বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২

সাগর আছে, আকাশ নেই

সাগর আছে, আকাশ নেই
সাগরে বুকের আকাশের নিয়ন্ত্রণ নেই বাংলাদেশের।
জেসমিন পাপড়ি
প্রকাশিত
  • প্রতিদিন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে অন্য দেশের কতটি উড়োজাহাজ চলাচল করছে তা জানা যায় না

  • আকাশসীমার কোনো তথ্য পেতে হলেও দারস্থ হতে হয় ভারত ও মিয়ানমারের

আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে ভারত ও মিয়ানমারের কাছ থেকে সমুদ্র সীমানা বুঝে পেলেও সেই সীমানার ওপরের আকাশসীমায় নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি বাংলাদেশ। নির্ধারণ করতে পারেনি আকাশপথে নিজেদের উড্ডয়ন তথ্য অঞ্চল বা এফআইআর (ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিওন)। কারণ এটি নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র (রাডার) বাংলাদেশের কাছে নেই।

এর ফলে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হয়েও বাংলাদেশের আকাশসীমার বড় একটি অংশ এখনো প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমনকি এই সীমানা দাবি করার শর্ত পূরণ করতেও কয়েক বছর লাগবে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বর্তমানে যে পরিস্থিতি তাতে একটি রাডারের অভাবে প্রতিদিন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে অন্য কোনো দেশের উড়োজাহাজ কতবার চলাচল করছে তা জানা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় বিদেশি উড়োজাহাজ চলাচলের ওভার ফ্লাইং চার্জ বা উড্ডয়ন ফি চলে যাচ্ছে ভারত ও মিয়ানমারের কাছে। এমনকি আকাশসীমার কোনো তথ্য পেতে হলেও দারস্থ হতে হয় ও দুই দেশের।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিষয়টি শুধু যে বাংলাদেশের জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ এমন নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিট) অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা জয় করেছে। এখন যত দ্রুত সম্ভব একটি রাডার স্থাপন করতে হবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেদের আকাশ সীমার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ২০১২ সালে মিয়ানমারের এবং ২০১৪ সালে ভারতের সমুদ্রসীমাসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি হয়। এরপর ২০১৫ সালে বঙ্গোপসাগরে সীমান্ত বেসলাইন নির্ধারণ করা হয়। ২০১৬ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিষয়টি তোলা হয়। সেবারই প্রথম আকাশপথে চলাচলের বিষয়টি সার্বভৌম করতে এফআইআর সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। বঙ্গোপসাগরে পাওয়া ভূখণ্ডের সঙ্গে মিলিয়ে সাগরের বুকেও বাংলাদেশের মানচিত্র সমন্বয় করে নেয়া জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সমুদ্রসীমা জয়ের পরও বেশ কয়েক বছর ধরে সাগরের বুকে পাওয়া ভূখণ্ডের ওপরে আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব আদায়ের বিষয়টি কারও মাথায় আসেনি। যার ফলে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো আকাশসীমা দাবি করার মতো পর্যায়ে বাংলাদেশ নেই।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানান, আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রধান শর্ত হিসেবে বাংলাদেশের একটি রাডার থাকতে হবে যেটির ৩০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরত্বের একটি ‍উড়োজাহাজকে অ্যালার্ট করার বা সংকেত দেয়ার সক্ষমতা থাকবে। কিন্তু এ ধরনের কোনো যন্ত্র এখনো বাংলাদেশের কাছে নেই।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, আলোচনা শুরুর পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাটি সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারত ও মিয়ানমার এফআইআর পরিবর্তনে বাংলাদেশের অনুরোধে সাড়া দিলেও বাংলাদেশের যে প্রয়োজনীয় রাডার নেই সেটি মনে করিয়ে দিয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনা শুরু করার আগে বাংলাদেশকে নিজস্ব রাডার স্থাপন করতে হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে দক্ষিণ সুন্দরবন ধরে আকাশপথে উড্ডয়নের আন্তর্জাতিক রুটের একটি অংশ কলকাতা এফআইআর ৫০৭ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আর সেন্ট মার্টিনের একটি অংশ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পড়েছে ইয়াঙ্গুন এফআইআরের অধীনে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অরগানাইজেশন-আইকাও) তথ্য অনুযায়ী, এফআইআর হচ্ছে উড়োজাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে আকাশপথের একটি বিশেষায়িত এলাকা। এর মাধ্যমে ফ্লাইট চলাচলের তথ্য ও সতর্কবার্তা দেয়া হয়। সাধারণত ছোট দেশগুলোতে একটি এফআইআর থাকে আর বড় আয়তনের দেশগুলোর থাকে একাধিক এফআইআর। প্রতিবেশী ভারতের কলকাতা ছাড়াও মুম্বাই, দিল্লি, চেন্নাই- তিনটি এফআইআর আছে। মিয়ানমারের আছে দুটি। বাংলাদেশের একটি এফআইআর আছে।

বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বেবিচকের দুটি রাডার (ঢাকা ও চট্টগ্রামে) থাকলেও সেগুলো সর্বোচ্চ ২৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নেভিগেশন করতে পারে। কিন্তু এটি দিয়ে বাংলাদেশের অর্জিত নতুন সমুদ্রসীমার ওপরের আকাশসীমার এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই ওই এলাকার আকাশসীমায় আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ফ্লাইট থেকে বাংলাদেশ উড্ডয়ন ফি (ওভার ফ্লাইং চার্জ) আদায় করতে পারছে না।

তবে আশার কথা হলো, গত বছর একটি রাডার কেনার বিষয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। ফ্রান্স থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে রাডারটি কিনতে ব্যয় হবে ৬৫৮ কোটি ৪০ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশের আকাশ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার লক্ষ্যে আমরা একটি সিএনএস-এটিএম সিস্টেমসহ অত্যাধুনিক রাডার স্থাপনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। ফ্রান্সের রাডার প্রস্তুতকারী কোম্পানি থ্যালাস এলএএস এই রাডারটি সরবরাহ করছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে এটি স্থাপন করার কাজ শেষ হবে।

তবে বেবিচক সূত্র জানায়, একটি রাডার বসলেই যে বাংলাদেশ আকাশসীমা বুঝে পাবে বিষয়টি এমন নয়। মূলত এ বিষয়ে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারকে একমত হতে হবে। তিন দেশ একমত হলে তখন আইকাও বাংলাদেশকে অনুমতি দেবে।

বেবিচক ও কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্জিত সমুদ্রসীমা বরাবর আকাশসীমা দিয়ে কত উড়োজাহাজ যাচ্ছে তার সঠিক হিসাব বাংলাদেশের কাছে নেই। তবে ধারণা করা হয়, যে পরিমাণ এয়ার ক্রাফট যাচ্ছে তা থেকে বাংলাদেশ বছরে ১৫ কোটি টাকার মতো আয় করতে সক্ষম হবে।


দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনেন শেখ হাসিনা

দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনেন শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

‘বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।’

দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে তৎকালীন কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানানোর জন্য উপস্থিত লাখ লাখ মানুষের হৃদয়ছোঁয়া ভালোবাসার জবাবে শেখ হাসিনা এভাবেই তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আজকের জনসভায় লাখো লাখো চেনামুখ আমি দেখছি। শুধু নেই আমার প্রিয় পিতা বঙ্গবন্ধু, মা আর ভাইয়েরা এবং আরও অনেক প্রিয়জন। শেখ হাসিনা বলেন, ভাই রাসেল আর কোনো দিন ফিরে আসবে না, আপা বলে ডাকবে না। সব হারিয়ে আজ আপনারাই আমার আপনজন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার সময় প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ১৯৮১ সালের অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ওই বছরের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

এরপর থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করেছেন এ বাংলাদেশে। সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশ অনেকটাই আবার পাকিস্তান হয়ে গিয়েছিল, সেই দেশকে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনা।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেন, ‘আমরা যেমন বলি বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। তেমনই শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের কাজ জাতি চোখে দেখত না।’

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার রোল মডেল। শেখ হাসিনা আমাদের উন্নয়ন এবং অর্জনের রোল মডেল। তিনি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে বিশেষ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, দেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের উন্নয়নের ও নারীর ক্ষমতায়নসহ অন্যান্য সব ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন।

