মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

জেলে সলিম, পালিয়ে মুসা তবু চলছে খুন ও সন্ত্রাস

জেলে সলিম, পালিয়ে মুসা তবু চলছে খুন ও সন্ত্রাস
আরসা। ফাইল ছবি
শাহরিয়ার হাসান
প্রকাশিত
  • রোহিঙ্গা শিবিরে আরসার দাপট

রোহিঙ্গা শিবিরে আলোচিত দুটি নাম; সলিম মাস্টার ওরফে রায়েত ও মো. মুসা। মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বড় বড় সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আসছে তাদের নাম।

সলিম (৩১) জেলে থাকলেও থেমে নেই তার অপরাধ কর্মকাণ্ড। আর মুসা (৩৫) নামের স্থানীয় যুবক আড়ালে-আবডালে থেকে বাস্তবায়ন করছেন মিয়ানমারে অবস্থান করা আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার ওরফে জুনুনির সব অপকর্ম।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করা একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও থানা পুলিশ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আগস্টের শেষ সপ্তাহে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে জানা যায়, সেখানকার সব খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, গুম, ধর্ষণসহ নানা অপরাধের সঙ্গেই আরসা কর্মীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হাত রয়েছে। 

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত ৫ বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুনের ঘটনা ঘটেছে ১২১টি, এগুলোর বেশিরভাগের সঙ্গে আরসার সংশ্লিষ্টতা ছিল। যদিও এতদিন সরকারের পক্ষ থেকে আরসার উপস্থিতি স্বীকার করা হয়নি। 

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গত ২৮ আগস্ট দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আসলে কে আরসা আর কে আরাকান আর্মি, সেটা কোনো বিষয় নয়। সেখানে যারাই অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়াবে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, মুহিব উল্লাহ খুনের পর বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ৪১৪ জন আরসা সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএন। তাদের মধ্যে আরসার প্রধান নেতা আতাউল্লাহর আপন ভাই শাহ আলীও রয়েছেন। যদিও পুলিশের ভাষ্য, এরা আরসা নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গ্রেপ্তারের চেয়ে এই সংগঠনের সদস্যসংখ্যা আরও অনেক বেশি। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য তালিকায় দেখা যায়, ওই সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাবে। অবশ্য আরসা প্রধান বিভিন্ন সময় দাবি করতেন, অন্তত ১৬ হাজার সদস্য আছে তাদের এই সশস্ত্র সংগঠনে। 

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মাস কয়েক আগ পর্যন্ত বলা হয়েছে যে, রোহিঙ্গা শিবিরে আরসার অস্তিত্ব নেই। তবে রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ খুন হওয়ায় পর আরসার অপতৎপরতা নিয়ে তেমন প্রশ্ন কারো মধ্যে নেই। বরং এদের দমন করার উপায় খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের তথ্য বলছে, সংগঠনটির প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার ওরফে জুনুনি মাসোহারা ভিত্তিতে ক্যাম্পগুলোতে এজেন্ট নিয়োগ করেছেন। তাদের হাতে ভারী অস্ত্র দিয়ে নানা অপকর্ম বাস্তবায়ন করিয়ে নিচ্ছেন । তার ও সংগঠনের অন্য নেতাদের নির্দেশনা এজেন্টদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন মুসা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ক্যাম্প এজেন্টদের প্রধান ও নিয়ন্ত্রক ৩১ নম্বর ক্যাম্পের মাস্টার সলিম। সর্বশেষ ৯ আগস্ট সলিমের করা ছকেই উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। এতে ১৫ নম্বর শিবিরের হেড মাঝি আবু তালেব ও সাব মাঝি সৈয়দ হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে আরসা সদস্যরা।

