রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে কাপ্তাই হ্রদের ওপর কালিন্দীপুর-হ্যাচারী-সুখী নীলগঞ্জ সংযোগ সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। এর ফলে মূল শহরের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হ্যাচারীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হলো। বর্তমানে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা সেতুটি এ জেলার অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পর থেকে শহরজুড়ে বিভিন্ন দ্বীপ গড়ে উঠেছে। এসব দ্বীপে কয়েক হাজার বসতি রয়েছে। তবে মূল শহরের সঙ্গে দ্বীপের বাসিন্দাদের যোগাযোগের একমাত্র বাহন ছিল নৌকা বা ইঞ্জিনচালিত বোট। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা রাতের বেলায় আবার নৌকাও মিলত না। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বিপদে পড়তে হতো দ্বীপবাসীদের। এসব কারণে দ্বীপ এলাকার বাসিন্দাদের অনেক দিনের দাবি ছিল, মূল শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার হ্যাচারী ও সুখী নীলগঞ্জ এলাকায় সেতু নির্মাণ করে।
পার্বত্য জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০১৭ সালে কালিন্দীপুর-হ্যাচারী-সুখী নীলগঞ্জ সংযোগ সেতুর কাজ শুরু হয়। ২২০ মিটার দীর্ঘ এবং ৬ দশমিক ৫০ মিটার প্রস্থের এই সেতু তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ১২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সেতুটি নির্মাণের ফলে ভেদভেদী-রাঙাপানি-আসামবস্তি এলাকার মানুষ বেশি উপকৃত হবেন। এখানকার বাসিন্দারা খুব সহজে ও দ্রুত সময়ের মধ্যে মূল শহরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
সরেজমিনে রাঙামাটি শহরের হ্যাচারী ও সুখী নীলগঞ্জ এলাকায় দেখা যায়, সেখানে রয়েছে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, পুলিশ লাইনস, মিনি চিড়িয়াখানা ও মৎস্য হ্যাচারি। এখানেই রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ভবন নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে। নবনির্মিত সেতুটি এরই মধ্যে স্থানীয়দের চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বহুল আকাঙ্ক্ষিত সেতু পেয়ে উচ্ছ্বসিত তারা।
সেতু ব্যবহারকারীরা বলছেন, আগে কাপ্তাই হ্রদ পার হতে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু সেতু হওয়াতে এখন মুহূর্তের মধ্যেই হ্রদ পাড়ি দিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে খুব সহজেই পৌঁছানো যায়। সেতুটি এ এলাকার অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
কালিন্দীপুর এলাকার আসীম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হ্যাচারী এলাকার মানুষ নৌকাযোগে মূল শহরে আসছেন। নৌকা পার হতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেক সময় নৌকা পাওয়া যায় না। এসব কারণে তাদের চরম বেগ পেতে হতো। এখন সেতুটি হওয়ায় সেই কষ্টের দিন শেষ হয়েছে।
একই এলাকার সুমন চাকমা বলেন, আগে এই খালটি পার হতে তাদের অনেক সময় লেগে যেত। বিশেষ করে রাতের বেলায় নৌকা পেতে খুবই কষ্ট হতো। এই সেতুটি তৈরি করে দেয়ায় পার্বত্য জেলা পরিষদ ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।
এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, হ্যাচারী এলাকাটি একসময় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ছিল। সেতুটি হওয়ার ফলে ওই এলাকার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হয়েছে। এরই মধ্যে সেতুটির কাজ শেষ হয়েছে। অতি দ্রুতই তা উদ্বোধন করা হবে।
অংসুই প্রু চৌধুরী জানান, আগে মূল শহর থেকে হ্যাচারী-সুখী নীলগঞ্জ এলাকায় যেতে হলে ৩-৪ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে যেতে হতো। এখন সেতুটি হওয়ায় ওই সব এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়ে যাবে। হ্যাচারী এলাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেখানে প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হবে। সে ক্ষেত্রে সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বরিশালের কাউনিয়া থানাধীন চরমোনাই নাইন্দার চর সংলগ্ন এলাকায় আজ ০১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার মধ্যরাত ১ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন বরিশাল কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ২ টি ড্রেজার ও ২ টি বাল্কহেডসহ ৭ জন বালু উত্তোলনকারীকে আটক করা হয়।
শনিবার ০১ আগস্ট ২০২৬ বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
পরবর্তীতে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, বরিশাল সদর এর উপস্থিতিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিক হতে ছয় লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয় এবং বালু উত্তোলনকারীদের মুচলেকা নিয়ে ড্রেজার ও বাল্কহেডসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, বালুখেকোদের হাত থেকে নদী তীরবর্তী জনগণের ফসলি জমি এবং বসত-ভিটে রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
শ্রাবণের থইথই পানিতে ভরা বিল, সাদা-লাল শাপলার সমারোহ, শালুকের সৌন্দর্য আর নৌকাভ্রমণের আনন্দে মুখর হয়ে উঠেছে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও মুরাদনগর সীমান্তবর্তী বাঙ্গরার ডালপা বিল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এ বিল এখন রূপ নিয়েছে এক অনন্য পর্যটনকেন্দ্রে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলা থেকে শত শত দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। কেউ নৌকায় ঘুরছেন, কেউ শাপলা-শালুক তুলছেন, আবার কেউ প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত। কলেজ ও স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সি মানুষের পদচারণায় মুখর পুরো এলাকা।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মকিমপুর পশ্চিমপাড়া খাল থেকে মুরাদনগরের বাঙ্গরার বিল হয়ে মকিমপুর সংযোগ সড়ক পর্যন্ত বিস্তীর্ণ জলাভূমি এখন নয়নাভিরাম দৃশ্যে ভরপুর। বিলজুড়ে ফুটে থাকা শাপলা-শালুক, পানিতে মাছের আনাগোনা এবং চারপাশের সবুজ প্রকৃতি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।
বাঙ্গরা বাজার থানাধীন রাজা চাপিতলা গ্রামের স্কুলশিক্ষার্থী নাইম, সাইফুল, রাশেদ, আরিফ ও মিনহাজ বলেন, ‘অটোরিকশাযোগে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছে।’ পানিতে নেমে শাপলা ও শালুক সংগ্রহ করে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে তারা। নিজেদের পরিচয় ও কোন শ্রেণিতে পড়ে—এমন প্রশ্নে তারা কিছুটা লজ্জা পায়। তাদের ভেজা কাপড়, খালি গা আর গলায় শাপলার মালা যেন বলে দিচ্ছিল প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকার নির্মল আনন্দের গল্প।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রতিদিনই এ বিলে শত শত দর্শনার্থীর সমাগম হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
মকিমপুর গুচ্ছগ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে মাদক সেবন ও জুয়ার মতো অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, সন্ধ্যার পর এসব কর্মকাণ্ড আরও বেড়ে যায়, যা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও এলাকার ভাবমূর্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্বে থাকা তারেক রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন এবং মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
তিস্তা নদীর ভাঙনে প্রতিদিনই নতুন করে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীপাড়ের মানুষ যখন ঘরবাড়ি হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে, তখন দুর্যোগকবলিত মানুষকে উদ্ধারের জন্য বরাদ্দ সরকারি রেসকিউ বোট পড়ে আছে তিস্তার পাড়ের কাদা মাটিতে। ‘তিস্তা-রংপুর-২’ নামের মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোটটি উদ্বোধনের দিন চালু করার পর আর পানিতে নামানো হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। শুধু তাই নয়, বোটটির দায়িত্ব, ব্যবহার ও সংরক্ষণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও নেই বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের পাশে তিস্তা নদীর পাড়ে কাদা মাটির ওপর পড়ে রয়েছে ‘তিস্তা-রংপুর-২’ মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোটটি। বোটটির গায়ে লেখা রয়েছে—‘বন্যা উপদ্রুত জেলার জন্য মাল্টিপারপাস রেসকিউ বোট’ এবং ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়’। পেছনে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি হিসেবে রয়েছে ‘DEW NARAYANGANJ’।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গঙ্গাচড়ায় বোটটি আনার পর উদ্বোধনের দিনই কেবল এটি চালু করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বোটটি আর নদীতে চলতে দেখা যায়নি। বর্তমানে নদীর পাড়ের কাদা মাটিতে পড়ে থাকায় বোটটির কার্যকারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও দুর্যোগের সময় এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
তিস্তাপাড়ের বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, উদ্বোধনের দিন বোটটি চলতে দেখেছি। এরপর আর চলতে দেখিনি। এখন নদী ভাঙছে, মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। এমন সময়ে উদ্ধারকারী বোটটি কাজে লাগানো দরকার। মোকলেছুর রহমান নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, বন্যা বা নদীভাঙনের সময় মানুষকে দ্রুত উদ্ধার করতে নৌযান দরকার হয়।
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলামের বলেন, আমি নতুন এসেছি। জানলাম, এটি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া। তবে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে। এই নৌযান সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। জেলা অফিস নৌযানটি রিসিভ করেছিল।
রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বলেন, এটি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বলে জানি। প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এ নিয়ে আর কোনো কার্যক্রম হয়নি এবং নৌযানটি এভাবেই পড়ে আছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের জন্য নারায়ণগঞ্জের Dockyard & Engineering Works Ltd. (DEW)-এর মাধ্যমে মাল্টিপারপাস অ্যাক্সেসিবল রেসকিউ বোট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব বোটের দৈর্ঘ্য ৫৪ ফুট, প্রস্থ ১২ দশমিক ৫০ ফুট, গতি ৭ নট এবং ধারণক্ষমতা ৮০ জন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২১ জুলাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও DEW-এর মধ্যে এ ধরনের ৬০টি রেসকিউ বোট নির্মাণ ও সরবরাহের চুক্তি হয়। ২০২১ সালে প্রথম ধাপে আটটি বোট পরে সকল বোট গুলো হস্তান্তর করা হয়।
তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ গঙ্গাচড়ায় বর্ষা এলেই নদীর স্রোত ও ভাঙনে নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকিতে পড়ে। কোথাও আকস্মিক ভাঙন শুরু হলে পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। বিশেষ করে চরাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে নৌযানই হয়ে ওঠে মানুষের প্রধান ভরসা।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সাতক্ষীরা। খুলনা বিভাগের অন্তর্গত এই উপকূলীয় জেলা দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন ও সীমান্ত বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের বিশাল অংশ, বিস্তীর্ণ নদ-নদী, জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বনাঞ্চল, দেশের অন্যতম বৃহৎ চিংড়ি উৎপাদন এলাকা এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্যের কারণে সাতক্ষীরা আজ দেশ-বিদেশে সুপরিচিত।
জেলার উত্তরে যশোর, পূর্বে খুলনা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও ভোমরা স্থলবন্দরকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যে সাতক্ষীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় অবস্থানের কারণে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হলেও এখানকার মানুষ সংগ্রাম করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছেন।
সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় পরিচয় বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন। শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী ও নীলডুমুরসহ বিভিন্ন পর্যটন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমির, শুশুক, বানর এবং শত শত প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল এই বন শুধু জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডারই নয়, বরং উপকূলকে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করার প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবেও কাজ করে।
অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি চিংড়ি শিল্প। বাগদা ও গলদা চিংড়ি উৎপাদনে দেশের শীর্ষস্থানীয় জেলা হিসেবে সাতক্ষীরা ‘সাদা সোনার জেলা’ নামে পরিচিত। জেলার হাজার হাজার কৃষক, মৎস্যচাষি ও উদ্যোক্তা এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এখানকার উৎপাদিত চিংড়ি ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি কাঁকড়া, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ সম্পদের উৎপাদনও জেলার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।
কৃষিতেও সাতক্ষীরা একটি সম্ভাবনাময় জেলা। এখানকার হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, আম্রপালি ও ফজলি আম দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে সাতক্ষীরার আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়। এছাড়া সুন্দরবনের খাঁটি মধু, গোলপাতা, মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য বনজ সম্পদ স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা। জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন মসজিদ, মন্দির, জমিদার বাড়ি, দিঘি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ, দেবহাটার ঐতিহাসিক স্থাপনা, শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালীমন্দির, কলারোয়ার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং ভোমরা স্থলবন্দর জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাশাপাশি মোজাফফর গার্ডেন, লেকভিউ, নদীবেষ্টিত প্রাকৃতিক পরিবেশ, সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।
শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নেও সাতক্ষীরার মানুষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত অসংখ্য কৃতী ব্যক্তি এই জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রেও সাতক্ষীরা একটি সমৃদ্ধ জনপদ।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় এই জেলায়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও এখানকার মানুষ কৃষি, মৎস্য ও জীবিকার নতুন নতুন পথ খুঁজে নিচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন, নিরাপদ সুপেয় পানি, ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কৃষি এবং দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের নানা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটনের সম্প্রসারণ, সীমান্ত বাণিজ্যের প্রসার এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সাতক্ষীরা প্রতিনিয়ত নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে সাতক্ষীরা দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ ও আধুনিক জেলায় পরিণত হবে।
প্রকৃতি, সুন্দরবন, চিংড়ি শিল্প, সুস্বাদু আম, খাঁটি মধু, নদ-নদী, উপকূলীয় সৌন্দর্য, সীমান্ত বাণিজ্য এবং সংগ্রামী মানুষের জীবনচিত্র—সবকিছু মিলিয়ে সাতক্ষীরা সত্যিই বাংলাদেশের গর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র এবং অপার সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল প্রতীক।
কৃষি ও মৎস্য প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চলমান খাল খনন কর্মসূচি আগামী বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে কাজ করে যাচ্ছে।’
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি ও মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কুমিল্লা অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা ও উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ১১৮টি নতুন জাতের ধানের বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩০ টন বীজ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য লবণাক্ততা সহনশীল নতুন জাতের ধান উদ্ভাবনের কাজও চলমান রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে নিরলসভাবে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও সহনশীল ও উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
সভায় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তারসহ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের হাতে গড়া ছাত্রশিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস। নড়াইল সদর উপজেলার ধোপাখোলা গ্রামে তার বাড়ি। তিন বছর দুই মাস ধরে নিরলস পরিশ্রম করে এক অসাধারণ চিত্রকর্ম একেছেন তিনি। চিত্রটির নাম দিয়েছেন ‘অন্ধকার থেকে আলোকে’। যার দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট এবং প্রস্থ ৬ ফুট। এই বিশাল ক্যানভাসজুড়ে এক্রেলিক রঙে আঁকা এই চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে হিন্দুধর্মের মতুয়া সম্প্রদায়ের ত্রাণালীশ্বর ধর্মীয় যাত্রা।
যেখানে ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক সহাবস্থান, ভক্তির সমাহার, মানবিকতার আলোয় উদ্ভাসিত মানুষের চিত্রিত করা হয়েছে। চিত্রের প্রতিটি অংশে নানা দৃশ্য—কেউ নদীতে স্নান করছে, কেউ পূজা করছে, কেউ কীর্তন করছে, কেউ গান গাইছে—কেউ জয় ঢাক বাজিয়ে এগিয়ে চলেছে। এভাবে এক জীবন্ত ও উৎসবমুখর ধর্মীয় আবহে ভরে উঠেছে গোটা ক্যানভাস।
বিমানেশ বিশ্বাস বলেন, ‘আমার চিত্রকর্মের মূল লক্ষ্য মানবতা, প্রেম, শান্তি, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, শ্রদ্ধা ও স্নেহের মেলবন্ধন। মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মযাত্রা আসলে মানুষের একতা, সত্য ও মানবিক চেতনার প্রতীক। এই ধর্মযাত্রায় মানুষ পার্থিব বিভেদ ভুলে যায়, সবাই একসূত্রে বাঁধা পড়ে ভক্তি ও ভালোবাসায়।’
তিনি বলেন, ‘আমার এই চিত্রকর্মে মানুষকে দেখাতে চেয়েছি—কীভাবে অন্ধকার থেকে আলোতে আসা যায়। অজ্ঞানতা, কুসংস্কার, ঘৃণা, বিভেদ- এসব অন্ধকার থেকে মুক্তি নিয়ে আসে প্রেম ও মানবতা।’
শিল্পীর এই চিত্রকর্মে বাংলাদেশের নানা প্রান্তের মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়। গাইবান্ধা, রাজবাড়ী, খুলনা, যশোর, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মতুয়া ভক্তদের ধর্মীয় যাত্রার রঙিন চিত্র এখানে একসূত্রে গাঁথা হয়েছে।
