বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলা, এক মামলায় ১৩ জনের জেল

ছবি: সংগৃহীত
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০২৩ ১৮:২৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ভাঙচুরসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রায় সাড়ে ৬ বছর এক মামলার রায় দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ পারভেজ ১৩ জন আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন-মোখলেছ মিয়া, মো. মফিজুল হক, খসরু মিয়া, নাজির রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, ইদু মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পদাক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো. আব্দুল আহাদ, সায়হাম রাব্বি শ্যাম, মীর কাশেম, আনিছ মিয়া, তাবারক রেজা, সচিব চৌধুরী, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি। রায় দেয়ার সময় আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন মোখলেছ মিয়া, খসরু মিয়া, নাজির রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, ইদু মিয়া, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো. আব্দুল আহাদ, মীর কাশেম, সচিব চৌধুরী। পলাকত আসামিরা হলেন- মফিজুল হক, সায়েম রাব্বি শ্যাম,আনিস মিয়া, তাবারক রেজা ও আতিকুর রহমান আঁখি।

ফেসবুকে রসরাজ দাস নামে এক তরুণের আইডি থেকে ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্টের জেরে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলা সদরে হিন্দুদের ১৫টি মন্দির ও অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় আটটি মামলা হয় সে সময়।

৩ নভেম্বর দিনগত রাত সাড়ে চারটার দিকে দুর্বৃত্তরা উপজেলা সদরের পশ্চিমপাড়ার গোবর্ধন রায়ের (৫১) বাড়ির সামনের পুরাতন দুর্গা মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে মন্দিরের অধিকাংশ আগুনে পুড়ে যায়। একই সময় উপজেলার ঠাকুরপাড়ার কেশব চক্রবর্তীর বাড়ির রান্নাঘরেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নাসিরনগর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সাধন কান্তি চৌধুরী সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থরা কেউ মামলা দিতে রাজি না হওয়ায় ওই বছরের ৬ নভেম্বর এসআই সাধন কান্ত চৌধুরী অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার আটজন আসামি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর তদন্ত করে ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১৩জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌশলী মোস্তাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকের শুনানিতে ১১জন সাক্ষী দিয়েছেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ১৩ জনকে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘর পোড়ানোর ঘটনায় ন্যায় বিচার হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারমান কামরুজ্জামান মামুন বলেন, কোনো সাক্ষী মামলায় অভিযুক্ত হওয়া কাউকে ঘটনাস্থলে দেখতে পাননি। বাদী নিজেও ঘটনাস্থলে কোনো আসামিকে দেখেনি। আমরা বার বার আদালতকে বলেছি, সাজা প্রদান করতে হলে নূন্যতম সাক্ষী প্রয়োজন। আমরা ন্যায় বিচার পায়নি। অনতিবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রে আদালতের পরিদর্শক কাজী দিদারুল আলম বলেন, রায় প্রদানের সময় এজলাসে ৮জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। এই মামলায় পুলিশ তাদেরকে আরও আগেই গ্রেপ্তার করে। আটজন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রসরাজের ফেসবুকের পোস্টের জেরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উপজেলা শাখার নেতারা নাসিরনগর কলেজ মোড়ে বিক্ষোভের ডাক দেন। অন্যদিকে খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নেতারা নাসিরনগর খেলার মাঠে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। পৃথক এই সমাবেশ চলাকালে উপজেলা সদরে ১৫টি মন্দির ও হিন্দুসম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাতটি মামলা হয়। আর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে পোস্ট দেয়ার অভিযোগ এনে রসরাজের নামে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ধারায় একটি মামলা করে পুলিশ। আট মামলায় প্রায় তিন হাজার লোককে আসামি করা হয়।


আলমডাঙ্গায় ঈদের সকালে রাজমিস্ত্রির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার দাবি পরিবারের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

ঈদের আনন্দের সকালেই চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক রাজমিস্ত্রির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

আজ ২৮ মে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাড়াদি ইউনিয়নের আঠারোখাদা গ্রামের একটি মাঠের গাছ থেকে বখতিয়ার হোসেন (৩৫) নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত বখতিয়ার হোসেন উপজেলার গাংনি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের নজু মালিথার ছেলে। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আঠারোখাদা গ্রামের বাসিন্দারা। পথে মাঠের একটি গাছে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ ঝুলতে দেখে তারা চমকে ওঠেন। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। পরে স্থানীয়রা আলমডাঙ্গা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে নিচে নামায়।

​এদিকে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। তাদের অভিযোগ, বখতিয়ারকে অন্য কোথাও পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করার পর মরদেহ এখানে এনে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই পরিষ্কার হবে। ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ইবিতে ঈদুল আজহা সম্পন্ন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