প্রথম দিকে আরসাকে নিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভিন্ন মত থাকলেও সম্প্রতি দুই নেতা, তিন মাঝি, ছয় মুসল্লিসহ অনন্ত দুই ডজন খুনে সরাসরি আরসা সদস্যরা জড়িত ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। এমনকি রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রেও খুনের সঙ্গে আরসার যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। যদিও সংগঠনটির প্রধান আতাউল্লাহসহ শীর্ষ নেতাদের নাম না থাকা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা আছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় এপিবিএনের কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদককে বলছেন, চার মামলায় গ্রেপ্তার সলিম জেলে থাকলেও মুসার সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

তবে এপিবিএন-৮ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, গত ১৭ জুন উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আমেরিকার তৈরি একটি অত্যাধুনিক এম-১৬ রাইফেল ও ৪৯২ পিস বুলেট উদ্ধার করা হয়। প্রথমবারের মতো উদ্ধার হওয়া এই ভারী অস্ত্রের সরবরাহকারী ছিলেন মুসা। সম্ভবত তিনি ক্যাম্প ১৯ অথবা ২০-এ অবস্থান করছেন।

 নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া একাধিক ক্যাম্পের হেড মাঝি বলেছেন, ক্যাম্পে নিয়মিত ভারী ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাতে মহড়া দেয় একটি গ্রুপ। তারা প্রত্যেক ব্লকে ব্লকে গিয়ে যুবকদের সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দিতে আহ্বান জানায়। কারো কারো ক্ষেত্রে আবার বাধ্য করা হয়।

এপিবিএন বলছে, ক্যাম্পে এসব অস্ত্রের জোগানদাতা মুসা। তথ্য আছে, কক্সবাজার জেলার উত্তর দিকে এক উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা তিনি। শুরুর দিকে একবার গ্রেপ্তার হলেও দীর্ঘদিন ধরে আরসা প্রধানের গানম্যান হিসেবে কাজ করছেন। তবে তিনি বেশির ভাগ সময়ই থাকেন ক্যাম্পে। যাতায়াত করেন পাহাড়ে পাহাড়ে। তবে আরসা এজেন্টদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করেন তুমব্রু সীমান্তে।

সন্ত্রাসী এই সংগঠনের হুমকিতে দিন পার করছেন খুন হওয়া মুহিব উল্লাহর সংগঠন এআরএসপিএইচের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মেদ জুবায়ের। লম্বাশিয়া শিবিরে এই বাসিন্দা দৈনিক বাংলাকে বলেন, প্রতিনিয়তই প্রকাশ্যে আরসার নাম করে তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে তার পরিণতিও মুহিবুল্লার মতোই হবে। পরিবারসহ খুন করা হবে তাকে। এ ছাড়াও মাঝে মাঝেই মালয়েশিয়ার একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোনে হুমকি দেয়া হয় তাকে। বিষয়গুলো জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকেও (ইউএনএইচসিআর) লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

মোহাম্মেদ জুবায়ের বলেন, ‘প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা ও অধিক জনপ্রিয়তার কারণেই ক্যাম্পে থাকা আরসার এজেন্টরা তাকে প্রতি মুহূর্তে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।’

আরসার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের এদেশে আসার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। দিনটিকে ঘিরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে। সবগুলো আয়োজন থেকে দাবি তোলা হয় প্রত্যাবাসনের। তারা বলেছেন, সম্মানের সঙ্গে নিজ আদি ভূমিতে ফিরতে চাওয়ার আকুতি ছিল তাদের মধ্যে। রোহিঙ্গারা ২৫ আগস্টকে ‘কালো দিন’ বলেন। কিন্তু কথিত আরসা সদস্যরা এই প্রত্যাবাসনবিরোধী। কোনো আয়োজন না করা আর করলেও প্রত্যাবাসন নিয়ে কথা না বলতে ক্যাম্পে ক্যাম্পে হুমকি দিয়ে বেড়ান তারা। সহিংসতা ঘটতে পারে বলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে থানায় অভিযোগ করেন।

