ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ভাঙচুরসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রায় সাড়ে ৬ বছর এক মামলার রায় দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ পারভেজ ১৩ জন আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন-মোখলেছ মিয়া, মো. মফিজুল হক, খসরু মিয়া, নাজির রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, ইদু মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পদাক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো. আব্দুল আহাদ, সায়হাম রাব্বি শ্যাম, মীর কাশেম, আনিছ মিয়া, তাবারক রেজা, সচিব চৌধুরী, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি। রায় দেয়ার সময় আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন মোখলেছ মিয়া, খসরু মিয়া, নাজির রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, ইদু মিয়া, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো. আব্দুল আহাদ, মীর কাশেম, সচিব চৌধুরী। পলাকত আসামিরা হলেন- মফিজুল হক, সায়েম রাব্বি শ্যাম,আনিস মিয়া, তাবারক রেজা ও আতিকুর রহমান আঁখি।
ফেসবুকে রসরাজ দাস নামে এক তরুণের আইডি থেকে ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্টের জেরে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলা সদরে হিন্দুদের ১৫টি মন্দির ও অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় আটটি মামলা হয় সে সময়।
৩ নভেম্বর দিনগত রাত সাড়ে চারটার দিকে দুর্বৃত্তরা উপজেলা সদরের পশ্চিমপাড়ার গোবর্ধন রায়ের (৫১) বাড়ির সামনের পুরাতন দুর্গা মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে মন্দিরের অধিকাংশ আগুনে পুড়ে যায়। একই সময় উপজেলার ঠাকুরপাড়ার কেশব চক্রবর্তীর বাড়ির রান্নাঘরেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নাসিরনগর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সাধন কান্তি চৌধুরী সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থরা কেউ মামলা দিতে রাজি না হওয়ায় ওই বছরের ৬ নভেম্বর এসআই সাধন কান্ত চৌধুরী অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার আটজন আসামি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর তদন্ত করে ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১৩জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌশলী মোস্তাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকের শুনানিতে ১১জন সাক্ষী দিয়েছেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ১৩ জনকে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘর পোড়ানোর ঘটনায় ন্যায় বিচার হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারমান কামরুজ্জামান মামুন বলেন, কোনো সাক্ষী মামলায় অভিযুক্ত হওয়া কাউকে ঘটনাস্থলে দেখতে পাননি। বাদী নিজেও ঘটনাস্থলে কোনো আসামিকে দেখেনি। আমরা বার বার আদালতকে বলেছি, সাজা প্রদান করতে হলে নূন্যতম সাক্ষী প্রয়োজন। আমরা ন্যায় বিচার পায়নি। অনতিবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রে আদালতের পরিদর্শক কাজী দিদারুল আলম বলেন, রায় প্রদানের সময় এজলাসে ৮জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। এই মামলায় পুলিশ তাদেরকে আরও আগেই গ্রেপ্তার করে। আটজন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রসরাজের ফেসবুকের পোস্টের জেরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উপজেলা শাখার নেতারা নাসিরনগর কলেজ মোড়ে বিক্ষোভের ডাক দেন। অন্যদিকে খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নেতারা নাসিরনগর খেলার মাঠে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। পৃথক এই সমাবেশ চলাকালে উপজেলা সদরে ১৫টি মন্দির ও হিন্দুসম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাতটি মামলা হয়। আর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে পোস্ট দেয়ার অভিযোগ এনে রসরাজের নামে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ধারায় একটি মামলা করে পুলিশ। আট মামলায় প্রায় তিন হাজার লোককে আসামি করা হয়।
দেশের সমুদ্রবন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে বাড়ছে স্থানীয়ভাবে উচ্চপ্রযুক্তির জাহাজ নির্মাণের সুযোগও। এরই ধারাবাহিকতায় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য ৭০ টন বোলার্ড পুল ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’ নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (কেএসওয়াই)। দেশীয় প্রযুক্তি, প্রকৌশল দক্ষতা ও জনবল ব্যবহার করে নির্মিত এ টাগবোট দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতার পাশাপাশি পায়রা বন্দরের সামুদ্রিক কার্যক্রমে নতুন সক্ষমতা যোগ করবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) খুলনা শিপইয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে টাগবোটটির লঞ্চিং করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. আব্দুল লতিফ। এ সময় কেএসওয়াই, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য ৭০ টন বোলার্ড পুল ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি টাগবোট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় টাগবোট হিসেবে ‘টিয়াখালী-৪’ নির্মাণ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের Navnautic Private Limited-এর নকশায় এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে নির্মিত টাগবোটটিতে আধুনিক Z-Drive Propulsion System ব্যবহার করা হয়েছে।
৩৭ মিটার দীর্ঘ টাগবোটটির ডিসপ্লেসমেন্ট ১ হাজার ১০০ টন এবং ড্রাফট ৫ মিটার। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৩ দশমিক ৮ মাইল। আধুনিক এই প্রযুক্তির ফলে বন্দরে বড় জাহাজের বার্থিং, আনবার্থিং, টোয়িং এবং দিক পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।
