বুধবার, অক্টোবর ৫, ২০২২

রাজধানীতে এটিএম বুথে ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী নিহত

রাজধানীতে এটিএম বুথে ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী নিহত
আটক আব্দুস সামাদ। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

রাজধানীর উত্তরায় একটি ব্যাংকের এটিএম বুথের ভেতর টাকা তোলার সময় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ। 

নিহত ব্যবসায়ীর নাম শরিফ উল্লাহ (৪০)। আজ শুক্রবার দুপরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন। 

ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলেন শরিফ। বুথের ভেতর টাকা গোনার সময় আব্দুস সামাদ (৩৮) নামে এক ছিনতাইকারী সেখানে যান। টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য বুথের ভেতর শরিফ উল্লাহকে তিনি এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। 

পুলিশ জানায়, ছুরিকাঘাতে বুথের ভেতরে অচেতন হয়ে পড়েন শরিফ। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শরিফ টাইলস ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। উত্তরায় জাকিয়া টাইলস গ্যালারি অ্যান্ড স্যানিটারি নামে তার একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আছে। শরিফ টঙ্গীতে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের মধুপুর গ্রামে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।


ঢাকের শব্দ, আলো ঝলমলে পাড়ায় মিতুর ঘরে শূন্যতা

ঢাকের শব্দ, আলো ঝলমলে পাড়ায় মিতুর ঘরে শূন্যতা
ছেলের বাঁধাই করা ছবি হাতে ধরেই স্মৃতিচারণা করেন মিতু শীল। ছবি: দৈনিক বাংলা
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত

তাসনীম হাসান, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম-হাটহাজারীর চালুচরা থেকে পূর্বে নেমে গেছে তুফানি সড়ক। সেদিকে আগাতেই চোখে পড়ল দুর্গোৎসবের সাজসজ্জা। নতুন জামা পরে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দেখছিল তরুণ-তরুণীর দল। বাড়িতে বাড়িতেও উৎসবের আমেজ। কেবল এক বাড়িতেই ভিন্ন চিত্র।

এনায়েতপুর গ্রামের এ বাড়িটি মিতু শীলদের। গত ২৯ জুলাই ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেছে মিতুর একমাত্র সন্তান শান্ত শীলের। এবারের দুর্গোৎসমের আমেজও তাই মিতুর ঘরে অনুপস্থিত। ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই ওলটপালট হয়ে গেছে তার জীবনযাপন। গতকাল মঙ্গলবার দুর্গোৎসবের মহানবমীর সকালেও মিতুর বাড়িতে ছিল শোকের আবহ।

বন্ধুদের সঙ্গে মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনা দেখে ফেরার পথে লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ যায় শান্তসহ ১১ তরুণের। সে ঘটনার প্রায় দুই মাস কেটে গেছে। ছেলের ছবি বাঁধাই করা রেখেছেন মিতু। গতকাল তার বাড়িতে গেলে সে ছবি হাতে ধরেই স্মৃতিচারণ করলেন তিনি।

মিতু বললেন, ‘“আমার ছেলেটা যে এভাবে ছবি হয়ে গেছে- এখনো বিশ্বাস হয় না। এখনো অপেক্ষায় থাকি, কলেজ থেকে ফিরে বলবে- ‘মা ভাত দাও।’’’

কথোপকথনের সময় ঘরেই ছিলেন শান্তর ছোট খালা স্মৃতি শীল। বললেন, ‘ও (শান্ত) নেই, এবারের পূজায় তাই আমাদেরও কোনো উৎসব নেই। কেউ নতুন কাপড় কিনিনি। মণ্ডপেও যাওয়া হয়নি। গেলেই ওকে মনে পড়বে।’

শান্তর জন্মের পরপরই মিতুকে ছেড়ে চলে যান তার স্বামী। ছেলের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আর বিয়ে করেননি। ছেলেকে বড় করতে চাকরি নেন তৈরি পোশাক কারখানায়। অভাবের সংসারে স্বাভাবিকভাবে টানাটানি লেগে থাকে ১২ মাস। তবুও ছেলের পড়াশোনা নিয়ে বেশ আগ্রহী ছিলেন মিতু। আশা করতেন, এক দিন ছেলে সব দুঃখ ঘুচে দেবে। বেঁচে থাকলে আর কযেক দিন পরেই এইচএসসি পরীক্ষায় বসত শান্ত। ছেলের আচমকা মৃত্যুতে মিতুর সব আশায় গুড়েবালি।

