ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ভাঙচুরসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রায় সাড়ে ৬ বছর এক মামলার রায় দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ পারভেজ ১৩ জন আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন-মোখলেছ মিয়া, মো. মফিজুল হক, খসরু মিয়া, নাজির রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, ইদু মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পদাক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো. আব্দুল আহাদ, সায়হাম রাব্বি শ্যাম, মীর কাশেম, আনিছ মিয়া, তাবারক রেজা, সচিব চৌধুরী, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি। রায় দেয়ার সময় আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন মোখলেছ মিয়া, খসরু মিয়া, নাজির রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, ইদু মিয়া, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো. আব্দুল আহাদ, মীর কাশেম, সচিব চৌধুরী। পলাকত আসামিরা হলেন- মফিজুল হক, সায়েম রাব্বি শ্যাম,আনিস মিয়া, তাবারক রেজা ও আতিকুর রহমান আঁখি।
ফেসবুকে রসরাজ দাস নামে এক তরুণের আইডি থেকে ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্টের জেরে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলা সদরে হিন্দুদের ১৫টি মন্দির ও অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় আটটি মামলা হয় সে সময়।
৩ নভেম্বর দিনগত রাত সাড়ে চারটার দিকে দুর্বৃত্তরা উপজেলা সদরের পশ্চিমপাড়ার গোবর্ধন রায়ের (৫১) বাড়ির সামনের পুরাতন দুর্গা মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে মন্দিরের অধিকাংশ আগুনে পুড়ে যায়। একই সময় উপজেলার ঠাকুরপাড়ার কেশব চক্রবর্তীর বাড়ির রান্নাঘরেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নাসিরনগর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সাধন কান্তি চৌধুরী সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থরা কেউ মামলা দিতে রাজি না হওয়ায় ওই বছরের ৬ নভেম্বর এসআই সাধন কান্ত চৌধুরী অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার আটজন আসামি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর তদন্ত করে ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১৩জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌশলী মোস্তাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকের শুনানিতে ১১জন সাক্ষী দিয়েছেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ১৩ জনকে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘর পোড়ানোর ঘটনায় ন্যায় বিচার হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারমান কামরুজ্জামান মামুন বলেন, কোনো সাক্ষী মামলায় অভিযুক্ত হওয়া কাউকে ঘটনাস্থলে দেখতে পাননি। বাদী নিজেও ঘটনাস্থলে কোনো আসামিকে দেখেনি। আমরা বার বার আদালতকে বলেছি, সাজা প্রদান করতে হলে নূন্যতম সাক্ষী প্রয়োজন। আমরা ন্যায় বিচার পায়নি। অনতিবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রে আদালতের পরিদর্শক কাজী দিদারুল আলম বলেন, রায় প্রদানের সময় এজলাসে ৮জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। এই মামলায় পুলিশ তাদেরকে আরও আগেই গ্রেপ্তার করে। আটজন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রসরাজের ফেসবুকের পোস্টের জেরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উপজেলা শাখার নেতারা নাসিরনগর কলেজ মোড়ে বিক্ষোভের ডাক দেন। অন্যদিকে খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নেতারা নাসিরনগর খেলার মাঠে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। পৃথক এই সমাবেশ চলাকালে উপজেলা সদরে ১৫টি মন্দির ও হিন্দুসম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাতটি মামলা হয়। আর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে পোস্ট দেয়ার অভিযোগ এনে রসরাজের নামে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ধারায় একটি মামলা করে পুলিশ। আট মামলায় প্রায় তিন হাজার লোককে আসামি করা হয়।
কেশবপুর উপজেলার প্রতাপপুর উত্তর পাড়ায় কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পের আওতায় নতুন ইটের রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কটি নির্মিত হলে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২ জুন) মজিবার মাস্টারের বাড়ির দক্ষিণ পাশ থেকে ফিরোজের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২৩০ ফুট দীর্ঘ ও ৭ ফুট প্রশস্ত ইটের রাস্তার নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকালে কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে এ পথে চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য এটি দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোক্তার আলীর উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এ উন্নয়ন প্রকল্প তাদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তব প্রতিফলন। রাস্তার কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা আব্দুল মোমিন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইউনিয়ন সেক্রেটারি মোঃ ইউনুস আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মোঃ আয়াতুল্লাহ আলখোমেনি সার্বক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজের তদারকি করছেন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা আব্দুল মোমিন বলেন, গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রতাপপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন মানুষের দুর্ভোগের কারণ ছিল। আজ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে এগিয়েছে। আমরা চাই উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাক। রাস্তার কাজ যেন সঠিক মান বজায় রেখে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সে বিষয়েও আমরা সচেতন রয়েছি।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কল্যাণে যেকোনো ইতিবাচক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আমরা স্বাগত জানাই। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রতাপপুরে শুরু হওয়া এই রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প এখন শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং এলাকার মানুষের কাছে নতুন আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
