নরসিংদীর শিবপুরে মনি আক্তার (২৮) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ বাড়ির বারান্দার গ্রিলে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মনির স্বামী ইসমাইল হোসেন (৪০), ভাসুর শামীম ও শ্বশুর রফিজ উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।
শনিবার সকালে উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের শালুরদিয়া গ্রামে স্বামীর বাড়ির বারান্দা থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বজনরা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শিবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেজবাউদ্দিন এবং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার।
স্থানীয়রা জানান, ১৪-১৫ বছর আগে শালুরদিয়া গ্ৰামের মৃত শরিয়ত উল্লাহ মোক্তারের মেয়ে মনি আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে ইসমাইলের প্রেমের সম্পর্ক হয়। ওই সম্পর্ক বিয়ের মাধ্যমে পরিণতি লাভ করে। বিয়ের পর তাদের সংসার ভালোই চলছিল। ঘর আলো করে তাদের সংসারে আসে তিন মেয়ে ইসমা (১১), তাবাসসুম (৯) ও তাসনিন (৬ মাস)। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে বাবা রফিজ উদ্দিনের সঙ্গে ছেলে ইসমাইলের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে বাবার দেয়া মামলায় একাধিকবার জেলও খেটেছেন ইসমাইল। ওই কলহেরই জেরে শুক্রবার রাতের কোনো একসময় মনিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ ঘরের বারান্দায় গ্রিলের সঙ্গে ওড়না দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
মনি আক্তারের মা বিলকিস বেগম জানান, আমার মেয়েকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।
পুটিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মাহবুব দৈনিক বাংলাকে বলেন, সংবাদ পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে যাই। এলাকার লোকজন মনির স্বামী, ভাসুর (স্বামীর সৎ ভাই) ও শ্বশুরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। আমরা এলাকাবাসী এই ঘটনায় হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।
শিবপুর মডেল থানার ওসি-তদন্ত আবুল ফায়েজ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সংবাদ পেয়ে স্বামীর ঘরের বারান্দায় বসা অবস্থায় গ্রিলের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো মনির মরদেহটি উদ্ধার করি। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) ইবি থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মামুন বলেন, ‘মামলার ১নং আসামি ফজলুর রহমান হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আহত থাকায় তাকে সদর হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা প্রদানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’
অন্যান্য আসামিদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাদের ব্যাপারেও কাজ চলমান। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষক থাকায় আরও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে ইবি থানায় ফজলুর রহমানসহ ৪ জনের নামে এজহার দায়ের করেন আসমার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। পরে বিকেলে ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ফজলুরকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- বিভাগটির সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার ও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস, বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান।
এদিকে গত বুধবার কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টায় তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পুলিশ তার থেকে দুই পাতায় লিখিত স্টেটমেন্ট নেয়। লিখিত স্টেটমেন্টে ফজলুর রহমান হত্যাকাণ্ড ঘটানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরে মামলা হওয়া পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তিনি আহত থাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে আসমা সাদিয়া রুনার নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন বলে জানান চিৎকার শুনে উদ্ধার করতে যাওয়া আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসাপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে গতকাল ওই শিক্ষিকার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিকেলে তার স্বামী চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বরগুনার আমতলী পৌরশহরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ডোবা ও নালা দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। এসব ডোবার পানি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মশা-মাছির বংশবিস্তার ঘটছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাসিন্দারা মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। দ্রুত ডোবা-নালা পরিষ্কার করে মশা নিধনের দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে আমতলী পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পৌর শহরের বিভিন্ন ডোবা ও নালা ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ডোবা-নালা পরিষ্কার বা সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে বছরের পর বছর ধরে এসব স্থানে পচা পানি ও আবর্জনা জমে পরিবেশের অবনতি ঘটছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের চারপাশের লেক, এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের লেক, সবুজবাগ লেক, চাওড়া লেক, খোন্তাকাটা লেক, বকুলনেছা মহিলা কলেজের লেক এবং আমতলী সরকারি কলেজের লেকসহ বিভিন্ন স্থানের ডোবা-নালায় ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। অনেক জায়গায় ডোবার পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
মিঠাবাজার এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক মিয়া বলেন, ডোবা-নালা ময়লায় ভরে গেলেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তা অপসারণে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এসব স্থানে বড় বড় মশা জন্ম নিচ্ছে। মশার তাড়নায় ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।
সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা গোপাল মাঝি বলেন, ডোবার পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মশা ও মাছির উপদ্রব বাড়ায় পরিবেশও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। একই এলাকার বাসিন্দা অসীম মৃধা বলেন, ময়লায় প্রচুর মশা জন্ম নিচ্ছে। রাতে এসব মশা বাসা-বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। এতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, মশার যন্ত্রণায় ঘরে টেকা মুশকিল হয়ে গেছে। কিন্তু মশা নিধনে পৌরসভা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে আমতলী পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিত্যক্ত ডোবা-নালাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে মশা নিধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌর শহরের ডোবা-নালা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নাটোরের সিংড়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ১১টার দিকে উপজেলার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের থেলকুড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, কনস্টেবল আশরাফুল ইসলাম (কালিগঞ্জ ফাঁড়ি), এসআই বিপ্লব কুমার রায় (কালিগঞ্জ ফাঁড়ি) এবং এসআই নেজাম ইসলাম (সিংড়া থানা)। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল আশরাফুল ইসলামকে নন্দীগ্রাম উপজেলার একটি হাসপাতালে ও দুইজন পুলিশকে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে থেলকুড় গ্রামের সিয়াম আলী (১৯) সরিষা মারাই করার একটি গাড়ি নিয়ে রাস্তা থেকে মাঠে নামার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় গাড়িটি উল্টে গেলে সিয়াম গাড়ির নিচে চাপা পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নন্দীগ্রামের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে সিংড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশ জানায়, হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা মৃত্যুর কাগজপত্র থানায় জমা দিয়ে দাফন সম্পন্ন করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হন। পরে সিংড়া থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আ.ব.ম আব্দুন নূর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাতে একটি মৃত্যুর ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ থেলকুড় গ্রামে যায়। সেখানে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পুলিশের গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে। এ ঘটনার মূল উস্কানিদাতাকে শনাক্তের কাজ চলমান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ নারীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ‘কর্ণেলস্ ফাউন্ডেশন’। এরই ধারবাহিকতায় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ‘ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্র’ উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন হওয়ায় গ্রামীণ নারীদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সেলাই কেন্দ্রটি চালু হওয়ায় এলাকার বেকার নারীরা ঘরে বসে না থেকে কাজের সুযোগ পাবেন, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখবে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলার নারচী ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামে প্রতিষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করেন ‘কর্ণেল ফাউন্ডেশনের স্বত্ত্বাধিকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জগলুল আহসান। অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জগলুল আহসান বলেন, গ্রামীণ জনপদের নারীরা আজ আর পিছিয়ে নেই। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তারা নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারে। ‘ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্র’ বাঁশগাড়িসহ সারিয়াকান্দি-সোনাতলা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নারীদের দর্জি বিজ্ঞানে দক্ষ করে তুলবে এবং তাদের আত্মকর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, এই সেলাই কেন্দ্রে নারীরা শুধু শ্রমের বিনিময়ে অধিক ভাবে সাবলম্বী হতে পারবেন। কেননা, সেলাই কেন্দ্র থেকেই সেলাই মেশিন, কাপড় সহ যাবতীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হবে এবং নারীদের প্রস্তুতকৃত পোশাক বিভিন্ন শপিংমলে বিক্রয়মূল্যের অর্ধেক টাকা পোশাক প্রস্তুতকারীদের প্রদান করা হবে। এছাড়াও আধুনিক পোশাক তৈরীতে নারীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে এই সেলাই কেন্দ্র থেকেই। অনুষ্ঠানে নারচী ইউনিয়নের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক, ধ্রুপদী সেলাই কেন্দ্রের প্রশিক্ষক এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি সেলাই কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষনার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় অধিকাংশ খাল কচুরিপানা ও বিভিন্ন আগাছায় ভরে গেছে। ফলে খালগুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় এ পানি ব্যবহারও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আগে এসব খালের পানি রান্না, গোসল, থালাবাসন ধোয়া এবং গবাদিপশুর পানীয় জলের কাজে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে পানি নিষ্কাশনেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রায়েন্দা খালসহ নলবুনিয়া খাল, শরণখোলার বড় খাল এবং বিভিন্ন ছোট খাল বর্তমানে আগাছা ও কচুরিপানায় প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন খালগুলো পরিষ্কার না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চালরায়েন্দা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুল জমাদ্দার বলেন, ‘একসময় খালগুলো পরিষ্কার ছিল, তখন এখানে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন আগাছা ও কচুরিপানায় ভরে গেছে। নৌকা চলাচলও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
আরেক বাসিন্দা সালেহা বেগম বলেন, ‘খালের পানি এখন নষ্ট হয়ে গেছে। কচুরিপানার কারণে এই পানি ঘরের কাজেও ব্যবহার করা যায় না।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের মাঝখানে চায়না দুয়ারী জাল ও বুচনা জাল পেতে মাছ ধরার কারণে কচুরিপানা ও আগাছা আটকে থাকে। এতে খালগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘নতুন কর্মরত হওয়ায় বিষয়টি জেনেছি। জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আগামী ঈদের পরপর স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততায় খালগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত খালগুলো পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে শরণখোলার খালগুলো আবারও আগের মতো স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে পাবে।
কুড়িগ্রাম জেলার মূল ভূখণ্ড হতে ব্রহ্মপুত্র নদবিচ্ছিন্ন রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা। প্রতিদিন দুই উপজেলা থেকে মামলা মোকদ্দমা, স্কুল-কলেজ, অফিসিয়াল ও চিকিৎসাজনিত নানা কাজে মানুষজনকে জেলা সদর কুড়িগ্রামে যাতায়াত করতে হয়। জেলা সদরে যাতায়াতে দীর্ঘ নৌ-পথ পাড়ি দেওয়ার অধিকাংশ সময় কেটে যায় নৌকায়। একদিনে প্রয়োজনীয় কাজ সমাধান করে বাড়িতে ফেরাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। রাত যাপন করলে হোটেলে থাকা খাওয়াসহ খরচ হয় অতিরিক্ত টাকা। নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তসহ সব শ্রেণির মানুষের জন্য যা কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই কষ্টের হাত থেকে রেহাই পেতে রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো পাকিস্তান আমল থেকেই জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে রৌমারী পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ব্রিজ, সরকারি কলেজ, চৌকি-আদালত, রৌমারীকে মুক্তাঞ্চল ও জেলা ঘোষণা, রৌমারী পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণাসহ প্রায় ২১ দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছিলেন। অবশেষে জামালপুর থেকে শেরপুর, শ্রীবরদী, বকশীগঞ্জ ও রৌমারী রেলপথ সম্প্রসারণে সম্ভাব্যতা যাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রেলপথ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুবিভাগের শাখা-২ এর উপসচিব শেখ শামছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, জামালপুর থেকে শেরপুর হয়ে নাকুগাও স্থলবন্দর পর্যন্ত নতুন সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হয়। পরে গত ১ জানুয়ারি প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে শেরপুর-রৌমারী রেলওয়ে কানেকটিভিটির জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হিসেবে প্রকল্পটির নাম করণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিষয়টি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে আরএডিপিতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়। আরএডিপি প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।
নির্দেশনাপত্রে স্বাক্ষর করেন রেণপথ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুবিভাগের শাখা-২ এর উপসচিব শেখ শামছুর রহমান। গত ১ জানুয়ারি এক স্মারকের একটি পত্র মারফত তিনি নতুন নির্দেশনা জারি করেন। উপসচিব শেখ শামছুর রহমান ওই স্মারকপত্রে স্বাক্ষর করেন ৪ জানুয়ারি-২০২৬। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শেরপুর জেলার ৩টি উপজেলা, জামালপুর জেলার ২টি উপজেলা ও কুড়িগ্রাম জেলার ২টি উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। রেলপথ প্রতিষ্ঠা হলে নাকুগাও স্থলবন্দর, বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর স্থল বন্দর ও রৌমারি স্থলবন্দর এবং রৌমারী-চিলমারী ফেরি সার্ভিন এর মাধ্যমে সোনাহাট স্থলবন্দরের সাথে সংযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে রৌমারী-চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদেও সেতু নির্মাণ হলে সরকার রেলখাত থেকে রাস্ট্রের রাজস্ব আয় বাড়বে। উন্নত হবে ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন সীমান্ত ঘেঁষা বাংলাদেশের দারিদ্র্যতম মঙ্গাপিড়িত বৃহত্তর কুড়িগ্রাম-রংপুর অঞ্চলের মানুষের জীবনের অর্থনীতির মানচিত্র।
রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি সাধারণ সম্পাদক শাহ আবদুল মোমেন বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার শেরপুর, জামালপুর- রৌমারী পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভ্যবতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনের এ দাবি বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে অসহায় হতদরিদ্রদের মধ্যে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের জশিহাটী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ২৫ টি অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে দুইটি করে ৫০টি ছাগল বিতরণ করা হয়।
এসময় টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হতদরিদ্রদের মধ্যে ছাগল বিতরণ করেন।
যুগবানী সমাজকল্যাণ সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দেওয়ান হুমায়ুন কবির রিপনের সঞ্চালনায় এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্ল্যা,জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নূরনবী আবু হায়াত খান নবু,বাসাইল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু সহ উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সংসদ সদস্য আহমেদ আযম খান ঝিনাই নদীর ভাঙন পরিদর্শন করেন।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে উপজেলার আন্ধারমানিক বাজারে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে এই আগুনে নিঃস্ব হয়েছেন বেশ কয়েকজন দোকানদার। দোকানে থাকা মুদি মনোহারি আসবাবপত্র সবই পুড়ে গেছে। মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন মিন্টু দত্ত নামের ডিজেল অকটেন পেট্রোল ব্যবসায়ী।
মিন্টু দত্তের শরীরের একাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ইউনিটে তাকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পুরাতন এই বাজারটির বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ভাড়ায় দোকান নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। পুরাতনের বাজারটি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত বলেও জানা গেছে। এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি যারা ব্যবসা পরিচালনা করতেন তাদেরকে যেন সহযোগিতা করা হয়। আর দোকান মালিকদের দোকান পুড়ে যাওয়ায় তাদের ক্ষতির পরিমাণ কম হলেও তারাও সহযোগিতা চান। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- বিল্টু দত্তের ডিজেল অকটেন ও পেট্রোল দোকানে থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে। মিন্টু দত্তের দোকানে মজুত থাকা প্রায় ১০ লাখ টাকার ডিজেল অকটেন পেট্রোল পুড়ে গেছে। পাশে ইমদাদুল বিশ্বাসের দোকানে থাকা এলপি গ্যাস, চাউল নগদ টাকাসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। নুর ইসলামের মুদি দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার মুদি মনোহারী পণ্য, মধুসূদন দত্তের প্রায় ২৫ লাখ টাকার মুদি পণ্য, সুজনের হোটেলে ৫০ হাজার আর নগদ ৫০ হাজার মোট ১ লাখ টাকা, লালনের ফলের দোকানের ৫০ হাজার টাকা, সুভাষ কুন্ডুর চালের দোকানে থাকা লাখ টাকার চাল, দুর্গা মন্দির, বিদ্যুতের মিটার তার, ডিস লাইনের ট্রান্সমিশন তারসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকা, গোপালের ফলের দোকানে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো ফল, বিষ্ণুর দোকানের প্রায় ২০ হাজার টাকার মত মুদি মনোহারী, মজরউদ্দিনের দোকানের মুদি মনোহারীর প্রায় ১০ হাজার টাকা, একটি দুর্গা মন্দির, মেহেরের কাচামাল আর অস্থায়ী বেশ কয়েকটি কাঁচামালের দোকানের প্রায় ১ লাখ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব পাওয়া গেছে। এর বেশিরভাগ ব্যবসায়ী স্থানীয় এনজিও থেকে লোন এনে ব্যবসা পরিচালনা করতেন বলেও জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সুজন জানান, হোটেল ব্যবসা করে কোনরকমে দিন পরিচালনা করতেন তিনি। তার যতটুকু সম্পদ ছিল, সবটুকুই আগুনে পুড়ে গেছে। সেই সাথে পুড়ে গেছে আমার স্বপ্ন।
ফল ব্যবসায়ী লালন জানান, বাজারের সবচেয়ে ছোট ব্যবসায়ী আমি। আমার দুই টাকা ক্ষতি মানেই কোটি টাকার সমান। এখন আমার সংসার চালানো আর কিস্তি চালানো দুঃসাধ্য হয়ে গেছে। আমি এখন কী করবো। দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন, আমি যেন আবার কোনরকম ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করে বেঁচে থাকতে পারি।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে আমরা জেলায় পাঠাবো। সহযোগিতা আসলে আমরা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতাটা পৌছে দিব। আপনারাও সহযোগিতা করবেন।
এরই মধ্যে পরিদর্শন করেছেন, হরিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন, হরিরামপুর উপজেলা বিএনপি নেতাসহ স্থানীয় নেতারা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় স্থানীয় প্রশাসন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সহ সকলের কাছে আকুল আবেদন জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে গৌরনদী উপজেলার কসবা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনাগামী যাত্রীবাহী বাস টেকেরহাট এক্সপ্রেসএর সঙ্গে বরিশালগামী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এতে থাকা পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইক্রোবাসের চালক মো. রিপন ও যাত্রী মো. ইলিয়াস হোসেন (৫৮)-কে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইলিয়াস