নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের উপজেলা হাসপাতাল থেকে আবুল কাশেম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কাশেমের স্ত্রীর দাবি, র্যাব পরিচয়ে একদল ‘সাদা পোশাকধারী’ তার স্বামীকে গুলি করে মেরেছে। যদিও র্যাবের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই বৃদ্ধ কীভাবে মারা গেছেন সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।
উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বরগাঁও এলাকায় বাড়ির সামনে শুক্রবার মধ্যরাতে কাশেম গুলিবিদ্ধ হন বলে দাবি স্বজনদের। তিনি ওই এলাকার প্রয়াত কদম আলীর ছেলে। পেশায় একজন বাঁশ-বেতের হস্তশিল্পী। তার পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
কাশেমের স্ত্রী রমিজা বেগমের অভিযোগ, রাত ২টার কিছু সময় আগে তিনি ও তার স্বামী শৌচাগারে যেতে বের হন। এ সময় বাড়ির পাশেই চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান। তারা সেখানে এগিয়ে গিয়ে দেখেন শার্ট ও গেঞ্জি গায়ে একদল লোক তাদের পরিচিত সেলিম নামের এক তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিককে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ওই সময় সেলিম কান্নাকাটি করছেন। তখন আবুল কাশেম তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা বৃদ্ধকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন ওই লোকেরা তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে। তবু কাশেম যাচ্ছিলেন না।
রমিজা বেগম বলেন, ‘ওই সময় সাদা পোশাকধারীদের একজন নিজেকে বলে আমি র্যাব। তারপর আমার স্বামীর পেটে গুলি করে। পরে কান্নাকাটি করা অবস্থায় সেলিমকে নিয়ে চলে যায়। আমার চিৎকার শুনে লোকজন আইসা রক্তাক্ত অবস্থায় স্বামীকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালে নেয়ার পরে ডাক্তার কয় মইরা গেছে। পুরো ঘটনাটি আমার চোখের সামনে হয়েছে।’
বরগাঁও গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, গভীর রাতে গুলির শব্দ পাওয়ার পর এলাকার মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। তখন স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ওই লোকেরা গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। এতে হুমায়ুন কবির নামের একজনের পায়েও গুলি লাগে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে হুমায়ুন কবিরের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার সকালে পাশের গজারিয়া পাড়া এলাকায় রোজিনা আক্তার নামের এক পোশাক শ্রমিককে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কথা শুনেছেন তারা। কিন্তু শুক্রবার রাতে আসা ওই লোকদের গায়ে কোনো বাহিনীর পোশাক ছিল না বিধায় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। সে জন্য তাদের ডাকাত বলে চ্যালেঞ্জ করলে এলাকাবাসীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এরই জেরে গুলির ঘটনা ঘটে।
সোনারগাঁ উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে গুলিবিদ্ধ এক বৃদ্ধকে হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যায় হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন। ওই ব্যক্তির নাভীর ওপরে একটি বুলেটের ক্ষতচিহ্ন আছে। মরদেহ পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে।’
সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক আহসান উল্লাহ জানান, ‘হাসপাতাল থেকে এক বৃদ্ধের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তা জানা যায়নি। এ ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শনিবার সকালে আমরা জানতে পারি একজন মারা গেছেন। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন তা আমরা নিশ্চিত নই।’
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের প্রস্তুতি। কোথাও কোথাও কৃষকরা পাকা ধান ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। সবুজ ধানক্ষেতের সোনালি রূপ ধারণের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও মাঠের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় এবারও আমন ধানের ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে এখন পাকা ও আধাপাকা আমন ধানের শিষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। কৃষকের স্বপ্নজুড়ে এখন সোনালি ধান ঘরে তোলার প্রত্যাশা। ধান কাটা-মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ফলন ভালো হলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার আশা করছেন কৃষকরা।
