রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

বিয়ে খেতে গিয়ে সড়কে প্রাণ গেল দাদি-নাতির

বিয়ে খেতে গিয়ে সড়কে প্রাণ গেল দাদি-নাতির
দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া সিএনজি অটোরিকশা। ছবি: দৈনিক বাংলা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লার দেবিদ্বারে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলশিক্ষিকসহ একই পরিবারের দুজন নিহত হয়েছেন। সম্পর্কে তারা দাদি-নাতি। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

মিরপুর হাইওয়ে ইনচার্জ মো. কামাল উদ্দিন জানান, গতকাল শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার পৌর এলাকার সাইলচর কোড়েরপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের বজলুর রহমানের স্ত্রী হাজেরা বেগম (৪৫) ও বজলুর রহমানের নাতি আবির (৫)। নিহত হাজেরা বেগম একই উপজেলার ধামতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল দুপুরে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর এলাকার একই পরিবারের পাঁচজন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পথে পেছন থেকে একটি ট্রাক সেটিকে চাপা দিলে রাস্তার পাশের একটি গাছের ওপর আছড়ে পড়ে। স্থানীয়রা সিএনজিচালক ও পাঁচজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে নেয়ার পর হাজেরা বেগম ও আবিরের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত বজলুর রহমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মিরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহত কাউকে পায়নি। দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও কোনো তথ্য নিতে পারেনি। দুর্ঘটনায় কবলিত দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া সিএনজি ও একে ধাক্কা দেয়া ট্রাকটিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে।


ছেলে হারানোর শোকে বাবার মৃত্যু, মেয়েকে বসতে হলো পরীক্ষায়

ছেলে হারানোর শোকে বাবার মৃত্যু, মেয়েকে বসতে হলো পরীক্ষায়
মরিয়মের বাবার জানাজা। ছবি: দৈনিক বাংলা
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে স্ট্রোক করে মারা গেছেন বাবা। সেই বাবার মরদেহ বাসায় রেখে পরীক্ষায় বসতে হলো মেয়ে মরিয়মকে। এমন ঘটনা ঘটেছে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বাঁশদাইড় গ্রামে।

আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সুজন পারভেজ জানান, ৪৮ দিন  আগে সৌদি আরব প্রবাসী ফজলুল হকের একমাত্র ছেলে ওমর ফারুক (২০) স্ট্রোক করে মারা যান। ছেলে মারা যাওয়ার তিনদিন পর ফজলুল হক দেশে চলে আসেন। একমাত্র আদরের ছেলেকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। সেই শোক আর সামলাতে পারেননি তিনি। শনিবার সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। জামালপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে স্ট্রোক করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ফজলুল হক। রোববার সকাল ১১টার দিকে ছেলে ওমর ফারুকের কবরের পাশে দাফন করা হয় তাকে।

প্রতিবেশী জুয়েল জানান, ওমর ফারুক ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছিল। যেদিন তার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, সেদিনই সে মারা যায়। ওর বাবা ছেলের কবরের পাশে সবসময় শুয়ে থাকত আর কান্না করত। এদিকে, ওমর ফারুকের বোন মরিয়ম এবার আদারভিটা ইউনিয়নের পাটাদহ কয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। ওর পরীক্ষা ছিল সকাল ১১টায়। বাবার লাশ বাসায় রেখেই মেয়েটাকে পরীক্ষা দিতে যেতে হয়েছে।

মরিয়মের স্বজনেরা জানান, রোববার কৃষি শিক্ষা পরীক্ষা মরিয়মের। আগের রাতেই বাবার মৃত্যুর পর সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত স্বজনরা অনেকটা জোর করেই পাটাদহ কয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ মোহাম্মদ শাহীনুর খান বলেন, মরিয়মের বাবা গত রাতে স্ট্রোক করে মারা যান। বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এসে মরিয়ম পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আমি তার খোঁজ-খবর নিয়েছি। হলের শিক্ষকরা তাকে মানসিকভাবে সর্বাত্মক সমর্থন দেয়ার চেষ্টা করেছেন।


বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষার হলে রানা

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষার হলে রানা
পরীক্ষাকেন্দ্রে রানা শেখ। ছবি: দৈনিক বাংলা
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

বাড়িতে বাবার লাশ। আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। এমন পরিস্থিতিতে চোখের পানি মুছতে মুছতে হাতে প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে রানা শেখকে। নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি থেকে চলতি বছর ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সে।

রানা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদি গ্রামের সদ্যপ্রয়াত মজিবর শেখের (৪৬) ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে রানা ছোট। মজিবর শেখ ঢাকায় সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ১৫ দিন আগে তিনি বাড়িতে আসেন। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যু হয় তার।

স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোরে মজিবর শেখ মারা যান। এদিন বেলা ১১টা থেকে ছিল রানার কৃষি শিক্ষা পরীক্ষা। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে সকালেই তার কয়েকজন সহপাঠী তার বাড়িতে যায়। বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার অবস্থা ছিল না রানার। পরে সহপাঠীরা সান্ত্বনা দিয়ে তাকে নগরকান্দার শহিদ মুক্তিযোদ্ধা আক্রামুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

রানার ভাই হৃদয় শেখ (১৯) বলেন, আমাদের পরিবারে বাবাই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অভাবের কারণে আমি বেশিদিন পড়ালেখা করতে পারিনি। রানা নিজ ইচ্ছাশক্তির জোরে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। আজ ওর পরীক্ষা দেয়ার মানসিকতা ছিল না। সকালেই ওর সহপাঠীরা বাড়িতে এসে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যায়।

ওই কেন্দ্রে পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমির বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পুরো সময় পরীক্ষা দিয়েছে শেখ রানা। রানা মেধাবী ছেলে। নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী। ছেলেটাকে এরকম অবস্থায় পড়তে হবে, এটি দুঃখজনক।

ওই পরীক্ষাকেন্দ্রের সহ-কেন্দ্র সচিব মো. মাহাবুব আলী মিঞা জানান, যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে রানা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বাবা মারা যাওয়ায় সে ভেঙে পড়েছিল। পরীক্ষা চলাকালে আমরা সার্বক্ষণিক তার খোঁজখবর নিয়েছি।

পরীক্ষা দিয়ে দুপুরে রানা বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর বিকেলে তার বাবা মজিবর শেখের জানাজা শেষে  দাফন হয় স্থানীয় জুঙ্গুর্দী ঈদগাঁ কবরাস্থানে।

সরকারি এম এন একাডেমির প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন মিয়া বলেন, সকালেই রানার বাবার মৃত্যুর খবর শুনেছি। এটি খুবই কষ্টদায়ক। আমরা সকালেই রানার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সে যে পরীক্ষাটি দিতে পেরেছে, এতে আমরা খুশি। সে খুব শক্ত মনের পরিচয় দিয়েছে।


এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুই বছরেও শুরু হয়নি বিচার

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুই বছরেও শুরু হয়নি বিচার
সিলেট এমসি কলেজ, ইনসেটে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামিরা
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সমালোচনার মুখে দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তদের। তবে এ ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি সাক্ষ্যগ্রহণ। কোন আদালতে বিচার হবে, এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় আটকে আছে মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এদিকে বিচারকাজে শুরুতে দীর্ঘসূত্রিতায় শঙ্কা বাড়ছে বাদীপক্ষের। আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত তারা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, বাদীপক্ষের কারণেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুতে বিলম্ব হচ্ছে।

সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট রাশিদা সাঈদা খানম বলেন, মামলার কার্যক্রম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শুরু হওয়ার কথা ছিল। আমরাও প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু বাদীপক্ষ এটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যেতে চায়। এ ব্যাপারে বাদী উচ্চ আদালতে একটি রিটও করেছেন। উচ্চ আদালত এ ব্যাপারে একটি আদেশ দিয়েছেন শুনেছি। তবে আদেশের পূর্ণাঙ্গ আদেশের কপি এখনো পাইনি। এ কারণে মামলার কার্যক্রম আটকে আছে। উচ্চ আদালতের আদেশের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

কেন আটকে আছে কার্যক্রম

ধর্ষণের ঘটনার পরদিন ওই তরুণীর স্বামী নগরের শাহপরাণ থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। এ ছাড়া ওই রাতে ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করে পুলিশ। ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ধর্ষণ মামলায় ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এরপর ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন। আর চলতি বছরের ১১ মে মাসে একই আদালতে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠনের পর ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। তবে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে শুরুর আবেদন করে বাদীপক্ষ। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর বাদীপক্ষ একই আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি ফৌজদারি বিবিধ মামলা করেন। ওই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে একই আদালতে সম্পন্নের আদেশ দেন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বদলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর আবেদন করে বাদীপক্ষ।

বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের দীর্ঘদিন পরও সাক্ষ্যগ্রহণের শুরু না হওয়ায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর জন্য গত ১ আগস্ট বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বাদী একটি রিট করেন। ১৬ আগস্ট রিটের শুনানি শেষে দুই মামলার কার্যক্রম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির প্রক্রিয়া গ্রহণে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের এই আদেশের কপি এখনো হাতে আসেনি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। এর আগে ২৭ জুলাই আসামি রবিউল ইসলামের জামিন শুনানিতে মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কেন শুরু করা হয় না মর্মে রাষ্ট্রপক্ষকে গত ২১ আগস্ট কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক। ১৬ অক্টোবর মামলার পরবর্তী তারিখ রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রাশিদা সাঈদা খানম বলেন, ‘আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হয়েছে।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী শহীদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘মামলার দুই বছর পেরিয়েছে। অভিযোগ গঠনেরও অনেক দিন চলে গেছে। এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু না হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই ঘটনায় পুলিশের দুটি অভিযোগপত্র দেয়ায় বাদীপক্ষের সন্দেহ হয়। এতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাক্ষীদের জন্যও বিষয়টি বিড়ম্বনার। কারণ, চাঞ্চল্যকর এ মামলার সাক্ষীরা দুই আদালতে দুই দিন আসবেন কি না, এ নিয়ে শঙ্কা রয়েছেন। কারণ ধর্ষণকারীরা প্রভাবশালী। এজন্য বাদীপক্ষ উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। উচ্চ আদালত এরই মধ্যে সংক্ষিপ্ত আদেশও দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ আদেশের কপি পাওয়ার পর মামলার ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করা হবে।’

সে রাতে যা ঘটেছিল

২৫ মার্চ সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেট কারে করে শাহপরাণ মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী (২০)। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে পার্শ্ববর্তী দোকানে প্রবেশ করেন স্বামী। এই সময়ে পাঁচ থেকে ছয়জন তরুণ তাদের জিম্মি করে প্রাইভেট কারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। এরপর স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে ছাত্রাবাসের ভেতরে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্বামীর টাকা-পয়সা ও প্রাইভেট কার রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেন ধর্ষকরা।

ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে তরুণীর স্বামী ঘটনাটি পুলিশকে জানান। তবে অভিযুক্তরা ছাত্রলীগ কর্মী হওয়ায় প্রথমে ছাত্রাবাসে প্রবেশে গড়িমসি করে পুলিশ। এই সুযোগে ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যান ধর্ষকরা। এরপর রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।

মামলার বাদী ওই তরুণীর স্বামী বলেন, ‘ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেল। এখনো বিচার শুরু হলো না। দীর্ঘসূত্রিতায় বিচার পাওয়া নিয়েই আমরা শঙ্কিত। অভিযুক্তরাও বিষয়টি আপস করার জন্য নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন।’

অভিযুক্ত যারা

২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চালঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। অভিযোগপত্রে ওই তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের জন্য সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আট আসামিই বর্তমানে কারাগারে আছেন। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি। অভিযুক্ত আটজনকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এই চারজনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে। আর ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।