অর্থনীতির দিক থেকে এর গুরুত্ব শুধু একটি টাগবোট নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। বন্দরের জাহাজ পরিচালনায় নিজস্ব সক্ষমতা বাড়লে সামুদ্রিক পণ্য পরিবহনের কার্যক্রম আরও নির্বিঘ্ন করার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় শিপইয়ার্ডে এ ধরনের উচ্চপ্রযুক্তির জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা বাড়লে ভবিষ্যতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জাহাজের চাহিদার একটি অংশ দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে পূরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
টাগবোটটির বহুমুখী ব্যবহারযোগ্যতাও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ফায়ার ফাইটিং সিস্টেমের পাশাপাশি এতে রেসকিউ অপারেশন, আন্ডারওয়াটার সার্ভে, স্যালভেজ কার্যক্রম, প্রতিকূল আবহাওয়ায় সমুদ্রে চলাচল এবং পাইলট পরিবহনের সুবিধা রয়েছে। ফলে শুধু নিয়মিত বন্দর পরিচালনা নয়, জরুরি ও বিশেষায়িত সামুদ্রিক কার্যক্রমেও এটি ব্যবহার করা যাবে।
খুলনা শিপইয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত ৮০০টির বেশি নতুন জাহাজ নির্মাণ এবং ২ হাজার ৫০০টির বেশি জাহাজ মেরামতের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফলে দেশীয় জাহাজ নির্মাণ খাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে আরও জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর জাহাজ নির্মাণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বন্দর ও নৌপরিবহন অবকাঠামোর সম্প্রসারণের সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানো গেলে এর অর্থনৈতিক সুফল বহুমুখী হতে পারে। এতে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি জ্ঞানের বিকাশ এবং দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সঙ্গে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর সুযোগ বাড়বে।
পায়রা বন্দরের জন্য ‘টিয়াখালী-৪’ নির্মাণ তাই শুধু একটি জাহাজ সংযোজনের ঘটনা নয়; বরং দেশের বন্দর সক্ষমতা ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের পারস্পরিক বিকাশের একটি দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর জাহাজ নির্মাণের পরিধি বাড়াতে পারলে দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতিতে স্থানীয় শিল্পের অংশগ্রহণ আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসের সভাপতিত্বে ও থানার ওসি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের সঞ্চালনায় এ সভা হয়।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. শাহ আলম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন আশরাফী, অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়াজ হাসান বাবু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম শাহীন, অষ্টগ্রাম হোসেনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. নূরুল আবছার, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা তৌহিদ মিয়া, পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুরমা আক্তার ও কাস্তুল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান এনায়েতুল্লাহসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অষ্টগ্রাম বড় বাজারের যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, মাদক ও জুয়া নির্মূলের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও দর্শনা সীমান্তে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চোরাচালানি মালামাল ও মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৬ বিজিবি)। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন দামুড়হুদা-দর্শনা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। মালামালের বাজারমূল্য ১২ লাখ ৪১ হাজার ১০০ টাকা।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীনস্থ দর্শনা, মুন্সীপুর, আইসিপি এবং ফুলবাড়ী সীমান্ত চৌকির বিজিবি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে জব্দ মালামালের মধ্যে রয়েছে ১৯ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০০ পিস ভারতীয় ক্রিম, ৩ বক্স ভারতীয় চিকিৎসাসামগ্রী, ২টি ভারতীয় শাড়ি, ৩৪৮ পিস ভারতীয় প্রসাধন সামগ্রী, ৯ দশমিক ৯ কেজি পারদ এবং ১টি মোটরসাইকেল।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হাসান জানান, দেশের সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্তকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে বিজিবির এ ধরনের পেশাদার ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ব্যক্ত করেন।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) সহকারী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার মোহাম্মদ রাজ মাহমুদের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে তার স্বামী ইসমাইল সাগর মিয়ার (৪২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান এ বায় ঘোষণা করেন। আসামি ইসমাইল সাগর মিয়া মামলার শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল সাগর মিয়া বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর এলাকার মৃত আয়েত আলীর ছেলে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত এপিপি মনসুর আলম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে বাজিতপুর উপজেলার সরারচর এলাকার নয়াহাটি গ্রামের মৃত তোফাচাঁদের কন্যা ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গে ইসমাইল সাগর মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীকে অত্যাচার, নির্যাতন ও মারধর করে আসছিলেন।