ফেরার পথে সন্তানহারা মা মিতু বলে উঠলেন, ‘আমার দুঃখে গড়া জীবনে ওই (শান্ত) ছিল সব সুখ। স্বপ্ন দেখতাম ছেলে এক দিন অনেক বড় হবে। তার কল্যাণে আমার ছবিও ছাপা হবে পত্রিকায়। এখন অনেক সাংবাদিকই ছবি তুলছেন, পত্রিকায় ছাপাচ্ছেন। স্বপ্নটা যে এত নির্মমভাবে সত্যি হয়ে যাবে- তা চাইনি।’


শারীরিক প্রতিবন্ধী রেহেনার দারিদ্র জয়

শারীরিক প্রতিবন্ধী রেহেনার দারিদ্র জয়
উড়ন্ত পায়রায় যেন শারীরিক প্রতিবন্ধী রেহেনা আক্তারের জীবনের দরিদ্র অবসানের মুক্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • নারীর সাফল্যগাথা

রাব্বিউল হাসান, জয়পুরহাট

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ আকন্দের মেয়ে রেহেনা আক্তার।

শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। পরিবার দরিদ্র। পড়ালেখা করতেন মাদ্রাসায়। দাখিল পরীক্ষার আগে ফরম পূরণের জন্য টাকা ছিল না। বাধ্য হয়ে বিক্রি করে দিতে হয়েছিল নতুন জামা। সবদিক থেকেই প্রতিবন্ধকতা যেন ঘিরে ধরেছিল রেহেনাকে। কিন্তু যারা লড়াই করতে জানে, কোনো বাধাই তাদের হারাতে পারে না। শত প্রতিবন্ধকতা হারাতে পারেনি রেহেনা আক্তারকেও। সবকিছুকে জয় করেই আজ পরিণত হয়েছেন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তায়। তরুণদের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয়, অনুসরণীয়।

শিবপুরের চারমাথায় রেহানা আক্তারের গড়ে তোলা সমন্বিত কৃষি খামারের ছাউনিতে বসে কথা হয় তার সঙ্গে। রেহানা শোনান তার জীবন-সংগ্রামের গল্প। জানালেন, আবার আট সন্তানের মধ্যে তিনি পঞ্চম। ছয় বছর বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয় তাকে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারই পড়ালেখা করতে দিতে আগ্রহী ছিল না। কিন্তু নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তি দিয়ে এগিয়ে গেছেন আলোকোজ্জ্বল পথে। ভুবনে। চাইত না সে লেখাপড়া করুক। কিন্তু তার শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ আর ইচ্ছাশক্তি দিয়েই তিনি পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন। পরবর্তী সময়ে হয়ে উঠেছেন কৃষি উদ্যোক্তা।

দুই সন্তানের জননী রেহানা আক্তারের বড় ছেলে আব্দুর রহমান এখন জয়পুরহাট সরকারি কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। ছোট ছেলে আব্দুর রহিমকে তিন বছর আগে নিজের কষ্টের উপার্জিত অর্থ দিয়ে পাঠিয়েছেন সৌদি আরবে। রেহেনার সংসারে এখন সচ্ছলতা আর সুখের বাতাস বইছে।

রেহেনা আক্তার দৈনিক বাংলাকে বলেন, দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য টাকা দরকার ছিল। অনেকের কাছে ধরনা দিয়েও সে ব্যবস্থা করতে পারিনি। তখনও বিভিন্ন ধরনের কাজ করতাম। আমার উপার্জিত ৩০৫ টাকা দিয়ে একটি নতুন জামা কিনেছিলাম। সেই জামা একজনের কাছে বিক্রি করে কোনোভাবে ফরম পূরণ করতে পারি।

শুধু তা-ই নয়, দাখিল পরীক্ষায় রেহেনার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল বাড়ি থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে। খোঁড়া পা নিয়ে এত দূর যাতায়াতের উপায় ছিল না তার। বাধ্য হয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশেই একটি বাড়িতে থাকতে হয় তাকে। তার জন্য অনেক খরচও হয়, যা জোগাড় করেছিলেন ধার নিয়ে। পরে জাল বোনাসহ হাতের কাজ করে সেই ধার মেটান তিনি।

এ রকম সংগ্রাম করেই রেহেনা একসময় ফাজিল পাস করেন। হাতের কাজ করতেন। বাড়িতে একসময় হাঁস-মুরগি পালন শুরু করেন। হোমিওপ্যাথি ওষুধও বিক্রি করতেন। এসবের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়েই পড়ালেখা চালিয়ে যেতে থাকেন। এর মধ্যেই মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় তার। সবকিছুর মধ্যে পরিবারও সামলাতে হয় তাকে। তার পরও স্বামীর সহযোগিতাতেই একটা সময় কৃষি উদ্যোক্তায় পরিণত হন তিনি। সেটি ২০০৫ সালের কথা।

রেহেনা জানান, বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএস থেকে ২০০৫ সালে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ১২টি সোনালি মুরগি দিয়ে ছোট পরিসরে খামার শুরু করেন। একটা সময় খামার বড় হতে থাকে। কিন্তু ২০১১ সালে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণে একবারে ৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয় তার। তবু থেমে থাকেননি। মুরগি পালন ঝুঁকিপূর্ণ ভেবে ৯টি হাঁস দিয়ে শুরু করেন হাঁসের খামার। এখন রেহেনার খামারে হাঁসের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০। এর বাইরে সাত-আটটি গরুর একটি খামার এবং কবুতরের একটি খামারও গড়ে তুলেছেন তিনি।

রেহেনা আক্তার বলেন, ‘গত এক বছরে ডিম বিক্রি ছাড়াই সাড়ে ১ হাজার ৬০০টি হাঁস বিক্রি করেছি। আটটি গরু বিক্রি করেছি। এখনও খামারে সাতটি গরু আছে। তিন বছর আগে ছয়টি কবুতর দিয়ে শুরু করা খামারে এখন কবুতরের সংখ্যা দুই শতাধিক। প্রতি সপ্তাহে স্থানীয় বাজারে ১৫-২০ জোড়া কবুতরের বাচ্চা বিক্রি করে থাকি। এক হাজার হাঁসের বাচ্চার অর্ডারও দিয়েছি।’

রেহেনার পাঁচ শতাংশের ছোট্ট কুটির এখন দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ বিঘার খামারে। উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্যের কারণে ২০১০ সালে সিটি ব্যাংক থেকে পুরস্কৃত হন রেহেনা। সেই পুরস্কারের টাকায় নির্মাণ করেন হাঁস-মুরগির নতুন শেড। কিনেছেন খামারের জায়গা। সেখানে লাগিয়েছেন বিভিন্ন ফলের গাছসহ তিন শতাধিক কলার গাছ। রয়েছে ১৫ শতাংশের একটি পুকুর। আর্থিক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদাও বেড়েছে তার। জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন সভায় তাকে ডাকা হয়।

জয়পুরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী রেহেনা আক্তার একজন প্রতিষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তা। তিনি সব প্রতিকূলতা জয় করেছেন। একক প্রচেষ্টায় সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন। প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করা হবে।


ঋণের টাকা তুলে উধাও কম্পিউটার অপারেটর

ঋণের টাকা তুলে উধাও কম্পিউটার অপারেটর
সুন্দরগঞ্জ শিক্ষা অফিস। ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • সুন্দরগঞ্জ শিক্ষা অফিস

পিয়ারুল ইসলাম, গাইবান্ধা

জালিয়াতির মাধ্যমে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাত সহকারী শিক্ষকের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল (জিপিএফ) থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে। ঋণ হিসেবে টাকা তুলে আত্মসাতের ঘটনাটি জানাজানির পর অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর আবু বক্কর সিদ্দিক গা ঢাকা দিয়েছেন।

জানা যায়, জালিয়াতির মাধ্যমে গত বছরের ডিসেম্বরে সাত শিক্ষকের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল, অবসর ভাতার ফান্ডের ব্যাংক হিসাব নম্বর থেকে ৯ লাখের বেশি টাকা ঋণ তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটে।

ঋণের জন্য শিক্ষকরা আবেদন না করলেও সোনালী ও অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড সুন্দরগঞ্জ এবং পাঁচপীর শাখা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৬৪ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৬৬ হাজার টাকা পর্যন্ত তুলে নেয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।

অভিযোগে বলা হয়, সহকারী শিক্ষক স্বপ্না রানী, রহিমা বেগম, আতাউর রহমান, শামছুন্নাহার বেগম, মাসুদা বেগম, হাজেরা বেগম ও আনিছুর রহমান- এই সাতজন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা, কালীর খামার, দক্ষিণ রাজিবপুর, পূর্ব বজরা হলদিয়া পুঁটিমারী, নতুন দুলাল ভরট, পুঁটিমারী ও চণ্ডীপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

তাদের নামের বিপরীতে মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা তুলে নেয়া হলেও কিছুই জানা নেই তাদের। ঋণের টাকার জন্য তারা শিক্ষা অফিসে কোনো দিন আবেদনও করেননি। এমনকি তাদের হিসাব নম্বরে কোনো টাকাও আসেনি।

দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্বপ্না রানী রায় বলেন, ‘গত ৪ সেপ্টেম্বর আমার অ্যাকাউন্ট থেকে ১৩ হাজার ২০০ টাকা কাটা হয়। পরে ট্রেজারি অফিসে গিয়ে দেখি, আমার জিপিএফ ফান্ড থেকে ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ঋণ নেয়া হয়েছে। অথচ এই ঋণের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষক রহিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বাক্ষর ছাড়া আমার নামে কীভাবে ঋণ মঞ্জুর হয়? এই জালিয়াতির ঘটনা আবু বক্কর একা কখনো করতে পারেন না। এর সঙ্গে শিক্ষা অফিসার সরাসরি জড়িত।’

এদিকে জালিয়াতির এই ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে শিক্ষক সমাজ। ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসার এ কে এম হারুন-উর-রশিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। তা ছাড়া এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে গত রোববার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে সড়কে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন কর্মসূচিও পালন করে উপজেলার শিক্ষক সমাজ। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একটি স্মারকলিপি দেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ কমিটি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম যুতি বলেন, ‘দ্রুত এই জালিয়াতির ঘটনার সমাধান না এলে আমরা আন্দোলনে নামব।’

এদিকে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণের টাকা তুলে নেয়ার ঘটনা জানা নেই সংশ্লিষ্ট শাখার ব্যাংক কর্মকর্তাদের। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগও করেননি বলে জানান সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আব্দুল হাদী।

আর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম হারুন-উর-রশিদ টাকা জালিয়াতিতে তার যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ-আল-মারুফ বলেন, ‘এমন ঘটনা কখনো কাম্য নয়। দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ

একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ
লালমনিরহাটে পুরান বাজার জামে মসজিদ এবং কালীবাড়ি দুর্গামন্দির ও কালীমন্দিরের সহাবস্থান।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত

মো. শাহ্জাহান সাজু, লালমনিরহাট

লালমনিরহাট জেলা শহরের পুরান বাজার এলাকা। এখানে একই সীমানাপ্রাচীরের মধ্যে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে পুরান বাজার জামে মসজিদ এবং কালীবাড়ি দুর্গামন্দির ও কালীমন্দির। বিগত দুই শতাব্দী ধরে মসজিদে চলছে মুসলমানদের নামাজ, আর সেই মসজিদ লাগোয়া মন্দিরে বাজছে কাঁসর ঘণ্টা, চলছে পূজা অর্চনা।

এক পাশে সৌরভ ছড়াচ্ছে ধূপকাঠি, অন্য পাশে আতরের সুঘ্রাণ মসজিদে। এভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করে যুগ যুগ ধরে চলছে পৃথক দুটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি।

গত শনিবার দুপুরে মহাষষ্ঠী পূজায় দেখা গেছে, জোহরের নামাজের আজানের সময় থেকে নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের মাইক, ঢাকঢোলসহ যাবতীয় শব্দ বন্ধ রেখেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। নামাজের জামাত শেষ হলে মন্দিরের পূজা অর্চনার কার্যক্রম শুরু হয়। এভাবেই দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে নির্বিঘ্নে পালন করছেন ধর্মাচার।

