শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভ্যানচালক হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের কারাদণ্ড

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইউনুস আলী মোল্লা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৫ মার্চ, ২০২৩ ১৮:১৮
প্রতিনিধি, বগুড়া
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, বগুড়া
প্রকাশিত : ১৫ মার্চ, ২০২৩ ১৭:৩০

বগুড়ার কাহালুতে ভ্যানচালক জুরান আলী সরকার হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় যুগ পর এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি আরও সাত আসামিকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন দুজন।

বুধবার দুপুরে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম রুবাইয়া ইয়াছমিনের আদালত এই আদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন কাহালুর অঘোর ধোয়া পাড়ার মো. ইউনুস আলী মোল্লা। তিনি হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন একই এলাকার মো. আফজাল হোসেন ফকির, মো. আশরাফুল সরকার, আতাউর রহমান সরকার, মো. সবুজ সরকার মো. আজিজুল হক রনি, সিরাজুল হক জনি ও সোহাগ শেখ।

ভ্যানচালক জুরান আলী সরকারও একই এলাকার বাসিন্দা এবং আসামিদের প্রতিবেশী ছিলেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহুরুল ইসলাম জানান, ভ্যানচালক জুরান আলী সরকারের সঙ্গে আসামিদের পারিবারিক শত্রুতা ছিল। এর জেরে ২০০৭ সালের ১১ নভেম্বর জুরানকে লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করেন আসামিরা। এদের মধ্যে ইউনুস আলী লাঠি দিয়ে জুরানের মাথায় আঘাত করেন। এতেই তার মৃত্যু হয়।

পরে জুরানের বাবা ছামসুল আলী সরকার বাদী হয়ে কাহালু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিচার চলাকালে সাক্ষ্য-প্রমাণে হত্যার বিষয়টি প্রমাণ হওয়ায় বিচারক ইউনুস আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আর সাতজনকে এক বছর করে সাজা দেন। এ ছাড়া মেহেরুন বেগম ও মোছা. বেলী খাতুনকে বেকসুর খালাস দেন বিচারক।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।

মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন রেজাউল করিম মন্টু।


নির্বাচিত

দুর্বল প্রতিযোগিতায় লাইন-১, প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ১৩০ শতাংশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল, বিমানবন্দরের সঙ্গে কমলাপুরকে সংযুক্ত করা এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ১২৯.৮২ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪.১৩ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে এর বাস্তবায়নকারী সংস্থা—ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি) এই আবেদন জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে এটি হবে ১ লাখ ৩৮.৬৮৫.৭৬ কোটি টাকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের পর ব্যয়ের দিক থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প। সংশোধিত এই ব্যয়, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বর্তমানে একমাত্র চালু মেট্রোরেলের মোট ব্যয়ের প্রায় চারগুণ।

২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর একনেক সভায় অনুমোদিত ৩১.২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২,৫৬২ কোটি টাকা। তখন বাস্তবায়ন মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নতুন সংশোধিত প্রস্তাবে বাস্তবায়নের মেয়াদ আরও ৯ বছর বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে।

সংশোধিত প্রস্তাবে, প্রকল্পের জাপানি ঋণের পরিমাণ ১১৬.৮২ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৯,৪৫০.৩২ কোটি টাকা থেকে ৮৫,৫৩৫.৫৬ কোটি টাকা করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১৬৮.৯২ শতাংশ বাড়িয়ে ১৩,১১১.১১ কোটি টাকা থেকে ৩৫,২৫৮.৫৭ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পের এই নতুন খরচের হার ডিএমটিসিএলের আগের প্রাক্কলনের চেয়েও অনেক বেশি। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো এক চিঠিতে বাস্তবায়নকারী সংস্থাটি জানিয়েছিল, প্রকল্প ব্যয় ৮৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯৬,৫০০ কোটি টাকা হতে পারে। কিন্তু এখন তা আরও বাড়ানো হলো।

ডিএমটিসিএল এবং পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, টেন্ডার বা দরপত্র প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারদের প্রাক্কলিত খরচের চেয়ে অনেক বেশি দর হাঁকানোই মূল প্রাক্কলন বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এ ছাড়া মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক ও দেশীয় বাজারে মূল্যস্ফীতির ফলেও খরচ বেড়েছে।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল রুটের এই বিশালাকার প্রকল্পটিকে ১২টি পৃথক কন্ট্রাক্ট প্যাকেজে (সিপি-০১ থেকে সিপি-১২) ভাগ করা হয়েছে। এই ১২টি প্যাকেজের মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৭,৬৫৫.৬৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে সর্বশেষ ঠিকাদারদের দরপ্রস্তাব ও সংশোধিত প্রাক্কলনে দাঁড়িয়েছে ৮০,০৯৯.৭৯ কোটি টাকায়।

যেমন— রামপুরা স্টেশনের উত্তর পাশ থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ অংশের কাজের জন্য (প্যাকেজ সিপি-০৪) মূল প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫,৩৩০.২০ কোটি টাকা। পরে জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এর প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে ১৩,২৬৬.৪৪ কোটি টাকা। কিন্তু দরপত্র আহ্বান করা হলে জাপানের টোকিউ-এমআইএল জেভি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ১৪,৯৮৮.০৭ কোটি টাকা দরপ্রস্তাব করে।

একইভাবে নদ্দা স্টেশনের উত্তর থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত পাতাল অংশের (সিপি-০৬) মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪,৬০৪.৮০ কোটি টাকা। কিন্তু জাপানের নিশিমাতসু-টোডা জেভি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ১০,৮২১.৯১ কোটি টাকায় দরপ্রস্তাব দেয়।

সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা বলছেন, জাপানি অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোতে শর্ত থাকে যে পরামর্শক নিয়োগ দিতে হবে জাপান থেকেই। পরবর্তীতে ওই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো এমনভাবে দরপত্রের শর্ত তৈরি করে, যাতে প্রকারান্তরে কেবল জাপানি ঠিকাদাররাই অংশ নিতে পারে।

কাগজে-কলমে দরপত্র উন্মুক্ত বলা হলেও ঘুরেফিরে সেই একই দুই-তিনটি প্রতিষ্ঠানই শীর্ষ দরদাতা হিসেবে উঠে আসে। ফলে প্রক্রিয়াটি কার্যত একটি সীমিত প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, যা নতুন বা বিকল্প কোনো যোগ্য ঠিকাদারদের অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেয়।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই পরিচালনা করেছিল জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন एजेंसी (জাইকা)। সেই সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করেই মূল ডিপিপিতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জাপানি পরামর্শকরা তাদের প্রাক্কলন সংশোধন করে বিভিন্ন অংশের খরচ বাড়িয়ে দেয়, যার ধারাবাহিকতায় জাপানি ঠিকাদাররাও বেশি দর হাঁকাতে শুরু করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিস্তারিত নকশায় প্রকল্পের চাহিদা ও ব্যয় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি; আর এই ত্রুটি ও নকশাগত ঘাটতির কারণেই মূলত প্রকল্পের ব্যয় এতটা বেড়েছে।

ব্যয় বৃদ্ধির এই বিশাল প্রস্তাব ও ঠিকাদারদের চড়া দরপ্রস্তাবের বিষয়ে জানতে প্রকল্পের পরিচালক মো. সারওয়ার উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশনায় থাকায় এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারছেন না। পরবর্তীতে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, প্রস্তাবিত এই ব্যাপক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জাতীয় সংসদসহ সর্বসাধারণের প্ল্যাটফর্মে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত। মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর ব্যয় নির্ধারণ এবং ক্রমাগত বৃদ্ধি নিয়ে এখনই খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন। প্রতিযোগিতাহীনভাবে নির্ধারিত ব্যয় ভবিষ্যতে বড় প্রশ্নের জন্ম দেবে এবং তখন এর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে যে ব্যয় নির্ধারণ করা হচ্ছে, তার ভিত্তি কতটা শক্ত এবং তা আদৌ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে এসেছে কি না—এ প্রশ্ন উঠতেই পারে। কারণ এসব ব্যয় মূলত প্রাক্কলনের ওপর নির্ভর করছে, যা পরবর্তীতে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি রাখে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্কিংয়ের সঙ্গে এই ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখা উচিত।

অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ব্যয় নির্ধারণ, প্রকল্পের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক দায়—এসব বিষয় সতর্কভাবে विश्लेषण করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। যেসব পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমীক্ষা ও নকশা করেছে, তাদের মাধ্যমেই যদি পরবর্তীতে ব্যয় বাড়ে, তাহলে সেটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় সিদ্ধান্তগুলো সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠিন সমালোচনার মুখে ফেলতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২০২৪ সালে হওয়া মেট্রোরেলের দরপত্র এবং ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি করা একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন থেকে ব্যয়ের এক অস্বাভাবিক ব্যবধান উঠে এসেছে।

তাতে দেখা যায়, ভারতের পাটনায় প্রতি কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ৪০.৭৭ মিলিয়ন ডলার, যা সৌদি আরবের রিয়াদে ১৬৬ মিলিয়ন ডলার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাইয়ে ১৮৮ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু ঢাকার ক্ষেত্রে এই ব্যয় গিয়ে ঠেকেছে প্রতি কিলোমিটারে ২২৬.৭৪ মিলিয়ন থেকে ২৫৩.৬৩ মিলিয়ন ডলারে—যা ভারতের পাটনার চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি এবং রিয়াদ বা দুবাইয়ের চেয়েও অনেক চড়া।

জাপানি অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের বাজেট বাড়ার প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন অপর একটি মেট্রোরেল প্রকল্পের মূল বাজেট ৫৪,৬১৮.৯৬ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৪৫,৫০৩.৭৭ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে (ব্যয় হ্রাস পেয়েছে ২,২১৭.৬৭ কোটি টাকা)।

বাংলাদেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৩১.২৪১ কিলোমিটার এবং এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে বিমানবন্দর রুটটি (১৯.৮৭২ কিমি) সম্পূর্ণ পাতাল এবং এতে ১২টি স্টেশন থাকবে। অন্যদিকে পূর্বাচল রুটটি (১১.৩৬৯ কিমি) আংশিক উড়াল ও আংশিক পাতাল হিসেবে নির্মিত হচ্ছে, যেখানে ৭টি উড়াল ও ২টি পাতাল স্টেশন থাকবে। ১২টি প্যাকেজের মধ্যে ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন সংক্রান্ত সিপি-১ প্যাকেজের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি ১১টি প্যাকেজের ক্রয় প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

জাপানি ঠিকাদারদের চড়া দরপ্রস্তাবের বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে বর্তমান সরকারের মেয়াদে বেশ কয়েকটি প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে টেনে নামাতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), ডিএমটিসিএল এবং সড়ক পরিবহন বিভাগ জাইকা ও জাপানের সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। এমনকি বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও জাপান সফর করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।