স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঝর্ণা আক্তার তার দুই মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে মায়ের বাড়ি বাজিতপুর উপজেলার নিলখী নয়াহাটে চলে আসেন। সেখানে তিনি মাকে স্বামীর নির্যাতনের বিষয়টি জানান। পরদিন ১২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ইসমাইল সাগর মিয়া অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। একপর্যায়ে ইসমাইল সাগর মিয়া কোমর থেকে ধারালো ছুরি বের করে ঝর্ণা আক্তারের বুকে উপুর্যপরি ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঝর্ণা আক্তারকে তার স্বজনরা ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. জাহেরা বেগম বাদী হয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া ও অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও দুজনের বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৪ মে বাজিতপুর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ইসমাইল সাগর মিয়াকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিংয়ের মাধ্যমে দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে কোন জমি কৃষি, আবাসন, শিল্প বা অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও কৃষিজমি সুরক্ষায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নীলফামারীতে মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং বিষয়ে জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ কর্মশালা হয়েছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্পের যুগ্ম সচিব ও প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
কর্মশালায় বলা হয়, মৌজা ও প্লটের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের পাশাপাশি ভূমির ব্যবহার অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকা চিহ্নিত করা হবে। এতে ভূমির বর্তমান ব্যবহার সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে কোনো এলাকায় আবাসিক, শিল্প বা কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও এসব তথ্য কাজে লাগবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও দ্রুত নগরায়ণের ফলে দেশের কৃষিজমি, জলাভূমি ও অন্যান্য ভূমির ওপর চাপ বাড়ছে। পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনা না থাকলে কৃষিজমি কমে যাওয়া, অপরিকল্পিত স্থাপনা তৈরি এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবের ঝুঁকি থাকে। ডিজিটাল জোনিংয়ের মাধ্যমে ভূমির শ্রেণি ও ব্যবহার সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা করা সহজ হবে।’
সাধারণ মানুষের জন্যও এর সুফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো জমি কেনাবেচা বা উন্নয়নকাজের আগে ওই জমির অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা সহজ হবে। ভূমিসংক্রান্ত সরকারি সেবায় একই তথ্য ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে তথ্যের অসামঞ্জস্য কমার পাশাপাশি নাগরিকদের ভোগান্তিও কমতে পারে।
এ ছাড়া কৃষিজমি সংরক্ষণ, জলাভূমি রক্ষা, শিল্পাঞ্চল নির্ধারণ, আবাসিক এলাকার পরিকল্পনা এবং সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ডিজিটাল ভূমি তথ্য ব্যবহার করা যাবে। দুর্যোগপ্রবণ ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করেও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সভাপতি হাসান রাব্বি প্রধান, সহসভাপতি আনোয়ারুল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাহ, তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের সভাপতি তাসনিম ফৌজিয়া ওপেলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পটুয়াখালীতে অটোচালক মো. জাকারিয়া শরীফ (২৮) হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ইয়াবা দেওয়ার কথা বলে নেওয়া ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে জাকারিয়াকে হত্যা করা হয়। পরে তার অটোর তিনটি ব্যাটারি চুরি করে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পটুয়াখালীর সাইফুল ইসলাম (২৯), মামুন হাওলাদার (২৯) ও মহিপুরের শুক্কুর আকন (৪৫)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাইফুল ও মামুন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত এবং শুক্কুর চোরাই ব্যাটারি কিনেছিলেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে মুচিরপোল স্ট্যান্ড থেকে অটো নিয়ে বের হওয়ার পর জাকারিয়া আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে জৈনকাঠী ইউনিয়নের শৌলা খেয়াঘাটসংলগ্ন লোহালিয়া নদীতে তার লাশ ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে তাকে ক্যাবল বা চিকন তার দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তে শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সাইফুল ও মামুনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর থেকে সাইফুল, পটুয়াখালী সদর থেকে মামুন এবং মহিপুর থেকে শুক্কুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, সাইফুলের সঙ্গে জাকারিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সাইফুল ও মামুন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাইফুল জাকারিয়াকে জৈনকাঠী খেয়াঘাটে নিয়ে যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্যাবল দিয়ে জাকারিয়ার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন সাইফুল এবং মামুন তার পা চেপে ধরেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
পরে জাকারিয়ার অটো থেকে তিনটি ব্যাটারি খুলে শুক্কুরের কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় বলে পুলিশ জানায়। অভিযান চালিয়ে অটো ও চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত চলছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
