সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলা, এক মামলায় ১৩ জনের জেল

ছবি: সংগৃহীত
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০২৩ ১৮:২৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ভাঙচুরসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রায় সাড়ে ৬ বছর এক মামলার রায় দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ পারভেজ ১৩ জন আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন-মোখলেছ মিয়া, মো. মফিজুল হক, খসরু মিয়া, নাজির রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, ইদু মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পদাক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো. আব্দুল আহাদ, সায়হাম রাব্বি শ্যাম, মীর কাশেম, আনিছ মিয়া, তাবারক রেজা, সচিব চৌধুরী, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি। রায় দেয়ার সময় আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন মোখলেছ মিয়া, খসরু মিয়া, নাজির রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, ইদু মিয়া, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো. আব্দুল আহাদ, মীর কাশেম, সচিব চৌধুরী। পলাকত আসামিরা হলেন- মফিজুল হক, সায়েম রাব্বি শ্যাম,আনিস মিয়া, তাবারক রেজা ও আতিকুর রহমান আঁখি।

ফেসবুকে রসরাজ দাস নামে এক তরুণের আইডি থেকে ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্টের জেরে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলা সদরে হিন্দুদের ১৫টি মন্দির ও অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় আটটি মামলা হয় সে সময়।

৩ নভেম্বর দিনগত রাত সাড়ে চারটার দিকে দুর্বৃত্তরা উপজেলা সদরের পশ্চিমপাড়ার গোবর্ধন রায়ের (৫১) বাড়ির সামনের পুরাতন দুর্গা মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে মন্দিরের অধিকাংশ আগুনে পুড়ে যায়। একই সময় উপজেলার ঠাকুরপাড়ার কেশব চক্রবর্তীর বাড়ির রান্নাঘরেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নাসিরনগর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সাধন কান্তি চৌধুরী সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থরা কেউ মামলা দিতে রাজি না হওয়ায় ওই বছরের ৬ নভেম্বর এসআই সাধন কান্ত চৌধুরী অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার আটজন আসামি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর তদন্ত করে ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১৩জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌশলী মোস্তাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকের শুনানিতে ১১জন সাক্ষী দিয়েছেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ১৩ জনকে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘর পোড়ানোর ঘটনায় ন্যায় বিচার হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারমান কামরুজ্জামান মামুন বলেন, কোনো সাক্ষী মামলায় অভিযুক্ত হওয়া কাউকে ঘটনাস্থলে দেখতে পাননি। বাদী নিজেও ঘটনাস্থলে কোনো আসামিকে দেখেনি। আমরা বার বার আদালতকে বলেছি, সাজা প্রদান করতে হলে নূন্যতম সাক্ষী প্রয়োজন। আমরা ন্যায় বিচার পায়নি। অনতিবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রে আদালতের পরিদর্শক কাজী দিদারুল আলম বলেন, রায় প্রদানের সময় এজলাসে ৮জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। এই মামলায় পুলিশ তাদেরকে আরও আগেই গ্রেপ্তার করে। আটজন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রসরাজের ফেসবুকের পোস্টের জেরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উপজেলা শাখার নেতারা নাসিরনগর কলেজ মোড়ে বিক্ষোভের ডাক দেন। অন্যদিকে খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নেতারা নাসিরনগর খেলার মাঠে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। পৃথক এই সমাবেশ চলাকালে উপজেলা সদরে ১৫টি মন্দির ও হিন্দুসম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাতটি মামলা হয়। আর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে পোস্ট দেয়ার অভিযোগ এনে রসরাজের নামে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ধারায় একটি মামলা করে পুলিশ। আট মামলায় প্রায় তিন হাজার লোককে আসামি করা হয়।


মহাসড়কে বাড়ছে ডাকাতদের দৌরাত্ম্য

* দিনদুপুরেও লুট লাখ লাখ টাকা * গাছে পেরেক মেরে বা গুঁড়ি ফেলে কৃত্রিম ব্যারিকেড * ধারণা করা হয় পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশ * গোপন তথ্যদাতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট টার্গেট চেনা * আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে গাড়ি অবরুদ্ধ করা
ছবি: প্রতীকী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে দৌরাত্ম্য বাড়ছে সশস্ত্র ডাকাত দলের। সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে কোটি টাকার লেনদেনকারী ব্যবসায়ী ও বিকাশ এজেন্ট—কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না এই অপরাধীরা। কোথাও পুলিশি পোশাক পরে পথরোধ, কোথাও সড়কে পেরেক লাগানো কাঠ বা গাছের গুঁড়ি ফেলে ফাঁকা গুলি ছুড়ে বাস জিম্মি, আবার কোথাও গোপন সোর্সের খবরের ভিত্তিতে টার্গেট কুপিয়ে লাখ লাখ টাকা ছিনতাই করা হচ্ছে। কক্সবাজার, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় সারাদেশের পরিবহন খাতে মারাত্মক আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজার: টেকনাফে বাসে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, বিকাশ এজেন্টের ৫৭ লাখ টাকা লুট। রোববার (২ আগস্ট) বেলা পৌনে দুইটার দিকে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতুর কাছে দিনদুপুরে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ডাকাতির ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে ‘পালকি পরিবহন’-এর একটি বাস কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। বাসটি দমদমিয়া এলাকায় পৌঁছালে ১৫ থেকে ২০ জনের একদল অস্ত্রধারী ডাকাত সড়কে পেরেকযুক্ত কাঠ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড দেয়। বাসের চাকা ফুটো হওয়ার ঝুঁকিতে বাসটি থামতে বাধ্য হলে ডাকাতরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

