচিত মান্দার সতীহাটে সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই বিভিন্ন যানবাহনে করে পাট নিয়ে হাটে আসছেন কৃষকরা। কারও ভ্যানে, কারও নছিমনে আবার কেউ অন্যান্য যানবাহনে করে নিয়ে আসছেন দেশি, তোষা ও মেস্তা জাতের পাট।
হাটের বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে শুকনা পাট। ব্যবসায়ীরা পাটের আঁশের রং, মান, আর্দ্রতা ও জাত দেখে দরদাম করছেন। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় অনেক কৃষকই একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দরদাম করে পাট বিক্রি করছেন। মান ও জাতভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
নওগাঁ সদর উপজেলার খলিশাকুড়ি এলাকার পাটচাষি দুলাল হোসেন বলেন, সতীহাটে পাট বিক্রি করতে এসেছেন তিনি। এবার ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাট জাগ দেওয়ার আগেই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা অগ্রিম ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে ১০ মণ পাটের বুকিং দিয়েছিলেন। অবশিষ্ট পাট এখন ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। গত বছর যে দামে পাট বিক্রি করেছেন, এবার তার চেয়ে মণপ্রতি ৭০০ টাকা বেশি পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
মান্দা উপজেলার দক্ষিণ মৈণম গ্রামের পাটচাষি অতিশ কুমার বলেন, এবার পাটের বাজারদর বেশ ভালো। পাট কাটার পর পানিতে জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজ বেশ শ্রমসাধ্য। তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে জলাশয়গুলোতে পানি থাকায় জাগ দেওয়ার জন্য বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। পর্যাপ্ত পানির কারণে সহজেই পাট জাগ দিতে পেরেছেন। এতে পাটের আঁশের রংও ভালো হয়েছে।
একই এলাকার পাটচাষি অনুপ কুমার বলেন, বর্তমানে পাটের দাম ভালো। এবার পানির সংকটও হয়নি। বাজারে প্রকারভেদে সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত পাট বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু পাট বিক্রি করেছেন। আরও কিছু পাট রেখে দিয়েছেন। কয়েকদিন পর সেগুলো বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ পরিমাণ জমি থেকে ৮ হাজার ৯১০ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ পাটকে আবারও ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে সুপরিচিত করতে কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহিত করছে। প্রান্তিক চাষিদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় ৮০০ জন পাটচাষিকে বিনামূল্যে বীজ, সারসহ পরিবহন খরচ এবং আনুষঙ্গিক ও অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের জন্য নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষ হওয়ায় তার স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এদিকে দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাই। বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাব ইনশাআল্লাহ।’
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়কে মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ঘুন্টি এলাকায় এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা পাটগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ঘুন্টি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী একটি ট্রাক আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। এ সময় ট্রাকটি অটোরিকশাকে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে সড়কের পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার দুই আরোহী প্রাণ হারান।
খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পাটগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল আহতদের উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাকীন নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি দুজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায় এবং এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় তিনজন নিহত ও সাতজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
নেত্রকোনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পানিতে ডুবে ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের প্রায় ৯৫ শতাংশই শিশু। তাদের বেশির ভাগের বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। একের পর এক এমন মৃত্যুতে উদ্বেগ বাড়লেও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত পানিতে ডুবে ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে কেউ মারা যায়নি, মার্চে ৪, এপ্রিলে ৬, মে মাসে ১৫, জুনে ২৭, জুলাইয়ে ৯ এবং আগস্টে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্ষাকালে জুন মাসেই সর্বোচ্চ ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে কলমাকান্দায় মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
নেত্রকোনা নদী, নালা, খাল, বিল, পুকুর, ডোবা ও হাওরবেষ্টিত জেলা। জেলার গ্রামীণ জনপদের অনেক বাড়ির উঠান পেরোলেই রয়েছে কোনো না কোনো জলাশয়। বর্ষাকালে এসব জলাশয় পানিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে বাড়ির আশপাশেই শিশুদের জন্য তৈরি হয় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনার সময় পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকেন। বাবারা কৃষিকাজ বা জীবিকার কাজে বাইরে থাকেন, আর মায়েরা রান্নাবান্না ও গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ সুযোগে শিশুরা বাড়ির আশপাশে খেলতে গিয়ে কখনো পুকুর, ডোবা কিংবা খালে পড়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক পরিণতি।
সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি শিশুদের সাঁতার শেখানোর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু সাঁতার শেখানোই যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বয়সে শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারি, বাড়ির আশপাশের জলাশয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের সচেতনতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নেত্রকোনা জনউদ্যোগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, বর্ষাকালে নেত্রকোনার গ্রামগুলো পানিতে থইথই করে। গ্রামে শিশুদের দেখভালের জন্য আলাদা কেউ থাকেন না। মায়েদের একদিকে সন্তান সামলাতে হয়, অন্যদিকে সংসারের কাজ করতে হয়। বাবারাও জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকেন। ফলে অল্প সময়ের অসতর্কতায় শিশুরা পানিতে পড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মৃত্যু রোধে গ্রামে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং পুকুর-ডোবার চারপাশে বাঁশের নেট বা খুঁটি দিয়ে ঘের দেওয়ার মতো স্থানীয়ভাবে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
শিশুদের সাঁতার শেখানোর বিভিন্ন প্রকল্পের কথা মাঝেমধ্যে শোনা গেলেও এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও বাস্তব প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, প্রকল্প গ্রহণের পর মাঠপর্যায়ে যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বা সংস্থার বক্তব্য জানা যায়নি।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, পানিতে ডুবে শিশুদের মৃত্যু রোধে প্রতিটি উপজেলায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে মতবিনিময় সভাও হয়েছে। সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভা করে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, শিশুদের সাঁতার শেখানোর জন্য স্থানীয় পুকুরগুলোকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, পানিতে ডুবে মৃত্যু নেত্রকোনায় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি প্রতি বছর বর্ষাকালে আরও প্রকট হয়ে ওঠা একটি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা। বিশেষ করে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের মৃত্যু কমাতে শুধু মৌসুমি প্রচার নয়, বছরজুড়ে পরিবার ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সচেতনতা, নিরাপদ জলাশয় ব্যবস্থাপনা, শিশুদের সাঁতার ও পানিনিরাপত্তা শিক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জরুরি।
একটি শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়; এটি একটি সম্ভাবনাময় জীবনের অকাল সমাপ্তি। তাই মৃত্যুর পর কারণ খোঁজার চেয়ে দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই এখন নেত্রকোনার জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন জালিয়াতির ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ‘গর্ভ ছাড়াই জন্ম, ৪৫ দিন পর মৃত্যু, ১১৫ সনদে উঠে এলো ভয়ংকর তথ্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিডিআরআইএস সিস্টেমে ১১৫ অস্তিত্বহীন শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করার স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার জেনারেল সামিউল ইসলাম রাহাদ ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নিবন্ধক মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী ও সহকারী নিবন্ধক হাজেরা খাতুনের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। গত শনিবার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আসছে।
সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করে সরকার কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষিত বি ডি আর আই এস সিস্টেমের তথ্য শুদ্ধাতা নষ্ট করেছেন। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে ১১৫ জন অস্তিত্বহীন শিশুর ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত উল্লেখ করে ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাজেরা খাতুন দাবি করেছেন, ভুয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করায় তিনি অবগত না। কাজটি করেছেন ইউনিয়নের উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী। ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের নিবন্ধক ও সহকারী নিবন্ধকের ক্ষমতা প্রত্যাহার করে বিধি মোতাবেক অন্য কোনো ব্যক্তিকে নিবন্ধক ও নিবন্ধন সহকারী দায়িত্ব প্রদান করতে বলা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসদাচরণের জন্য নিবন্ধন সহকারী হাজেরা খাতুনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ২০১১ এর ৩৪ বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার জেনারেল সামিউল ইসলাম রাহাদ।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ জানিয়েছেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত শনিবার একটি চিঠি এসেছে। আমাকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। অফিসিয়ালি পাইনি, পেলেই পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে হাসিনা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত মাহাবুলকে (৩২) আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার ভোরে দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক মাহাবুল হক দেবীগঞ্জ উপজেলার বালাপাড়া বাজার মধ্যপাড়া গ্রামের সামিয়ারের ছেলে। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় জেলা পুলিশ।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে মাহাবুল হক প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন যে, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ভিকটিম তার প্রতিবেশী ভাবী। হাসিনা বয়সে তার চেয়ে বড়। প্রায় ৫/৬ মাস পূর্ব থেকে হাসিনার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়।
