বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সাংবাদিক এ বি এম মুসার নামে ফেনীতে সেতু উদ্বোধন

সাংবাদিক এ বি এম মুসা সেতু। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৪ মার্চ, ২০২৩ ১৫:১৩
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশিত : ১৪ মার্চ, ২০২৩ ১২:৪০

প্রয়াত প্রখ্যাত সাংবাদিক এ বি এম মুসার নামে ফেনীর ফুলগাজীতে সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের ইসলামিয়া বাজার-ঘাটঘর-বকশী বাজার সড়কে হাজির ভাগনা খালে সেতুটি উদ্বোধন করেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার।

২০১৭ সালের ১৮ মে ‘সাংবাদিক এ বি এম মুসা সেতুর’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। ৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজমীরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন মজুমদার, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদ আল ফারুক, ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমীন, ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসিম, সাংবাদিক এ বি এম মুসার কন্যা মরিয়ম মুসা ও সাংবাদিক লোটন একরাম।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা জাসদের সভাপতি নুরুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, মুন্সিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, দরবারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন মজুমদার প্রমুখ।

বিষয়:

নির্বাচিত

হাসপাতালের মমতায় বেঁচে আছেন স্বজনহীন মজিদ

# হাসপাতালই বসতবাড়ি, রোগীরাই তার পরিবার
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

হাসপাতালের বেডই যেন তার ঘরবাড়ি। স্বজন বলতে কেউ নেই, নেই স্ত্রী-সন্তান, নেই বাবা-মাও। অসুস্থ শরীর নিয়ে বছরের পর বছর নাটোরের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই পড়ে আছেন প্রায় ৭৫ বছর বয়সী আব্দুল মজিদ। কখনো রোগীদের দেওয়া খাবার, কখনো নার্সদের মমতাই হয়ে ওঠে তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। আপনজনহীন এই বৃদ্ধের জীবনের গল্প যেন হাসপাতালের দেয়ালে আটকে থাকা এক দীর্ঘশ্বাস।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের একটি বেড। সেখানেই শুয়ে আছেন বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ। বয়সে ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। ঠিকমতো দাঁড়াতে কিংবা হাঁটতেও পারেন না। তবে হাসপাতালের এই বেডটি তার কাছে শুধু চিকিৎসার জায়গা নয় এটাই এখন তার ঘরবাড়ি।

জানা যায়, নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের হাসপুকুরিয়া গ্রামের মৃত মেসের আলী সরদারের ছেলে আব্দুল মজিদ। জীবনের শুরুটাই ছিল স্বজন হারানোর বেদনায়। মাত্র তিন বছর বয়সে হারান বাবাকে। তার কয়েক বছর পরে হারিয়েছেন মাকেও। বয়স যখন প্রায় ২৫, তখন বিয়ে করেন নুরজাহান বেগমকে। কিন্তু অভাব-অনটনের সংসারে মাত্র দেড় বছর পরই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর আর সংসার করা হয়নি। সন্তানও নেই তার। জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন মজিদ।

সিংড়া দমদমা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এসএসসি এবং ১৯৭৭ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ অফিসে চুক্তিভিত্তিক চাকরিও করেন। কিন্তু তিন বছর মেয়াদ শেষে সেই চাকরিও আর থাকেনি। এরপর জীবনের সঙ্গে শুরু হয় তার এক দীর্ঘ লড়াই। স্বজন হারিয়েছেন, হারিয়েছেন সংসার। এমনকি নিজের বসতভিটাটুকুও আর নেই তার।

আব্দুল মজিদ জানান, আমার যতটুকু বসতভিটা ছিল, মামারা সেটাও লিখে নিয়েছে। এখন আর কেউ আমার খোঁজ নেয় না। হাসপাতালই এখন আমার ঠিকানা। হাসপাতালের নার্স, ডাক্তারের সেবায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন তারা আমাকে যথেষ্ট সেবা প্রদান করে।

নিজের বলতে কেউ না থাকায় অসুস্থ হলেই ছুটে আসেন সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। একবার, দু’বার নয় বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালেই কাটছে তার দিন-রাত। এখানেই বেঁধেছে তার নিজের ছোট্ট সংসার, রয়েছে তার ব্যাক্তিগত ফ্যান, কাথা,কম্বল, বালিশ গ্যাস দেওয়ার জন্য রয়েছে নেবুলাইজার মেশিন।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরাই এখন তার পরিচিত মানুষ। কেউ কথা বলেন, কেউ খোঁজ নেন, আবার কেউ নিজের খাবার থেকেও ভাগ দেন এই নিঃস্ব বৃদ্ধকে। রোগীরাই নন হাসপাতালের নার্সদের কাছেও মজিদ যেন পরিবারের একজন।