দুই চিকিৎসকের মারামারি, বন্ধ ছিল অস্ত্রোপচার

দুই চিকিৎসকের  মারামারি, বন্ধ ছিল অস্ত্রোপচার
চিকিৎসকদের দ্বন্দ্বে বন্ধ ছিল জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার। ছবি: দৈনিক বাংলা
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে দুই ডাক্তারের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অপারেশন থিয়েটার দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন অপারেশন করতে আসা রোগীরা। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের দোতলার জেনারেল সার্জারি এবং গাইনি ও প্রসূতি অপারেশন থিয়েটারে ঘটনাটি ঘটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেনারেল হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জানান, হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট নাহিদুল কাদিরের সঙ্গে সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. শামসুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় ডা. নাহিদুল কাদির অধ্যাপক ডা. তাইজুল ইসলামকে ডেকে আনলে তার সঙ্গেও কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ডা. তাইজুল ইসলাম অপারেশন থিয়েটারের ভেতরেই ডা. শামসুর রহমানের ওপর চড়াও হয়ে শার্টের কলার ধরে ঘুষি মারেন।

কর্মচারীরা আরও বলেন, ‘আমরা অপারেশন থিয়েটারে দরজার সামনে ছিলাম। পরে অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে হট্টোগোল শুনি এবং জানতে পারি এক ডাক্তার আরেক ডাক্তারকে মেরেছেন। ঘটনার পর থেকে হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে প্রায় দুই ঘণ্টা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এতে করে নিপা আক্তার, ঝর্ণা বেগমসহ কয়েকজন রোগী অস্ত্রোপচার না করেই চলে যান।’

অপারেশন থিয়েটার থেকে ফেরত আসা রোগী ঝর্ণা বেগমের স্বামী বাবুল হোসেন বলেন, সকাল ৯টার দিকে অপারেশনের জন্য ঝর্ণাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ঝর্ণাকে অপারেশন থিয়েটারের পাশের রুমে রাখা হয়। হঠাৎ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে হট্টগোল শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে অপারেশন থিয়েটারের কেচিগেট লাগিয়ে দেন সেখানকার লোকজন। দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অপারেশন থিয়েটার খোলা হয়। এ কারণে ঝর্ণার অপারেশন আর করেননি ডাক্তাররা।

রোগী ঝর্ণা বেগম বলেন, ‘আমি পেটের ব্যথা নিয়ে ১১ দিন ধরে ভর্তি আছি। অনেক অপেক্ষার পর আজ অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডাক্তারদের মারামারির কারণে অপারেশন হলো না। এখন শুনছি কাল (আজ) নাকি আমার অপারেশন হবে। আমি ব্যথা আর সইতে পারছি না।’

চিকিৎসক তাজুল ইসলাম ও নাহিদুল কাদিরের সঙ্গে মোবাইলে যোগযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, ‘অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে দুই ডাক্তারের মধ্যে একটি ঘটনা ঘটেছিল। আমরা কয়েকজন বসে বিষয়টি সমাধান করে ফেলেছি। এখন অপারেশন থিয়েটার চালু হয়েছে।’


পার্বত্য অঞ্চলে হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প: আইজিপি

পার্বত্য অঞ্চলে হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প: আইজিপি
রিসোর্ট উদ্বোধন করছেন আইজিপি। ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

বান্দরবান প্রতিনিধি

পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শিগগিরই প্রস্তাবিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্প স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদ। পাশাপাশি পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) থান‌চি থানা ভবন সংলগ্ন এলাকায়‌ পুলিশের একটি রিসোর্ট উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় বেনজির আহমেদ বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় দুর্গম থানচিতে আজ রাস্তা ঘাটের  অনেক উন্নয়ন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকেরা থানচির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন। পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী পুলিশ ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে একটি মনোরম পরিবেশে হাইল্যান্ডার্স পা‌র্ক অ্যান্ড রি‌সোর্ট গড়ে তুলতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, থানচি থানার কাছেই বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাষ্টি বোর্ডের অর্থায়নে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে আটটি কটেজ সম্বলিত হাইল্যান্ডার্স পা‌র্ক অ্যান্ড রি‌সোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এই রিসোর্টের মধ্যে সুইমিং পুল, পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী খাবার, পাহাড়িদের আদলে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মাচাংঘর, কটেজ, ক্যাফে হাউস, রেস্টুরেন্ট, পিকনিক স্পট, ঝরনা গড়ে তোলা হবে হবে।

রিসোর্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি কবির আহমেদ, বান্দরবানের পুলিশ সুপার ‌মো. তারিকুল ইসলাম ও থানচি থানার ওসি সুদীপ রায়।