পরে তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। ঘটনার দিন ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় হাসিনা মাহাবুলের মোবাইল ফোনে কল করেন। মাহাবুল তার কলটি কেটে দিয়ে, পরে তাকে কলব্যাক করে কথা বলেন। হাসিনা তার স্বামীকে ভাত খেতে দিয়ে পাশের বাড়িতে খাৎনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে, সে পাশের ধানক্ষেতের আইলের কাছে মাহাবুলের জন্য অপেক্ষা করবে বলে সে আসতে বলেন। ঘটনাস্থল ধান ক্ষেতের আইলে গিয়ে মাহাবুল হাসিনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। পরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়।
সেখানে হাসিনার শরীর ভালো লাগছে না এবং তার মাথায় পানি দিতে বলে। মাহাবুল হাসিনার মাথায় দুই হাত দিয়ে সোজা করে শোয়ানোর সময় ঘাড় ভেঙ্গে যায়। হাসিনার মুখ নাক দিয়ে লালা বের হলে মাহাবুল হাত দিয়ে মুছে দেয়। মাথায় পানি দেয়, বুক হাত পা ডলাডলি করে। দেখে হাসিনা মারা গেছে। পরে হাসিনার মোবাইল বের করে মাহাবুলের করা ডায়াল নম্বর ডিলিট করে দিয়ে তার ম্যাক্সির পকেটে রেখে দেয়।
এর আগে শুক্রবার সকালে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউপির মধ্যপাড়া গ্রামের বালাপাড়া ধানক্ষেতের আইল থেকে নুরবানু ওরফে হাসিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে বালাপাড়া বাজার, মধ্যপাড়ার নুর রশিদের স্ত্রী।
পঞ্চগড় গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা আবু হোসেন বলেন, ১২ ঘন্টার মধ্যেই এ চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে মূল আসামীকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের মধ্যে পরকিয়ার সম্পর্ক ছিল। ওই নারীর কিভাবে মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নদী-চরবেষ্টিত মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বড় অংশই পদ্মা নদীর চরাঞ্চল ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও নৌযানই একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম, আবার নদীভাঙন ও বন্যায় অনেক সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে জনপদ।
এমন ভৌগোলিক বাস্তবতায় হরিরামপুরকে দুর্গম এলাকা হিসেবে সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্গম ভাতা দেওয়ার দাবি উঠেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের আওতায় হরিরামপুরকে দুর্গম এলাকা হিসেবে বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত দুর্গম এলাকার তালিকায় হরিরামপুরের নাম না থাকায় ক্ষোভ রয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম উপলক্ষে দেশের ২৩ জেলার ৭৫টি উপজেলাকে দুর্গম এলাকা হিসেবে বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী (নি:স:-২) স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল মহাপরিচালক, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ, ঢাকা বরাবর পাঠানো হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে দুর্গম এলাকা হিসেবে বিবেচিত হলেও হরিরামপুরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট গেজেটে দুর্গম উপজেলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে একই ধরনের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্গম ভাতার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরকারি নথি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও হরিরামপুরকে গ-শ্রেণির উপজেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দৌলতপুরকে চর উপজেলা হিসেবে দুর্গম এলাকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও হরিরামপুরকে একইভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হরিরামপুরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
তাদের ভাষ্য, দৌলতপুরের মতো হরিরামপুরেরও বড় একটি অংশ চরাঞ্চল। উপজেলার আজিমনগর, লেছরাগঞ্জ ও সুতালড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মা নদী ও চরাঞ্চলঘেরা। নদীভাঙন, নৌপথনির্ভর যোগাযোগ, বর্ষায় প্লাবন এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব এলাকায় সরকারি দায়িত্ব পালন করতে বাড়তি সময়, শ্রম ও ঝুঁকি নিতে হয়।
দুর্গম ভাতার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন: দুর্গম এলাকা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে।
আবেদনের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য, হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং হরিরামপুর উপজেলা প্রেসক্লাব বরাবর।
আবেদনকারীদের দাবি, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, নদীভাঙন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় হরিরামপুরকে দুর্গম উপজেলা হিসেবে সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
তাদের দাবি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতার পাশাপাশি দুর্গম এলাকার জন্য প্রযোজ্য ২০ শতাংশ ভাতা পাওয়ার সুযোগ চান। তবে এই ভাতা চালুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
উপজেলার আজিমনগর, লেছরাগঞ্জ ও সুতালড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা চরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই তিন ইউনিয়নে মোট ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সুতালড়ি রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বর্তমানে নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া এসব বিদ্যালয়ের কয়েকটিতে প্রধান শিক্ষক নেই এবং একাধিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত যাতায়াত ও পদায়ন নিয়েও নানা সমস্যা দেখা দেয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
