গ্রাম থেকে শুরু করে শহর কিংবা কেন্দ্র, সর্বত্রই সর্বজনীন কমিটি গঠন করে কাজ করতে চায় নতুন ধারার রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ঐক্য পার্টি।
শনিবার চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় দলটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহীম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ঐক্য পার্টি গ্রাম থেকে শুরু করে শহর কিংবা কেন্দ্র, সর্বত্রই সব ধর্ম ও মতের লোক নিয়ে কমিটি গঠন করতে চায়। বর্তমানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্যান্য জোটগুলো কেউ কাউকে বিশ্বাস করছে না, প্রতিশোধ ও পাল্টা-প্রতিশোধের ভয়ে আছে সব জোট। চরম প্রতিশোধের ভয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়া হচ্ছে না। সব ধর্ম ও মতের লোক নিয়ে গঠিত কোনো দল ক্ষমতায় গেলে সেই দলে কোনো মতের একচেটিয়া লোক না থাকায় প্রতিশোধের আশঙ্কা থাকবে না। এরকম কোনো দল ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। অন্যথা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না হয়ে দেশে সংকট আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে। দেশে এরকম ভয়াবহ পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয় সেজন্য গ্রাম থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সর্বজনীন কমিটি গঠনের জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ জানাই।’
বাংলাদেশ ঐক্য পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। এই দুই দলের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মজলুম জীবন যাপন করছে অনেকেই। তাদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস। ঐক্য, সহ-অবস্থান ও শান্তির রূপরেখা না থাকলে যারাই ক্ষমতায় আসুক, তাদের অত্যাচারে ক্ষমতাহীনরা কোণঠাসা হয়ে পড়বে। এতে ক্ষমতাসীনদের পৌষমাস হলেও সর্বনাশ হবে জনগণের। দেউলিয়াত্বের দিকে যাবে দেশ।’
আবদুর রহীম চৌধুরী বলেন, ‘দেশে সুস্থ রাজনীতির চর্চাসহ সাংবিধানিক সব অধিকার দেশের সব জনগণের জন্য নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে ঐক্য পার্টি। ২০২১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বাস্তবিক অর্থেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য এক গুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছি আমরা।’
এসময় কাজী আমান উল্লাহ আমান, মোহাম্মদ জাহেদ, মোহাম্মদ শাহজাহান, শুভ মিত্র রায়, রখাল দাশ, মোহাম্মদ আশিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বছরজুড়ে ঈদ মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন সিরাজগঞ্জের তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তাই রোজার ঈদকে সামনে রেখে এবারো জমে ওঠেছে সিরাজগঞ্জের তাঁতে তৈরি কাপড়ের হাটগুলো। সারা বছরের চেয়ে ঈদের এই সময়ের জন্য অপেক্ষায় থাকেন সিরাজগঞ্জের তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাঁতের বাজারে বেড়ে গেছে দেশের পাইকারদের আনাগোনা। তবে আগে দেশের পাইকারদের পাশাপাশি বিদেশি পাইকারদের আনাগোনাও ছিল চোখে পরার মতো। কিন্ত চলতি বছরে সিরাজগঞ্জের কাপরের হাটে দেখা নেই বিদেশি পাইকারদের। যে কারণে চাহিদা মতো তাঁতের তৈরি কাপড় বিক্রি করতে পারছেন না তাঁত মালিকরা। যদিও তারা ক্রেতাদের চাহিদার বিবেচনা করে শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিচে এনেছে নতুনত্য ডিজাইন। তাঁতিরা বলছেন দেশে ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় বিদেশি পাইকাররা আসতে পারছে না। যে কারণে দেশের তৈরি তাঁতের কাপড় বিদেশে রপ্তানি করতে পারছেন না তারা। তাই এবারের ঈদে তাতের বাজারে বড় ধরনের লোকশান আসতে পারে বলে দাবি তাঁত মালিকদের। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন দেশীয় তাঁতশিল্পকে বাঁচাতে ট্রানজিটের নামে আগ্রাসনকে রুখতে না পারলে দেশীয় এ শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে ।
বেলকুচি তামাই গ্রামের তাঁত মালিক মোহাম্মাদ আলী বলেন, ‘রোজার ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রচুর পরিমাণ শাড়ি ও লুঙ্গি তৈরি করেছি। বিভিন্ন হাটে সেগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছি। ক্রেতা ও পাইকারদের আনোগোনা খুবই কম দেখতে পাচ্ছি। আগে দেশের বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাইকারিভাবে শাড়ি-লুঙ্গি কিনে নিয়ে যেত এ বছর তেমন সাড়া পাচ্ছি না।’
উপজেলার চালা গ্রামের তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ী উসমান আলী বলেন, ‘সারা বছর ব্যবসা তেমন ভালো যায় না। প্রতি বছর রোজার ঈদে প্রচুর বেচাকেনা হয়ে থাকে; কিন্তু এ বছর কাপড় বেচাকেনার চাহিদা কম কারণ পাইকার কম। বিদেশি পাইকার ব্যবসায়ী হাটে আসছে না।’
বেলকুচি সোহাগপুর হাটের পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী আলী আকবার বলেন, ‘প্রতি বছর রোজার এক সপ্তাহের মধ্যেই তৈরিকৃত তাঁতের সকল কাপড় বিক্রি হয়ে যায়; কিন্তু এ বছর ব্যবসা তেমন ভালো যাচ্ছে না। এ বছর হাটে দেশীয় পাইকার থাকলে বিদেশি পাইকার নাই বললেই চলে। তাই কাপড় বেচাকেনাও কম হচ্ছে। ট্রানজিট সুবিধা না থাকার কারণে বাইরের পাইকাররা আসতে পারছে না।’
সোহাগপুর হাটে কাপড় কিনতে আসা পাইকার ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, ‘কোনো ঝামেলা ছাড়াই চাহিদামতো কাপড় কিনেছি। এর আগে হাটে দেশি বিদেশি পাইকারদের ব্যাপক আনাগোনা; ছিল কিন্তু এ বছর তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। তাই হাটে আসা দেশীর পাইকাররা কাপড় কিনতে পেরে অনেক খুশি।’
বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর হাটের ইজারদার হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করেছে সোহাপুর কাপড়ে হাটে। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে তাঁতের তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিচে আনা হয়েছে নতুনত্য ডিজাইন। তবে বর্তমানে ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে পাইকার আসলেও বিদেশি পাইকার না থাকায় তেমন একটা বেচাকেনা নেই।’ এ ব্যাপারে সরকারের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘তাঁত-কাপড়ের হাটে যেন কেউ হয়রানির যেন শিকার না হয় এ জন্য নজরদারি থাকবে। এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী এই তাঁতশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সেই সাথে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও বেগবান ও সচল রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ট্রানজিটের বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে।’
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আফরিন জাহান বলেন, ‘হাটে কিছু অব্যবস্থাপনা আছে এটা অনেক আগে থেকে চলে আসছে। আমরা চেষ্টা করছি সকল অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে ওঠে ব্যবসায়ীদের জন্য সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করতে পারব। ট্রানজিটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করা হবে।’
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর বাগডহড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর চর থেকে ট্রাক্টরের মাধ্যমে প্রতিদিন বালু তুলে পাশের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীর পানি কমে যাওয়ার পর নদীর বুকে জেগে ওঠা চর এলাকায় বালু উত্তোলনের তৎপরতা বেড়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ্রমিক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বালু তোলা হচ্ছে। পরে সেগুলো বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
চর বাগডহড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় চার মাস ধরে নদীর চর থেকে বালু তোলা হচ্ছে। ভোর থেকেই কয়েকটি ট্রাক্টর এসে বালু তোলে এবং একের পর এক ট্রিপ দিয়ে বালু নিয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রায় প্রতিদিনই ট্রাক্টরে করে বালু নিয়ে যেতে দেখি। যারা বালু তোলে তাদের অনেকেই পাশের কালীগঞ্জ উপজেলার লোক।