রোববার, ২৮ জুন ২০২৬
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

নাসিরনগরে সাম্প্রদায়িক হামলা, এক মামলায় ১৩ জনের জেল

ছবি: সংগৃহীত
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০২৩ ১৮:২৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ভাঙচুরসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রায় সাড়ে ৬ বছর এক মামলার রায় দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ পারভেজ ১৩ জন আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন-মোখলেছ মিয়া, মো. মফিজুল হক, খসরু মিয়া, নাজির রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, ইদু মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পদাক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো. আব্দুল আহাদ, সায়হাম রাব্বি শ্যাম, মীর কাশেম, আনিছ মিয়া, তাবারক রেজা, সচিব চৌধুরী, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখি। রায় দেয়ার সময় আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন মোখলেছ মিয়া, খসরু মিয়া, নাজির রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, ইদু মিয়া, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো. আব্দুল আহাদ, মীর কাশেম, সচিব চৌধুরী। পলাকত আসামিরা হলেন- মফিজুল হক, সায়েম রাব্বি শ্যাম,আনিস মিয়া, তাবারক রেজা ও আতিকুর রহমান আঁখি।

ফেসবুকে রসরাজ দাস নামে এক তরুণের আইডি থেকে ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্টের জেরে ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলা সদরে হিন্দুদের ১৫টি মন্দির ও অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়। এসব ঘটনায় নাসিরনগর থানায় আটটি মামলা হয় সে সময়।

৩ নভেম্বর দিনগত রাত সাড়ে চারটার দিকে দুর্বৃত্তরা উপজেলা সদরের পশ্চিমপাড়ার গোবর্ধন রায়ের (৫১) বাড়ির সামনের পুরাতন দুর্গা মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে মন্দিরের অধিকাংশ আগুনে পুড়ে যায়। একই সময় উপজেলার ঠাকুরপাড়ার কেশব চক্রবর্তীর বাড়ির রান্নাঘরেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নাসিরনগর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) সাধন কান্তি চৌধুরী সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থরা কেউ মামলা দিতে রাজি না হওয়ায় ওই বছরের ৬ নভেম্বর এসআই সাধন কান্ত চৌধুরী অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার আটজন আসামি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর তদন্ত করে ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১৩জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌশলী মোস্তাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকের শুনানিতে ১১জন সাক্ষী দিয়েছেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ১৩ জনকে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। এই রায়ের মাধ্যমে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘর পোড়ানোর ঘটনায় ন্যায় বিচার হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারমান কামরুজ্জামান মামুন বলেন, কোনো সাক্ষী মামলায় অভিযুক্ত হওয়া কাউকে ঘটনাস্থলে দেখতে পাননি। বাদী নিজেও ঘটনাস্থলে কোনো আসামিকে দেখেনি। আমরা বার বার আদালতকে বলেছি, সাজা প্রদান করতে হলে নূন্যতম সাক্ষী প্রয়োজন। আমরা ন্যায় বিচার পায়নি। অনতিবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রে আদালতের পরিদর্শক কাজী দিদারুল আলম বলেন, রায় প্রদানের সময় এজলাসে ৮জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। এই মামলায় পুলিশ তাদেরকে আরও আগেই গ্রেপ্তার করে। আটজন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রসরাজের ফেসবুকের পোস্টের জেরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উপজেলা শাখার নেতারা নাসিরনগর কলেজ মোড়ে বিক্ষোভের ডাক দেন। অন্যদিকে খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নেতারা নাসিরনগর খেলার মাঠে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। পৃথক এই সমাবেশ চলাকালে উপজেলা সদরে ১৫টি মন্দির ও হিন্দুসম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাতটি মামলা হয়। আর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে পোস্ট দেয়ার অভিযোগ এনে রসরাজের নামে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ধারায় একটি মামলা করে পুলিশ। আট মামলায় প্রায় তিন হাজার লোককে আসামি করা হয়।


নির্বাচিত

টাঙ্গাইলের পাঁচ ছাত্রীর গবেষণায় অপুষ্টি মোকাবিলার নতুন আশা

* কলা হবে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারর * ডিএনএ প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা, বিজ্ঞান মেলায় ব্যাপক সাড়া
টাঙ্গাইলে কুরতুবী মাদরাসার খুদে বিজ্ঞানীদের চমক, মসুর ডালের জিনে হবে ‘সুপার ব্যানানা’ । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শামীম আল মামুন, টাঙ্গাইল

ইচ্ছা, শ্রম আর মেধার মেলবন্ধন ঘটলে অসম্ভবকেও জয় করা যায়। সেই অসাধ্য সাধন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে টাঙ্গাইলের পাঁচ তরুণী। প্রথাগত শিক্ষার গন্ডি পেরিয়ে আধুনিক জীবপ্রযুক্তির সাহায্যে তারা বুনেছে এক নতুন স্বপ্ন।