ছুটির দিনেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পবিত্র ঈদুল আজহা নামাজ আদায় করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। এতে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত বিদেশী শিক্ষার্থী, কর্মচারী, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মী সহ প্রায় দুই শত ব্যক্তির মাঝে কুরবানির গোশত বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী এদিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের নিচে একটি গরু এবং একটি খাসি কুরবানির মাধ্যমে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে কুরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।

এদিকে কেন্দ্রীয় মসজিদে ইবি উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা'সহ ইবি শাখা ছাত্রদল নেতাকর্মী, ইবি শাখা ছাত্রশিবির নেতাকর্মী, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম, কর্মকর্তা সমিতি'সহ স্থানীয় এলাকাবাসীরা ঈদুল-আযহা'র সালাত আদায় করেন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ঈদুল আজহা'কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কুরবানির সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। উপাচার্যের নির্দেশক্রমে আমি নিজ দায়িত্বে এই কুরবানির মাংস বিদেশি শিক্ষার্থী কর্মচারী, নিরাপত্তাকর্মী, পুলিশ ও প্রতিবন্ধী-সহ অসহায় দুস্থদের মাঝে সুষম বণ্টন করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এক এম মতিনুর রহমান বলেন, ঈদুল আজহা ত্যাগ, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষা আমাদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার হিসেবে আমরা সবাই মিলেমিশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছি। এতে ক্যাম্পাসে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর ও প্রায়ত দেশনেত্রী বেগম জিয়া'র পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে এই কুরবানি করা হয়েছে। পরিশেষে, সকলকে পবিত্র ঈদুল আজহা'র শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।


তদন্ত রিপোর্টের পর আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নরসিংদীতে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার নামাজ আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকেই সর্বস্তরের মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হন। জেলার প্রধান ঈদের জামাত নরসিংদী জেলা কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে এবং সবচেয়ে বড় জামাতটি গাবতলী ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৮টায় মনোহরদী উপজেলার প্রধান ঈদগাহ মনোহরদী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। নামাজে ইমামতি করেন মুফতি ওমর ফারুক। নামাজ শেষে উপস্থিত সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুধবার (২৭ মে) আদ-দ্বীন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এক মায়ের অনুরোধে শিশু ওয়ার্ডের এসি বন্ধ করার পর সম্ভবত গ্যাস লিকেজের কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাদায়ক ঘটনাটি ঘটেছে। অন্য একটি হাসপাতাল পরিদর্শনকালে এই খবর পেয়েই তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে সব ধরনের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সঠিক সময়ে পদক্ষেপ ও পর্যাপ্ত টিকার ব্যবস্থা না থাকলে হাজারো শিশুর প্রাণহানি ঘটতে পারত। বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে এসেছে। প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে এবং আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শ থেকে সুস্থ বাচ্চাদের দূরে রাখলে ঈদের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মনোহরদীর এই প্রধান জামাতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম.এ মুহাইমিন আল জিহান, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এদিকে নরসিংদীর অন্যান্য উপজেলাতেও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর উপজেলার চিনিশপুর ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। পলাশ উপজেলার জামাতে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং শিবপুরে নামাজ আদায় করেন নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী। এসব জামাতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসলিম ভাইয়েরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন।


গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ৫ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে গোপালগঞ্জে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বাসের আরও অন্তত ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে পিরোজপুরগামী ‘দোলা পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে চাপা পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। নিহতদের মধ্যে দুইজন মোটরসাইকেল আরোহী এবং বাকি তিনজন বাসের যাত্রী বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হলে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘাতক বাসটিকে জব্দ করেছে এবং এ বিষয়ে একটি আইনি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


সব খেলাপি ঋণ আদায়ে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

সরকার দেশের সব খেলাপি ঋণ আদায় করার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জনগণের কাছে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, এখন সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) বিকেলে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

তথ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গত ২০ বছরে বাংলাদেশে যত টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই খেলাপি হয়ে গেছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে বিগত সরকার সরাসরি ব্যাংক লুটপাটে সহযোগিতা করেছে। আর তাদের করা সেই বিপুল ঋণের বোঝা এখন পুরো জাতিকে বহন করতে হচ্ছে।

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জোরপূর্বক একটি নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনগণের ক্ষোভের মুখে আগস্ট মাসে তাদের পালিয়ে যেতে হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্রনায়ককে এত অপমান আর অসম্মানজনকভাবে পালিয়ে যেতে হয়নি।

আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিকদার হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


ঈদের কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মা-শিশুসন্তানের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার বাসিন্দা সুজন মিয়ার স্ত্রী সাথী বেগম (২৭) এবং তাদের ১৮ মাস বয়সী ছেলে সাফওয়ান ওরফে হাসেন বুধবার (২৭ মে) রাতে নরসিংদী রেলস্টেশন এলাকায় এক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হন। ঈদুল আজহাকে ঘিরে নতুন জামাকাপড় কিনে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মা ও তার শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়।

স্বজনেরা জানান, সুজন মিয়া দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। কখনো ইজিবাইক চালিয়ে, আবার কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। ঈদ উপলক্ষে বুধবার (২৭ মে) বিকেলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নরসিংদী শহরে কেনাকাটা করতে আসেন।

দুই সন্তানের জন্য নতুন জামাকাপড় কেনার পর সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় সাথী বেগম ও তার শিশু সন্তান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর হাসপাতাল ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সুজন মিয়া বলেন, তার চোখের সামনেই স্ত্রী ও সন্তানকে হারাতে হয়েছে।

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, স্টেশনের এক নম্বর লাইনে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস স্টেশন অতিক্রম করছিল। ওই পরিবারটি রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) আওতাধীন দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশইন এবং অবৈধ সীমান্ত পারাপার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় অতিরিক্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক সভা ও মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ৪২ বিজিবির প্রতিটি সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধভাবে গরু পাচার প্রতিরোধ এবং দেশীয় খামারিদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। দেশের অখণ্ডতা রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ অবৈধ অনুপ্রবেশ দমনে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। আসন্ন ঈদের ছুটিতেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সীমান্তে কড়া নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সজাগ থাকতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং নিয়মিত সভার মাধ্যমে তাদের সচেতন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


পদ্মায় ট্রলারডুবি: ৩০ গরুসহ নিখোঁজ ব্যবসায়ী আইয়ুব আলীর মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

পদ্মা নদীতে গরুবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া গরু ব্যবসায়ী আইয়ুব আলীর (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। দুর্ঘটনার দুদিন পর বুধবার (২৭) বিকেলে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এলাকা থেকে তার ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত সোমবার (২৫ মে) দুপুরে পদ্মা সেতুর ১৫ নম্বর পিলারের কাছে ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে ৩০টি গরুসহ ট্রলারটি ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে আজ রাতে স্বজনেরা আইয়ুব আলীর মরদেহ শনাক্ত করেছেন।

নিহত আইয়ুব আলী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহাজিগঞ্জ এলাকার আবদুল মিস্ত্রির ছেলে। পেশায় তিনি একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন এবং পশুর হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে ট্রলারে করে গরু নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, গত সোমবার (২৫ মে) দুপুরে চরভদ্রাসন থেকে একটি ট্রলারে ৩০টি গরু ও ২০ জন যাত্রী নিয়ে আইয়ুব আলীসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ট্রলারটি পদ্মা সেতু এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ তীব্র ঝড়ের কবলে পড়ে এবং সেতুর ১৫ নম্বর পিলারের কাছে নিখোঁজ হয়। ওই সময় ট্রলারে থাকা ১৯ জন যাত্রী সাঁতরে ও বিভিন্ন উপায়ে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও আইয়ুব আলী নদীর তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান। দুর্ঘটনার পর থেকে গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বুধবার বিকেলে জাজিরার কুন্ডেরচর এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই খবর পেয়ে নড়িয়ার সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকেল নাগাদ মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে। নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে আইয়ুব আলীর স্বজনেরা জাজিরার কুন্ডেরচরে ছুটে আসেন এবং রাত আটটার দিকে তার ছোট ভাই সোহেল মিয়া মরদেহটি আইয়ুব আলীর বলে নিশ্চিত করেন।

নিহতের ছোট ভাই সোহেল মিয়া জানান, তার ভাই স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামীণ হাট থেকে গরু সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাটে নিয়ে যেতেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবারও তিনি ট্রলারে করে গরু নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যে পদ্মা সেতুর কাছে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারের অন্য সবাই প্রাণে বেঁচে ফিরলেও তার ভাই নদীতে তলিয়ে যান। তিনি আরও জানান, যেহেতু এটি একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা, তাই এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করার ইচ্ছা নেই। ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন ভাইয়ের মরদেহটি দ্রুত দাফনের জন্য ফেরত পাওয়া যায়, সেই চেষ্টা করছেন তারা।

নড়িয়ার সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবদুল জলিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি পদ্মা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় তলিয়ে গিয়েই মারা গেছেন। এই মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ বা দাবি করা হয়নি। স্বজনেরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের জন্য একটি লিখিত আবেদন করেছেন। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় চার যুবককে বিক্রির অভিযোগ জামায়াতের দুই নেতার বিরুদ্ধে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের চার যুবককে উচ্চ বেতনে গার্মেন্টসে চাকরির কথা বলে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতের সহযোগী একটি সংগঠনের দুই নেতার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, জনপ্রতি সাড়ে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এই ভয়াবহ মানব পাচারের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুব নেতা ইউনুস আলী ও মাহিন ইসলাম। বর্তমানে বিদেশের মাটিতে আটকে পড়া ওই চার যুবকের জীবন নিয়ে তাঁদের পরিবারগুলো চরম শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে।

ভুক্তভোগীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, রাজধানীর উত্তরার ‘আর এস ইন্টারন্যাশনাল’ নামক একটি এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় নিরাপদ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিয়ে এই যুবকদের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। গত ৪ মে নাজমুল হক সৌরভ, মেহেদী হাসান, আল আমিন ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বাড়ি থেকে ঢাকায় নেওয়ার পর ৭ মে তাঁরা মস্কোর উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাশিয়ার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রথম দিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও দ্রুতই রুশ সেনারা তাঁদের পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে একটি হোটেলে বন্দি করে। পরে তাঁরা জানতে পারেন যে, তাঁদের চাকরির বদলে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঝেমধ্যে অন্যের ফোন ব্যবহার করে তাঁরা স্বজনদের কাছে উদ্ধারের জন্য করুণ আকুতি জানাচ্ছেন।

এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে নাজমুল হক সৌরভের বাবা দেলদার হোসেন বলেন, “আমার ছেলেকে ইউনুস সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়ে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। এখন শুনছি সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা দিন-রাত দুশ্চিন্তায় আছি।” একইভাবে মেহেদী হাসানের বাবা রাবিউল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “রাশিয়ায় ভালো চাকরির কথা বলে ইউনুস আমার ছেলেকে পাঠিয়েছে। এখন ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। সে নিখোঁজ।” গত ২১ মে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সামনে মানববন্ধন করে সন্তানদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনুস ও মাহিনকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অব্যাহতি পাওয়া নেতা ইউনুস আলী নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, “তারা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছে। এজেন্সির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। দুই দেশের দূতাবাসেও যোগাযোগ করা হয়েছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে আনার চেষ্টা চলছে।” তবে জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ একে ব্যক্তিগত লেনদেন উল্লেখ করে সংগঠনের কোনো দায় নেই বলে জানিয়েছেন। পাটগ্রাম থানার ওসি নাজমুল হক গণমাধ্যমকে জানান যে, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।


মেঘনায় ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবি: বাবা-ছেলেসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাবা-ছেলেসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) ভোররাতে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাসানচর এলাকা থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

নিহতরা হলেন,নুর ইসলাম জোমাদ্দার (৪৫), তাঁর ছেলে ইব্রাহিম জোমাদ্দার (১২) এবং একই এলাকার মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।

হিজলা নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশ্যে আটজন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রওনা হয়। নৌকাটি পুরাতন হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।

এ সময় স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে নুর ইসলাম জোমাদ্দার, তাঁর ছেলে ইব্রাহিম এবং হারুন বিশ্বাস নিখোঁজ হন।

পরে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে পুরাতন হিজলা এলাকা থেকে হারুন বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর বুধবার রাত ২টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জের ভাসানচর এলাকায় দুটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় জেলেরা নৌ পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

স্বজনরা পরে মরদেহ দুটি নুর ইসলাম জোমাদ্দার ও তাঁর ছেলে ইব্রাহিম জোমাদ্দারের বলে শনাক্ত করেন।

হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


হামের সংক্রমণের জন্য বিগত দুই সরকার দায়ী: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, নিয়মিত এমআর টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকায় দেশে হামের সংক্রমণ বেড়েছে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, “গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের আমলে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময় স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দের টাকা লুটপাট হয়েছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি ও এডিবির পক্ষ থেকে পাঁচবার অনুরোধ করার পরও আন্তর্জাতিকভাবে টিকা সংগ্রহ না করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য বেসরকারি উৎস থেকে টিকা কেনা হয়েছে।”

তিনি বলেন, প্রতি চার বছর পরপর এমআর টিকার ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর তা আর হয়নি। “এর ফল এখন আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে,” বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডোনার দেশগুলোর সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যে হামের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্যাভির কাছ থেকে ধার হিসেবে টিকা এনে প্রথমে বেশি আক্রান্ত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।

পরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনেও কার্যক্রম চালানো হয়।

তিনি বলেন, গত ২০ তারিখে শুরু হওয়া দেশব্যাপী ক্যাম্পেইনে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ। এখনো উপজেলার পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “যেসব মেশিন আমদানি করে বেশি টাকা মারা যাবে, সেসব রেডিওথেরাপি মেশিন কিনে বিভিন্ন হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়েছে। অনেকগুলোই এখন অকেজো।”

জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী জুলাই থেকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশ নারী। তাদের মাধ্যমে গ্রামপর্যায়ে মিডওয়াইফ ও কেয়ারগিভার সেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এক লাখের বেশি ডেঙ্গু স্যালাইন মজুত করা হয়েছে।

আউটসোর্সিং নিয়োগব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই পদ্ধতিতে তিন স্তরে দুর্নীতি হয়। টেন্ডারে, নিয়োগে এবং বেতনের সময়। আমরা এটি বন্ধ করব।”

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এর আগে সকালে মন্ত্রী পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।


চামড়ার ন্যায্য দাম নিশ্চিতে কঠোর নজরদারি করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির আশ্বাস দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের প্রান্তিক চামড়া সংগ্রহকারীরা যাতে তাদের সংগৃহীত চামড়ার সঠিক ও ন্যায্যমূল্য পান, সেটি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ তদারকি বজায় রাখা হবে।

আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এই কথা জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ের পর তিনি সার্কিট হাউসেই স্থানীয় চা-শ্রমিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, চামড়ার বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম দেখা দিলে প্রয়োজনে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। যদি অভ্যন্তরীণ বাজারে চামড়া ক্রয়ের ক্ষেত্রে ধীরগতি কিংবা স্থবিরতা লক্ষ করা যায়, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার 'ওয়েট ব্লু' চামড়া বিদেশে রপ্তানির অনুমতি দেবে। এসব বাস্তবমুখী উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্যই হলো কোরবানির চামড়ার সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং এই খাত থেকে দেশের রপ্তানি আয় বাড়ানো। এর পাশাপাশি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের आगामी বাজেট ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করবে এবং দেশে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, দেশের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চামড়ার কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় ক্ষোভ থেকে এ বছর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছিল কওমি মাদ্রাসাগুলো। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের বিশেষ হস্তক্ষেপে ও আশ্বাসে তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও, চামড়ার বাজারদর ও ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে এখনো উদ্বেগ কাটেনি।


ইজারা দেয়া হয়নি, বৃষ্টির কারণে মেট্রো স্টেশনের নিচে কোরবানির পশু রাখা হয়: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, রাজধানীর দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের জায়গা কোরবানির পশুর হাটের জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি। বৃষ্টির কারণে কিছু পশুর মালিক দুইদিন এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে কোরবানির পশুর ‘হাট’ অপসারণের পর সেখানে পরিচ্ছনতা কার্যক্রম চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

দুপুর সোয়া ২টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মেট্রোরেলের নিচে এসে কাজ শুরু করেন। বেলা আড়াইটার দিকে একটি পে-লোডার আনা হয়। এরপর সড়কে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ, ময়লা পরিষ্কার এবং হাটের বিভিন্ন অংশ পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলতে থাকে।

এরপরই এই কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিদর্শনকালে তিনি বলেছেন, গত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে কুরবানির পশু আশ্রয় নেয়।

তিনি আরও বলেন, দিয়াবাড়ি মেট্রো স্টেশনের নিচে উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু পশুর মালিক দুদিন এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দুইদিনই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং প্রশাসক নিজেও এসেছেন। ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় তাদেরকে এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ইজারাদারকেও জরিমানা করা হয়েছে। এখানে থাকা পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে।

ঊল্লেখ্য, এবার ঢাকার বড় কুরবানির পশুর হাট বসেছে উত্তরার দিয়াবাড়িতে। এই হাটে বিপুল পরিমাণ পশুর সমাগম হওয়ায় মূলত নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে প্রধান সড়ক ও মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশু বেঁধে রেখেছিলেন বিক্রেতারা।

এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়কে অবৈধভাবে পশু বেঁধে রাখার ঘটনায় গতকাল অভিযান চালিয়ে সেগুলো সরিয়ে দেওয়ার কথা জানায় প্রশাসন। একই সঙ্গে হাটের ইজারাদারকে ঘটনাস্থলে ডেকে সতর্ক করা হয়।

কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা সমালোচনা। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন সজাগ থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।


banner close