আজ বুধবার শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীবিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ আলোচনায় অন্যান্য বছরের মতো বাংলায় ভাষণ দেন তিনি। তার অনুপস্থিতিতেই দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে নানা কর্মসূচি উদযাপন করবে তার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ আজ বিকাল ৩টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, একইসঙ্গে কমলাপুরে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার, মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ এবং ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব নেয়ার পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালে প্রথম, ২০০৮ সালে দ্বিতীয়, ২০১৪ সালে তৃতীয় এবং ২০১৮ সালে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করে দলকে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসাতে সক্ষম হন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন প্রথমবারের মতো তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং ৫শ’ নেতা-কর্মী আহত হন।

শেখ হাসিনার লেখা এবং সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩০টিরও বেশি। প্রকাশিত অন্যতম বইগুলো হচ্ছে- শেখ মুজিব আমার পিতা, সাদাকালো, ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ, আমাদের ছোট রাসেল সোনা, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বিপন্ন গণতন্ত্র, সহেনা মানবতার অবমাননা, আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি, সবুজ মাঠ পেরিয়ে ইত্যাদি।


পর্যটন খাতের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি : প্রতিমন্ত্রী

পর্যটন খাতের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি :  প্রতিমন্ত্রী
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

দেশের পর্যটন খাতকে টার্গেট নিয়ে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেন, আমরা যথাসম্ভব আমাদের টার্গেটে পৌঁছাব। এ জন্য একটা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেট খেলায় দেখা যায়, পাঁচটা বল ভালোভাবে ব্যাটিং করতে পারে না। কিন্তু শেষ বলে ছয় মারে। অনেক সময় মেডেনওভার যায়, যেখানে কোন রানই করতে পারে না। আবার এমনও পরিস্থিতি দাঁড়ায়, ছয় বলে ৩৬ রান করা যায়। সুতরাং আমাদের সামনে সেই সুযোগটা রয়েছে, ছয় বলে ৩৬ রান করার। আমাদের সমস্ত উপকরণ আছে, আমাদের ইচ্ছা আছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ পর্যটনকে কেন্দ্র করে অনেক দূর এগিয়েছে। আমাদের দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্যের আছে। সেগুলো তুলে ধরতে হবে।

পর্যটন দিবসের এই আয়োজন প্রতিটি শহরে ছড়িয়ে দিতে হবে জানিয়ে মাহবুব আলী বলেন, আমার মধ্যে প্রতিভা আছে, সেটাতো সবাইকে জানাতে হবে। নিজের মধ্যে রাখলে তো হবে না। আমাদের দেশে যে সম্পদ আছে, প্রতিভা আছে, এখন সবাইকে তা জানাতে হবে।

আলোচনা সভায় অনেকের বক্তব্যের সূত্র ধরে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলেছেন পর্যটন করপোরেশনে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। বিষয়টি আমরা ক্যাবিনেট সেক্রেটারি সঙ্গে কথা বলব। একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে পর্যটনে দায়িত্ব দিতে প্রস্তাব দেব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটন স্পটে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে, এটা সংশ্লিষ্ট দেশের সংবাদমাধ্যম নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটা ঘটনা (কক্সবাজার) পর্যটন সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ একটা ঘটনায় যেন পুরো সেক্টরের ক্ষতি না হয়। আমরাও চাই একটি আপরাধও যেন দেশে না হয়।

এ সময় পর্যটন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা কোভিড পূর্ববর্তী যে অবস্থায় ছিলাম, সেখানে যেতে চাই না। তার চেয়ে অনেক এগিয়ে যেতে চাই। পর্যটনের উন্নয়নে মিডিয়া কিন্তু সরকার ও বেসরকারি খাতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেশি।

গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সচিব বলেন, আমি অনুরোধ করব, দেশের স্বার্থে যেন পজিটিভলি খবর প্রকাশ হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবার সঙ্গে আলোচনা করে পর্যটন নিয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডিসেম্বরে সেই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে যাব।

আলোচনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আলি কদর, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. জাবের প্রমুখ।


অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ

অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ
পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নরসিংদীতে উদ্ধার হওয়া যুবকের অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ। আনুমানিক ৩২ বছর বয়সী ওই যুবকের পরনে ছিল হালকা আকাশি রঙের জিন্স প্যান্ট ও আকাশি ডোরাকাটা টি শার্ট। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মরদেহটি মর্গে রয়েছে।

শিবপুর থানা পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার মরদেহটি শিবপুরের বাহেরখোলা গ্রামের আসাদ মীরের বাড়ির পূর্ব পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।  

শিবপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া জানান, এখনও পর্যন্ত মরদেহটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরিচয় না পাওয়া গেলে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি দাফন করার জন্য আঞ্জুমানে দেয়া হবে।


গাড়ি চাপায় তরুণী নিহত

গাড়ি চাপায় তরুণী নিহত
প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গাড়ির চাপায় এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বেজগাঁও বাস স্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার নাম ঠিকানা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মাহফুজ রিবেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট বাহারুল সোহাগ জানান, ওই নারীকে অজ্ঞাত একটি গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই নারী। মরদেহ হাইওয়ে থানা পুলিশ হেফাজতে আছে।


কানাডা যাচ্ছেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লার পরিবারের আরও ১৪ সদস্য

কানাডা যাচ্ছেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লার পরিবারের আরও ১৪ সদস্য
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কক্সবাজারে শরণার্থী ক্যাম্পে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহর মাসহ তার দুই ভাইয়ের পরিবারের আরও ১৪ সদস্য জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) তত্ত্বাবধানে কানাডায় যাচ্ছেন।

গত রোববার তারা ঢাকার উদ্দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছাড়েন বলে আজ মঙ্গলবার জানান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৮ এর সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ।
 
তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র তত্ত্বাবধানে মুহিবুল্লাহর পরিবারের ১৪ সদস্যকে তাদের ব্যাটালিয়নের অধীনে ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

এপিবিএন জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে পরিবারের ১৪ সদস্যের দলটির কানাডার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। এই ১৪ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন, মুহিবুল্লাহর মা উম্মে ফজল (৬০), ছোট ভাই হাবিব উল্লাহর স্ত্রী আসমা বিবি (৩৫), সন্তান কয়কবা (১৫), বয়সারা (১৩), হুনাইসা (৯), আইমন (৮), ওরদা বিবি (৫), আশরাফ (৫) ও আরেক ভাই আহমদ উল্লাহর স্ত্রী শামছুন নাহার (৩৭), সন্তান হামদাল্লাহ (১১), হান্নানা বিবি (৯), আফসার উদ্দীন (৭), সোহানা বিবি (৫) ও মেজবাহ উল্লাহ (১)।

এর আগে, গত ৩১ মার্চ রোহিঙ্গা নেতার স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের ১১ জন সদস্য কানাডার উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন।

ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সময় সেখানে পুলিশসহ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), এবং জাতিসংঘের শরণার্থী হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে সর্বশেষ রোহিঙ্গা নির্বাসনের দুই বছর পর্যবেক্ষণ উপলক্ষে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা সদস্য নিয়ে সমাবেশ করার পর নেতা হিসেবে লাইমলাইটে আসেন মুহিবুল্লাহ।

গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কুতুপালং-১ (ইস্ট) লম্বাশিয়া ক্যাম্পের ডি-৮ ব্লকে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ (৪৬)। মিয়ানমারের মংডুতে স্কুলে শিক্ষাকতা করতেন বলে রোহিঙ্গাদের কাছে তিনি ‘মুহিবুল্লাহ মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরদিন তার ভাই হাবিব উল্লাহর অভিযোগে হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ।

পরে ২০২১ সালের অক্টোবরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-১৪) সদস্যরা মহিবুল্লাহ হত্যাকারী দলের সদস্যসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এদের মধ্যে আসামি আজিজুল হক পরদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বাকি ৩ আসামি হলেন- কুতুপালং ক্যাম্পের ডি-ব্লকের মুহাম্মদ রশিদ ওরফে মুর্শিদ আমিন, ক্যাম্পের বি-ব্লকের মুহাম্মদ আনাস ও নুর মুহাম্মদ।