মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
২ আষাঢ় ১৪৩৩

হাসপাতালে বৃদ্ধের গুলিবিদ্ধ মরদেহ, গুরুতর অভিযোগ স্ত্রীর

স্বামীর মরদেহের পাশে বারান্দায় বসে বিলাপ করছেন রমিজা বেগমসহ স্বজনরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৮ মার্চ, ২০২৩ ১৬:৪১
প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত : ১৮ মার্চ, ২০২৩ ১৫:২৫

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের উপজেলা হাসপাতাল থেকে আবুল কাশেম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কাশেমের স্ত্রীর দাবি, র‌্যাব পরিচয়ে একদল ‘সাদা পোশাকধারী’ তার স্বামীকে গুলি করে মেরেছে। যদিও র‌্যাবের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই বৃদ্ধ কীভাবে মারা গেছেন সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বরগাঁও এলাকায় বাড়ির সামনে শুক্রবার মধ্যরাতে কাশেম গুলিবিদ্ধ হন বলে দাবি স্বজনদের। তিনি ওই এলাকার প্রয়াত কদম আলীর ছেলে। পেশায় একজন বাঁশ-বেতের হস্তশিল্পী। তার পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

কাশেমের স্ত্রী রমিজা বেগমের অভিযোগ, রাত ২টার কিছু সময় আগে তিনি ও তার স্বামী শৌচাগারে যেতে বের হন। এ সময় বাড়ির পাশেই চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান। তারা সেখানে এগিয়ে গিয়ে দেখেন শার্ট ও গেঞ্জি গায়ে একদল লোক তাদের পরিচিত সেলিম নামের এক তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিককে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ওই সময় সেলিম কান্নাকাটি করছেন। তখন আবুল কাশেম তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা বৃদ্ধকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন ওই লোকেরা তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে। তবু কাশেম যাচ্ছিলেন না।

রমিজা বেগম বলেন, ‘ওই সময় সাদা পোশাকধারীদের একজন নিজেকে বলে আমি র‌্যাব। তারপর আমার স্বামীর পেটে গুলি করে। পরে কান্নাকাটি করা অবস্থায় সেলিমকে নিয়ে চলে যায়। আমার চিৎকার শুনে লোকজন আইসা রক্তাক্ত অবস্থায় স্বামীকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালে নেয়ার পরে ডাক্তার কয় মইরা গেছে। পুরো ঘটনাটি আমার চোখের সামনে হয়েছে।’

বরগাঁও গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, গভীর রাতে গুলির শব্দ পাওয়ার পর এলাকার মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। তখন স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ওই লোকেরা গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। এতে হুমায়ুন কবির নামের একজনের পায়েও গুলি লাগে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে হুমায়ুন কবিরের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার সকালে পাশের গজারিয়া পাড়া এলাকায় রোজিনা আক্তার নামের এক পোশাক শ্রমিককে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কথা শুনেছেন তারা। কিন্তু শুক্রবার রাতে আসা ওই লোকদের গায়ে কোনো বাহিনীর পোশাক ছিল না বিধায় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। সে জন্য তাদের ডাকাত বলে চ্যালেঞ্জ করলে এলাকাবাসীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এরই জেরে গুলির ঘটনা ঘটে।

সোনারগাঁ উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে গুলিবিদ্ধ এক বৃদ্ধকে হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যায় হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন। ওই ব্যক্তির নাভীর ওপরে একটি বুলেটের ক্ষতচিহ্ন আছে। মরদেহ পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে।’

সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক আহসান উল্লাহ জানান, ‘হাসপাতাল থেকে এক বৃদ্ধের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি কীভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তা জানা যায়নি। এ ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শনিবার সকালে আমরা জানতে পারি একজন মারা গেছেন। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন তা আমরা নিশ্চিত নই।’


এক সময়ের জনপ্রিয় দেশি খেজুর এখন পাখির খাদ্য

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মেহেরপুর প্রতিনিধি

কৃষি নির্ভর মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সড়কের পাশে, বাড়ির আঙিনায়, ফসলি জমির আইল কিংবা পুকুর পাড়,কিংবা পতিত জমিতে সারি সারি দেশি খেজুর গাছের দেখা মেলে।