নিবিড় গবেষণায় তারা এমন এক তাত্ত্বিক মডেল দাঁড় করিয়েছে, যার মাধ্যমে স্বাদ অপরিবর্তিত রেখেই কলাকে করা যাবে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ। দেশের অপুষ্টি দূরীকরণ ও টেকসই কৃষি অর্থনীতিতে এই উদ্ভাবন নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে।

এই কৌতূহলী উদ্ভাবক দলের টিম হচ্ছে টাঙ্গাইলের কুরতুবী মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের পাঁচ ছাত্রী-ফাতেমাতুজ জহুরা, অনামিকা আলফী আমরি, মিফতাহুল জান্নাত মায়া, মেঘলা আক্তার ও ফারজানা আক্তার।

চলতি বছরের মার্চ মাসের ঘটনা। জীববিজ্ঞানের ল্যাব ক্লাসে ডিএনএ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সময় ছাত্রীদের মাথায় একটি আইডিয়া আসে। পুষ্টিগুণে অনন্য হলেও সাধারণ কলায় একটি বড় ঘাটতি রয়েছে- এতে মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ‘লাইসিন’ নামক অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিমাণ খুবই কম। যেই ভাবা সেই কাজ। শিক্ষক আরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় তাদের গবেষণা। ল্যাবরেটরিই হয়ে ওঠে তাদের ধ্যানজ্ঞান। অবশেষে আসে সাফল্য। তারা এই প্রকল্পের নাম দেয়: ‘প্রোটিনসমৃদ্ধ কলা তৈরির জন্য কলার ডিএনএ নিষ্কাশন ও রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ মডেল।’

আধুনিক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই মডেলে প্রোটিনের উৎস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে অতি পরিচিত মসুর ডালকে। এই ডাল থেকে ডিএইচডিপিএস জিন নির্বাচন করা হয়েছে, যা মানবদেহের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর। অত্যন্ত সহজলভ্য কিছু উপাদান পাকা কলা, লবণ, গরম পানি, ডিশ ওয়াশিং লিকুইড, ব্লেন্ডার, কফি ফিল্টার ও ইথানল ব্যবহার করে প্রথমে কলার ডিএনএ নিষ্কাশন করা হয়। এরপর তাত্ত্বিক মডেলের সাহায্যে ডালের সেই বিশেষ জিনটি কলার ডিএনএতে সংযুক্ত করার রূপরেখা তৈরি করে শিক্ষার্থীরা।

এর ফলে সাধারণ কলা রূপান্তরিত হবে প্রোটিনসমৃদ্ধ ‘সুপার ফুডে’। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলায় প্রকল্পটি প্রথম স্থান অধিকার করে। পরবর্তীতে বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় হয়ে তারা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করে ও বিজ্ঞানীদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়।

উদ্ভাবন নিয়ে অনামিকা আলফী আমরি বলেন, বাংলাদেশ এখনো পুষ্টিহীনতা, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের প্রোটিনের ঘাটতিজনিত সমস্যায় ভুগছে। এই উদ্ভাবন যদি মাঠপর্যায়ে সফল করা যায়, তবে তা দেশের জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে।

মিফতাহুল জান্নাত মায়া বলেন, ‘কলা অত্যন্ত সম্ভা এবং সব স্তরের মানুষের কাছে সহজলভ্য। প্রোটিনসমৃদ্ধ এই কলা দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।’ ফাতেমাতুজ জহুরা বলেন, ‘কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট বা রাসায়নিকের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিকভাবেই ফল ও ফসলের পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

মেঘলা আক্তার বলেন, জেনেটিক্যালি মডিফাইড এই কলা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সম্ভব হলে কৃষকরা লাভবান হবেন এবং পুষ্টিকর ফল হিসেবে এটি বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব।

সফলতার পাশাপাশি উন্নত ল্যাবের অভাব ও জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাদ্য নিয়ে সামাজিক বিতর্কের মতো সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছে এই তরুণীরা।

শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের জানার আগ্রহ অনেক বেশি। ওদের একটু ধারণা দেয়া হলে ওরা ভালো কিছু করতে পারবে। ছাত্রীরা দেখিয়েছে, জিন ট্রান্সফারের মাধ্যমে কিভাবে অত্যাবশকীয় এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ প্রোটিন উৎপাদন করা যায়।

কুরতুবী আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকা্যেণ্ড শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।’

