বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র ১৪৩৩

পাথারিয়া বনে আগুন, বিট কর্মকর্তা প্রত্যাহার

গত ১ মার্চ পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্টে আগুন লেগে পুড়ে যায় ১ দশমিক ৮৫ হেক্টর বনভূমি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৮ মার্চ, ২০২৩ ২২:৫৭
প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত
প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত : ১৮ মার্চ, ২০২৩ ২২:৫৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বড়লেখা রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা সমনভাগ বিটের (ভারপ্রাপ্ত) বিট কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শুক্রবার রাতে সমনভাগ বিটের কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করেছে। তাকে বন বিভাগের সিলেট বিভাগীয় অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত ১ মার্চ পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্টের সমনভাগ বিটের মাখালজোরা, আলমবাড়ী ও ধলছড়া এলাকার বনাঞ্চলে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি বিট কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে জানালে তিনি ৭ মার্চ আগুন নেভাতে যান।

এ ঘটনা তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি এখনো তদন্তকাজ করছে। আজ রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় লোকজন ও পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, বনায়নের জন্য পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষিত বনে আগুন লাগানো হয়েছে। এর আগে এমন ঘটনা একাধিকবার হয়েছে। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে উপকারভোগীরা বনে আগুন দিয়েছেন। আগুনে বনের ছোট-বড় ১০-১২টি টিলাসহ প্রায় ৪০ একর বনভূমির বাঁশগাছ ও বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ পুড়ে গেছে। এতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে পরিবেশের। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

তবে বন বিভাগ বলছে, সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুনে বনের প্রায় ১ দশমিক ৮৫ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।

পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্টের আওতাধীন সমনভাগ বিটের সমনভাগ সংরক্ষিত বনের আয়তন ১ হাজার ৮৫০ একর। সমনভাগ বনাঞ্চলটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মিশ্র চিরসবুজ একটি সংরক্ষিত বন এবং উদ্ভিদ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশের মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। আগুনে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বনভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশ, ধ্বংস হয়েছে বন্য প্রাণীর আবাসভূমি। বনে আগুন লাগার ঘটনায় ১১ দিন পর গত ১১ মার্চ বড়লেখা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বন বিভাগের সমনভাগ বিটের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম।

স্থানীয়রা জানান, আগুনে বনের ভেতর প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশগাছ ও লতাগুল্ম পুড়ে গেছে। প্রাণের ভয়ে বনে থাকা কয়েকটি হাতি ভারতের দিকে পালিয়েছে। ১১ দিন বন আগুনে পুড়েছে। বন বিভাগের লোকজনকে জানানোর পরও তারা গুরুত্ব দেননি। শুরুতে গুরুত্ব দিলে এতদিন বন পুড়ত না।

পাথারিয়া বন্য প্রাণী সংরক্ষণ টিমের সদস্য ও পরিবেশকর্মী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা সমনভাগ বিটের মাখালজুড়া আলামবাড়ী ও ধলছড়া এলাকার বনাঞ্চল ঘুরে দেখেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আনুমানিক প্রায় ৪০ একর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। একদিকে আগুনে বন পুড়ছে, অন্যদিকে কিছু লোক সেখান থেকে গাছ ও বাঁশ অবাধে কেটে ফেলছে। আমরা জেনেছি যে বনায়নের জন্য পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়ে সংরক্ষিত বন পোড়ানো হয়েছে। এতে বন বিভাগের লোকজন জড়িত রয়েছেন।’