গ্রামীণ উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রতাপপুরে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হয়ে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাবে।
বরিশাল নগরীতে অবৈধভাবে ব্যবহার করা ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এবং জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ফুটপাত দখলের অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন) শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন বান্দরোড ও কেডিসি রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত ও প্রবেশপথ অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে দখলকৃত ফুটপাত উচ্ছেদ করে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান।
এ সময় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান চলাকালে মোট পাঁচটি মামলায় ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং নগরীর ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখল না করার জন্য সতর্ক করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নগরীর শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ-কে মঙ্গলবার নিজ জেলা ভোলায় রাষ্ট্রীয় সম্মান 'গার্ড অফ অনার' শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলার কোরালিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তৃতীয় জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তার মৃত্যুতে ভোলাসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার (০১ জুন) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকার স্কয়ার হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
মঙ্গলবার (০২ জুন) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তার মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে ভোলায় আনা হয়। মরদেহ ভোলায় পৌঁছালে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন। পরে দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ হাজারো মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি কোরালিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় ও শেষ জানাজা। আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় শোকাহত পরিবেশে উপস্থিত অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদের নাম বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হবে। ষাটের দশকের উত্তাল ছাত্ররাজনীতির সময় তিনি আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান-এ তিনি অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি দেশের রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে ভূমিকা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সহকর্মীরা।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁস-ফাঁস অবস্থায় অতিষ্ঠ জনজীবন। ভ্যাপসা গরমে কিছুটা আরাম ও স্বস্তির খুঁজে বিনোদন পার্কগুলোর সুইমিং পুলে ছুটছেন শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আর এসব সুইমিং পুলে মানুষের উপচে পড়া ভীড়ের সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা-বাণিজ্য চালাচ্ছেন বিনোদন পার্কের মালিকরা। তবে সুইমিং পুলে অতিরিক্ত ভীড়ে গোসল করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা চিকিৎসকদের।
এলাকাবাসী, দর্শনার্থী ও বিনোদন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে হাঁস-ফাঁস বিরাজ করছে। আর এই ভ্যাপসা গরমে কিছুটা আরাম ও স্বস্তির খুঁজে বিনোদন পার্কগুলোর সুইমিং পুলে ছুটছেন শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও বয়স্কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফলে কালিয়াকৈর উপজেলার বাড়ইপাড়া এলাকার নন্দন পার্ক, সিনাবহ এলাকার সোহাগপল্লী, কাঁচারস এলাকার রাঙ্গামাটি ওয়াটারফ্রন্ট, বারেক মার্কেট এলাকার গোলবাগিচা ও শাহিনবাগসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে সৃষ্টি হচ্ছে মানুষের ঢল।
এসব বিনোদন কেন্দ্রের কৃত্রিম সুইমিং পুলগুলোতে কয়েকদিন ধরেই সকাল ১০টা থেকে প্রায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত গোছলের ব্যবস্থা রয়েছে। আর তীব্র গরমের কারণে সকাল সকাল অনেকেই পরিবার, পরিজন নিয়ে সরাসরি সুইমিং পুলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। স্বস্তির খুঁজে কেউ পোশাকসহ, কেউ আবার গামছা, লুঙ্গি পড়ে সুইমিং পুলের পানিতে নেমে পড়ছেন। তারা ঘন্টার পর ঘন্টা মনের আনন্দে গোসল করছেন। কিন্তু দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সুইমিং পুলগুলোতে পানিতে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে দর্শনার্থীদের। অনেক পুলে ধারণ ক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি একসঙ্গে গোসল করছেন দর্শনার্থীরা। আর হঠাৎ করে দর্শনার্থীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বিনোদন কেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট পার্ক কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সুইমিং পুলগুলোতে মানুষের উপচে পরা ভীড়ের সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন এসব বিনোদন পার্কের মালিকরা। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, অধিকাংশ সুইমিং পুলে নির্ধারিত ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ গোসল করছেন। এতে পানির গুণগতমান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, সুইমিং পুলগুলোতে লাইফগার্ডের সংখ্যা খুবই কম। সুইমিং পুলে ১৫০ থেকে ২০০ মানুষের জন্য মাত্র ১ বা ২ জন লাইফগার্ড দায়িত্বে থাকছেন। শিশু, কিশোর-কিশোরীরা সাঁতার না জানলেও গভীর পানিতে নেমে যাচ্ছে। এতে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।