চিত্রশিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক ছাত্র। তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ দেশের বাইরে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, চীন প্রভৃতি দেশে তার চিত্র প্রদর্শন করেছেন। তার চিত্রকর্মে বারবার উঠে এসেছে মানবতা, শ্রমজীবী মানুষের জীবনচিত্র, সমাজ ও সংস্কৃতির নানা দিক।
তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমার চিত্রকর্ম মানুষের হৃদয়ে আলো ছড়াক। মানুষ ভাবুক, অনুপ্রাণিত হোক। শিল্পের কাজই হলো মানবতার সেবা।’
বিমানেশ বিশ্বাসের এই চিত্রকর্ম বর্তমানে তার নিজস্ব স্টুডিওতে সংরক্ষিত আছে। খুব শিগগিরই এটি ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রদর্শনীতে প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিল্পী এস,এম সুলতানের এই শিষ্য নিভৃতে কাজ করা দেশের একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ডিগ্রি নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে অধ্যাপনা। ৩৪ বছর চাকরি করার অবসর জীবন কাটছে। সুলতান, মাইকেল মধুসূদনের আবক্ষ মূর্তি ছাড়াও দেশের অনেক বড় স্থাপনায় তার হাতের কাজ স্থান পেয়েছে। পাওয়া না পাওয়ার অনেক গল্প থাকলেও নিজের সবকিছু দিয়ে শিশুদের নিয়ে শিল্পের সাধ মেটাতে চান। নিজের বিক্রি করা ছবির টাকা দিয়ে বাবার বাড়ির ছাবড়ায় একতলার ছাদ দিয়েছেন। দোতলার একটি দেওয়াল দেওয়া ঘরে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন অবৈতনিক চারুকলা প্রতিষ্ঠান ‘শিল্পাঞ্জলী’। এখানে আদিবাসী শিশুরা নিজের মতো করে ছবি আর নকশা আঁকে। দুপুরে খায় আবার বাড়ি চলে যায়। সুবিধা বঞ্চিত এসব শিশুদের নিয়ে ‘শিল্পাঞ্জলিতে’ তৈরি করা হয় ১৬০০ ফুট দীর্ঘ আর ৩ ফুট চওড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিশুচিত্র।
মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নওগাঁর কাঁচা মরিচের বাজারে এসেছে বড় ধরনের অস্থিরতা। একসময় যে মরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হতো, সেটিই এখন পাইকারি বাজারে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষকরা যেমন ভালো দাম পেয়ে সন্তুষ্ট, তেমনি নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের বাড়তি দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিবৃষ্টিতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। আর সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাবই এখন দামে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেশি, সাদা ও আকাশী জাতের মরিচের চাষ করা হচ্ছে। তবে চলমান বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির কারণে প্রায় ১০ হেক্টর জমির মরিচক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
নওগাঁ সদর উপজেলার কীত্তিপুর সাপ্তাহিক হাট জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা মরিচের বাজার। প্রতি মঙ্গলবার ও শুক্রবার ভোর থেকেই কৃষকরা মাঠ থেকে তোলা টাটকা মরিচ নিয়ে হাটে আসেন। সূর্য ওঠার আগেই জমে ওঠে বেচাকেনা, আর সকাল ৮টার মধ্যেই অধিকাংশ মরিচ বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কীত্তিপুর, বর্ষাইল ও বক্তারপুর ইউনিয়নের পাশাপাশি পাশের বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক এই হাটে মরিচ বিক্রি করতে আসেন।
বর্তমানে এই হাটে জাতভেদে প্রতি কেজি মরিচ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও একই মরিচের দাম ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। পরে ধাপে ধাপে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বর্তমানে ২০০ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে ২৫০ টাকায় পৌঁছেছে। দাম বৃদ্ধির পর প্রতিটি হাটবারে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মরিচের বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি কাঁচা মরিচের বাজার মহাদেবপুর উপজেলার মোমিনপুর হাটেও এখন একই চিত্র। এই হাটে বছরে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস মরিচের বেচাকেনা চলে। প্রতি মাসে প্রায় তিন কোটি টাকার কাঁচা মরিচ কেনাবেচা হয়। বর্তমানে প্রতিটি হাটবারে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ টাকার মরিচের লেনদেন হচ্ছে। এখান থেকে নওগাঁ ছাড়াও রাজশাহী, বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মরিচ সরবরাহ করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের বাজারেও নিয়মিত এখানকার মরিচ পাঠানো হয়।
