সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামানোর বিষয়ে বিএনপি নেতাদের হুমকি-ধমকিতে হনুমানও ভেংচি কাটে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবদের সরকারকে টেনে নামানোর হুমকি-ধমকি এখন মানুষের কাছে কৌতুক। এগুলোতে এখন হনুমানও ভেংচি কাটে।’
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া মৌসুমি আবাসিক এলাকায় আরসিসি ড্রেনসহ রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকরা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠনের এক মাস পর থেকেই বিএনপি সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বহুবার সরকারকে টেনে নামাতে চেষ্টা করে বিএনপিই জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে, তারাই দড়ি ছিঁড়ে পড়ে গেছে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে তারাই ঘি ঢেলেছিল। বিডিআর বিদ্রোহের সঙ্গে বিএনপি এবং তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার সংশ্লিষ্টতা ছিল। বিডিআর বিদ্রোহ যেদিন হয়, সেদিন প্রত্যুষে খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন এবং তারেক জিয়ার সঙ্গে বহুবার কথা বলেছিলেন। সেই রেকর্ড আমাদের কাছে আছে।’
জনগণই সরকার পরিবর্তনের মালিক উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় থাকবে কি থাকবে না, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে কি করবে না, সেই সময় দেয়া না দেয়ার মালিক হচ্ছেন জনগণ। বাংলাদেশের জনগণ দেশ পরিচালনার জন্য গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব দিয়েছেন। সে জন্যই তিনি দেশ পরিচালনা করছেন।’
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনেও বিএনপি সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে যত কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটেছে সবকিছুই বিএনপি ঘটিয়েছে। তারা ইতিপূর্বে প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথি মেরেছিল। এবার ঢাকা বারের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে জয়লাভের কোনো আশা নেই বুঝেই তারা প্রথমে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়, এরপর নির্বাচনী কার্যক্রমকে ভণ্ডুল করার জন্য ব্যালট ছিনতাই ও নির্বাচনী প্যান্ডেলসহ সব স্থাপনা ভাঙচুর করে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে যেভাবে তারা নির্বাচনী কেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়েছিল, ঠিক সেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখন সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে গেছে বিএনপি। এ জন্য তাদের বিচার হওয়া প্রয়োজন।’
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরাসনের জন্য ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ বরাদ্দ দিয়েছেন। এটি ঢাকা শহরের জন্যও দেয়া হয়নি। এই প্রকল্পের কাজ চলছে, আশা করি আগামী মৌসুমে আগের মতো জলাবদ্ধতা আর হবে না।’
নগরবাসীকে শহরের পরিচ্ছন্নতা ও নর্দমা সচল রাখার আহ্বান জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের পৌনে ১ কোটি মানুষ মিলে শহর ময়লা করলে সিটি করপোরেশনের ৪ হাজার কর্মীর পক্ষে তা পরিষ্কার রাখা সম্ভব না। আর পলিথিন ও বাসাবাড়ির ময়লা না ফেললে ড্রেন সচল থাকবে।’
১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ শহিদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী এবং কাউন্সিলর শাহীন আক্তার রোজী।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ১৬ শতক জমির দখলকে কেন্দ্র করে একই বংশের দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ উভয় পক্ষের তিনজন মারা গেছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন নারীসহ অন্তত আটজন। রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাইলাটারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষ হলো- নূর মোহাম্মদ ও মানিক মুন্সি (আপন ভাই) এবং তাদের চাচাতো ভাই আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান (আপন ভাই)। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- আলতাফ হোসেন (৫৫), তার চাচাতো ভাই মানিক মুন্সির ছেলে এরশাদুল হক (৪২) এবং মানিক মুন্সির বোন কুলসুম বেগম (৫০)। এ ঘটনায় নিহত আলতাফের ছেলে মোফাজ্জল হোসেনকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তিদের পরিবার, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাইলাটারী গ্রামের মানিক মুন্সি ও নূর মোহাম্মদ এবং আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান প্রায় এক বছর আগে যৌথভাবে একই দাগের ১৬ শতক জমি কেনার উদ্দেশ্যে মালিককে টাকা দেন। কিন্তু কোনো পক্ষই জমির দলিল করে নেয়নি। জমিটি দখলে নেয় মানিক মুন্সি ও নূর মোহাম্মদ পক্ষ। এ নিয়ে আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান পক্ষের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য একাধিকবার বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি।
রোববার বেলা ১১টার দিকে আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান লোকজন নিয়ে জমিটি দখল নিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান মানিক মুন্সির ছেলে এরশাদুল হক ও বোন কুলসুম বেগম। গুরুতর আহত আলতাফ হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। আহত ব্যক্তিরা হলেন- মানিক মুন্সি (৬০), নূর মোহাম্মদ, নিহত এরশাদের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম মঞ্জু (৩৫), জোবায়দুর (৪৫), সফিকুল ইসলাম (২৫), মর্জিনা বেগম (৪২), আজিজার রহমান (৪০) ও পারুল বেগম (৩২)। তাদের চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাগেশ্বরী থানার ওসি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর একজনকে আটক করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং চোখ তুলে এক পুকুর পাহারাদারকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ এসে উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর মাঠের একটি পুকুরের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত তোজাম্মেল হক (৬৫) উপজেলার পারদিলালপুর গ্রামের মৃত আলির ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় পুকুর পাহারাদার মো. তোজ্জামেল হককে অজ্ঞাতরা হত্যা করে ফেলে রাখে।
