মাদারীপুর সদরে রাজিব সরদার (২৬) নামে এক যুবক হত্যা মামলায় ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ১১ বছর পর মঙ্গলবার বিকেলে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আব্দুল হাই হাওলাদার, আব্দুল হক হাওলাদার, জহিরুল হাওলাদার, রাসেল হাওলাদার, রাজা হাওলাদার, কালু হাওলাদার, সোবহান হাওলাদার, তুষার শরীফ, ইউসুফ হাওলাদার, আজিজুল হাওলাদার, রহিম হাওলাদার, রেজাউল হাওলাদার, শামিম হাওলাদার, আহাদ হাওলাদার, দলিলউদ্দিন হাওলাদার, অলিলউদ্দিন হাওলাদার, জসিম হাওলাদার, মনির হাওলাদার, সুমন শরীফ, সাগর শরীফ, হাফিজুল কাজী, কালু কাজী ও আলাউদ্দিন কাজী।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, সেকেন হাওলাদার, উজ্জ্বল হাওলাদার, জামাল হাওলাদার, রুবেল হাওলাদার, নুরুল আমিন হাওলাদার, বাকিবিল্লা হাওলাদার।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর সকালে মামা আলী হাওলাদারের নার্সারিতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন রাজিব সরদার। তিনি পৌর শহরের হরিকুমারিয়া এলাকায় এলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাকে। পরে রাজিবকে উদ্ধার করে প্রথমে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে পথে তিনি মারা যান।
ঘটনাটির তিনদিন পর রাজিবের মামা আলী হাওলাদার বাদী হয়ে জামাল হাওলাদার, রহিম হাওলাদারসহ ৪৭ জনকে আসামি করে মাদারীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সদর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক রাজিব হোসেন তদন্তের পর ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর ৩৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
এরপর আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। দীর্ঘ ১১ বছর যুক্তিতর্ক শেষে উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ছয়জনকে যাবজ্জীবন এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক। মামলার বাকি সাত আসামির মধ্যে তিনজন বিচার চলাকালে মারা যান। বাকি চারজনকে রায়ে খালাস দেয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় ২২ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মাদারীপুর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সিদ্দিকুর রহমান সিং দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। মামার সঙ্গে বিরোধের জেরে তার ভাগ্নেকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। আজ দীর্ঘ ১১ বছর পর আদালত এই মামলার ২৩ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট।’
মামলার বাদী আলী হাওলাদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও রায় পেয়ে আমরা খুশি। তবে আরও বেশি খুশি হবো, যেদিন রায় কার্যকর হবে। আমার সঙ্গে বিরোধের জের ধরে আমার উঠতি বয়সী ভাগিনাকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, সেই রক্তের দাগ তখনই মুছবে যেদিন ওরা ফাঁসিতে ঝুলবে।’
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী বাবুল আখতার বলেন, ‘আমার মক্কেলের সঙ্গে ন্যায়বিচার করা হয়নি। যে কারণে আমরা সংক্ষুব্ধ হয়েছি। আগামীতে রায়ের কপি পেলে উচ্চ আদালতে আপিল করব। আশা রাখি সেখানে আমরা ন্যায়বিচার পাব।’
সাভারের আশুলিয়ায় ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে মো. আফজাল হোসেন নামে এক চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার ভোর রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে আশুলিয়ার মধ্য গাজীরচট এলাকার এবাদুল্লাহ মসজিদ-মাদ্রাসা সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়।
অভিযানে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, একটি ওয়ান শটারগান এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল এবং তার সহযোগীদের ফেলে যাওয়া ডাকাতির সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত ধারালো ছোরা ও কুড়াল সদৃশ অস্ত্র জব্দ করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আফজাল হোসেন স্থানীয় মধ্য গাজীরচট এলাকারই বাসিন্দা। ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম আজ দুপুরে এক বার্তায় জানান, আফজাল দীর্ঘকাল ধরে তার সহযোগীদের নিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফজাল নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মোট নয়টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য ও দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসব। স্থানীয় জনসাধারণ, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা আনন্দঘন পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনটির সূচনা হয় সকাল ৯টায় এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে। উপজেলার কেন্দ্রস্থল থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। রঙিন ব্যানার, বৈশাখী পোশাক এবং ঢাক-ঢোলের তালে শোভাযাত্রাটি তুলে ধরে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির রূপ।
এরপর গোমদন্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা—রশি টানাটানি ও হাড়ি ভাঙা প্রতিযোগিতা। পরে উপজেলা চত্বরে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা। এতে স্থানীয় শিল্পী, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
উৎসবকে আরও বর্ণিল করে তোলে বাংলা গ্রামীণ সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গের প্রদর্শনী—পটচিত্র, আলপনা এবং ঢাকের বাদ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এমপি এরশাদ উল্লাহ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করায় এবং সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে।” সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর আয়োজন করা হয় পান্তা উৎসব ও ব্যতিক্রমধর্মী পিঠা উৎসব। এতে স্থানীয় নারীরা বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও দেশীয় খাবার প্রস্তুত করেন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নিতে আসেন শত শত মানুষ। বর্ষবরণ উপলক্ষে পুরো উপজেলা চত্বরে বিরাজ করে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