কুরতুবী মাদরাসা টাঙ্গাইলের চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ খান বলেন, ‘এই আবিষ্কার দেশের জন্য একটি উজ্জ্বল ভূমিকা। তাদের এই সাফল্য তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের দুয়ারে খুব সহজেই পুষ্টির চাহিদা পৌঁছে যাবে।’ ১৯৯৯ সালে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়ায় প্রতিষ্ঠিত কুরতুবী মাদ্রাসা আধুনিক ও যুগোপযোগী বিজ্ঞান শিক্ষায় যে অনন্য, ছাত্রীদের এই অভাবনীয় সাফল্য তারই প্রমাণ। সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে এ দেশের নারীরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির হাত ধরে একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দিতে পারে।


নির্বাচিত

সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল ৩৩ বিজিবি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার হওয়া প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)। রোববার (২৮ জুন) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, ওএসপি, পিএসসি। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ, সেক্টর কমান্ডর ক: মোহা. মাসুদুর রহমান, পিএসসি, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদি হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরুল্লাহ, সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, মিজানুর রহমান শরিফ প্রমুখ।

বিজিবি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন বিওপি এবং ব্যাটালিয়ন সদর পরিচালিত অভিযানে ৪৮ জন আসামিসহ মোট ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ছিল।

ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে ছিল ৩ হাজার ৭৯১ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ৪৭ হাজার ২৭০ পিস ইয়াবা, ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯ পিস বিড়ি ও সিগারেট, ৩৩ দশমিক ৪০০ কেজি গাঁজা, ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, ৩৫ কেজি তামাকের গুঁড়া, ২ বোতল লিকুইড সীসা, ১০০ কেজি মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত বট পাতা, ৭২ দশমিক ৫০ মিলিলিটার এলএসডি, ৮ দশমিক ৫৮৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং আফিম তৈরির ২০ বোতল কেমিক্যাল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, র‍্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নওগাঁর বাগান থেকে নিউইয়র্কের টেবিলে আম্রপালি আম

আম্রপালি আম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ জুন, ২০২৬ ১৯:৫২
নওগাঁ প্রতিনিধি

আমের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত নওগাঁর সাপাহারের আম এবার দেশের গন্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত শুক্রবার (২৬ জুন) গ্রামীণ কৃষক এগ্রো নামে একটি প্রতিষ্ঠান Golden Bengal Mango ব্রান্ড নামে প্রাথমিকভাবে ১টন আম্রপালি আম যুক্তরাষ্ট্রের বার্কিং শহরে রপ্তানি করে৷

রপ্তানি কারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ এগ্রো জানায়, প্রথমে প্রতিটি আমকে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে VHT (Vapor Heat Treatment) করা হয়। এরপর স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে প্যাকিজিং করা হয়েছে। সর্বশেষ বাংলাদেশ উদ্ভিদ সংনিরোধ (Plant Quarantine/BSTI/BS Officer) এর পরিদর্শন ও অনুমোদনের মাধ্যমে বিশ্ব বাজারে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাথমিক কন্টাক অনুযায়ী ১০ মেট্রিক টন আম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে। এছাড়াও জার্মানী ফ্রান্স এবং অন্যান্য দেশে আম পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

গ্রামীণ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী আহমদ আলী বলেন, এটি শুধু একটি আমের চালান নয়, এটি বাংলাদেশের কৃষকের পরিশ্রম এবং বিশ্ববাজারে আমাদের সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল প্রতীক। আমাদের লক্ষ্য শুধু মাত্র আম বিক্রি করা নয়, বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে বাংলার খাঁটি স্বাদ, আস্থা পৌঁছে দেওয়া। আমাদের বিশ্বাস নওগাঁর আমের গুনগত স্বাদ বিশ্ব বাসিকে আকৃষ্ট করবে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য দেশেও আমরা আম রপ্তানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান বলেন, গাছ থেকে আম নামানো শেষ হলেই আম বাজারজাতকরণের আগ পর্যন্ত কিভাবে মানসম্মত আম উৎপাদন করা যায় সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। যে সমস্ত কৃষক মানসম্মত আম উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করতে চায় তাদের কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা করা হয়। আমরা এবার আশা করছি নওগাঁ থেকে ১১০০ মেট্রিক টন আম বাইরের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হবে।

প্রসঙ্গত, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে,জেলায় চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। যা থেকে আম উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। গেল বছর জেলায় ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল এবং যা থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন আম।


নির্বাচিত

বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন আলম জনি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ এর আসরে কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ঝালকাঠির ব্যবসায়ী জানে আলম জনি।

গত শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ৩টায় কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইরাক ও সেনেগাল দলের খেলা দেখতে দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন তিনি। লাখো দর্শকের ভিড়ে বাংলাদেশের পতাকা হাতে জানে আলম জনির উপস্থিতি তৈরি করে আলাদা আকর্ষণ।

