চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বুধবার ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে মামলাটি করেছেন মশিউর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী।
মশিউর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জহির কামাল জানিয়েছেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর রাজধানীর ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে ১৬ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ফরহাদ ব্যাপারী, আরশাদ আকাশ, রাসেল চাকলাদার ও টুটুল আহম্মেদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ৪ লাখ টাকা লেনদেন নিয়ে মশিউর ও ফরহাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এর জেরে বাদীকে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি সমস্যা সমাধানের কথা বলে বাদীকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। সেখানে অপর আসামি আরশাদ আকাশ পুলিশ পরিচয় দিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে বাদীর একটি আইফোন ও ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এসব বিষয়ে কাউকে কিছু জানলে মামলা দিয়ে বাদীকে ক্রসফায়ারে হত্যারও হুমদি দেন।
বাদী মশিউর রহমান বলেন, ‘টাকা লেনদেন হয়েছে আমাদের দুইজনের মধ্যে। কিন্তু এখানে ইব্রাহীম ফরাজি এসে জিম্মি করে টাকা নেয়ার কে?’
অভিযুক্ত ফরহাদ পাল্টা অভিযোগ করেন, মশিউর তার কাছে থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে ফেরত দেননি। যেহেতু তিনি (বাদী) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তাই বিষয়টি সেখানকার ছাত্রলীগ সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজিকে জানান। সভাপতির বাসায় গিয়ে মশিউর ৩ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন।
আরেক আসামি আরশাদ আকাশ বলেন, ‘ফরহাদ বিষয়টি জানিয়েছিল। পরে এটা নিয়ে ইব্রাহিমের কাছেও অভিযোগ দেয়। আমি শুধু ইব্রাহিমের কাছে ফরহাদকে পাঠিয়েছি। ইব্রাহিম সমাধান করে দিয়েছে।’
পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা নেয়া ও হুমকির অভিযোগ প্রসঙ্গে আরশাদ বলেন, ‘আমি একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে এ কাজ কীভাবে করবো।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে জবি ছাত্রলীগ সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি বলেন, মামলা করার অধিকার সবার আছে। তদন্তের জন্য থানায় দেয়া হয়েছে। অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর অভিযোগ প্রমাণ না হলে মানহানির মামলা করবেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী ২০ এপ্রিল ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে জনসভা, সেখানে দলমত নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করবেন বগুড়ার উন্নয়নের স্বার্থে। ঐদিন স্বঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহন করে বগুড়ার সন্তান হিসাবে, বগুড়ার মানুষ হিসেবে যদি সঠিকভাবে জনসভা সফল করতে পারি। তাহলে যত দাবি-দাওয়া আছে, গত ১৭ বছর বগুড়াবাসী যে উন্নয়ন বঞ্চিত ও বঞ্চনার শিকার সবই বাস্তবায়ন হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি আগামী ২০ এপ্রিল বগুড়া সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বগুড়া সফরকালে তিনি বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ঘোষনা সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একজন মানুষ। যিনি জনবান্ধব। তিনি এই বগুড়ার কৃতি সন্তান। তিনি সফরে এসে সরকারি প্রোগ্রাম শেষে বগুড়ার মানুষের সাথে আলাদা করে দেখা করার জন্য এবং কথা বলার জন্য জনসভায় অংশ নেবেন। তারেক রহমান বগুড়ায় আসবেন, ইনশাল্লাহ আগামীতে বগুড়ার উন্নয়ন হবে।
এরআগে সকাল ১০টা বগুড়া সার্কিট হাউজে তাঁর সফরকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও অংশ নেন।
বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আগামী ২০ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সার্কিট হাউজে পৌঁছাবেন। এরপর এখান থেকে তিনি বগুড়া জজকোর্ট প্রাঙ্গনে যাবেন। সেখানে বগুড়ার বার সমিতির নতুন ভবন যেটি নির্মান করা হয়েছে সেটি উদ্বোধন করবেন। সেখান থেকে জেলা ও দায়রা জজ এর কনফারেন্সরুমে যাবেন। সেখানে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ই-বেলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর সেখানে থেকে বগুড়াবাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি বগুড়া পৌরসভা চত্বেরে যাবেন। সেখানে বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উসেন্মাচন করবেন। এরপর সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রী তাঁর জন্মস্থান এবং জন্মভিটা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান গাবতলীর বাগবাড়িতে যাবেন। বাগবাড়িতে জিয়াউর রহমান হসপিটাল পরিদর্শন করবেন। এরপর ওই গ্রামের ফ্যামিলি কার্ডের কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সুবিধাভোগী গৃহকর্র্তী এবং নারী প্রধানদের মাঝে বিতরণের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন। একই সাথে সুধিসমাবেশে তিনি বক্তব্য দিবেন। এরপরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তারপর তিনি নিজ বাড়িতে যাবেন। সেখান থেকে তিনি আবারও সার্কিট হাইজে আসবেন। ওইদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু প্রমুখ।
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে এক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনশেড দুইটি ঘর বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি সম্পদ গোপনে বিক্রি করার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ ও সহকারী শিক্ষক শামছুল হক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোমড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আগে বেসরকারি থাকাকালীন জমির দলিল অনুযায়ী মূল সীমানার বাইরে একটি টিনশেড ঘরে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে স্কুলটি সরকারিকরণ হওয়ার পর মূল জমিতে সরকারি বরাদ্দে নতুন ভবন নির্মিত হয়। নতুন ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তরিত হওয়ার পর পুরনো টিনশেড ঘরটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, পুরনো অবকাঠামো অপসারণ বা বিক্রির জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনুমতি এবং যথাযথ টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অভিযুক্ত শিক্ষকরা তা মানেননি। প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ ও সহকারী শিক্ষক শামছুল হক যোগসাজশ করে কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই গোপনে ওই ঘরটি বিক্রি করে দিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদের ব্যবহার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। শিক্ষার্থীদের সাথে প্রায়ই তিনি অশালীন আচরণ করেন, যার ফলে অনেক শিশু স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এমনকি অভিভাবকরা অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে গেলে সহকারী শিক্ষক শামছুল হক ও প্রধান শিক্ষক তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেন। স্থানীয়রা এই দুই অসৎ ও প্রভাবশালী শিক্ষকের দ্রুত অপসারণ ও বদলি দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, "প্রাইমারী স্কুলের ঘরটি যে জায়গায় আছে, সেটা স্কুলের জায়গা না। আগে স্কুলটি বেসরকারি ছিল। সরকারি হওয়ার পর আসল জমিতে নতুন ভবন পাওয়ায় আগের ঘরটি পরিত্যক্ত হয়ে আছে। আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে এ বিষয়ে বললে তিনি আমাকে ঘরটি ভাঙার অনুমতি দিয়ে এক জায়গায় এগুলো সংরক্ষণ করে রাখতে বলেছেন। পরে টেন্ডারের মাধ্যমে তা বিক্রি করা হবে।"
তবে প্রধান শিক্ষকের এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফারহানা আক্তার। তিনি দৈনিক বাংলা'কে জানান, "গোমড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর ভাঙার বিষয়ে আমি কিছু জানি না, এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কোনো অনুমতিও দেওয়া হয়নি। যদি এমনটা কেউ করে থাকে সেটা অবৈধ উপায়ে করেছে।"
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে দেহাটি পিয়াস ফিলিং স্টেশনে অবৈধভাবে ৩০ লিটার ডিজেল মজুদের দায়ে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে এবং জীবননগরের বালিহুদা গ্রামে অবৈধভাবে তেল মজুদের দায়ে এক ব্যক্তিকে জরিমানা ও কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
এ সময় জব্দকৃত ডিজেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। ডিজেল বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে জীবননগর উপজেলার মেসার্স পিয়াস ফিলিং স্টেশনে টাস্কফোর্সের সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন।
অবৈধভাবে তেল মজুদের অপরাধে পেট্রোলিয়াম আইনে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার নজরুল ইসলামকে দুই হাজার টাকা জরিমানা ও ৭ দিনের কারাদণ্ড দেন। অপরদিকে জীবননগর উপজেলার বালিহুদা গ্রামে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদের অপরাধে আতিয়ার রহমানকে পাঁচশত টাকা জরিমানা ও সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জমির উদ্দিন জানান, অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর উপজেলার পিয়াস ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ম্যানেজার নজরুল ইসলাম ও বালিহুদা গ্রামের আতিয়ার রহমানকে জরিমানাসহ কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ বিজিবিসহ প্রশাসনের যৌথ অভিযানের (ট্যাস্কফোর্সের) মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল, জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ ও বিজিবি উপস্থিত ছিলেন।