হোসেন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকার বাসিন্দা আ. ওয়াহিদের ছেলে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আহত অপর তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বরিশাল গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। সড়ক থেকে যান দুটি সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁর মহাদেবপুরে সুবিধাবঞ্চিত ৪১১ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বেলজিয়ামের দাতা সংস্থা কারামা সলিডারিটি অর্থায়নে সোশ্যাল এইড এর আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সোশ্যাল এইড এর ডিরেক্টর ফিন্যান্স এন্ড এডমিন মোহাম্মদ আলী, নির্বাহী পরিচালক বাবুল আকতার, জেলা সমন্বয়কারী ফজলুল হক খান, নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রায়হান আলম প্রমুখ।
খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিলো- ২৫ কেজি চাল, ৫ লিটার তেল, ৩ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি ছোলা, ২ কেজি চিনি, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি গুড়া দুধ, সেমাই ৪০০ গ্রাম, খেজুর ১ কেজি ও ৩০ পিচ ডিম।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম নকিবুল ইসলাম নাকিব (১৪)। সে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১২ মাইল এলাকার আবুল বাশার মাস্টারের একমাত্র পুত্র এবং ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ১২ মাইল বালুরঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকাল ৪টার দিকে নাকিব তার বন্ধু সায়েম ও খালাতো ভাই জুনায়েদকে নিয়ে পদ্মা নদীতে গোসল করতে যায়। তারা প্রথমে একটি খালি ডিঙি নৌকায় করে নদীর এপার-ওপার ঘুরতে থাকে। পরে সকলে মিলে নদীর কিনারায় গোসল শুরু করে।
জুনায়েদ জানান, বিকাল পাঁচটার দিকে তিনি ও সায়েম গোসল শেষ করে উপরে উঠে আসেন। কিন্তু নাকিব নদী থেকে না উঠতে পেরে আরও গভীর পানিতে চলে যায়। সাঁতার না জানার কারণে সে ডুবতে শুরু করে। সায়েম তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে জুনায়েদের চিৎকারে আশপাশের জেলেরা ডিঙি নৌকা নিয়ে এগিয়ে আসেন। তারা সায়েমকে উদ্ধার করতে পারলেও নাকিব ততক্ষণে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর।
নাকিবের চাচা মাসুদ করিম গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ভাতিজা তার বাবার একমাত্র সন্তান ছিল। পদ্মা নদীতে গোসল করতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটবে কখনো ভাবি নাই। পুরো পরিবার ও এলাকাতে এখন শোকের মাতম চলছে।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হবে। এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে মেশিনের ফর্মা বানানোকে কেন্দ্র করে দুই ওয়ার্কশপ মালিকের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক বৃদ্ধ নিহত ও একজন যুবক আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের মধ্য খলাপাড়া গ্রামের ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ ও সিকদার ওয়ার্কশপ মালিকদের মধ্যে মেশিনের ফর্মা তৈরি করা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি তর্ক-বিতর্ক থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কয়েকজন হামলাকারী ভাই ভাই ওয়ার্কশপের মালিক সজীব মোল্লাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। তার চিৎকার শুনে পাশের বাড়ির মোহাম্মদ হবি সিকদার এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হবি সিকদারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সজীব মোল্লাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াদুল ইসলাম মৃতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার বলি হলেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ পৌরসভার রহমতপুর এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন। কুয়েতে এক মিসাইল হামলায় মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন (২৮) নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত জাহেদ হোসেন রহমতপুর এলাকার কামাল দফাদারের ছোট ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে কুয়েতের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে হওয়া এক মিসাইল হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রবাসে থাকা সহকর্মীরাই প্রথম তার পরিবারকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতের ভগ্নিপতি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কুয়েত সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিসাইল হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলার পরপরই সহকর্মীদের কাছ থেকে আমরা জাহেদের মৃত্যুর খবর জানতে পারি।’
পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে হারিয়ে জাহেদের বাড়িতে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাহেদ নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন, তার অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতায় এই নিয়ে সন্দ্বীপের দুই প্রবাসীর প্রাণহানি ঘটল। এর আগে গত রোববার বাহরাইনে ইরানের হামলায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের আজিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল মহসিন ওরফে তারেক (৫২) নিহত হন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই উপজেলার দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে সন্দ্বীপে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।