বছরের পর বছর একই হাসপাতালে থাকায় নার্স ও ডাক্তারদের সঙ্গে তৈরি হয়েছে তার এক অন্যরকম সম্পর্ক। চিকিৎসার পাশাপাশি খাবার কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিসেরও খোঁজ রাখেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সুপারভাইজার সখিনা খাতুন ও নার্স শরফুন্নেসা জানান, উনি অনেকদিন থেকে হাসপাতালে থাকেন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে উনার খোঁজখবর ও চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি। উনি অনেক বৃদ্ধ মানুষ, হাঁটতেও পারেন না। রাউন্ডে গেলে বলেন ছোট মাছ বা অন্য কোনো তরকারি হলে তৃপ্তি করে ভাত খেতে পারতেন। তাই মাঝে মাঝে আমরা বাড়ি থেকে উনার জন্য খাবার নিয়ে আসি। এতে আমাদেরও তৃপ্তি হয়। এভাবেই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স আর ভর্তি রোগীদের মমতায় কোনোরকমে কেটে যাচ্ছে মজিদের জীবন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মুজাহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, তিনি বছরের প্রায় ১১ মাস অসুস্থ থাকেন। উনাকে দেখার মতো কেউ নেই। ফলে উনি সারাবছরই হাসপাতালে থাকেন। আমরা বিষয়টি মানবিকভাবে দেখি। এ বিষয়ে আমাদের কর্তৃপক্ষও অবগত রয়েছে। সার্বক্ষণিক আমরা তার খোঁজ খবর রাখি।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক কর্মকর্তা ডা: জহুরুল ইসলাম বলেন, আমরা তার সার্বক্ষনিক খবর রাখি। তার পরীক্ষা নিরীক্ষার সকল টেষ্ট আমরা বিনামূল্যে করে দেই। তার বয়স হয়েছে, সুস্থ হওয়ার আশা নেই। আগে প্রতি মাসে ভর্তি হতো। গত দেড় বছর যাবত সে স্থায়ী ভাবে হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার তো থাকার মত অন্য কোনো জায়গা নাই। তাই আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, আব্দুল মজিদ চাইলে সরকারি সহায়তায় তার জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তার বিষয়টি আমরা মানবিকভাবে দেখছি। তিনি যদি সরকারি সহায়তা নিতে চান, তাহলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে তার জন্য সরকারি ব্যবস্থায় বসবাসের সুযোগ বা উপযুক্ত সহায়তার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আব্দুল মজিদের চাওয়া খুব বেশি নয় একটু আশ্রয়, দু’বেলা খাবার আর আপনজনের মতো একটু মমতা। যে মানুষটি একসময় পড়াশোনা করেছেন, চাকরি করেছেন, সংসার করার স্বপ্ন দেখেছেন আজ সেই মানুষটির জীবনে নেই নিজের বলতে একটি ঘরও। জীবনের শেষ দিনগুলো এভাবেই কেটে দিচ্ছেন তিনি। এজন্য অকপটে স্বীকার করলেন বৃদ্ধাশ্রমে যাবার কোনো ইচ্ছে তার নাই। জীবনের শেষ নি: শ্বাস এখানেই যেনো তার হয়।


নির্বাচিত

রাউজানে বন্যায় কৃষিখাতে ক্ষতি ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা

# নষ্ট হয়েছে ৯৩ হেক্টর আউশ, ক্ষতিগ্রস্ত ১১৫০ কৃষক
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:০১
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

এ বছরের বর্ষায় টানা ভারী বর্ষণ ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় রাউজান উপজেলার কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির আবাদ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় উপজেলার ১ হাজার ১৫০ জন কৃষক সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে কৃষি খাতে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়। এতে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। টানা জলাবদ্ধতায় মাঠেই পচে নষ্ট হয়ে যায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বড় অংশ। ফসল হারিয়ে এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বহু কৃষক।

বন্যা-পরবর্তী সময়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উপজেলায় ২৮০ হেক্টর আউশ ধানের মধ্যে ১৪৩ হেক্টর জমি বন্যাকবলিত হয়। এর মধ্যে ৯৩ হেক্টর জমির আউশ ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে ১৮০ জন কৃষকের ৩০৮ মেট্রিক টন ধান বিনষ্ট হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া উপজেলার ২২৩ হেক্টর আমনের বীজতলার মধ্যে ১১২ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এর মধ্যে ৯৪ হেক্টর বীজতলা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হওয়ায় ৪৬০টি কৃষক পরিবার মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ খাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০ লাখ ৪ হাজার টাকা। গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির আবাদেও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। উপজেলার ৪৩৫ হেক্টর জমির মধ্যে ১৭৩ হেক্টর দুর্যোগের কবলে পড়ে এবং ১২৭ হেক্টর জমির সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এতে ৫১০ জন কৃষকের ২ কোটি ১৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তা ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পেঁপে, আদা, হলুদ, মরিচ, বেগুন, বরবটি ও কলাসহ নানা জাতের মৌসুমি ফসলও বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে। উপজেলার ছিটিয়াপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. শুক্কুর বলেন, "কৃষিজমির ফসলের ওপরই আমাদের পুরো সংসার চলত। বানের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। সরকার সাহায্য না করলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।” ডাবুয়া এলাকার কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে জানান, মাঠের ফসল মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে। একদিকে ঋণের চাপ, অন্যদিকে আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ।