নির্বাচিত

১৫ আগস্ট ঘিরে দেশব্যাপী র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১৫ আগস্ট ঘিরে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এর অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে ইতোমধ্যে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে র‍্যাব।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন বা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা ও গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সন্দেহভাজন ও নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আগাম তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করতে বিভিন্ন এলাকায় কন্টাক্ট বা ইনফর্মার বা সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াতের রুটগুলোতেও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন করে নজরদারি করা হচ্ছে।

যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারসহ র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মী, দুষ্কৃতকারী বা কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ যাতে না থাকে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের মাধ্যমে নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতেও সাইবার পেট্রলিং জোরদার করেছে র‍্যাব। বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোডের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

র‍্যাব আরও জানিয়েছে, কোথাও বিস্ফোরক বা বিস্ফোরক সদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে র‍্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে র‍্যাব নিজস্ব নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব বদ্ধপরিকর।


নির্বাচিত

ঢাকায় বস্তির শিশুদের ৫৮.২ শতাংশের নেই জন্মসনদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জন্ম আছে, কিন্তু জন্মসনদ নেই। আর এই একটি কাগজের অভাবই যেন দেশের বস্তি ও পথের শিশুদের জীবনে এক অলক্ষ্য দেয়াল তুলে দিয়েছে—যে দেয়ালের ওপারে একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জীবনের সব কটি চাবি। যে বয়সে ওদের হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সেই বয়সে রাষ্ট্রের খাতায় নাম না থাকায় শুরুতেই রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে স্কুলের দরজা। শুধু কি শিক্ষা? ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা কিংবা ভবিষ্যতে একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় সেবা গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই আজ প্রথম শর্ত এই জন্মনিবন্ধন।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বস্তি ও ফুটপাতে বেড়ে ওঠা এই বিপুল সংখ্যক শিশু আজ নিজ ভূমিতেই যেন ‘অদৃশ্য’। তাদের অস্তিত্ব আছে, কিন্তু আইনি স্বীকৃতি নেই। আর এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও এই মৌলিক অধিকারের অভাবই তাদের ঠেলে দিচ্ছে এক চিরস্থায়ী অন্ধকার ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। দেশের এক বিশাল অংশকে এভাবে পরিচয়ের সংকটে রেখে কতটা টেকসই হবে আমাদের উন্নয়ন, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ নিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাসের এক জরিপে দেখা গেছে, পথে বেড়ে ওঠা শিশুদের ৫৮ দশমিক ২ শতাংশের জন্মসনদ নেই। একই জরিপে আরও উঠে এসেছে, বস্তি এলাকার ৯১ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবার সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাইরে রয়েছে। ফলে এসব পরিবারের শিশুরা শিক্ষাসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী শহরের ৬৬৭ পথশিশু এবং বস্তি এলাকায় বসবাসরত ১ হাজার ২৪৬টি পরিবারের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে অংশ নেওয়া পথশিশুদের ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ বর্তমানে শিক্ষার বাইরে রয়েছে।

জন্মসনদহীন শৈশব: রাজধানীর মিরপুর মিল্কভিটাগলি, সেকশন-৭, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিলপাড় বস্তিতে বসবাস বিলকিস বানুর। বয়স মাত্র ১৮ বছর। এরই মধ্যে তিন বছরের একটি মেয়েসন্তানের মা সে।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল বিলকিসের। এত অল্প বয়সে বিয়ের কারণ জানতে চাইলে তার মুখে কোনো উত্তর নেই। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে সে। যেন নিজের জীবনের এই কঠিন বাস্তবতার কোনো ব্যাখ্যাই তার জানা নেই।

একই বস্তির ১৬ বছর বয়সি আছিয়াও জানায়, তাদের বাড়ি রংপুরে। সেখানে দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

‘জন্মসনদ না থাকায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগে না’—বলতে গিয়ে আছিয়ার কথায় ফুটে ওঠে জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে বাল্যবিবাহের একটি অদৃশ্য যোগসূত্র।

মিপুরের ৬ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এখানে প্রায় ২৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা চারটি বস্তিতে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৮ হাজারেরও বেশি। তাদের বড় একটি অংশের জন্মনিবন্ধন নেই।

জন্মনিবন্ধন করাতে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জন্ম নিবন্ধনের জন্য দালালরা তাদের কাছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করে। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করাও কঠিন।

কাগজের জটিলতায় স্কুলের বাইরে: রাজধানীর ঝিলপাড়, চলন্তিকা ও আরামবাগ বস্তি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জন্মনিবন্ধন না থাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জটিলতায় বহু শিশু স্কুলে ভর্তি হতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের অনেকেই মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রমসহ নানা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা না গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এসব মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সচিব মো. আব্দুল সামাদ বলেন, যাদের বাবা নেই, মা নেই, পথশিশু, তাদেরও জন্মনিবন্ধন আমরা করছি।

নিবন্ধনে অগ্রগতি, তবুও রয়ে গেছে বড় ঘাটতি: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি সংশোধনের আবেদনও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

তবে ভাসমান ও স্থায়ী ঠিকানাবিহীন পরিবারের শিশুদের জন্মনিবন্ধন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। নিয়ম অনুযায়ী জন্মস্থান বা বর্তমান ঠিকানা থাকলে জন্ম নিবন্ধনের সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে নানা জটিলতার কারণে অনেক শিশু এখনো এই সেবার বাইরে রয়েছে।

দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪১ শতাংশ শিশুর জন্ম নিবন্ধন নেই। এ বয়সি শিশুদের জন্মসনদ রয়েছে ৪৭ শতাংশের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনূর্ধ্ব-৫ বছর বয়সি শিশুদের জাতীয়ভাবে জন্ম নিবন্ধনের হার বর্তমানে ৫৯ শতাংশ, যা ২০১৯ সালে ছিল ৫৬ শতাংশ।

অর্থাৎ কয়েক বছরে কিছুটা অগ্রগতি হলেও সর্বজনীন জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যের তুলনায় এই হার এখনো অনেক কম। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে সরকারের।

ঠিকানা থাকলেই করা যাবে নিবন্ধন: স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) মো. যাহিদ হোসেন বলেন, ঢাকায় স্থায়ী বাসিন্দার তুলনায় অস্থায়ী ও ভাসমান মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এখানে জন্মনিবন্ধনের হার তুলনামূলক কম।

ভাসমান ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের নিবন্ধন নিয়ে তিনি বলেন, জন্মনিবন্ধনের জন্য বিধিবদ্ধ কিছু নিয়ম রয়েছে এবং সেগুলো অনুসরণ করেই নিবন্ধন করা হচ্ছে। তবে ভাসমান জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে জন্মস্থান বা বর্তমান ঠিকানা থাকলেই জন্ম নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, শহরের ভাসমান জনগোষ্ঠীর জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এ নিবন্ধনের মূল দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলে যাওয়া সব শিশুর জন্ম নিবন্ধন রয়েছে। কারণ জন্ম নিবন্ধন ছাড়া তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করা সম্ভব নয়।

জন্মসনদ না থাকা শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়: কারিতাস ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক থিওফিল নকরেক বলেন, জন্ম সনদবিহীন শিশুদের ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ তাদের বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর জানে না। ফলে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তাদের জন্মনিবন্ধন করানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, ‘জন্মসনদ না থাকা শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়; এটি একটি মানবাধিকার সংকট।’

জন্মসনদ না থাকলে শিশুরা বিদ্যালয়ে ভর্তি, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, সরকারি ভাতা পাওয়া এবং ভবিষ্যতে নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন অধিকার ও সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়ে।

বাংলাদেশ সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে থিওফিল নকরেক বলেন, পরিবারহীন কিংবা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, ফুটপাত, বাজার ও বস্তিতে বেড়ে ওঠা শিশুরা এখনো অনেকাংশে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার বাইরে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও জন্ম নিবন্ধন দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকায় জন্মের পরপরই শিশুর নিবন্ধন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে জন্ম নেওয়া শিশুদেরও খুব কম অংশের জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হয়।

বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন করতে পারে না। জন্মের পর পরিবারকে আলাদা দপ্তরে গিয়ে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক দেশে হাসপাতালে সংঘটিত জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধনের দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর দেওয়ায় তারা প্রায় শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।

বাড়ি বাড়ি ক্যাম্পেইনের সুপারিশ: পরিস্থিতি উত্তরণে কারিতাস বাংলাদেশের পক্ষে সংস্থার পরিচালক (কর্মসূচি) দাউদ জীবন দাশ সরকার ও বেসরকারি সংস্থার প্রতি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে—পিতামাতাহীন শিশুদের জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শতভাগ জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করা; শিশুর জন্মের পরপরই হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু করা; পথশিশুদের রাস্তা থেকে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ এবং পরিবারকে শিশুর জীবনমান উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে শর্তযুক্ত ভাতা চালু করা।

এ ছাড়া শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, শিশুশ্রম বা অন্য কোনো কারণে ঝরে পড়া শিশুদের শনাক্ত করে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা এবং পথশিশুদের জন্য শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার সুপারিশ করা হয়েছে।

দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার পরিমাণ বাস্তবসম্মতভাবে বাড়ানো এবং আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

দাউদ জীবন দাশ বলেন, সরকারের নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় থাকা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অনেকে যে ভাতা পাচ্ছেন, তা অত্যন্ত নগণ্য। মাসিক ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা কখনোই বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী সহায়তা হতে পারে না।

তিনি বলেন, পথ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিও হাতেগোনা। দেশে থাকা পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব পরিবার ও রাষ্ট্র উভয়ের।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এসব শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হই, তাহলে রাষ্ট্র হিসেবে আমরা অনেকাংশেই পিছিয়ে যাব। তাই তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সরকারসহ আমাদের সবার নজর দিতে হবে ।’

ঢাকায় কেন কম জন্ম নিবন্ধন: ঢাকা বিভাগে জন্ম নিবন্ধনের হার সর্বনিম্ন হওয়ার কারণ সম্পর্কে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১০-এর নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উন্নেছা শিউলী বলেন, ঢাকায় বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষই অস্থায়ী এবং ভাড়াটিয়া। তাদের বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে বসবাস করছে।

তিনি বলেন, জন্ম নিবন্ধনের একটি নিয়ম হলো স্থায়ী ঠিকানায় নিবন্ধন করা। গ্রামের বা জেলা-থানা পর্যায়ের মানুষের অধিকাংশই স্থানীয় হওয়ায় সেখানে জন্মনিবন্ধনের হার তুলনামূলক বেশি।

তিনি আরও বলেন, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে অফিসে আসা মানুষের মধ্যে নারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে সেবা নিতে অফিসে স্বাগত জানানো হয়।

একটি জন্মসনদ, একটি ভবিষ্যৎ: বস্তির সরু গলি কিংবা ফুটপাতের পাশে বেড়ে ওঠা শিশুটির কাছে জন্মসনদ হয়তো একটি ছোট কাগজের টুকরো। কিন্তু সেই কাগজটিই তার জন্য খুলে দিতে পারে স্কুলের দরজা, স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার এবং ভবিষ্যতে একজন পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পথ।

কারিতাসের জরিপের তথ্য বলছে, হাজার হাজার শিশুর হাতে এখনো সেই কাগজ নেই। তাদের অনেকের বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, কারও স্থায়ী ঠিকানা নেই, কারও পরিবারই নেই। কেউ আবার দারিদ্র্য ও কাগজপত্রের জটিলতায় জন্মের পর থেকেই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রান্তে পড়ে আছে।

জন্ম নিবন্ধনের হার বাড়ানোর অর্থ তাই শুধু একটি পরিসংখ্যান বাড়ানো নয়। এর অর্থ হলো—রাষ্ট্রের হিসাবের খাতায় প্রতিটি শিশুর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা, তার অধিকার স্বীকার করা এবং ভবিষ্যতের জন্য তাকে একটি পরিচয় দেওয়া।


নির্বাচিত

লোডশেডিংয়ে আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতিতে আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার কারণেই চলমান সংকট শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা এবং অপেক্ষা করা ছাড়া এখন আর কোনো উপায় নেই।

তিনি বলেন, এইটুকুই বলতে চাই, আমরা কাজ করছি। এই ক্রাইসিসের সময় আসলে এখন আমার কিছু করার নাই। কারণ, এখন আমি গ্যাসও উত্তোলন করতে পারবো না বা এফএসআরইউ ছাড়া আমার যে গ্যাস আছে, সেটাও নামাতে পারবো না।

বর্তমান ব্যবস্থাপনার কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে সরাসরি কিছু করার সুযোগ সীমাবদ্ধ। কারণ, নতুন করে হঠাৎ গ্যাস উত্তোলন করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনই এফএসআরইউ সচল না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান গ্যাস খালাস করে জাতীয় গ্রিডে দেওয়াও সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বিদেশি প্রকৌশলীরা যতক্ষণ পর্যন্ত এফএসআরইউ মেরামত শেষ না করছেন, ততক্ষণ অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো গতি নেই। এখন শুধু আমাকে দিন গোনা ছাড়া আর ওই যে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন এফএসআরইউতে, এটা করা ছাড়া আমার কিছু করার নাই। আর কিছু ম্যানেজমেন্ট করা, যাতে কম লোডশেডিং হয়। যেন আমি ইন্ডাস্ট্রিকে গ্যাসটা দিতে পারি, এই ম্যানেজমেন্টটা করা। এছাড়া আপনিই বলেন, আমার হাতে আর কী থাকতে পারে।

জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তবে, মেরামত শেষে নতুন দুটি বয়লার একসঙ্গে চালু করতে হবে। কারিগরি সমন্বয়ের জন্য তখন পুরো সিস্টেমটি টানা ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন বন্ধ রাখা লাগবে, যার প্রভাবে সাময়িকভাবে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেবে।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে একটি নতুন এফএসআরইউ-এর অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি এফএসআরইউ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্পে গ্যাস–সংকট কমাতে বিকল্প নানান উপায় খোঁজা হচ্ছে। এর মধ্যে ভোলা থেকে কনটেইনার ট্রাকে করে গ্যাস কারখানায় পৌঁছে দিতে একটি কোম্পানিকে ৩০টি ট্রাক চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরাসরি কনটেইনারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সুবিধা তৈরি করতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলছে সরকার। তেল নিয়ে বিভিন্ন সময় গুজব ছড়ানোয় সংকট আরও বাড়ে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে একচেটিয়া তেলের ব্যবসা দেওয়া হচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে যেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তেল আমদানি করতে পারে, সে বিষয়ে একটি নতুন নীতিমালা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সৌরবিদ্যুৎকে উৎসাহিত করতে সোলার ব্যাটারি ও ইনভার্টারের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই খাতে পাঁচ বছরের ট্যাক্স হলিডে (করছাড়) সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবির। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সাকিব বিন আমিন প্রমুখ।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর ভারত ও জাপান সফর এখনো চূড়ান্ত নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত ও জাপান সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, এই সফর প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সব দেশে সফরের বিষয়েই সরকার ইতিবাচক। তবে, এটি প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি এবং দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা কত দূর এগোয়, তার ওপর নির্ভর করবে।’

প্রধানমন্ত্রী ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেবেন নাকি দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন— এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এখনো পর্যাপ্ত সময় আছে। তিনি বলেন, ‘ব্রিকস এখনো অনেক দূরে। এক মাসে অনেক কিছুই হতে পারে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নতুন সাংবিধানিক কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। বাংলাদেশে সামনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন রয়েছে এবং জাতীয় সংসদের অধিবেশনও বসতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ভেতরে অনেক কর্মসূচি ও কার্যক্রম চলছে। সামনে বেশ কিছু সাংবিধানিক বিষয়ও রয়েছে। এই দিক থেকে সরকার ব্যস্ত এবং প্রধানমন্ত্রীও ব্যস্ত।’

তবে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরগুলোর বিষয়ে সরকার ইতিবাচক রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অবশ্যই ভারত সফর হবে, জাপান সফর হবে এবং অন্যান্য দেশেও সফর হবে।