রাজশাহীতে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপি। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দলটির সমাবেশ, মিছিল ও কর্মসূচিকে ঘিরে রাজপথে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি বেড়েছে। রাজশাহীতে সাম্প্রতিক সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও কথিত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ধারাবাহিকভাবে মাঠে নামছে বিএনপি। বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, মহিলাদল, সেচ্ছাসেবক দলও জানান দিচ্ছে তাদের উপস্থিতির মাধ্যমে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও কথিত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বাটার মোড়ে সমাবেশ হয়। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশে মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন।
২৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী জেলা বিএনপির উদ্যোগে নগরীর বাটার মোড়ে সমাবেশ হয়। পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির নেতারা বক্তব্য দেন। তারা রাজশাহীকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ও রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ভোরে নগরীর ভদ্রা মোড় এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মীদের ব্যানারসহ একটি ঝটিকা মিছিলের কথা জানায় রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। এ ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।পরে তদন্তে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর কয়েক দিন পর নগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। পুলিশের দাবি, তারা ঝটিকা মিছিল, লিফলেট বিতরণ ও সরকারবিরোধী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এদিকে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে রাজশাহীতে বিএনপির একাধিক কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির নেতারা তাদের সমাবেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কথিত নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা তুলে ধরছেন। অন্যদিকে পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায়।
সব মিলিয়ে রাজশাহীর রাজনীতিতে বর্তমানে একদিকে বিএনপির প্রকাশ্য মিছিল-সমাবেশ, অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান—এই দুই চিত্রই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাজশাহীর রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে থাকবে।
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে ফের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলার ১৮ থানায় একযোগে পরিচালিত সর্বশেষ অভিযানে ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে সাম্প্রতিক তিন দফার অভিযানে আটক হয়েছেন মোট ১ হাজার ২৯৩ জন।
গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন।
পুলিশ জানায়, এর আগে কিশোর গ্যাংবিরোধী পৃথক দুই অভিযানে ৬২৪ ও ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। সর্বশেষ ৪১৫ জনসহ তিন দফায় আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৩ জনে।
এর মধ্যে প্রথম অভিযানে ৬২৪, দ্বিতীয় অভিযানে ২৫৪ এবং তৃতীয় অভিযানে ৪১৫ জন আটক হন। আগের দুই অভিযানে যাচাই-বাছাই শেষে ৫৯৭ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালতে পাঠানো হয় ২৮১ জনকে।
সর্বশেষ অভিযানে আটক ৪১৫ জনের বিষয়ে চলছে যাচাই-বাছাই। অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর মধ্যে। তবে অভিযানের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নগরীর বাসিন্দা সুমন আহমেদ বলেন, ‘নগরীতে চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ কমছে। তবে অভিযানে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, কিশোর-তরুণদের নিরাপদ রাখা এবং অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযানে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফরিদপুর শহরের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে চুরির ছয় দিনের মধ্যেই কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার ও ছয়টি পিতলের প্রতিমাসহ অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, চোরচক্র মন্দিরের একাধিক তালা কেটে প্রায় ২০ কেজি ওজনের কালীমূর্তিটি নিয়ে যায়। পরে বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পেছনে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর জেলা পুলিশ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূজা-অর্চনা শেষে কালীমাতাকে শয়ন দিয়ে মন্দিরের দরজা ও গেটে তালা লাগিয়ে চলে যান মন্দিরের সেবায়েত ও কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী। পরদিন ভোরে মন্দিরে গিয়ে তিনি একাধিক তালা কাটা ও দরজা খোলা দেখতে পান। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, শ্বেতপাথরের শিবমূর্তির ওপর স্থাপিত কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি নেই। একই সঙ্গে মূর্তির সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার, বিভিন্ন পিতলের প্রতিমা এবং মহাদেবের রৌপ্যের অলংকারও চুরি হয়েছে।
এ ঘটনায় কুশল চক্রবর্তীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়।
পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), কোতোয়ালি থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সমন্বয়ে একাধিক দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আলফাডাঙ্গা থানার বুড়াইচ গ্রামের আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), তার মা সাজেদা বেগম (৬৫), বোয়ালমারী থানার কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) এবং আতিয়ার রহমান।