অপরদিকে অতিরিক্ত ভীড়ের পুলে গোসল করলে চর্মরোগ, ফাঙ্গাস ইনফেকশন ও চোখের কনজাংটিভাইটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়াও অনেকে পানিতে প্রস্রাব, থুথু ফেলেন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বাড়ায় বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় বরাব এলাকার বাসিন্দা রনি আহম্মেদ বলেন, তীব্র তাপদাহে ঘরে থাকাই মশকিল হয়ে দাড়িয়েছে। বৈদ্যুতিক পাখা চললেও গরম লাগে, তারপরেও ঘরে থাকা দায়। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে সুইমিং পুলে আসছি। সুইমিং পুলে পানিতে ১ থেকে দেড় ঘন্টা থাকার পর একটু স্বস্তি লাগছে। বড়ইবাড়ী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ভ্যাপসা গরমে বাচ্চারাও কান্নাকাটি করতেছিল। তাই ১৫০ টাকা করে টিকিট কেটে সুইমিং পুলে নিয়ে আসলাম। এখানে গোসলের পর বাচ্চারাসহ আমরাও একটু স্বস্তি পাইলাম।
রায়হান হোসেন জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে সুইমিং পুলগুলোতে হঠাৎ করে উপচে পড়া মানুষের ভীড় সৃষ্টি হচ্ছে। আর সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছেন বিনোদন পার্কের মালিকরা। তবে সুইমিং পুলে অতিরিক্ত ভীড় থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের নজরদারি বাড়ানোর দাবী জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রিসোর্টের কর্মী জানান, হঠাৎ গরমের কারণে এখন সুইমিং পুলে অতিরিক্ত মানুষ আসছে। আমরা নিয়মিত পুলের পানি নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কিন্তু আমাদের লাইফগার্ড ও কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ নাই। মাইকিং করে সতর্ক করি, কিন্তু কেউ শোনে না। তবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে বিষয়ে কথা বলতে নারাজ এসব বিনোদন কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম জানান, ভ্যাপসা গরমে আর হিটস্ট্রোক এড়াতে প্রতি ২০ মিনিট পরপর ছায়ায় বসে বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন খেতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন অতিরিক্ত ভীড়যুক্ত সুইমিং পুলে গোসল করলে চর্মরোগ, ফাঙ্গাল সংক্রমণ ও চোখের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। গোসলের আগে ও পড়ে সাবান ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি। তবে সুইমিং পুলের পানি যদি ক্লোরিনযুক্ত না থাকে, সেক্ষেত্রে সেখানে না নামাই ভালো।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, হঠাৎ ভ্যাপসা গরমে সুইমিং পুলগুলোতে দর্শনার্থীদের ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বাঙালির রাখাল রাজা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরে এক বিশাল বড় পরিসরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফরিদপুর -৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের আয়োজনে দোয়া অনুষ্টানে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেয়।পরে তাদের মাঝে দুপুরে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
মঙ্গলবার (০২ জুন) দুপুর ১টায় ফরিদপুর শহরের কমলাপুর হালিমা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কোর্ট জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মো:ইমরান হুসাইন সিদ্দিকী।
দোয়া মাহফিলের ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। এ সময় ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক চৌধুরী ফারিয়া ইউসুফ, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে কিবরিয়া স্বপন, ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক এবি সিদ্দিকী মিতুল, তানভীর চৌধুরী রুবেল, কোতয়ালী থানা বিএনপির সেক্রেটারি চৌধুরী নাজমুল হাসান রঞ্জন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ, মহানগর যুব দলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ,জেলা কৃষক দলের সভাপতি রেজাউল ইসলাম,ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী,সাধারন সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, ফরিদপুরের সাবেক এমপি ও মন্ত্রী মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফিএর রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় পুকুরে গোসল করার সময় ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাটুরিয়া থানায় মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিশুর চাচা নেপাল মনি দাস বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলাটি করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম অধীর মনি দাস (৫২)। তিনি সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