নির্বাচিত

সম্পর্কটা কতটুকু ইতিবাচক হওয়া উচিত তা ভারতকে চিন্তা করতে হবে

ছবি: পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

ভারতীয় পানি আগ্রাসন নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘ভারতকেও চিন্তা করতে হবে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ বন্ধু দেশ। বন্ধুত্বের সম্পর্ক কতটুকু ইতিবাচক হওয়া দরকার তা তাদের দেখা উচিত না? আমরা আশা করছি, ভারত এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সজাগ থাকবে এবং বন্ধুপ্রতিম দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক বজায় রাখবে। কোনো ধরনের আগ্রাসনের স্বীকার যেন আমাদের দেশের মানুষ না হন, সে জন্য আমরা আরও বেশি সজাগ থাকব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসীও সজাগ থাকবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সুবার বাজার সড়কের মুহুরী সেতু এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ট্রেন্ড ছিল। এখন জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে, আমরাও দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছি। এ মুহূর্তে জিরো টলারেন্সে চলে যাব বলব না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই চ্যালেঞ্জটুকু আমরা হাতে নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমি নিজেও বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান, সেই হিসেবে এ প্রকল্পসহ দেশের সব প্রকল্প যথাযথভাবে শেষ করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করা আমার নিজেরও দায়িত্ব। দায়িত্বটুকু পালন করছি খুব সতর্কতার সাথে। কোনো ধরনের প্রভাবশালীর প্রভাব, দুর্নীতি বা কেউ যেন ক্ষতি করতে না পারে সেই বিষয়ে আমরা সজাগ থাকব।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্প নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে অধিগ্রহণ নেই। দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছু জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে সেটির জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্যটুকু দিয়েই কাজ করা হবে। সবমিলিয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধের ভাঙন ও বন্যায় মানুষ যে ক্ষতির মুখে পড়েন তা থেকে রক্ষা পাবেন। সামগ্রিকভাবে এ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ এটির সুফল পাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী মাসের যেকোনো সময় বা মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনী এসে এ প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করবেন। এখানকার মানুষের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।’ ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

এ সময় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ এখনো শুরু হয়নি।

এ প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।


নির্বাচিত

জিএস আম্মারের দায় নেবে না শিবির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের দায় নেবে না ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় সংগঠনটি।

দাপ্তরিক খরচের বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাবি শিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, জিএস দাপ্তরিক কাজের কথা বলে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা তুলে বিভিন্ন দপ্তরের নামে খরচ দেখিয়েছেন, যা আমাদের কাছে অবাস্তব মনে হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের হিসাব অনুযায়ী, অন্য সব দপ্তর মিলে সর্বসাকুল্যে ৫০-৬০ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। এভাবে অন্যান্য দপ্তরের ওপর দায় চাপিয়ে তিনি ব্যক্তিগত অনিয়ম এড়াতে পারেন না। কোন দপ্তরে কত টাকা খরচ হয়েছে, এর তথ্য-প্রমাণসহ সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। সালাহউদ্দিন আম্মার আমাদের প্যানেলের না হওয়ায় তাঁর কর্মকাণ্ড ও আর্থিক হিসাবের কোনো দায় ছাত্রশিবির নেবে না।

সংবাদ সম্মেলনে রাকসু নির্বাচনের তপশিল ঘোষণাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে– বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করতে হবে।

রাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে শিবির সভাপতি বলেন, ইতোমধ্যেই রাকসু নির্বাচনের ১০ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এখনই যদি পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা না যায়, তবে যথাসময়ে রাকসু বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের চাওয়া পূরণ করা সম্ভব হবে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিক। শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিবছর রাকসু নির্বাচন পায়, এটি নিশ্চিত করতে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে রাকসু নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাই।

১০ মাসে রাকসুর অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারা দেখবেন, ক্যাম্পাসে ট্যাগিং-ফ্রেমিং বা নারী শিক্ষার্থীদের বুলিং কিন্তু আগের মতো হচ্ছে না। আগের মতো ক্যাম্পাসে মাদকের ছড়াছড়ি নেই। ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে এবং আসন বাণিজ্যের কবর রচিত হয়েছে। গেস্টরুম কালচার, গণরুম কালচার নেই। ক্যাম্পাসগুলোতে মেধা এবং সিনিয়রিটির ভিত্তিতে আসন বণ্টন হচ্ছে, যেটি সবচেয়ে বড় একটি পরিবর্তন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন হলের নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধি ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


নির্বাচিত

ঢাকা ওয়াসার নতুন এমডি মনিরুজ্জামান

ছবি: ড. মো. মনিরুজ্জামান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মনিরুজ্জামানকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রেষণে তাকে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