নদীভাঙনের কারণে বিদ্যালয়ের অবস্থান পরিবর্তন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং বর্ষায় নৌপথের ওপর নির্ভরশীলতা শিক্ষা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন হারাকান্দি চরাঞ্চলের বাসিন্দারাও।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও নদীনির্ভর জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের শিক্ষাবিষয়ক সম্পৃক্ততাও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় থাকে না।
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেটসহ আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধাও চরাঞ্চলের সব এলাকায় সমানভাবে পৌঁছেনি। ফলে সরকারি তথ্য সংগ্রহ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, বিভিন্ন জরিপ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়।
নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে দুর্গম এলাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় দুর্গম এলাকায় কর্মরতদের অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার সুযোগ অতীতেও ছিল বলে দাবি তাদের।
কেন গেজেটভুক্তি প্রয়োজন:
হরিরামপুরকে দুর্গম উপজেলা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার দাবিদারদের যুক্তি, শুধু নদী বা চরাঞ্চল থাকা নয়—একটি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তবতা এবং জনগণের মৌলিক সেবা পাওয়ার সুযোগও দুর্গমতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তাদের দাবি, হরিরামপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ দুর্গম এলাকার স্বীকৃতি না থাকায় তারা প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ কারণে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে দুর্গম হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করে হরিরামপুরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, চর ভাতার বিষয়ে ডিসি স্যার বরাবর একটা আবেদন দেয়া হয়েছে, এটার বিষয়ে লেখাও হয়েছে। মিনিস্ট্রি থেকে আমরা এখনো কেন ফিডব্যাক পাইনি। ডিসি স্যার ওইটা তাদেরকেও অবহিত করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার বক্তব্যের জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেনি।
কৃষিনির্ভর মেহেরপুরের বাণিজ্যিক এলাকা খ্রেত গাংনী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। কিছু স্থানের গর্তের গভিরতা এক থেকে দেড় ফিট পর্যন্ত হবে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল দশা হলেও সংস্কারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না সড়ক বিভাগকে। ফলে সময় গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সড়কটি যেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর বলছে, বরাদ্দ না থাকায় সংস্কারকাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়রা জানান, বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি গাংনী উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এই সড়কটি দুটি জেলার মানুষের সংযোগ সড়ক হিসেবেও পরিচিত। এ পথে বাস, ট্রাক, নসিমন, অটোরিকশা, পাখিভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের অধিকাংশ জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এসড়কটি একটি দুর্ঘটনার ফাঁদে রূপ নিয়েছে।
পথচারী গৃহবধূ শারমিন আক্তার বলেন, ‘এ সড়কটি দিয়ে আমাদের জেলা ও উপজেলা শহরে যাওয়া লাগে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কটি, অথচ এই সড়কে চলাচল করা যায় না। কেন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিচ্ছে না, সেটাও বুঝতে পারছি না। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন কখন গাড়ি গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার এক চাচাতো বোনের বাচ্চা নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি উল্টে তার হাত ভেঙে গেছে। একটু বৃষ্টি হলে সড়কটিতে পানিতে ডুবে যায়।’
পাখিভ্যানচালক টিটু হোসেন বলেন, ‘আমি ভ্যানে করে ইটসহ আড়তের মালামাল নিয়ে ভাড়ায় যায়। বর্তমানে এই রাস্তায় ভাড়া ধরতেও মন চায় না। পরিবারের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় যা আয় হয়, গাড়ি নষ্ট হলে তার চেয়ে বেশি খরচ হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার। আর কোনোমতে আটকে গেলে পাঁচজন মিলে ধাক্কা দেওয়া লাগে।’
নসিমনচালক আক্কাস আলী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন চাউল লোড করে গাংনী যায়। গাংনী উপজেলায় এর চেয়ে খারাপ রাস্তা চোখে পড়ে না। আমাদের গাড়ি প্রায়ই নষ্ট হয়। মেরামত করতে বাড়তি খরচ গুণতে হয়। অনেক দুর্ঘটনাও দেখেছি। বড় কোনো দুর্ঘটনার আগেই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
স্কুলশিক্ষক ফারুক আহমদ বলেন, ‘আমাদের বাচ্চাদের স্কুল-কলেজ যাওয়ার প্রধান সড়ক এটি। অথচ বতর্মান সময়ে এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করা একদম অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় কাদা-পানি লেগে পোশাক নষ্টের পাশাপাশি শারীরিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই এটি দ্রুত সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, ‘বামন্দী-কাজীপুর সড়ক মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’
মেহেরপুর-৭৪/২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘সড়কটি অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই সড়কসহ উপজেলার অন্যান্য সড়কের বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে।’