থানা ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার দরগ্রাম এলাকায় ওই শিশুটি বাড়ির পাশে একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে শিশুটি যখন মাথায় শ্যাম্পু লাগাচ্ছিল, তখন আশপাশে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত অধীর মনি দাস তাকে অতর্কিতে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্য মিনতি মনি দাসকে বিষয়টি জানায়। গতকাল মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর চাচা নেপাল মনি দাস বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০২৫)-এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির মা মারা গেছেন এবং তার বাবা অন্যত্র বিয়ে করে বসবাস করছেন। বর্তমানে সে তার চাচা নেপাল মনি দাসের বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছে।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোশারিফ হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভুক্তভোগী শিশুর চাচার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নওগাঁয় ঢাকাগামী যাত্রীবাহি বাসের বক্সের ঢাকনার(ব্যাগডালা) আঘাতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার যাত্রী নওসাদ(২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় অটোরিকশার যাত্রী দুই শিশু আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে নওগাঁ-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকার তুলশীগঙ্গা ব্রীজ মোড়ে এ দূর্ঘটনাটি ঘটে। দূর্ঘটনার পর অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। নিহত নওসাদ নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী সিংড়াপাড়া গ্রামের মৃত জাফির আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়- মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে শাহ সুলতান নামে এসি বাস ঢাকার উদ্যেশে রওয়ানা দেয়। ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছুদুরে তুলশিগঙ্গা ব্রীজ মোড় বাসটি পৌঁছালে বাসের বক্সের ঢাকনা(ব্যাগডালা) অসাবধানতাবসত খুলে যায়। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহি অটোরিকশার সামনে বাসের বক্সের ঢাকনাটি সজোরে ধাক্কা লাগে।
এতে অটোরিকশার সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে যাত্রী নওসাদ মারা যান। এসময় অটোরিকশার আরো দুই শিশুযাত্রী গুরুত্বর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর ঘাতক বাসটি চলে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখলে যানবাহন চলাচল ব্যহৃত হয়। এতে সড়কের দুইপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আসলে প্রায় দুইঘন্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান দূর্ঘটনায় একজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন- আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার আলোচিত রিক্তা আক্তার হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি জুয়েল মীর এবং ৪ নম্বর আসামি রীবা বেগম।
র্যাব-৬ প্রেস রিলিজ এর মাধ্যমে জানায়, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬, সদর কোম্পানির (ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প) একটি দল গতকাল সোমবার রাতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কাশিয়ানী বাজার ও ভাট্রাইধোবা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে কাশিয়ানী বাজার এলাকা থেকে জুয়েল মীর (২৮) এবং রাত ১টা ৫০ মিনিটে ভাট্রাইধোবা এলাকা থেকে রীবা বেগমকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত জুয়েল মীর ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা জালাল মীরের ছেলে এবং রীবা বেগম জালাল মীরের স্ত্রী। তারা উভয়েই ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জুয়েল মীর ভিকটিম রিক্তা আক্তারের স্বামী এবং রীবা বেগম তার শাশুড়ি। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে রিক্তা আক্তারের ওপর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দীর্ঘদিন নির্যাতন সহ্য করেও সংসার করে আসছিলেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের একপর্যায়ে ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রিক্তা আক্তার অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় তার বোন জামাই হাফেজ আকরাম মাতব্বর বাদী হয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানায় জুয়েল মীর, রীবা বেগমসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে কিডনি রোগে আক্রান্ত অসহায় শিশু সিনহা আক্তারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন।
মঙ্গলবার(২ জুন) বেলা ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সিনহা ও তার মায়ের হাতে চেক তুলে দেন ইউএনও।
সিনহা আক্তার(৭) উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের মলিয়ানপুর গ্রামের সুমন মিয়ার মেয়ে।
চেক বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন,বাসাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা,যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল ইসলাম,দপ্তর সম্পাদক নাসির মিয়া।
উল্লেখ্য, ৭ বছরের এই মেয়েটির তার কিডনি,প্রস্রাবে ইনফেকশন ও রক্তে ইনফেকশন ধরা পড়েছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায়,চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
জীবননগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২ জন ওয়ারেন্ট ভুক্ত ও ১ জন মাদক মামলার আসামীকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ও পৌর এলাকায় পৃথক জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার কৃত ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামীরা হলেন, আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত হবি মিয়ার ছেলে জলিল (৫৯) ও একই গ্রামের মৃত শামসুল শেখের ছেলে সুজ্জাত শেখ (৩৪)। এছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার আসামী পৌর এলাকার হাসপাতাল পাড়ার সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী রিনা সুলতানাকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, জীবননগরে অপরাধ নির্মুল করতে নিয়মিত অভিযান চলছে। অভিযানের অংশ হিসেবে গতরাতে ৩ আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে।মঙ্গলবার সকালে আসামীদেরকে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ রেণু পোনা জব্দ করেছে কেরানীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় একটি পিকআপভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে ৩১টি ড্রামে রাখা ৩ লাখ ১০ হাজার পিস রেণু উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা রেণুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
উদ্ধার করা রেণুগুলো পরে ধলেশ্বরী নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আশিক আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে খুলনায় নেওয়ার পথে রেণুগুলো আটক করা হয়।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কারিশমা আহমেদ জাকসি জানান, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা এসব রেণু খুলনায় নেওয়া হচ্ছিল। পরিবহনকারীরা একটি হ্যাচারির স্লিপ দেখালেও এর সত্যতা প্রমাণ করতে পারেনি। হাসনাবাদ নৌ পুলিশের সহযোগিতায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও জানান, কেরানীগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারিদের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ কারণে এ পথে নিয়মিত নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে রেণু পরিবহন ও পাচার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পাত্রী দেখা হয়েছিল, বিয়ের স্বপ্নও ছিল; কিন্তু ভাগ্য লিখেছিল অন্য গল্প। ১০ বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরছিলেন আরিফুল হোসেন। পরিবারে শুরু হয়েছিল নতুন স্বপ্ন, ছেলের বিয়ে হবে, নতুন জীবন শুরু করবে। পাত্রী দেখা শেষ, কথা প্রায় চূড়ান্ত। সবকিছুই এগোচ্ছিল আনন্দের দিকে।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দ আর বাস্তবে রূপ নিল না।
আরিফুলকে বরণ করে আনতে মা, ভাই, বোন ও স্বজনরা গিয়েছিলেন ঢাকায়। ফেরার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান একই পরিবারের সদস্যরা। যে ঘরে ছিল বিয়ের হাসি-আনন্দের প্রস্তুতি, সেই ঘরেই নেমে এলো শোকের অন্ধকার।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জনের পরিচয় মিলেছে। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার উজ্জ্বলপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফুল ইসলাম, তার মা নুরজাহান বেগম, বোন আয়েশা আক্তার এবং ভাই রাকিবুল ইসলাম। এ ছাড়া প্রাইভেটকারের চালক জাহিদ হোসেন নিহতদের মধ্যে রয়েছেন।
দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারে থাকা দুই শিশু আশরাফুল হোসেন (৮) ও তাসফিয়া (৩) গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরের দিকে ঢাকা থেকে যশোরগামী একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৫-৩১৫৫) দ্রুতগতিতে মালিগ্রাম এলাকায় মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিকল ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই নারী ও দুই পুরুষ নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এছাড়া আরেক শিশুও মারা যায়।
শিবচর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দ্রুতগতির কারণে চালক মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটি দেখতে না পেয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরে হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। একই পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমারখালী এলাকায় নিজ ছেলে-মেয়ের খাবারে বিষ মিশিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাদের বাবার বিরুদ্ধে। সোমবার (১ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সিরাজুল শিকদার (৪০) তার ছেলে ইয়াসিন (১৪) ও মেয়ে ছামিয়া (৭)-কে শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ান বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে তারা পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত সিরাজুল শিকদার পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের লাহুড়ী গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা। জানা গেছে, তিনি শ্বশুরবাড়ি কুমারখালী এলাকায় অবস্থানকালে এ ঘটনা ঘটান।
ভুক্তভোগী ইয়াসিন জানায়, তার বাবা তাকে চিনি আনতে বলেন। চিনি এনে দেওয়ার পর তিনি শরবত তৈরি করে তাকে ও তার বোনকে খাওয়ান। শরবত পান করার কিছুক্ষণ পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অপরদিকে ছামিয়া জানায়, শরবত খাওয়ার পর তার মাথা ঘুরতে শুরু করে এবং সে পড়ে যায়। তার দাবি, শরবতের মধ্যে কিছু মিশানো ছিল।
প্রতিবেশী মো. কামরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন বাড়ির উঠানে দুই শিশু কাতরাচ্ছে। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নানা আব্দুল করিম অভিযোগ করে বলেন, তার নাতি-নাতনিকে তাদের বাবা বিষ মিশ্রিত শরবত খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি জানেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজুল শিকদার বলেন, “গত এক বছর ধরে আমি সন্তানদের দেখাশোনা করছি। আমাদের বিয়ের বয়স ২০ বছর। এক বছর আগে আমার স্ত্রী আমাকে ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছে। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ষড়যন্ত্র করে সন্তানদের বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যা করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।