প্রস্তাবিত জাপান সফরের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর তারিখ ও সময় এখনো ঠিক হয়নি। দুই দেশের পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে এটি নির্ধারণ করা হবে।

ভারত সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান হতে পারে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হলে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘যখনই দুই দেশের নেতারা কথা বলেন ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন, তখনই অনেক সমস্যা সমাধানের একটি সুযোগ তৈরি হয়। সেই সুযোগ অবশ্যই আছে এবং তা উন্মুক্ত রয়েছে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতেরও উচিত এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করা।

ভারতে অবস্থান করে সাজাপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা এ বিষয়ে আগেই অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, যখন একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভারতের মাটিতে বসে কথা বলেন, তখন বাংলাদেশের মানুষ তা গ্রহণ করে না এবং এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখে না।’

শামা ওবায়েদ বলেন, জুলাইয়ের ঘটনা এখনো বাংলাদেশের মানুষের মনে তাজা। তাই জনগণের অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘জুলাই এখনো মানুষের মনে জীবন্ত। রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। তাই সেই দিক থেকে আমাদের অবশ্যই সংবেদনশীল হতে হবে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শীর্ষ রাজনৈতিক পর্যায়ে সরাসরি আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


নির্বাচিত

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে: আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি।

আলী হোসেন ফকির বলেন, রাজধানীতে দেশি-বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ বসবাস করেন। তাই রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুরো দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থেই অপরিহার্য। মাঠপর্যায়ের কাজ গতিশীল করতে সিনিয়র অফিসারদের সরাসরি মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি সঠিক তদারকি থাকলে নিচের স্তরের পুলিশ সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে উৎসাহিত হয়।

তিনি বলেন, আপনারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে দেশের স্বার্থে ও জনগণের শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। তবে ইচ্ছাকৃত ভুল বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলে তার দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না। সে ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে পুলিশের পরিচয় একটাই- আমরা আইন ও জনগণের সেবক। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে। বর্তমানে ঐতিহ্যগত অপরাধের চেয়ে সাইবার ক্রাইম, গুজব এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার ও ‌‘মিস ইনফরমেশন’ মোকাবিলা করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পুলিশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্তি আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলামসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

১০ লাখের প্রলোভনে কিডনি নিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারণা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

কিডনি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় আব্দুস সাত্তার (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বগুড়া সদর উপজেলার পৌরপার্ক এলাকা থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার আব্দুস সাত্তার কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার খলিফার ছেলে। পুলিশের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের অন্যতম প্রধান দালাল। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে কিডনি কেনাবেচাসহ কালাই থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে।

কালাই থানার তদন্ত কর্মকর্তা দীপেন্দ্র নাথ সিংহ এসব তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘কিডনি-সংক্রান্ত প্রতারণার মামলাটি থানায় গ্রহণের পর এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করা হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল রাতে বগুড়া সদরের পৌরপার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

দীপেন্দ্র নাথ সিংহ আরও বলেন, ‘সকালে আব্দুস সাত্তারকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সবশেষ যে মামলায় আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাতে অভিযোগ করা হয়েছে—আর্থিক সংকটে থাকা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার মন্টু মিয়াকে কিডনি বিক্রির জন্য ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয় এবং কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য নেপালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মন্টু মিয়াকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে তাকে নেপালের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণের কয়েক দিন পর তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দেশে ফেরার পর চুক্তি অনুযায়ী বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন মন্টু মিয়া। তবে আব্দুস সাত্তারসহ অন্য দালালেরা টাকা না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করতে থাকেন।

কিডনি বিক্রির টাকা না পেয়ে গত ১৩ জুন জয়পুরহাট আমলি আদালতে মামলা করেন মন্টু মিয়া। মামলায় বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা গ্রামের সাব্বির আহমেদ, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়া গ্রামের সুমন আলী, কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, লওনা গ্রামের আব্দুস সাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জ এলাকার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরীকে আসামি করা হয়। আদালতের নির্দেশে ওই দিনই মামলাটি কালাই থানায় রেকর্ড করা হয়।

মামলার এজাহারে তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরীকেও কিডনি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, তিনি ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় অবস্থান করে জয়পুরহাটে দালাল নিয়োগের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে কিডনি বিক্রিতে প্রলুব্ধ করতেন এবং দেশে-বিদেশে কিডনি কেনাবেচা করতেন।

কালাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ক্রয়-বিক্রয়কারী একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, দরিদ্র, ঋণগ্রস্ত ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে টার্গেট করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি বিক্রিতে রাজি করানো হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের নজরদারি ও আইনগত তৎপরতার কারণে কিছু সময় এ ধরনের কর্মকাণ্ড কম থাকলেও গত এক বছরে আবারও চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়ভাবে আগে থেকেই ‘কিডনির হাট’ হিসেবে আলোচিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের ভেরেন্ডি, উলিপুর, সাতার, কুসুমসাড়া, অনিহার, ভাউজাপাতার, শিবসমুদ্র, পাইকশ্বর ও ইন্দাহার; উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া-বাইগুনি, বহুতি, মোহাইল, থল, বাগইল, মাস্তর, জয়পুর বহুতি, নওয়ানা বহুতি, দুর্গাপুর, উত্তর তেলিহার, ভুষা, কাশিপুর, বিনইল ও পূর্ব কৃষ্টপুর; আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের রাঘবপুর, বোড়াই, হারুঞ্জা, নওপাড়া ও বালাইট গ্রামের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়।

