বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২

সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

কেন্দুয়ায় জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের নোয়াদিয়া দরগাবাড়ি গ্রামের পাশের হাওরে ঘটনা ঘটে।

নিহত কৃষক মনির হোসেন দরগাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। কেন্দুয়া থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী বলেন, বুধবার বিকেলে মনির হোসেন জমিতে সেচ দেয়ার জন্য মোটর চালাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হন। পরে স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।ময়নাতদন্ত ছাড়ই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


ট্যাংক ফেটে কৃষিজমিতে ডিজেল, ক্ষতির আশঙ্কা

ট্যাংক ফেটে কৃষিজমিতে ডিজেল, ক্ষতির আশঙ্কা
সীতাকুণ্ডে জ্বালানির ট্যাংক ফেটে প্রায় তিন হাজার লিটার ডিজেল ছড়িয়ে পড়ে ফসলি জমিতে। ছবি: দৈনিক বাংলা
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি কারখানার জেনারেটরের জ্বালানির ট্যাংক ফেটে প্রায় তিন হাজার লিটার ডিজেল ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ওই জমিতে থাকা ধানের বীজতলা ও ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

গতকাল বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার টেরিয়াল বাজার এলাকায় সিপি বাংলাদেশ লিমিটেড নামের ওই কারখানার (চট্টগ্রাম হ্যাচারি) একটি জ্বালানি ট্যাংক ফেটে যায়। ওই দিন রাতেই বিষয়টি জানাজানি হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওই কারখানায় জেনারেটরের জ্বালানির একটি ট্যাংক ফেটে কৃষিজমিতে ডিজেল ছড়িয়ে পড়েছে।’

আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ওই ডিজেলের নমুনা সংগ্রহ করেছি। ছড়িয়ে পড়া ডিজেলের কিছু কিছু কারখানা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা সংগ্রহ করেছেন। তবু আমরা তাদের শুনানির জন্য ডেকেছি।’

তেল ছড়িয়ে পড়া জমির একাংশে বর্গা চাষ করেন স্থানীয় কৃষক দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘ওই জমিতে আমরা বীজতলা তৈরি করেছি। আমাদের জালা (ধানের চারা) নষ্ট হয়ে গেছে। চারাগুলো রোপণের জন্য পাশে ১০ শতকের মতো জমি তৈরি করেছি, ওই জমিতেও তেল গেছে। এখন আর চারা রোপণের উপযোগী নেই জমি। এ ছাড়া শিমের খেত ছিল, সেটিও নষ্ট হয়ে গেছে।’

দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘আমিসহ আরও চার থেকে পাঁচজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই আমরা ক্ষতিপূরণ দাবির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বারৈয়ারঢালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন বলেন, ‘আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে বৃহস্পতিবার অফিসে যাওয়ার সময় বেশ কিছু মানুষকে ওই জমি থেকে তেল সংগ্রহ করতে দেখেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে তেল ছড়িয়ে পড়া জমির পরিমাণ অন্তত এক একর হবে।’

এদিকে, কৃষিজমিতে ডিজেল ছড়িয়ে পড়লেও এ কারণে খুব বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন না সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিব উল্লাহ। তিনি বলেন, কৃষিজমিতে ডিজেল গেলে দুটো ঘটনা ঘটতে পারে। একটা হলো- এর ফলে মাটিতে থাকা পোকামাকড় চলে যাবে। আর দ্বিতীয়টি হলো- গাছের ক্ষতি হতে পারে। তবে সেটা পর্যবেক্ষণের পর বলা যাবে। কারণ, জমির পরিমাণ এক একর হলে প্রভাব খুব বেশি হওয়ার কথা না। যদি এমন হতো যে এক শতাংশ জমিতে তেলগুলো পড়েছে, তাহলে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি ছিল।

ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়া তেল নিষ্কাশনের উপায় নিয়েও কথা বলেছেন এই কৃষি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘ওই জমিতে যদি পানি কমও থাকে, পরে পানি দিলে ডিজেল ভেসে উঠবে। সেগুলো সংগ্রহ করে ফের ব্যবহার করা যাবে। এদিকে জেনারেটরের জন্য মজুত করা ৩ হাজার লিটার তেল কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ার কথা স্বীকার করেছেন সিপি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক গাজী বিল্লাল হোসেন।’

গাজী বিল্লাল বলেন, ‘ট্যাংক ফাটেনি, পাইপলাইনের লিকেজের কারণেই এটা হয়েছে। আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর আমরা ডিজেল সংগ্রহ করে নিয়েছি। আমরা ওই জমিতে চাষ করা কৃষকদের সঙ্গে আলোচনাও করেছি। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে অফিশিয়ালি বিষয়টি ডিল করব। ক্ষতিপূরণ চাইলে দেয়া হবে।’


বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ: মুন্সীগঞ্জে আহত যুবদল কর্মী শাওনের মৃত্যু

বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ: মুন্সীগঞ্জে আহত যুবদল কর্মী শাওনের মৃত্যু
ঢামেক হাসপাতালে মারা যান যুবদল কর্মী শাওন। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর পুরোনো ফেরিঘাটে পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত যুবদল কর্মী শহীদুল ইসলাম শাওন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল বুধবার মুক্তারপুরে পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে শাওন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে এবং জাহাঙ্গীর মাদবর ও তারেক হোসেন নামে আরও দুজনকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকি দুজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিএনপির দাবি, পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন শাওন। মুন্সীগঞ্জ জেলার মীর কাদিম পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেন। তার এক বছরের একটি শিশু রয়েছে।

বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, শাওনের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কান্নায় ভেঙে পড়েন দলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ও জেলার সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, ড্যাব সদস্য ডা. পারভেজ রেজা কাঁকনসহ অন্যরা।

এ সময়ে যুবদল সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, হত্যা, গুলি আর নির্যাতন করে কোনো স্বৈরাচারী সরকারই টিকে থাকতে পারেনি। এই সরকারও পারবে না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সরকারের পতন ঘটবে। সেদিন এই জুলুমের বিচার হবে। প্রতিটি ফোটা রক্তের হিসেব কড়ায় গণ্ডায় নেওয়া হবে। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে শাওনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়েই সরকার পতনের আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে।

দৈনিক বাংলার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির দেড় হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে আসামি করে থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ২৪ জনকে। বৃহস্পতিবার রাতে সদর থানায় ওই দুটি মামলা হয়।

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অর্থ) সুমন দেব জানান, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র লুটের চেষ্টা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় সদর থানায় এসআই মাঈনউদ্দিন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান রতনকে প্রধান করে বিএনপির ৩১৩ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১ হাজার ২০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, অন্য মামলাটি করেন মুক্তারপুর এলাকার বাসিন্দা শ্রমিক লীগ কর্মী আব্দুল মালেক। দোকানপাট ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের অভিযোগের এই মামলায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের ছোট ভাই ও সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় ৫২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ২০০ জনকে।

সংঘর্ষের ঘটনায় বুধবার রাতেই মুক্তারপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ২৪ জনকে আটক করে। তাদের পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের ওপর বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।

সংঘর্ষের জেরে বিএনপি নেতার ফ্যাক্টরিসহ ৫ ঘরে আগুন

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়ন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হাইয়ের ভাগনে বিএনপি নেতা মো. নিজামুদ্দিনের সুতার ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই অগ্নিকাণ্ডে ফ্যাক্টরির পাশে থাকা অন্তত আরও পাঁচটি ঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতার অভিযোগ, বুধবার বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনার জেরে পঞ্চসার ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফার লোকজন এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মুক্তারপুর ফেরিঘাট এলাকায় বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। স্থানীয় মানুষজন যে যার বাড়িতে রাতে ঘুমিয়ে ছিল। রাত দেড়টার দিকে আগুনে পোড়া গন্ধে ঘুম ভাঙে। তখন বিএনপি নেতা নিজামের সুতা তৈরির ফ্যাক্টরিতে আগুন জ্বলছিল। সে আগুন মুহূর্তে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি। ভোর ৪টার পর্যন্ত আগুন জ্বলে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন উপস্থিত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিএনপি নেতা মোহাম্মদ নিজাম অভিযোগ করে বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরেই রাতে পঞ্চসার ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফার লোকজন আমার ফ্যাক্টরিতে ঢোকে। তাদের সঙ্গে পুলিশের পোশাক পরা তিনজন ছিল। এ সময় ওই লোকগুলো আমার ফ্যাক্টরিতে সুতা তৈরির কাঁচামাল কেনার ২০ লাখ টাকা লুটপাট করে। সেই সঙ্গে ফ্যাক্টরির দামি মোটর ও মালামাল নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় ফ্যাক্টরিতে তারা আগুন দিয়ে অন্তত পক্ষে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে।’

নিজাম আরও বলেন, মুক্তারপুর এলাকার প্রতিটি ঘরে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষও এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

ঘটনায় ভুক্তভোগী রমজান মিয়া বলেন, বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হলো। আমরা আমাদের বাড়িতে ছিলাম। বিএনপি নেতার ফ্যাক্টরিতে আগুন দিল। সে আগুনে আমাদের বাড়িঘর সব পুড়ে শেষ হলো। আমাদের এখন খাবার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই। যারা আগুন দিল আমরা তাদের বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চসার ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা চিন্তিত। আগুন দেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমাদের পুলিশ প্রশাসন সব ধরনের ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে নিষেধ করেছেন। আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থানে আছি। আজকে জেলা পার্টি অফিসে আমাদের একটি সভা রয়েছে। সেখান থেকে আমাদের পরবর্তী করণীয় আলোচনা করা হবে।’


কালীগঞ্জের উপজেলা আ.লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান, সম্পাদক মিজু

কালীগঞ্জের উপজেলা আ.লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান, সম্পাদক মিজু
সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও মিজানুর রহমান মিজু
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ সভাপতি ও মিজানুর রহমান মিজু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কালীগঞ্জ কেইউপি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে আলোচনা সভা শেষে রাত ৮টার দিকে শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। এই অধিবেশনে কাউন্সিলরদের নিয়ে ভোটগ্রহণ হয়। পরে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি পদে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু নির্বাচিত হন।

সম্মেলনে উদ্বোধক ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শফিক, দলের কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া ও অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান। সম্মেলনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নতুন আইজিপি মামুন, র‌্যাবের দায়িত্বে খুরশীদ

নতুন আইজিপি মামুন, র‌্যাবের দায়িত্বে খুরশীদ
দুই পুলিশ কর্মকর্তা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও এম খুরশীদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ানের (র‌্যাব) দায়িত্বে থাকা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি সদ্য অবসরে যাওয়া আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

এদিকে, র‌্যাব মহাপরিচালক পদে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ অধিদপ্তরে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক এম খুরশীদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস প্রজ্ঞাপনে সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এর আগে, একই শাখা থেকে জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় আইজিপি বেনজীর আহমেদকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে অবসরে পাঠাচ্ছে সরকার। তাকে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ‘ল্যাম্প গ্রান্ট’সহ আগামী ১ অক্টোবরের থেকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরের অবসর ও অবসরোত্তর ছুটিও দেয়া হয়েছে।

নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পেতে যাওয়া অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বর্তমানে র‌্যাব মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। র‌্যাবের প্রধান হওয়ার আগে তিনি সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের শ্রীহেলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি ১৯৮২ সালে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৯৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট (এএসপি) হিসেবে যোগ দেন। ২০১৯ সালের মে মাসে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন।

এদিকে, র‌্যাব মহাপরিচালক পদে নতুন নিয়োগ পাওয়া এম খুরশীদ হোসেন ১২তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খুরশীদ হোসেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জন্মগ্রহণ করেন।


অবসরে যাচ্ছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর

অবসরে যাচ্ছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর
পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে অবসরে পাঠাচ্ছে সরকার। বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে এই অবসর দেওয়া হচ্ছে।

তাকে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ‘ল্যাম্প গ্রান্ট’সহ আগামী ১ অক্টোবরের থেকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এক বছরের অবসর ও অবসরোত্তর ছুটিও দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নং আইন) এর ধারা ৪৩(১) (ক) অনুযায়ী এই অবসর দেয়া হয়েছে।