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-১ মৌসুমে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উফশী আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মোট ৭ হাজার কৃষককে এ সহায়তা প্রদান করা হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ হাফিজ ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে বীজ ও সার তুলে দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাফরুজা সুলতানা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোরঞ্জন বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ গোবিন্দ মন্ডল। তিনি বলেন, সরকারের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার পেয়ে আবাদ খরচ কমাতে পারবেন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবেন। তিনি আরও জানান, সময়মতো এসব উপকরণ সরবরাহের ফলে চলতি মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোঃ হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কৃষকদের সহায়তা করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কৃষকদের জন্য একটি বড় সহায়তা, যা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। তিনি কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অধিক ফলন অর্জনের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি মাফরুজা সুলতানা তার বক্তব্যে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান নেতৃত্ব কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রকল্প চালু করা একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, যা কৃষকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে। তিনি কৃষকদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং কৃষিখাতে আরও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানান।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকদের মধ্যে এই সহায়তা বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে পৌরসভায় ১০০ জন, কাচিয়া ৮৫০ জন, গঙ্গাপুরে ৭৫০ জন, সাচরায় ৮০০ জন, দেউলায় ৮০০ জন, হাসাননগরে ৪০০ জন, টবগীতে ৮৫০ জন, পক্ষিয়ায় ৮০০ জন, বড়মানিকা ৮৫০ জন এবং কুতুবায় ৮০০ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহা, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খান, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি ইদ্রিস মিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। কৃষকরা এই সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এতে তাদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং তারা অধিক জমিতে আবাদ করতে উৎসাহিত হবেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে নেমেছে পুলিশ। পৌর এলাকার আলোচিত শাপলাবাগ ও সোনার বাংলা রোড এলাকায় টানা চার ঘণ্টার এক বিশেষ ‘সাঁড়াশি অভিযান’ চালিয়ে পাঁচজন চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ই এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো: ওয়াহিদুজ্জামান রাজুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। শাপলাবাগ রেল কলোনি ও সোনার বাংলা রোড এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সাগর আহম্মেদ (২৩), ফারুক হোসেন (৩২), আরিফ হোসেন (২৮), শরীফ হোসেন (২৩) ও মিজানুর রহমান মিজান (৩০)।
পুলিশ জানায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে শাপলাবাগ, সোনার বাংলা রোড ও রেল স্টেশন এলাকায় সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও অত্যাচার করে আসছিল। পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে আগত পর্যটকদের জন্য তারা এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও মারধরসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ই এপ্রিল রাতে শাপলাবাগ রেলওয়ে এলাকায় সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এই চক্রের সদস্যরা। এই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ অপরাধীদের ধরতে তৎপর হয়ে ওঠে এবং সফল অভিযান পরিচালনা করে।
শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মঙ্গলবার (১৪ই এপ্রিল) সকালে মৌলভীবাজার জেলা বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী ফায়ার সার্ভিসের সামনে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মিরাজুল ইসলাম শাওন (২০) ও ব্যবসায়ী বেল্লাল মুসুল্লী (৩৫)। আহতদের মধ্যে রয়েছেন অটোচালক ফাহাদ (২১), জসিম সিকদার (৪৫) ও তুহিন (২২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চারজন যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা মহিষকাটা থেকে আমতলীর দিকে যাচ্ছিল। পথে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা সকল যাত্রী গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. পপি হালদার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান। পরে বরিশালে নেওয়ার পথে রাত ৯টার দিকে মিরাজুল ইসলাম শাওন ও বেল্লাল মুসুল্লীর মৃত্যু হয়।
নিহত বেল্লাল মুসুল্লীর বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মাইঠভাঙ্গা গ্রামে। তিনি হাসেম মুসুল্লীর ছেলে। অপর নিহত শাওনের বাড়ি আমতলী উপজেলার উত্তর সোনাখালী গ্রামে। তিনি গাজী শাহজাদার ছেলে।