এসব গাছে থোকায় থোকায় খেজুর ধরলেও বর্তমানে মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ খেজুর গাছেই পেকে নষ্ট হচ্ছে। এক সময় এই দেশিই খেজুর হাটে বাজারে বিক্রি হতো। তবে বতর্মানে সময়ে দেশিই খেজুরে ক্রেতাদের আগ্রহ না থাকাই থোকায় থোকায় গাছেই পেকে নষ্ট হচ্ছে দেশিই খেজুর।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় এক দশক আগেও দেশি খেজুরের আলাদা কদর ছিল। বাজারে এসব খেজুর বিক্রি হতো এবং অনেকেই লবণ মিশিয়ে কয়েক দিন রেখে পাকিয়ে খেতেন। সুস্বাদু এই ফলটি তখন গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই অতীত। তবে এখন এসব খেজুর বতর্মানে পাখির খাদ‍্য হিসেবেই বিবেচিত।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খেজুর গাছে থোকায় থোকায় ফল ঝুলতে দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। অথচ বর্তমানে অধিকাংশ খেজুর গাছেই নষ্ট হচ্ছে। একসময় মানুষ আগ্রহ নিয়ে এসব খেজুর সংগ্রহ করে তারা খেতেন। এ ছাড়া এসব গাছে কোনো কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না এবং বিশেষ যত্ন ছাড়াই ভালো ফলন পাওয়া যায়।

মালশাদহ গ্রামের কৃষক মিন্টু বলেন,বর্তমানে দেশি খেজুর মূলত পশুপাখির খাবারে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন খুব একটা খায় না। অথচ এই খেজুর এক সময় আমি বাজার থেকে কিনে এনে খেয়েছি। তবে সময়ের ব‍্যাবধানে আজ তা হারাতে বসেছে। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির প্রতিটি ফলের কোন না,কোন গুন রয়েছে।

তাই এ ফল খাওয়ার অভ্যাস বাড়ানো উচিত।

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস‍্য আঃ হান্নান বলেন,আমরা বাল‍্যকালে যে সকল ফল দেখেছি,খেয়েছি তার মধ‍্যে অনেক ফলই এখন আর দেখা মেলেনা। ছোটবেলায় গাছ থেকে পেড়ে অনেক খেজুর খেয়েছি। তখন লবণ মিশ্রিত পানিতে দুই-তিন দিন রেখে খেজুর পাকিয়ে খাওয়ার প্রচলন ছিল। কিন্তু এখনকার প্রজন্মের মধ্যে সেই আগ্রহ আর দেখা যায় না। আমরা আমাদের অনেক দেশিই ফল খাওয়া ভুলে গিয়েছি। যার ফলে আমরা শারীরিক ভাবেই অনেক দুর্বল হয়ে পড়ছি।

প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি দেখেছি আগে ছোট-বড় সবাই দেশি খেজুর খেত। এখন আর তেমন কাউকে খেতে দেখা যায় না। কারন এখন হাতের নাগালেই বিভিন্ন ধরনের বিদেশি খেজুর পাওয়া যায়। আবার সেগুলো দেশি খেজুরের চেয়ে স্বাদও বেশি। আর দেশি খেজুরের আঁটি বড় হওয়ায় শাঁস তুলনামূলক কম। তবে এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে একসময় এর বেশ কদর ছিল।

খেজুরের গুড় বিক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, আমি প্রায় তিন শতাধিক গাছ থেকে শীতের মৌসুমে রস সংগ্রহ করে গুড় বানাই। আর বতর্মান সময়ে প্রতিটি গাছেই থোকায় থোকায় কাচা পাকা খেজুর ঝুলছে। অথচ আমি এই খেজুর একটাও পাড়ি না। সব আমি পাখির খাদ‍্য হিসেবে রেখে দিয়েছি। প্রতিদিন শতশত পাখি এই খেজুর খেতে আসে। বিশেষ করে শালিক,বুলবুলিসহ অনেক পাখি। তাদের কিচিরমিচির শুনতে খুব ভালো লাগে।

মো: মতিয়র রহমান বলেন, খেজুরসহ দেশি মৌসুমি ফলগুলো খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। এসব ফলে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং ক্ষতিকর কোনো দিক নেই। তাই দেশি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। আমি মনে করি প্রতিটি মৌসুমী ফলই এক একটি ভিটামিনের ভান্ডার।


