রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের ৩২টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহের গৌরীপুর, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর, মানিকগঞ্জের সিংগাইর, দৌলতপুরসহ দেশের মোট ৭০টি উপজেলাকে গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বুধবার সকাল ১০টায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের উপকারভোগী পরিবারগুলোর কাছে জমিসহ গৃহ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এরপরই এসব জেলা ও উপজেলাকে গৃহ ও ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে।
রাজশাহী
সোমবার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ বলেন, আগামী বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীর তিনটি জেলাসহ ৩২টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত পরিবার ঘোষণা করবেন।
এগুলো হলো রাজশাহী জেলার পবা, গোদাগাড়ী, তানোর, দুর্গাপুর, পুঠিয়া ও বাগমারা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট ও নাচোল। জয়পুরহাট জেলার সদর, আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলা।
এ ছাড়া রয়েছে বগুড়া জেলার কাহালু, ধুনট, শাজাহানপুর, সোনাতলা ও শিবগঞ্জ। নওগাঁ জেলার ধামইরহাট, মহাদেবপুর ও পত্নীতলা উপজেলা। সিরাজগঞ্জ জেলার সদর, উল্লাপাড়া, কাজীপুর ও রায়গঞ্জ উপজেলা। পাবনা জেলার সদর, আটঘরিয়া ও সাঁথিয়া উপজেলা এবং নাটোর জেলার গুরুদাসপুর, বড়াইগ্ৰাম ও লালপুর উপজেলাকেও ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে।
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফৌজিয়া নাজনীন জানান, বুধবার সকাল ৯টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের মতো গৌরীপুর উপজেলার উপকারভোগীদের মাঝে ২১টি গৃহ হস্তান্তর করে এ উপজেলাকে গৃহহীন ও ভূমিহীনমুক্ত এলাকা ঘোষণা করবেন।
লালমনিরহাট
৩০ জুনের মধ্যে লালমনিরহাট জেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ উল্লাহ।
গাইবান্ধা
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. অলিউর রহমান জানান, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলাকে গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে।
মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলায় ৩৬৭টি ঘর হস্তান্তর করা হবে। এর মধ্যে সদরে ৩১টি, সিংগাইরে ১৬৩টি, শিবালয়ে ৬২টি, হরিরামপুরে ৭৭টি এবং দৌলতপুর উপজেলায় ৩৪টি। একই সঙ্গে সিংগাইর ও দৌলতপুর উপজেলাকে ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হবে।
ফরিদপুর
ফরিদপুর জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, জেলার নগরকান্দা উপজেলাকে ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করার পর এবার জেলার আলফাডাঙ্গা ও সালথা এ দুটি উপজেলাকেও ভূমিহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে।
চকরিয়া
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান জানান, উপজেলাটিতে ভূমিহীন ও গৃহহীন লোক না থাকায় আগামী ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৭০টি উপজেলার মতো চকরিয়াকেও ভূমিহীন ও গৃহহীন উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করবেন।
শেরপুর
টাস্কফোর্স কমিটি ও বিভিন্ন দপ্তরের যৌথসভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক শেরপুরের নকলা, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন শেরপুর জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তার।
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে খুলনার রূপসায় ৭৬টি পূজামণ্ডপের কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রূপসা উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস কে আজিজুল বারী হেলাল শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় পূজামণ্ডপের নেতাদের সঙ্গে উৎসব আয়োজন ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পূজা উদ্যাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং উৎসবকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু ও মোল্লা খায়রুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান এবং সদস্যসচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক।
সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী দল রূপসা উপজেলা শাখার পূজা উদ্যাপন পর্যবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র।
মতবিনিময় সভা শেষে প্রধান অতিথি বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এ মতবিনিময় সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কুড়িগ্রাম প্রশাসনের পাল্টাপাল্টি মতামতের কারণে দেশের একমাত্র প্রস্তাবিত কুড়িগ্রাম বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি এবং এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম খনিজ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আমূল পরিবর্তন আনার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।