উখিয়া-টেকনাফ থানা পুলিশ সূত্র বলছে, ২৫ আগস্ট নিয়ে আরসার নেতারা ক্যাম্পে থাকা বিভিন্ন মাঝিদের হুমকি দিয়েছেন বলে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। জানা গেছে, গত এক মাসে আরসার হুমকি নিয়ে টেকনাফ ও উখিয়া থানায় ৫টি অভিযোগ পড়েছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মাদ আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আরসার হুমকির বিষয়ে আমরা অবগত। সাধারণত ক্যাম্প থেকে যারা অভিযোগ করেন তারা ক্যাম্পের সিআইসির সুপারিশ নিয়ে অভিযোগ থানায় জমা দেন। ঘটনার তদন্তে থানা পুলিশ অধিকাংশ সময় ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা এপিবিএনের সাহায্য নিয়ে থাকেন।’

আরসা ও তার নেতৃত্ব

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০টি চৌকিতে হামলা চালানোর জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষ আরসাকে দায়ী করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনী ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে, আর সেই হত্যা, ধর্ষণ এবং নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৭ লাখের মতো রোহিঙ্গা।

মিয়ানমার সরকার আরসাকে একটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী বলে ঘোষণা করে, কারণ এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

সংগঠনটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের ঘোর বিরোধী। তাদের নেতারা কখনও মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান না। কারণ বর্মী সেনাবাহিনী তাদের খুঁজছে। গেলে তাদের দণ্ড ভোগ করতে হবে। এ জন্য তারা চান না যে রোহিঙ্গারাও তাদের দেশে ফিরে যাক।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, আরসার নেতৃত্বে রয়েছেন ‘আতাউল্লাহ’ নামে একজন রোহিঙ্গা, যার জন্ম করাচিতে, বেড়ে উঠেছেন সৌদি আরবে। গোপনে অবস্থান করছেন মিয়ানমারে।

এপিবিএন সূত্র বলছে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মোট ৩৪টি ক্যাম্প আছে। প্রতিটি ক্যাম্পেই আরসা সদস্যরা সক্রিয়। তাদের সদস্য সংখা কমপক্ষে পাঁচ হাজার। এখন পর্যন্ত তাদের ১০ জন কমান্ডারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা হলেন, আলি জোহর, হোসেন জোহর, জয়নাল, মো. সেলিম, আয়াত উল্লাহ, বশির উল্লাহ এবং ওবাইদ উল্লাহ। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন আলমগীর, মৌলভী মোস্তাক, ওস্তাদ খালেদ ওরফে খালিদ, ইব্রাহিম।

তুমব্রু সীমান্তে আরসার গোপন বৈঠক

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের তুমব্রু, থোয়াইংগা ঝিরি সীমান্তের ক্যাম্পে থাকা আরসার এজেন্টদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক হয়। বৈঠকগুলো সমন্বয় করেন আরসা প্রধানের গানম্যান হিসেবে পরিচিত মুসা। কারাগার থেকে ফোনে যুক্ত হয় মাস্টার সলিম। বৈঠকে যোগ দেন ৩৪ ক্যাম্পে আরসার জিম্মাদারদের প্রধানরা।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক জিম্মাদারের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক বাংলার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব জিম্মাদার জানান, ওই বৈঠকে মূলত ক্যাম্পে আরসার তৎপরতা সামনের ৩ মাসে কেমন হবে তার দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। যা বাস্তবায়ন করেন তারা। কোনো মাঝি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তাহলে তাকে নিয়েই বৈঠকে বেশি আলোচনা হয়। কারণ সাধারণ রোহিঙ্গাদের কবজায় আনতে হলে মাঝিদের আগে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়। আর নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে হত্যার পরিকল্পনা বা নির্দেশনা আসে।

সম্প্রতি সরেজমিনে তুমব্রু ও থোয়াইংগা ঝিরি সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, মিয়ানমার-বাংলাদেশ মৈত্রী সড়কের পাশ ঘেঁষে বয়ে গেছে সরু খাল। যা মিশেছে নাফ নদীতে গিয়ে। দুই দেশের সীমানাপ্রাচীরকে ভাগ করেছে এ খাল। দুই পাড়েই আছে অসংখ্য পাহাড়। যেখানে বাংলাদেশিদের চলাচলে কঠোরতা থাকলেও রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ রয়েছে। তবে গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় গোপন রেখে সেখানে পৌঁছায় দৈনিক বাংলার এই প্রতিবেদক। কথা হয় নো-ম্যান্সল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে। তারাও অবগত আরসার বৈঠক সম্পর্কে। এর বেশি বলতে চাননি জিরো পয়েন্টে থাকা এসব রোহিঙ্গারা।