দ্রুত সরকারি প্রণোদনা না পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। রাউজান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুম কবির জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যেই প্রণোদনার লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে একদিনে ৮ মৃত্যু

ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ২০৯ জনে দাঁড়াল।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ছাড়া গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে ৩ জন করে মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ডেঙ্গুতে একজন করে আরও ২ জন মারা গেছেন।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি (৩৭১ জন) ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন ছাড়াও খুলনা বিভাগে ২৮৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯৪, বরিশাল বিভাগে ১৬৪, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫১, রাজশাহী বিভাগে ১৩০, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০৮, রংপুর বিভাগে ৭৩ এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সবমিলিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১০০ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে ৪ জন ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।


নির্বাচিত

খুলনায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু ২৪ ঘন্টায় নতুন আক্রান্ত ২৮৬

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা বিভাগে ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চলতি বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। এ অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৪৩ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪৩ জন চিকিৎসা নিতে ভর্তি হন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে এবং এর ফলে চলতি বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৯১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০ হাজার ৪৮৩ জন এবং বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ৯৯ জন রোগী।

এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ২৯৪ জনকে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, খুলনা জেলায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি রয়েছে। এই জেলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫৩ জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ হাজার ৪৮৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।


নির্বাচিত

মাদকের টাকার জন্য মা-বোনকে পিটিয়ে ঘরে অগ্নিসংযোগ

# ছেলের ফাঁসি চান মা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকের টাকার জন্য মা ও বোনকে মারধরের পর নিজের ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফুল মিয়া (৩২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।


গত বুধবার রাতে কুলিয়ারচর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়খারচর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।
আগুনে ঘরের সব আসবাব, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ১৫টি হাঁস ও প্রায় ৪০টি দেশি মুরগি পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছে পরিবার।


নির্যাতনের শিকার রুবিনা বেগম বলেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন। কখনো দা নিয়ে কোপাতে আসতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুবিনা বলেন, আমি আমার ছেলের ফাঁসি চাই। যদি ফাঁসি না হয়, অন্তত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। নয়তো সে আমাদের মেরে ফেলবে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার আগে স্থানীয় এক দোকানে বাকি টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফুল মিয়ার সঙ্গে দোকানদারের সংঘর্ষ হয়। পরে বাড়িতে ফিরে বাবা, মা ও বোনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি বোনকে মারধর করেন এবং ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন।


আগুন নেভাতে স্থানীয়দের পাশাপাশি কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিস প্রায় এক ঘণ্টা কাজ করে। তবে ততক্ষণে ঘরের প্রায় সবকিছু পুড়ে যায়।


অভিযুক্ত ফুল মিয়া পুলিশের হেফাজতে পরিবারের বিরুদ্ধে তাকে বকাঝকা ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ঘরে তারও অংশ রয়েছে এবং রাগের মাথায় আগুন দিয়েছেন।


কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ফুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


নির্বাচিত

জয়পুরহাটে কৃষকের ৭০০ কলাগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাট সদর উপজেলায় এক রাতেই নূর মোহাম্মদ নামের এক কৃষকের প্রায় ৭০০টি কলাগাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার পুরানাপৈল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাশের গতনশহর গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে তার প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এঘটনায় তিনি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জয়পুরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

নূর মোহাম্মদ পুরানাপৈল ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লুৎফর রহমানের ছেলে। তিনি জানান, বিভিন্ন এনজিও ও অন্য উৎস থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দেড় বিঘা জমিতে কলাবাগান করেছিলেন। বাগানের অধিকাংশ গাছে থোড় আসার পাশাপাশি কাঁচা কলাও ধরেছিল।

কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, অনেক কষ্ট করে বাগানটি করেছিলাম। অধিকাংশ গাছেই থোড় এসেছিল, কাঁচা কলা ঝুলছিল। গত বছর কলা বিক্রি করে ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এবার বাজার ভালো থাকায় আরও বেশি লাভের আশা করেছিলাম। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা তার বাগানের সব কলাগাছ কেটে ফেলে দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

ফরিদপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সিরাজুল ইসলামের দাফন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর সদর উপজেলার ২নং চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ মেম্বার) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।বৃহস্পতিবার সকাল৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


মরহুমের প্রথম জানাজা গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ জোহর তাঁর নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে ফরিদপুর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শামসুল হক গোলাম মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বেপারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমেদ ইলাজ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী শেখ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম মোল্লা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার শিকদার, চর মাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুহিনুর রহমান খোকন মন্ডল, গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী ও মরহুমের বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম।


এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধারা মরহুম সিরাজুল ইসলামের কর্মময় জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে আলোচনা করেন। পরে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। প্রথম জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা মো. রইস উদ্দিন।
পরে বাদ আছর বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন রাত ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হয়।


বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন দৈনিক ফতেহাবাদের নির্বাহী সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল সহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।


নির্বাচিত

জনবল সংকটে অষ্টগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বাড়ছে রোগীর চাপ

* ৫০ শয্যায় উন্নিত হলেও চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:০৪
​মো. নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের আড়াই লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল ‘অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’। হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনও চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই। তবে হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী বাড়লেও সরকারি বরাদ্দ বাড়ছে না। বর্তমানে রোগীর চাপ বাড়ায় বরাদ্দ অপ্রতুল বলে মনে করছেন স্থানীয় সেবা প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।

​হাসপাতালের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমানে চিকিৎসকের মোট পদের ৬৬ শতাংশই শূন্য। অনুমোদিত ৩৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন চিকিৎসক। চিকিৎসকদের ১১টি কনসালটেন্ট পদের সবকটি এবং ১টি আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদ শতভাগ শূন্য অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ১৯টি মেডিকেল অফিসার বা সহকারী সার্জন পদের মধ্যে ৭টি শূন্য এবং ১ জন অননুমোদিত অনুপস্থিত রয়েছেন। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও পদায়নের পর না থাকার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তীব্র আবাসন সংকটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবাসন সুবিধার অভাব এবং দুর্গম হাওর এলাকার চ্যালেঞ্জিং পরিবেশের কারণে পদায়ন পেলেও চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন এখানে অবস্থান করতে চান না।

​এর ফলে হাসপাতালটিতে পূর্বে সিজারিয়ান ব্যবস্থা চালু করা হলেও দক্ষ সার্জনের অভাবে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। অথচ এখানে একটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থাকা সত্ত্বেও সার্জনের অনুপস্থিতিতে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থেকে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো নষ্ট হচ্ছে।

​নার্সিং ও সেবিকা ক্ষেত্রেও রয়েছে তীব্র ঘাটতি। ৩০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২১ জন (শূন্য ৩০%)। মিডওয়েফ বা ধাত্রীর ৪টি পদের ৩টিই (৭৫%) ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক ও মাত্র ১ জন ধাত্রীর অদম্য সাহসী প্রচেষ্টায় মাতৃস্বাস্থ্য সেবায় আশাব্যঞ্জক সাফল্য এসেছে। ২০২৪ সালে হাসপাতালে ৯৩৫টি এবং ২০২৫ সালে ৮০৫টি সফল নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে, যা ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দাঁড়ায় ৫৪৮টিতে। তবে মধ্যরাতে কোনো জটিলতা দেখা দিলে বা সিজারিয়ান সেবার প্রয়োজন হলে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে রোগীকে টারশিয়ারি হাসপাতালে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ ও আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। অন্তর্বিভাগে মাত্র ১৩ জন নার্স দিয়ে তিন শিফটে সেবা চালু রাখায় নার্সদের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং জরুরি বিভাগে ৬ জন পুরুষ নার্সকে টানা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

​অন্যান্য জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে ৯১ শতাংশ পদই ফাঁকা। কার্ডিওগ্রাফার (ইসিজি), অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার, জুনিয়র মেকানিক, আয়া, বাবুর্চি, মালি, ওয়ার্ড বয়, ফার্মাসিস্ট এবং এক্স-রে টেকনিশিয়ান—এসব পদের কোনোটিতেই কোনো স্থায়ী কর্মী নেই (১০০% শূন্য)। বর্তমানে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও অফিস সহায়কের ঘাটতি মেটাতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাত্র ৭ জন আউটসোর্সিং কর্মী এবং ডাক্তার-নার্সদের সমন্বয়ে জরুরি বিভাগ, ইসিজি, প্যাথলজি ও বহির্বিভাগের সেবা চালু রাখা হয়েছে।

​এত সীমাবদ্ধতার পরও হাসপাতালে রোগীদের ভিড় আশানুরূপভাবে বেড়েছে। বহির্বিভাগে ২০১৭ সালে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা ছিল ৪৮,৫৩৪ জন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১,২৪,০৩৭ জনে এবং ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত তা ১,০৪, ৪০৬ জন অতিক্রম করেছে। জরুরি বিভাগেও ২০১৭ সালের ৫,৮৩০ জন রোগীর তুলনায় ২০২৫ সালে সেবা নিয়েছেন ১৩,২২৬ জন (২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১২,৪৭৩ জন)। ৫ জন পুরুষ, মহিলা, লেবার, শিশু ও কেবিন সহ প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের অধিক রোগী ভর্তি থাকায় ২০২৩ সাল থেকে শয্যা পূর্ণতার হার (বেড অকুপেন্সি রেট) ১০০% এর উপরে অবস্থান করছে, যা ২০২৫ সালেও ছিল ১০৪.৪২%।