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বাবু বলেন, ‘এই জায়গাটি গঙ্গাচড়া উপজেলার মধ্যে হলেও বাইরের লোক এসে এখান থেকে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি আমরা উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফারুক ও বেলাল নামের দুই ব্যক্তি এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তাদের নেতৃত্বে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে নিয়মিতভাবে নদীর চর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকার কৃষক মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন নদীর চরে ট্রাক্টর চলাচল ও বালু উত্তোলনের কারণে চর এলাকার পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এভাবে যদি বালু তোলা চলতে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে নদীর চর ও আশপাশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোশরেকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ তিনি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে তিস্তা নদীর চর বাগডহড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা কর্মসূচির আওতায় অসহায় ও দুস্থ নারীদের মাঝে দর্জি প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার ১ নং হাজীপুর ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড শ্রীরামপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শ্রীরামপুর গ্রামের ১১ জন অসহায় দুস্থ নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মাগুরা জেলা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মাছুদ হাসান খান কিজিল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১ নং হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম টিটব, সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মাগুরা জেলা শাখার আমানত হোসেন ও ১ নং হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন। পরিচালনায় ছিলেন ১ নং হাজিপুর ইউনিয়নের বিএনপির সদস্য সচিব আবু তালেব বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সালমা খাতুন।
মো. মাছুদ হাসান কিজিল বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় নারীদের মধ্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই প্রশিক্ষণ ও মেশিনের মাধ্যমে তারা নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে অবদান রাখতে পারবে। একই সঙ্গে তাদের মাধ্যমে অন্যরাও উপকৃত হবে।
কালিপদ দাস ও অনুপ দাস আপন দুইভাই। কালিপদ বড়, অনুপ ছোট। পাশাপাশি দুটি ছোট দোকান। নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও মেরামতের মাল-সামানায় দোকান ভর্তি। দুই ভাই নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ মুচিপোলের বাসিন্দা। ৫৫ বছর ধরে ডুগি-তবলা, ঢাক-ঢোল-খোল জয়ঢাক, নাল-কঙ্গোসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র তৈরি এবং মেরামতের কাজ করছেন। বাবা কিরণ দাসের হাত ধরে এ পথে আসা। বেশ আগেই বাবা মারা গেছেন। এখন তাদের দুই ভাইয়ের হাতেই নতুন বাদ্যযন্ত্রের প্রথম বোল (তাল) ওঠে। নতুনের পাশাপাশি পুরোনো বাদ্যযন্ত্র মেরামতে নতুন করে তাল তুলে দেওয়ার কাজও দুই ভাই করে যাচ্ছেন।
কালিপদ দাস বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর থেকে ঢাক-ঢোল, ডুগি-তবলা-খোল-জয়ঢাক, নাল-কঙ্গোসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র নতুন তৈরি এবং পুরোনোগুলো মেরামত করে বেচাকেনা করছি। ২০২০ সালের পর থেকেই বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির আগে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০টি নতুন বাদ্যযন্ত্র বিক্রি হতো। এরপর সেটা কমে ৫ থেকে ৬টায় দাড়িয়েছিল। এখন ২ থেকে ৩টা নতুন তৈরির কাজ হয়। ৫-৬টি পুরোনো বাদ্যযন্ত্র মেরামতের কাজ হচ্ছে। মাঝে মধ্যে জয় ঢাকের মেরামত কাজ বাড়তি হয়।’
তিনি বলেন, ‘৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মানের বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে বিক্রি করেন। দাম কম বেশির সঙ্গে বোলের (তালের) কোনো হেরফের হয় না। শুধু আকারে ছোট-বড় অনুযায়ী দাম কমবেশি হয়।’
কালি দাসের দুই ছেলে এক মেয়ে। মেয়েকে বিবাহ দিয়েছেন। ছেলেরা লেখাপড়া করছে। ছোট ভাই অনুপ দাসের দুই ছেলে। তারা সকলে লেখাপড়া করে। লেখাপড়ার পাশাপাশি দুই ভায়ের ছেলেরা বাবার কাজে সহযোগিতা করে থাকে।