পাইকারি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামে বিশেষ করে সাদা মরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা তিনজন ব্যবসায়ী মিলে প্রতি সপ্তাহে একটি ট্রাকে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ লাখ টাকার মরিচ চট্টগ্রামে পাঠাই। কিন্তু বর্তমানে হাটে সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে। ফলে পাইকারি দামও বেড়ে গেছে।
কৃষকদের দাবি, অতিবৃষ্টিই বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ। নিচু এলাকার অনেক মরিচক্ষেত কয়েক দিন পানির নিচে থাকায় গাছ নষ্ট হয়েছে। নতুন গাছে ফলনও প্রত্যাশার তুলনায় কম এসেছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে মরিচের জোগান কমেছে, আর সেই সুযোগে দামও বেড়েছে।
সদর উপজেলার আতিতা গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, এক বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। নতুন গাছ থেকে দুই সপ্তাহ ধরে অল্প পরিমাণ মরিচ তুলছি। আজ ২২ কেজি মরিচ ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। সপ্তাহে দুই দিন মরিচ তোলা হচ্ছে। এবার দাম ভালো থাকায় কিছুটা লাভ হচ্ছে। তবে উৎপাদন বাড়লে বাজারে সরবরাহও বাড়বে, তখন দাম কমে আসবে।
ভালো দাম পেলেও কৃষকদের অনেকেই বলছেন, উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেতেই ফলন স্বাভাবিক থাকলে কম দামেও মোট বিক্রি বেশি হতো। ফলে বর্তমান উচ্চমূল্য ক্ষতির পুরোটা পুষিয়ে দিতে পারছে না।
অন্যদিকে বাজারে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। সদর উপজেলার উকিলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা সারোয়ার হোসেন বলেন, মরিচের দাম শুনেই অবাক হতে হয়। আগে আধা কেজি কিনতাম, এখন ১০০ গ্রাম কিনতে হচ্ছে। শুধু মরিচ নয়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই অনেক বেশি। সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কৃষকদের জন্য ইতিবাচক। তবে অতিবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ইঞ্জিনিয়ার এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (অ্যাব) আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সঙ্গে নীলফামারীতে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে নীলফামারী সার্কিট হাউসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহায়েল পারভেজ, জেলা জজ কোর্টের জিপি আবু মোহাম্মদ সোয়েম, পিপি অ্যাড. আল মাসুদ চৌধুরী, জেলা আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাড. আসাদুজ্জামান খান রিনো এবং সচিব গোলাম মোস্তফা সজীব বক্তব্য দেন।
এ সময় আইনজীবীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, আইনজীবীরা দেশের বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনজীবীদের পেশাগত সমস্যা ও দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কথা বলবেন বলে জানান তিনি। এসময় জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানী ঢাকায় গত ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৪৮৮ জন। সম্প্রতি প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক গবেষণামূলক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত নগরীতে মোট এক হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৯২ জনই ছিলেন পথচারী।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহতের তালিকায় নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ২১৯ ও ১৩১ জন। দুর্ঘটনার ধরণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন ৫৩৬ জন, এবং বাকি ২৫৬ জন বিভিন্ন গণপরিবহন, রিকশা ও সিএনজির চালক ও যাত্রী। সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় রাত ও ভোরের ভাগ। মোট প্রাণহানির মধ্যে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশই ঘটেছে রাতের বেলা। বাইপাস সড়কের অভাব থাকায় রাত ১০টার পর শহরের রাস্তায় ভারী মালবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতিতে চলাচলাই পথচারীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাজধানীতে ঘটমান দুর্ঘটনার জন্য ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ময়লাবাহী গাড়িগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ দায়ী। এর পরেই রয়েছে মোটরসাইকেল ও বাসের অবস্থান। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী যানজটের কারণে চালকদের মানসিক অধৈর্য ও অসহিষ্ণুতা তৈরি হওয়া, ফুটপাত দখল, প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক এবং নিরাপদ ফুটওভার ব্রিজের অভাবকে দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর এলাকাকে ঢাকার প্রধান দুর্ঘটনাপ্রবণ বা ‘হটস্পট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দুর্ঘটনা হ্রাস ও নগরীর পরিবহন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতে কোম্পানিভিত্তিক বাস সার্ভিস চালুর পাশাপাশি বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