 আরসার অনুসারীদের জামিনের জন্য আছে আলাদা চক্র

আরসার সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের অল্প কিছুদিন পরই জামিনে বেরিয়ে আসেন। তাদের এই দ্রুত জামিন পাওয়া নিয়ে বেশ বিভ্রান্তি দেখা গেছে স্থানীয় প্রশাসনের মাঝে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আরসা অনুসারী বা রোহিঙ্গাদের কেউ গ্রেপ্তার হলে তাদের জামিনে কাজ করে একটি সিন্ডিকেট। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদের জামিন করানোর ব্যবস্থা করা। এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন  কক্সবাজার শহরের মৌলভী ইলিয়াছ নামের এক ব্যক্তিসহ কয়েকজন। ইলিয়াস ৯০ দশকের মাঝামাঝি মিয়ানমার থেকে এদেশে এসে বসতি স্থাপন করেন।

সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের নিয়োগ করা আইনজীবীর মাধ্যমে আটক করা আসামিকে আদালত থেকে দ্রুত ছাড়িয়ে নেন।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে বলেন, রোহিঙ্গা বা আরসা অনুসারীদের জামিনের ব্যাপারে একটা গোষ্ঠী কাজ করে, যাদের কাজ হচ্ছে মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা। আমরা আইনের মধ্যে থেকে এটা প্রতিহত করার চেষ্টা করছি।

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বিভক্ত আরসা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর হেড মাঝি ও আরসার মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। এ দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ আরসার ছায়াতল থেকে সরে আসা চেষ্টা অথবা মাঝির একক আধিপত্য বিস্তার। তা ছাড়া অবৈধ আয়ের ভাগবাঁটোয়ারা নিয়েও দ্বন্দ্ব তো আছেই। এসব কারণে আরসা অনুসারী মাঝিরা সংগঠন থেকে বিভক্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু সংগঠনের মূল শক্তি জানান দেয়া ও অন্যদের কাছে এই বার্তা পৌঁছানোর জন্য হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। সর্বশেষ হত্যার শিকার জামতলি এফডিএমএন ক্যাম্প-১৫ এর সি ব্লকের হেড মাঝি আবু তালেবও ছিলেন আরসার সাবেক সদস্য।

১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, সম্প্রতি ক্যাম্পে খুনগুলো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে।

জানতে চাইলে অভিবাসন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আসিফ মুনীর দৈনিক বাংলাকে বলেন, আরসা আছে কী আরসা নেই এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ক্যাম্পে এত রক্তপাত কারা ঘাটাচ্ছে? যদি আরসাই করে থাকে তাহলে গত ৪ বছরে এটা না জানা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চরম ব্যর্থতা। আর জেনেও চুপ করে থাকলে তাদের প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে।   

সর্বশেষ গত মাসের শেষ সপ্তাহে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা শেষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিনা কারণে রক্তপাত হচ্ছে। হানাহানি হচ্ছে। মাদক ও সন্ত্রাস বেড়ে যাচ্ছে। এগুলো বন্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও যেকোনো সময় অভিযান করতে পারবে, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

(প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন দৈনিক বাংলার কক্সবাজার প্রতিনিধি মুহিবুল্লাহ মুহিব)


পর্যটন খাতের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি : প্রতিমন্ত্রী

পর্যটন খাতের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি :  প্রতিমন্ত্রী
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