ব্রহ্মপুত্র নদে এবং যমুনা নদীতে যেসব খনিজ সম্পদ রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ইলমেনাইট-টাইটানিয়াম উৎপাদনের উৎস, ব্যবহৃত রং, প্লাস্টিক, ওষুধ, ওয়েল্ডিং রডে ব্যবহৃত হয়। জিরকন-সিরামিক, পারমাণবিক প্রযুক্তি, মহাকাশযান ও ইলেট্রনিক্সে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ম্যাগনেটাইট-চৌম্বুকধর্মী খনিজ যা ইস্পাত ও খনি যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। রুটাইল-টাইটানিয়ামের পরিশোধিত রূপ ব্যবহৃত হয় প্রসাধনী ও ধাতু শিল্পে। গারনেট-অলংকার, জেট কাটিং ও পাইপ পরিষ্কারে ব্যবহৃত হয় এবং কোয়ার্টজ-ঘড়ি, কম্পিউটার ও চিকিৎসা যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ জুন বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের মোখলেসুর রহমান মিলনায়তনে ‘বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন’ কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ শীর্ষক প্রস্তাবিত প্রকল্প বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবস্থার নবায়নযোগ্য বালু সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম খনিজ-প্রযুক্তি, গবেষণা ও শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে ২০২৬-২০৭৫ সময়কালের জন্য একটি ৫০ বছরের মহাপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম খনিজ-প্রযুক্তি, গবেষণা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদী থেকে প্রাপ্ত বালু ও খনিজ সম্পদের গবেষণা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
দীর্ঘদিন ধরে জিএসবি গবেষণা করে চিলমারী উপজেলায় ১৫ একর জমিতে একটি পাইলট রিসার্চ প্ল্যান্ট এবং রাজারহাট উপজেলার টগরাইহাট এলাকায় ১০ একর জমিতে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রকল্পটির জরিপ ও সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন শেষ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
এতে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। আর দেশের অর্থনীতিতে কুড়িগ্রাম জেলা একটি হাব সেন্টারে পরিণত হবে। কিন্তু দেশের একমাত্র বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কুড়িগ্রাম প্রশাসনের পাল্টাপাল্টি মতামতের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি।
গত ১৯ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সভায় ১০নং আলোচ্য বিষয়ে জানানো হয়, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রতিবেদনে ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য ব্যয়ের তুলনায় সরকারের প্রাপ্তি উল্লেখযোগ্য হবে না মর্মে অভিমত দেওয়া হয়।’ কিন্তু অনুসন্ধানে ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক জানান, এমন কোনো প্রতিবেদন পাঠায়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী এবং রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা গত বছরের ৫ মার্চ সম্ভাব্য জমির তথ্য-উপাত্ত মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। আর খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীকে ঘিরে দ্রুত জেলায় প্রকল্পের কাজ শুরুর জোর দাবি জানিয়েছে জেলাবাসী।
জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘সম্ভাবনাময় এই প্রকল্পটি এখনো শুরুই হলো না, সেখানে কীভাবে কর্তৃপক্ষ বলতে পারে লাভ হবে না লস হবে? সরকার তো দেশে বহু প্রকল্প নেয় এবং নিচ্ছে। সম্ভাবনাময় এই প্রকল্পটি শুরুর জন্য সরকার কার্যকরী ও দ্রুত ব্যবস্থা নিবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।’
জেলা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা এবং খনিজ সম্পদ আহরণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের জন্য দল-মত সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান।
কুড়িগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় অত্যন্ত মূল্যবান ও বিরল খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর কর্তৃক বালু গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি ইতোমধ্যে জমির সম্ভাবতা ও কার্যকারিতা শেষ করে সংশ্লিস্টদের দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।’
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘আমি যোগদানের আগে এই বিষয়ে সাবেক জেলা প্রশাসকদের সময় বালু গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য জমির তথ্য কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেছিল।’
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর উপপরিচালক, (ভূতত্ত্ব) ড. সোহেল রানা বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর বালু পুনঃভরণযোগ্য। হিমালয় হতে কুড়িগ্রাম দিয়ে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীতে প্রতি বছর এক বিলিয়ন বালু আসছে। আমরা যদি এই বালু ব্যবহার করতে পারি তাহলে কোয়ার্টজ হেভি মিনারেল ও লাইট মিনারেল আছে। হেভি মিনারেলের মধ্যে রুটাইল, গারনেট, ইলমেনাইট, জিরকন, মুনাইজাইটের মতো মূল্যবান খনিজ সম্পদ। লাইট মিনারেলের মধ্যে কোয়ার্টজ রয়েছে।’