​প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক স্বচ্ছতা ও সেবার মান বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয় ও বাজেট বরাদ্দেও। ২০২২ সালে স্বাস্থ্যসেবা খাত থেকে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া ইউজার ফি-র পরিমাণ ছিল ২,২৫,৩৯৪ টাকা, যা ২০২৫ সালে ৫ গুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ১২,৭০,৮৮৯ টাকায় (মাসিক গড়ে প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা) এবং ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত জমা হয়েছে ১০,৮৫,৫৬৫ টাকা। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ওষুধ বাজেট ছিল ৭৮,০৩,৫৩০ টাকা, যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১,০৭,৪৪,২৩০ টাকা এবং চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১,১৯,৩৭,৯৪০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। তবে বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়া রোগীদের চাহিদার তুলনায় এ বাজেট বরাদ্দ এখনও বেশ সীমিত।

অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহ মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ বলেন, "রোগীর চাপ অনুযায়ী বাজেটের স্বল্পতা, চিকিৎসকদের আবাসন সমস্যা ও জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছে।

​কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, "মূলত চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য খাতের জনবল নিয়োগের বিষয়টি সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করে আসছি। তাছাড়া হাওরাঞ্চলে আবাসন সংকটসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে চিকিৎসকরা পদায়ন পেলেও দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান করতে চান না, যা একটি বড় সমস্যা।"

তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদগুলো এখন মূলত আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। সেখানে বর্তমানে কতজন আউটসোর্সিং কর্মী কর্মরত আছেন তা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হবে।


নির্বাচিত

ঘরে বসেই মিলবে গাজীপুর সিটির হোল্ডিং ট্যাক্স-ট্রেড লাইসেন্স সেবা

# আধুনিক অটোমেশন সফটওয়্যারের উদ্ধোধন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবিদ হোসেন বুলবুল, গাজীপুর

হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ, আধুনিক এবং সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে একটি নতুন অটোমেশন সফটওয়্যার চালু করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। এর ফলে এখন থেকে নগরবাসীকে আর কষ্ট করে সরাসরি অফিসে আসতে হবে না, বরং ঘরে বসেই অনলাইনে ফি পরিশোধ করে সহজেই এসব সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই আধুনিক অটোমেশন সফটওয়্যারটির আনুষ্ঠানিক ‘সফট লঞ্চ’ করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ তানজিলা খানমের সভাপতিত্বে প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল বারেক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ সানিউল কাদের, প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী লেহাজ উদ্দিনসহ অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগ, এটুআই এবং সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, নাগরিকরা যাতে ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের সেবা ঘরে বসেই খুব সহজে পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু রাজস্ব সেবা নয়, পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য নাগরিক সেবাকেও অনলাইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে নাগরিকদের মূল্যবান সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে। ডিজিটাল এই সেবার বিষয়ে নগরবাসীকে ব্যাপকভাবে অবহিত করতে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন।


প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ তানজিলা খানম বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে সঠিক হোল্ডিং ম্যাপিং, তথ্যভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন নাগরিক সনদ, পানির বিল, ইজারার অর্থ এবং মার্কেট ভাড়াসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবার ফি ও বিল অনলাইনে প্রদানের জন্য তিনটি অটোমেশন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর ফলে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।


এর ফলে নগরবাসী মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড কিংবা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে খুব নিরাপদে তাদের প্রদেয় ফি বা বিল পরিশোধ করতে পারবেন। ইতোমধ্যে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পানির বিল ‘একপে’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে সংগ্রহের কার্যক্রম পাইলটিং আকারে সফলভাবে চালু রয়েছে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই অটোমেশন ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ, অনলাইন পেমেন্ট, ডিজিটাল রসিদ, অনলাইন নোটিশ এবং ডাটা বিশ্লেষণের সুযোগ থাকায় রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আসার পাশাপাশি নাগরিকদের সরাসরি অফিসে এসে সেবা নেওয়ার দীর্ঘসূত্রিতাও বহুলাংশে হ্রাস পাবে।


নির্বাচিত

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ছবি: সংগৃহীত

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম উপসর্গে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ২৮৩ জন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৮৩ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হামরোগীর সংখ্যা এক লক্ষ ৮৪ হাজার ৬৩২ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৯৫১ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৬৩ হাজার ১৫৩ জন।

একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৯৮০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।


নির্বাচিত

অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরির দায়ে এনসিপি নেতা কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

কারখানায় অনুমোদনহীন যৌন উত্তেজক ওষুধ, বেবি জেলসহ বিভিন্ন অননুমোদিত সামগ্রী তৈরির দায়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। দণ্ডাদেশ দেওয়ার পর রাতেই তাঁকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় শাহেদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকোর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। তিনি জানান, কারখানাটিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ওষুধ উৎপাদন করায় ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/১ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে এই কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত এনসিপি নেতা শাহেদ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই কারখানাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। সেখানে কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক মান নিয়ন্ত্রণ ও বৈধতা ছাড়াই শিশুদের জন্য বেবি জেল, প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন যৌন উত্তেজক বড়ি ও সিরাপ এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযান চলাকালে কারখানাটি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও মানহীন ওষুধ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া কারখানাটিতে ওষুধ তৈরির জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ কাঁচামাল মজুত রাখার প্রমাণও পান ভ্রাম্যমাণ আদালত।