গ্রামবাংলার মাঠজুড়ে আমন ধানের এমন দৃশ্য কৃষকের পরিশ্রমের সার্থকতার বার্তা দিচ্ছে। বছরের এই সময়ে কৃষকের প্রধান ব্যস্ততা থাকে ধান কাটা-মাড়াই ও ঘরে তোলাকে ঘিরে। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং ফসলের সঠিক পরিচর্যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিনহাজুর রহমান হাবিব বলেন, ‘গ্রামবাংলার কৃষি ও প্রকৃতি একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। মাঠভরা আমন ধান কৃষকের পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি। সোনালি ধান ঘরে তোলার সময়টি গ্রামীণ জীবনে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। কৃষকরা ভালো ফলন পেলে তাদের মুখে হাসি ফোটে, সেই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।’
নন্দীগ্রাম উপজেলার শিমলা বাজারের ধানের আড়তদার মুনিরুজ্জামান বলেন, ‘ধানের জাত ও মানভেদে বাজারদর নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে নতুন আমন ধানের মধ্যে ব্রিধান-৪৯ প্রতি মণ ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, মিনিকেট ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা, সুবললতা ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং কাটারিভোগ ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, ‘চলতি খরিপ-২ মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ধানের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধান পরিপক্ব হলে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কাটা-মাড়াইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এবারও এ উপজেলায় আমন ধানের আশাব্যঞ্জক ফলন হবে বলে আমরা আশা করছি। ধানের ফলন ভালো হলে কৃষকরা লাভবান হবেন।’
মাদারীপুর ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে এক শ্রমিকের লাশ ৯ ঘন্টা আটকে রাখার অভিযোগে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে আরএমও ডা. অখিল সরকার এর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে নিহতের স্বজনেরা। নিহত মোঃ সাইম শহরের আমিরাবাদ এলাকার শামসু মোল্লার ছেলে এবং পেশায় সে একজন শ্রমিক।
পুলিশ, নিহতের স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসোতাল সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকার সাইফুল ইসলামের নির্মাণাধীন ভবনের ২য় তলায় থাই গ্লাসের কাজ করার সময় বিল্ডিংয়ের গা ঘেঁষে থাকা বিদ্যুৎ এর খুটির সাথে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মোঃ সাইম গুরুতর আহত হয়ে পড়লে স্হানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ মর্গে নিয়ে রাখা হয়।
লাশের ময়নাতদন্ত না করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে নিহতের স্বজনেরা অনুমতি নিয়ে হাসপাতাল এসে লাশ আনতে গেলে বিপত্তির সৃষ্টির হয়। এ সময় হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে লাশ সনাক্তকরণের কাগজ দিচ্ছিলেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
উক্ত ঘটনায় হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অখিল সরকারের পদত্যাগ, বিচার ও গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন মৃতের স্বজনরা। পরবর্তীতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা ও সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ হাসপাতালে এসে নিহতের স্বজনের সাথে কথা বলে লাশ তাদের কাছে তুলে দেন।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, 'লাশ হাসপাতালে আটক রাখার খবর শুনে আমি এখানে এসেছি, ডিসি স্যার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে আমার কথা হয়েছে এবং এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে খুব দ্রুত আইনগত ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে'।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সক্ষমতা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ, নবনির্মিত ‘প্রান্তিক শক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’, (PSTC) ,'প্রান্তিক ট্রাভেলস','আনসার ব্যাংকের বিদেশ গমন ঋণ ও শেয়ার' ডিজিটাল ফেসিয়াল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম উদ্বোধন এবং বাহিনীর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘প্রান্তিক শক্তি লিমিটেড’-কে আনুষ্ঠানিকভাবে রিক্রুটিং লাইসেন্স হস্তান্তর করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ লাইসেন্স হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