১৮৩৬ সালে দুর্গামন্দির প্রতিষ্ঠার আগে এখানে কালীমন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে ঠাঁই নেন শ্রীশ্রী কালীমূর্তি, দেবাদিদেব মহাদেব, শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় চলে এসব দেবদেবীর পূজা অর্চনা। দুর্গামন্দিরে প্রতিবছর জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। পরে পুরান বাজার সম্প্রসারিত হলে ১৯০০ সালে বাজারের ব্যবসায়ীরা মন্দির প্রাঙ্গণে একটি নামাজের ঘর নির্মাণ করেন। সেই নামাজের ঘরটিই পরবর্তী সময়ে পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। এখানে নামাজ আদায় করতে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজন।

স্থানীয়রা বলেন, কালীবাড়ি মন্দিরটি প্রায় ২০০ বছরেরও পুরোনো। তৎকালীন মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীরা এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পূজা অর্চনা করতেন। তারা দেশ ছেড়ে চলে গেলেও মন্দিরটি থেকে যায় অক্ষত। পরবর্তী সময়ে অবকাঠামোগত কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে মন্দিরে। দুর্গাপূজা যখন শুরু হয়, সে সময় এলাকাটি হয়ে ওঠে আনন্দমুখর।

‘ধর্মীয় সম্প্রীতি কী, ধর্মীয় সম্প্রীতি কাকে বলে, তা কেমন হওয়া উচিত- তা জানার জন্য, দেখার জন্য সবার এখানে আসা উচিত,’ বললেন মন্দিরের পুরোহিত সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তী। তিনি আরো বলেন, ‘মন্দিরে নিয়মিত পূজা অর্চনা হয়। আজান ও নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতির বিঘ্ন ঘটে- এমন অবস্থার মধ্যে আমাকে কোনো দিনই পড়তে হয়নি বরং স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতা পেয়ে আসছি। উভয় ধর্মের অনুসারীরা এটা নিয়ে গর্ব করেন। পৃথিবীজুড়ে চলমান সহিংসতা আর সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সংবাদের মধ্যে এমন দৃশ্য নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।’

পুরান বাজার জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে একই উঠানে দুইটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। আমরা মুসলমান এবং হিন্দুরা যে যার ধর্ম সুষ্ঠুভাবে পালন করে আসছি। আমরা নামাজ পড়ছি, তারা পূজা করছেন। কেউ কারো ধর্মে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। আমাদের উভয় সম্প্রদায়ের মাঝে ধর্মীয় আচার-বিধি পালন করা নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।’

একই মসজিদের ইমাম মো. আলাউদ্দিন বলেন, ঐতিহ্যবাহী পুরান বাজার জামে মসজিদের পাশেই এক সঙ্গে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। মন্দিরটি মসজিদের আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে যার যার ধর্ম পালন করেন।

একই আঙিনায় দাঁড়িয়ে পুরান বাজার কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি ও পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘আমার জন্মের পর থেকেই এভাবে চলতে দেখছি উভয় সম্প্রদায়ের লোকজনকে। কোনো সমস্যা হয়নি কখনো। আশা করি, হবেও না।’

এ বিষয়ে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে এলে আমি অভিভূত হই সব সময়। এখানে যে যার ধর্ম পালন করছেন, কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এবার দুর্গাপূজা ঘিরে এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বেড়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো আবু জাফর বলেন, ‘এখানকার মানুষ ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করেন। আর এই বিশ্বাসের প্রমাণ তারা দিয়ে যাচ্ছেন যুগ যুগ ধরে। তাদের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব রক্ষায় আমরাও প্রশাসনের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছি, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।’

সরকারি চাকরিজীবীদের দিতে হবে না সম্পাদের হিসাব

সরকারি চাকরিজীবীদের দিতে হবে না সম্পাদের হিসাব
ছবি: সংগৃহীত
শহীদুল ইসলাম
প্রকাশিত
  • ‘সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার এটি তার সম্পূর্ণ বিপরীতমূখী একটি পদক্ষেপ’: ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক টিআইবি।