মাতামুহুরীতে যৌন নির্যাতনের পর শিশুকে হত্যা, আটক ৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের নবগঠিত উপজেলা মাতামুহুরীতে নিখোঁজের প্রায় ৪৫ ঘণ্টা পর ওয়াহিদুল ইসলাম (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা জানা গেছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত জলাশয় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া গ্রামের মো. তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যার পর থেকে ওয়াহিদ নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন একটি পরিত্যক্ত জলাশয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবার ও পুলিশকে খবর দেয়।

পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, 'সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি ছোট খালে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।' তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক তিন ব্যক্তি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।'

পুলিশ জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


রাজশাহীতে আমের বাজার ঘুরে দেখলেন আমেরিকান রাষ্ট্রদূত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী ব্যুরো

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আমের বাজার রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে তিনি হাটে এসে বিভিন্ন আমের আড়ত ও দোকান ঘুরে দেখেন। এ সময় তার সঙ্গে পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান ও পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ড সহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত হাটে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি ব্যবসায়ী ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আমের স্বাদ গ্রহণ করেন।

হাটে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন সফরে তারা আনন্দিত। এতে রাজশাহীর আম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিতি পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, রাজশাহীর আমের গুণগত মান ও স্বাদ বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বিদেশি কূটনীতিকদের এ ধরনের পরিদর্শন দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহীতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটি আমার প্রথম সফর। ২০২০ সালে একবার এসেছিলাম, তবে এবার বিশেষভাবে আমের মৌসুমে এসেছি কারণ আমি রাজশাহীর আমের স্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। আমি এখানে আসতে পেরে সত্যিই আনন্দিত। আমি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছি। পণ্য যেখানে উৎপাদিত হয় সেখানে যাওয়ার মতো সেরা অভিজ্ঞতা আর নেই—সবচেয়ে তাজা, সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং সেরা জিনিসটি দেখার সুযোগ সেখানে পাওয়া যায়। সেই অভিজ্ঞতার কোনো তুলনা হয় না।

তিনি আরও বলেন, আমেরিকানরা আম খুব পছন্দ করে। যদিও আমরা সাধারণত সেগুলো হিমায়িত অবস্থায় পাই এবং শেক তৈরিতে ব্যবহার করি। যুক্তরাষ্ট্রে আম পাওয়া যায়, তবে আমি মনে করি না সেখানে এখানকার মতো এত তাজা আম পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়াতে পরামর্শ দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশের আরও কোল্ড চেইন (হিমাগার ব্যবস্থা) প্রয়োজন। কারণ সারা বছর আমের সহজলভ্যতার জন্য হিমায়িত আম রপ্তানির জন্য সবচেয়ে উপযোগী। তাই সারা বছর আমের উন্নত উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের কোল্ড চেইন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।


কুলাউড়ায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১২ অবৈধ দোকান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, কুলাউড়া প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অবৈধ দখল ও যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। অভিযানে অবৈধভাবে স্থাপিত ১২টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে ৩টি মামলায় ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে কুলাউড়া থানাপুলিশ ও পৌরসভার সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুল ইসলাম।

অভিযানকালে রেলস্টেশন রোডের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি সড়কে অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিং করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার অভিযোগে ৩টি মামলা দায়ের করে মোট ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কুলাউড়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে কয়েকদিন থেকেই মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছিলো। নির্দেশনা না মানায় জনস্বার্থে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সড়ক ও সরকারি জায়গা দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


টঙ্গীতে বিপুল পরিমান ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ।

সোমবার(১৫ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে টঙ্গী আউচপাড়া আক্কেল আলী সড়কের বাবর গাজীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নরসিংদী জেলার বাধবদী থানার চর দিঘলদী গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৬) ও নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মৃত আমির হোসেনের ছেলে শাওন (২৬)। এসময় তাদের হেফাজত থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ৫৮ লাখ টাকা, ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ওই এলাকার বাবর গাজীর বাড়িতে বিপুল পরিমান ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে রাত ৯টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই এসএম মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আনোয়ার ও শাওনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের হেফাজত থেকে ১০হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ৫৮ লাখ টাকা, তিনটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত আলামতসহ দুই মাদক কারবারিকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, এঘটনায় থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


কমলনগরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চেক ও চাল বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. এমরান হোসেন, রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ চেক ও চালের ডিও বিতরণ করা হয়।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.রাহাত উজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পরিতোষ কুমার বিশ্বাস।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রেরিত উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ৩ জন ব্যক্তির জন্য ৩০ কেজি করে ৯০ কেজি চাল ও ৪৭ হাজার ৫০০ টাকার চেক ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.রাহাত উজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চেকের মাধ্যমে টাকা ও চালের ডিও বিতরণ করা হয়েছে।