কার কাছ থেকে এ কাজ শেখেছেন জানতে চাইলে কালিপদ দাস বলেন, ‘বাবা কিরণ দাস ছিলেন এ অঞ্চলের বাদ্যযন্ত্র তৈরির বড় মাপের কারিগর। নড়াইলের তৎকালীণ জমিদার রতন রায় চৌধুরী বাড়ির কর্মচারী ছিলেন আমার ঠাকুরদা (বাবার বাবা)। জমিদার বাড়ির জলসাঘর (গান-বাজনা) অনুষ্ঠানে যত রকমের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হতো সেগুলো মেরামত এবং নতুন তৈরির কারিগর ছিলেন আমার ঠাকুরদা। ঠাকুরদার কাছ থেকেই বাবা কাজ শিখেছিলেন। জীবদ্দশায় বাবার কাছ থেকে আমরা কাজ শিখেছি। বাবা মারা যাওয়ার পর এখন আমরা করছি।’ তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম বংশ পরম্পরায় এ কাজ ধরে রাখতে পারব। কিন্তু এ প্রজন্মের সন্তানরা তা ধরে রাখতে পারবে কি না বুঝতে পারছি না। বর্তমান সময়ের সন্তানরা অন্য ধরনের।’ তিনি বলেন, ‘মেয়েকে বিবাহ দিয়েছেন। ছেলে দুটো লেখাপড়ার পাশাপাশি মাঝে মধ্যে কাজের সহযোগিতা করে থাকে।’
কবে-কখন-কোথা থেকে নড়াইলে এসেছিলেন দুইভাইয়ের কেউ বলতে পারেন না। শুধু এটুকুই বলেন, এখানেই আমাদের জন্ম। জন্মের পর থেকে এখানকার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা। এই মাটিতেই তারা মরতে চান।’
তিনি বলেন, ‘বাবার সান্নিধ্যে থেকে বেড়ে ওঠা। তার কাছেই কাজ শেখা। কাজ করার পাশাপাশি বিয়ে করেন। সংসার হয়। ছেলেরা লেখাপড়ার পাশাপাশি হাতের কাজও শিখছে। তারা এই পেশায় থাকতে চাইছে না। দুই ছেলেই ইলেকট্রিক কাজ করছে। তবে মাঝে মধ্যে কাজের সহযোগিতা করে থাকে।’
অনুপ দাস বলেন, ‘আমার এখন আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। ৮ বছর বয়স থেকে বাদ্যযন্ত্র তৈরির কাজের সঙ্গে আছি। এখন বয়স ৪৪ বছর। প্রথমে বাবার কাছ থেকে, বাবা মারা গেলে দাদার কাছ থেকে ডুগি-তবলা, ঢোল-খোল, ঢাক-জয়ঢাক, কাঠিঢোল-ঢোলক, নাল-কঙ্গোসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র তৈরি এবং মেরামত কাজ শিখেছি। সংসার জীবনে প্রবেশের পর দুইভাইয়ের সংসার আলাদা হয়েছে। তবে ভাইয়ে ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্কের কোনো ঘাটতি হয়নি। পাশাপাশি দুই ভাইয়ের দোকান। তিনি বলেন, ‘মাটির তৈরি নতুন ডুগি-তবলা ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। পুরোনো মেরামত ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা। খোল নতুন ৫-৬ হাজার টাকা। মেরামত দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। জয়ঢাক নতুন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। মেরামত ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। কাঠিঢোল নতুন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। পুরোনো মেরামত দুই থেকে আড়াইশত টাকা। ঢোলক নতুন আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। মেরামত আট থেকে এক হাজার টাকা। নাল নতুন ৬ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা। পুরোনো মেরামত দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। কঙ্গো নতুন ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। পুরোনো মেরামতে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। এ ছাড়া অন্য রকমন-ফের দাম হয়ে থাকে।’
নওগাঁর মান্দায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের মারপিটে চোর সন্দেহ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। চোর সন্দেহে নিহত ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম (৪৫) উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে। অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক সাব্বিরসহ অন্য শিক্ষকের মারপিটে চোর সন্দেহ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামীয়া কাওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।
এ মৃত্যুকে নিয়ে চলছে এলাকায় ধোঁয়াশা। কিভাবে মাদ্রাসা শিক্ষকের মারপিটে চোর সন্দেহে ব্যক্তি মারা গেছে, স্থানীয়রা কেউ জানেন না। তবে শিক্ষকেরা বলছে স্থানীয়রা মেরে ফেলেছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন আছে, ওই মাদ্রাসার শিক্ষকরাই গভীর রাতে ওই ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে মেরে ফেলেছেন। মেরে ফেলার পর প্রতিষ্ঠান প্রধান বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে পরে পুলিশকে খবর দিয়েছে। কৌশলগতভাবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চলছে বলে অনেকের ধারণা।
