মঙ্গলবার, অক্টোবর ৪, ২০২২

বাবার মারধরের ভয়েই হলিক্রস ছাত্রীর আত্মহত্যা

বাবার মারধরের ভয়েই হলিক্রস ছাত্রীর আত্মহত্যা
হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল পারপিতা ফাইহা। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় উচ্চতর গণিতে ফেল করায় বাবার মারধরের ভয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী পারপিতা ফাইহা। মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পারপিতা ফাইহা প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় উচ্চতর গণিতে ফেল করে। সে সময় ফেল করার কারণে ফাইহার বাবা তাকে মারধর করেন। দ্বিতীয় সাময়িকেও একই বিষয়ে ফেল করলে ক্লাস শিক্ষক তার বাবাকে স্কুলে আসতে বলেন। এতে ফাইহা ভয় পেয়ে যায়। সে কারণে স্কুল থেকে ফিরে বাসায় গিয়ে পারপিতা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।’

হলিক্রস শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। অন্যটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আঞ্চলিক অফিসের অধীনে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আগামী সপ্তাহে এই তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নিহত শিক্ষার্থীর পারিবারিক কলহ ছিল। পারপিতা সৎমায়ের সঙ্গে তেজগাঁও এলাকায় একটি বাসায় থাকত। তার বাবা রাগী প্রকৃতির। প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় উচ্চতর গণিতে ফেল করায় তাকে বেল্ট দিয়ে আঘাত করেন। দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় একই বিষয়ে ফেল করলে ক্লাস শিক্ষক তার বাবাকে স্কুলে আনতে বলেন। এতে সে ভীষণ ঘাবড়ে যায়। ফেল করার বিষয়টি জানলে তার বাবা আবারও তাকে মারধর করবেন এই ভয়ে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।’

তদন্ত কমিটি সরেজমিন শিক্ষক, অধ্যক্ষ, গণিতের শিক্ষক ও পারপিতার সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেছে। দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় উচ্চতর গণিতে ফেল করা আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর খাতা সংগ্রহ করে তা পুনর্মূল্যায়ন করেছেন। তবে শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়ন সঠিক ছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। উচ্চতর গণিতের ওই শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত বলেও প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। ওই শিক্ষক শুধু অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীই নয়, নিজ ক্লাসের শিক্ষার্থীদেরও বাসায় নিয়ে কোচিং করান। এ বিষয়টি স্বীকার করেননি স্কুলের শিক্ষকরা। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘হলিক্রসের ছাত্রী নিহতের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আমরা এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করি। কমিটির সদস্য সরেজমিন গিয়ে ক্লাস শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও নিহতের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর তার পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে খোঁজ নিয়ে মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করা হয়েছে। মূলত পারিবারিক কলহের কারণে ওই ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আগামী সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই প্রতিবেদন পাঠানো হবে।’

অন্যদিকে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির সদস্য শিক্ষা পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরেজমিন গিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেছি। ফেল করা সব শিক্ষার্থীর খাতা ও প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সেসব খাতা পুনরায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।’

হলিক্রস স্কুলের নবম শ্রেণির ‘সি’ শাখার ছাত্রী পারপিতা গত মঙ্গলবার স্কুল থেকে ফিরে বাসায় না গিয়ে লিফটে ভবনের ছাদে চলে যায়। স্কুলের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছাদ থেকে নিচে ঝাঁপ দেয়। আহত অবস্থায় পারপিতাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে পান্থপথের স্কয়ার হসপিটালে স্থানান্তর করা হয়। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


ভেজাল প্রসাধনী কারখানায় অভিযান, গ্রেপ্তার ৭

ভেজাল প্রসাধনী কারখানায় অভিযান, গ্রেপ্তার ৭
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ভেজাল প্রসাধনী কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের ভেজাল প্রসাধনীসহ সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, তাদের লালবাগের গোয়েন্দা বিভাগ গতকাল সোমবার রাতে এ অভিযান চালায়।