এ নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার জানা নেই। বালু গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে কোনো জটিলতা থাকলে সেটি নিরসনের ব্যবস্থা করা হবে।’
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের ধলেশ্বরী নদীতে দেশীয় জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর কাস্তুল বাজার লঞ্চঘাট এলাকায় উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে ২৭০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অমিত পণ্ডিত, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নজরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ইয়াকুব এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ধলেশ্বরী নদীতে অবমুক্তকৃত এসব পোনা মাছ মুক্ত জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠে স্থানীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং মৎস্যজীবীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা থানার ওসিকে কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং যদি নির্মূল করতে না পারেন, আপনি থাকবেন না। আগামী দুই মাস টাইম, দুই মাস। কিশোরগ্যাং উল্টিয়ে ঝুলাইবেন গাছে। কোনও কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না।’
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন চিফ হুইপ। সভায় পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি করে যারা খাবেন, চাঁদাবাজির কোনও জায়গা পাথরঘাটায় নেই। ওসি সাহেব, আপনাকে আমি এখানে বললাম, চাঁদাবাজির প্রশ্নে যদি কোনও সমস্যা থাকে, হয় আপনি থাকবেন, না হয় চাঁদাবাজ থাকবে। সন্ত্রাসী আর দখলবাজ পাথরঘাটায় থাকতে পারবে না।’
ওসিকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে আউয়াল নামের এক ব্যক্তি কোথায় কী করার কথা বলে চাঁদা খেয়েছে। আউয়ালসহ আরও একজন এখন পলাতক। আউয়ালকে আপনি ধরবেন এবং সেই মামলায় গ্রেফতার দেখাবেন। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কোনও জায়গা নেই। সন্ত্রাসীদের কোনও দল নেই।’
সভায় উপস্থিত সবার উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে যদি কেউ দখলবাজি করে, আমি টেলিফোন ধরতে পারি না, আপনারা আমাকে মেসেজ দিয়ে রাখবেন। আমি রাতে মেসেজ দেখি। কোস্টগার্ডের সোর্স যারা আছেন, তারা সাবধান হইয়েন। প্রয়োজন হলে আমি সবাইকে গ্রেফতার করাবো। তারা থানায়ও দালালি শুরু করেছে। থানায় দালালি বন্ধ কইরেন।’
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রাজশাহী রেশম কারখানার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর অংশ হিসেবে কারখানায় আরও বেশি পাওয়ার লুম চালুর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় তুঁতচারা রোপণ ও রাজশাহী রেশম কারখানার পাওয়ার লুম চালুকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী সিল্কের সুনাম রয়েছে বিশ্বব্যাপী। অতীতে রাজশাহীর অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল এটি। ধীরে ধীরে এই কারখানাটি তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছিল।’
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আন্তরিকতার মাধ্যমে এই কারখানায় কাজ করুন। এই কারখানাটি যাতে আবার পূর্বের রূপে ফিরে আসে এইভাবে কাজ করুন। কারখানাকে জিম্মি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে কোনো লাভ নেই। এ জন্য সবাইকে ভুগতে হবে।
আমি আপনাদের ভাই। সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছি এবং থাকব। কারখানাটির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে যত সহযোগিতা লাগে করা হবে।’ এরপর রেশম কারখানায় পাওয়ার লুম চালু ও বৃক্ষরোপণ করা হয়।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের এমপি আবু সাইদ চাঁদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ, পরিচালক (অর্থ ও পরিকল্পনা) ড. এম এ মান্নান, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আসলাম সরকার প্রমুখ। এ ছাড়াও রাজশাহী রেশম কারখানার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অন্য জেলার কৃষকের কাছে বেশি দামে সার বিক্রয়ের অপরাধে হাবিবুর রহমান নামের এক সাব-ডিলার দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে দৌলতপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক প্রবীর বিশ্বাস তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ১১ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়।
দণ্ডিত হাবিবুর রহমান দৌলতপুর বাজারের সার ব্যবসায়ী এবং তিনি মেসার্স দীপু ট্রেডার্সের সাব-ডিলার।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক প্রবীর বিশ্বাস জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে দৌলতপুর বাজারের সার ব্যবসায়ী ও সাব-ডিলার হাবিবুর রহমানের দোকান থেকে পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার এক কৃষক বেশি দামে ১১ বস্তা সার ক্রয় করেন এবং সার নিয়ে যাওয়ার পথে দৌলতপুরের সমেতপুর এলাকার কৃষকরা বিষয়টি টের পেয়ে গাড়িসহ সার আটক করেন। এরপর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেশি দামে অন্য জেলায় সার বিক্রয়ের কথা স্বীকার করেন সাব-ডিলার হাবিবুর রহমান।
পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সাব-ডিলার হাবিবুর রহমানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ১১ বস্তা সার উপজেলার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারি দরে বিক্রি করা হয়। বেশি সার বিক্রয় বা সার কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সোচ্চার আছে। কোনো অভিযোগ পেলে এবং তা সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফরিদপুরে চালককে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে হত্যা ও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ পেশাদার অজ্ঞান পার্টির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সুপার জানান, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৫ সদস্যের সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র শহরের গোয়ালচামট পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে ২শ টাকা ভাড়ায় তালমা যাওয়ার কথা বলে ইজিবাইকটি ভাড়া করে। ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বাখুন্ডা এলাকায় পৌছালে রুমালের মধ্যে চেতনানাশক দিয়ে চালক বিশ্বনাথ সরকারকে অজ্ঞান করে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায় ওই চক্র। স্থানীয়রা চালককে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে পরদিন সকালে মারা যায় সে। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে রবি কুমার সরকার বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় হত্যা ও ছিনতাই মামলা দায়ের করে।
তিন মাস পরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে তদন্তভার আসে। একটি গ্যারেজ থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকের হুডের সূত্র ধরে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে একে একে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই পুলিশ।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে শহরের ফলপট্টি থেকে মুরাদ শেখকে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতে পাঠালে চালককে হত্যার বর্ণনা ও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসামি। এই চক্রের বাকিদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি মুরাদ শেখ জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদাহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে। এ ছাড়াও ইতোপূর্বে গ্যারেজ মালিক কামাল ও ছিনতাইকারী সুমন আহমেদ নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশে একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিনষ্টের চেষ্টা করছে। তাই শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অপশক্তি যেন উৎসবের আনন্দ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য মন্দির কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে পূজাকে উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করবে এই প্রত্যাশার কথা বলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ ফাহমিদা হক।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কয়রা উপজেলা অডিটোরিয়ামে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরগুলোর অনুকূলে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও খুলনা জেলা পরিষদ কর্তৃক সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সংস্কার কাজের প্রকল্পের বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর অনুষ্ঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
কয়রা উপজেলার ৫৯টি শারদীয় দুর্গাপূজা মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে ৭ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা ও ৫৪টি আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, খুলনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম নান্নু, কয়রা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. রাশেদুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু, প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুনর রশীদ।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অম্বিকা চরণ সানা, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বৈরাগী, আবু সাঈদ বিশ্বাস, জি এম মাওলা বক্স, শরিফুল আলম, আব্দুস সামাদ, প্রফেসর আবুল কালাম, জিএম রফিকুল, শেখ সিরাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, নাজমুল হুদা, সালাউদ্দিন লিটন, সাইফুজ্জামান, আইয়ুব আলী, রওশন মোল্লা, গোলাম রসুল, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা আইয়ুব হোসেন, রবিউল ইসলাম রবি, জিএম রাসেল ইসলাম, জাহিদুর রহমান শোভন, পীর আলী, মোহতাসিম বিল্লাহ প্রমুখ।