সকাল ১০টায় মন্ত্রী একাডেমিতে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং শেষে নবনির্মিত প্রান্তিক শক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (PSTC) এর শুভ উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী (PSTC)- এর ৬জি ওয়েল্ডিং কর্মশালা, আধুনিক ড্রাইভিং সিমুলেটর প্রদর্শনী, গ্রিন এনার্জি (সৌরবিদ্যুৎ) প্রশিক্ষণ এবং ভ্রাম্যমাণ আইসিটি প্রশিক্ষণ বাস ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব, আতিথেয়তা ও রন্ধনশিল্প (হসপিটালিটি অ্যান্ড কালিনারি) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ নির্মাণ ও অন্যান্য কারিগরি প্রশিক্ষণ শেড পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি দেখে তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি একাডেমি প্রাঙ্গণে দরবার হলের নিকট একটি স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন।
পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে ১২টায় একাডেমির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ক্লিকের মাধ্যমে যুগান্তকারী সেবা ‘প্রান্তিক ট্রাভেলস’ এবং স্মার্ট ‘ফেসিয়াল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম’ (Facial Attendance System)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে, আভি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের সমঝোতা চুক্তির অংশীদার তিনটি জাপানি কোম্পানির কর্নধারগণ বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্ভাবনার অংশীদারত্ব নিয়ে তাঁদের সন্তোষজনক মতামত তুলে ধরেন।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, “বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যের জীবনমান উন্নয়নে বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ সক্ষমতা আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। জাপানের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আনসার-ভিডিপির প্রশিক্ষিত জনবল প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আস্থা অর্জনে দক্ষতা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে বিএমইটির ১০৪টি টিটিসি ও আনসার-ভিডিপির তৃণমূল নেটওয়ার্ক সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে। নব উদ্বোধিত ডিজিটাল ডেটাবেজ বিএমইটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি নিজস্ব সিআরএম (CRM) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত সদস্যদের সার্বক্ষণিক সেবা ও নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া হবে।”
মন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর যে বৃহৎ পরিকল্পনা তা বাস্তবায়নে আনসার ভিডিপির এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে যাচ্ছে। আজকের রিক্রুটিং লাইসেন্স পাওয়ার মধ্য দিয়ে আনসারের ভিডিপি তাদের কার্যক্রমকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক, গতিশীল ও কার্যকর করে তুলতে পারবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
তিনি উল্লেখ করেন, আনসার ও ভিডিপি'র প্রশিক্ষণ প্রকল্পগুলো টিটিসির সাথে সমন্বিতভাবে পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।আনসার -ভিডিপির এই প্রশিক্ষণ উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হব যে বিদেশে কর্মরত আমাদের সকল শ্রমিক দক্ষ। এক্ষেত্রে আমাদের বৈধ যে প্রক্রিয়াগুলো আছে তা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
‘প্রান্তিক শক্তি লিমিটেড’-কে সরকারি রিক্রুটিং লাইসেন্স প্রদান ও আধুনিক ‘প্রান্তিক শক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ (PSTC) উদ্বোধনের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের জন্য বৈধ ও নিরাপদ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি, প্রযুক্তিগত ও ভাষাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, দালালচক্রের শোষণ রোধ এবং বিশ্ব শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একই সাথে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সহজ শর্তের ‘প্রবাসী লোন’ এবং ‘প্রান্তিক ট্রাভেলস’ ও ফেসিয়াল অ্যাটেনডেন্সের মতো আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সংযোজন বিদেশগমনের ব্যয়ভার ও প্রক্রিয়াকে সাধারণের জন্য সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মানে একাডেমি অডিটোরিয়ামে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনা ও মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে এ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর -১ সংসদ সদস্য মো মুজিবুর রহমান, সচিব প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ, আনসার ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ সাইফুল্লাহ রাসেল এবং আমন্ত্রিত অতিথিবর্গ।