অপর এক আদেশে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমিনুল ইসলামকে সচিব পদমর্যাদায় এক বছরের জন্য জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

অন্যদিকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীনকে প্রত্যাহার করে সচিব হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। আর জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (সচিব) ড. রওশন আরা বেগমকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।

আলাদা প্রজ্ঞাপনে অভোগ করা অবসরোত্তর ছুটি ও এ-সংক্রান্ত সুবিধা স্থগিতের শর্তে মো. বেলাল হোসেনকে এক বছরের চুক্তিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে গ্রেড-১-এর প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দিয়ে নির্ধারণ করা হবে।


নির্বাচিত

জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে বিপর্যস্ত পোশাক খাত, রপ্তানিতে শঙ্কা

* দিনে দিনে ছোট হচ্ছে কারখানার তালিকা * গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব ও ব্যাংকিং জটিলতায় মারাত্মক ধস
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের শিল্প এলাকাগুলোর বাতাসে এখন উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট। রপ্তানি আয়ের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি এই অঞ্চলের পোশাক ও শিল্প খাত আজ অভ্যন্তরীণ নানা সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারের টানাপোড়েনে দেয়ালে গিয়ে ঠেকেছে।

উৎপাদন ব্যয় জ্যামিতিক হারে বাড়লেও বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম মেলেনি, উল্টো আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে ক্রয়াদেশ। বাধ্য হয়ে অনেক কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যার চূড়ান্ত মাশুল গুনছেন হাজার হাজার সাধারণ শ্রমিক।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ডায়িং ও বয়লারসহ কারখানার প্রধান প্রধান উৎপাদন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালাতে গিয়ে আকাশচুম্বী হচ্ছে ডিজেল খরচ। চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) বিজিএমইএ সহসভাপতি অঞ্জন শেখর দাশ জানান, সিইপিজেডে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে একসময় মাত্র ৬ মেগাওয়াট সরবরাহ মিলত। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৩৫ মেগাওয়াটে নেওয়া হলেও প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল পুড়িয়ে কারখানা সচল রাখতে হচ্ছে। অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের কারণে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে এবং গড় উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

জ্বালানি সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে উচ্চ ব্যাংক সুদ, ডলার-সংকট ও ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা। বিজিএমইএর পরিচালক সাইফ উল্যাহ মানসুর জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে একসময় প্রায় ৭০০টি পোশাক কারখানা সচল থাকলেও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কমতে কমতে তা এখন মাত্র ৩০০টিতে নেমে এসেছে। সংকট কতটা ঘনীভূত তার উদাহরণ দিয়ে বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, লোকসান ও জ্বালানি সংকটে টিকতে না পেরে গত ছয় মাসে তিনি নিজের ৪টি কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

শিল্প পুলিশ-৩-এর হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় মাসে চট্টগ্রামের ২৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে, যেখানে কর্মরত ছিলেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন শ্রমিক। সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে আরও ২৫টি কারখানা, যার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন ২ হাজার ৪৬৮ জন। এ ছাড়া চালু থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও ছাঁটাই করা হয়েছে ৫৩০ জন শ্রমিককে। স্থায়ী-অস্থায়ী কারখানা বন্ধ ও ছাঁটাই মিলিয়ে মোট ৭ হাজার ৮৬২ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান এখন তীব্র অনিশ্চয়তার মুখে।

আন্তর্জাতিক বাজারাংশ দখলেও পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। মার্কিন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে পোশাক আমদানি ৪২.৮ শতাংশ কমালেও সেই সুযোগ বাংলাদেশ নিতে পারেনি; উল্টো বাংলাদেশ থেকে তাদের আমদানি কমেছে ৮.১ শতাংশ। বিপরীতে ভিয়েতনাম ১.৫ শতাংশ, কম্বোডিয়া ১৪.৯ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়া ৫.৫ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। উদ্যোক্তাদের মতে, কাঁচামাল আমদানি থেকে পণ্য রপ্তানির অতিরিক্ত সময় (লিড টাইম), চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট ও এলসি জটিলতার কারণেই প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ।