সারা দেশের প্রায় সব বিভাগেই অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টিপাতও হতে পারে। তবে এই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। এছাড়া রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে, যার পরিমাণ ছিল ৫৯ মিলিমিটার।
আবহাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ভারতের মধ্য প্রদেশ এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রাজস্থান এবং সংলগ্ন এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পরবর্তীতে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। বর্তমানে এই অক্ষের একটি বড় অংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ুটি বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল নিকলীতে, যা ছিল ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কুমারখালীতে ২৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে এবং সকালে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ২৮ মিনিটে।
বগুড়ার কাহালুতে পিকআপ ও ট্রাকের মধ্যে ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক ও হেলপারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার কাজীপাড়া বউবাজার এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের মধ্যে লুৎফর রহমান নামে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁয় মাছ বিক্রি শেষে একটি পিকআপ বগুড়ার দিকে ফিরছিল। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পিকআপটি কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই পিকআপের চালক, হেলপার ও দুই মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কাহালু থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করেন।
কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে এবং বাকিদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ দুর্ঘটনা কবলিত যান দুটি জব্দ করেছে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পাহাড়ি, সমতল কিংবা ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ-বিভাজন তৈরি করার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ রাজনৈতিক বা স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায় কিংবা ধর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে গ্রাস করতে চায়, তাহলে বুঝতে হবে সে সৃষ্টিকর্তা, মানবতা এবং ধর্মের মূল মর্মবাণীর বিরোধিতা করছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনীতি ও ধর্মের ভিন্নতা ব্যাখ্যা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘রাজনীতিতে দর্শন, চিন্তা ও আদর্শ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। ধর্মীয় দর্শন আবর্তিত হয় সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে ঘিরে, আর রাজনীতির চিন্তাভাবনা আবর্তিত হয় জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে। রাজনীতির কোনো প্রতীক বা মার্কা দেবত্ব প্রদত্ত নয়; দল বা নেতা কোনো দেব-দেবী নন। তাদের বক্তব্য ও কর্মসূচি যতক্ষণ জনগণ নিজের কল্যাণ হিসেবে গ্রহণ করবে, ততক্ষণ তা থাকবে। অন্যথায় জনগণ তা বর্জন করবে।’
ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ধর্ম চর্চাকারীরা যখন ধর্মব্যবসায়ীদের চিনতে পারবেন, তখনই প্রকৃত ধর্মচর্চা সার্থক হবে। যে যার ধর্ম গভীরভাবে বিশ্বাস ও চর্চা করার মাধ্যমেই অন্য ধর্মকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করার মানসিকতা তৈরি হয়। যখনই কোনো মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে সূক্ষ্মভাবে সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করবে, তখনই ধর্মপ্রাণ মানুষকে সোচ্চার হয়ে সেই ধর্মব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।’
দেশের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতিতে সকল মানুষের সমান অধিকার নিয়ে কথা বলি, তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা ইতিহাসের শিক্ষা ভুলিনি। জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ না করলে ইতিহাস আবার নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন— ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’
বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।
এর আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। টানা বৃষ্টি ও দেশের কয়েকটি অঞ্চলের বন্যার প্রভাব এখনো কাটেনি কাঁচাবাজারে। সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দামে তার প্রতিফলন নেই। সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উচ্চমূল্যে আটকে আছে বেশিরভাগ সবজি।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা বা তার বেশি দরে, আর কাঁচামরিচের কেজি পৌঁছেছে ৪০০ টাকায়। ফলে মাসের শেষ সময়ে নিত্যপণ্যের বাড়তি ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতা-ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
মসলার বাজারে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে প্রায় ৪০০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা প্রতি ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা এবং ২৫০ গ্রাম ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে আধা কেজি বা এক কেজি কিনলে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কম রাখা হচ্ছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহেও এর দাম ছিল ১৫০ থেকে ২২০ টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম প্রায় ১০০ শতাংশ বেড়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে কাঁচামরিচের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২০ টাকা কেজি।
কাঁচামরিচের পাশাপাশি বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দামও। দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগে মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিরপুর ১১ নম্বর বাজারের মতো কয়েকটি দোকানে বাছাই করা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। শান্তিনগর বাজারের বিক্রেতা এমদাদুল বলেন, ‘পাইকারি বাজারেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
উচ্চমূল্যের দরবাড়িতে আটকা সবজি
বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় বেশি। প্রতি কেজি গোল কালো বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং সাদা বেগুন ১৪০ টাকা। বরবটি ও করলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। বর্ষা মৌসুমের সবজি কাঁকরোলও বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া শসার কেজি ১০০ টাকা।
তবে ধুন্দুল ও পটলের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে—আগে ১০০ টাকার ওপরে থাকলেও এখন বাজারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে। এ ছাড়া ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা ও কচুমুখী ৭০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের চালকুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। তুলনামূলক কম দামে মিলছে আলু (২৫ টাকা কেজি) ও কাঁচা পেঁপে (৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি)।
শাকের বাজারেও একই চিত্র। লাউশাকের আঁটি ৪০ টাকা, ডাঁটা ও পুঁইশাক ৩০ টাকা, লালশাক ও মুলাশাক ২০ টাকা এবং কলমিশাক বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।
ডজন পার হলো ১৪৫ টাকা, সেন্টিমেন্ট ডিম ও মুরগির বাজারেও ডিমের বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। পাড়া-মহল্লার মুদিদোকানে ফার্মের মুরগির ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। একসঙ্গে এক ডজন কিনলে দাম রাখা হচ্ছে ১৪৫ টাকা। তবে পাইকারি ও খুচরা দোকানে হালিপ্রতি দাম ৪৮ টাকা। টিসিবির তথ্যনুযায়ী, এক বছর আগে একই সময়ে ডিমের হালির দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা—অর্থাৎ এক বছরে ডিমের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি।
অন্যদিকে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩২৪ টাকায় এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে। চালের বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই; বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭২ টাকা ও নাজিরশাইল ৮৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেটের আঁটা-ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বক্তব্য
বাজার করতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, সপ্তাহের পর সপ্তাহ দর এমন বাড়তি থাকায় সংসার চালানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সেগুনবাগিচায় বাজার করতে আসা এক ক্রেতা জানান, চাল, ডিম, মরিচ থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম একযোগে বাড়ায় মাসের শেষে টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে।
তবে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। যাত্রাবাড়ীর আড়তদার আবুল কালাম ও সেগুনবাগিচার বিক্রেতা রাকিব হোসেন জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং পাইকারিতে দর বেশি থাকায় খুচরা বাজারে দাম কমানোর সুযোগ থাকছে না। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বেড়ে বাজার কিছুটা শান্ত হতে পারে বলে আশা করছেন তারা।