এ ছাড়া নতুন করে কালাই পৌরসভার আওড়া, সীতাহার ও দুরুঞ্জ-নয়াপাড়া মহল্লা, জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা, ইমামপুর, বেগুনগ্রাম, করিমপুর ও হাজিপুর-ঘাটুরিয়া এবং পুনট ইউনিয়নের জালাইগাড়ী, পাঁচগ্রাম, জগডুম্বর ও শান্তিনগর এলাকার নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।

মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯ অনুযায়ী, জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ নিকটাত্মীয়কে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ডোনেট করার সুযোগ থাকলেও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। আইনের ৯ ধারায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বেচাকেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই আইনের ১০(১) ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় কিংবা এ কাজে সহায়তার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।


নির্বাচিত

দুই দিন ধরে গ্যাসহীন কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ এলাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

টানা দুই দিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছে কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ এলাকার মানুষ। কোথাও স্বল্পচাপ, আবার কোথাও একেবারেই গ্যাস নেই। এতে রান্নাবান্না নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়ছে খরচ ও ভোগান্তি। একইসঙ্গে চাপ বেড়েছে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতে। কবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে জানেনা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতার চাপ। একটি খাবার হোটেলের ম্যানেজার সোহেল রহমান জানান, এত কাস্টমার সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাত, রুটি থেকে শুরু করে বেকারির বিস্কুট পর্যন্ত বিক্রি করে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তারা।

গ্যাস সংকটের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকাতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।

বিজিডিসিএলের আওতাধীন কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেও এর প্রভাব পড়েছে। সাময়িক গ্যাস সংকটের জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সহযোগিতা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। গ্যাস সরবরাহ ও অভিযোগের বিষয়ে ১৬৫১৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

তবে স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রান্নার দায়িত্বে থাকা মানুষ। অনেকেই বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ ও বিড়ম্বনায় পড়ছেন। দ্রুত এ সংকটের সমাধান দাবি করেছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীর কোথাও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের ডিজিএম (সেলস) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সোলায়মান ভালো বলতে পারবেন।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সোলায়মান জানান, গ্যাস সরবরাহ কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, এ মুহূর্তে তিনি তা বলতে পারছেন না। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তাও বলা যাচ্ছে না।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে নদীভাঙনে নিঃস্ব শত পরিবার, অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে মশাল মিছিল

* আড়িয়ালখাঁয় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সোচ্চার মানুষ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

অবৈধ ড্রেজার বন্ধে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর বিভিন্ন সংগঠনের স্মারকলিপি প্রদান, প্রতিবাদ-সমাবেশ, বিক্ষোভ যেনো ক্রমেই ব্যাপকভাবে দানা বাঁধছে। এর মূল কারণ স্মারকলিপি প্রদানের সময় বেঁধে দেয়ার আল্টিমেটামের মেয়াদ শেষ হলেও জেলা প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।

দীর্ঘদিন যাবত মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী আড়িয়ালখাঁ নদীর অববাহিকার হোগলপাতিয়া, চরহোগলপাতিয়া, কালিকাপুর, মহিষেরচর, শ্রীনদী, পখিরা, শিরুয়াইল গ্রাম সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী ও সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট কর্তৃক নদীর তীরবর্তী তলদেশ থেকে বালু ও মাটি কেটে নেয়ায় নদী ভাঙ্গণে শত-শত পরিবার ভিটেমাটি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে নিঃস্ব হবার প্রেক্ষিতে দৈনিক বাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর জেলা ছাত্রদল, যুবদল সহ বিভিন্ন মহল থেকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে কিন্তু আল্টিমেটামের মেয়াদ শেষ হলেও জেলা প্রশাসন থেকে এখনো কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় ফুঁসে উঠেছে এসব সংগঠন।

ছাত্রদলের স্মারকলিপি প্রদাণের সময় মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া ও জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা যুবদল একই দাবিতে স্মারললিপি প্রদান করে সময় বেঁধে দিয়ে এর সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেয়ার আল্টিমেটাম দেয় কিন্তু স্মারকলিপি প্রদানের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও জেলা প্রশাসন থেকে জড়িতদের গ্রেফতার কিংবা কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়নি।

এদিকে ছাত্রদল- যুবদলের পাশাপাশি তাদের সাথে যোগ দিয়েছে ছাত্রশিবির, গণঅধিকার পরিষদ, ছাত্র বৈষম্য আন্দোলন সহ নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সহ সর্বস্তরের সচেতন মহল।

এ প্রেক্ষিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামুরুল হাসান, যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদুল হাসান, সিনিয়র ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসাইন, জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি বেল্লাল হোসেন, গণঅধিকার পরিষদ ছাত্র নেতা সোহাগ হাসান, জেলা ছাত্রবৈষম্য আন্দোলনের নেতা ইকতিয়ারউদ্দিন সহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সম্মিলিত নেতৃত্বে রাতে এক বিরাট মশাল মিছিল বের করে শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাদারীপুর সদর মডেল থানার সামনের মূল ফটকে রাত ৯ টার দিকে সমবেত হয়ে মশাল জ্বালিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করে।

সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুল হাসান বলেন, ছাত্র-জনতা আন্দোলন করে দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ সরকারকে স্বদলবলে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে আর আমরা অসহায় মানুষদের ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি, ফসলিজমি নিঃস্ব করে দেয়া এসব অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী, তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ও সুবিধাভোগী সিন্ডিকেটদের বিদায় করতে পারবো না? নিশ্চয় তাদের বিদায় করা হবে বলে তিনি হুশিয়ারী দেন। সিনিয়র ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসাইন বলেন, হয় মাদারীপুরে ছাত্র-জনতা থাকবে- না হয় অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী, সিন্ডিকেট ও তাদের গডফাদার বেনিফিসিয়ারীরা থাকবে।

ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মাহাবুল আলম বলেন, কোন স্বার্থে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে না- তা নদীভাঙ্গনের সহজ-সরল ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো ও মাদারীপুরের মানুষ জানতে চায়, সময় থাকতে ব্যবস্থা না নেয়া হলে আরো বড় আন্দোলনের কর্মসূচী দেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি বেল্লাল হোসেন অনতিবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করে এসব বালুখেঁকো, ফসলিজমি ও ভিটেমাটি খেঁকো সিন্ডিকেটসহ অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী ও তাদের বেনিফিসিয়ারীদের উৎখাতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

গণঅধিকার পরিষদ নেতা সোহাগ হাসান বলেন, মাদারীপুরের ড্রেজার সিন্ডিকেটে কারা-কারা মাসোয়ারা পান তা’ তাদের জানা আছে, তড়িৎ ব্যবস্থা না নিলে তাদের মুখোশ দেশ ও জাতির কাছে খুলে দেয়া হবে।

পরিশেষে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটদের গ্রফতারের দাবীর কথা দ্ব্যর্থহীণ কন্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন। আর তা'না হলে দেশ থেকে স্বৈরাচারী- ফ্যাসিবাদ ছাত্র-জনতার প্রতিরোধে যেভাবে পালিয়ে গেছে- মাদারীপুর থেকে সেভাবে এর সাথে সম্পৃক্তরা ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনে লজ্জাজনক বিদায় নেবে বলে ঘোষণা করেন।


নির্বাচিত

নাটোরে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাজমুল হাসান, নাটোর

নাটোরে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। এ সময় তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং লালপুর ও বাগাতিপাড়া থানার ওসিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘পুলিশের দায়িত্ব ছিল সাংবাদিক এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই ইউএনওকে অবরুদ্ধ করা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

নির্যাতিত সাংবাদিক ফজলুর রহমান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘গত বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে আমরা ইউএনও অফিসে সংবাদ সংগ্রহ করছিলাম। এ সময় বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা ও পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন পান্নার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ফুটেজ মুছে ফেলে এবং আমাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।’

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসিম উদ্দিন নাসিম, সাধারণ সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, ইউনিক প্রেসক্লাবের সভাপতি দেবাশীষ কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ, এনটিভির সিনিয়র করেসপনডেন্ট হালিম খান, এখন টেলিভিশনের প্রতিনিধি মাহবুব হোসেন, সময় টিভির আল মামুন, দেশ টিভির প্রতিনিধি মামুন খানসহ অন্যান্যরা।

উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা ইউএনওকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন।


নির্বাচিত

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৯৩

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৯৩ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গত বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল আটটা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার এবং অপরজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৬৯ জন ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ২০ হাজার ৫৬৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২৪৩ জনে।


নির্বাচিত

দৌলতপুরে ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২১
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি নকল সিগারেট কারখানায় অভিযান চালিয়ে ২ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় সিগারেট তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যৌথ অভিযানে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিব মাস্টারের ফার্মের গোডাউনের ভেতরে গড়ে তোলা অবৈধ সিগারেট তৈরির কারখানাটির সন্ধান পায়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস জানান, ‘নেভি, ডার্বি ও রয়েল’ ব্র্যান্ডের প্রায় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেটসহ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সিগারেটের মূল্য আনুমানিক ২ কোটি টাকা।

গোডাউনের মালিক হাবিব মাস্টার জানান, তিনি জয়রামপুর এলাকার শাকিল ও বৈদ্যনাথতলা এলাকার লিওন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছে মাসিক ৪০ হাজার টাকা ভাড়ায় গোডাউনটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে নকল সিগারেট তৈরির কার্যক্রম চলছিল এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

এর আগে গত ৯ মে র‍্যাব-১২ কুষ্টিয়া ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে একই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে পাঁচটি নকল সিগারেট তৈরির মেশিন এবং প্রায় ১ লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল।

তবে কিছুদিনের মধ্যেই কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ‘আগের অভিযানের পর কারখানাটি সিলগালা করা হলেও পরবর্তীতে মালিকপক্ষ আদালতে মামলা করে সেটি পুনরায় চালু করেছে।’

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে নকল সিগারেট ও সিগারেট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।


নির্বাচিত

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন, ঠাকুরগাঁওয়ে উচ্ছ্বাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার খবরে আনন্দে ভাসছে তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা মিষ্টি বিতরণ করেন এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু একজন দলীয় নেতা নন, তিনি একজন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন বর্ষীয়ান নেতা। তার মতো অভিজ্ঞ ও ত্যাগী রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ।

নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ জানতে চাইলে একমত হয়ে জেলার মানুষ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের গর্ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ায় আমরা আনন্দিত এবং বিএনপিকে ধন্যবাদ জানাই।” রাজনীতির দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের খবরে তাই স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত নিজ জেলার মানুষ।

স্থানীয়রা আরও বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার এবং জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার কারণেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মনোনয়নকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

মিষ্টি বিতরণ আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রত্যাশা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।


নির্বাচিত

banner close