কাজ কমে যাওয়ায় ওভারটাইম একপ্রকার বন্ধ, ফলে কর্মরত শ্রমিকদের মাসিক আয় নেমে এসেছে অর্ধেকে। আর চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেক শ্রমিক। চীনা মালিকানাধীন এক প্রতিষ্ঠানের ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক মাঈননুদ্দিন জানান, ক্রয়াদেশ নেই জানিয়ে তাদের বিদায় দেওয়া হয়েছে। নতুন কাজ এলে আবার ডাকার আশ্বাস দেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

শিল্প এলাকায় অসন্তোষ এড়াতে নজরদারি ও তদারকি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম।

তিনি বলেন, যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রাখা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট বক্তব্য, দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতের নীতিমালা সহজ করা না গেলে চট্টগ্রামের শিল্প খাতকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।


নির্বাচিত

কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ঢাকার ধোলাইপাড়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘ঢাকার যাত্রাবাড়ি থানাধীন ধোলাইপাড় বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ২টি ভ্যান গাড়ি তল্লাশি করে প্রায় ২ কোটি ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ১০১৭ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়। এ সময় প্রকৃত মালিক না পাওয়ায় ভ্যানচালকদের মুচলেকা নিয়ে ভ্যানসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জব্দকৃত শাড়ির পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বংশাল সার্কেল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটরের নিকট হস্তান্তর করা হয়।’

চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


নির্বাচিত

রাউজানে ৮০০ বছরের পুরোনো দৃষ্টিনন্দন সাহেববিবি মসজিদ

৮০০ বছরের পুরোনো দৃষ্টিনন্দন ঐতিহাসিক সাহেববিবি মসজিদ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাউজানে ৮০০ বছরের পুরোনো দৃষ্টিনন্দন ঐতিহাসিক সাহেববিবি মসজিদ।এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটি রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের হাঁড়ি মিয়া চৌধুরী বাড়িতে অবস্থিত। এ মসজিদ শুধু রাউজানেই নয়, পুরো চট্টগ্রামের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ও কালজয়ী নাম।

জানা যায়, এই মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা হলে ওই এলাকার জমিদার আমির মোহাম্মদ চৌধুরীর সহধর্মিণী ও আলোচিত মালকা বানুর মা সাহেববিবি। ওনার নামে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত।

ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, আরাকান রাজ সভার কবি মহাকবি আলাওলের একমাত্র কন্যা সাহেববিবি (প্রকাশ সাহাবিবি) নামকরণে এই মসজিদ ‘সাহেববিবি মসজিদ’ নামে পরিচিত। জমিদার হাঁড়িমিয়া চৌধুরী বংশের আমির মোহাম্মদ চৌধুরীও তার সহধর্মিণী সাহেববিবি দম্পতির দুই কন্যা আলাকা বানু ও মালকা বানু। মালকা বানু বাংলাদেশের এক ঐতিহাসিক কালজয়ী নাম ও চরিত্র। মালকা বানু নিয়ে দেশে হয়েছে অসংখ্যা নাটক ও ছবি। মালকা বানু চট্টগ্রামের বাঁশখালির জমিদার মনু মিয়ার প্রেমে পড়ে বিয়ে করেন এবং বাঁশখালিতে বসবাস করেন। মালকা বানু আর মনু মিয়াকে নিয়ে হয়েছিল চলচ্চিত্র।

সেই ঐতিহাসিক মালকা বানুর মা সাহেববিবির নামে করা সাহেববিবি মসজিদ। যা এখনো কালজয়ী এক সাক্ষী হয়ে রয়েছে রাউজানের বুকে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, কবরস্থানসহ মসজিদটি ৩০ শতক জমির উপর নির্মিত। বিভিন্ন কারুকাজ সংবলিত টেরাকোটার ইট ও চুন-সুরকির গাঁথুনিতে মসজিদটি নির্মিত। মসজিদের পূর্ব দেয়ালে তিনটি প্রবেশপথ। পশ্চিম দিকে গম্বুজ থেকেও উঁচু মিনার।