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্ত থেকে আটক দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ফেরত পাওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় ২০৫৭ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফ দুই পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরীফুল ইসলাম এবং কুমিল্লা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে আটক হন এএসআই ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদককারবারিকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অংশে চলে যান। পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে এএসআই ইমরান হোসেনও আটক হন। একপর্যায়ে ভারতীয় নাগরিকরা তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেন।
ঘটনার পর থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছিল।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমে উঠেছে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ঢাকি ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে হাট প্রাঙ্গণ। ঢাক-ঢোল, কাঁশি-সানাই, করতাল ও বাঁশির সম্মিলিত সুরে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরছেন শিল্পীরা। তাদের পরিবেশনা শুনে পছন্দের বাদকদল বেছে নিচ্ছেন পূজা আয়োজকরা। দল ও বাদ্যযন্ত্রের ধরন অনুযায়ী ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকারও বেশি সম্মানিতে চলছে দরদাম ও চুক্তি।
প্রতি বছরের মতো এবারও কটিয়াদী সদরের পুরান বাজার এলাকায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী এ হাট। গত বুধবার সকাল থেকে জমতে শুরু করা হাট চলে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠীর গভীর রাত পর্যন্ত। বাজার কমিটি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দুই শতাধিক বাদকদল হাটে এসেছেন। তবে হাটের সবচেয়ে বেশি জমজমাট অবস্থা দেখা যায় শেষের দিকে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হাটে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকের গর্জন আর নানা বাদ্যযন্ত্রের সুরে মুখর পুরো এলাকা। একেকটি দল নিজেদের বাদ্যযন্ত্র ও বাজানোর দক্ষতা তুলে ধরছে। পূজা আয়োজকরা বিভিন্ন দলের পরিবেশনা শুনে পছন্দের দল নির্বাচন করছেন। এরপর চলছে দরদাম ও চুক্তি। যে দলের বাজনা আয়োজকদের মন কাড়ছে, নির্দিষ্ট সম্মানির বিনিময়ে সেই দলকেই দুর্গাপূজার মণ্ডপে বাজানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হচ্ছে।
নরসিংদীর শিবপুর থেকে হাটে আসা পূজা আয়োজক সুভাশিস সূত্রধর বলেন, ‘প্রতি বছর দুর্গাপূজার জন্য বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের দল নিতে এই ঐতিহ্যবাহী হাটে আসি। সকাল থেকে অনেকের বাজনা শুনেছি। এর মধ্যে একটি দলকে পছন্দ হয়েছে। তারা ভালো বাজায়। ৯০ হাজার টাকায় তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে আসা তাপস বিশ্বাস বলেন, ‘এবারই প্রথম এই হাটে এসেছি। এসে মুগ্ধ হয়েছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে বাদকদল এসেছে। তাদের মধ্যে বিক্রমপুরের পাঁচ সদস্যের একটি দল পছন্দ করেছি। ৮৫ হাজার টাকায় তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।’
বিক্রমপুর থেকে ১০ সদস্যের দল নিয়ে হাটে এসেছেন রণজিৎ মণি দাস। তার দলের সঙ্গে রয়েছে ঢাকসহ আধুনিক বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। দলটির জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সম্মানি চাইতে দেখা গেছে।
এদিকে, ঢাকের হাট এখন আর শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজন নয়; এটি হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে এক সর্বজনীন মিলনমেলা। বাদ্যযন্ত্রের সুর উপভোগ করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। ঢাক-ঢোলের সম্মিলিত বাদ্য আর শিল্পীদের পরিবেশনায় পুরো হাট পরিণত হয় এক উৎসবের প্রাঙ্গণে।
পাঁচ শতাব্দীর ঐতিহ্যের পেছনের ইতিহাস: স্থানীয় জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম ভাগে সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায়ের সময় কটিয়াদীর ঢাকের হাটের সূচনা হয়। রাজা কটিয়াদীর চারিপাড়ায় তার রাজপ্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন করতেন। পূজায় ঢাক, ঢোল ও বাঁশি বাজানোর জন্য সেরা শিল্পীদের খুঁজতে বিক্রমপুর পরগনায় বার্তা পাঠানো হয়। সেই আহ্বানে বহু বাদ্যযন্ত্রশিল্পী নৌপথে কটিয়াদীতে আসেন। রাজা নিজে তাদের বাজনা শুনে সেরা দল বেছে নেন। সেই থেকেই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কটিয়াদী পুরান বাজারে এই হাট বসার প্রচলন শুরু হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রীমা সংঘ হাটটির তত্ত্বাবধান করে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জীবন কুমার সাহা বলেন, ‘রাজা নবরঙ্গ রায়ের আমল থেকেই এই ঐতিহ্যের যাত্রা। হাটে আসা বাদকদের থাকা-খাওয়া, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে সংগঠনটি। কোনো বাদকদল ভাড়ায় যেতে না পারলে তাদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থাও করা হয়।’