জানা গেছে, চোর সন্দেহ ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম পানি খাওয়ার জন্য মাদ্রাসায় প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তাকে চোর সন্দেহে আমগাছের সাথে বেঁধে উপর্যুপরি মারপিট ও আঘাত করা হয়। মারপিটের ঘটনায় সে মারা যায়। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমান বিভিন্ন মহলের জোর তদবির করেন। পরে পুলিশকে খবর দিয়ে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এবিষয়ে প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামীয়া কাওমী মাদরাসা ও এতিমখানার পরিচালক মাওলানা মাসুদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চোর সন্দেহ ব্যক্তিকে মারপিটের পর ভোররাতে তিনি মারা যান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এব্যাপারে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম মাসুদ রানা বলেন, এটি কমপ্লিট মার্ডার। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভুল তথ্যের অভিযোগে বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে ১ মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। আটক কলেজ শিক্ষার্থীর নাম জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)। তারা পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের কন্যা ও স্ত্রী।
জানা যায়, ভুক্তভোগী জুবাইদার পৈতৃক বসতভিটা নিয়ে চকরিয়া আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। এই মামলাটি পেকুয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লবের তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার বাদি জুবাইদাকে তার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নিয়ে বিপক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় অভিযুক্ত এসআই পল্লব। এতে জুবাইদা ও তার মা থানায় গিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন বিপক্ষে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান এবং এসআই পল্লবকে দেওয়া টাকা ফেরত চান। এতেই বাধেঁ হট্টগোল। জুবাইদার ও তার মাকে বেধড়ক মারধর করতে করতে থানার গেটে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) খবর দিলে তিনি নিজেই থানায় এসে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা ও তার মাকে একমাসের সাজা শুনিয়ে দেন।
এ ঘটনায় থানায় আসা সেবাপ্রার্থী ও আশপাশের সচেতন লোকজন ব্যপক সমালোচনা করে বলেন, থানায় আসা সেবাপ্রার্থীদের নিকট থেকে ঘুষ নিয়ে একজন পুলিশ হয়ে মহিলার গায়ে হাত দিল। আর ইউএনও এসে ভুক্তভোগীর কোনো কথা না শুনে সাজা দিয়ে দিলো এটি সত্যিই অমানবিক।
প্রত্যাক্ষদর্শী মনজিলা বেগম (৬০) বলেন, আমি জুবাইদা ও তার মায়ের সাথে পেকুয়া থানায় মামলার তদন্তের বিষয়ে যাই। থানায় গিয়ে এসআই পল্লবের সাথে তারা মা মেয়ে মামলার বিষয়ে কথা বলতে শুনতে পাওয়া যায়। এতে আরও শুনতে পাই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার কথা বলে এসআই পল্লব বিশ হাজার টাকা নেন বাদী জুবাইদার কাছ থেকে। কিন্তু মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে না দিয়ে উল্টো বিপক্ষে দেন এসআই পল্লব। যার কারণে টাকা ফেরত চান ভুক্তভোগী বাদি জুবাইদা। এতে হঠাৎ চড়াও হন এসআই পল্লব। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চড় থাপ্পর মারতে থাকেন তারা মা মেয়েকে। পরে মহিলা পুলিশ এসে তাদের মারতে মারতে থানার গেটে নিয়ে আসে। থানায় থাকা সকল সেবাপ্রার্থীদের বের করে দেওয়া হয়। তারা মা মেয়েকে বেধড়ক মারধর করে। পরবর্তীতে ওসি এসে ইউএনওকে খবর দিলে ভুক্তভোগীর কোনো কথা না শুনেই এক মাস করে মা মেয়েকে সাজা দিয়ে দেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার এঘটনার খবর পেয়ে পেকুয়া থানায় গেলে তারা জুবাইদা ও তার মায়ের খবর না দিয়ে গড়িমসি করেন। ভুক্তভোগী জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল ও তার খালা আমেনা মুন্নী সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন বিরুদ্ধে দিয়ে আবার টাকা ফেরত চাইলে অমানবিক নির্যাতন করবে ইউএনও কে ডেকে এনে এক মাসের সাজা দিবে এটা কোন ধরনের আইন আমরা জানতে চাই। আমি ও আমার পরিবার এই অমানবিকতার সঠিক বিচার চাই।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও ) মাহবুব আলম বলেন, থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং একজন পুলিশ অফিসারের সাথেও হাতাহাতির ঘটনায় তদন্ত করে সাজা দিয়েছি।