পিরোজপুরে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা পরিষদের ব্যাপক উদ্যোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎​পিরোজপুর প্রতিনিধি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনন্য উদ্যোগ— ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পিরোজপুর জেলা পরিষদ। টেকসই পরিবেশ গঠন এবং বৃক্ষসম্পদ বৃদ্ধির অঙ্গীকার নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে এই বৃক্ষরোপণ অভিযান।

‎​পিরোজপুর জেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও এর গুরুত্ব তুলে ধরেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।

‎অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, "একসময় আমাদের রাস্তার পাশজুড়ে প্রচুর আমলকী গাছ ছিল, যা পশুপাখি ও স্থানীয় জনসাধারণের জন্য প্রাকৃতিক ছায়া ও খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেসব গাছ হারিয়ে গেছে। আমরা সেই বিলুপ্ত আমলকী গাছগুলোকে পুনরায় রাস্তার পাশে রোপণ করার উদ্যোগ নিয়েছি"।

‎কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিম এবং অর্জুন গাছের চারা রোপণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক নিম গাছের বহুমুখী গুণাগুণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন -নিমের আবহাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর ঔষধি বৃক্ষ, যার ব্যবহার বহু প্রাচীন। নিমের ডাল থেকে তারা স্থানীয় পর্যায়ে মাজন তৈরি করে থাকেন, যা দাঁতের যত্নে অত্যন্ত কার্যকর। তিনি জানান, আরাফাত ময়দানে ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত এই গাছের চারাও রোপণ করা হচ্ছে, যা স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।

‎জেলা প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা জেলায় নিমের ফলন ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের আওতায় পিরোজপুর জেলা পরিষদ এ বছর অন্তত ১,৫০০টি গাছ রোপণ করবে এবং শুধু রোপণই নয়, বরং গাছগুলোর যথাযথ সংরক্ষণও নিশ্চিত করা হবে।

‎​তিনি আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং বাংলাদেশে বৃক্ষ নিধন রোধে এই কর্মসূচি একটি ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। জেলা পরিষদের এই উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহলে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।

‎​অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ নূরুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


অষ্টগ্রামে স্বেচ্ছায় দেশীয় অস্ত্র জমাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ)

সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে স্বেচ্ছায় দেশীয় অস্ত্র জমাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে প্রশাসনের কাছে দেশীয় অস্ত্র জমা দেন।

রবিবার (১৪ জুন) সকালে অষ্টগ্রাম থানায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র থানায় জমা দেন।

অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে টেলিকনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজামুল হক নজরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিন প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, "সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে আইন মেনে চলতে হবে। অস্ত্র নয়, সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।" তিনি আরও বলেন, যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তারা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।

সভাপতির বক্তব্যে ওসি মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, অষ্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সর্বদা জনগণের পাশে রয়েছে। অপরাধ ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ তৎপর ভূমিকা পালন করছে। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়েছেন তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।


নারায়ণগঞ্জে পুলিশের ওপর মাদক ব্যবসায়ীদের হামলা ও গুলি, আহত ৫ 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সাড়ে ১৫ কেজি গাঁজাসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তাদের ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে গুলি ছুঁড়েছে তাদের সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে পুলিশ কর্মকর্তা সহ ৫ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাতে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুলা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।

গ্রেফতাররা হলেন— মনির ওরফে ফাইটার মনির (৩৮), নাঈম (২৮) ও মাসুম (২৪)। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— এসআই নন্দন সরকার, এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন এবং কনস্টেবল আশিক। তাদের শহরের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে এসআই নন্দন সরকারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ফাইটার মনিরের মাদক স্পটে অভিযান চালায়। এ সময় সাড়ে ১৫ কেজি গাঁজাসহ ফাইটার মনির এবং তার দুই সহযোগী মাসুম ও নাঈমকে আটক করা হয়।

আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে মনিরের সহযোগী মাদক কারবারিরা তাদের ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও দুই রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে হামলাকারীদের ছোড়া গুলিতে ফাইটার মনিরের পায়ে গুলি লাগে। হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ফতুলা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, রাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী ফাইটার মনির ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। এ খবর পেয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিতে মাদক কারবারিরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ শটগান থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এতে পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তবে তারা কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”


খুলনায় মসজিদের ভেতরে দুই মুসল্লিকে গুলি, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈকত মোঃ সোহাগ, খুলনা ব্যুরো 

খুলনা নগরীর দৌলতপুর এলাকায় একটি মসজিদের ভেতরে ফজরের নামাজ শেষে দুই মুসল্লিকে গুলি করার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার পর দৌলতপুর ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন লোকমান ও আলম। তাদের মধ্যে লোকমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজ আদায় শেষে মুসল্লিরা যখন মসজিদে অবস্থান করছিলেন, তখন কয়েকজন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত হঠাৎ মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে লোকমান ও আলম গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লোকমান নামাজ শেষে মসজিদের ভেতরে বসে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন। ঠিক সেই সময় হামলাকারীরা গুলি চালায়।

গুলির শব্দে মসজিদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় মুসল্লিরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা লোকমানের শারীরিক অবস্থাকে সংকটাপন্ন বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। অপর আহত আলম বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। মসজিদের ভেতরে এমন হামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

দৌলতপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ফজরের নামাজ শেষে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে গুলি চালায়। এতে দুই ব্যক্তি আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হামলার পেছনে পূর্বশত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এ ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


চুয়াডাঙ্গা দর্শনা সীমান্তে ১১ জনকে ‘পুশইনের’ চেষ্টা, বিজিবি'র বাধায় ফেরত গেল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’-এর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) ভোর প্রায় ৫টার দিকে দর্শনা-গেদে সীমান্তের ৭৬-৭৭ নম্বর মেইন পিলারের নিকটবর্তী এলাকা দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। তাদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নজরে আসার পর বিজিবির টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের কাটাতারের বেড়ার কাছে নিয়ে রেখে আসে। পরবর্তীতে তারা কোথায় অবস্থান নিয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিজিবি চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, “পুশইনসহ সীমান্তের যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও অপারেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বাধীন চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার মোট ১১৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছে।


ক্ষমতা নয়, জনগণের সেবাই বিএনপির লক্ষ্য

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য। সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সবকিছুর লক্ষ্য একটিই, জনগণের সেবা। শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে নিজের হাতে মাটি কেটে পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

জনগণকে প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মালিক জনগণ। দেশের মালিক কোনো পরিবার বা কোনো দল নয়। জনগণের কাছে প্রশ্ন, যেই বাজেটে জনগণের স্বস্তি আনার ব্যবস্থা করা হয়, তাকে যারা বিরোধিতা করে তারা কি জনগণের বন্ধু হতে পারে?

দেশের চলমান উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের মতো এখন বিএনপি চেষ্টা করছে দেশ গঠনের। কিন্তু চক্রান্তকারীরা ষড়যন্ত্র করে অগ্রগতি আটকে দিয়েছিল। কিন্তু ভোটে জনগণ বিএনপিকে যে সমর্থন দিয়েছে, ততক্ষণ প্রাণ থাকবে ততক্ষণ দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। কারণ দেশই বিএনপির প্রথম ও শেষ ঠিকানা।

তিনি আরও বলেন, ভোটের দাগ শুকানোর আগেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে শুরু করেছে সরকার।

বাজেট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাজেটে প্রতিটি ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সবকিছুর লক্ষ্য একটিই, জনগণের সেবা।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বাজেটের পরই জিনিসের দাম বাড়ে। কিন্তু বর্তমান সরকারের বাজেট দেওয়ার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়েনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল বলছে এই বাজেট তারা মানে না। যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। এ থেকে বোঝা যায়, দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।

এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে দেশের জন্য কাজ করব— এমন প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।’

প্রধানমন্ত্রীর দাবি, খালটি পুনঃখনন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।

তিনি জানান, বিএনপির রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, নারী শিক্ষার প্রসারে উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরাও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেজন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।’

এ সময় তিনি জানান, হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এবারের বাজেট দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেছেন, ‘কর বাড়ানো হয়েছে শুধু মদ ও সিগারেটের ওপর। কারণ এগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বিরোধী দল সেটি নিয়েও সমালোচনা করছে। তাদের উদ্দেশ্য জনগণ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি।’

বাবার স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখননকাজের উদ্বোধন :

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে খাল পুনঃখননকাজের তিনি উদ্বোধন করেন।