মসজিদের বিষয়ে নিয়ে এলাকার কয়েকজন বৃদ্ধলোক দের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ‘ছোটবেলায় দাদার মুখে শুনেছিলাম এই মসজিদটি বহু বছর পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছিল। আমার দাদাও তার দাদার মুখে শুনেছিল এটি বিদেীশ মিস্ত্রী দ্বারা শত শত বছর পূর্বে নির্মাণ করেছে।

এই মসজিদে নাকি তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোছাভাত (আঞ্চলিক শব্দ) অর্থাৎ কয়েক দিনের খাবার নিয়ে পাঁয়ে হেটে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত নামাজ পড়ার জন্য। বাদশা মুহাম্মদ শাহ স্টেটের আমলে ডিমের আটা, চুন-সুরকি দিয়ে দেশের ২২টি গ্রামে একই রকম মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। ২২টি মসজিদের মধ্যে প্রথম নির্মাণ করা হয়েছিল সাহেববিবি মসজিদ।’ সাহেববিবি মসজিদটির ভেতরে প্রায় শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে নগরজুড়ে কেসিসির ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বলেছেন আমরা নগরবাসীকে নিরাপদ ও সুস্থ্য রাখতে চাই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিগত ৩ মাস পূর্বে বাংলাদেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ ব্যপক হারে বৃদ্ধি পাবে বলে সতর্ক করেছিল। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধে তখন থেকে কেসিসি ব্যপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে নগরবাসীকে অবহিত করা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার ও ড্রেন, নর্দমা, খাল, পরিষ্কার করা এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে অ্যাডাল্টিসাইড ও ড্রেন-নর্দমায় লার্ভিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। এ ছাড়া ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে।

কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে সোনাডাঙ্গা আবু বক্কার খান আদর্শ (রেজি.) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। স্বল্প আয়ের পরিবারের আবাসস্থলের নিকটবর্তী মেডিকেল ক্যাম্পগুলো স্থাপন করা হয়েছে।

ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গুজ্বরসহ সকল প্রকার জ্বরে আক্রান্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। পরে প্রশাসক রূপসা ভেড়িবাধ এলাকায় হাজী আবু হানিফ মাদরাসা ও এতিমখানা এবং টুটপাড়া তালতলা মাতৃসদন হাসপাতালে স্থাপিত মেডিকেল ক্যাম্পের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। প্রশাসক মেডিকেল ক্যাম্পে আগত রোগীদের সাথে কথা বলেন এবং পরিবারের কোনো সদস্য জ্বরে আক্রান্ত হলে বিনামূল্যে চিকিৎসা গ্রহণের আহ্বান জানান।

কেসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু সংক্রমণের হার হিসেব করে এলাকাভিত্তিক রেড, অরেঞ্জ ও ইয়েলো জোনে ভাগ করে ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে, বাড়ির আঙিনা অপরিচ্ছন্ন থাকা ও এডিস মশার উৎপত্তি স্থল পাওয়া গেলে জরিমানা করার পাশাপাশি বাড়ির মালিকদের সতর্ক করা হচ্ছে।’

কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, সমাজসেবক সাদিজুর রহমান সবুজ, শেখ জামিরুল ইসলা জামিল, মেহেদী হাসান সোহাগ প্রমুখ মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসকের আহ্বান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আর্থিক অনুদানসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও কৃষি সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। একই দিনে মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

অনুষ্ঠানে উপজেলার ৪০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারকে মোট ৮০ হাজার টাকা নগদ অনুদান দেওয়া হয়। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়।

এর আগে জেলা প্রশাসক সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সরকারি সেবার মান বাড়ানো, স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করা এবং জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আলতাপ হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর বাদশা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোতাসিম বিল্লাহ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কল্লোল বড়ুয়া, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা তাহমিনা তামান্না, খাদ্য কর্মকর্তা শামসুন্নাহার স্বর্ণা ও উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফুন্নেছা বেগম।