খেলা চলাকালে স্টেডিয়ামের দুই পাশের গ্যালারিতে ইরাক ও সেনেগালের সমর্থকরা নিজ নিজ দলের রঙের জার্সি পরে উল্লাসে মাতলেও ব্যতিক্রমী সাজে নজর কাড়েন জানে আলম জনি। তিনি পড়েছিলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি, আর হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে নিজের প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি নিজের দেশ বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরতেই তিনি লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন।

এক ভিডিও বার্তায় জানে আলম জনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি মনেপ্রাণে আর্জেন্টিনার সমর্থক। তাই আর্জেন্টিনার জার্সি পড়েছি। তবে আমার হৃদয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আমি আশা করি, একদিন বাংলাদেশও ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেবে। দেশের পরিচয় বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই আমি বাংলাদেশের পতাকা সঙ্গে নিয়ে এসেছি।’

বিশ্বকাপের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরা জানে আলম জনির এই উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গর্ব ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।


নির্বাচিত

নানার স্বপ্ন পূরণে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মাদ্রাসা তৈরি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের সাখুয়া গ্রামে সম্পূর্ণ নিজস্ব আট কাঠা জমির ওপর নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক স্থাপত্য দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘জামিয়া সিরাজুল উলুম মাদ্রাসা’। মরহুম নানার স্মৃতি ও শেষ ইচ্ছা পূরণ করতেই তার নাতিরা মফস্বল এলাকায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আধুনিক মাদ্রাসা ভবনটি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

২০২৩ সালে এই মাদ্রাসার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বর্তমানে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের ৪ হাজার ২০০ স্কয়ার ফিটের এই ভবনের দুইতলার ভেতরের কারুকাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে এবং বাকি কাজ চলমান আছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানান, সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে এই দৃষ্টিনন্দন বিল্ডিংয়ের মোট নির্মাণ ব্যয় হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন চমৎকার অবকাঠামো নির্মিত হওয়ায় সুধীমহল ও এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসাটির এই মহতী উদ্যোগের পেছনে মূল অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে রয়েছেন তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘মা লেভেল অ্যান্ড এক্সেসরিজ’ এর পরিচালক আশিকুর রহমান সোহেল তালুকদার এবং তার ছোট ভাই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাওহিদ আহমদ শুভ তালুকদার। তারা দুজনেই সাখুয়া এলাকার আবুল কালাম তালুকদারের সন্তান।

এ বিষয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ‘মা লেভেল অ্যান্ড এক্সেসরিজ’ এর পরিচালক এবং মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আশিকুর রহমান সোহেল তালুকদার বলেন, ‘এই মাদ্রাসাটি নির্মাণের পেছনে আমাদের এক বিশাল স্বপ্ন ছিল। আমাদের পাশাপাশি এলাকাবাসীরও আন্তরিক দোয়া ছিল। মূলত আমাদের মরহুম নানার একটি বড় স্বপ্ন ছিল এখানে একটি দ্বীনিপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। তার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই আমরা সর্বাধুনিক ডিজাইন ও কারুকার্যে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছি। তবে পুরো কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ব্যয় আরও বাড়বে।’

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাওহিদ আহমদ শুভ তালুকদার বলেন, ‘আমাদের নানা মরহুম মাওলানা সিরাজুল ইসলামের স্বপ্ন পূরণ করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আমরা এই আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য একটি মানসম্মত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উপহার দেওয়া।’

মাদ্রাসার প্রধান উপদেষ্টা মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, আমরা এই প্রতিষ্ঠানটিকে দ্বিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ে পরিচালনা করছি। এখানে আরবি ও ইসলামিক শিক্ষার পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম এবং ইংরেজি ভার্সনে পড়াশোনার সুযোগ থাকছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য দক্ষ, আধুনিক এবং সুশিক্ষিত আলেম তৈরি করা।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি মুক্তার হোসেন জানান, আরবি ও ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে এতিম ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবাসন ও শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে মাদ্রাসার নূরানী কিন্ডারগার্টেন, নাযেরা বিভাগ, হিফজ বিভাগ এবং কিতাব বিভাগে ছাত্র ভর্তি চলছে।