এসআই পল্লবের সাথে ঘুষ লেনদেনের জেরে এঘটনা ঘটেছে এবিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, এটি পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আমি খারাপ আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সাজা দিয়েছি।
পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলমের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানায় এসে পুলিশের ওপর হামলা করছে। পেকুয়া থানার এসআই পল্লবের সাথে একটি ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে এঘটনার সুত্রপাত হয়েছে কিনা জসনতে চাইলে তিনি বলেন ,আমি এই বিষয়ে জানিনা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এসআই পল্লবকে একাধিকবার কল করা হলে রিসিভ করেননি তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউপির মনোহরপুর সীমান্তে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) রাবার বুলেট ও স্পিড বোটের ধাক্কায় মো. মোরশেদ নামে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় নৌকা থেকে পড়ে আরও এক বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহা. আজম আলী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে বিজিবি স্পিড বোটের ধাক্কায় বাংলাদেশি আহত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও রাবার বুলেট ছোঁড়ার অভিযোগ নিশ্চিত করেনি বিজিবি।
ইউপি চেয়ারম্যান জানান, আহত মো. মোরশেদ (৩২) মনোহরপুরের মনিমুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে একই বয়সি নিখোঁজ ব্যক্তি হলেন-মনোহরপুরের চান মণ্ডলের ছেলে মো. ফকির।
তিনি জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় মনোহরপুর সীমান্ত-সংলগ্ন পদ্মা নদীতে মাছ ধরছিলেন মোরশেদ, ফকির ও আরও কয়েকজন। এ সময় বিএসএফের সদস্যরা দূর থেকে তাদের ওপর রাবার বুলেট ছোঁড়ে। একপর্যায়ে বিএসএফের টহলের জন্য ব্যবহৃত স্পিড বোট উঠিয়ে দেওয়া হয় মোরশেদ ও ফকিরের নৌকার ওপরে। এতে তাদের নৌকাটি উল্টে যায়। পরে অন্য জেলেরা আহত অবস্থায় মোরশেদকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মো. ফকির।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আর এম ও) আব্দুস সামাদ জানান, আহত ব্যক্তির সোল্ডারে (ডানায়) ছড়রা গুলির চিহ্ন ছিল। তাকে গত বুধবার রাত ৭টার পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আহত ও নিখোঁজ বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের ২০০ গজ অভ্যন্তরে চলে যায়। এ সময় বিএসএফের টহল দল তাদের ধাওয়া করে এবং স্পিড বোটের ধাক্কায় একজন আহত ও অপর একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে সেখানে কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি বলে আমাদের জানিয়েছে বিএসএফ। আমরা ঘটনার খোঁজ নিচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের মারামারিতে রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে কিলার বাবুকে (৩৮)কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে পঞ্চবটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে কিলার বাবু ফতুল্লার শান্তিনগর বাজার এলাকার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। আহত তার বন্ধু মো. লিটন (৩৮) ফতুল্লার লালপুর এলাকার কাদের মিস্ত্রির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার পঞ্চবটিতে রাস্তার পাশের কিছু দোকান দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিলার বাবু ও নাঈম গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে ভোরে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজনের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হলে বাবু ও লিটনকে শহরের নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যায় তাদের অন্য সহযোগীরা। সেখানে চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করে এবং লিটনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু ‘ন্যাড়া বাহিনী’ নামে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন এবং ‘কিলার বাবু’ নামে পরিচিত ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, খাস জায়গায় দোকান বসিয়ে ভাড়া উঠানো নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পাবনার বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে জেলা পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বিশেষ তদারকি ও মহড়া পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে অসাধু চক্র যাতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য এই অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সাথে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যানজট নিরসনেও কাজ করছে ডিবি পুলিশের বিশেষ টিম।
ঐ বাজার তদারকি কার্যক্রমটি পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদের সরাসরি দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হয়। অভিযানে সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রেজিনুর রহমান। ডিবি পুলিশের এই বিশেষ টিমের নেতৃত্বে ছিলেন ওসি ডিবি রাশিদুল ইসলাম।
অভিযান চলাকালে ডিবি পুলিশের সদস্যরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলেন এবং বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। কোনো প্রকার অনিয়ম বা জনভোগান্তি পরিলক্ষিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। জনস্বার্থে এই ধরনের তদারকি ও মহড়া ঈদ পর্যন্ত নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নে আড়িয়ালখাঁ নদী থেকে প্রবাহিত শুকিয়ে যাওয়া লক্ষীগঞ্জ খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে তিনি এ কাজের উদ্বোধন করে বলেন, খালটি পুনঃ খননের ফলে অত্র এলাকার কৃষি আবাদে সেচকার্য্যে কৃষকের অনেক সুবিধা হবে, নদীর মিঠা পানির সেচকার্য্যে ফসলের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করাই আমাদের বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
খালটি পুনঃ খননের জন্য তিনি সেখানকার সর্বস্তরের বাসিন্দাদের সহযোগিতা চান। এসময় তার সাথে ছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), রাস্তি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার খবির খান, ব্যক্তিগত সহকারী মনিরুল আহসান পিন্টু, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, উৎসুক স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকবৃন্দ।
খাল খনন কাজের উদ্বোধন শেষে পরে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এসময় তিনি বলেন, বিএনপি দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি ও সবুজ বিপ্লবের কর্মসূচী থেকে বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা মাদারীপুরেও খাল খনন এবং পুনঃ খনন কর্মসূচীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প হিসাবে হাতে নিয়েছি, তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা লক্ষীগঞ্জবাসির দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আড়িয়ালখাঁ নদী থেকে প্রবাহিত এই খালটি পুনঃ খননের উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, কৃষির উৎপাদন বাড়াতে সেচ কাজের কোনো বিকল্প নাই, সেক্ষেত্রে নদীর মিঠা পানির সেচকাজ সহজ ও সাশ্রয়ী। তাতে ভূগর্ভস্থ পানির নাব্যতাও রক্ষা হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা মাদারীপুরের শুকিয়ে যাওয়া খালগুলোকে পর্যায়ক্রমে পুনঃ খনন করবো, এছাড়া বাস্তবতার আলোকে নতুন খালও খনন করা হবে, তাতে সেচ কার্য বৃদ্ধি পেয়ে ফসল উৎপাদনও বাড়বে, কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করাই আমাদের বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে হলুদ ও মরিচ গুঁড়ার বস্তার ভেতর লুকিয়ে রাখা ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতভর দুটি অভিযান চালানো হয়। প্রথমে কিরণগঞ্জ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত মেইন পিলার ১৭৭ থেকে প্রায় ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ছোট বিশ্বনাথপুর গ্রামে একটি গোয়ালঘরে অভিযান চালায়। এ সময় ১১টি হলুদ ও মরিচ গুঁড়ার বস্তাসহ সন্দেহজনক অবস্থায় মো. ইব্রাহিম (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে বস্তাগুলোর ভেতর থেকে ফেন্সিডিলের বিকল্প ৭৪ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf DX সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে সোনামসজিদ বিওপির আরেকটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ১৮৫/১-এস সংলগ্ন শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের একটি আমবাগানে অভিযান চালিয়ে ফেন্সিডিলের বিকল্প আরও ১০০ বোতল Eskuf DX সিরাপ জব্দ করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়।
বিজিবি জানায়, আটক আসামি ও জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত তিন মাসে এই ব্যাটালিয়ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১০ জন আসামিসহ প্রায় ৪ হাজার বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ করেছে।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় পারিবারিক অভিমানের জেরে এক যুবকের আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিহত দীপু মোল্লা (২৫) উপজেলার বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের যাদুয়ারচর কলমখানকান্দি এলাকার বাসিন্দা এবং মাজেদ মোল্লার মেঝো ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৪ মার্চ) গভীর রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল ফোন ব্যবহারকে কেন্দ্র করে বাবার সঙ্গে দীপুর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবা রাগের মাথায় তাকে বকাঝকা করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, এর আগেও এমন রাগারাগির ঘটনা ঘটেছে, তবে কখনো পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ রূপ নেয়নি।
নিহতের বড় ভাই রুবেল মোল্লা বলেন, তিনি ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার রাতে আনুমানিক ৩টার দিকে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে পাশের গরুর ঘরের দিকে তাকিয়ে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেয়ে ভেতরে গিয়ে দেখেন তার ছোট ভাই ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যদের ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কি এমন কষ্ট ছিল যে এমন সিদ্ধান্ত নিলো, আমরা বুঝতে পারলাম না।’
ঘটনার খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এসআই রিয়াজ জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, দীপু চুপচাপ স্বভাবের ছিল। এমন পরিণতি কেউ কল্পনাও করেননি।
চট্টগ্রাম বোয়ালখালীতে প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে ছাত্র-ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ইমতিয়াজ উদ্দিন নামের ২৫ বছর বয়সী এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইমতিয়াজ বোয়ালখালী পৌরসভার ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের পূর্বগোমদণ্ডী মুন্সিপাড়া সৈয়দ বাড়ির শওকত হাবিবের ছেলে।
গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে খবর পেয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন বোয়ালখালী থানার ওসি মাহফুজুর রহমান।
তিনি জানান, ইমতিয়াজ দীর্ঘ দেড়-দুবছর ধরে শিশুদের প্রাইভেট পড়ানোর নামে জোরপূর্বক যৌনাচারে লিপ্ত করতো। আমরা প্রাথমিকভাবে ৪ জন শিশুর তথ্য পেয়েছি। এর মধ্যে তিনজন মেয়ে ও এক জন ছেলে রয়েছে। তাদের বয়স ১০ বছরের কম। শিশুরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়তো।
অনৈতিক নোংরামি করার এক পর্যায়ে শিশুদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিশুরা। শিশুরা জানিয়েছে, প্যান্ট জামা খুলে অপ্রাকৃত সঙ্গমের চেষ্টা করতো ইমতিয়াজ।
অভিভাবক বলেন, শিশুরা প্রায় গোপনাঙ্গে ব্যথা এবং রক্ত ক্ষরণের কথা জানিয়ে আসছিল।
ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ইমতিয়াজ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।