রূপগঞ্জে একই এলাকায় ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
সর্বশেষ ঘটনায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটে নিয়েছে দুর্ধর্ষ ডাকাত দল।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোর প্রায় ৪টার দিকে উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের মধুখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হাসান মিয়া জানান, ভোররাতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল রামদা, চাপাতি ও ছুরিসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা তাকে, তার স্ত্রী তন্নী আক্তার ও মা খুরশিদা বেগমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে।
তিনি আরও জানান, ডাকাতরা ঘরের আলমারি ভেঙে প্রায় ৭ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দিয়ে বলে, বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললে প্রাণনাশ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকায় গত দুই দিন আগেও লতিফ মিয়ার ছেলে আলমগীরের বাড়িতে একই ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখানেও পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে মারধর করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করা হয়।
এছাড়া এর আগে একই গ্রামের শিহাবদের বাড়ি থেকে গবাদিপশু লুটের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একের পর এক এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পূর্বাচল ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন উর রশিদ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ডাকাতির ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উত্তরসূরী হিসেবে বর্তমান তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানের এই কৃষি ভাবনা আজকের নয়। বরং দীর্ঘ ৮-৯ বছর ধরে তিনি আমাদের কাছে তার পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করে আসছেন। তার এই পরিকল্পনাগুলো যে গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি তার বাবা শহীদ জিয়ার পথেই হাঁটছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশ রফতানিতে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। বিগত আওয়ামী শাসনামলে চাল আমদানি করতে হলেও তারেক রহমানের এই আধুনিক কৃষি উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ আবারও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপির এ নেতা।
বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করতে খুব শিগগিরই দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেকয়টি অঞ্চল আছে মানবপাচারের, সেখানে আমাদের টেকনাফ উখিয়া ও কক্সবাজারের নাম উঠে এসেছে। মাদক এখন একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা দেশের যুবসমাজকে মারাত্মকভাবে বিপথগামী করছে। এ কারণে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, এদেশে মাদক একটা বিশাল সমস্যা। আপনারা সবাই সামাজিক সহযোগিতা শুরু করেন। বাংলাদেশ যাতে মাদকমুক্ত হয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত 'কৃষক কার্ড' বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে একটি বাটন টিপলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে টেকনাফসহ সারা দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন প্রান্তিক কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেল আড়াই হাজার টাকা করে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে স্মার্ট 'কৃষক কার্ড' তুলে দেন। এর মাধ্যমে দেশে আধুনিক ও ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনার এক নতুন দিগন্ত সূচিত হলো। টেকনাফের ১ হাজার ৬ শত ৯৮ জন কৃষক আজ সরাসরি এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'কৃষক কার্ড' চালুর মধ্য দিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বর্তমান সরকার। এর আগে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড এবং খালখনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, এসব কার্ড চালু আমাদের জাতীয় জীবনের মহতী উদ্যোগ। এ দেশের কৃষককে মূল্যায়ন করার জন্য আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিল। খাল খনন কর্মসূচি, স্বনির্ভর বাংলাদেশ রূপান্তরের জন্য ও কৃষির সমৃদ্ধির জন্য তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তারপর আমরা খাদ্য রপ্তানিকারক হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছি বিশ্বের দরবারে।
জুয়া ও অনলাইন জুয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুয়া এবং অনলাইন জুয়া সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সেটা বন্ধ করার জন্য আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে সরকার ইতোমধ্যে গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে, যাতে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান বের করা যায়।
মানবপাচার রোধে তিনি আরও বলেন, মানবপাচার রোধের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগ থাকবে। আপনারা সহযোগিতা করুন। এ বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আপনারা ইনফরমেশন দিবেন, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিকভাবে আগাতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মো. মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান এবং পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্ণাঢ্য আয়োজন আর উৎসবমুখর পরিবেশে নীলফামারীতে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হওয়া বৈশাখী শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ডিসি গার্ডেনে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ঢাক-ঢোলের তালে, রঙিন মুখোশ ও ঐতিহ্যবাহী সাজে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শোভাযাত্রা শেষে ডিসি গার্ডেনের সামনে লোকজ মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। মেলায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পণ্য ও হস্তশিল্পের পসরা সাজানো হয়।