দলীয় নেতার কারাদণ্ডের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খান জানিয়েছেন, কোনো ধরনের অনৈতিক বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দলের আপস করার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, দলীয় পদের কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জানানো হবে বলেও জানান তিনি।


নির্বাচিত

হাম উপসর্গে  একদিনে সর্বোাচ্চ ১১ শিশুর মৃত্যুহাম উপসর্গে  একদিনে সর্বোাচ্চ ১১ শিশুর মৃত্যু

* ৬ মাসে মোট প্রাণহানি ১,০৭৬ * আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখের পথে * হাসপাতালে ভর্তি ১ লাখ ৬২ হাজার * টিকাদানে ঘাটতি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ফাঁককে বড় কারণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত একদিনে সর্বোচ্চ ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৫৭ জনের শরীরে এবং নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ১১৩ জনের। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৬ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৭৫ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৮৫১ জন। হাম সন্দেহে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন; সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।

প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, মার্চের মাঝামাঝি শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব ছয় মাস পেরিয়েও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং সেপ্টেম্বরেও প্রতিদিন শত শত নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।

৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৯-এ পৌঁছেছিল। তখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি এবং নিশ্চিত রোগী ছিল প্রায় ২০ হাজার। এরপর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্মিলিত মৃত্যুর সংখ্যা আরও ৭৭ জন বেড়েছে।

মৃতদের বড় একটি অংশ শিশু। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম সব বয়সি মানুষকে আক্রান্ত করলেও ছোট শিশুরা গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং ভিটামিন-এ ঘাটতিতে থাকা শিশুদের ঝুঁকি বেশি।

হামের সঙ্গে বাড়ছে জটিলতা: হামের সংক্রমণের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, চোখের জটিলতা এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতা অনেক ক্ষেত্রে শিশুর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের চলতি বছরের রোগীর তথ্যেও শিশুদের ঝুঁকির চিত্র উঠে এসেছে। ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ওই হাসপাতালে নথিভুক্ত ৫৭টি নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন হাম-সংক্রান্ত মৃত্যুর মধ্যে ৪৯ জনের বয়স ছিল ১৫ মাসের নিচে। তাদের ৩১ জনের বয়স ছিল নয় মাসেরও কম। অর্থাৎ যে বয়সে বাংলাদেশে নিয়মিত হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার কথা, তার আগেই অনেক শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

ওই ৫৭ মৃত্যুর মধ্যে ৪৭ জন কোনো হাম টিকা পায়নি এবং ৫০ জনের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ছিল। তবে হাসপাতালটির তথ্য দিয়ে পুরো দেশের মৃত্যুর চিত্র নির্ধারণ করা যায় না বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন।

টিকাদানে ঘাটতিই বড় উদ্বেগ: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে কয়েক বছর ধরে টিকাদানে তৈরি হওয়া ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার হার ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৮৬ শতাংশে এবং দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার হার ৮৯ শতাংশ থেকে ৮০ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিশুদের অন্তত ৯৫ শতাংশকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। টিকাদানের সামান্য ঘাটতিও কয়েক বছর পর বড় আকারের সংক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের বড় অংশ টিকা না পাওয়া অথবা মাত্র এক ডোজ টিকা পাওয়া শিশু। এক থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুরাই মোট আক্রান্তের প্রায় ৯১ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকার সরবরাহে ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানে বিঘ্ন এবং ২০২০ সালের পর নিয়মিত দেশব্যাপী সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি না হওয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে।

জরুরি টিকা কর্মসূচি, তবু বাদ পড়ছে শিশু: প্রাদুর্ভাবের পর সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৫ এপ্রিল থেকে এবং পরে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি চালু করা হয়। এর আওতায় প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের সংখ্যা দিয়ে পরিস্থিতি বোঝা যাবে না। কোন এলাকায় কত শিশু টিকা পায়নি, কোন বয়সি শিশুরা ঝুঁকিতে রয়েছে এবং কারা এক ডোজ পেয়েছে কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ পায়নি—এসব তথ্য আলাদাভাবে চিহ্নিত করা জরুরি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুস্তাক হোসেন বলেন, জাতীয় গড় টিকাদানের হার দিয়ে সব এলাকার বাস্তব চিত্র বোঝা যায় না। কোনো কোনো এলাকায় টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের বেশি হলেও অন্য এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থাকতে পারে। তাই বয়স, টিকাদানের ইতিহাস ও অবস্থানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব শিশুকে শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মহামারিবিদ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, এত বেশি শিশু হাম আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশে আগে দেখা যায়নি। তার মতে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি পূরণ, টিকাদানের আওতা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদার করা এখন জরুরি।