শহীদুল ইসলাম

পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব দেয়ার নিয়ম থাকলেও কেউ তা দেন না। এই হিসাব দেয়ার জন্য সরকারপ্রধানের নির্দেশ থাকলেও তা মানা হয়নি। যে বিধিমালায় সম্পদের হিসাব দেয়ার কথা বলা আছে এবার সেটি সংশোধন করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা প্রতি বছর যে আয়কর দেন, সেই বিবরণীকে সম্পদের হিসাব বিবরণী হিসেবে আমলে নেয়ার পথ সুগম হচ্ছে।

আচরণ বিধিমালার সংশোধিত খসড়া সচিব কমিটিতে অনুমোদনের পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এখন আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। ভেটিং শেষে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় খসড়াটি ফেরত দেবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশোধিত সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা জারি করবে।

১৯৭৯ সালে জারীকৃত বিধিমালা অনুযায়ী, পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী দাখিল এবং স্থাবর সম্পত্তি অর্জন বা বিক্রির অনুমতি নেয়ার কথা। কেউই এই নিয়ম না মানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আচরণ বিধিমালার ১১, ১২ ও ১৩ বিধি কর্মকর্তাদের অনুসরণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন। গত বছরের ২৪ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে বিধিমালা বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দিয়ে গেল বছরের মধ্যে সম্পদের হিসাব দাখিলের সময় বেঁধে দেয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তরগুলোর তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ১৭ হাজার ৫৭৬ জন কর্মচারীর মধ্যে ১৭ হাজার ২০৮ জন সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেন। বেসামরিক প্রশাসনে এখন ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫২ জন কর্মচারী চাকরি করছেন।

বিধিমালা সংশোধনের খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সরকারি কর্মচারী নির্ধারিত ছক অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের কাছে তার বা তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বা দখলে থাকা শেয়ার সার্টিফিকেট, সিকিউরিটি, বিমা পলিসি এবং অলংকারাদিসহ নগদে রূপান্তরযোগ্য সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ঘোষণা করবেন। প্রত্যেক কর্মচারী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ডিসেম্বর মাসে বিগত পাঁচ বছরের হিসাব বিবরণীতে প্রদর্শিত সম্পত্তির হিসাব বিবরণী বা আয়কর সনদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের কাছে জমা দেবে।

বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর তাদের ক্যাডারভুক্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পদায়ন করা হয়। সংশোধিত বিধিমালা জারি হওয়ার পর ২৬টি ক্যাডারের কোন কর্মকর্তাকে কোন দপ্তরে এবং কীভাবে আয়কর বিবরণী জমা দিতে হবে, তা সরকার নির্ধারণ করে দেবে বলে খসড়ায় বলা হয়েছে।

কিন্তু সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিলের নির্দেশনা দিয়ে গত বছর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলেছিল, সরকারি চাকরিতে যোগ দেয়ার সময় কৃষি ও অকৃষি জমি, ইমারত, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আবশ্যিকভাবে তথ্য দিতে হয়। এর সঙ্গে অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে অলংকার, শেয়ার, বিমা, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, যানবাহন, ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র যেমন- কম্পিউটার, টেলিভিশন, এয়ারকুলার, রেফ্রিজারেটর, ওভেন ইত্যাদি অর্জনের তারিখ, যার নামে অর্জিত, সম্পদ বা সম্পত্তির প্রকৃতি ও অবস্থান, সম্পত্তির পরিমাণ, কীভাবে অর্জিত ও অর্জনের তারিখে মূল্য, কেনা হলে অর্থের উৎস জানাতে হবে।

সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা না দিয়ে আয়কর বিবরণীকে আমলে নেয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়া যৌক্তিক হবে না বলে মনে করছেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, শুধু সরকারি চাকরিজীবী নয়, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী সবারই সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য সরকারি নির্দেশনা আছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারেও এটা বলা হয়েছে। সেটা যদি ফলো করা না হয়, তাহলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সুযোগটা নেবেন। তারা বলবেন, অন্যরা দেয় না আমাদেরটা কেন দেব।