মফস্বল গ্রামে এমন আধুনিক প্রতিষ্ঠান পেয়ে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, ‘স্থাপত্যশৈলী এবং শিক্ষার পরিবেশের দিক থেকে এটি পুরো ময়মনসিংহ জেলার অন্যতম সেরা একটি প্রতিষ্ঠান হতে যাচ্ছে। ৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে প্রত্যন্ত গ্রামে আধুনিকতার এমন ছোঁয়া সত্যিই প্রশংসনীয়।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন সরদার বলেন, ‘এই মহতী উদ্যোগের শুরু থেকেই আমরা এলাকাবাসী সাথে আছি। মাদ্রাসার যাতায়াতের সুবিধার জন্য আমরা স্থানীয়রা জমি দিয়ে রাস্তা নির্মাণে সহযোগিতা করেছি। আমরা এই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কামনা করি।’


নির্বাচিত

মাদকমুক্ত করতে হলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: নরসিংদী জেলা প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদী জেলা প্রশাসক এবং বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া বলেছেন, মাদকের সমস্যা শুধুমাত্র আজকের সমস্যা নয়, এ সমস্যা দীর্ঘদিনের সমস্যা, এ সমস্যা দূর করতে হলে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি গত শুক্রবার (২৫ জুন) বিকেলে নরসিংদী জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নরসিংদীর যৌথ উদ্যোগে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নরসিংদী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মোঃ শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত জালা ম্যাজিস্ট্রেট এম সাজ্জাদুল হাসান, নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. কলিমুল্লাহ, নরসিংদী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিব তৌহিদ ইমাম, পরিদর্শক চাহিদা বেগম, উপপরিদর্শক মো. সানাউল্লাহ মিয়া, নরসিংদী জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. সারোয়ার হোসেন মৃধা, নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম.এ আউয়াল, সিনিয়র সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম মতি, এনএসআই এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আলম খান, নরসিংদী জেল সুপার মোহাম্মদ তারেক কামাল ও নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার প্রমুখ।

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া আরো বলেন, মাদক শুধুমাত্র নরসিংদীতে নয়, সারাদেশে এর প্রবণতা ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে, এর থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, মাদক সেবীদের আইনের আওতায় আনার সাথে সাথে তাদেরকে সুস্থ করে তুলতে হবে।

পরিশেষে তিনি অভিভাবকদেরকে তাদের সন্তানদের প্রতি নজর রাখার জন্য আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, নরসিংদী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী প্রসিকিউট মো. মেহেদী হাসান। ইতোপূর্বে এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।


নির্বাচিত

৩৮ কোটি ১১ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা নড়াইল জেলা পরিষদের

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

আয় এবং ব্যয় সমান রেখে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে ৩৮ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে নড়াইল জেলা পরিষদ। গত শনিবার (২৭ জুন) বেলা ১১টায় জেলা পরিষদ হল রুমে জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান আলেক উন্মুক্ত অধিবেশণে এই বাজেট উপস্থাপন করেন।

বাজেটে উন্নয়ন খাতে অগ্রাধিকার: গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট নির্মাণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, ধর্মীয়-সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বরাদ্দে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব আয়ের ওপর জোর: জেলা পরিষদের আর্থিক ভিত্তি মজবুত করতে হাট-বাজার, জলমহাল ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক খাতে বরাদ্দ থাকলেও প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় (কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অফিস রক্ষণাবেক্ষণ) বেশ উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখতে প্রশাসনিক ব্যয় অপরিহার্য হলেও, উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় এর ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন, নিয়মিত মনিটরিং এবং আর্থিক স্বচ্ছতার ওপর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু।


নির্বাচিত

যমুনার আগ্রাসনে হারাচ্ছে সিরাজগঞ্জ, আতঙ্কে নদীপাড়ের হাজারো মানুষ

* নদীগর্ভে শতাধিক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি * স্থায়ী বাঁধ না হলে উদ্বাস্তু হবে নদীপাড়ের মানুষ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

যমুনা যেন এবার শুধু মাটি নয়, মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি আর অস্তিত্বও গিলে খাচ্ছে। প্রতিদিন নদীর বুকে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এমনকি পূর্বপুরুষদের কবরও। নদীর তীব্র স্রোতের সামনে অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিরাজগঞ্জের সদর, কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলার হাজারো মানুষ।

জানা যায়, গত ২ সপ্তাহের টানা নদীভাঙনে শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, দোকানপাট, অসংখ্য গাছপালা এবং শত শত বিঘা আবাদি জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। ঘর হারানোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নে। একসময় যেখানে ৫০০-৬০০ পরিবারের কোলাহলে মুখর ছিল পুরো চর, সেখানে এখন সর্বত্র ভাঙনের ক্ষতচিহ্ন। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাত্র ২ সপ্তাহে অন্তত ৩০-৪০টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। যেভাবে নদীতীর ভাঙছে, তাতে আরও শতাধিক পরিবার যেকোনো সময় গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে।