এদিকে, ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা বাদুরা বাজার এলাকায় আটক করে।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. পপি হালদার জানান, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, বরিশালে নেওয়ার পথে দুইজন মারা গেছেন এবং ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।
নোয়াখালীর সেনবাগে এক ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ৫ হাজার ৫০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সেনবাগ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য কাদরা এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইশতিয়াক ভূঁইয়া খুচরা বাজারে বিক্রি না করে নিজের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ তেল লুকিয়ে রেখেছেন এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়। সেনবাগ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর পেয়ারা বেগমের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ড্রামভর্তি ৪ হাজার লিটার ডিজেল এবং ১ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়।
অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করার অপরাধে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ইশতিয়াক ভূঁইয়াকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর পেয়ারা বেগম জানান, জব্দ করা এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরবর্তীতে মাইকিং করার মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হবে।
জনস্বার্থ রক্ষায় এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াকে একটি আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বলেন, বগুড়াকে দেশের অন্যতম ‘শিক্ষা হাব’ হিসেবে রূপান্তর করার লক্ষ্যেই বর্তমানে সরকারের উন্নয়ন কাজ চলছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন সঠিকভাবে পাঠদান নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
বিগত সময়ে উত্তরবঙ্গের শিক্ষা বিস্তারে সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মহাস্থানের অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী উথলী উচ্চ বিদ্যালয়, মোকামতলা মহিলা ডিগ্রি কলেজ এবং মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন।
এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম। মূলত বগুড়ার সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো বৃদ্ধিতে সরকারের বিশেষ গুরুত্বের কথা এই সফরের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘোরাঘুরি ও জনসম্মুখে মাতলামির দায়ে তিনজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সৈয়দপুর থানা ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সৈয়দপুর উপজেলার হাতাখানা এলাকার মৃত তোফাজ্জলের ছেলে মো. সুমন (৩৬), মাককুর ছেলে মো. জুম্মন (৩০) এবং আব্দুল মতিনের ছেলে মো. মুন্না (২৪)। এর মধ্যে মো. সুমনকে চার মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মো. জুম্মন ও মো. মুন্নাকে এক মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫০ টাকা করে জরিমানা প্রদান করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে এলাকায় নেশাগ্রস্তদের আনাগোনা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ আসছিল। এর প্রেক্ষিতে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন,“রেলওয়ে স্টেশনসহ জনবহুল এলাকায় মাদকসেবীদের উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে মাদকসেবী ও কারবারিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধপ্রবণতা কমাতে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।”
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) আওতাধীন সাড়ে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৯০ মিটার ব্রীজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে কামারখন্দ উপজেলায় ভদ্রঘাট ইউনিয়নে চরনূরনগর গ্রামে ফুলজোড় নদীর উপরে ব্রীজটি ভিক্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।
জানা যায়, পল্লী সড়ক গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্প -২ আওতায় ২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাসে সিরাজগঞ্জ এলজিইডির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। কাজটি ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৪ তারিখের মধ্যে বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজটি পটুয়াখালী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একেএ এবং এসভিএমসি জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