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘১৬১১১’-এ তাৎক্ষণিক কল পেয়ে মাঝনদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চে থাকা এক গুরুতর অসুস্থ যাত্রীকে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলার একটি বিশেষ মেডিকেল টিম দ্রুত সাড়া দিয়ে এই মানবিক অপারেশনটি সফল করে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৭ অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভোলা থেকে ঢাকাগামী “এমভি ফারহান-০৯” নামক লঞ্চে রওনা দিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। লঞ্চটি গত রাতে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে রোগীর শারীরিক অবস্থার হঠাৎ মারাত্মক অবনতি ঘটে। এসময় লঞ্চে থাকা অন্য এক যাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ‘১৬১১১’-এ কল করে জরুরি সহায়তা কামনা করেন।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা থেকে একটি মেডিকেল টিম দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে মাঝনদীতে চলমান লঞ্চে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে তারা অসুস্থ যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় জরুরি সহায়তা প্রদান করেন।
প্রাথমিক অবস্থার উন্নতির পর রোগীর উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে তাকে কোস্ট গার্ডের নিজস্ব বোটযোগে দ্রুত সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে কোস্ট গার্ডের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপনায় একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সযোগে রোগীকে আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, “দেশের মানুষের যেকোনো বিপদে ও জনসেবায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বদা নিয়োজিত আছে এবং ভবিষ্যতেও আমাদের এই মানবিক কার্যক্রম ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।”
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়নে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের অভিযানে নদী থেকে অবৈধভাবে আহরণ করা প্রায় ২৫ কেজি ইলিশসহ অন্যান্য মাছ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা মাছ তিনটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। তবে বিতরণ করা মাছের একটি অংশ নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে বাড়িতে নেওয়ার অভিযোগে দু’জনকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জানা যায়, রতনদী-তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী খেয়াঘাট-সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাছ জব্দ করা হয়। এ সময় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল উপস্থিত ছিল। পরে জব্দ করা মাছ স্থানীয় তিনটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযোগ পাওয়া যায়, মাছ গ্রহণকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বিতরণ করা মাছ নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি জানার পর রাত ৯টার দিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে মোহাম্মদ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে মাদ্রাসার শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় জানা যায়, মাদ্রাসাটি আবাসিক নয় এবং তিনি বিতরণ করা মাছ নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২৭) জানান, তিনি ও আবুল হোসেন (৫৫) মাছ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
তবে অন্য দুটি মাদ্রাসায় বিতরণ করা মাছ যথাযথভাবে পৌঁছেছে বলে সরেজমিন পর্যবেক্ষণে প্রতীয়মান হয়।
অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও আবুল হোসেনকে প্রত্যেককে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে জব্দ করা মাছের যথাযথ বণ্টন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৮২ জন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৮১৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ সময়ে এ বিভাগে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন একজন। খুলনা বিভাগে ২১৪ জন ভর্তি হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে একজনের। রাজশাহী বিভাগে ২১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বিভাগেও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৯৪ জন, রংপুর বিভাগে ১১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৪ জন ও সিলেট বিভাগে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৬০৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬ হাজার ২০৫ জন।
আত্মস্বাবলম্বী করতে খাজা নেসবতের অস্বচ্ছলদের মাঝে কর্মসংস্থান সহায়তা হিসেবে পুঁজি ও মূলধন বিতরণ করেছে হযরত শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ফরিদপুরের সদরপুরে ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ্ সূফী সৈয়দ কামরুজ্জামান তিন শতাধিক মানুষকে এই অনুদান প্রদান করেন। ছাদকায় জারিয়া হিসেবে অস্বচ্ছলদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একক আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী উপকরণ প্রদান করা হয়, যা তাদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে বলে ফাউন্ডেশন থেকে জানা যায়।