একই চিত্র চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নের চরসলিমাবাদ, ভূতের মোড়, বিনানুই ও ভুসুরিয়া চরাঞ্চলেও। প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলমান ভাঙনে অন্তত ৪০-৫০টি বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও দোকানপাট নদীগর্ভে চলে গেছে। কৃষকের বছরের পর বছর পরিশ্রমে গড়ে ওঠা শত শত বিঘা ফসলি জমিও নিমিষেই বিলীন হচ্ছে যমুনার বুকে।

এদিকে ২০ জুন বিকালে সদর উপজেলার বাহুকা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর অনেকেই এখন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে। শুধু বসতভিটাই নয়, হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের শেকড়, স্মৃতি, পূর্বপুরুষের কবরস্থান এবং জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কৃষিজমি।

চরগিরিশ গ্রামের ভাঙনকবলিত বাসিন্দা আব্দুল মমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এই চরে বাবা-দাদার ভিটা ছিল। জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে ঘর তুলেছিলাম। কয়েক দিনের মধ্যেই সব নদীতে চলে গেল। এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছি।’

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চোখের সামনে সবকিছু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কী খাব সেটাই সবচেয়ে বড় চিন্তা।’

চরসলিমাবাদের কোহিনুর খাতুন বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। যা ছিল সব নদী নিয়ে গেছে। সরকারি সহায়তা না পেলে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে।’

রেজাউল করিমের ভাষায়, নদী শুধু ঘরবাড়ি কেড়ে নেয়নি, আমাদের স্বপ্নও কেড়ে নিয়েছে। নিজের দেশেই আমরা যেন উদ্বাস্তু হয়ে গেছি। আমাদের পূর্বপুরুষদের কবর আর মসজিদও নদীতে চলে গেছে। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

ষাটোর্ধ্ব রশিদ মিয়ার অসহায় আর্তনাদ, জীবনে অনেক কষ্ট করেছি, কিন্তু এমন অসহায় কখনো লাগেনি। এখন কোথায় যাব, কিছুই বুঝতে পারছি না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর যমুনার ভাঙন চললেও কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা আগে থেকেই চিহ্নিত থাকলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভাঙন শুরু হওয়ার পর জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নদীর ভয়াল আগ্রাসন ঠেকাতে পারছে না। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

চরগিরিশ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আল আমিন সরকার বলেন, ‘একসময় এই চরে অনেক পরিবারের বসবাস ছিল। আগের ভাঙনে প্রায় ১৫০টি পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। গত ২ সপ্তাহের ভাঙনে আরও অন্তত ৩০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারাবে।’

যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে নদীতীরবর্তী অনেক এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও নৌকা ছাড়া চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি ৩ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৪৮ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে ১৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে সদর, কাজীপুর, শাহজাদপুর ও চৌহালীর কয়েকটি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাবও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

খুলনায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান রোববার (২৮ জুন) খুলনা খালিশপুর কলেজিয়েট গালর্স স্কুলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

প্রধান অতিথি বলেন, প্রত্যেক শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে সময়মতো টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারাদেশে নিয়মিত ও প্রয়োজনে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে তুলতে হলে শৈশব থেকেই শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও সুরক্ষার ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে। ঠিক যেমন একটি মজবুত ভবন নির্মাণে শক্ত ভিত্তি অপরিহার্য, তেমনি উন্নত জাতি গঠনে সুস্থ ও নিরাপদ শৈশবের কোনো বিকল্প নেই।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন, কেসিসির সচিব মো: রেজা রশীদ, পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপপরিচালক মো: আকিব উদ্দিন, স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. অপর্ণা বিশ্বাস, কলেজিয়েট গালর্স স্কুলের অধ্যক্ষ মো: শহিদুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. মো: আরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মহানগরীতে মোট এক লাখ আট হাজার নয়শত ৫২ জন শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ১২ হাজার তিন শত ৩৭ এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ৯৬ হাজার ৬৫৫ জন। এবারে সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে মোট এক হাজর চারশত ২০জন ভলেন্টিয়ার, ওয়ার্ড ভিক্তিক কেন্দ্র সংখ্যা ৫৮০টি, মোট কেন্দ্র সংখ্যা ৭১০ টি, মোবাইল কেন্দ্র ৮০টি, এনজিও পরিচালিত কেন্দ্র ৫০টি এবং ৬২ জন সুপারভাইজার কাজ করবে।


নির্বাচিত

নির্দেশনা উপেক্ষা করে নওগাঁয় রমরমা কোচিং বানিজ্য

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

সরকারি নীতিমালা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটী রাজা হরনাথ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী (ভোকেশনাল) শিক্ষক ফিরোজ হোসেন এবং ট্রেড ইন্সট্রাক্টর আব্দুল জলিল।

