রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২

চক্রাকার বাসেও ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য

চক্রাকার বাসেও ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য
২০১৬ সালে হাতিরঝিলে যাত্রী পরিবহনে ১০টি মিনিবাস চালু হয়। বর্তমানে সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই রুটে ২০টি বাস চলছে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

রাজধানীতে বাসভাড়া নিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে প্রতারণা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে পরিবহনগুলো। এর বাইরে নয় সরকারি সংস্থা রাজউক পরিচালিত হাতিরঝিলের চক্রাকার বাসও।

হাতিরঝিলে যে চক্রাকার বাস চলে, তাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্ধারিত ভাড়ার আড়াই গুণের বেশিও আদায় করা হয়।

রাজউক সরাসরি এই বাস পরিচালনা করে না। অর্থের বিনিময়ে বাসগুলো ইজারা নিয়েছে এইচআর ট্রান্সপোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। আর ইজারাদার কোম্পানিটি যাত্রীদের স্বার্থ না দেখে, নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

বেশি ভাড়া আদায়ের কারণ জানতে চাইলে রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, এ বাস যাত্রী পরিবহনের সাধারণ বাহন নয়, এটি পর্যটন সংশ্লিষ্ট। ফলে বেশি ভাড়া আদায় করা যায়।

অথচ এই বাসে ঢাকার লোকাল বাসের মতোই দাঁড়িয়ে যাত্রী বহন করা হয়। আর পর্যটন নয়, হাতিরঝিলের এক পাশ থেকে অপর পাশে যাতায়াতের জন্যই বাসটি ব্যবহার করে যাত্রীরা।

২০১৬ সালে হাতিরঝিলে যাত্রী পরিবহনে ১০টি মিনিবাস চালু হয়। বর্তমানে সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই রুটে ২০টি বাস চলছে।

গত নভেম্বর ও চলতি আগস্টে তেলের দাম দুই দফা বাড়ানোর পর বাসের ভাড়াও দুই দফা বাড়ানো হয়। অথচ দুই দফায় বাড়ানোর পর যে বাসভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, তার চেয়েও বেশি ভাড়া আগে থেকেই আদায় করা হচ্ছে এসব বাসে।

গত শুক্রবার লিটারে ৩৪ টাকা করে ডিজেলের দাম বাড়ানোর পরদিন বিআরটিএ রাজধানীতে প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া আড়াই টাকা নির্ধারণ করে জানায়, সর্বনিম্ন ভাড়া হবে ১০ টাকা। অর্থাৎ চার কিলোমিটার যাওয়া যাবে এই ভাড়ায়। এরপর প্রতি কিলোমিটার হিসেবে যোগ হবে আরও আড়াই টাকা করে। কিন্তু হাতিরঝিলে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কিলোমিটার প্রতি ৬ টাকারও বেশি হারে।

এফডিসি কাউন্টার থেকে রামপুরা পর্যন্ত ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরত্বে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২৫ টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া পড়ছে ৫ টাকা ৯৫ পয়সা। এর আগে, একই দূরত্বে আদায় করা হতো ২০ টাকা। তখন কিলোমিটারে পড়তো ৪ টাকা ৭৬ পয়সা।

অথচ বিআরটিএর নতুন বেঁধে দেওয়া হিসেবে ভাড়া আসে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ১০ টাকায় বাসে ওঠার কোনো সুযোগ নেই। প্রথম যখন বাস চালু করা হয়, সে সময়ই এই পথের ভাড়া ঠিক করা হয় ১৫ টাকা আর সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ১০ টাকা। এরপর নভেম্বরে সর্বনিম্ন ভাড়া ঠিক করা হয় ১৫ টাকা। এবার ঠিক করা হয়েছে ২০ টাকা।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) বাসস্টপ থেকে পুলিশ প্লাজা পর্যন্ত ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার আর পুলিশ প্লাজা থেকে রামপুরা পর্যন্ত আরও ১ দশমিক ১ কিলোমিটারের জন্যও এই ভাড়া ঠিক করা হয়েছে। বিআরটিএ সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা ঠিক করে না দিলে প্রথম গন্তব্যে সর্বোচ্চ ভাড়া হওয়া উচিত ছিল ৭ টাকা ৭৫ পয়সা এবং দ্বিতীয় গন্তব্যে হওয়া উচিত ছিল ২ টাকা ৭৫ পয়সা।

কিন্তু এখন এফডিসি থেকে পুলিশ প্লাজা পর্যন্ত ভাড়া পড়ছে ৬ টাকা ৪৫ পয়সা হারে, আর পুলিশ প্লাজা থেকে রামপুরা পর্যন্ত ১৮ টাকা ১৮ পয়সা হারে।

রামপুরা থেকে মধুবাগ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটারের জন্যও আদায় করা হচ্ছে ২০ টাকা, যা আগে ছিল ১৫ টাকা। আগে ভাড়ার হার ছিল ৪ টাকা ১৬ পয়সা, এখন হয়েছে ৫ টাকা ৫৫ পয়সা।

শুরু থেকেই হাতিরঝিলের চক্রাকার পুরো পথ যাওয়ার সুযোগ ছিল। একেবারে শুরুতে ঠিক করা হয় ৩০ টাকায় যাওয়া যাবে ৭ দশমিক ৪ কিলোমিটারের এই পথ। দুইবার ৫ টাকা করে বাড়িয়ে এখন তা করা হয়েছে ৪০ টাকা। এতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া পড়ছে ৫ টাকা ৪০ পয়সা হারে।

গত মঙ্গলবার থেকে বাড়তি এই ভাড়া কার্যকর করা হয়েছে। কাউন্টারের সামনে একটি তালিকা টানানো হয়েছে ভাড়া বাড়ানোর। নিচে লেখা আছে ‘কর্তৃপক্ষ’। তবে এই কর্তৃত্ব কারা তা জানা যায়নি। কারণ তাতে কোনো কর্মকর্তার স্বাক্ষর নেই।

এফডিসি বাস স্টপেজের টিকিট বিক্রেতা মাসুদ করিমকে ১৫ টাকা দিয়ে পুলিশ প্লাজার টিকিট দিতে বলা হলে তিনি বলেন, ১৫ টাকার কোনো টিকিট নেই, ২০ টাকা। এরপর তিনি ভাড়া বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি দেখতে বলেন। বিজ্ঞপ্তিতে কারও স্বাক্ষর না থাকার বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, এইটাই। গেলে ২০ টাকা দেন।

এদিকে, বাড়তি ভাড়া নেওয়া হলেও টিকিট দেওয়া হচ্ছে আগের মূল্যহারের। সেই টিকিটে নতুন একটা সিল দেওয়া হয়েছে কেবল। এ নিয়ে টিকিট বিক্রেতার মন্তব্য দায়সারা ধরনের।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর গত নভেম্বরে নতুন করে বাস ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। তখন বাড়তি ভাড়া আদায় ঠেকাতে বিআরটিএ রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযান চালায়। তবে সেখানে বাদ পড়ে হাতিরঝিলের চক্রাবাস বাস।

‘যখন সরকারের বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে ভাড়ার নৈরাজ্য হয়, তখন নগরীর অন্য বাসগুলো আরও সুযোগ নিতে চায়।’ - মোজাম্মেল হক চৌধুরী, মহাসচিব, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি 

এবার যখন বাড়তির ওপর আরও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, তখনও বিআরটিএ এই পথের বিষয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। গতবার বাসভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যের বিষয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের ফোন দিলে তারা কথা বলতেন। এবার কেউ ফোনই রিসিভ করছেন না।

নির্ধারিত হারের দ্বিগুণের বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে লাইন সুপারভাইজার শওকত হোসেন বলেন, বাইরের ভাড়ার সঙ্গে এখানের ভাড়া কমপেয়ার (তুলনা) করলে হবে না। এই গাড়িগুলো সম্পূর্ণ আলাদা। এটা হাতিরঝিল প্রজেক্টের গাড়ি। এটা টুরিস্ট বাস হিসেবে চলে।

বাইরের বাসের সঙ্গে এই বাস সার্ভিসের পার্থক্য জানতে চাইলে শওকত হোসেন বলেন, হাতিরঝিলে টুরিস্ট বাস হিসেবে বরাদ্দ। বাসে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে প্রজেক্ট এভাবেই চুক্তিবদ্ধ।

ভাড়ার চার্টে বিআরটিএ বা রাজউকের স্বাক্ষর না থাকার বিষয়ে এই লাইন সুপারভাইজার বলেন, ‘আপনার তো অপশন আছে। আপনি রাজউকের কাছে যান।’

এইচআর ট্রান্সপোর্টের ফিল্ড অফিসার মাসুদ করিমও একই কথা বলেন। তিনি জানান, রাজউকের স্বাক্ষর করা চার্ট অফিসে আছে।

তবে রাজউকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। ফলে তারা কোনো নতুন চার্ট তৈরি করে দেননি।

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (প্রজেক্ট অ্যান্ড ডিজাইন) এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস বলেন, তারা বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে রাজউকের কাছে আবেদন করেছেন। কিন্তু রাজউক তা এখনো অনুমোদন দেয়নি।

রাজউকের অনুমোদন ছাড়া কি বাড়তি ভাড়া নিতে পারে?- এমন প্রশ্ন করা হলে রায়হানুল ফেরদৌস বলেন, ‘রাজউক অনুমোদন দেবে নাকি দেবে না, সে জন্য তো তেলের দামবৃদ্ধি বসে থাকে না। আমরা সই দিয়ে দেবো।’

সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার দুই গুণের বেশি ভাড়া নিচ্ছে তারা। আপনাদের হিসাব কীভাবে হয়?- এমন প্রশ্নে রায়হানুল ফেরদৌস বলেন, এখানে কিলোমিটার ধরে ভাড়া নিচ্ছে না তো। এখানে সে হিসাব চলে না।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘যখন সরকারের বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে ভাড়ার নৈরাজ্য হয়, তখন নগরীর অন্য বাসগুলো আরও সুযোগ নিতে চায়। আমি মনে করি, রাজউকের এখানে দায়বদ্ধতা আছে। পাশাপাশি বিআরটিএ ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনেরও দায়বদ্ধতা আছে।’


বাড়ির কাছের সড়ক থেকে ইউপি সদস্যের লাশ উদ্ধার

বাড়ির কাছের সড়ক থেকে ইউপি সদস্যের লাশ উদ্ধার
নিহত আবুল কাশেম ওরফে বজলুর রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে এক ইউপি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম আবুল কাশেম ওরফে বজলুর রহমান (৫৫)। আজ রোববার সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের পুখিয়া এলাকার সড়ক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বুরুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেল বলেন, ‘আবুল কাশেমের বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ গজ দূরে মরদেহটি পাওয়া যায়। তার বাড়ি মিরদী গ্রামে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।’

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার জাহান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।’


উৎসবের মণ্ডপে শোকের ব্যানার

উৎসবের মণ্ডপে শোকের ব্যানার
শোকের ব্যানার ঝুলছে বোদার পূজা মণ্ডপে। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • পঞ্চগড় ট্র্যাজেডি

মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত আনন্দ-উদ্দীপনা থাকার কথা পঞ্চগড়ের বোদার ঘরে ঘরে। ষষ্ঠীর দিন থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে উলুধ্বনি, শঙ্খ ও ঢোল বাজিয়ে চলার কথা পূজা-অর্চনা। শারদীয় দুর্গোৎসবের উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার কথা এলাকাবাসীর। কিন্তু মহালয়া পেরিয়ে মহাষষ্ঠীর আচার পালিত হলেও দুর্গাপূজার আবহে নেই আনন্দের ছটা। ধর্মীয় রীতি মেনে চলা হলেও পঞ্চগড়ের করতোয়া পাড়ের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব আনন্দ যেন বিসর্জন হয়েছে করতোয়ার জলে। মাতম চলছে বাড়ি বাড়ি। উৎসবের মণ্ডপে ঝোলানো হয়েছে শোকের ব্যানার।

গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন মাড়েয়া বাজার সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে গিয়ে দেখা যায় দুর্গাপূজা ঘিরে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। রয়েছে দৃষ্টিনন্দন গেটও। তবে শোকের ব্যানার ঝুলছে সেই গেটের মাঝ বরাবর।

আয়োজকরা বলছেন, নৌকাডুবিতে ৬৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় তারা শোকাহত। এমন শোক ব্যানার ইউনিয়নের ১৪টি মণ্ডপেই ঝোলানো হয়েছে।

পঞ্চগড় জেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপেন চন্দ্র রায় বলেন, ‘বোদার এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা শোকাহত। এত প্রাণহানির মধ্যে কি আর উৎসব হয়? আমাদের সব আনন্দ-অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়েছে।’

গত ২৫ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় করতোয়া নদীতে দেড় শতাধিক যাত্রীসহ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত এক ধর্মসভায় যোগ দিতেই ওই নৌকায় চড়েছিলেন সবাই। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় মাঝনদীতে নৌকাটি ডুবে গেলে এখন পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মাড়েয়া বাজার সর্বজনীন দুর্গামন্দিরের সভাপতি মহনী বাবু বলেন, ‘নৌকাডুবির ঘটনাটি আমাদের ইউনিয়নের। তা ছাড়া মৃতদের অধিকাংশের বাড়িও এই ইউনিয়নে। ভয়াবহ এই ঘটনায় যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের শোকে আমরা শোকাহত।’

একই ইউনিয়নের বটতলি এলাকার গোবিন্দ্রচন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘দেবী মায়ের কী ইচ্ছে জানি না, তার ভাসানের আগেই ৬৮ জন ভক্তের ভাসান হয়ে গেল। এবার দুর্গাপূজা কীভাবে করব আমরা ভেবে পাচ্ছি না। নির্মম হলেও নিয়তি মেনে নিতে হয়।’


উল্টে যাওয়া ট্রাকের চাপায় নিহত ৪

উল্টে যাওয়া ট্রাকের চাপায় নিহত ৪
ট্রাকটি উল্টে একটি বাজারে ঢুকে পড়ে। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

নরসিংদীর রায়পুরায় ট্রাকের চাপায় চারজন নিহত হয়েছেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাহমুদাবাদ এলাকায় রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, একটি গ্যাস পাম্প থেকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা গ্যাস নিয়ে রায়পুরার বারৈচারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী একটি ট্রাক ওই অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। তখনই ট্রাকটি উল্টে পাশে থাকা একটি বাজারে ঢুকে পড়ে।

এতে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হন। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান আরও দুজন। আহত আরও পাঁচজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় ও ভৈরবের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন উপজেলার মাহমুদাবাদ মেশিনঘর এলাকার আলাউদ্দিন মিয়া ছেলে সিদ্দিক মিয়া, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে মো. সিদ্দিক মিয়া, বেলাব উপজেলার পুরাদিয়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আবুল কালাম (অটোরিকশার যাত্রী)। তাৎক্ষণিক অপর নিহতের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে।


কলেজের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ

কলেজের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ
রাজন্দ্রে কলেজের সীমানাপ্রাচীরের কাজ বন্ধ করে দেয় ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। ছবি: দৈনিক বাংলা
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

ফরিদপুরে রাজেন্দ্র কলেজের শহর শাখার সীমানাপ্রাচীরের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। গতকাল শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের আপত্তির কারণে কাজ করতে পারেননি নির্মাণশ্রমিকরা। কাজ বন্ধ করে দেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার থেকে এই নির্মাণকাজ শুরু হয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে। সীমানাপ্রাচীরের সঙ্গে একটি বড় ফটক ও দুই পাশে দুটি ছোট ফটক করার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল সকাল ১০টার দিকে ওই কাজ বন্ধ করে দেয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

ফরিদপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান বলেন, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শহর শাখার সামনে ফরিদ শাহ সড়কসংলগ্ন একটি সীমানাপ্রাচীর আগে ছিল। ওই জায়গাতেই নতুন আরেকটি সীমানাপ্রাচীরের অনুমোদন হয়ে আসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। সেই প্রাচীরের নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। গতকাল শ্রমিকরা কাজ করতে গেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে জানান, ওই জায়গা নিয়ে বিরোধ থাকায় কাজ বন্ধ রাখতে হবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘জায়গাটিতে আগে থেকে সীমানাপ্রাচীর ছিল। যার পাশে ফরিদপুর পৌরসভার সড়ক, সে জায়গা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কী বিরোধ থাকতে পারে তা আমার বোধগম্য নয়। এতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।’

কাজটি বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদার মোহাম্মদ মিঠু। তিনি জানান, ৯ জন শ্রমিক এ কাজটি করছিলেন। বর্তমানে গর্ত খোঁড়ার কাজ চলছে। এরই মধ্যে ২৭টি গর্ত খোঁড়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শনিবার সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকরা কাজ শুরু করে। কিন্তু সকাল ১০টার দিকে কাজ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। অথচ সব শ্রমিককে পুরো দিনের টাকাই দিতে হবে। এদিকে নির্মাণসামগ্রীর দামও চড়া। আমাকে ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়তে হয়েছে।’

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ অসীম কুমার সাহা বলেন, ‘কাজ শুরু করেছিল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। কাজ বন্ধ করেছে তারাই। শিক্ষা প্রকৌশল অধিপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে মৌখিকভাবে কাজ বন্ধ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। বলেছেন, প্রশাসনের চাপ রয়েছে।’

মাঠের মালিক কলেজ, খাজনা দেয় কলেজ, সে কাজ কেন বন্ধ করবে প্রশাসন? এমন প্রশ্ন রেখে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত প্রতিবেদন চেয়েছি। এ ঘটনায় কলেজের শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। আমি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করেছি।’

প্রশাসন কেন নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছে, জানতে চাইলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিপুলচন্দ্র দাস বলেন, ‘সরকারি রাজেন্দ্র কলেজসংলগ্ন মাঠটি জেলা প্রশাসনের সম্পত্তি ছিল। আরএস ও এসএ অনুযায়ী ওটি জেলা প্রশাসনের। কিন্তু বিএস রেকর্ডে এটি শিক্ষা বিভাগের নামে রেকর্ড হয়। এ রেকর্ড সংশোধনের জন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার প্রথম জজ আদালতে ২৮/২০২১ মামলা চলমান। ওই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সীমানাপ্রচীর করা দৃষ্টিকটু। তাই সেটি করতে বাধা দেয়া হয়েছে।’

এর আগে ১৯৮৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ ওই মাঠ এবং মাঠসংলগ্ন ভবন ভবনগুলো সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের কাছে দিয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয় ও ফরিদপুরের জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন কলেজসংশ্লিষ্টরা।


বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি
মোংলা বন্দরসহ সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় মেঘলা আকাশ বিরাজ করছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে মোংলা বন্দরসহ সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় মেঘলা আকাশ বিরাজ করছে। রোববার ভোর থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। সেই সাথে ভোর থেকেই থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও হালকা-মাঝারি বাতাস বইছে। এমন আবহাওয়ায় শীত শীত ইমেজ বিরাজ করছে এ এলাকা জুড়ে।
মোংলা আবহাওয়া অফিস ইনচার্জ অমরেশ চন্দ্র ঢালী জানান, শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা নাগাদ উত্তর ও উত্তর মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে আজ, কাল ও পরশু ঝড়ো বাতাস ও বজ্র বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে উপকূলীয় এলাকা জুড়ে। তবে এখন পর্যন্ত কোন সর্তক সংকেত জারি করা হয়নি।
তিনি বলেন, তারপরও গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে-মাঝিমাল্লাদের তাদের নৌকা ও ট্রলার নিয়ে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদে চলাচল এবং অবস্থান করতে বলা হয়েছে।