একই অনুষ্ঠানে দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা জামানার মোজাদ্দেদ হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহমাতুল্লাহ আলাইহি) নক্সবন্দী মোজাদ্দেদী পীর কেবলাজানের বেছালত উপলক্ষ্যে তাঁর একমাত্র পুত্র ও দরবার শরীফের গদীনশীন পীর সৈয়দ কামরুজ্জামান আসন্ন বার্ষিক ওরছ শরীফের তারিখ ২০২৭ সালের ১৩ জানুয়ারী রোজ বুধবার ঘোষণা করেন।
ওরছ পাকের প্রস্তুতি উপলক্ষ্যে আগেরদিন মঙ্গলবার বাদ জোহর থেকে বুধবার বাদ ফজর পর্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ওয়াজ নসিহতের মধ্য দিয়ে জলসায়ে ওরছ পাক-এ-শাহ্ চন্দ্রপুরী অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মুরিদ, আশেক-জাকের ও ভক্তরা দরবার শরীফে সমবেত হতে থাকেন। বাদ জোহর থেকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ-কিয়াম, জিকির-আজকার ও শরিয়ত-তরিকত সম্পর্কিত ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বাদ ফজর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত ও আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বের সুখ-শান্তি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য কামনা করা হয়।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু মুনিয়া (৫) ও মো. বিল্লাল হোসেনকে (৮০) উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
দগ্ধ অন্যরা হলেন ইয়াসমিন (৩০), অটোরিকশাচালক আলম (৪০) ও আয়েশা বেগম (৬০)। তাঁদের সবার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার এলাকায়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, রাত ১১টার দিকে কচুয়া থেকে ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। চিকিৎসা শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকে পৌঁছালে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে অটোরিকশাটি পুড়ে যায় এবং পাঁচজন দগ্ধ হন।
দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে শিশু মুনিয়া ও বিল্লাল হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। অন্য তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দগ্ধ পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। অন্য তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
শরতের শেষভাগে উত্তরের আকাশে মেঘের পর্দা সরে যেতেই দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে অপরূপ মহিমায় ভেসে উঠেছে হিমালয়ের তুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। বিগত তিন দিন ধরে জেলাটির বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থান থেকে খালি চোখেই বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ এই পর্বতচূড়া স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। নীল আকাশের পটভূমিতে বরফে ঢাকা শুভ্র পাহাড়ের এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণপিপাসুরা। অনেকে মুঠোফোন ও ক্যামেরায় এই বিরল দৃশ্য বন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত ভারত ও নেপাল সীমান্তের এই পর্বতশৃঙ্গটি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াসহ আশপাশের অঞ্চল থেকে খালি চোখেই প্রত্যক্ষ করা যায়। বিশেষ করে ভোরের প্রথম সূর্যের কিরণ পর্বতের তুষারে প্রতিফলিত হলে তা ক্ষণে ক্ষণে লালচে, কখনো গোলাপি আবার কখনো ঝকঝকে শুভ্র বর্ণ ধারণ করে। তবে কুয়াশা, মেঘ ও বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতির কারণে এটি সবসময় দৃশ্যমান হয় না; বর্ষা বিদায় নিয়ে আকাশ স্বচ্ছ হলেই কেবল এমন সৌন্দর্য ধরা দেয়।
কাঞ্চনজঙ্ঘার এই রূপ অন্তর্জালে শেয়ার করে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করছেন আলোকচিত্রী ও সাধারণ নাগরিকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবাহ লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! আবার মাউন্ট এভারেস্ট! বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ক্যামেরা দিয়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এর ছবি তুললাম! গল্প-ছবি আসবে একটু পরে! কত নির্ঘুম রাত, কত প্রতীক্ষা! অবশেষে ধরা দিল সাগরমাথা!’ একই সাথে উচ্ছ্বাস জানিয়ে স্থানীয় শিক্ষক শাওন ইমরান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে দেখতে বিদ্যালয় যাই। আজ সম্পূর্ণ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।’