বিগত বছরগুলোতে এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তাঁদের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে যে বিষয়গুলো পড়ানো হতো এবং কোচিংয়ের পরীক্ষায় যে ধরনের প্রশ্ন দেওয়া হতো, সেগুলোর সঙ্গে স্কুলের বার্ষিক ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার প্রশ্নের ব্যাপক মিল পাওয়া যেত। এ কারণে কোচিংয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় তুলনামূলক বেশি নম্বর অর্জন করত, আর কোচিংয়ের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় শুরুর আগেই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ পাশে "লেবুর কোচিং সেন্টার" নামে পরিচিত একটি কোচিং সেন্টারে গণিত বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষক ফিরোজ হোসেন। সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই দুবলহাটী রাজা হরনাথ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, একই বিদ্যালয়ের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর আব্দুল জলিল নিজ বাসায় একাধিক শিক্ষককে নিয়ে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। সেখানে ব্যাচভিত্তিক পাঠদান করা হয় এবং প্রতিটি ব্যাচে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই একই বিদ্যালয়ের।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকদের কাছেই কোচিং করতে বাধ্য করা হয়। কোচিং না করলে পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া কিংবা ফেল করিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে তারা দাবি করেন। এজন্য শিক্ষার্থীরা শ্রেণিভেদে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত কোচিং ফি দিতে বাধ্য হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান থাকলেও অনেক শিক্ষক কোচিংয়ের প্রতিই বেশি মনোযোগী। এতে শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কোচিং সেন্টারে গেলে শিক্ষক ফিরোজ হোসেন বলেন, তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে সবার সামনে কথা বলবেন। পরে বিদ্যালয়ে গিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলে যান এবং কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে, শিক্ষক আব্দুল জলিল বলেন, আমি বিদ্যালয়ে কারিগরি বিভাগের শিক্ষক হলেও কোচিংয়ে সাধারণ বিভাগের শিক্ষার্থীদের গণিত পড়াই।" অতীতে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর আলী শেখ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর কোনো বিধান নেই। এটি নিয়মবহির্ভূত। অতীতে প্রশ্নফাঁসের কিছু ঘটনার পর আমরা এখন আর বিদ্যালয়ে প্রশ্ন তৈরি করি না, বাইরে থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরে বিশেষ সহায়ক ক্লাসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে কোচিং বাণিজ্যের কোনো বৈধ নিয়ম নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়, যা ২০১৯ সালে কার্যকর হয়। ওই নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত প্রমাণিত হলে এমপিও স্থগিত বা বাতিল, বেতন-ভাতা ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, পদাবনতি কিংবা চাকরি থেকে সাময়িক বা স্থায়ী বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।


নির্বাচিত

মাগুরায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

সারা দেশের ন্যায় মাগুরায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) মাগুরা পৌরসভা চত্বরে স্বাস্থ্য বিভাগ, মাগুরার আয়োজনে এবং মাগুরা পৌরসভার সহযোগিতায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব), স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও মাগুরা পৌরসভার প্রশাসক ইমতিয়াজ হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার, মাগুরা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাসুদ হাসান খান কিজিল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফজাল হোসেন এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসক ডা. দেবপ্রিয়া সরকার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির। সঞ্চালনায় ছিলেন সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, রাতকানা প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত বয়সের প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এবারের ক্যাম্পেইনে মাগুরা জেলায় মোট ৯৪১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে লক্ষাধিক শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে।

সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলমান এ কর্মসূচি সফল করতে জেলার ১ হাজার ৯৯৯ জন মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক এবং ১১৭ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলার প্রতিটি যোগ্য শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিভাবকদের নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

সুবিপ্রবির স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরের পাশে করার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরের আশপাশে সকল উপজেলার জন্য সুবিধাজনক স্থানে নির্মাণের দাবিতে সুনামগঞ্জ শহরে সমাবেশ, গণমিছিল এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। কর্মসূচিতে সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। রোববার (২৮ জুন) শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে সমবেত হন। পরে সেখানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরে বাস্তবায়ন আন্দোলন’-এর সদস্য সচিব মুহাম্মদ মুনাজ্জির হোসেন সুজন ও যুগ্ম সদস্য সচিব রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আকবর আলী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জুনেদ আহমদ, আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, হাওর বাঁচাও আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ইয়াকুব বখত বহলুল, সহসভাপতি লেখক সুখেন্দু সেন, শিক্ষাবিদ যোগেশ্বর দাস, জেলা সুজনের সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের জেলা সভাপতি আবু নাছার আহমদ এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারেক মিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা সদর উপজেলার যুগীরগাঁও মৌজার জে.এল. নং-১১৩-এর সরকারি খাসজমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রস্তাব তুলে ধরেন। তাদের দাবি, সেখানে প্রায় ২১৮ দশমিক ৫৯ একর সরকারি খাসজমি রয়েছে। ওই স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করা হলে জমি অধিগ্রহণে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হবে এবং জেলার সব উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি হবে অধিকতর সুবিধাজনক।