পরে জেলা প্রশাসক সীতাকুণ্ড মডেল থানা পরিদর্শন করেন।

এদিকে সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখিল ৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সমাবেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বি, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমানসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ফরিদপুরে হেযবুত তওহীদের সংবাদ সম্মেলন, নিরাপত্তার দাবি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির প্রতিবাদ এবং সংগঠনটির সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে ফরিদপুরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফরিদপুর প্রেসক্লাবের মরহুম শামসুদ্দিন মোল্লা মিলনায়তনে হেযবুত তওহীদ ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে সংগঠনের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেজবুত তওহীদ ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. রেজাউল করিম।

এ সময় হেযবুত তওহীদ কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান সুমন, ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জিহাদ মোল্লাসহ ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সদস্য এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন ।

লিখিত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, ‘গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের একটি সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে।’ ওই সমাবেশে হেযবুত তওহীদের ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক ও হিংসাত্মক বক্তব্য দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়।’

বক্তারা দাবি জানান, নোয়াখালীর সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি, প্রকাশ্য হুমকি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিত হবে। হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা হ্যান্ডবিল বিতরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মসজিদ ব্যবহার করে জনতাকে উসকানি দেওয়ার কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নোয়াখালীসহ সারা দেশে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ঘরবাড়ি, সংগঠনের কার্যালয় ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সংগঠনের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশ এবং ধর্মীয় অধিকার নির্বিঘ্নে চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো গোষ্ঠী বা ফতোয়ার জোরে নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা চলবে না।

পরে তারা মিথ্যা প্রচারণা, উগ্রবাদ, মব সহিংসতা, ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের সংবিধান, আইনের শাসন ও প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম এবং দেশের সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

দুই ডিআইজিসহ পুলিশের ১৭ কর্মকর্তা বদলি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ পুলিশের দুই ডিআইজিসহ ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করেছে সরকার। এর মধ্যে একজন ডিআইজিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং আরেকজনকে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

বদলির আদেশে দুই ডিআইজি ছাড়াও চারজন অতিরিক্ত ডিআইজি রয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এসব কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিট ও পদে বদলি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব তৌছিফ আহমেদ এসব প্রজ্ঞাপনে সই করেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিআইজি মাহবুবুর রশীদকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি এর আগে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অন্যদিকে, পিবিআইয়ের ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবিরকে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবীরকে পুলিশ অধিদপ্তরে এবং অতিরিক্ত ডিআইজি মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়াকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার মোহাম্মদ নাজমুল আলমকে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপার মো. জাফর হোসেনকে সিআইডিতে বদলি করা হয়েছে।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদকে গাজীপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এবং এস এম সিরাজুল হুদাকে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন, এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. আবদুর রহমানকে পিবিআইয়ে বদলি করা হয়েছে। এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেনের সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে আগের বদলির আদেশও বাতিল করা হয়েছে।

এস এম রফিকুল ইসলামকে এপিবিএনে পুলিশ সুপার, মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামানকে সিআইডিতে পুলিশ সুপার এবং সিলেট মেট্রোপলিটনের উপকমিশনার মো. রিয়াজুল কবিরকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পুলিশ অধিদপ্তরে পুলিশ সুপার হিসেবে মো. আসলাম উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরুল আমীনকে এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টার, খাগড়াছড়িতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমকেও একই ইউনিটে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। পাশাপাশি আগের কয়েকটি বদলি আদেশও বাতিল করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে পুলিশ অধিদপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি এবং মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীকে নড়াইলে পুলিশ সুপার হিসেবে বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতির ঠাকুরগাঁও সফর স্থগিত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সেই সফর স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক।

জেলা প্রশাসক বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও সফরের কথা ছিল। অনিবার্য কারণে সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে নতুন সফরসূচি নির্ধারণ হতে পারে।

এর আগে রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছিল জেলা প্রশাসন। প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন, যানবাহনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

গত সোমবার (২৪ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের আপন বিভাগের প্রটোকল শাখা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল।

একই চিঠিতে রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের গমনাগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন ও যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সফরের বিস্তারিত সূচি ও সফরসঙ্গীদের অনুমোদিত তালিকা পরে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের প্রথম সফর ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তার সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও প্রস্তুতি শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত অনিবার্য কারণে সফরটি স্থগিত করা হল।