স্থানীয়রা জানায়, গত শনিবার রাতে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি পুকুরের পাশে একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা পুকুরপাড়ে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
জানা যায়, নিহত পুকুর পাহারাদার বিলাল হাজির মুসলিমপুর এলাকার একটি পুকুরের নাইটগার্ড হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। নিহতের শরীরে ধারালো কাটা অস্ত্রের চিহ্ন আছে এবং বাম চোখ উপড়ে ফেলেছে হত্যাকারীরা।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, দীর্ঘদিনের শত্রুতা বা চুরি-সংক্রান্ত কোনো ঘটনার জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
‘শিক্ষা আমার অধিকার, সুযোগ নয়,’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে-রাউজান পূর্বগুজরা দক্ষিণ বড়ঠাকুর পাড়াস্থ মধুমতি কেজি স্কুলের ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সমাপনী পাঠ, বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান গত শনিবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ও সিনিয়র শিক্ষক প্রদীপ দাশের সঞ্চালনায় স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয় পরিষদের চেয়ারম্যার শিক্ষাবিদ রেজাউল করিম চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলার এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট এম. তাজুল ইসলাম। সভায় বক্তব্য রাখেন, পরিচালক সাইদুল আলম, রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক এম. রমজান আলী, এ.কে.এম জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল ছালাম রায়হান, সিনিয়র শিক্ষক সৌরভ বড়ুয়া, রুমানা আকতার, ফাতেমা বেগম, সুবর্ণা বড়ুয়া, নাছরিন আকতার, জাবের উদ্দীন পারভেজ, এমেলী বড়ুয়া, সুভ্রামনি বড়ুয়া, পংকজ বড়ুয়া। শিক্ষার্থী তাছিন আহমেদ ফারিয়া, আনিশা আফরিন। অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
গোপালগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কোটালীপাড়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। গত শনিবার বিকালে তিনি কোটালীপাড়া উপজেলার কোটালীপাড়া উপজেলার কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজ, উমাচরণ পূর্ণচন্দ্র সার্বজনীন উচ্চবিদ্যালয়, রাধাগঞ্জ সার্বজনীন দাখিল মাদ্রাসা, মান্দ্রা রাধাগঞ্জ ইউনাইটেড ইনস্টিটিউশন, উত্তর কোটালীপাড়া রামমোহন উচ্চবিদ্যালয়, সোনাইলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কুশলা নেছারিয়া সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম তারেক সুলতান, কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক, উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম, থানা অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. জসীম উদ্দিন শেখ। উপস্থিত ছিলেন।
একই দিন সকালে পরিদর্শন করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, ২৭নং ঘোপেরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘোষের ঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৩নং তারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৯নং পাকুড়তিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৬নং ডুমরিয়া বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র।
এর আগে কয়েক দফায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ফারিয়া তানজিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রূলী বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম. রকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আতাউর রহমান, গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ্ আলম এবং সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার অনিমেষ কুমার বসুকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান সদর উপজেলার সোনাকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরবয়রা ঘোনাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়, ১০১নং উত্তর গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতপাড় দীননাথ গয়ালী চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, ৫৮নং বড় ডোমরাশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুঠামান্দ্রা উচ্চবিদ্যালয়, উলপুর পূর্ণচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪০নং লতিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী খোরশেদ সপ্তপল্লী উচ্চবিদ্যালয়, ২২নং পুখুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪নং বড়ফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১১নং সুকতাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে জনি ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবককে খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির মা হাসু খাতুন বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় গত শনিবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেন। এর আগে শনিবার উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকার একটি কবরস্থানের পাশ থেকে পুলিশ জনির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত জনি ওই ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি জামালপুর গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, জনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মাদক কারবারি সোহানের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি পাওনা টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সোহানের লোকজন জনিকে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার পিঠে একাধিক সেলাই দিতে হয়। হামলার ভয়ে জনি শুক্রবার রাতে মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অবস্থান করেন। শনিবার দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দৌলতপুর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার পিরোজপুর সদর উপজেলার শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে বিকেল তিনটায় উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলাউদ্দিন ভূইয়া জনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ.দা.) এস এম আল আমিন, পিরোজপুর সদর থানা উপপুলিশ পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মো. জহিরুল হক, পিরোজপুর প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক এস এম তানভীর আহমেদ প্রমুখ।
উক্ত সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদ (১১-২০ গ্রেড) এর সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেয়েছে। গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় বাকসু গঠনতন্ত্রের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ইংরেজি নাম হবে –‘Barishal University Central Students’ Union (BUCSU) এবং এর বাংলা নাম হবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে বাকসুর খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের কালক্ষেপণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাকসুর খসড়া গঠনতন্ত্র সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলে পাস করল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট অনুমোদিত গঠনতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষামন্ত্রালয়ে পাঠানো হবে। তারপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় শেরপুরের শ্রীবরদীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার রাতে শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ওসহযোগী সংগঠন এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রহিম দুলালের আহ্বানে এ দোয়া মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল। শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলালসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কোরআনখানি, মিলাদ ও বাংলাদেশের অভিভাবক গনতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার নুরপুর গ্রামে নতুন এক সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছে বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন। এই জাতের হাঁসের প্রতিটির ওজন হয় গড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত। স্বাদ ও পুষ্টিগুণে অনন্য এই হাঁসের ডিম ও মাংসের বাজারে এখন ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। আর এই হাঁস পালন করেই সিংড়ার দুই যুবক সালা-দুলাভাই জাহিদ মাহমুদ ও আবু হাসান গড়ে তুলেছেন চলনবিল হেচারি সিংড়া নামে সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সিংড়া উপজেলার নুরপুর গ্রামের তরুণ খামারি জাহিদ মাহমুদ কয়েক বছর আগেও ছিলেন ঋণগ্রস্ত। জীবনের নানা সংকটে জর্জরিত অবস্থায় একসময় তার মাথায় আসে হাঁস পালনের চিন্তা। সে ভাবনাটিই তার জীবনে ঘুরে দেয় সফলতার চাকা।
খামারি জাহিদ জানান, তখন আমার প্রায় ৮ লাখ টাকার ঋণ ছিল। একদিন প্রবাসী দুলাভাই হাসান আলীর সঙ্গে কথা বলি। তিনি উৎসাহ দেন এবং তিনি টাকা দিয়ে ১০০টি বেলজিয়াম হাঁস কিনে দেন। সেখান থেকেই শুরু।
চার বছর আগের সেই ছোট উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে বিশাল বাণিজ্যিক খামারে। বর্তমানে তাদের খামারে হাঁসের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫০০টি। হাঁসের পাশাপাশি এখন তারা বাচ্চা উৎপাদনও শুরু করেছেন। বছরে তাদের মোট আয় ২৪ লাখ টাকারও বেশি।
জাহিদ আরও বলেন, আমরা এখন প্রতিমাসে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করি। ডিম, বাচ্চা ও হাঁস বিক্রি করেই এ আয় হয়। আমি হাঁস পালন করে সব ঋণ শোধ করেছি, এখন নিজেই অনেকের কর্মসংস্থান তৈরি করেছি।
এ খামারে প্রতিটি হাঁস ৪৫ দিনের মধ্যেই ৩ কেজি ওজনের হয়। ফলে স্বল্প সময়েই বিক্রিযোগ্য হয়ে ওঠে। তারা জানায়, একটি হাঁসের ডিমের দাম ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত, আর একটি বাচ্চা বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়।
খামারটিতে এখন কাজ করছেন ৪জন স্থানীয় যুবকও। এতে শুধু জাহিদ ও হাসান নন, আশপাশের অনেক বেকার তরুণও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন হাঁস পালনে।
খামারি আবু হাসান জানান, স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন শুরু করা যায়। নিয়মিত যত্ন, সঠিক খাবার ও ভ্যাকসিন প্রয়োগে ভালো ফল পাওয়া যায়। হাঁসগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠে, ফলে খুব অল্প সময়েই লাভ পাওয়া সম্ভব।
জাহিদ বলেন, একসময় মানুষ বলত হাঁস পালনে ভবিষ্যৎ নেই, এখন তারা নিজেরাই জানতে আসে হাঁস পালন কেমন লাভজনক ব্যবসা। আমরা চাই, আরও তরুণ এগিয়ে আসুক এই খাতে। আমরা প্রথমে ভাবিনি এত দ্রুত উন্নতি হবে। কিন্তু হাঁসের ডিম ও মাংসের চাহিদা এখন অনেক। অনেকেই আমাদের কাছ থেকে হাঁসের জাত সংগ্রহ করে পালন শুরু করেছেন।
সিংড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. তাশরিফুল ইসলাম বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের আমরা সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। হাঁস পালনের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সহায়তা, পরামর্শ ও ভ্যাকসিন আমরা বিনামূল্যে প্রদান করি। উপজেলায় বর্তমানে বেলজিয়াম জাতের একটি বড় খামার রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।
সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। মনোমুগ্ধকর দ্বীপটির স্ফটিক-স্বচ্ছ নীল জলরাশি, জীবন্ত প্রবাল প্রাচীর, নারকেল গাছের সারি আর সামুদ্রিক জীবনের প্রাচুর্য পর্যটকদের সব সময় কাছে টানলেও, সেখানে ভ্রমণে বিধি-নিষেধ আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকার। বন্ধ করা হয় দ্বীপটিকে রাত্রিযাপন। অবশেষে সেখানে রাত্রিযাপনের সুযোগ মিলছে।
স্থানীয়ভাবে ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ নামেও পরিচিত দ্বীপটি শান্ত সৈকত এবং ডুবো জগতের সৌন্দর্য এটিকে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত করেছে, যেখানে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পর্যটকরা প্রকৃতির এই অনন্য সৃষ্টি উপভোগ করতে আসেন। সেই সময়টি আবারও আগত।
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। পর্যটকদের জন্য থাকছে রাত্রিযাপনের সুযোগও। তবে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের সীমা নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। পালন করতে হবে ১২টি কঠোর নির্দেশনা।
কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সোমবার সকাল সাতটায় জাহাজ ছেড়ে যাবে। পরের দিন বেলা তিনটায় সেন্টমার্টিন থেকে সেই জাহাজ কক্সবাজারে ফিরে আসবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা দুই মাস ভ্রমণ করতে পারবে পর্যটকরা।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন নামের চারটি জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি পেয়েছে।
শাহিদুল আলম আরও বলেন, সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে জেলা প্রশাসন। আগে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করলেও নিরাপত্তার কারণে এখন কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যাতায়াত করবে। তার জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, পর্যটক পারাপারের সময় জাহাজগুলোকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে। দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে দেওয়া হবে না। এ জন্য নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট ও সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে পৃথক তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ব্যাপারে গত ২২ অক্টোবর ১২টি নির্দেশনাসহ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকদের অবশ্যই ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। সেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।
দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক উপস্থিতিও এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন। রাত্রিযাপন করা যাবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন না।
সারাদেশে সাড়ম্বরে গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করতে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী রোড শো করবে দলটি। এছাড়া ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি।
গতকাল শনিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানান।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশ এবং জনগণের বিজয়ের এই আনন্দঘন উপলক্ষ আরও বর্ণিল আনন্দময় এবং অর্থবহ করতে এবারও বিএনপি সারাদেশে সাড়ম্বরে গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করতে আলোচনা সভা, বিজয়ের রোড শো-সহ মাসব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির উদ্যোগে ১ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ কর্মসূচি ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’।
মির্জা ফখরুল বলেন, শুরুতেই বাংলাদেশের গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আপনাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকেও জানাই পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির অভিনন্দন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে গণতান্ত্রিক অধিকারহারা জনগণ ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণে অত্যাচারিত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের জেরে শেষ পর্যন্ত হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। গণতন্ত্রকামী স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীর কাছে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বিজয়ের আনন্দ ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।
ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। সুতরাং, কালুরঘাট আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য অংশ। এই ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকেই শুরু হবে এবারে বিএনপির ‘বিজয় মাস’ উদযাপন কর্মসূচি। ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বিজয় মশালযাত্রা শুরু করবে। মশাল মিছিল কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে একই দিন চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে পৌঁছবে। বিজয় মিছিলের মশাল বহন করবেন ১৯৭১ সালের একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০১৪ সালের একজন জুলাই যোদ্ধা। আমরা মনে করি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের আর ২০২৪ হলো দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুরে বিজয় মশাল রোড শো এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিভাগে মশাল বহন করবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন জুলাই যোদ্ধা।
মির্জা ফখরুল বলেন, দুই সপ্তাহের এই বিশেষ ‘রোড শো’ উদযাপনের সময় বিভিন্ন বিভাগের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, জাতীয় সংগীত, মুক্তিযুদ্ধের গান, দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ প্রচার, জাসাসের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ডকুমেন্টারী প্রদর্শিত হবে। একইসঙ্গে জনগনে সামনে তুলে ধরা হবে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি। এই পুরো আয়োজনে বিএনপির থিম সং, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
দেশের সকল বিভাগ ঘুরে বিজয় মশাল সবশেষে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে পৌঁছবে। একই দিন ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’। বিজয় মাস উপলক্ষে এই বিশেষ কর্মসূচি ছাড়াও পাশাপাশি আরও অন্যান্য কর্মসূচি উদযাপিত হতে থাকবে।
হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. তানভীর মাহমুদ (৫৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি-উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শনিবার দুপুরে হলমার্ক গ্রুপের (এমডি) মো. তানভীর মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি হাসপাতালের ৬ তলা ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে এক্সট্রা ১৯ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন।
তানভীর মাহমুদ হলমার্ক কেলেঙ্কারির মামলায় কারাভোগ করছিলেন। রাজধানীর রমনা থানার একটি মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।সূত্র : বাসস
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় দেশজুড়ে প্রার্থনা। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে আপসহীন খেতাব পাওয়া দেশনেত্রী এখন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শয্যাশায়ী। ভুগছেন বার্ধক্যজনিত নানা ব্যাধিতে। গত ৬ দিন ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে তাকে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।
এদিকে দেশের জনপ্রিয় এই নেত্রীর অসুস্থতায় দেশের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু সর্বস্তরের মানুষ দোয়া কামনা করেছেন। মিলাদ-মাহফিলসহ মসজিদ-মাদ্রাসায় চলছে আরোগ্য কামনা। শনিবার উপদেষ্টা পরিষদে খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসির কাছে দোয়া কামনা করা হয়। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে গত শুক্রবার নয়াপল্টনে দোয়া মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যের পরপরই দলের নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হাসপাতালে যান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। রাতে একে একে হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মির্জা আব্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, ম্যাডামকে দেখে মনে হয়েছে, উনি স্ট্যাবল নন। ম্যাডামের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাচ্ছি। রাতে হাসপাতালে ছুটে যান বিজেপি সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দলিব রহমান পার্থ। তিনিও হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমের কাছে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উৎকণ্ঠার কথা জানান। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
এদিকে মায়ের অসুস্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে আবেগঘন বার্তা দেন জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশবাসীর কাছে মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়ে তিনি লিখেন, এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যে কোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।
ওদিকে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে নানা মন্তব্য লিখেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনেকে স্বৈরাচার আমলের খালেদা জিয়ার আপসহীন নানা বক্তব্য ফেসবুক শেয়ার করে তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়ার আহ্বান জানাই।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী ফেসবুকে লিখেন, সেরে উঠুন বাংলাদেশ…। একজন অভিভাবক হিসেবে, যার সুস্থতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দীপ্ত শক্তি, ভাগ্যাহত মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি, গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের মসৃণ যাত্রা। ম্যাডাম জিয়া সুস্থ হোন—হৃদস্পন্দনে ফিরুক বাংলাদেশ। মহান আল্লাহ তার ওপর অপার করুণা বর্ষণ করুন। আমিন।
বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে একটি দীর্ঘ মন্তব্য ফেসবুকে শেয়ার করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহও।
টকশোর আলোচক ডা. জাহেদ উর রহমান ফেসবুকে লিখেন, বেগম খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা। ভয়ংকর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনীম জারা নিজের ফেসবুক পেজে লিখেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনা করে রাজধানীতে দোয়া মাহফিল করেছে জামায়াত নেতারা। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জন্য আজ ফজরের নামাজের পর মসজিদে মসজিদে দোয়া করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও শনিবারও দেশেব্যাপী বিভিন্ন জেলা উপজেলার মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। সর্বশেষ গত ১৫ই অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসিনার আমলে ২০১৮ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি থেকে টানা দুই বছর কারাগারে থাকাকালে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। এরপর মুক্তি দিলেও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেয়া হয়নি। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় লন্ডনের ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসা শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন।