মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৬

ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৬
ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় ৬ জন গ্রেপ্তার। ছবি: দৈনিক বাংলা
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

পাবনাসহ সারা দেশে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি করে আসা একটি চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত এক সপ্তাহ ধরে ভোলা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শেষে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ডাকাতিতে ব্যবহৃত ডিবি পুলিশের পোশাক, হ্যান্ডকাফসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) পাবনা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার দোহাকালা গ্রামের মৃত মোক্তার হোসেনের ছেলে মাসুদ করিম (৪৭), বড় পাঙ্গাসী মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত সাবেদ প্রামানিকের ছেলে আরিফুল ইসলাম (৩২), উল্লাপাড়া পশ্চিম পাড়ার নান্নু মিয়ার ছেলে আরিফ (৩৩), চর আঙ্গুরু গ্রামের আব্দুস শুকুর মিয়ার ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৮), প্রামাণিক পাড়া গ্রামের আব্দুল কাদের প্রামাণিকের ছেলে মাসুদ রানা, ভোলা জেলার দুলারহাট থানার নুরাবাদ গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে হোসেন ড্রাইভার।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২৫ আগস্ট পাবনার জনতা ব্যাংক কাশীনাথপুর শাখা থেকে পার্শ্ববর্তী হাবিবুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলাম ৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে বাড়ির দিকে রওনা হয়। পথে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে নান্দিয়ারা কবরস্থানের সামনে একটি সাদা মাইক্রোবাস শরিফুলকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আটক করে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে চোখ ও হাত পা বেঁধে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে আলাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাইক্রোবাস থেকে ফেলে দেয়। পরদিন ২৬ আগস্ট শরিফুল আমিনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযোগের সূত্র ধরে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে টানা এক সপ্তাহ তদন্ত করে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। কয়েক দফা অভিযানে ভোলা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা ও গাজীপুর থেকে ডাকাত চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত পুলিশের পোশাক, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি, পুলিশের সিগন্যাল লাইটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত উদ্ধার হয়েছে।


প্রাইভেটকার চাপায় পথচারী নিহত

প্রাইভেটকার চাপায় পথচারী নিহত
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি ধান ক্ষেত্রে পড়ে যায়। ছবি: দৈনিক বাংলা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রাইভেটকারের চাপায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৭ টার দিকে দেবিদ্বর উপজেলার ছয়ঘুরিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম হাকিম (৬০)। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে। তিনি ঘটনাস্থলের পাশে একটি অটোরাইস মিলে কাজ করতেন।  

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম।  

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি নজরুল জানান, সকাল ৭ টায় প্রাইভেটকারটি বেপারোয়া গতিতে যাচ্ছিল। এ সময় সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন হাকিম। পরে একটি গাড়িকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাকিমকে চাপা দিয়ে প্রাইভেটকারটি ধান ক্ষেত্রে পড়ে যায়।

এতে প্রাইভেটকারচালক, তার স্ত্রী ও কন্যা আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে পাঠায়। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম পাওয়া যায়নি। 


কুমিল্লার ফুসফুস ধর্মসাগর

কুমিল্লার ফুসফুস ধর্মসাগর
কুমিল্লার শহরের বেড়ানোর একমাত্র স্থান ধর্মসাগর পাড়। ছবি: দৈনিক বাংলা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • শহরে বেড়ানোর স্থান

  • কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ধর্মসাগর মূলত একটি বড় দীঘি। এত বড় জলাধার কুমিল্লা শহরের আশপাশে নেই বলে অনেকেই একে নগর কুমিল্লার ফুসফুস বলে অভিহিত করেন।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

ধর্মসাগর। নাম শুনলেই অনেকের চোখের সামনে হয়তো ভেসে উঠতে পারে সৈকতে ঢেউ আছড়ে ফেলা কোনো সাগর। কিন্তু ধর্মসাগর প্রকৃতপক্ষে সাগর নয়, বিশালাকার এক দীঘি। কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্রে এর অবস্থান। এত বড় জলাধার কুমিল্লা শহরের আশপাশে কোথাও নেই। সাড়ে ৫০০ বছর আগের ধর্মসাগর তাই ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক-বাহক তো বটেই, ক্রমেই ইট-কংক্রিটের নগরে রূপ নেয়া কুমিল্লার জন্য এক টুকরো স্বস্তির জায়গাও। ‘কুমিল্লার ফুসফুস’ বলেই তাই ধর্মসাগরকে অভিহিত করে থাকেন স্থানীয়রা।

সকাল-বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষের ভিড় লেগেই থাকে এই ধর্মসাগরের পাড়ে। কেউ বসে থাকেন বিষণ্ন মনে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দেন। পাড় লাগোয়া বেঞ্চে বসে বান্ধবীর হাত ধরে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বোনেন কোনো তরুণ। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু মুক্ত বাতাসের সন্ধান করেন ধর্মসাগরের চারপাশে। কত শত প্রেম-বিচ্ছেদ, কত নির্মম মৃত্যুর সাক্ষী এ ধর্মসাগর!

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৪৫৮ সালে ত্রিপুরারাজ ধর্মমাণিক্য খনন করেন এই দীঘি। আয়তন ২৩ দশমিক ১৮ একর। এই অঞ্চলের মানুষের পানির কষ্ট নিবারণ করাই ছিল রাজার মূল উদ্দেশ্য। ‘রাজমালা’ গ্রন্থ আনুযায়ী, মহারাজা ধর্মমাণিক্য রাজত্ব করেন দীর্ঘ ৩২ বছর। তার নামেই দীঘির নামকরণ হয় ধর্মসাগর। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা ভ্রমণে এলে সংগীতজ্ঞ শচীন দেববর্মণের সঙ্গে যেসব জায়গায় সময় কাটাতেন, তার মধ্যে ধর্মসাগর ও এর আশপাশের এলাকা অন্যতম।

লেখক ও ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর জানান, ধর্মসাগর যখন খনন করা হয় সেই সময়টা মধ্যযুগ। সেই সময়টা অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ হিসেবেও বিবেচিত হয়। ওই সময় সুপেয় পানির অভাব ছিল। সে সময় এ অঞ্চলে যেসব রাজা শাসন করতেন তারা প্রজাদের সুপেয় পানির জন্য কিছু দীঘি খনন করেন। ধর্মসাগর, জগন্নাথ দীঘি, নানুয়ার দীঘি ও উজির দীঘি এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

আহসানুল কবীর বলেন, বর্তমান যে ওয়েলফেয়ার স্টেট বা কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, তার শুরুটা মূলত ওই সময়কার রাজাদের হাত ধরে। তবে এমন ঘটনার অন্যতম ভালো উদাহরণ রাজা মাণিক্য বাহাদুর। তিনি তখন তার রাজ্যর লোকদের জন্য ধর্মসাগর খনন করেন।

ধর্মসাগর নিয়ে নানা জনশ্রুতির কথা তুলে ধরে এই গবেষক বলেন, প্রায় চার হাজার শ্রমিক দুই বছর ধরে এই দীঘি খনন করেন বলে প্রচলিত রয়েছে। এই ধর্মসাগর খনন উপলক্ষে অন্তত ২৯ জন ব্রাহ্মণকে রাজা ধর্মমাণিক্য নিষ্কণ্টক ভূমি দান করেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। এ ছাড়া রাজা মাণিক্য বাহাদুর অসিয়ত করেছিলেন, তার মৃত্যুর পর যারাই ধর্মসাগরটি রক্ষণাবেক্ষণ করবেন তারা দাসানুসারে জীবনযাপন করবেন।

সময়ের পরিক্রমায় এখন আর সুপেয় পানির জন্য ধর্মসাগরের ওপর নির্ভর করতে হয় না কুমিল্লাবাসীকে। তবে সাড়ে ৫০০ বছর আগের সেই দীঘি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হয়েছে ঐতিহ্যে। ধর্মসাগর ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। দলবেঁধে হাঁটা, যোগ ব্যায়াম, পথশিশুদের বিনামূল্যে পড়ালেখা করানো- এ রকম বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে সংগঠনগুলো। বিকেলে দর্শনার্থীদের নৌকা ভ্রমণের সুযোগও রয়েছে এই দীঘিতে।

ধর্মসাগরের উত্তর পাড়ে রয়েছে পথশিশুদের জন্য অবকাশ স্কুল। ওই স্কুলের সভাপতি ও শিক্ষক আজমীর হোসেন ইমন বলেন, স্কুলটিতে ৬৭ জন শিশু নিয়মিত পড়তে আসে। এই ধর্মসাগরটাই আমাদের অনুপ্রেরণা।

ধর্মসাগরপাড়ে ঘুরতে আসা কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রভাষক কাজী বেলায়েত উল্লাহ জুয়েল বলেন, ‘আমার কাছে ধর্মসাগর পাড়কে সুস্থ মনন বিকাশের আদর্শ পরিবেশ বলে মনে হয়। স্কুলজীবন থেকে শুরু, এখনো নির্মল বাতাসের খোঁজে পরিবারসহ আমরা যারা কুমিল্লা শহরবাসী তারা ধর্মসাগরের পাড়কেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করি।’

ইতিহাস-ঐতিহ্যর এই স্মারক দীঘি রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানালেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ড. সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দীঘিটির বিভিন্ন পাড়ে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছিল। আমরা সেগুলো উচ্ছেদ করেছি। এই দীঘি রক্ষণাবেক্ষণসহ সৃজনশীল পদক্ষেপ নিতে নানা শ্রেণি-পেশার অংশীজনদের নিয়ে একটি কমিটি করতে চাই। আমরা আশাবাদী, এ রকম হলে ধর্মসাগরের সৌন্দর্য আরও বাড়বে।’


এক দশকেও ভবন পায়নি পাচগ্রাম ইউপি

এক দশকেও ভবন পায়নি পাচগ্রাম ইউপি
ছবি: দৈনিক বাংলা
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কার্ত্তিক দাস, নড়াইল

প্রতিষ্ঠার এক দশকেও নির্মিত হয়নি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাচগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। স্থান নির্ধারণ নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে থেমে আছে ভবন নির্মাণের কাজ। বর্তমানে পরিষদের কাজ চলছে ৪০ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্মিত একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে।

ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১১ সালে বৃহত্তর ১১ নম্বর পেড়লী ইউনিয়ন থেকে আলাদা হয়ে পাচগ্রাম ইউনিয়ন গঠিত হয়। এই ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে ইউনিয়নের পাটেশ্বরী বিলের স্লুইস গেট সংলগ্ন দুই কক্ষের একটি পরিত্যক্ত ভবনে। পাউবো এই ভবনটি বিলের পানি নিষ্কাশনে স্লুইস গেট দেখভালে প্রহরীদের থাকার জন্য নির্মাণ করেছিল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের কাজ চালানো ওই ভবনের ছাদসহ দেয়ালের চারপাশের পলেস্তরা খসে পড়ছে। দরজা-জানালার কাঠে ঘুণ পোকা ধরেছে। ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে এরই মধ্যে সচিবসহ উদ্যোক্তা আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাইফুজ্জামান পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করেই গোপনে তার বসতবাড়ি সংলগ্ন ২৫ শতাংশ জমি ইউনিয়ন পরিষদের নামে লিখে দিয়ে ভবন অনুমোদনের জন্য সরকারি কার্যক্রম শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে পরিষদের সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন। তারা নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হককে তাদের আপত্তির বিষয়টি অবগত করেন। সংসদ সদস্য কবিরুল পরিষদ-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত রেখে এলাকার জনগণের মতামতের ভিত্তিতে ইউনিয়নের মধ্যখানে পরিষদের ভবন নির্মাণের পরামর্শ দেন।

ইউপি সদস্যরা বলেন, চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান সংসদ সদস্যের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে পরিষদ ভবনের কার্যক্রম আদেশ পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে পরিষদের ১০ জন সদস্য ও স্থানীয় দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তি মামলায় পক্ষভুক্ত হন। বিচারক সংসদ সদস্যকেও ওই মামলায় পক্ষভুক্ত করেন। সে মামলার কার্যক্রম এখনো চলমান।

পাটেশ্বরী গ্রামের হেকমত মোল্লা, রজব আলীসহ একাধিক বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক বলছেন, পাচগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি ইউনিয়নের মাঝখানে হলে ভালো হয়। এতে উভয় পাশের জনগণের জন্য মঙ্গল। তাদের অভিমত, পাচগ্রাম উসমান গণি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পাটেশ্বরী মহিষখোলা বাজারের মধ্যবর্তী পাকা রাস্তার পাশে ভবনটি করা হলে সবার জন্য সুবিধা হবে।

পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধির হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে গোটা ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষ পরিষদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু জনগণই নন, পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, সচিব, উদ্যোক্তা, গ্রাম পুলিশ সবাইকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কক্ষের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০১৫ সালে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় উসমান গণি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পাটেশ্বরী বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে ৩০ শতাংশ জমি পরিষদের নামে বাংলাদেশ সরকারকে লিখে দেয়া হয়েছে। ওই জায়গাটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের জন্য পরিপত্র অনুযায়ী খুবই উপযোগী।’ বাস্তবতার নিরিখে ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণের জন্য সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।


অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকিতে শত কোটি টাকার সেতু

অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকিতে শত কোটি টাকার সেতু
জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় হুমকির মুখে পড়েছে ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি। ছবি: দৈনিক বাংলা
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প

সাইমুম সাব্বির শোভন, জামালপুর

জামালপুরের ইসলামপুরে দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় শত কোটি টাকায় নির্মিত একটি সেতু হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে সেতুর নিচের পিলারের ব্লক ধসে পড়েছে। এ ছাড়া সেতুর মূল অংশ ও সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি জেলা প্রশাসন।

স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চা বাড়াতে দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো ইসলামপুরের দক্ষিণ শুভাকুড়া গ্রামে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে সরকার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে তিন একর জমির ওপর এ স্টেডিয়াম নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ছয় কোটি টাকা। আর স্টেডিয়ামটি নির্মাণের জন্য ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে একাধিক অবৈধ ড্রেজার দিয়ে গত এক মাস ধরে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিনিময় কনস্ট্রাকশন। এর ফলে হুমকিতে পড়েছে নিকটস্থ একটি সেতু। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না, যদিও বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

প্রস্তাবিত মিনি স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশে রয়েছে ৫৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের শহীদ মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর-উত্তম সেতু। ২০১৮ সালে ইসলামপুরের সঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলা ও শেরপুর জেলাকে সরাসরি সংযুক্ত করতে ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সেতু নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সেতুটির ৩০ মিটারের মধ্যে গত এক মাস ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ধসে পড়েছে সেতুর পূর্ব পাশের অ্যাপার্টমেন্টের সিসি ব্লক। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে সেতুটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। এতে নদী তীরবর্তী লাখ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বেন বলেও আশঙ্কা তাদের।

স্থানীয়রা আরও বলছেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকিতে রয়েছে নদী তীরবর্তী শত শত একর ফসলি জমি ও বেশকিছু বসতভিটা। শুভাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা আজাহার আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এক মাস ধরে নদী থাইকে ড্রেজারে মাটি কাইটে স্টেডিয়াম মাঠের মাটি কাটা হয়তাছে। এইভাবে তো ব্রিজ টিকান যাইব না। তবে মাটি কাটা শেষ হইলে আমাদের এলাকা উন্নত হবে, পুলাপান খেলাধুলা করতে পারবে।’

সেতু এলাকার বাসিন্দা মো. শাকিল বলেন, ‘নদীর অবস্থা খুব খারাপ। শুধু ড্রেজারের কারণে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হইছে। কোন সময় জানি এই শত কোটি টাকার ব্রিজ ভাইঙ্গে পইড়ে যাব গা। এইগুলা তো ঠিক না। সরকারের পরিকল্পনা নেয়া উচিত।’

সেতু দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী ইজিবাইক চালক হৃদয় বলেন, ‘এই ব্রিজ দিয়ে শেরপুর-বকশীগঞ্জের লাখ লাখ মানুষের যাতায়াত। এই ব্রিজটার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হইলে আমাদের অনেক কষ্ট হবে। এর জন্য আমাদের বালু তোলা বন্ধ করা দরকার।’

মিজানুর রহমান নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমার বাড়িঘরের অবস্থা খুব খারাপ। কাছারের ওপরে এখন ভাঙতাছে। বালু তোলা বন্ধের জন্যই আমরা সুপারিশ করছি। তারা সুপারিশ মানে না। ড্রেজার দিয়ে বালু কাটতাছে। তারা বলে স্টেডিয়াম করব। এখন আল্লাহর কাছে সঁইপে দিছি। আল্লাহ যদি (সেতু) থুয়ে দেই, থাকব। আর না হইলে হইরে যাওয়া লাগব।’

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা মহর আলী বলেন, ‘সেতুর ৩০০ মিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন করা নিষেধ থাকলেও মাটি কাটতাছে একদম ৩০ মিটারের মধ্যে। একদিকে ব্রিজের ক্ষতি হইতাছে; আরেকদিকে এই জায়গায় যত গভীর হইতাছে, আমাদের জায়গা-সম্পত্তির তত ক্ষতি হইতাছে। বাড়িঘর নিয়েও হুমকির মধ্যে আছি আমরা। আমি এর জন্যে ড্রেজারে মাটি কাটবার দিমু না বইলে নিষেধ করছিলাম। এরপরে আঙ্গরে (আমাদের) হুমকি দিছে। বলে, পুলিশ আসব। আইসে তগরে বাইরেব (প্রহার করবে), বাইরেয়ে ধইরে নিয়ে যাব গা। হুমকির কারণে তারপরে আর কোনো প্রতিবাদ করি নাই।’

এদিকে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত পাইপের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদে ব্যাহত হচ্ছে নৌযান চলাচল। এ নিয়ে মাঝি মো. মজিবর রহমান বলেন, ‘এই ড্রেজারের জন্য নদী দিয়ে নৌকা চলাফেরা করা অসুবিধা হয়ে গেছে গা। বড় নৌকা চলতে পারে না। আর আমরা কোনোমতে চলতাছি। তাও উজান দিকে যাবারই পাই না।’

এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বা তাদের কোনো প্রতিনিধির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুজ্জামান সাদেক বলেন, ‘নদীটি ভাঙতে ভাঙতে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের কাছে আসে। আমাদের অ্যাপার্টমেন্টসহ প্রটেকশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা আমাদের এলজিইডির পক্ষ থেকে এই ব্রিজটি টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

এলজিইডি চাইলে পানির নিচের ক্ষতি পরিমাপ করে কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, ‘এখানে পানির নিচে কতটুকু ক্ষতি হলো, কতটুকু ভাঙন আছে, রিভার বেডে (নদীগর্ভে) কতটুক স্কাউরিং (নদীর তলদেশ থেকে মাটি তুলে নিয়ে যাওয়া) আঁটে, এগুলো ব্যাথিমেট্রিক সার্ভে করলে বোঝা যাবে। সে অনুযায়ী এখানে মেরামতের ডিজাইন হবে। এলজিইডি অনেক বড় একটি প্রকৌশল বিভাগ। তারপরও তারা প্রয়োজন মনে করলে পাউবো কারিগরি সহযোগিতা করতে রাজি আছে।’

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক শ্রাবস্তী রায় মোবাইল ফোনে বলেন, ‘জেলার যেকোনো জায়গায় যারা বালু উত্তোলন করবে, তাদের তালিকা তৈরি করে আমরা নিয়মিত মামলা করার জন্য তহশিলদার, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি। এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্তও আছে।’


ঘুষ না পেলে কাজ করেন না জাফর

ঘুষ না পেলে কাজ করেন না জাফর
ছবি: সংগৃহীত
সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙামাটি
প্রকাশিত
  • জেলা অফিসের কর্মচারীদের অভিযোগ

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙামাটি

রাঙামাটির পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উন্নয়ন খাতের কর্মচারী মো. জাফর আহম্মদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন জেলার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিভিন্ন উপজেলা অফিসের কর্মচারীরা। তারা বলছেন, টাকা না দিলে জাফর অফিশিয়াল কোনো কাজই করেন না। উপজেলা অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে সবসময় দুর্ব্যবহারও করেন তিনি। এসব কারণে তারা জাফর আহম্মদের বিরুদ্ধে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর উপপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করছেন অভিযুক্ত জাফর আহম্মদ।

রাঙামাটি জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে পার্বত্য তিন জেলায় গঠিত হয় স্থানীয় সরকার পরিষদ। পরে ১৯৯৮ সালে তিন জেলায় স্থানীয় সরকার পরিষদের বদলে পার্বত্য জেলা পরিষদ নামকরণ হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির শর্তানুযায়ী, এ তিন জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত হয় পরিবার পরিকল্পনাসহ মোট ৩০টি বিভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত জাফর রাজস্থলী উপজেলায় অফিস সহকারী পদে নিয়োগ পেলেও বহু বছর ধরে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। জেলা পরিষদের অধীনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর হওয়ায় জেলা পরিষদে দেখা যায় জাফরকে।

উপজেলা অফিসের কর্মচারীরা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, মো. জাফর আহম্মদ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে জেলা ও ১০ উপজেলার কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত দুর্বব্যহার করে চলেছেন। টাকা বা ঘুষ ছাড়া তিনি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কোনো কর্মচারীর অফিশিয়াল কাজ করেন না। অফিসের কোনো কাজে তাকে টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখেন।

সদর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. দিদার আলম জানান, ২০১৮ সালে জেলার মোট ৮৫ জন বিভিন্ন পদের কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী করার ফাইল প্রক্রিয়ার কাজে সবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা তুলে দিতে বলেছিলেন জাফর। তার কথা না মানলে তৎকালীন উপপরিচালককে ভুল বুঝিয়ে কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়াটি বন্ধ রাখেন। এক বছর আগে কর্মচারীদের সিলেকশন গ্রেডসংক্রান্ত মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি এলে সেই চিঠিও জাফর অফিশিয়াল ফাইল থেকে সরিয়ে ফেলেন। পরে মন্ত্রণালয়ের কপি উপস্থাপন করলে তিনি টাকা ছাড়া কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান। প্রায় চার মাস ঘোরার পর একপর্যায়ে টাকা ছাড়াই ১০৬ জন কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী হয়।

দিদার বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে জাফর আহম্মদ জেলা অফিসের তৃতীয় তলায় নিজে বসবাস করার জন্য অফিসকে ব্যক্তিগত রুম সাজিয়ে সরকারি বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস ব্যবহার করে বছরের পর বছর বসবাস করছেন। তার অনিয়ম নিয়ে এর আগেও দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালকদের কাছে বারবার অভিযোগ করেছি। কিন্তু তারাও ব্যবস্থা নেবেন নেবেন বলে কালক্ষেপণ করেছেন।

বরকল উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক কেরন চাকমা বলেন, ‘জাফর তো টাকা ছাড়া কোনো কাজই করেন না। গত সাত-আট মাস আগে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের হেড অফিস থেকে সিলেকশন গ্রেড তথ্য বিষয়ে একটি চিঠি আসে। সেই চিঠি নিতে গেলেও জাফর মিথ্যা বলেন। জানান, জেলা অফিসে নাকি চিঠি আসেনি। খারাপ ব্যবহারও করেছেন। পরে জেলা উপপরিচালকের কাছে গেলে চিঠিটি হাতে পাই। জাফরের হয়রানির কথা বলে শেষ করা যাবে না।’

লংগদু উপজেলার পরিবার কল্যাণ সহকারী চন্দ্রা খীসা বলেন, ‘জাফর জেলা অফিসের ফাইলপত্রের কাজগুলো করে থাকেন। অফিসের সঙ্গে কথা বলে সার্টিফিকেটের জন্য একটি পরীক্ষা দিই এবং পাস করি। পরে বায়োডাটায় পাস করা তথ্য যোগ করতে গেলে তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখান। টাকা দিইনি বলে প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি কাজটি করে দিচ্ছেন না।’

বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারী মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘জাফর তো অফিস সহকারী। তার পোস্টিং ছিল রাজস্থলীতে। সাময়িকভাবে বর্তমান উপপরিচালক তাকে রাঙামাটি জেলা অফিসে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু এখানে তিনি টাকা ছাড়া কোনো কাজই করেন না। অফিসের কাজে গেলেও দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন।’

জাফরের বিরুদ্ধে অভিযোগ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে জানিয়ে দিদার আলম বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে জেলা মাসিক মিটিংয়ে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালকের কাছে তার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছি। তিনিও ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি, দুর্নীতিবাজ জাফর বিশাল অঙ্কের লেনদেন করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়েছেন। জেলা পরিষদে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের নিয়মিত কর্মচারী না হয়েও নিয়ম বহির্ভূতভাবে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত ক্যাশিয়ার পদে পদায়নের জন্য জেলা পরিষদে নথি উপস্থাপন করেছেন।’

জাফর আহম্মদ অবশ্য তার বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এসব ষড়যন্ত্র অফিসের দিদার সাহেব করতেছেন।’

এদিকে, জাফরের অনিয়ম-দুর্নীতির কিছু অভিযোগ নিয়ে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পায়। ওই সময় জাফরের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। তবে গত ৯ মাসেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এবারও জাফরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে ‘প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে’ বলে জানিয়েছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর উপপরিচালক বেগম সাহান ওয়াজ এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আহ্বায়ক দীপ্তিময় তালুকদার।

বেগম সাহান ওয়াজ বলেন, ‘জাফরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে শুনেছি। যেহেতু তিনি জেলা পরিষদের অধীনে, তাই জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কোনো কিছু করার নেই। তবে জাফরের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরই মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’