৫-৬ জন মুখোশধারী ডাকাত বাসে উঠে সরাসরি বিকাশের দুই বিক্রয় প্রতিনিধিকে খুঁজতে থাকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কর্মী মো. আল আরমানকে (২৬) এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয় এবং অপর প্রতিনিধি একরাম হোসেনের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর করে ৫৭ লাখ টাকা ভর্তি দুটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।

টেকনাফের বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ী আবদুল করিম জানান, সকালে সীমান্ত ব্যাংক থেকে তোলা ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার মধ্যে ৫৭ লাখ টাকা নিয়ে কর্মীরা হ্নীলা, লেদা ও হোয়াইক্যং যাচ্ছিলেন। গোপন খবরের ভিত্তিতেই এই ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

গুরুতর আহত আরমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসচালক ফয়েজুল করিম ও তার সহকারীকে থানায় আনা হয়েছে। লুটের টাকা উদ্ধারে পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযান চলছে।

কুমিল্লা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডাকাত দলের সদস্যরা। দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ১০৩ কিলোমিটার মহাসড়কে যানবাহনের গতিরোধ, রড, পাথর এবং ডিম নিক্ষেপ করে ডাকাতি ছিনতাই করাই সংঘবদ্ধ এ দলের কাজ।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর, ইলিয়টগঞ্জ, গোমতা, চান্দিনার মাধাইয়া, সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন অংশে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং প্রবাস ফেরত লোকজন তাদের প্রধান টার্গেট।

সূত্র জানায়, মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত এসব ডাকাত বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। বিভিন্ন স্টেশন এলাকায় বাসা ভাড়া করে তারা ঘাপটি মেরে আছে। বিশেষ করে ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, নিমসার, ময়নামতি এবং পদুয়ার বাজার এলাকায় অর্ধশতাধিক ডাকাত সদস্য বাসা ভাড়া করে থাকে।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, রাতের আঁধারে বিভিন্ন ভাড়া বাড়িতে তারা একত্রিত হয়ে গোপন বৈঠক করে। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে তারা দেশীয় মোবাইল সিমের পরিবর্তে বিদেশি সিম নম্বর ব্যবহার করে। তাছাড়া বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে ডাকাতির মিশন এবং যোগাযোগ রক্ষা করে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, আমরা ডাকাতি প্রতিরোধে নিয়মিত টহল জোরদার করেছি। ডাকাত দলের সদস্যদের পেলেই গ্রেপ্তার করা হবে।

কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, শীর্ষ ডাকাত জজ এবং তার সঙ্গীদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কয়েকজনেক এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ অংশে পুলিশি পোশাকের ছদ্মবেশ ধারণ করে ডাকাতি চালিয়েছে এক সংঘবদ্ধ চক্র। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ব্যবসায়ী মো. সামছুল আলম সরকার পরিবার নিয়ে সিলেটের শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা দেন। শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা ১০-১২ জনের একটি দল তাদের গাড়ির গতি রোধ করে।

ছিনতাই ও গাড়ি নিয়ে চম্পট: অস্ত্রের মুখে পুরো পরিবারকে জিম্মি ও মারধর করে ৪টি মোবাইল ফোন, নগদ ৯৩ হাজার টাকা কেড়ে নেয় ডাকাতরা। এমনকি মূল গাড়িটি ছিনিয়ে নিয়ে তারা সিলেটের দিকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করে শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুরে অভিযান চালিয়ে ৩ আসামিকে (রাসেল, শিপন ও অহিবুর) গ্রেপ্তার করে মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করেছে।

টাঙ্গাইল: এর আগে ১৪ জুলাই রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকার ঢাকাগামী সার্ভিস লেনে ডাকাতির উদ্দেশে সমবেত হয়েছিল একটি ডাকাত চক্র।

টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ বিশেষ নাইট পেট্রোল পরিচালনাকালে রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে বগুড়ার আরিফ (৩২) ও টাঙ্গাইলের সাজ্জাত (২২) নামের দুই ডাকাতকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তাদের হেফাজত থেকে ১টি পিকআপ গাড়ি, ১টি হাইড্রোলিক জ্যাক, ১টি হাইড্রোলিক কাটার, ২টি লোহার পাইপ, অ্যাডজাস্টেবল রেঞ্চ ও প্লাস উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানাধীন মোবারকপুর ইউনিয়নের কানসাট-গোমস্তাপুর রোডের মিনু বাজার এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালায়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সিএনজি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ রাসেল (২৭),কানু ডাকাত (৪৭) এবং রুবেল (২২) নামের তিন ডাকাতকে হাতেনাতে আটক করে। পুলিশ জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কে চলাচলকারী গাড়ি ও পথচারীদের জিম্মি করে ডাকাতি করে আসছিল।