পুলিশ বলছে, মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর এসব পণ্য ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে বিক্রি  করত তারা।

কামরাঙ্গীরচর থানার ইব্রাহীম নগর বালুরমাঠ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোঃ জাহিদ খান ওরফে বাদশা, মোঃ আরিফ হোসেন,  মোঃ নাজিম উদ্দিন ওরফে বিপ্লব, মোঃ রবিউল হোসেন ওরফে রবিন, মোঃ মারুফ হোসেন, মোঃ জামাল হোসেন  ও মোঃ হারুন। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল প্রসাধনী সামগ্রী ও প্রসাধনী তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, কতিপয় লোক কামরাঙ্গীরচর থানার ইব্রাহীমনগর বালুরমাঠের হাজী মোঃ ছারওয়ার আলমের বাড়ির ৬ষ্ঠ তলার একটি কারখানায় নেয়। সেখানে তারা অবৈধ ভেজাল ক্রিম, বডি লোশন, তেল, হেয়ার স্পা, জেল ও ফেস প্যাকসহ বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরি করে।

কামরাঙ্গীরচর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে বলে জানান ডিবি কর্মকর্তা।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা অবৈধভাবে স্থাপিত ভেজাল প্রসাধনী তৈরি কারখানার কর্মচারী। এ ভেজাল কারখানার মালিক মোঃ সবুর ইসলাম ওরফে সবুজ ও বাড়ির মালিক মোঃ ছারওয়ার আলমসহ আরও দুইজন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিান চলছে বলেও জানয়েছে পুলিশ।


অনিয়ম পেলেই শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

অনিয়ম পেলেই শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: দৈনিক বাংলা
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

এইচএসসি পরীক্ষায় ব্যত্যয় ঘটালে কিংবা কোনো অনিয়মে সম্পৃক্ত থাকলে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সারাদেশের প্রতিটি কেন্দ্রে যেন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে পারি, সেজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

‘প্রশ্নফাঁসের এখন আর কোনো সুযোগ নেই। যারা প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে চেষ্টা করে কিংবা গুজব ছড়ায়, তাদেরকে বলছি, সেইরকম কিছু ধরা পড়লে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, অতিরিক্ত পুলিশ আসিফ মহীউদ্দীন, সহকারী কমিশনার ভূমি হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক অজয় ভৌমিক।


সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বিস্ফোরণে ৪ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী আহত

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে বিস্ফোরণে ৪ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী আহত
ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনার সময় বিস্ফোরণে ৪ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
আইএসপিআর-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের একটি গাড়ী ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে পতিত হয়। এতে ঘটনাস্থলে ৪ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী গুরুতর আহত হন। আহত শান্তিরক্ষীরা হলেন মেজর আশরাফুল হক, সৈনিক জসিম উদ্দিন, সৈনিক জাহাংগীর আলম এবং সৈনিক শরীফ হোসেন।

আহত শান্তিরক্ষীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বুয়ারে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত অন্যান্য শান্তিরক্ষীরা নিরাপদে আছেন।


বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারডুবি, ৩ মরদেহ উদ্ধার

বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারডুবি, ৩ মরদেহ উদ্ধার
ছবি: দৈনিক বাংলা
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া সমুদ্র উপকূলে রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

আজ মঙ্গলবার দেড়টার দিকে বাহারছড়া উপকূলের সৈকত থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

এ ঘটনায় রোহিঙ্গাসহ ৩৯ জনকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। তারা গভীর সাগরে অপেক্ষমাণ মালয়েশিয়াগামী বড় ট্রলারের উদ্দেশে বের হয়।   

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশি। বাকিরা বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। এদের মধ্যে মহেশখালীর ২ জন, টেকনাফ সাবরাংয়ের ১ জন ও ঈদগাঁওয়ের ১ জন। বাকিরা উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও হাকিম পাড়াসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ট্রলারডুবি, দালালসহ ৩৯ রোহিঙ্গা উদ্ধার