দেশের পর্যটন খাতকে টার্গেট নিয়ে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেন, আমরা যথাসম্ভব আমাদের টার্গেটে পৌঁছাব। এ জন্য একটা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেট খেলায় দেখা যায়, পাঁচটা বল ভালোভাবে ব্যাটিং করতে পারে না। কিন্তু শেষ বলে ছয় মারে। অনেক সময় মেডেনওভার যায়, যেখানে কোন রানই করতে পারে না। আবার এমনও পরিস্থিতি দাঁড়ায়, ছয় বলে ৩৬ রান করা যায়। সুতরাং আমাদের সামনে সেই সুযোগটা রয়েছে, ছয় বলে ৩৬ রান করার। আমাদের সমস্ত উপকরণ আছে, আমাদের ইচ্ছা আছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ পর্যটনকে কেন্দ্র করে অনেক দূর এগিয়েছে। আমাদের দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্যের আছে। সেগুলো তুলে ধরতে হবে।

পর্যটন দিবসের এই আয়োজন প্রতিটি শহরে ছড়িয়ে দিতে হবে জানিয়ে মাহবুব আলী বলেন, আমার মধ্যে প্রতিভা আছে, সেটাতো সবাইকে জানাতে হবে। নিজের মধ্যে রাখলে তো হবে না। আমাদের দেশে যে সম্পদ আছে, প্রতিভা আছে, এখন সবাইকে তা জানাতে হবে।

আলোচনা সভায় অনেকের বক্তব্যের সূত্র ধরে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলেছেন পর্যটন করপোরেশনে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। বিষয়টি আমরা ক্যাবিনেট সেক্রেটারি সঙ্গে কথা বলব। একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে পর্যটনে দায়িত্ব দিতে প্রস্তাব দেব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটন স্পটে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে, এটা সংশ্লিষ্ট দেশের সংবাদমাধ্যম নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটা ঘটনা (কক্সবাজার) পর্যটন সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ একটা ঘটনায় যেন পুরো সেক্টরের ক্ষতি না হয়। আমরাও চাই একটি আপরাধও যেন দেশে না হয়।

এ সময় পর্যটন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা কোভিড পূর্ববর্তী যে অবস্থায় ছিলাম, সেখানে যেতে চাই না। তার চেয়ে অনেক এগিয়ে যেতে চাই। পর্যটনের উন্নয়নে মিডিয়া কিন্তু সরকার ও বেসরকারি খাতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেশি।

গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সচিব বলেন, আমি অনুরোধ করব, দেশের স্বার্থে যেন পজিটিভলি খবর প্রকাশ হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবার সঙ্গে আলোচনা করে পর্যটন নিয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডিসেম্বরে সেই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে যাব।

আলোচনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আলি কদর, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. জাবের প্রমুখ।


অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ

অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ
পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নরসিংদীতে উদ্ধার হওয়া যুবকের অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ। আনুমানিক ৩২ বছর বয়সী ওই যুবকের পরনে ছিল হালকা আকাশি রঙের জিন্স প্যান্ট ও আকাশি ডোরাকাটা টি শার্ট। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মরদেহটি মর্গে রয়েছে।

শিবপুর থানা পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার মরদেহটি শিবপুরের বাহেরখোলা গ্রামের আসাদ মীরের বাড়ির পূর্ব পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।  

শিবপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া জানান, এখনও পর্যন্ত মরদেহটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরিচয় না পাওয়া গেলে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি দাফন করার জন্য আঞ্জুমানে দেয়া হবে।


গাড়ি চাপায় তরুণী নিহত

গাড়ি চাপায় তরুণী নিহত
প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গাড়ির চাপায় এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বেজগাঁও বাস স্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার নাম ঠিকানা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মাহফুজ রিবেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট বাহারুল সোহাগ জানান, ওই নারীকে অজ্ঞাত একটি গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই নারী। মরদেহ হাইওয়ে থানা পুলিশ হেফাজতে আছে।


কানাডা যাচ্ছেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লার পরিবারের আরও ১৪ সদস্য

কানাডা যাচ্ছেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লার পরিবারের আরও ১৪ সদস্য
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কক্সবাজারে শরণার্থী ক্যাম্পে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহর মাসহ তার দুই ভাইয়ের পরিবারের আরও ১৪ সদস্য জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) তত্ত্বাবধানে কানাডায় যাচ্ছেন।

গত রোববার তারা ঢাকার উদ্দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছাড়েন বলে আজ মঙ্গলবার জানান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৮ এর সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ।
 
তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র তত্ত্বাবধানে মুহিবুল্লাহর পরিবারের ১৪ সদস্যকে তাদের ব্যাটালিয়নের অধীনে ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

এপিবিএন জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে পরিবারের ১৪ সদস্যের দলটির কানাডার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। এই ১৪ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন, মুহিবুল্লাহর মা উম্মে ফজল (৬০), ছোট ভাই হাবিব উল্লাহর স্ত্রী আসমা বিবি (৩৫), সন্তান কয়কবা (১৫), বয়সারা (১৩), হুনাইসা (৯), আইমন (৮), ওরদা বিবি (৫), আশরাফ (৫) ও আরেক ভাই আহমদ উল্লাহর স্ত্রী শামছুন নাহার (৩৭), সন্তান হামদাল্লাহ (১১), হান্নানা বিবি (৯), আফসার উদ্দীন (৭), সোহানা বিবি (৫) ও মেজবাহ উল্লাহ (১)।

এর আগে, গত ৩১ মার্চ রোহিঙ্গা নেতার স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের ১১ জন সদস্য কানাডার উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন।

ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সময় সেখানে পুলিশসহ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), এবং জাতিসংঘের শরণার্থী হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে সর্বশেষ রোহিঙ্গা নির্বাসনের দুই বছর পর্যবেক্ষণ উপলক্ষে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা সদস্য নিয়ে সমাবেশ করার পর নেতা হিসেবে লাইমলাইটে আসেন মুহিবুল্লাহ।

গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কুতুপালং-১ (ইস্ট) লম্বাশিয়া ক্যাম্পের ডি-৮ ব্লকে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ (৪৬)। মিয়ানমারের মংডুতে স্কুলে শিক্ষাকতা করতেন বলে রোহিঙ্গাদের কাছে তিনি ‘মুহিবুল্লাহ মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরদিন তার ভাই হাবিব উল্লাহর অভিযোগে হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ।

পরে ২০২১ সালের অক্টোবরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-১৪) সদস্যরা মহিবুল্লাহ হত্যাকারী দলের সদস্যসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এদের মধ্যে আসামি আজিজুল হক পরদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বাকি ৩ আসামি হলেন- কুতুপালং ক্যাম্পের ডি-ব্লকের মুহাম্মদ রশিদ ওরফে মুর্শিদ আমিন, ক্যাম্পের বি-ব্লকের মুহাম্মদ আনাস ও নুর মুহাম্মদ।


বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন
সাজাপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

লক্ষ্মীপুরে বড় ভাই আবদুল হান্নানকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছোট ভাই আবদুল মান্নানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামি উপস্থিত ছিলেন।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার এবং আদালত সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের চর পার্বতীনগর গ্রামের আনু মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা আবুল কালামের দুই ছেলে আবদুল হান্নান ও আবদুল মান্নান। হান্নানকে বিয়ে করানোর পর থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

২০১৯ সালের ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১২ টার দিকে হান্নান তার ছোট ভাইকে বসতঘরের জানালার পাশে দেখতে পেয়ে তার স্ত্রী সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় জানালার পাশে থাকা ছোট ভাই মান্নান একটি দা নিয়ে হান্নানের ঘরে ঢুকে। কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মান্নান তার বড় ভাই হান্নানের ঘাড়ে কোপ দেন। দায়ের কোপে হান্নানের ঘাড়ে বেশিরভাগ অংশ আলাদা হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

পরদিন সকালে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বাবা আবুল কালাম ছোট ছেলে হান্নানকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন পুলিশ মান্নানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রানা দাস আসামি মান্নানকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে প্রায় সাড়ে চার বছর পর এই মামলার রায় দেয়া হয়।