মোবাইল ফোনে চুক্তি, কমছে ঢাকিদের আগমন: ঐতিহ্যবাহী এ হাটে আগের তুলনায় ঢাকিদের আগমন কমেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক, স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাদ্যযন্ত্রশিল্পীরা। তাদের মতে, মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সুযোগ বাড়ায় এ পরিবর্তন এসেছে।
হাটে এসে একবার চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর পূজা আয়োজক ও বাদকদলের মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগের তথ্য বিনিময় হয়। পরবর্তী সময়ে কোনো দলের পরিবেশনা ভালো লাগলে আয়োজকরা সরাসরি ফোন করে সেই দলের সঙ্গে দরদাম ও চুক্তি করেন। ফলে উভয় পক্ষেরই পরের বছর হাটে আসার প্রয়োজন কমে যায়।
নাম ঢাকের হাট, কেনাবেচা হয় না বাদ্যযন্ত্র: নাম ঢাকের হাট হলেও এখানে ঢাক-ঢোল কিংবা অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্র কেনাবেচা হয় না। বরং বাদ্যযন্ত্রশিল্পীরা তাদের দক্ষতা ও পরিবেশনা তুলে ধরেন, আর পূজা আয়োজকরা বাজনা শুনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। দলের সদস্যসংখ্যা, বাদ্যযন্ত্রের ধরন ও শিল্পীদের দক্ষতার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয় সম্মানির পরিমাণ।
কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘বিক্রমপুর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাদকদল হাটে এসেছেন। ঢাক-ঢোলের পাশাপাশি বাঁশি, সানাই, করতাল, খঞ্জনি, মন্দিরা, ঝনঝনিসহ বিভিন্ন আধুনিক বাদ্যযন্ত্রও নিয়ে এসেছেন তারা।’
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এই ঐতিহ্যবাহী হাট এখন কেবল বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের চুক্তির জায়গা নয়, বরং দুর্গোৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন বাংলাদেশের দুই পুলিশ সদস্য। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন স্থানে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুই পুলিশ সদস্যকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা চলছে এবং খুব দ্রুত এর সুরাহা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার একজন সহকারী উপপরিদর্শক এবং একজন কনস্টেবল সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে আশাবাড়ি এলাকার নির্দিষ্ট সীমান্ত পিলারসংলগ্ন অঞ্চলে মাদক উদ্ধারের বিশেষ দায়িত্বে গিয়েছিলেন।
দায়িত্বরত অবস্থায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক মাদক কারবারি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান তার পেছনে ধাওয়া করেন এবং পথ চেনার ভুলে সীমান্ত পেরিয়ে ফেললে তাকে স্থানীয়রা আটক করে বিএসএফের কাছে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে তাকে ছাড়াতে গিয়ে অপর পুলিশ কর্মকর্তাও আটক হন এবং তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ফরিদপুর জেলা পরিষদের দুটি স্থাপনার ছাদে ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়েছে। নেট মিটারিং পদ্ধতিতে এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে জেলা পরিষদের স্থাপনায় এ ধরনের উদ্যোগ একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা পরিষদ ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো-১) ফরিদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখার ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। মোট ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এ প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী ২০ বছর প্ল্যান্টগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।
এ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম এবং ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ।জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী শেখ শহীদুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন পিয়াল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রবীর কান্তি বালা সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নেট মিটারিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের এ উদ্যোগ সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। সরকারি ভবনের ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গানে গানে মানবতার জয়গান, সাধুসঙ্গে আত্মার সন্ধান। বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস ঘিরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে চলছে শেষ মুহূর্তের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। সাজসজ্জা, মঞ্চ নির্মাণ আর দোকানিদের আনাগোনায় বাড়ছে উৎসবের আমেজ। তবে এ আয়োজন শুধু স্মরণোৎসব নয়; এর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে সাধুসঙ্গের ঐতিহ্য, আত্মসাধনা আর মানবতার দর্শন।