ওসি হাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে বাহারছড়া ইউনিয়নের হলবনিয়া সমুদ্র সৈকতের কাছে সাগর উপকূলে একটি ছোট ট্রলার ডুবে যায়। খবর পেয়ে বাহারছড়ায় কর্মরত কোস্ট গার্ডের একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় সাঁতরে কূলে আসার সময় ৩৯ জনকে উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরও জানান, গতকাল সোমবার রাতে একটি দালাল চক্র রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সাগর পথে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বাহারছড়া ইউনিয়নের হলবনিয়া গ্রামের বাইন্যাঘেনা এলাকায় নিয়ে এসে একটি বাড়িতে রেখেছিল। মঙ্গলবার ভোরে ছোট ট্রলারে করে হলবনিয়া সৈকত থেকে রওনা দেয়। সৈকত থেকে কিছুদূর গেলে সমুদ্রের ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

তিনি জানান, উদ্ধারকৃতদের বেশিরভাগ রোহিঙ্গা। এ ছাড়া কয়েকজন বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন। তাদের নাম-পরিচয় নেয়া হচ্ছে।

কোস্টগার্ডের টেকনাফের বাহারছড়া আউটপোস্ট স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার দেলোয়ার হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সকালে জেলেরা টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের হলবনিয়া পাড়া সাগর পয়েন্ট থেকে সাঁতরে কিছু রোহিঙ্গাকে উপকূলে আসতে দেখে কোস্টগার্ডকে খবর দেন। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে গভীর সাগরে রোহিঙ্গাদের বহনকারী ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে রোহিঙ্গারা সাগরে ভাসতে থাকেন। এ সময় মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলার ও নৌকার জেলেদের সহায়তা চেয়েও তারা পাননি। পরে জেলেদের ছুড়ে দেওয়া বয়া ও পানির জারে সাঁতরে রোহিঙ্গারা কূলে উঠে আসেন। এখনও অনেকে সাগরে ভাসছেন বলে দাবি করেছেন তারা।


ব্রিজের রেলিংয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কা, স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩

ব্রিজের রেলিংয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কা, স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩
ব্রিজের রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে মাইক্রোবাসের তিনযাত্রী নিহত। ছবি: দৈনিক বাংলা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১২ জন। 

গতকাল সোমবার রাত সোয়া ১০ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতরা সবাই ঢাকা থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বর-কনে নিয়ে নাটোর যাচ্ছিলেন।

নিহতরা হলেন, পাবনার রাধানগর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০) এবং তার স্ত্রী পান্না খাতুন (৩৫)। অপরজন মাইক্রোবাসের চালক। তার নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

সিরাজগঞ্জ সদরের টি আই সালেকুজ্জামান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত পান্না খাতুনের ভাগ্নে রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার ঢাকার মালিবাগে ছোট মামা সিয়াম হোসেনের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। সন্ধ্যায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর-কনেকে নিয়ে দুটি মাইক্রোবাস নাটোরের বনপাড়ার উদ্দেশে রওনা হয়। রাত সোয়া দশটার দিকে একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে ঘটনাস্থলেই গাড়ির চালক ও আমার খালু নিহত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে খালা মারা যান।’

রবিউল জানান , আহতদের রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

টি আই সালেকুজ্জামান জানান, ১৫ জন যাত্রী নিয়ে মাইক্রোবাসটি ঢাকা থেকে নাটোরের বনপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। ঝাঐল ওভারব্রিজের কাছে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ে ধাক্কা লাগে। এ সময় ঘটনাস্থলেই দুই জন নিহত হন। আহত হন ১৩ জন।

খবর পেয়ে কামারখন্দ ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়রা হতাহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে আরেকজন মারা যান।

টি আই আরও বলেন, তিনজনের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনরা আসলে তাদের লাশ বুঝিয়ে দেয়া হবে।