পর পর একাধিক মহাসড়কে সশস্ত্র ডাকাতি ও সহিংসতার ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে অপরাধ পর্যালোচনা সভায় হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ এবং যানজট নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ওই সভায় হাইওয়ে পুলিশের সব ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন রিজওনাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপারসহ সব থানা/ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ।

পরিবহন চালক ও যাত্রীদের দাবি হাইওয়ে পুলিশের টহল কেবল প্রধান পয়েন্টগুলোতে সীমাবদ্ধ না রেখে ঝুঁকিপূর্ণ লিংক রোড ও নির্জন স্থানগুলোতে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা গোয়েন্দা নজরদারি ও মোবাইল পেট্রোল চালু করতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকি দিন দিন আরও বাড়বে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার কক্সবাজার, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি।


ভুল ও অপতথ্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একসময় তথ্যের অপ্রতুলতাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু এখন ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন) ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন) সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তথ্যের প্রাচুর্যের এই যুগে জনমতকে প্রভাবিত করতে পরিকল্পিতভাবে ভুল ও অপতথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রোববার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাবির মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবির।

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একসময় সীমিত তথ্যপ্রবাহের যুগেও তথ্য বিকৃতির সুযোগ ছিল। তবে এখন সেই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। আধুনিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় নির্বাচনের সময় দোদুল্যমান ভোটারদের লক্ষ্য করে এবং জনমত পরিবর্তনের উদ্দেশে পরিকল্পিত ডিসইনফরমেশন প্রচারণা পরিচালিত হয়। ফলে জনমত ব্যবস্থাপনাই এখন বড় এক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এখনো একটি চ্যালেঞ্জ। তবে ভুয়া ও বিকৃত সংবাদের হুমকি এখন অনেক বেশি বিস্তৃত হয়েছে। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রযুক্তি ও আধুনিক পদ্ধতির সহায়তায় এ সমস্যা মোকাবিলায় আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি।’

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দিলেও তাদের যথাযথ বেতন-ভাতা দেয় না। ফলে তারা অনিরাপদ অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হন।

এ সমস্যা সমাধানে তিনি গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তুলে সাংবাদিকতা পেশাকে আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার একটি সুসংগঠিত কাঠামোর আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্বপন বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শেষে ‘মিডিয়া কমিশন’ গঠনের কাজও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং গণমাধ্যমব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে অতীতের সব গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করা হবে।

তথ্যমন্ত্রী জানান, সরকার ১৯৭৩ সালের প্রেস আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ সংশোধনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও আইন প্রয়োগসংক্রান্ত ক্ষেত্রে ‘সরকারবিরোধী’ শব্দের পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ শব্দ ব্যবহার করা হবে।

সাংবাদিকদের অধিকার ও গণমাধ্যম আইন সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী নীতিগতভাবে এ সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান আইনে অনুমোদন বা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘সরকারবিরোধী’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হলে তিনি নীতিগতভাবে এটি পরিবর্তনে সম্মতি দিয়েছেন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডকে ‘সরকারবিরোধী’ নয়, বরং ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন আনা হবে।


ঢাকা ওয়াসার নতুন চেয়ারম্যান সাব্বির মোস্তফা খান

ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সাব্বির মোস্তফা খান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সাব্বির মোস্তফা খান। রোববার (২ আগস্ট) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের এই অধ্যাপককে তিন বছরের জন্য চেয়ারম্যান পদে বসানোর কথা বলা হয়েছে।

ড. সাব্বির মোস্তফা খান দুই যুগের বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৬ সালে বুয়েটের পুরকৌশল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৯৯৭ সালে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পানিসম্পদ কৌশল (ডাব্লিউআরই) বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ড্রেনেজ মডেলিং, হাইড্রোলজিক, হাইড্রোডাইনামিক এবং মরফোলজিক্যাল মডেলিংয়ের পাশাপাশি পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ (ইএসআইএ) এবং জলবায়ু সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।

​কর্মজীবনে তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে নদী তীর সংরক্ষণ বিষয়ক একটি কোর্সে ‘রিসোর্স পারসন’ হিসেবে কাজ করেছেন।

চীনের চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (সিএএস) সঙ্গে বুয়েটের একটি যৌথ গবেষণা প্রকল্পে সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

এছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের হয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিআইএফএফএলএর পরিবেশগত ও সামাজিক মনিটরিং ফ্রেমওয়ার্ক (ইএসএমএফ) হালনাগাদের কাজ করেছেন এই অধ্যাপক। দেশি-বিদেশি সাময়িকী ও কনফারেন্স প্রসিডিংসে তার ৩০টির বেশি প্রকাশনা রয়েছে।


রূপপুরের চুল্লিতে জ্বালানি, বিদ্যুৎ পেতে বাড়ছে অপেক্ষা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বিলম্বিত হচ্ছে। পারমাণবিক জ্বালানি লোড এবং প্রাথমিক কমিশনিং সংক্রান্ত পরীক্ষা শেষ হলেও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) ‘বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স’ না পাওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যাবে না।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং শুরুর পর আশা করা হয়েছিল আগস্টেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। তবে সেই লক্ষ্য এখনই পূরণ হচ্ছে না। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘ক্রিটিকালিটি’ অর্জনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও বায়েরার চূড়ান্ত লাইসেন্সের ওপরই এখন সব নির্ভর করছে।