এ সময় সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সিরাজগঞ্জ থেকে নূরনগর গ্রামে ২৯০.৩০ মিটার ব্রীজ ও উভয় পাশে সংযোগ সড়ক ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপাশা হায়াত, সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কায়েস, কামারখন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদিউজ্জামান ফেরদৌস, সাধারণ সম্পাদক রেজাত রাব্বী উথান, কামারখন্দ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর বর্ষবরণের আয়োজন। বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপনায় পুরো উপজেলা যেন রঙিন হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) (পহেলা বৈশাখ) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মানুষ উপজেলা চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। নানা বয়সী মানুষ, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও অংশ নেন এ আনন্দ আয়োজনে। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারীরা, পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত পুরুষরা আর শিশুদের রঙিন সাজে চারপাশে তৈরি হয় এক বর্ণিল পরিবেশ।
দিনের শুরুতেই বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয় উপজেলা চত্বর থেকে। শোভাযাত্রায় ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন প্রতীক শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও নববর্ষের তাৎপর্য। বিশেষ করে “এসো হে বৈশাখ” গানের সঙ্গে সমবেত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন বছরকে সামনে রেখে সবাইকে মাদক, দুর্নীতি ও সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানানো হয়।
উৎসব উপলক্ষে উপজেলা চত্বরে বসে বৈশাখী মেলা। সেখানে ছিল হস্তশিল্প, মাটির তৈরি পণ্যের দোকানসহ নানা আয়োজন। শিশুদের জন্য ছিল বিনোদনমূলক ব্যবস্থা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে যায়।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সব মিলিয়ে বোরহানউদ্দিনে এবারের বর্ষবরণ ছিল আনন্দঘন, বর্ণিল ও শান্তিপূর্ণ। নতুন বছরের শুরুতে এমন প্রাণবন্ত আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।
সাভারের আশুলিয়ায় ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে মো. আফজাল হোসেন নামে এক চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার ভোর রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে আশুলিয়ার মধ্য গাজীরচট এলাকার এবাদুল্লাহ মসজিদ-মাদ্রাসা সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়।
অভিযানে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি ওয়ান শটারগান এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল এবং তার সহযোগীদের ফেলে যাওয়া ডাকাতির সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত ধারালো ছোরা ও কুড়াল সদৃশ অস্ত্র জব্দ করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আফজাল হোসেন স্থানীয় মধ্য গাজীরচট এলাকারই বাসিন্দা। ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম আজ দুপুরে এক বার্তায় জানান, আফজাল দীর্ঘকাল ধরে তার সহযোগীদের নিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফজাল নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মোট নয়টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য ও দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসব। স্থানীয় জনসাধারণ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা আনন্দঘন পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনটির সূচনা হয় সকাল ৯টায় এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে। উপজেলার কেন্দ্রস্থল থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। রঙিন ব্যানার, বৈশাখী পোশাক এবং ঢাক-ঢোলের তালে শোভাযাত্রাটি তুলে ধরে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির রূপ।
এরপর গোমদন্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা—রশি টানাটানি ও হাড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতা। পরে উপজেলা চত্বরে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা। এতে স্থানীয় শিল্পী, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
উৎসবকে আরও বর্ণিল করে তোলে বাংলা গ্রামীণ সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গের প্রদর্শনী—পটচিত্র, আলপনা এবং ঢাকের বাদ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এমপি এরশাদ উল্লাহ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করায় এবং সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে।” সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর আয়োজন করা হয় পান্তা উৎসব ও ব্যতিক্রমধর্মী পিঠা উৎসব। এতে স্থানীয় নারীরা বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও দেশীয় খাবার প্রস্তুত করেন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নিতে আসেন শত শত মানুষ। বর্ষবরণ উপলক্ষে পুরো উপজেলা চত্বরে বিরাজ করে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।