অন্যদিকে আসাদুজ্জামান সাদ্দাম ও আল আমিন মোল্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোয়ালমারী থানার রূপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পেছনে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান সাদ্দামের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা, ডাকাতি ও মূর্তি চুরিসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। আল আমিন মোল্লার বিরুদ্ধেও একই ধরনের আটটির বেশি মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি বলেন, প্রথমদিকে কোনো নির্দিষ্ট সূত্র না থাকায় ঘটনাটি ক্লু-লেস মনে হয়েছিল। তবে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ছয় দিনের মধ্যে চুরির রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে কালীমূর্তিসহ অধিকাংশ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানি থাকায় চলতি মৌসুমে নওগাঁয় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। একই সঙ্গে ভালো হয়েছে পাটের আঁশের গুণগত মানও। ফলে মৌসুমের শুরুতেই মানসম্মত পাটের চাহিদা বেড়েছে বাজারে। আর চাহিদা থাকায় অন্য বছরের তুলনায় এবার ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষকরা।
জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে মান ও জাতভেদে প্রতি মণ শুকনা পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার মণপ্রতি দাম বেড়েছে অন্তত ৬০০ টাকা। কোথাও কোথাও ভালো মানের পাটের দাম আরও বাড়ার প্রত্যাশা করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে নওগাঁয় পাটের আবাদ ও উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২১-২০২২ মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। ওই মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ১৫ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন। ২০২২-২০২৩ মৌসুমে ৫ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়ে উৎপাদন হয়েছিল ১৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে আবাদ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৬০ হেক্টরে। ওই মৌসুমে উৎপাদন হয় ১২ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। এরপর ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে ৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। সেখান থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৯ হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন পাট। চলতি ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে। এ পরিমাণ জমি থেকে সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ টন পাট।
মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ায় পাট বিক্রি করে সন্তোষ প্রকাশ করছেন চাষিরা। জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ শুকনা পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে মান ও জাতভেদে জেলার বৃহত্তম পাটের হাট হিসেবে পরিচিত মান্দার সতীহাটে প্রতি মণ পাটের দাম উঠছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
পাট চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে পাট আবাদ করতে জমি চাষ, বীজ, সার, পরিচর্যা, পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোসহ গড়ে খরচ হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট লাভ করছেন কৃষকরা।
জেলার বৃহত্তম পাটের হাট হিসেবে পরিচিত মান্দার সতীহাটে সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই বিভিন্ন যানবাহনে করে পাট নিয়ে হাটে আসছেন কৃষকরা। কারও ভ্যানে, কারও নছিমনে আবার কেউ অন্যান্য যানবাহনে করে নিয়ে আসছেন দেশি, তোষা ও মেস্তা জাতের পাট।
হাটের বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে শুকনা পাট। ব্যবসায়ীরা পাটের আঁশের রং, মান, আর্দ্রতা ও জাত দেখে দরদাম করছেন। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় অনেক কৃষকই একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দরদাম করে পাট বিক্রি করছেন। মান ও জাতভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
নওগাঁ সদর উপজেলার খলিশাকুড়ি এলাকার পাটচাষি দুলাল হোসেন বলেন, সতীহাটে পাট বিক্রি করতে এসেছেন তিনি। এবার ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাট জাগ দেওয়ার আগেই ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা অগ্রিম ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে ১০ মণ পাটের বুকিং দিয়েছিলেন। অবশিষ্ট পাট এখন ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। গত বছর যে দামে পাট বিক্রি করেছেন, এবার তার চেয়ে মণপ্রতি ৭০০ টাকা বেশি পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
মান্দা উপজেলার দক্ষিণ মৈণম গ্রামের পাটচাষি অতিশ কুমার বলেন, এবার পাটের বাজারদর বেশ ভালো। পাট কাটার পর পানিতে জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজ বেশ শ্রমসাধ্য। তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে জলাশয়গুলোতে পানি থাকায় জাগ দেওয়ার জন্য বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। পর্যাপ্ত পানির কারণে সহজেই পাট জাগ দিতে পেরেছেন। এতে পাটের আঁশের রংও ভালো হয়েছে।
একই এলাকার পাটচাষি অনুপ কুমার বলেন, বর্তমানে পাটের দাম ভালো। এবার পানির সংকটও হয়নি। বাজারে প্রকারভেদে সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত পাট বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু পাট বিক্রি করেছেন। আরও কিছু পাট রেখে দিয়েছেন। কয়েকদিন পর সেগুলো বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ পরিমাণ জমি থেকে ৮ হাজার ৯১০ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ পাটকে আবারও ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে সুপরিচিত করতে কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহিত করছে। প্রান্তিক চাষিদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় ৮০০ জন পাটচাষিকে বিনামূল্যে বীজ, সারসহ পরিবহন খরচ এবং আনুষঙ্গিক ও অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের জন্য নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষ হওয়ায় তার স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এদিকে দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাই। বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাব ইনশাআল্লাহ।’