জটিল পরীক্ষা ও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা: গত ১২ মে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বা পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানোর কাজ শেষ হয়। এরপর শুরু হয়েছে কমিশনিং ও স্টার্টআপের সবচেয়ে সংবেদনশীল পর্যায়।

প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২,০৪৬টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৯০টি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের শেষ পর্যায়ে আরও ১৮টি পরীক্ষা বাকি। এসব পরীক্ষায় যন্ত্রপাতির সচলতার পাশাপাশি চুল্লির চাপ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জরুরি নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, কুলিং সিস্টেম এবং নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থার পারস্পরিক সমন্বয় যাচাই করা হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রতিটি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে সন্তুষ্ট হতে হয়। কোনো ফলে অসংগতি থাকলে তা সংশোধনের পর পুনরায় পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক।

বিদ্যুৎ গ্রিডে যাওয়ার প্রক্রিয়া: চলমান পরীক্ষা সফল হলে এবং লাইসেন্স মিললে প্রথমে চুল্লিকে ‘ক্রিটিক্যাল’ অবস্থায় নেওয়া হবে। পারমাণবিক প্রকৌশলে ক্রিটিক্যালিটি হলো চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ শৃঙ্খল বিক্রিয়া (Chain Reaction) শুরু হওয়া, যা একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান মাইলফলক।

ইউরেনিয়াম পরমাণুর বিভাজনে উৎপাদিত তাপ থেকে বাষ্প তৈরি হবে, যার চাপে ঘুরবে টারবাইন এবং জেনারেটর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে।

উৎপাদন বাড়ানোর ধাপ: শুরুতে কম শক্তিতে রিঅ্যাক্টর চালিয়ে পরীক্ষা করা হবে। এরপর ক্ষমতা ১০-১২শতাংশ থেকে ধাপে ধাপে ৩৫-৪০শতাংশে নেওয়া হবে।

পরীক্ষামূলক সংযোগ: সব পরীক্ষা সফল হলে আগস্টের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

ডিসেম্বরের লক্ষ্য বনাম বাণিজ্যিক উৎপাদন: সরকারি পরিকল্পনায় প্রথম ইউনিট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করা হলেও বিশেষজ্ঞরা একে অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী মনে করছেন।

পরীক্ষামূলক পরিচালনায় চুল্লির ক্ষমতা বারবার বাড়ানো-কমানো এবং প্রয়োজনভেদে বন্ধ রেখে যাচাই করতে হয়। এতে ৭ থেকে ৮ মাস সময় লাগতে পারে। ফলে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন ২০২৭ সালের প্রথম ভাগে (মার্চ বা এপ্রিলের দিকে) গড়াটাই স্বাভাবিক।

গ্রিডের প্রস্তুতি ও ‘স্পিনিং রিজার্ভ’ ঝুঁকি: বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য জাতীয় সঞ্চালন অবকাঠামো প্রস্তুত বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। তবে ১,২০০ মেগাওয়াটের বিশাল একটি পারমাণবিক ইউনিট আচমকা বন্ধ হয়ে গেলে গ্রিড ট্রিপ করার ঝুঁকি থাকে।

এই ঘাটতি সামলাতে তাৎক্ষণিক ব্যাকআপ সক্ষমতা বা ‘স্পিনিং রিজার্ভ’ প্রস্তুত রাখা অপরিহার্য। পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে স্বয়ংক্রিয় ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সচল রাখা প্রয়োজন, যা দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে পিবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

প্রকল্পের আর্থিক চিত্র ও মেয়াদ বৃদ্ধি: ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পে ১,২০০ মেগাওয়াটের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর বসানো হচ্ছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক লেনদেন জটিলতা ও ডলার সংকটের কারণে বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রায় চুক্তিমূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও টাকার অবমূল্যায়নের ফলে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায়। সময়মতো প্রথম ইউনিট চালু না হওয়ায় বছরে আনুমানিক ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয়ের সুযোগও পিছিয়ে গেছে।

বিদ্যুতের দাম ও জ্বালানি চুক্তি: বিদ্যুতের দাম: প্রথম ইউনিটের বিদ্যুতের দাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন, পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি ও ঋণ পরিশোধের হিসাব কষে পিডিবির সঙ্গে এনপিসিবিএলের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (PPA) হবে।

জ্বালানি সরবরাহ: রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘টিভিএল’ জ্বালানি সরবরাহ করছে। প্রথম ৩ বছরের জ্বালানি মূল চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। এক দফা জ্বালানিতে কেন্দ্রটি প্রায় ১৮ মাস চলবে, যার পর এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি বদলাতে সর্বোচ্চ ২ মাস উৎপাদন বন্ধ রাখতে হবে।

রূপপুর প্রকল্পের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান এ বিষয়ে বলেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর আমরা সফলভাবে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ ৯০টি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। এখন বায়েরা চূড়ান্ত পরিদর্শন শেষে লাইসেন্স দিলেই আমরা পরবর্তী ধাপে যেতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ক্রিটিকালিটি অর্জনের পরও সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে না। আরও চার থেকে ছয় সপ্তাহ বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষা ও প্রস্তুতি শেষে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তবে প্রথম ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে শেষপর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিংয়ের সময়সূচি প্রথম ইউনিটের তুলনায় প্রায় এক বছর পিছিয়ে থাকবে।