হিমালয়ের বরফঢাকা শৃঙ্গ দেখার টানে প্রতিবছরই দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকদের সমাগম ঘটে তেঁতুলিয়ায়। সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজার অবকাশে বিপুলসংখ্যক পর্যটক পঞ্চগড়ে এলেও সে সময় ঘন মেঘের কারণে পর্বতশৃঙ্গের দেখা না মেলায় তাঁদের নিরাশ হতে হয়েছিল। তবে বর্তমানে টানা তিন দিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা উন্মোচিত থাকায় প্রকৃতিপ্রেমীদের মাঝে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
এ অঞ্চলের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি প্রসঙ্গে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, আকাশে মেঘের আধিক্য না থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা বর্তমানে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে। বিদ্যমান অনুকূল আবহাওয়া আরও এক থেকে দুই দিন বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে আকাশে মেঘমালা তৈরি হতে পারে, যার ফলে দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে পর্বতশৃঙ্গটি পুনরায় দৃষ্টির আড়ালে চলে যেতে পারে।
রংপুরে আলুর বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর অনেক কম হওয়ায় প্রতি কেজি আলুতে ১৪ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হিমাগারের বাড়তি ভাড়া, সংরক্ষণসংকট ও বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া। ফলে একদিকে আগের মৌসুমের আলু বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকেরা, অন্যদিকে শুরু হয়েছে নতুন মৌসুমের আবাদ। এতে বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন রংপুর অঞ্চলের আলুচাষিরা।
রংপুর জেলার আট উপজেলাতেই আলুর বাজারে একই চিত্র। বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, রংপুর সদর ও মিঠাপুকুরের কৃষকেরা উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। লোকসান কমানোর আশায় অনেকে হিমাগারে আলু রেখে দিয়েছেন। তবে নতুন আলু বাজারে আসতে শুরু করলে পুরোনো আলুর দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আতাউর রহমান গত মৌসুমে ৪৯ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেন। উৎপাদিত আলুর ৬১ কেজির পাঁচ হাজার ২০০ বস্তা হিমাগারে সংরক্ষণ করেন তিনি। এর মধ্যে তিন হাজার ১৪২ বস্তা আলু বিক্রি করে পেয়েছেন ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। কিছুদিন আগে প্রায় ২৫০ বস্তা আলু কেজিপ্রতি মাত্র ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। তাঁর হিসাবে, গত মৌসুমে ৪৯ বিঘা জমিতে আলু চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা। উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয় বিবেচনায় বর্তমান বাজারদরে আলু বিক্রি করলে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে তাঁকে।
একই পরিস্থিতি রংপুর মহানগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুবাজার এলাকার কৃষক ভুপাল চন্দ্র রায়ের। দুটি হিমাগারে তার ৫০০ বস্তা আলু সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করলে কেজিপ্রতি সাড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত লোকসান হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। জানা গেছে, বর্তমানে হিমাগার গেটে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১১ থেকে ১৪ টাকায়। অথচ উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় অনেক বেশি। ফলে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণ বাবদ খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় এক লাখ ৯৭ হাজার ৬১৬ হেক্টর জমিতে ৫১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৭ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। এর বিপরীতে বিভাগের ১২৪টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯২ টন, যা মোট উৎপাদনের ২৩ দশমিক ১ শতাংশ। সংরক্ষিত আলুর মধ্যে আট লাখ ৮২ হাজার ২৮৮ টন এখনো হিমাগারে মজুত রয়েছে।
অন্যদিকে, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর দেশে আলু উৎপাদিত হয়েছে প্রায় এক কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টন। সরকারি-বেসরকারি হিমাগার ও অ-হিমায়িত মডেল ঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টন আলু। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবেও হিমাগারগুলোতে এখনো বিপুল পরিমাণ আলু মজুত রয়েছে।