নির্বাচিত

ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯৩ পদ শূন্য, ভোগান্তিতে সাড়ে তিন লাখ মানুষ

* জনবল সংকটে, মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা * অবকাঠামো-যন্ত্রপাতি আছে, অস্ত্রোপচারে ছুটতে হয় রংপুরে * ৯৩ পদ শূন্য, ভোগান্তিতে সাড়ে তিন লাখ মানুষ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

নীলফামারীর প্রান্তিক উপজেলা ডিমলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক অবকাঠামো, রয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও। কিন্তু চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার। ফলে দুর্ঘটনায় আহত রোগী, জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ কিংবা প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ানসহ প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের জন্য ছুটতে হচ্ছে জেলা সদর কিংবা রংপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে।

হাসপাতালে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ খরচ করে। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২০৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন প্রয়োজনের তুলনায় কমসংখ্যক জনবল। শূন্য রয়েছে ৯৩টি পদ। এর মধ্যে চিকিৎসকের ৩৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১৮টি পদই শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটিও খালি রয়েছে। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) পদ থাকলেও বর্তমানে ওই পদে কোনো চিকিৎসক নেই। ফলে একজন মেডিকেল অফিসারকে ভারপ্রাপ্ত আরএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

চিকিৎসক সংকটের কারণে বহির্বিভাগে রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অন্যান্য সুবিধা না থাকায় অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে অস্ত্রোপচার সেবায়। হাসপাতালের অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকার পরও জনবল সংকটে দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন থিয়েটার কার্যত বন্ধ। ফলে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় তাদের অনেককেই বাইরে যেতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও চিকিৎসার খরচ মিলিয়ে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন হওয়া দরিদ্র পরিবারের প্রসূতি নারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকার পরও শুধু জনবল সংকটে সেবা বন্ধ থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত চিকিৎসকসহ শূন্য পদগুলো পূরণ করে অপারেশন থিয়েটার চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুধু বহির্বিভাগে রোগী দেখা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। জরুরি চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা, অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হলে অনুমোদিত পদ অনুযায়ী চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল থাকা জরুরি। বিশেষ করে ডিমলার মতো বড় জনসংখ্যার একটি উপজেলার জন্য জনবল সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ শূন্যপদগুলো পূরণ হলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান পরিস্থিতি সরকারি স্বাস্থ্য অবকাঠামোর একটি বড় বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে—ভবন আছে, যন্ত্রপাতি আছে; কিন্তু সেগুলো পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত জনবল নেই। ফলে সরকারি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন লাখো মানুষ।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবলই না থাকে, তাহলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো ও কেনা আধুনিক যন্ত্রপাতি কতটা কাজে আসছে? ডিমলার মানুষের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দ্রুত শূন্যপদ পূরণ, অপারেশন থিয়েটার চালু এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।


নির্বাচিত

আনসার-ভিডিপির নতুন অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. সাইফুল্লাহ রাসেল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন আনসার-ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট মো. সাইফুল্লাহ রাসেল।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বাহিনীর সদর দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তাঁর র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ রাসেলকে নতুন পদের র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন যে, যোগ্যতা, পেশাদারিত্ব ও সাংগঠনিক আস্থার মাধ্যমেই সাইফুল্লাহ রাসেল এই পদোন্নতি অর্জন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১৮তম বিসিএসের এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তার নেতৃত্ব ও দক্ষতায় আনসার-ভিডিপি একাডেমির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও আধুনিক হবে, যা ভবিষ্যতে বাহিনীকে একটি সুবৃহৎ ও পেশাদার প্যারামিলিটারি ফোর্স হিসেবে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

অনুষ্ঠানে বাহিনীর সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, বিভিন্ন জোনের অধিনায়ক এবং জেলা কমান্ড্যান্টরা উপস্থিত ছিলেন। সাইফুল্লাহ রাসেলের এই নতুন পদায়ন ও র‍্যাংক ব্যাজ পরিধানের ঘটনাটি তাঁর দীর্ঘ পেশাগত ক্যারিয়ারের একটি বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নির্বাচিত

banner close