তবে বায়েরা এখনো জানায়নি, কবে নাগাদ বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স দেওয়া হবে।

বায়েরার চেয়ারম্যান মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘এই পর্যায়ে লাইসেন্স দেওয়া অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সন্তোষজনক ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা লাইসেন্স দেব।’

তিনি বলেন, প্রকল্প আগেই বিলম্বিত হলেও নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কবে নাগাদ লাইসেন্স দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।

রূপপুর প্রকল্পের সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. শওকত আকবর বলেন, একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সফলভাবে কমিশনিং সম্পন্ন করতে বাস্তবায়নকারী সংস্থা, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ঠিকাদার ও নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক প্রকল্পে প্রতিটি সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হয়। সঠিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে পারলেই প্রকল্প সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’


নিখোঁজের ১০ দিন পর ট্রাভেল ব্যাগে মিলল কাস্টমস সিপাহীর ১৫ টুকরো লাশ

আল-আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)
নিহত কাস্টমস সিপাহী আবু রায়হান তালুকদার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আল-আমিন, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)

নিখোঁজের দশ দিন পর বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে কাস্টমসের সিপাহী আবু রায়হান তালুকদারের লাশের ১৫ টুকরো উদ্বার করেছে পুলিশ।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর উত্তর পাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত পুকুর থেকে উদ্ধারকৃত তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে খন্ডিত মরদেহ পাওয়া যায়। সে নিখোঁজের তিন দিন পর থেকে তার বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল এলাকা ছেড়ে গাঢাকা দিয়েছেন। তারা দুজনেই মাদকাসক্ত।

পুলিশের ভাষ্য, পরিকল্পিতভাবে ৭ থেকে ৮ দিন আগে তাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর ঘাতকরা তার হাত, পা, মস্তক, কোমড়সহ দেহ ১৫টি অংশ আলাদা করে। পরে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশে নির্ঝন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে রাখে। লাশ উদ্ধারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত আবু বকর সিদ্দিক তালুকদারের কনিষ্ঠ পুত্র আবু রায়হান তালুকদার (৪০)। সে বাংলদেশ কাস্টম হাউজ কমলাপুরে সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গতকাল সকালে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রায়হানের বাড়িতে যায়। ঘটনা দশ দিন অতিবাহিত ও কেয়ারটেকার পলাতক থাকায় পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাপড়া, পুকুর ও খাল বিলে খোঁজ নিতে বলেন স্বজনদের। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসার পথিমধ্যে স্থানীয়রা খবর দেয় বাড়ির পূর্ব পাশে একটি পরিত্যক্ত পুকুরে দুটি কালো ও একটি আকাশি রঙের তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ভাসতে দেখা যাচ্ছে। পুলিশ গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তা পুকুর থেকে ব্যাগ তিনটি উপরে উঠালে দুগর্ন্ধ ছড়ায়। খোলার পর ব্যাগের ভেতরে টুকরো টুকরো লাশের খন্ডিত অংশ দেখা যায়।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে বাংলদেশ কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট দপ্তরে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে যোগদান করেন আবু রায়হান তালুকদার। পদোন্নতি পেয়ে সিপাহী হয়। বর্তমান কর্মরত কাস্টম হাউজ কমলাপুর। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে নিজ কর্মস্থল থেকে বাড়িতে আসেন আবু রায়হান তালুকদার। বাড়ির কেয়ারটেকার রাজুকে নিয়ে রাতে নিজ ঘরে অবস্থান করছিলেন। পরের দিন শুক্রবার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার উদ্যেশে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় রাজু। দুই দিন পর সোমবার তার অফিসের এক সহকর্মী তার চাচাতো বোন প্রভাষক নাজমুন্নাহার বিউটি কে মোবাইল ফোনে জানান আবু রায়হান অফিসে আসেননি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে। এরপর থেকে আত্মীয় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে ২৭ জুলাই রাতে আবু রায়হানের বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ছোট ভাই নিখোঁজ উল্লেখ করে ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)করেছেন। পরের দিন জিডির তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে তার কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। আবু রায়হান তালুকদারের বাড়ি থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূর পার্শ্ববর্তী রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের ফজলু মির্জার ছেলে কেয়ারটেকার রাজু। রাজুর বন্ধুদের তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির পাশে বাজুয়া নদী থেকে স্থানীয় ডুবুরি দিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে নিহত রায়হানের বাসার চাবির ছড়া উদ্ধার করে পুলিশ। থানায় জিডি করার ৬ দিন পর গতকাল অর্ধগলিত বিখন্ডিত লাশে মিলল কস্টমসের সিপাহী আবু রায়হানের। ছেলের লাশ পাওয়ার খবরে অশীতিপর মা রাহেলা খাতুন ও স্বজনদের কান্নায় গ্রামের বাতাসে ভেসেছে বেদনার ক্ষত। পরিবারের সবাই বাকরুদ্ধ। কারও সন্তনা তারা মেনে নিতে পারছে না। তাদের প্রশ্ন কি এমন অপরাধ ছিল রায়হানের ? যে নির্মম ভাবে হত্যা করে শরীরের অংশ গুলো টুকরো টুকরো করা হলো ?

পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে আরও জানাগেছে, ২০১৬ সালে মাঝামাঝি পাশ^বর্তী আছিম পাটুলী ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামে সুরাইয়া আক্তার সাথীকে বিয়ে করেন আবু রায়হান। তাদের ঘরে এক কন্যা সন্তান হয়। গত ৫ বছর আগে সংসার ভেঙে যায়। ৮ বছরের কন্যা রিয়া মায়ের সাথে বসবাস করেন নানার বাড়িতে। ঢাকার কমলাপুরে চাকুরির সুবাদে আবু রায়হান সেখানে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বয়োবৃদ্ধ মায়ের দেখভাল করতে প্রতি সপ্তাহে ছুটির দিনে বাড়ি চলে আসেন। মায়ের দেখাশুনা ও বাড়ির পাহাড়া দিতে পার্শ্ববর্তী অনন্তপুর গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্র রাজু (১৬) কে বাড়ির পরিচার্যক হিসেবে রাখেন। তাকে মাসিক বেতন ও লেখাপড়ার খরচও দিতেন। গত বৃহস্পতিবার বাড়িতে এসে রায়হান ও রাজু একই ঘরে থাকেন। কথাবার্তায় অন্যদিনের চাইতে একটু অসংলগ্নতা দেখতে পাওয়ার কথা জানান মেঝো ভাইয়ের স্ত্রী জোৎসনা বেগম। পরদিন শুক্রবার কর্মস্থলে যাওয়ার গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য পরিচার্যক রাজু ও তার বন্ধু জিতুল বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ থাকে কাস্টমসের সিপাহী আবু রায়হান।

নিহতের ভাগ্নে জাহিদুল ইসলাম হৃদয় বলেছেন, রাজু ও জিতুল মিলে আমার মামা রায়হান কে অপহরণ করে হত্যা করেছে। তারা দু’জনেই মাদকাসক্ত। নিখোঁজ থাকার পর মামার ইসলামী ব্যাংকের একাউন্ট থেকে এটি এম কার্ডে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

বড় ভাই নুরুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে আবু রায়হানকে বাড়িতে না পেয়ে রাজুকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানিয়েছে, অফিসের ফোনে জরুরি ঢাকায় যেতে তাকে কাহালগাঁও বাজারে পৌছে দিয়েছেন। তার কথা মধ্যেই ছিল রহস্যতা, কিন্তু বুঝতে পারিনি। আমার সহজ সরল ভাইকে কেন হত্যা করালো ওরা? রাজুর লেখাপড়াসহ সব খরচ দিত রায়হান, রাজু গ্রেপ্তার হলেই সব কিছু বের হয়ে আসবে।

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান জানান, ঘাতকরা আবু রায়হানকে হত্যার পর লাশ ১৫ টুকরো করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগের ভরে বাড়ির পাশে নির্ঝন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে রাখে। ধারনা করা হচ্ছে ৭ থেকে ৮ দিন আগে হত্যা করা হয়েছে। লাশের টুকরো গুলো একেবারে পচে গেছে। নিখোঁজের তিন দিন পর থানায় জিডি করেন। এরপর থেকে পুলিশ কাজ করছে। হত্যা কান্ডে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে।

ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাল আল মামুন জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে। সোমবার লাশের ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হবে। কাজ করা হচ্ছে আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উৎঘাটন করা হবে। বাড়ির কেয়ারটেকার বিষয়েও অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানিয়েছে।


মৌসুমের শেষে সাপাহারের আমের বাজারে কোটি টাকার বেচাকেনা

* ঊর্ধ্বমুখী দামে হাসি ফিরেছে আমচাষিদের মুখে
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

মৌসুম প্রায় শেষের পথে হলেও নওগাঁর সাপাহারের ঐতিহ্যবাহী আমের হাটে এখনো ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় কমেনি। বাজারে আমের সরবরাহ আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বর্তমানে প্রতিদিন এই বাজারে প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষিরা ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও শ্যালোচালিত যানবাহনে ক্যারেট ভর্তি আম নিয়ে বাজারে আসছেন। তবে মৌসুমের শেষ দিকে আমের পরিমাণ কমে যাওয়ায় প্রতিটি চালান ঘিরেই ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলছে দামের তীব্র দর-কষাকষি।

এখন বাজারে মূলত ব্যানানা ম্যাংগো, আশ্বিনা, গৌড়মতি, কাটিমন, বারি-৪ এবং অল্প পরিমাণ আম্রপালি পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে আম্রপালির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মানভেদে প্রতি মণ আম্রপালি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যানানা ম্যাংগোর দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, বারি-৪ চার থেকে আট হাজার টাকা, আশ্বিনা দুই থেকে তিন হাজার টাকা এবং গৌড়মতি ও কাটিমন তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় আমচাষিদের ভাষ্য, ‘মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত গরমের কারণে অধিকাংশ আম নির্ধারিত সময়ের আগেই পেকে যায়। ফলে বাজারে একসঙ্গে প্রচুর আম ওঠায় দাম কমে যায় এবং অনেক কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতেও হিমশিম খেয়েছেন। তবে এখন সরবরাহ কমে যাওয়ায় অবশিষ্ট আমের ভালো মূল্য মিলছে।’