পুনঃখনন উপলক্ষে খালের পাড়ে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই পাতলী গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ সমবেত হন। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা মাথায় অপেক্ষায় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এসে পৌঁছালে খালপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামবাসী তাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তাদের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাস। এ সময় তারা স্লোগান ধরেন—‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম।’

খাল খননের সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক পাতলী খাল আট কিলোমিটার দীর্ঘ। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পিএমখালীতে এসে ৪৮ বছর আগে ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে নিজের হাতে কোদাল দিয়ে পাতলী খাল খননকাজের সূচনা করেছিলেন। সেই সময়ে প্রেসিডেন্ট খালের পাড়ে একটি খেজুরগাছও রোপণ করেন। এটি আজ ৪৮ বছর পরও কালের সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছে।

এই খাল পুনঃখননে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে বলে জানান পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রকৌশলীরা।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন : পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিএনপি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি অন্য অতিথিদের সঙ্গে ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে।

এর আগে, সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর পাতলী খাল পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সড়কপথে চকরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়ে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের ৪৯ জেলার ১৪৯ উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বনভূমি সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এক বছরে প্রতি উপজেলায় পৌঁছবে ১০ হাজার কৃষিকার্ড : প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতি উপজেলায় আট থেকে ১০ হাজার কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবার বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও এবার বাড়েনি। প্রস্তাবিত বাজেটে ট্যাক্স কমানো ও মদ-সিগারেটের দাম বাড়ানোর পরও সেই বাজেটও বিরোধীদলের ভালো লাগে না।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য এবং সে জন্যই আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। একই সাথে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ভাইদের বীজ ও কীটনাশক ওষুধ কেনার জন্য এককালীন আড়াই হাজার টাকার সুবিধা দেওয়া হবে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। দেশের প্রথম সাফারি পার্ক হিসেবে পরিচিত ডুলাহাজারায় গতকাল শনিবার বেলা পৌনে ২টার দিকে তিনি পৌঁছান।

এর আগে পার্কের ‘বাংলো ঈগল’-এ যান ডা. জুবাইদা রহমান। সেখানে তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং মন্তব্য লিখে রাখেন। পরে পার্ক পরিদর্শনের সূচনায় প্রবেশদ্বারের পাশে নিজ হাতে একটি নাগলিঙ্গমগাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর ব্যক্তিগত গাড়িতে পার্কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তিনি। পরিদর্শনকালে বাঘ, সিংহ, হাতি, জলহস্তী, অজগর, ভালুক, হরিণ, ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী ও পাখির বেষ্টনী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা এবং সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। সব কর্মসূচি শেষে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেন তিনি।


মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু, আহত ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইসমাইল (২৬) নামে এক ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মো. সবুজ (২৪) নামে এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

‎শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের বোরহানউদ্দিন উপজেলার দৌলতখান রাস্তার মাথা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎নিহত ইসমাইল উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের চকঢোষ গ্রামের চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা মো. মাকসুদ ও জাহানারা বেগম দম্পতির ছেলে। আহত সবুজের বাড়ি ঘটনাস্থলের পাশেই।

‎প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে বোরহানউদ্দিন পৌর ভবনের সামনে থেকে ব্রাজিল সমর্থকদের পূর্বনির্ধারিত মোটর শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি দৌলতখান রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর পর সমর্থকেরা সড়কের পাশে ব্রাজিলের জার্সি পরিহিত এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ইসমাইল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে অথবা ব্যক্তিগত কাজে নিজ বাড়ি থেকে উপজেলা সদরের দিকে আসছিলেন।

‎ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও চিত্রগ্রাহক মো. শাকিল বলেন, “ব্রাজিল সমর্থকদের শোভাযাত্রার ড্রোন ফুটেজ ধারণের উদ্দেশ্যে আমি আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলাম। এ সময় কুঞ্জেরহাট দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি জিক্সার মোটরসাইকেলের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের কংক্রিটের ব্লকের সঙ্গে ধাক্কা খান। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।”

‎আহত সবুজের চাচী লাইজু বেগম বলেন, “দ্রুতগতিতে আসা মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সবুজকে ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।” পরে সবুজকে প্রথমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখান থেকে ভোলা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়।

‎ব্রাজিল সমর্থকদের কয়েকজন জানান, শোভাযাত্রাটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তারা ইসমাইলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎বিষয়টি নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাফসানা বলেন, “হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ইসমাইলকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।”


banner close