কৃষকের কাছ থেকে কম দামে আলু কেনা হলেও খুচরা বাজারে তার প্রতিফলন নেই। রংপুরের বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ টাকায়। রাজধানী ঢাকায় একই আলুর দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা। উৎপাদক পর্যায়ে কম দাম এবং খুচরা বাজারে তুলনামূলক বেশি দামের এই ব্যবধান বাজারব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে, বদরগঞ্জের শাহজালাল ও গঙ্গাচড়ার এমএনটি হিমাগারের ব্যবস্থাপক সুভাস মুখার্জি জানান, হিমাগার গেটে প্রকারভেদে প্রতি কেজি আলু ১১ থেকে ১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হিমাগার দুটির ধারণক্ষমতা যথাক্রমে ১৫ হাজার ও সাড়ে নয় হাজার টন। বর্তমানে সেখানে যথাক্রমে ৪০ ও ৪৮ শতাংশ আলু মজুত রয়েছে।
তারাগঞ্জের এনএন হিমাগারের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, তাদের হিমাগারে সংরক্ষিত দুই লাখ ৫০ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে মাত্র ৬৩ হাজার বস্তা বের হয়েছে। অন্য বছর এ সময়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আলু উত্তোলন করা হতো। আগামী ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে নতুন আলু বাজারে আসার কথা। বর্তমান গতিতে আলু উত্তোলন চলতে থাকলে সব আলু সময়মতো বের করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
রংপুর আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, হিমাগারের ভাড়া বেশি হওয়ায় আলু সংরক্ষণ করেও লোকসান এড়ানো যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, আলুর দাম ১৩ টাকায় নেমে আসায় হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন ধীর হয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া এবং প্রয়োজনে সরকারিভাবে আলু কেনার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর ধরে আলু চাষে লোকসান হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, আলুচাষিদের লোকসান কমাতে হিমাগার ভাড়ার অন্তত ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া এবং কৃষকদের মূল্য সহায়তার আওতায় আনা যেতে পারে। পাশাপাশি আলুর বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো, প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশ ও রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত যশোরের মণিরামপুরের একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ ১১ দিন পর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে মরদেহগুলো মোহনপুর গ্রামে পৌঁছানোর পর সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। চলছে জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টের অব্যবস্থাপনার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। তারা অবৈধ রিসোর্ট বন্ধের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে গত ১৫ অক্টোবর ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যান যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে নাহিদুর রহমান, তার স্ত্রী আফসানা খাতুন এবং দুই মেয়ে ইনায়া ও ইহানা। ১৬ অক্টোবর তারা ইনানীর ওই রিসোর্টে ওঠেন। ১৮ অক্টোবর দুপুরে তাদের চেকআউট করার কথা ছিল। তবে এর আগেই ১৭ অক্টোবর ভোরে রিসোর্টটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষার কারণে মরদেহ শনাক্ত করতে সময় লাগে। গত সোমবার বিকেলে কক্সবাজার পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পায়। এরপর আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার দুপুরে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে সেগুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
নাহিদুররা দুই ভাই। চাকরির কারণে দুই ভাই-ই গ্রামের বাইরে থাকতেন। মোহনপুরের পশ্চিমপাড়ায় ‘ফারজানা ম্যানশন’ নামে দোতলা বাড়িটিতে নাহিদুরের বৃদ্ধ বাবা মতিয়ার রহমান একাই থাকেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড় জমেছে। বাড়ির বারান্দার পাশে একটি চেয়ারে বসে আছেন মতিয়ার রহমান। তাকে ঘিরে স্বজনেরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ছেলে, পুত্রবধূ ও দুই নাতনিকে হারিয়ে তিনি শোকে স্তব্ধ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মতিয়ার রহমান বলেন, আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার আগের রাতে নাহিদের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। তখন সে আমাকে বলেছিল, বাবা, তুমি চিন্তা করো না। তোমার নাতনিরা সি-বিচে আছে, বাচ্চারা খেলছে। মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরব। বুধবার (২৮ অক্টোবর) তুমি ঢাকার মিরপুরের বাসায় চলে যেয়ো।’ সেটাই ছিল শেষ কথা। আর কথা হবে না।
নাতনিদের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ছুটিতে গ্রামে এলে নাতনিরা বাড়ি মাতিয়ে রাখত। কত খেলতাম তাদের সঙ্গে! আর কিছুই হবে না। ফুলের মতো নিষ্পাপ বাচ্চারাও পুড়ে মারা গেছে। কত কষ্ট পেয়েছে আমার সোনার মানিকেরা!