হাসপাতালেও বাড়ছে চাপ: হামের সঙ্গে একই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীর অতিরিক্ত চাপ, শয্যা সংকট এবং শিশুদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রীর ঘাটতির কথাও উঠে এসেছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম আক্রান্ত শিশুদের শুধু হাম নিয়েই চিকিৎসা করতে হয় না। নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা, অপুষ্টি ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিলে নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। ফলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়ে যায়।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ: বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে একটি বিষয়ে মিল রয়েছে—শুধু একটি বড় টিকাদান কর্মসূচি দিয়ে পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম শক্তিশালী করা, বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করা, প্রত্যন্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং হাসপাতালের চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ ঝুঁকির। বিভিন্ন এলাকায় সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে, বিপুলসংখ্যক শিশু এখনও সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুও ঘটছে। দ্রুত নজরদারি জোরদার এবং টিকাদানের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ঘাটতি পূরণ না করলে সংক্রমণ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।


নির্বাচিত

হাম-ডেঙ্গুর ঝুঁকির মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে অ্যানথ্রাক্স

* পাঁচ জেলায় শতাধিক আক্রান্ত * বাড়ছে প্রাণীবাহিত রোগের শঙ্কাও * রুগ্‌ণ পশুর মাংস ভাগ করে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ
ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণের চাপ সামলাতে যখন ব্যস্ত জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা, তখন নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে অ্যানথ্রাক্স। গত দুই মাসে দেশের পাঁচ জেলায় শতাধিক মানুষ এ প্রাণীবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের অনেকেরই রুগ্‌ণ গরু-ছাগলের মাংস কাটাকাটি, ভাগাভাগি কিংবা নাড়াচাড়ার ইতিহাস রয়েছে। কোথাও একটি অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস ভাগ করে দেওয়ার পর একই এলাকার একাধিক পরিবারের মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাবের তথ্য পাওয়া গেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে। ৯ সেপ্টেম্বর একটি রুগ্ন গরু জবাই করে তার মাংস প্রায় ১০০ ভাগ করে বিভিন্ন বাড়িতে দেওয়া হয়। এরপর ওই মাংস যেসব বাড়িতে যায়, সেসব পরিবারের সদস্যদের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ৩১ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আশঙ্কা করছে, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

মেহেরপুরের গাংনীতে আগস্টে ৩৮ এবং সেপ্টেম্বরে ১৮ জনসহ ৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অন্তত ১৫ জন এবং রংপুরের পীরগাছায় অন্তত ৫০ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুরেও অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এসব সংক্রমণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সুন্দরগঞ্জের ঘটনাকে বড় প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখছে আইইডিসিআর। সংক্রমণের উৎস ও বিস্তার অনুসন্ধানে সেখানে দল পাঠানো হয়েছে।

মাংস ভাগ করেই ছড়াচ্ছে সংক্রমণ: সুন্দরগঞ্জের ঘটনা অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকির একটি স্পষ্ট চিত্র সামনে এনেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, ৯ সেপ্টেম্বর একটি বড় আকারের রুগ্ন গরু জবাই করা হয়। পরে গরুটির মাংস প্রায় ১০০ ভাগ করে বিভিন্ন বাড়িতে দেওয়া হয়। এরপর এসব বাড়ির মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হন।

প্রথমে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে আরও ১৪ জন ভর্তি হন। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়ায়। এর আগে আগস্টেও একই ধরনের ঘটনায় ছয়জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

মেহেরপুরের গাংনীতেও আক্রান্তদের সঙ্গে রুগ্‌ণ ছাগলের মাংস কাটাকাটি ও নাড়াচাড়ার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আক্রান্তদের প্রত্যেকেরই রুগ্ন গরুর মাংসের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস রয়েছে।

অর্থাৎ, রোগটি শুধু পশুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; অসুস্থ পশু জবাই, মাংস ভাগাভাগি ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যেও দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে।

পীরগাছায় নমুনায় মিলেছে অ্যানথ্রাক্স: রংপুরের পীরগাছায় চারটি ইউনিয়নে অন্তত ৫০ জনকে অ্যানথ্রাক্সের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। জুলাই থেকে সেখানে ত্বকের সমস্যার রোগী আসতে শুরু করার পর এলাকায় গবাদিপশু মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

আইইডিসিআরের প্রতিনিধি দল ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ থাকা ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষায় আটজনের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ গরুর মাংসের নমুনা পরীক্ষাতেও অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও রংপুরের সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা জানিয়েছেন, তাদের মৃত্যুর কারণ অ্যানথ্রাক্স নয়। তাদের হৃদ্‌রোগসহ অন্যান্য জটিলতা ছিল। তার ভাষ্য, পীরগাছার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে।

অ্যানথ্রাক্স কতটা ভয়ংকর: অ্যানথ্রাক্স ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামের স্পোর গঠনকারী ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। মাটিতে এ জীবাণু দীর্ঘদিন থাকতে পারে। গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মতো তৃণভোজী প্রাণী দূষিত ঘাস বা খাবারের মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারে।

আক্রান্ত পশু জবাইয়ের সময় মাংস, রক্ত, পশম, হাড় বা অন্যান্য অংশের সংস্পর্শে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ মাংস খেলেও সংক্রমণ হতে পারে। মানুষ থেকে মানুষে সাধারণত এ রোগ ছড়ায় না।

মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স প্রধানত ত্বকজনিত, পাকস্থলী ও অন্ত্রজনিত এবং শ্বাসজনিত—এই তিন ধরনের হয়ে থাকে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ত্বকজনিত অ্যানথ্রাক্স। আক্রান্ত স্থানে প্রথমে ফোলা বা চুলকানি হয়, পরে ক্ষতটি কালো হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে আক্রান্ত পশুর মাংস খেলে পাকস্থলী ও অন্ত্রজনিত অ্যানথ্রাক্স হতে পারে। এতে বমি, পেটব্যথা, জ্বর, রক্তমিশ্রিত পায়খানা ও রক্তবমির মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শ্বাসজনিত অ্যানথ্রাক্স বিরল হলেও অত্যন্ত গুরুতর এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে প্রাণঘাতী হতে পারে।

বাংলাদেশে বারবার ফিরছে রোগটি: বাংলাদেশে অ্যানথ্রাক্স নতুন কোনো রোগ নয়। ২০১০ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ১২টি জেলায় ১০৪টি গবাদিপশু ও ৬০৭ জন মানুষের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হওয়ার তথ্য গবেষণায় উঠে এসেছে। আক্রান্ত মানুষদের সবাই ত্বকজনিত অ্যানথ্রাক্সে ভুগেছিলেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে ৪৩৭টি এবং ২০০৯ সালে ৪৪৯টি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু শনাক্ত হয়েছিল। ২০১১ সালে বগুড়ার ধুনটে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়। একই গ্রামের আরও ১৬ জন আক্রান্ত হন।

২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশের সাত জেলায় অ্যানথ্রাক্সের ২৬টি প্রাদুর্ভাব নিয়ে করা গবেষণায় ১ হাজার ২১০ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে জুনোটিক রোগের ঝুঁকি: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্সের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাণীবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন উজাড়, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা এবং মানুষের সঙ্গে প্রাণীর ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির কারণে রোগজীবাণুর বিস্তারের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বন্য প্রাণী ও বাদুড় মানুষের বসতির কাছাকাছি চলে আসায় নতুন রোগজীবাণুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিও বাড়ছে। অ্যানথ্রাক্স ছাড়াও ব্রুসেলোসিস, সালমোনেলোসিস, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টেরিওসিস ও লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো প্রাণীবাহিত রোগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শুধু রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা করলেই হবে না; পশুর রোগ শনাক্তকরণ, টিকাদান, কসাইখানার স্বাস্থ্যবিধি, মাংসের বাজারে নজরদারি এবং পরিবেশগত ঝুঁকি—সবকিছুকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।

‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতিতে নজরদারি জরুরি: জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতির পরিকল্পনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর বাস্তবায়নে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে আলাদা করে দেখলে প্রাণীবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকী অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, আক্রান্ত পশু যেন কেউ জবাই বা বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের নজরদারি বাড়াতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো পশু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অস্বাভাবিকভাবে মারা গেলে তার মাংস বা চামড়া ব্যবহার করা যাবে না। আক্রান্ত পশুর মৃতদেহ নিরাপদভাবে ধ্বংস করতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত এলাকায় জীবাণুমুক্তকরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী পশুকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সতর্কতার বিকল্প নেই: রুগ্ন পশু জবাই, বিক্রি কিংবা তার মাংস কাটাকাটি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কাঁচা মাংস ধরার সময় হাতে কাটা বা ক্ষত থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রয়োজন হলে গ্লাভসসহ সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে হবে।

মাংস ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে এবং অর্ধসেদ্ধ মাংস এড়িয়ে চলতে হবে। গবাদিপশুকে নিয়মিত অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে।

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাবের উৎস ও বিস্তার অনুসন্ধানে আইইডিসিআরের দল কাজ করছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগও আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নমুনা পরীক্ষা ও টিকাদান চালাচ্ছে।

হাম ও ডেঙ্গুর মতো রোগের চাপের মধ্যেই পাঁচ জেলায় অ্যানথ্রাক্সের এই বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন সতর্কবার্তা। একটি রুগ্ন পশু জবাই থেকে যখন কয়েক ডজন মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন, তখন প্রাণীর রোগ নিয়ন্ত্রণকে আর শুধু প্রাণিসম্পদ খাতের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, পশুর শতভাগ টিকাদান, অসুস্থ পশু জবাই বন্ধ, নিরাপদ মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা এবং মাংসের বাজারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষ-প্রাণী-পরিবেশকে একই কাঠামোয় এনে সমন্বিত নজরদারিই হতে পারে এই ঝুঁকি মোকাবিলার প্রধান পথ।


নির্বাচিত

banner close