এছাড়াও পহেলা বৈশাখে নীলফামারী প্রেসক্লাবে ছিলো দিনভর নানা আয়োজন। বাঙ্গালি সংস্কৃতির নানা ঐতিহ্য তুলে ধরে সাজানো হয় প্রেসক্লাব চত্বর। পরে দই-চিড়া আর মিষ্টি মুখে অংশ নেন প্রেসক্লাবের সদস্য ও পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া কুইজ ও নারীদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম মঞ্জুরুল আলম সিয়ামের সভাপতিত্বে আগতদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান যুগ্ম সভাপতি হাসান রাব্বী প্রধান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিয়ার রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলম, এআর জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ রউফুল প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন। দুপুরের মধ্যাহ্ণ ভোজে পান্তা, পাটশাকের ভাজি, আলু ও মাছের ভর্তা ছাড়া ইলিশ দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় সকলকে। আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রেসক্লাব সদস্যদের স্ত্রী ও সন্তানদের দেয়া হয় উপহার।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আগামী দোসরা বৈশাখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩। তবে এবারের নববর্ষ উদযাপন থেকে বিরত থেকে শিক্ষক রুনা'র নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করবে সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, ১৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের আয়োজন থাকলেও, আমাদের বিভাগ এই আনন্দ আয়োজনে অংশগ্রহণ করবে না। কোনো আনন্দ শোভাযাত্রা বা র্যালিতে অংশ নেবে না। কারণ আমাদের জন্য এবারের পহেলা বৈশাখ আনন্দের নয়—এটি ন্যায়ের দাবির দিন, প্রতিবাদের দিন। আমাদের পহেলা বৈশাখ মানেই—ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, আমাদের ম্যামকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, ৪১ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।
এ কর্মসূচিতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সকল দোষীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, নির্মাণাধীন হল ম্যামের নামে নামকরণ করা ও
বিভাগে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া এই চারটি দাবি করবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সকালে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।
পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে পথে বের হওয়া মানুষগুলো, ফিরলেন লাশ হয়ে।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাক উল্টে সাত শ্রমিক নিহত ও ছয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জীবিকার সন্ধানে আসা এসব মানুষ খরচ বাঁচাতে পণ্যবাহী ট্রাকে উঠেছিলেন, আর সেই সিদ্ধান্তই হয়ে দাঁড়ায় তাদের জীবনের শেষ যাত্রা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের নিচে পড়ে গেলে ট্রাকের ওপর থাকা ১৩ জন নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন এবং আহত হন আরও ছয়জন।
দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা হাইওয়ে ক্রসিং থানার লাশঘরে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় নিহতদের মরদেহ। সেখানে এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। নিহত সুমনের ভাই সামিউল ইসলাম বেগুনি রঙের একটি টি-শার্ট হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই জামাটা আমি কিনে দিয়েছি। সুমন আর কোনোদিন এটা পরবে না। প্রতিবছর জীবিকার জন্য সে আমার কাছে কুমিল্লায় আসত, এবার এসে জীবনটাই হারালো।
জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার ভাইগড় গ্রাম থেকে সুমনসহ ১৩ জন শ্রমিক সোমবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা ফেনী ও কুমিল্লা অঞ্চলে ধান কাটার কাজের জন্য আসছিলেন। বাসভাড়া বেশি হওয়ায় তারা চালবোঝাই ট্রাকে উঠে পড়েন।
একই ঘটনায় নিহত সোহরাব হোসেনের স্বজনরা জানান, সংসারের অভাব ঘোচাতে এবারই প্রথমবারের মতো শ্রমিকের কাজ করতে বের হয়েছিলেন তিনি। স্ত্রী চম্পা আক্তার তাকে যেতে নিষেধ করলেও দুই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি সেই সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—তিনি আর জীবিত ফিরে যেতে পারলেন না।
নিহতের স্বজন জসিম উদ্দিন বলেন, “ওই এলাকায় এখন কাজকর্ম নেই। তাই ধান কাটার মৌসুমে কাজের আশায় কুমিল্লায় আসছিল। কিন্তু পথেই তার জীবন শেষ হয়ে গেল।”
নিরাপদ সড়ক চাই, দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, “দিনাজপুর থেকে কুমিল্লা আসতে বাসে জনপ্রতি প্রায় দেড় হাজার টাকা লাগে। খরচ বাঁচাতে তারা কয়েকশ টাকায় ট্রাকে ওঠেন। অভাবই তাদের এই ঝুঁকি নিতে বাধ্য করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকত, তাহলে হয়তো এত বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।
আহতদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মুন্সিগঞ্জের মেঘনা টোলপ্লাজা পার হওয়ার পর চালকের আসনে হেল্পার বসেন। সেখান থেকে আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার যাওয়ার পরই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, সড়কের অবস্থা ভালো ছিল। সেক্ষেত্রে চালকের দক্ষতা, ক্লান্তি বা লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
জীবিকার সন্ধানে বের হওয়া এই শ্রমিকদের মৃত্যু আবারও সড়ক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। খরচ বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারানোর এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আর কত প্রাণ ঝরতে হবে?
নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর বর্ষবরণের আয়োজন। বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপনায় পুরো উপজেলা যেন রঙিন হয়ে ওঠে।
মঙ্গলবার (পহেলা বৈশাখ) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মানুষ উপজেলা চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। নানা বয়সী মানুষ, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও অংশ নেন এ আনন্দ আয়োজনে। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত নারীরা, পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত পুরুষরা আর শিশুদের রঙিন সাজে চারপাশে তৈরি হয় এক বর্ণিল পরিবেশ।
দিনের শুরুতেই বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয় উপজেলা চত্বর থেকে। শোভাযাত্রায় ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন প্রতীক শোভাযাত্রাটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও নববর্ষের তাৎপর্য। বিশেষ করে “এসো হে বৈশাখ” গানের সঙ্গে সমবেত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত করে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন বছরকে সামনে রেখে সবাইকে মাদক, দুর্নীতি ও সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানানো হয়।
উৎসব উপলক্ষে উপজেলা চত্বরে বসে বৈশাখী মেলা। সেখানে ছিল হস্তশিল্প, মাটির তৈরি পণ্যের দোকানসহ নানা আয়োজন। শিশুদের জন্য ছিল বিনোদনমূলক ব্যবস্থা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে যায়।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সব মিলিয়ে বোরহানউদ্দিনে এবারের বর্ষবরণ ছিল আনন্দঘন, বর্ণিল ও শান্তিপূর্ণ। নতুন বছরের শুরুতে এমন প্রাণবন্ত আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।
কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি গাড়িযোগে বন্দরে পৌঁছান। একই দিনে টেকনাফে আয়োজিত কৃষি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার কথাও রয়েছে তাঁর।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সকালে সেখানে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। এরপর তিনি জেটি ঘাট এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি বন্দরের বিভিন্ন গুদাম, প্রশাসনিক ভবন ও অবকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে নাফ নদীর জলসীমাও তিনি পরিদর্শন করেন, যা বন্দরের কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
স্থলবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেড টেকনাফের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থবির রয়েছে এই বিষয়টিও তাকে জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশরসহ প্রশাসন ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মন্ত্রীর এই সফরের ফলে টেকনাফ স্থলবন্দরের চলমান সমস্যাগুলো সমাধান এবং কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সঙ্গে উৎসবের আবহে মুখর হয়ে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দিনের শুরুতেই বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল ঘিরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে। রঙিন আয়োজন ও আনন্দঘন পরিবেশে চলছে নববর্ষের নানা কর্মসূচি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। এতে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।
সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ডিসি হিলে গিয়ে শেষ হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অন্যদিকে ডিসি হিল, সিআরবি শিরিষতলা এবং শহীদ মিনার এলাকায় সকাল থেকেই মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। লাল-সাদা পোশাকে সেজে পরিবার-পরিজন নিয়ে নগরবাসী উৎসবে অংশ নেন।
শোভাযাত্রা শেষে ডিসি হিল ও আশপাশ এলাকায় দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সিআরবি শিরিষতলাতেও গান, নাচ ও লোকজ পরিবেশনা চলবে।
কাজীর দেউড়ি থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কজুড়ে আঁকা বৈশাখী আলপনা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। রঙিন এই সাজসজ্জা উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
পরিবার নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সংস্কৃতিকর্মী সাদিকুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারি ও রমজানের জন্য কয়েকবছর পয়লা বৈশাখে বিভিন্ন আয়োজনে ভাটা ছিল। তাই এই বছর বর্ষবরণ নিয়ে সবার আগ্রহ বেশি। পরিবার নিয়ে শোভাযাত্রায় এসে ভালো লাগছে।
বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ডিসি হিল ও সিআরবি এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে নগরবাসী যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে আনন্দ উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে ঘুমন্ত ছেলেসহ ৩ জনকে কুপিয়ে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নাছির আহমদ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।