‘নিগূঢ় প্রেম কথাটি তাই আমি শুধাই কার কাছে, যদি তরিতে বাসনা থাকে, ধর রে মন সাধুর সঙ্গ।’
লালন সাঁইজির গানের এই আহ্বান যেন আজও মানুষকে টানে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায়। সাধুসঙ্গের টানে এখানে ছুটে আসেন সাধু-বাউল ও ভক্তরা। আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের স্মরণোৎসব।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার লালন মাঠে বসতে শুরু করেছে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন সাধু-বাউল ও লালনভক্তরা। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা।
মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য আলমাস হোসেন বলেন, ‘মেলার প্যান্ডেল নির্মাণ ও মাঠের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ প্রায় শেষের পথে।’ এবারই প্রথম মেলার জন্য আলাদা একটি রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলাকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের একটি সুন্দর মেলা উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ফকির লালন শাহের ঘরের রেজা ফকির বলেন, ‘লালন শাহের ঘর, পাঞ্জু শাহের ঘর, দেলবার শাহের ঘর, চৌধুরীর ঘর ও সতীমার ঘর এই পাঁচ ঘরের গুরুপাঠ আলাদা হলেও তাদের মতাদর্শ ছিল প্রায় একই। সেই অভিন্ন দর্শন, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের টানে পাঁচ ঘরের অনুসারীরা একত্রিত হয়ে সাধুসঙ্গে মিলিত হতেন।
ফকির লালন শাহ জীবিত থাকাকালে দোল পূর্ণিমার উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধুসঙ্গের যে ঐতিহ্য প্রচলিত ছিল, তা শুধু একটি উৎসব নয়; বরং গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক, আধ্যাত্মিক সাধনা, সম্প্রীতি ও ভাববিনিময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিকতা। আমরা সেই ঐতিহ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে আজও সাধুসঙ্গের আয়োজন করে আসছি।’
লালন অনুসারীদের ভাষ্য, লালন সাঁইজি জীবিত থাকাকালে দোল পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে সাধুসঙ্গের আয়োজন করতেন। সেই ঐতিহ্যে সাধুসঙ্গ ছিল শুধু গান বা আচার-অনুষ্ঠান নয়; বরং আত্মসাধনা, দর্শনচর্চা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্র।
লালনের গানে মানুষই ছিল মুখ্য। তার দর্শনে ‘মনের মানুষ’ আর ‘অচিন পাখি’ হয়ে উঠেছে মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তার রহস্য অনুসন্ধানের প্রতীক। ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ গানে দেহ ও অন্তরের সেই রহস্য তুলে ধরেছেন সাধক লালন। জাতপাত, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে দেখার আহ্বান ছিল তার গানে।
মানবপ্রেম, সাম্য ও আত্মসাধনার এই দর্শন আজও আকৃষ্ট করে সাধু-বাউল, গবেষক ও ভক্তদের। তাই ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ি কেবল স্মরণোৎসবের স্থান নয়; এটি মানুষকে নতুন করে চেনার, নিজের ভেতরে খোঁজার এবং মানবতার বাণী উপলব্ধির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র।
লালন অনুসারী মামুন সাধু বলেন, ‘জয় হোক দরবেশ সিরাজ সাঁইয়ের, জয় হোক ফকির লালন সাঁইয়ের! সাঁইজির তিরোধান দিবস উপলক্ষে আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর লালন মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মেলার প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।’
তিন দিনের স্মরণোৎসবে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগমের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাভিদ সারওয়ার বলেন, ‘মেলার নিরাপত্তার জন্য কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা তৈরি হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।’
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মেলা শুরুর আগ পর্যন্ত পুলিশের প্রস্তুতি জোরদার রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি মেলার মাঠ ও মাজার এলাকায় টহল দল দায়িত্ব পালন করছে।’
লালন শাহের মাজারের প্রধান খাদেম মোহাম্মদ আলী শাহ লালন সাঁইজির জীবন ও স্মৃতিবিজড়িত নানা ঘটনা তুলে ধরেন। তার বর্ণনায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে তৎকালীন কালীগঙ্গা নদীতে একটি ভেলায় অসুস্থ এক শিশুকে পাওয়ার ঘটনা লালন সাঁইজির জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ওই শিশুর বয়স নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ ঘটনার ঐতিহাসিক বিবরণে মতভেদ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য যাচাই প্রয়োজন।
‘ধর রে মন সাধুর সঙ্গ’-লালনের গানের এই বাণীকে ধারণ করেই যেন গড়ে ওঠে সাধু-বাউলদের মিলনমেলা। কালীগঙ্গা নদীর তীর ঘেষে ছেঁউড়িয়ার এই আয়োজন হয়ে ওঠে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনক্ষেত্র। ধর্ম-বর্ণ ও জাতপাতের বিভেদ ভুলে মানুষ মিলিত হন একই আঙিনায়।