মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বড়লেখা রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা সমনভাগ বিটের (ভারপ্রাপ্ত) বিট কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জ কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন দাস বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শুক্রবার রাতে সমনভাগ বিটের কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করেছে। তাকে বন বিভাগের সিলেট বিভাগীয় অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত ১ মার্চ পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্টের সমনভাগ বিটের মাখালজোরা, আলমবাড়ী ও ধলছড়া এলাকার বনাঞ্চলে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি বিট কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে জানালে তিনি ৭ মার্চ আগুন নেভাতে যান।
এ ঘটনা তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি এখনো তদন্তকাজ করছে। আজ রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন ও পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, বনায়নের জন্য পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষিত বনে আগুন লাগানো হয়েছে। এর আগে এমন ঘটনা একাধিকবার হয়েছে। বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে উপকারভোগীরা বনে আগুন দিয়েছেন। আগুনে বনের ছোট-বড় ১০-১২টি টিলাসহ প্রায় ৪০ একর বনভূমির বাঁশগাছ ও বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ পুড়ে গেছে। এতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে পরিবেশের। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।
তবে বন বিভাগ বলছে, সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুনে বনের প্রায় ১ দশমিক ৮৫ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।
পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্টের আওতাধীন সমনভাগ বিটের সমনভাগ সংরক্ষিত বনের আয়তন ১ হাজার ৮৫০ একর। সমনভাগ বনাঞ্চলটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মিশ্র চিরসবুজ একটি সংরক্ষিত বন এবং উদ্ভিদ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশের মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। আগুনে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বনভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশ, ধ্বংস হয়েছে বন্য প্রাণীর আবাসভূমি। বনে আগুন লাগার ঘটনায় ১১ দিন পর গত ১১ মার্চ বড়লেখা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বন বিভাগের সমনভাগ বিটের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, আগুনে বনের ভেতর প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশগাছ ও লতাগুল্ম পুড়ে গেছে। প্রাণের ভয়ে বনে থাকা কয়েকটি হাতি ভারতের দিকে পালিয়েছে। ১১ দিন বন আগুনে পুড়েছে। বন বিভাগের লোকজনকে জানানোর পরও তারা গুরুত্ব দেননি। শুরুতে গুরুত্ব দিলে এতদিন বন পুড়ত না।
পাথারিয়া বন্য প্রাণী সংরক্ষণ টিমের সদস্য ও পরিবেশকর্মী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা সমনভাগ বিটের মাখালজুড়া আলামবাড়ী ও ধলছড়া এলাকার বনাঞ্চল ঘুরে দেখেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আনুমানিক প্রায় ৪০ একর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। একদিকে আগুনে বন পুড়ছে, অন্যদিকে কিছু লোক সেখান থেকে গাছ ও বাঁশ অবাধে কেটে ফেলছে। আমরা জেনেছি যে বনায়নের জন্য পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়ে সংরক্ষিত বন পোড়ানো হয়েছে। এতে বন বিভাগের লোকজন জড়িত রয়েছেন।’
প্রতিদিন সকাল হলেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে পাঠ্যবই হাতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেও তাদের মাথার ওপর ঝুলে থাকে এক অজানা শঙ্কা। কারণ, যে ভবনে তারা পড়াশোনা করছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—তবুও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেই ভবনেই প্রতিদিন চলছে পাঠদান।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসার কেন্দ্র। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১০৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংকট ও ভবনের নাজুক অবস্থা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে নির্মিত একাডেমিক ভবনটিই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় তিন দশকের ব্যবহারে ভবনের অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভবনে মোট তিনটি কক্ষ রয়েছে। এর একটি অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাঝখানের সিঁড়িঘরটিকেও শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। সরকারি ক্ষুদ্র মেরামত খাতের অর্থ দিয়ে একটি ছোট টিনশেড নির্মাণ করা হলেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং স্থায়ী সমাধান নয়।
বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সীমিত জায়গায় একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষকরা হিমশিম খাচ্ছেন। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের ভাষ্য, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর সময় প্রতিদিনই দুশ্চিন্তা কাজ করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বহুদিন ধরেই নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তার কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন, বর্তমান ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরনো এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার নতুন ভবনের আবেদন করেছি। দ্রুত নতুন ভবনের অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ (এসএমসি) সভাপতি মো. আব্দুর জলিল বলেন, এই বিদ্যালয়টি এলাকার শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষার একমাত্র ভরসা। অথচ তারা প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা স্থানীয় জনগণ ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যেন দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ অবকাঠামোর অভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাঠদান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটাই দাবি আর কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়। তারা চান, দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ দিয়ে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। তাদের মতে, একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই হবে দায়িত্বশীল প্রশাসনের পরিচয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে হলে শুধু পাঠ্যক্রম নয়, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সেই বাস্তবতারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদে গোসল করতে নেমে সাঁতার কাটতে গিয়ে শামীম (১১) ও আফনান (১৩) নামে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) টঙ্গীর মিরাশ পাড়া এলাকায় তুরাগ নদে এই ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল।
নিহতরা হলেন, টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর বউ বাজার এলাকার আনিসুর রহমানের ছেলে শামীম মিয়া ও একই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে আফনান। তারা উভয়ই টঙ্গীর সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতনের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বেলা ১১টার দিকে খেলাধুলা করে নদীতে গোসল করতে নামেন তিন বন্ধু শামীম, আফনান ও শীপন। এ সময় সাঁতার কাটতে গিয়ে দুই বন্ধু তলীয়ে গেলে অপর বন্ধু শীপন দ্রুত নদী থেকে উঠে স্থানীয়দের খবর দেয়। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পোঁছে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহীন আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তুরাগ নদ থেকে দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে।’
এ বিষয়ে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. ফিরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ভেপসা গরমের মধ্যে হঠাৎই আকাশের রঙ বদলে যায়, শুরু হয় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, পাশাপাশি চলছিল আমাদের গল্প আড্ডা। এদিকে থরে থরে সাজানো হয়েছে বাহারি রকমের মৌসুমি ফল। বলছিলাম চবিসাসের গল্পে আড্ডায় সাংবাদিকতা ও ফল উৎসবের কথা।
সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততা, ক্যামেরার ফ্রেম, নোটবুকের পাতায় ছুটে চলাই একজন ক্যাম্পাস সাংবাদিকের প্রতিদিনের গল্প। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেও যদি কিছু সময় থেমে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা যায়, প্রবীণদের কাছ থেকে শেখা যায় আর সঙ্গে থাকে মৌসুমি ফলের মিষ্টি আয়োজন তবে সেটি কেবল একটি অনুষ্ঠান থাকে না, হয়ে ওঠে শিক্ষা ও সম্প্রীতির মিলনমেলা।
এমনই এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস), ‘গল্পে আড্ডায় সাংবাদিকতা ও ফল উৎসব–২০২৬’। এ আয়োজন ছিল একই সঙ্গে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আসর এবং সৌহার্দ্যের এক প্রাণবন্ত উৎসব।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মুহূর্তটাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। তিনি ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে পেশাগত দায়িত্ব অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল ‘গল্পে আড্ডায় সাংবাদিকতা’। সেখানে বক্তা হিসেবে ছিলেন চবিসাসের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক এবং চবিসাসের সাবেক সদস্য ও চবির প্রভাষক মীর হোসেন মজুমদার।
তাদের আলোচনায় উঠে আসে সংবাদ সংগ্রহের অজানা গল্প, মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সাংবাদিকতার নৈতিকতা, তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এবং ডিজিটাল যুগে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার নতুন চ্যালেঞ্জ।
আলোচনায় অংশ নেওয়া তরুণ সাংবাদিকদের মতামত এবং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। মনে হচ্ছিল, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সেমিনার নয়; বরং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে অভিজ্ঞতা তুলে দেওয়ার আন্তরিক আয়োজন।
আলোচনা শেষে অতিথি ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ফল উৎসব। দেশীয় বাহারি রকমের মৌসুমি ফল ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় এক উষ্ণ, আন্তরিক, সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ। অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় যেন দূরত্বের দেয়াল ভেঙে যায়, গড়ে ওঠে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের নতুন সেতুবন্ধন।
চবিসাসের সভাপতি রেফায়েত উল্যাহ রুপক সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ক্যাম্পাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
দিনশেষে আয়োজনটি প্রমাণ করেছে, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ সংগ্রহের পেশা নয়; এটি শেখার, ভাবনার, সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার এক নিরন্তর যাত্রা। সেই যাত্রার নবীন প্রবীণের মধ্যকার সম্পর্ক যেন গড়ে ওঠে নতুনভাবে, নতুন আঙ্গিকে।
নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) সকালে নীলফামারী পুলিশ লাইন্স মাঠে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন। পরে তিনি কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
প্যারেডে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন আর.আই. (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল মতিন মোল্লা। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) মো. ফারুক আহমেদ, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) এ.কে.এম. ওহিদুন্নবীসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্যারেড শেষে পুলিশ সুপার পুলিশ লাইন্সের মোটরযান শাখা ও অস্ত্রাগার পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা : রোববার (৫ জুলাই) নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন। তিনি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন এবং সেগুলো দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এ সময় পুলিশ সুপার কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা এবং জনসেবার মানসিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় নীলফামারী জেলা পুলিশের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া, বাচামারা, জিয়নপুর, চরকাটারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া চরকালিকাপুর মুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা চার তলা ভবনটি যে কোন সময় নদী গভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
দৌলতপুর যমুনা নদীর ভাঙনের তীব্রতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরাতন বাজার ও অসংখ্য বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। নদীতীরবর্তী জনপদের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নদী ভাঙ্গনে শিকার কয়েক শত পরিবার নৌকা যোগে ঘরবাড়ি, জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র আশ্রয়ের খোজে ছুটে বেড়াচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতপুর উপজেলার চরপারুরিয়া-কালিয়াপুর এলাকার শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাঘুটিয়া পুরাতন বাজার। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
আজ সরেজমিনে বাঘুটিয়া এলাকার গোলাম আজম বলেন, গত কয়েকদিনে নদীর পানি দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। নদীর তীরের বড় বড় অংশ ধসে পড়ছে। চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি আজ দিনের মধ্যে চার তলা ভবনটি নদী গভে বিলীন হতে পারে । এছাড়া বাঘুটিয়া ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘুটিয়া পুরাতন বাজারসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পদ রক্ষা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তীরবর্তী শত শত পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
নদীভাঙন রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। শিবালয় ও ঘিওর উপজেলার প্রায় ৭৭০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগজ্ঞ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের নিদেশে জরুরী ভিত্তিতে পাটুরিয়া ৫ নং ফেরিঘাট এলাকায়, বাঘুটিয়া, বাচামারা, চরকাটারী, ঘিওর কুস্তা,
পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধে কাজ করছে । পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট সংলগ্ন বরুরিয়া এলাকায় ৩৫০ মিটার, স্যোশাল প্যান্ড এলাকায় ৩০০ মিটার, দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ৩০০ এবং ঘিওর কুস্তা এলাকায় ১২০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানও চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৭ মে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের জানান, নদীভাঙন রোধে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের নদীভাঙন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ দিকে উপেজলা নিবাহী অফিসার নাহিয়ান নুরেন জানান, সরকারি ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যমুনা নদীর স্রোত এতো বেশি জিও ব্যাগ ফেলে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড চেস্টা করে যাচ্ছে চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা রক্ষা করার।
রবিবার (৫ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান, উপেজলা নিবাহী অফিসার নাহিয়ান নুরেন পরিরদশন করেছেন ।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, জিও ব্যাগ ফেলে আপাতত ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হবে নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষকে।
জাতীয় পর্যায়ে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’ উদযাপন উপলক্ষে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকালে উপজেলা ৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৪৬ ময়মনসিংহ-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সুলতানা রোজী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, ব্যাবসায়ী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি নাদিম আহমদ। এছাড়াও স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির প্রতীক। উনার সাধারণ জীবন যাবন প্রমাণ করে উনি অসাধারণ এর সাধারণ। উনার জীবনী থেকে আমাদের অনেক শিক্ষার আছে। বিদ্রোহী কবি নজরুলকে বিশ্বব্যাপী আরও সুপরিচিত করতে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন দারুণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বই ও গাছ উপহার দেওয়া হয়।
নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভা শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ইসরাত জাহান কেয়া’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এমপি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নরসিংদী সদর-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন, নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো: কলিমুল্লাহ, নরসিংদী সিভিল সার্জন ডা: মো: বুলবুল কবির, নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুল আমিন, সহ-সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী, চৌধুরী মো: ইয়াহিয়া, বাবু পরেশ সূত্রধর, যুগ্ন সম্পাদক মো: নাজমুল হক ভ‚ইয়া, বাবু মলয় কুমার বর্মন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: হারুন অর-রশিদ, কোষাধ্যক্ষ মো: আজহার ইসহাক মোল্লা, নির্বাহী সদস্য এম.এ বাশার বাচ্চু, মো: কাজিম উদ্দীন, বাবু স্বপন কুমার সাহা, মো: আব্দুল বাছেদ মিয়া, মো: রাসেল বিন হাসানাত, সলিমুল্লাহ ভূইয়া, মো: আজহার উদ্দিন, মো: মাসুদুর রহমান মাসুদ ও বাবু শংকর লাল সাহা প্রমুখ।
বক্তারা আগামী দিনে সমিতির উন্নয়ন অব্যাহত রাখার উপর জোর দেন। ডায়াবেটিক হাসপাতালকে মেডিকেল কলেজে উন্নীত করার প্রস্তাবনাকে উপস্থিত সকলে স্বাগত জানান।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে চলছে ৯৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর বরাদ্দে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়ন হচ্ছে এসব প্রকল্প। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও পুনর্নির্মাণ, ছোট সেতু ও কালভার্ট সংস্কার, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং জনসাধারণের চলাচলের সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আনসার আলী জানান, ৯৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ৪১ টন চাল এবং ৫০ টন গম। ইতোমধ্যে অনেক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলোর কাজও দ্রুত শেষ হবে। তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
৯৯টি প্রকল্পের মধ্যে হিরণ ইউনিয়নের একটি সড়ক পুনর্নির্মাণ প্রকল্প ইতোমধ্যে স্থানীয়দের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) উপজেলার হিরণ গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাইদ মেকারের বাড়ি থেকে চান মিয়া মুন্সীর বাড়ি পর্যন্ত সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরু ও জরাজীর্ণ হওয়ায় এই সড়ক দিয়ে চলাচলে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন করে সড়কটি নির্মাণ হওয়ায় প্রায় ৫০টি পরিবারের মানুষ এখন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন।
হিরণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল মুন্সী বলেন, রাস্তাটি অনেক সরু ছিল। দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হতো। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এস এম জিলানী ভাইয়ের উদ্যোগে রাস্তাটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এতে এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে।
কাজী মন্টু কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কাজী অমিত মাহমুদ বলেন, এ ধরনের ছোট ছোট উন্নয়ন প্রকল্প গ্রামীণ জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। সড়ক, কাঠের সেতু, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হলে এলাকার সার্বিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এস এম জিলানী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে অত্যন্ত তৎপর। তিনি প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছেন এবং নিয়মিত কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন।
কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে আমরা চাই, প্রতিটি প্রকল্পের কাজ যেন মানসম্মত হয় এবং সাধারণ মানুষের বাস্তব উপকারে আসে।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এসব প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করছি, প্রকল্পগুলোর কাজ যেন মানসম্মতভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়। যেসব এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের বরাদ্দ যেন সঠিকভাবে জনগণের কাজে লাগে, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারি করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এমপির বরাদ্দে বাস্তবায়নাধীন এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে কোটালীপাড়ার গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে এবং উন্নয়নের সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। এতে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রতিদিন সকাল হলেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে পাঠ্যবই হাতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেও তাদের মাথার ওপর ঝুলে থাকে এক অজানা শঙ্কা। কারণ, যে ভবনে তারা পড়াশোনা করছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—তবুও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেই ভবনেই প্রতিদিন চলছে পাঠদান।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসার কেন্দ্র। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১০৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংকট ও ভবনের নাজুক অবস্থা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে নির্মিত একাডেমিক ভবনটিই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় তিন দশকের ব্যবহারে ভবনের অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভবনে মোট তিনটি কক্ষ রয়েছে। এর একটি অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাঝখানের সিঁড়িঘরটিকেও শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। সরকারি ক্ষুদ্র মেরামত খাতের অর্থ দিয়ে একটি ছোট টিনশেড নির্মাণ করা হলেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং স্থায়ী সমাধান নয়।
বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সীমিত জায়গায় একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষকরা হিমশিম খাচ্ছেন। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের ভাষ্য, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর সময় প্রতিদিনই দুশ্চিন্তা কাজ করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বহুদিন ধরেই নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তার কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন, বর্তমান ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার নতুন ভবনের আবেদন করেছি। দ্রুত নতুন ভবনের অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ (এসএমসি) সভাপতি মো. আব্দুর জলিল বলেন, এই বিদ্যালয়টি এলাকার শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষার একমাত্র ভরসা। অথচ তারা প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা স্থানীয় জনগণ ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যেন দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ অবকাঠামোর অভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাঠদান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটাই দাবি—আর কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়। তারা চান, দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ দিয়ে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। তাদের মতে, একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই হবে দায়িত্বশীল প্রশাসনের পরিচয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে হলে শুধু পাঠ্যক্রম নয়, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সেই বাস্তবতারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
ডেঙ্গু, হাম ও চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ এবং পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে পিরোজপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও মাদকবিরোধী কর্মসূচি-২০২৬। আজ ৫ জুলাই সকালে পিরোজপুরের পালপাড়া এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পিরোজপুর টাউন ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধক হিসেবে নেতৃত্ব দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। র্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কাউট সদস্য, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এলাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ড্রেনে বা রাস্তার মোড়ে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহারের বিকল্প নেই।
প্রতিটি মহল্লায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা পরিষদ ও পৌরসভা কর্তৃক পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহস্থালির বর্জ্য সংগ্রহের জন্য মাসিক নামমাত্র ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার থাকে।
এই কার্যক্রমকে টেকসই করতে তরুণ ও যুবকদের সমন্বয়ে এলাকাভিত্তিক তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পিরোজপুরবাসীকে একটি বিশেষ গাড়ি উপহার দেওয়া হবে।
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন তার বক্তব্যে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা যদি ডাস্টবিনে ময়লা না ফেলি, তবে রাস্তাঘাট কখনোই পরিষ্কার থাকবে না। নিজেদের ও সন্তানদের সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি”।
কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে পিরোজপুর পৌরসভা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো জেলা পরিষদকে সহযোগিতা প্রদান করছে। অভিযানে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন সরাসরি ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার করেন , যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও সচেতনতা সৃষ্টি করেছে। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে পিরোজপুর শহরকে একটি আদর্শ ও মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
দেশজুড়ে বিরাজমান গুমোট গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া থেকে অবশেষে জনজীবনে স্বস্তি ফেরার সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আজ রোববার (৫ জুলাই) থেকে পরবর্তী পাঁচ দিন দেশের প্রায় সব বিভাগেই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকায় অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আজই সারা দেশের দিনের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে, যা চলমান মৃদু তাপপ্রবাহকে অনেকাংশে প্রশমিত করবে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার চিত্র বিশ্লেষণ করে অধিদপ্তর জানিয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জনপদ এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের উপকূলীয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগগুলোর কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে রংপুর বিভাগসহ রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, সিলেট এবং উপকূলীয় জেলাগুলোর ওপর দিয়ে যে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, বৃষ্টিপাতের প্রভাবে তা ধীরে ধীরে কেটে যাবে। একই সময়ে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমতে পারে।