সমাবেশ শেষে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে একটি গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। আন্দোলনকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা সদরের নিকটবর্তী উপযুক্ত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি জানান।


নির্বাচিত

৩০ বছর ধরে গ্রামে গ্রামে হেঁটে মিষ্টি বিক্রি করেন সমীর চন্দ্র

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি 

ভোরের আলো ফুটতেই দুধ জ্বাল দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সমীর চন্দ্র ঘোষ। খাঁটি দুধে তৈরি করেন ক্ষীরসা, প্যারা সন্দেশ ও রসমালাই। এরপর কাঁধে ভার মিষ্টি ভর্তি পাত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়েন গ্রামের পথে। দিনভর ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে জয়পুরহাট, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে নিজের হাতে তৈরি মিষ্টি বিক্রি করেন। এভাবেই কেটে গেছে তার জীবনের তিন দশক। রসমালাইয়ের অনন্য স্বাদ আর মানুষের ভালোবাসা তাকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।

‎আক্কেলপুর পৌরশহরের হাস্তাবসন্তপুর ঘোষপাড়া মহল্লার বাসিন্দা সমীর চন্দ্র ঘোষের এই পেশা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। তার বাবা-দাদাও একইভাবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মিষ্টি বিক্রি করতেন। তবে মিষ্টান্ন জগতে তাদের তেমন পরিচিতি না থাকলেও নিজের পরিশ্রম, সততা ও স্বাদের গুণে সমীর চন্দ্র অর্জন করেছেন বিশেষ সুনাম।

‎প্রতিদিন ভোরে মিষ্টি তৈরির কাজ শেষ করে তিনি বের হন। জয়পুরহাট নিজ জেলার পাশাপাশি বগুড়ার ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন গ্রামে নিয়মিত যান। সারাদিন হাঁটাহাঁটি শেষে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মিষ্টি বিক্রি হয়। এই আয়েই চলে তার সংসার।

‎সমীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে এই কাজ করছি। এটি আমাদের বাপ-দাদার পেশা। অনেকেই অন্য কাজ করতে বলেন। কিন্তু এই পেশার প্রতি আমার ভালোবাসা আছে। সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো, মানুষ আমার হাতে তৈরি মিষ্টি খুঁজে বেড়ায়। অনেকেই আমার রসমালাইয়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, এখন বড় বড় মিষ্টির দোকান হয়েছে। তারপরও গ্রামের মানুষ আমার ওপর আস্থা রাখেন। খাঁটি দুধ দিয়ে নিজের হাতে মিষ্টি তৈরি করি বলেই হয়তো তারা এত ভালোবাসেন।

আক্কেলপুর উপজেলার ‎রুকিন্দীপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, সমীর বাবুর রসমালাইয়ের স্বাদ ছোটবেলা থেকেই খেয়ে আসছি। এখনো সেই আগের স্বাদ আছে। তিনি আমাদের গ্রামে আসার দিন অনেকেই অপেক্ষা করে থাকেন।

‎নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বাসিন্দা সাথী রানী বলেন, বাজারের অনেক মিষ্টি খেয়েছি, কিন্তু সমীর দাদার রসমালাইয়ের মতো স্বাদ পাই না। তিনি এলে পরিবারের সবার জন্য মিষ্টি কিনি। আত্মীয়দের বাড়িতেও নিয়ে যাই।

‎বগুড়ার দুঁপচাচিয়া উপজেলা সদরের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, সমীর চন্দ্র বহু বছর ধরে আমাদের এলাকায় আসছেন। তার মিষ্টির মান ভালো, দামও সবার নাগালের মধ্যে। তাই তিনি এলে আমরা মিষ্টি কিনতে ভিড় করি।

‎গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ফেরিওয়ালাদের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। আধুনিক বিপণিব্যবস্থা ও বড় বড় মিষ্টির দোকানের ভিড়েও সমীর চন্দ্র ঘোষ এখনো কাঁধে মিষ্টির পাত্র তুলে হাঁটছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। তার এই পথচলা শুধু জীবিকার সংগ্রাম নয়, বরং একটি পারিবারিক ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার নিরলস প্রচেষ্টা। তার হাতে তৈরি ক্ষীরসার মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে মিশে আছে তিন দশকের পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা।


নির্বাচিত

banner close