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়কে মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ঘুন্টি এলাকায় এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা পাটগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ঘুন্টি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী একটি ট্রাক আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। এ সময় ট্রাকটি অটোরিকশাকে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে সড়কের পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার দুই আরোহী প্রাণ হারান।
খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পাটগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল আহতদের উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাকীন নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি দুজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায় এবং এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় তিনজন নিহত ও সাতজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
নেত্রকোনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পানিতে ডুবে ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের প্রায় ৯৫ শতাংশই শিশু। তাদের বেশির ভাগের বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। একের পর এক এমন মৃত্যুতে উদ্বেগ বাড়লেও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত পানিতে ডুবে ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে কেউ মারা যায়নি, মার্চে ৪, এপ্রিলে ৬, মে মাসে ১৫, জুনে ২৭, জুলাইয়ে ৯ এবং আগস্টে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্ষাকালে জুন মাসেই সর্বোচ্চ ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে কলমাকান্দায় মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
নেত্রকোনা নদী, নালা, খাল, বিল, পুকুর, ডোবা ও হাওরবেষ্টিত জেলা। জেলার গ্রামীণ জনপদের অনেক বাড়ির উঠান পেরোলেই রয়েছে কোনো না কোনো জলাশয়। বর্ষাকালে এসব জলাশয় পানিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে বাড়ির আশপাশেই শিশুদের জন্য তৈরি হয় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনার সময় পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকেন। বাবারা কৃষিকাজ বা জীবিকার কাজে বাইরে থাকেন, আর মায়েরা রান্নাবান্না ও গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ সুযোগে শিশুরা বাড়ির আশপাশে খেলতে গিয়ে কখনো পুকুর, ডোবা কিংবা খালে পড়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক পরিণতি।
সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি শিশুদের সাঁতার শেখানোর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু সাঁতার শেখানোই যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বয়সে শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারি, বাড়ির আশপাশের জলাশয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের সচেতনতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নেত্রকোনা জনউদ্যোগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, বর্ষাকালে নেত্রকোনার গ্রামগুলো পানিতে থইথই করে। গ্রামে শিশুদের দেখভালের জন্য আলাদা কেউ থাকেন না। মায়েদের একদিকে সন্তান সামলাতে হয়, অন্যদিকে সংসারের কাজ করতে হয়। বাবারাও জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকেন। ফলে অল্প সময়ের অসতর্কতায় শিশুরা পানিতে পড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মৃত্যু রোধে গ্রামে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং পুকুর-ডোবার চারপাশে বাঁশের নেট বা খুঁটি দিয়ে ঘের দেওয়ার মতো স্থানীয়ভাবে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
শিশুদের সাঁতার শেখানোর বিভিন্ন প্রকল্পের কথা মাঝেমধ্যে শোনা গেলেও এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও বাস্তব প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, প্রকল্প গ্রহণের পর মাঠপর্যায়ে যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বা সংস্থার বক্তব্য জানা যায়নি।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, পানিতে ডুবে শিশুদের মৃত্যু রোধে প্রতিটি উপজেলায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে মতবিনিময় সভাও হয়েছে। সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভা করে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, শিশুদের সাঁতার শেখানোর জন্য স্থানীয় পুকুরগুলোকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, পানিতে ডুবে মৃত্যু নেত্রকোনায় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি প্রতি বছর বর্ষাকালে আরও প্রকট হয়ে ওঠা একটি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা। বিশেষ করে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের মৃত্যু কমাতে শুধু মৌসুমি প্রচার নয়, বছরজুড়ে পরিবার ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সচেতনতা, নিরাপদ জলাশয় ব্যবস্থাপনা, শিশুদের সাঁতার ও পানিনিরাপত্তা শিক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জরুরি।
একটি শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়; এটি একটি সম্ভাবনাময় জীবনের অকাল সমাপ্তি। তাই মৃত্যুর পর কারণ খোঁজার চেয়ে দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই এখন নেত্রকোনার জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।