নিহত নাহিদের ফুফা আব্দুল লতিফ বলেন, কর্মজীবী মানুষ একটু সময় পেলেই বিনোদনের জন্য রিসোর্টে যান। কিন্তু সেই রিসোর্ট যদি অনিয়ন্ত্রিত হয় কিংবা অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সেখানে সব সময়ই জীবনের ঝুঁকি থাকে। এমন অব্যবস্থাপনার কারণে তাজা প্রাণগুলো অকালে ঝরে গেল। এর দায়ভার কে নেবে? আমাদের একটি পরিবার শেষ হয়ে গেল। তাদের তো আর ফিরে পাব না। তবে এসব অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর)বেলা তিনটার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চারজনকে দাফন করা হবে। তাদের দাফনের জন্য সকাল থেকেই কবর খোঁড়ার কাজ শুরু করেন গোরখোদক। নাহিদের মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে নাহিদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে।
কবর খোঁড়ার দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ষাটোর্ধ্ব রবিউল ইসলাম। মোহনপুরের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, এত দিন শুধু শুনেছি, একসঙ্গে একাধিক মানুষকে কবর দেওয়া হয়েছে। এবার নিজের চোখে দেখছি, পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়া হয়েছে। একই পরিবারের চারজনকে দাফন করা হবে। এর আগে আমাদের গ্রামে এমন দৃশ্য দেখিনি।
নিহত নাহিদুর রহমান ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে তাদের মৃত্যুর পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাটিভর্তি ডাম্প ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের তীব্র ধাক্কায় অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় বাসের আরও অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বুধবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজের পর বৈরাগীগঞ্জ শাহ আমানত ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে মাজার মসজিদের সামনে মাটির একটি ডাম্প ট্রাক স্থির অবস্থায় ছিল। ওই সময় ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীগামী ‘খান এন্টারপ্রাইজ’-এর একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি ট্রাকটির পেছনে আছড়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই বাসের এক যাত্রী মারা যান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরবর্তীতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
বড়দরগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম উদ্দিন সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। তবে নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি; তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতেই তাঁর আপন ছোট বোনকে বিয়ে করে দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া নওগাঁর আইনজীবী সহকারী ও টিকটকার মো. মাসুদ রানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে নিজের ভুল স্বীকার করে নববিবাহিত শ্যালিকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে হাত জোড় করে ভুল স্বীকার করেন মাসুদ রানা। তিনি জানান, প্রথম স্ত্রীকে বহাল রেখেই সহোদরা শ্যালিকাকে বিয়ে করা তাঁর জীবনের মারাত্মক ভুল ছিল। ধর্মীয় বিধান ও সামাজিক বিধিনিষেধ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে দাবি করে তিনি উল্লেখ করেন, এটি সামাজিক দৃষ্টিতে অনৈতিক এবং ইসলামি অনুশাসনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ জেনে থাকলে কখনোই এ ধরনের পদক্ষেপ নিতেন না কিংবা বিষয়টি জনসমক্ষে আনতেন না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী চলার অঙ্গীকার করে তিনি জানান, যাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন সেই শ্যালিকাকে তিনি অবিলম্বে তালাক দেবেন। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া বন্ধ করার অনুরোধ জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বৈরাগীপাড়া এলাকায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মাসুদ রানা। গত ২৪ অক্টোবর সেখানে আনুষ্ঠানিকতার পর ২৫ অক্টোবর প্রথম স্ত্রীর আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন তিনি। পরবর্তীতে দুই স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর আগে মাসুদ রানা দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রীর পূর্ণ সম্মতি ও সহযোগিতাতেই তিনি এই বিয়ে সম্পন্ন করেছিলেন।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সোমবার রাতে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে শ্যালিকাকে বিয়ে করার প্রতিবাদে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাসুদ রানার মুখে চুন-কালি মেখে দিয়ে তাঁকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করে। উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে পরদিনই সামাজিক মাধ্যমে এসে অনুশোচনা প্রকাশ করে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তিনি।