আমচাষি জামাল হোসেন বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে বাজারমূল্য আশানুরূপ না থাকায় অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। শেষ সময়ে এসে দাম বাড়লেও শুরুতে হওয়া লোকসান পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

আরেক চাষি লতিফ হোসেন জানান, তার আড়াই বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আম্রপালির ভালো দাম না পেলেও বর্তমানে বারি-৪ জাতের আম বিক্রি করে সন্তোষজনক মূল্য পাচ্ছেন।

সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, ‘বর্তমানে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও তেমন আম নেই। বাজারে আমের সরবরাহ আরও কমলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে নওগাঁর আমের স্বাদ ও গুণগত মান আলাদা। তাই কৃষকদের লেট ভ্যারাইটি আমের চাষে উৎসাহিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে মৌসুমের শেষভাগেও তারা লাভজনক দামে আম বিক্রি করতে পারেন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৫ টন। এ বছর আমকে কেন্দ্র করে জেলায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।


মশার জন্মস্থান চিহিৃত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে

জেলা তথ্য অফিসের আরসিসিই সভায় জেলা প্রশাসক
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর প্রতিনিধি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে আরও জোরদার করতে সরকারের সকল দপ্তরগুলোর প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। তিনি বলেন, ‘শুধু নিজের বাড়ি বা অফিস আঙিনা না, যার যার কাজের আওতাধীন জমিতে বা রাস্তায় অথবা কর্মপরিবেশে পানি জমে মশার জন্ম হতে পারে এমন সম্ভাব্য জায়গার জেলাব্যাপী পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করে দ্রুত পরিচ্ছন্নতা শুরু করতে হবে।’

‎‎তিনি রোববার (২ আগস্ট) পিরোজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আবদুর রাজ্জাক সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে ‘রিস্ক কমিউনিকেশন অ্যান্ড কমিউনিটি এনগেজমেন্ট’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এই নির্দেশনা দেন। ইউনিসেফের সহযোগিতায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা তথ্য অফিস এই সভার আয়োজন করে।‎

‎জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিৎ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মাহমুদুর রজমান মামুন বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, তথ্য অফিসার সাইফুদ্দিন আল মাদানি।

‎জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর। প্রয়োজনে তারা আওতাধীন কমিউনিটিকে সাথে নিয়ে এই কাজটি করবে। এ কাজে গাফিলতি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সরকারি জলাশয় বা পুকুরসহ যেকোনো হটস্পট চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সারা জেলার তথ্য দিয়ে তালিকা তৈরিতে জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করতে হবে। তালিকা তৈরিতে জেলাব্যাপী কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদেরও সহযোগিতা কামনা করেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি তিনি মশকনিধন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।’

‎সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানসহ জেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ও জেলা তথ্য অফিসের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সহায়ক যুবক গ্রুপ বিডি ক্লিনের সমন্বয়ক অংশগ্রহণ করেন।

‎পিরোজপুর জেলায় গতকাল রোববার পর্যন্ত ১ হাজার ৭৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫১২, ভান্ডারিয়ায় ১৯৫, নেছারাবাদে ১৮৭ জন।‎


সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর স্মরণে সাটুরিয়ায় দোয়া মাহফিল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের বড় পয়লা বায়তুন নূর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসংলগ্ন প্রাঙ্গণে সাবেক মন্ত্রী, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মানিকগঞ্জ -৩ আসনের সাবেক এমপি এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার পিতা হারুনার রশিদ খান মুন্নুর ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (২ আগস্ট) স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে সিঙ্গাপুর বিএনপি (মানিকগঞ্জ শাখার) সভাপতি ও সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সার্বিক সহযোগিতায়, বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাটুরিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. বরকত মল্লিক, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আমীর হামজা, সদস্য সচিব ফরিদ হোসেন, সাটুরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন আদর্শ, সততা ও ত্যাগের রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণে তার অবদান আজও এলাকাবাসীর কাছে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী ছিলেন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের দায়িত্ব মনে করতেন। তাঁর কর্মময় জীবন, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তার দেখানো আদর্শ ও নীতিকে ধারণ করে দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

পরে গোপালপুর হাফেজিয়া ফুরকানিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল্লাহ আল হেলালীর পরিচালনায় মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নুর রুহের মাগফিরাত, দেশ ও জাতির শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবার মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।


খুলনার লবণচরায় দুই বিদেশি পিস্তলসহ ৩ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার রায়পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড তাজা গুলি ও নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকাসহ কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানির’ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬, সিপিসি স্পেশাল কোম্পানি।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় মো. ইলিয়াস সরদার (৪২), মো. সুজন (৩৮) ও মো. নান্না বেপারিকে (৫৭) ।

র‍্যাব জানায়, নান্না বেপারির বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইলিয়াস ও সুজনের হেফাজত থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি এবং নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কেএমপি, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলায় হত্যাচেষ্টা, মাদক ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং মামলা শেষে লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হবে।


কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন লিজের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রতিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় (লিজের মাধ্যমে) পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দুই দিনের সফরে কক্সবাজারে এসেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। সফরের অংশ হিসেবে তিনি কক্সবাজার রেলপথের বিভিন্ন স্টেশন ঘুরে দেখছেন এবং যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সুবিধা মূল্যায়ন করছেন।

গত শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে চকরিয়ায় তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা হলে এর কার্যকারিতা, যাত্রীসেবার মান এবং আর্থিক সম্ভাবনা কেমন হবে, সেটিই মূলত যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘রেলপথ শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমির অন্তত ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল থাকা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে রেলপথ-সংলগ্ন এলাকায় সবুজায়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, দোহাজারী-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণকালে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ অপসারণ করা হয়েছিল। এর পরিবর্তে যেসব গাছ রোপণ করা হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে নতুন করে কোথায় বৃক্ষরোপণ করা যায়, তাও নির্ধারণ করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “চকরিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ করতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ নামে আরও এক জোড়া ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি চালু হলে চকরিয়ার যাত্রীরা সহজেই চট্টগ্রামে গিয়ে ঢাকাগামী ট্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন।”

নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও হারবাংসহ বিভিন্ন স্টেশনে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি এবং রেলওয়ে পুলিশের টহল জোরদার করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সবুক্তগীন মাহমুদ, কক্সবাজার রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এরশাদুল হক এবং তমা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প পরিচালক বিমল সাহা।


ভোলায় মৃত শিক্ষকের ইনডেক্সে বেতন, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে একই নামের এক মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এ ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সুপার মো. নুরুজ্জামান। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

‎‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ মো. মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তার ইনডেক্স নম্বর ছিল ৩৬৪৭৭৬ এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬। পরবর্তীতে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়ে যায়।

‎‎মাদ্রাসা সুপারের অভিযোগ অনুযায়ী, তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিন (পিতা আছমত আলী মহাজন) ২০০৬ সালের ৭ অক্টোবর সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। তার নিজস্ব ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২ এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৫৭৭। কিন্তু নামের মিল থাকার সুযোগে তিনি মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।‎

‎লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পরও তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও জুনিয়র শিক্ষক পদের বেতন-ভাতা ভোগ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এমপিওসংক্রান্ত নথিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বরের বিপরীতে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।‎

‎তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি কোনো তথ্য গোপন করিনি। বেতন ইস্যুর দায়িত্ব মাদ্রাসা সুপার ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির। তাদের অনুমোদন ছাড়া কোনো অর্থ উত্তোলন সম্ভব নয়।’

‎‎তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৮ সালে বিষয়টির সমাধানের কথা বলে মাদ্রাসা সুপার তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। পরে সেই টাকা ফেরত চাইলে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা শুরু হয়।

‎‎অন্যদিকে মাদ্রাসা সুপার মো. নুরুজ্জামান অর্থ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মাদ্রাসার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। বিভিন্ন কারণে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে।’

‎‎এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’

‎‎জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা শাখার সেক্রেটারি কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন, ‘অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় মাদ্রাসা সুপারের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।‎

‎ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।


চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও আহরণ বিষয়ক জনসচেতনতামূলক সভা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি এসকল এলাকার জেলে ও স্থানীয় জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

রবিবার (০২ আগস্ট) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

এরই ধারাবাহিকতায়, রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১১ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন চাঁদপুর কর্তৃক চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী সংলগ্ন এলাকায় মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ এবং মৎস্যজীবীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় দেশের মৎস্য সম্পদের গুরুত্ব, অবৈধ ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা, নদী ও জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এসময় স্থানীয় জেলেদের বিভিন্ন মতামত ও সমস্যার কথা শোনা হয় এবং মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও), উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মৎস্য অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধি এবং জেলে সম্প্রদায়ের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।


ডিএনসিসির প্রশাসক ও এমপি জাহাঙ্গীরের পরিদর্শনের সময় হামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর হওয়া হামলার স্থান পরিদর্শনে গিয়ে পুনরায় হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ি এলাকার অস্থায়ী বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রে (এসটিএস) এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক মালিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকালে এসটিএসে কর্মরত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মীদের ওপর ‘নেপচুন অ্যাকসেসরিজ’ নামের একটি পোশাক কারখানার মালিকপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে ১৫ থেকে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন, যাদের মধ্যে গুরুতর চারজনকে উত্তরের কুয়েত–বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকালে ঘটা এই ঘটনার কারণ জানতে ও এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করতে বিকেলে ডিএনসিসি প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তির দাবি অনুযায়ী, প্রশাসক ও সংসদ সদস্য যখন সংশ্লিষ্টদের কাছে সকালে সংঘটিত হামলার জবাবদিহি চাচ্ছিলেন, তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কারখানার মালিকপক্ষের ভাড়াটে বাহিনী তাঁদের উপস্থিতিতেই পুনরায় হামলা চালায়।

পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জড়িত তিনজনকে আটক করে। এই হামলার পর প্রশাসক ও সংসদ সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দেখতে যান এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।


banner close