নাসির অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাসপুর গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে। সপরিবারে তিনি প্রায় ৭ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকেন।
আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নাছির ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। গেল বছর আগস্টে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। তার বড় ছেলে প্রতিবন্ধী। বড় ছেলেকে নিয়ে নাছিরের স্ত্রী বেড়াতে যান। গত রাতে তার ছেলে কলেজছাত্র ইমরান ও তার বাবা বাসায় ছিলেন। এরমধ্যে নাছির অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতে ছেলে তাকে ওষুধ এনে খাওয়ায়। এরপর সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় ইমরানকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায় নাছির। একপর্যায়ে ইমরান রক্তাক্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের হয়ে আসলে প্রতিবেশী স্বপন তাকে লুঙ্গি পরিয়ে দিতে যায়। এ সময় নাছির দা দিয়ে স্বপনকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে নাছির নামে আরেকজন তাদেরকে বাঁচাতে যান। কনস্টেবল নাছির তাকেও কুপিয়ে আহত করেন। পরে অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল ৩ তলা ভবন থেকে লাফিয়ে আহত হন। পরে তাকেসহ আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল নাছির মারা যান।
আহত স্বপন বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়ির মৃত গোলাম রহমানের ছেলে এবং অপর আহত নাছির ওই একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তার বাবার নাম আব্দুল মান্নান।
আহত স্বপন ও ইমরানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর আহত নাছিরকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল বলেন, ‘আহত অবস্থায় ৪ জনকে হাসপাতাল আনা হয়। এরমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল নাছির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত অন্যদের মধ্যে ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আবুল খায়ের রোলিং মিলসে একটি পরিকল্পিত ডাকাতির প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের অসীম সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের ফলে ডাকাতরা কোনো ক্ষতিই করতে পারেনি। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সুসংগঠিত ডাকাত দল কারখানাটিতে অনুপ্রবেশ করে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশে বৈদ্যুতিক ক্যাবল কাটতে শুরু করে। এ সময় কারখানায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা তাদের বাধা দেয় এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ডাকাত দলের অতর্কিত হামলা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিহত করে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষার্থে আনসার সদস্যরা প্রথমে ০১ রাউন্ড রাবার কার্তুজ নিক্ষেপ করেন। তবে ডাকাত দল পিছু না হটে আরও সহিংস হয়ে উঠলে আত্মরক্ষার্থে সদস্যরা ০৩ রাউন্ড সিসা কার্তুজ নিক্ষেপ করতে বাধ্য হন। আনসার সদস্যদের এই অনমনীয় ও সাহসী প্রতিরোধের মুখে ডাকাতরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আনসার সদস্যরা ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে ০৩ জন ডাকাতকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। আটককৃতদের কাছ থেকে আনুমানিক ৩২০ কেজি বৈদ্যুতিক ক্যাবল, রামদা এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- সীতাকুণ্ড থানার শীতলপুর গ্রামের সিরাজের ছেলে জাবেদ (২৭)।একই থানার ফুলতলা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে শরিফুর রহমান(২৮) এবং নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ এলাকার শাহজাহানের ছেলে মো. রাসেল (২৯)।
ঘটনার পরপরই উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করেন। পরবর্তীতে আটক ডাকাতদের উদ্ধার মালামালসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেন, আনসার সদস্যদের এই তাৎক্ষণিক, সুসংগঠিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে কারখানাটি একটি বড় ধরনের নাশকতা এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে; পাশাপাশি অভিযানে বাহিনীর কোনো সদস্যের ক্ষয়ক্ষতি না হওয়াও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।
দেশের শিল্প-কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীটির এমন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে, বাহিনীর এই অনুকরণীয় সাফল্য দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করা হচ্ছে।