‘তারা যে নিয়মটা করতে চাচ্ছেন তা কতটা যৌক্তিক হবে তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে এটা মোটেই যৌক্তিক হবে না। কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে আমরাও দিই না, তারাও দেবে না। এটা যারা করতে চাচ্ছেন এবং যারা কর্তৃপক্ষ তারাই এর যৌক্তিকতা নিয়ে বলতে পারবেন।’

সম্পদ বিবরণী দাখিলের আলাদা ফরম থাকার প্রসঙ্গ তুলে আবদুল মজিদ বলেন, আয়কর বিবরণীতে অনেক কিছুই থাকে না। আর ট্যাক্স তো গোপনীয়, সেটা অন্যের যাচাই-বাছাই করার কোনো সিস্টেম নেই। কিন্তু সম্পদ বিবরণীর ফরমে অনেকগুলো তথ্য দিতে হয়।

বর্তমান বিধিমালার ১১, ১২ ও ১৩ বিধিতে ১৫ হাজার টাকার বেশি মূল্যের কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচা বা হস্তান্তরে অনুমোদন নেয়া, অনুমোদন না নিয়ে ব্যবসায়িক বা আবাসিক উদ্দেশ্যে ইমারত নির্মাণ না করা, সরকারি কর্মচারীকে চাকরিতে প্রবেশের সময় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মালিকানাধীন বা দখলে থাকা শেয়ার, সার্টিফিকেট, সিকিউরিটি, বিমা পলিসি এবং মোট ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যের অলংকারসহ সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কে সরকারের কাছে ঘোষণা দেয়ার নিয়ম আছে।

খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী ৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচা বা কারও কাছে হস্তান্তর করতে চাইলে অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মচারী অনলাইন মিডিয়া এবং ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। সংবাদপত্র বা সাময়িকীতে নামে বা বেনামে নিবন্ধও লেখা যাবে না।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিধিমালায় সম্পদের হিসাব দাখিল করার নির্দেশনা থাকলেও কোথায় তা দাখিল করতে হবে, সে বিষয়ে কিছু বলা ছিল না। এই সুযোগ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা সম্পদের হিসাব দেননি। সরকারি চাকরিজীবীদের বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি বছর আয়কর বিবরণী দাখিল করতে হয় বলে এখন সেই আয়কর বিররণীকে সম্পদের হিসাব বিবরণী হিসেবে আমলে নেয়ার নিয়ম করা হচ্ছে। সংশোধিত বিধিমালায় আয়কর বিবরণীর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার এটি তার সম্পূর্ণ বিপরীতমূখী একটি পদক্ষেপ। যেকোনো দেশ তার উন্নয়নের অংশ হিসেবে ওপরের দিকে যায়। ওপরের দিকে যাওয়ার অন্যতম মাপকাঠি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এসবকে বিবেচনায় রেখে নির্বাচনি অঙ্গীকারসহ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে যেসব বিধিমালা আছে সেগুলোর মধ্যে যেসব বিষয় আছে, শুদ্ধাচার কৌশলের মধ্যেও তা নির্ধারিত আছে। সেগুলো যে অমান্য করা হচ্ছে, সেই অমান্য করাকে প্রশ্রয় দেয়ার জন্য বিপরীতমুখী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এটা কোনো অবস্থাতেই ইতিবাচক হতে পারে না। এতে ক্ষমতার অপব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অনেকে উৎসাহিত হবে।’

বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাশেম মো. মহিউদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের রিটার্ন তো দিতেই হয়, আমরা চেষ্টা করছি ওভাবেই রাখার জন্য। যারা রিটার্ন দেন তাদের যেন দেয়া না লাগে। যদি সরকারের দরকার হয়, তাহলে সম্পদের হিসাবটা ওখান থেকে পিক করবে। তবে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় কি না সেটা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

অতিরিক্ত সচিব জানান, যাচাই-বাছাই শেষে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে খসড়া বিধিমালাটা ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে হাতে পাওয়া যাবে। এনবিআরের আইনগুলো পর্যালোচনা করে খসড়ায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশোধন আসতে পারে। এ ছাড়া ভেটিংয়ে অনেক কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব আসতে পারে। সেগুলো পর্যালোচনা করেই বিধিমালা চূড়ান্ত হবে।