সপ্তাহের পরবর্তী দিনগুলোর পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সোমবারও বৃষ্টির এই প্রবণতা অপরিবর্তিত থাকবে এবং দেশের অধিকাংশ স্থানে মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়ে সারা দেশের আটটি বিভাগেরই অধিকাংশ জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে দিনের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমবে। বুধবার ও বৃহস্পতিবারও একই আবহাওয়াজনিক পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের এই প্রাক্কলন অনুযায়ী, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির ফলে জনজীবনে যেমন প্রশান্তি আসবে, তেমনি অতি ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি অঞ্চল বা নিচু এলাকায় বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে। সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবেই আবহাওয়া এই পরিবর্তনের দিকে মোড় নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বৃষ্টিপাত জনস্বাস্থ্যের অস্বস্তি কমিয়ে শীতল পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব এক গভীর ও বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক পরিচয়কে ঘিরে সৃষ্ট নানা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান আধিপত্যে নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যেই নিহিত। মানবসভ্যতার টেকসই অগ্রযাত্রার জন্য বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভিন্ন মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট ও ‘আল উম্মাহ জার্নাল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান অস্থিরতা ও বিভাজনের প্রেক্ষাপটে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিভিন্ন দর্শন, মতাদর্শ ও চিন্তার মানুষের জন্য একটি উন্মুক্ত বুদ্ধিবিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এ উদ্যোগ সভ্যতার চলমান সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ভাষা, জাতিসত্তা, ধর্মীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান মানবসভ্যতার স্বাভাবিক বৈচিত্র্যের অংশ। মহান আল্লাহ মানুষকে বৈচিত্র্যের মধ্যেই সৃষ্টি করেছেন। ফলে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, জাতি বা মতাদর্শের পক্ষে সমগ্র বিশ্বে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি তা মানবসভ্যতার কল্যাণও বয়ে আনতে পারে না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বিশ্বের বহু সংঘাত পরিচয়ের সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে। কখনো জাতিগত, কখনো ধর্মীয়, কখনো ভাষাগত কিংবা সাংস্কৃতিক বিভাজন সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সংকট উত্তরণে গবেষক, চিন্তাবিদ ও বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিদের একটি অভিন্ন মানবিক অবস্থান গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই হবে প্রধান ভিত্তি।
তিনি বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে, যুদ্ধ, শক্তির প্রদর্শন কিংবা আধিপত্য কখনো সভ্যতার স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। বরং মুক্ত চিন্তার বিনিময়, জ্ঞানচর্চা ও পারস্পরিক সম্মানই মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি - শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে। আমরা এমন একটি পৃথিবী চাই, যেখানে সব জাতি, ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি নিজ নিজ মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং মানবসভ্যতার সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশীদার হবে।
তিনি তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে ইসলামের প্রকৃত শক্তি কেবল আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচারে নয়; বরং এর মানবিক চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ ও আত্মিক দর্শনের মধ্যেই নিহিত।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও চিন্তার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, জ্ঞানচর্চা এবং সভ্যতার সংলাপকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান প্রফেসর ইয়াসিন আকতে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যেখানে অবহেলা ও দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুত। আমি বদলিতে বিশ্বাস করি না। সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের কোনো অনিয়মকে সরকার প্রশ্রয় দেবে না। শনিবার (৪ জুলাই) নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সংস্কার করে নতুনভাবে সাজানো হবে এবং সেখানে আরও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোও আধুনিকায়ন করা হবে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য খাতে চলতি বছরই একটি বিপ্লবের সূচনা করতে চায় সরকার। প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণের জীবনমান উন্নত হয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এবারের বাজেট শুধু টাকার বাজেট নয়, এটি আদর্শের বাজেট। প্রতিটি আদর্শ দুর্নীতিমুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন।