বুধবার, অক্টোবর ৫, ২০২২

প্রেম থেকে বিয়ে, অবিশ্বাস থেকে খুন

প্রেম থেকে বিয়ে, অবিশ্বাস থেকে খুন
গ্রেপ্তার রেজাউল করিমকে আনা হয় র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে। আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • গত বুধবার রাজধানীর একটি হোটেল থেকে নারী চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

  • হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

রাজধানীর একটি হোটেলে নারী চিকিৎসককে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তারকৃতের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানিয়েছে, অবিশ্বাস থেকে হত্যার ঘটনা ঘটে।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নারী চিকিৎসকের স্বামীকে গ্রেপ্তারের কথা জানান র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

গ্রেপ্তারকৃতের নাম রেজাউল করিম। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ সম্মেলনে হত্যার নানা তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাব কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই নারী চিকিৎসকের সঙ্গে  পরিচয় হয় রেজাউলের। সেখান থেকে প্রেম। এক বছর পর পরিবারের অমতে বিয়ে করেন তারা। কিন্ত বিয়ের পর থেকেই পরস্পরকে সন্দেহ করতে শুরু করেন। স্বামীর একাধিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন স্বামী। জন্মদিন পালন করার কথা বলে স্ত্রীকে হোটেলে নিয়ে যান রেজাউল। সেখানেই গলাকেটে হত্যা করা হয় নারী চিকিৎসককে।

র‍্যাব বলছে, অভিযুক্ত রেজাউলের ফোনকল বিশ্লেষণ করে একাধিক প্রেমের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুরো ঘটনার দায়ও স্বীকার করেছেন।

এর আগে গত বুধবার সকালে ওই নারী চিকিৎসককে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ঢাকার পান্থপথের ‘ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট’ হোটেলের একটি কক্ষে ওঠেন রেজাউল। দুপুরের দিকে তিনি ঘরে তালা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর রাতে ওই কক্ষ থেকে ২৭ বছর বয়সী তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও জখমের চিহ্ন ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, মগবাজারের কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজে গাইনি বিষয়ে একটি কোর্স করছিলেন ওই চিকিৎসক। হত্যার ঘটনায় রেজাউলকে আসামি করে মামলা করেছে নিহতের পরিবার।

র‍্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর পাশাপাশি একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি ভুক্তভোগী জানতে পারলে বিভিন্ন সময় তাদের বাগ্‌বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে রেজাউল তার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ভুক্তভোগীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।


প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় ওয়াশিংটন পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় ওয়াশিংটন পোস্ট
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে নিবন্ধ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট
বাসস
প্রকাশিত

শিক্ষার সম্প্রসারণ ও দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেছে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেও ভূয়সী প্রশংসা করেছে গণমাধ্যমটি।

সম্প্রতি নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার হোটেল রিটজ-কার্লটনের বলরুমে নেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে কলামিস্ট পেটুলা ডভোরাকের নিবন্ধটি বহুল প্রচারিত এই মার্কিন দৈনিকে গতকাল সোমবার প্রকাশিত হয়। নিবন্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের পাশাপাশি বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে একটি সম্মানজনক স্থানে পৌঁছে দেয়ার জন্য শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।

‘দিস প্রাইম মিনিস্টার লাফড এট দ্য মিম শি ইন্সপাইয়ার্ড: ডিসপাইট বিইং এ ওম্যান’ শিরোনামে নিবন্ধটির শুরুতেই বলা হয়েছে, “তিনি (আব্দুল্লাহ্ নিয়ামি) তার ছয় বছর বয়সী মেয়েকে উঁচু করে তুলে ধরেছেন। রিটজ কার্লটন হোটেলের বলরুমে কালোরঙের স্যুট পরিহিত পুরষদের ভিড়ে ছোট্ট মেয়েটির গোলাপি পোশাকটি চোখে পড়ছিল। নিয়ামি বলছিলেন, ‘আমি তাকে একনজর প্রধানমন্ত্রীকে দেখাতে চাই’। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় প্রথম শ্রেণিতে পড়া তার মেয়ে জোয়াকে তিনি গত সপ্তাহে একজন নারী সরকার প্রধানকে দেখানোর জন্য নিয়ে আসেন, যা আমেরিকায় এখনো বিরল।”

পেটুলা ডভোরাক লিখেছেন, লন্ডনে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগদান এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার পর অন্যান্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নর্দান ভার্জিনিয়ার এই রিটজ হোটেলে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিবেক জাগ্রত করার আহ্বান জানান।

ওয়াশিংটন পোস্টের নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিশ্বে দীর্ঘতম সময়ের নারী সরকারপ্রধান, রাশিয়ার চেয়েও বেশি জনবহুল একটি দেশের নেতৃত্ব প্রদানকারী এবং জনসভায় গ্রেনেড হামলাসহ অন্তত ২০ বার হত্যাচেষ্টা থেকে রক্ষা পাওয়া শেখ হাসিনা একজন দাদী ও নানী। তার ৭৬তম জন্মদিন তিনি তার ছেলে ও ১৬ বছর বয়সী নাতনীর সঙ্গে পালন করেছেন, যারা রাজধানীর বাইরের একটি শহরতলিতে বাস করেন।

লেখক বলছেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনা একজন সাধারণ নারীর মতোই নাতি-নাতনিদের সময় দিতে পছন্দ করেন। তিনি তাদের জন্য রান্নাও করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নাতি-নাতনীদের জন্য চিকেন বিরিয়ানি রান্না করি। আমার ছেলের বাসায় শুধু আমার ব্যবহারের জন্যই আলাদা রান্নাঘর আছে।’

লেখক বলেছেন, আমরা এসব জেনেছি কারণ তার যাত্রার এই পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান সূচির মাঝে আমার সঙ্গে একের পর এক সাক্ষাৎকার হয়েছিল। এসবের মধ্যেই একটি ভাইরাল হওয়া মিম সম্পর্কে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। শেখ হাসিনা তখন মৃদুস্বরে ‘নারীরা পুরুষদের চেয়ে ভালো’ বলে হেসে ওঠেন। এরপর তিনি বলতে থাকেন, তিনি একজন নারী। আর এ কারণেই তিনি বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও শিক্ষার সংগ্রাম, বেশিরভাগ নারীরা যেসব বাধার মুখোমুখি হন এবং কীভাবে তাদের স্থবিরতা একটি জাতির অগ্রগতিকে ধীর করে দেয়, তা আরও গভীরভাবে বুঝতে পারেন।

লেখক উল্লেখ করেন, হোটেল কর্মীরা অভিভূত। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনী সংগত কারণেই ২০টি হত্যাচেষ্টার কথা স্মরণ করে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। জনতা উল্লসিত হয়ে ওঠে, যেমনটা ১৯৬৬ সালে হয়েছিল। হাসিনা যেন মধ্যমনি। এক ঘণ্টার মধ্যেই তারা একটি পরিকল্পনা করে ফেলেন।

লেখক বলেন, হাসিনা জনতার উদ্দেশে বক্তৃতা দিতে রাজি হয়ে গেলেন। রিটজ হোটেলের লোকেরা  টেবিল-চেয়ারগুলো তাদের পুরানো ডোমিনিয়ন রুমের পাশে ঠেলে দেয়। নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয় কমপক্ষে ২০০ জনকে বলরুমে জায়গা করে দিতে।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, গোলাপি পোশাক ও ম্যাচিং জুতা পরিহিতা জোয়া ছাড়া সমর্থকদের অধিকাংশই পুরুষ। আর মালিহা জামান (২৪) ছুটিতে। মালিহা জামান বলেন, অবশ্যই আমি এমন একজন নারীকে দেখতেই ছুটে এসেছি। কারণ তিনিই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। জামান দুই বছর আগে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে আসেন এখানে। শেখ হাসিনার চালু করা করা একটি শিক্ষা উদ্যোগের সুযোগে তিনি তার মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করে বর্তমানে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ভার্জিনিয়ায় বসবাস করছেন। জামান কৌশলীভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কোনো নারী প্রেসিডেন্ট পায়নি। এটি লক্ষ্যণীয়। টাইসনসের রিটজে যা তিনি দেখলেন, এরকম দৃশ্য খুব কমই পাওয়া যাবে। পুরুষরা যখন শেখ হাসিনাকে দেখার জন্য আরও ভালো জায়গায় যেতে ধাক্কাধাক্কি করছিল, তখন অন্য একজন নারী বলছিলেন, এটাই প্রধানমন্ত্রীকে করে তুলেছে বৈশিষ্টমণ্ডিত।

শাহেদা পারভীন বলেন, তিনি বয়স্ক মানুষ ও শিক্ষার কথা ভাবেন। তিনি পরিবহন ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি শিশুদের সম্পর্কে চিন্তা করেন, গর্ভবতী মহিলাদের তিনি ভাবেন। আমরা সবাই যেগুলো নিয়ে ভাবি।


বিএনপি-জামায়াতের প্রথম ১০০ দিন ছিল নারকীয়: জয়

বিএনপি-জামায়াতের প্রথম ১০০ দিন ছিল নারকীয়: জয়
সজীব ওয়াজেদ জয়। ছবি: ফেসবুক
বাসস
প্রকাশিত

২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর ১০০ দিনের কর্মসূচি দিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। সেই সময়ে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

গত সোমবার দেয়া পোস্টে জয় লিখেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াতকে যারা ভোট দেবে না, তাদের পরিণতি কত কঠিন হতে পারে, তার দৃষ্টান্ত শুরু হয়ে গিয়েছিল মাসখানেক আগে থেকেই। নির্বাচনের দিন দুপুরের পরপরই দেশের ওপর যেন নরক ভেঙে পড়ে। শুরু হয় চারদিকে খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ ভয়াবহ সহিংসতা। দেশের মানুষ ১৯৭১ ও ৭৫-এর পর এমন চরম আতঙ্কজনক পরিস্থিতি চাক্ষুষ করেনি। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন সরকার প্রতিশ্রুতি দেয় ১০০ দিনেই দেশকে সুপথে পরিচালিত করবে বলে। কিন্তু সবই ছিল বাগাড়ম্বর।’

জয় লিখেছেন, জনতাকে দেয়া সেই ১০০ দিনের প্রতিশ্রুতির বেলুন ফুটো হয়ে যায়। অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, রাজনীতি, প্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রেই সরকারের চরম ব্যর্থতা মানুষকে আশাহত করে। দেশ নিয়ে উচ্চাশা করতেন যারা, সেই বুদ্ধিজীবীদের মুখে কুলুপ এঁটে দেয়া হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছিল কালো তালিকায়। রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাসক্ষেত্র বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল।

জয় উল্লেখ করেছেন, ‘বিএনপি-জামায়াত সরকারের ১০০ দিনে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে নিহতের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০০-এর বেশি। ধর্ষণের ঘটনা গড়ে প্রতিদিন ৪টি, খুনের সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন ৬ জন। এ সময়ে কোনো রকম পরিকল্পনা ও চিন্তাভাবনা ছাড়াই বাফুফের পুরোনো কমিটি ভেঙে দেয়ায় ফিফার সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয় বাংলাদেশকে। হাওয়া ভবনে শুরু হয় মাফিয়া সম্রাজ্য।’
ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ ও আত্মীয়করণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। এ কথা উল্লেখ করে জয় আরও লিখেছেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন নামেমাত্র প্রধানমন্ত্রী, নেপথ্যে থেকে দেশ চালাতেন তারেক রহমান। দ্বিতীয় পুত্র আরাফাতও দখল করেন ক্রিকেট বোর্ড। প্রধানমন্ত্রীর বড় বোন হন মন্ত্রিসভার সদস্য। আর তার ভাই সাঈদ এস্কান্দার হন এমপি। ভাগ্নে শাহরিন ইসলাম তুহিন এমপি পদে পরাজিত হলেও জায়গা হয় হাওয়া ভবনে। তদবিরের একটা টেবিল ছিল তারও দখলে।’

ফেসবুক স্ট্যাটাসে জয় লিখেছেন, ‘ক্ষমতায় বসেই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার প্রশাসনকে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নেয়ার নামে রদবদল ও চাকরিচ্যুত করতে শুরু করে। সেই সময়টা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুঃস্বপ্নের কাল বলে বিবেচিত হয় আজও। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, বাস টার্মিনাল, গণশৌচাগার, ভিসির অফিস, বাড়ি, জমি, মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়, ঠিকাদার অফিস, কবরস্থান, আড়ত, দোকান, প্রেসক্লাব, কলেজ, এমপি হোস্টেলের স্যুট ও কক্ষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কারপার্কিংয়ের স্থান সবই দখল করে নেয় তারা।’

পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিএনপি-জামায়াত সরকার বদলে দেয় বলেও উল্লেখ করেছেন জয়। তিনি লিখেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বদলে দিয়ে রাতারাতি মিথ্যাচার প্রতিষ্ঠা করা হয়। ক্ষমতায় আরোহণ করে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে খালেদা জিয়া দেশের মানুষকে সুন্দর ও শান্তিময় ভবিষ্যতের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, ১০০ দিনে তা পুরোটাই ভেস্তে যায়। পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল নিত্যপণ্যের দাম। সেই তুলনায় বাড়েনি মানুষের আয়। সরকার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে ব্যর্থ হয়, ব্যবসায়ীদের ওপর তৎকালীন সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন জয়।’


শান্তিরক্ষী মিশনে নিহত সৈনিক জাহাঙ্গীরের বাড়িতে শোকের ছায়া

শান্তিরক্ষী মিশনে নিহত সৈনিক জাহাঙ্গীরের বাড়িতে শোকের ছায়া
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে নিহত সেনা সদস্য জাহাঙ্গীরের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি। ছবি: দৈনিক বাংলা
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কার্যক্রম পরিচালনার সময় মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের একজন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিতপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম। বিকেলে এ খবর পাওয়ার পর তার বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিন সেনা সদস্যের নিহতের তথ্য জানানো হয়।

নিহত সেনা সদস্য জাহাঙ্গীর আলম তিতপাড়া গ্রামের লতিফর রহমানের ছেলে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীর চতুর্থ।

নিহত জাহাঙ্গীর আলমের বড় ভাই আবুজার রহমান জানান, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন জাহাঙ্গীর। ১০ মাস আগে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের ব্যানব্যাট-৮-এর আওতায় শান্তিরক্ষা মিশনে যান তিনি। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে মাটিতে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে জাহাঙ্গীরসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তিন সদস্য প্রাণ হারান।

জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই বাদশা জানান, সকালে সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোবাইলে জাহাঙ্গীরের পরিবারকে তার মৃত্যুর খবর জানায়। খবর শুনেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন বাবা লতিফুর রহমান। বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন মা গোলেনুর বেগম। স্বামীর ছবি বুকে ধরে আহাজারি করছেন স্ত্রী শিমু আক্তার। জাহাঙ্গীরের মরদেহ দ্রুত ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেলায়েত হোসেন বলেন, জাহাঙ্গীরের পরিবারের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। বুধবার সকালে তার বাড়িতে যাওয়া হবে। প্রশাসনের কোনো সহায়তা লাগলে দেয়া হবে।


সরকারি ৮ দপ্তরের শীর্ষ পদে নতুন মুখ

সরকারি ৮ দপ্তরের শীর্ষ পদে নতুন মুখ
সরকারি ৮ দপ্তরের শীর্ষ পদে বদলি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

সরকারি আটটি দপ্তরের শীর্ষ পদে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার এসব পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এ কে এম শামীমুল হক সিদ্দিকীকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান এবং সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার মো. আব্দুস সাত্তারকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জাফর উল্লাহকে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান, শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিনা আক্তারকে পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঢাকার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার এ কে এম মাসুদুজ্জামানকে মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মান্নান খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক, রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু তাহের মো. মাসুদ রানা শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সারোয়ার বারী পরিবীক্ষণ পরিদর্শন ও মূল্যায়ন ইউনিটের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।


সেন্ট্রাল আফ্রিকায় বিস্ফোরণে আহত ৩ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মৃত্যু

সেন্ট্রাল আফ্রিকায়  বিস্ফোরণে আহত ৩ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মৃত্যু
সৈনিক জাহাংগীর আলম (২৬), সৈনিক জসিম উদ্দিন (৩১) ও সৈনিক শরিফ হোসেন (২৬)। ছবি: আইএসপিআর
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনার সময় বিস্ফোরণে আহত ৪ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন।

নিহত তিন সেনা সদস্য হলেন, সৈনিক জসিম উদ্দিন (৩১), সৈনিক জাহাংগীর আলম (২৬) ও সৈনিক শরিফ হোসেন (২৬)। আহত টহল কমান্ডার মেজর আশরাফুল হক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   

আইএসপিআর জানায়, সোমবার সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার দিকে অপারেশন পরিচালনার সময় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের একটি গাড়ি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে পড়ে।

সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় মেজর আশরাফের নেতৃত্বে একটি দল ক্যাম্প কুই থেকে কাইতা এলাকায় টহলে যায়। টহল থেকে ফেরার পথে কমান্ডার আশরাফকে বহনকারী প্রথম গাড়িটি মাটিতে পুতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণের কবলে পড়ে।  এতে গাড়িটি প্রায় ১৫ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে। তিন সৈনিক শরিফ, জাহাংগীর ও জসিম ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে আহত হন।

ঘটনার পর পরই আহত শান্তিরক্ষীদের জরুরি ভিত্তিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে ১৪৪ কিমি দূরের মিনুসকা হাসপাতালে নেয়া। সেখানে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত মেজর মো. আশরাফুল হক চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল।

আইএসপিআর জানিয়েছে, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে নিয়োজিত অন্যান্য শান্তিরক্ষীরা নিরাপদে আছেন। শাহাদাৎবরণকারী সেনাসদস্যদের মৃতদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে আনার কার্যক্রম চলমান।

প্রসঙ্গত, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের পশ্চিম সেক্টরে বোয়ার এলাকায় মোতায়েন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন (ব্যানব্যাট-৮) ২০২১ সাল থেকে শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত আছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা আফ্রিকার ৮টি দেশে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে চলেছে এবং জাতিসংঘে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।