মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

হতদরিদ্রদের ক্ষুধা মেটাতে ১ টাকায় আহার

হতদরিদ্রদের ক্ষুধা মেটাতে ১ টাকায় আহার
শুক্রবার দুপুরে নওগাঁর বাটার মোড়ে খাবারের আয়োজন করে ‘ফ্রেন্ডস প্যানেল’। ছবি: দৈনিক বাংলা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নওগাঁয় হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের ক্ষুধা মেটাতে এক টাকায় একবেলা আহারের ব্যতিক্রমী এক খাদ্য কর্মসূচি চালু করেছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। চলতি বছরের মে থেকে নিয়মিত প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে দেড় শতাধিক হতদরিদ্র মানুষকে এক টাকার বিনিময়ে দুপুরের খাবার দিচ্ছে সংগঠনটি। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের বাটার মোড় আসমান সিটি শপিংমলে ভরপেট দুপুরের খাবারের আয়োজন করে ‘ফ্রেন্ডস প্যানেল’ নামের সংগঠনটি।

খাবারের এ আয়োজনে ভাতের সঙ্গে মুরগির মাংস ও রোস্ট এবং ডিম-আলুর তরকারি থাকে। আবার কখনো কখনো ঝাল বিরিয়ানি ও মাছ ভুনার আয়োজন করা হয়। নওগাঁ শহর ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা মানুষ একবেলা খাবারের আশায় প্রতি শুক্রবার ছুটে আসেন বাটার মোড় আসমান সিটি শপিংমলে। সেখানে রান্না শেষে তাদের মাঝে এক টাকার বিনিময়ে যত্নসহকারে খাবার পরিবেশন করেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

শহরের কাঁঠালতলী মহল্লা থেকে খাবার নিতে এসেছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভিক্ষুক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘৩০ বছর ধরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করছি। ভিক্ষার টাকা দিয়ে সন্তানদের খাইয়ে বড় করে তুলেছিলাম। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক হওয়ায় তারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। এখন বয়সের ভারে চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। তাই আর আগের মতো ভিক্ষাও করতে পারি না। প্রতি সপ্তাহে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এখানে খেতে আসি। এক টাকার বিনিময়ে পেট ভরে খেতে পারি। এই খাওয়া দিয়েই দিন পার করে দিই।’

নওগাঁ বউবাজার মহল্লা থেকে আসা বৃদ্ধা মাজেদা বেওয়া বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বামীকে হারিয়েছে। দুই মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর ঘরে চলে গেছে। কেউ-ই আমার খোঁজখবর নেয় না। তাই বাধ্য হয়েই ভিক্ষায় নেমেছি। প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে ভিক্ষা করার পর দুপুরের মধ্যেই এখানে চলে আসি। মুরগির মাংসসহ ভালো ভালো খাবার তৃপ্তি মতো খেতে পারি। আমাদের কথা এই সমাজের কেউ-ই ভাবেন না। অথচ এই অল্প বয়সী ছেলেগুলো ভাবছে। আল্লাহ এদের মঙ্গল করুক।’

সদর উপজেলার দুবলহাটী গ্রাম থেকে আসা রিকশাচালক আব্দুস সামাদ বলেন, ২৪ বছর ধরে রিকশা চালাই। সংসারে দুটি মেয়ে ছিল, তাদের বিয়ে দিয়েছি। এখন ১২ বছর বয়সী একটি ছেলে আছে। ছেলের পড়ালেখার খরচ চালাতে গিয়ে দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে হিমশিম খাচ্ছি। বেশির ভাগ সময়ই একবেলা খেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকতে হয়। এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম। খুব ক্ষিদে লেগেছিল। কিন্তু সকাল থেকে তেমন ভাড়া পাইনি। তাই খাবার কেনার মতো টাকাও কাছে নেই। রাস্তায় দেখলাম লাইন ধরে সবাই মার্কেটের ভেতরে খেতে ঢুকছে। তাই আমিও এসে পেটপুরে খেলাম।’

ফ্রেন্ডস প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক আলো হোসেন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশজুড়ে অনেক মানুষ এখন আয়-ব্যয়ের সমীকরণ মেলাতে পারছেন না। এই সংকটকালে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন হতদরিদ্র অসহায় মানুষ। তাদের অনেকেই অর্ধাহারে-অনাহারে দিন পার করছেন। তাই তাদের মুখে একবেলা খাবার তুলে দিতে আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ। এসব মানুষ যখন ভরপেট খেয়ে তৃপ্তি পায়, তাদের মুখে অন্য রকম একটা খুশির ছাপ ভেসে ওঠে। এটি দেখেই আমরা তৃপ্তি পাই।’

সংগঠনের সভাপতি রিমন আলী বলেন, ‘নিজ জেলায় সমাজসেবামূলক কাজ করার পাশাপাশি বন্যাকালীন দেশের বিভিন্ন জেলায় আমরা শুকনো খাবার বিতরণ করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। তবে ইচ্ছে থাকলেও মানুষের জন্য খুব বেশি কিছু করতে পারি না। একটি মোবাইল দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত আছি। কত টাকাই-বা বেতন পাই? আমাদের অন্য সদস্যদেরও একই অবস্থা। বেশির ভাগই মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোয়নি। আমরা কেউ-ই ধনী ঘরের ছেলে না। এখন কিছু কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আমাদের সহযোগিতা করছে বলে এই যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এক টাকায় আহারের ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সমাজের বিত্তবানদের সুদৃষ্টির পাশাপাশি সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর মাত্র ৩৯ জন সদস্য নিয়ে ‘ফ্রেন্ডস প্যানেল’ আত্মপ্রকাশ করে। এরপর থেকেই সংগঠনটি নওগাঁ পৌরসভার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শীতবস্ত্র বিতরণ, এক টাকায় বিভিন্ন ফল বিতরণ, মানবতার দেয়াল, করোনাকালীন সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণসহ নানাবিধ সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিচ্ছে। শহরজুড়ে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম সুধীজনদের নজরে আসায় সম্প্রতি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বেশকিছু ব্যবসায়ীপ্রতিষ্ঠান। তাদের আর্থিক সহযোগিতা ও সদস্যদের চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে এক টাকায় একবেলা আহারের আয়োজন করা হচ্ছে।


নৌকাডুবি: আরও ৭ মরদেহ, মৃত বেড়ে ৫৭

নৌকাডুবি: আরও ৭ মরদেহ, মৃত বেড়ে ৫৭
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় স্বজন হারানোর আর্তনাদ। ছবি : দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ক্রমশ বাড়ছে লাশের সংখ্যা। আজ মঙ্গলবার সকালের অভিযানে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। 

ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। আজ সকাল ৬টায় শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করছেন স্থানীয়রা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী  পরিচালক  মন্জিল হক জানান, আজ সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। আবহাওয়া  অনুকূল থাকায় এবং নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে মরদেহ উদ্ধার তুলনামূলক সহজ হচ্ছে।

গত রোববার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহালয়া উপলক্ষে দুপুরে আউলিয়া ঘাট থেকে একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বড়শশী ইউনিয়নের বদেশ্বরী মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন তারা। ঘাট থেকে নৌকাটি কিছু দূর যাওয়ার পরই ডুবে যায়।


প্রাইভেটকার চাপায় পথচারী নিহত

প্রাইভেটকার চাপায় পথচারী নিহত
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি ধান ক্ষেত্রে পড়ে যায়। ছবি: দৈনিক বাংলা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রাইভেটকারের চাপায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৭ টার দিকে দেবিদ্বর উপজেলার ছয়ঘুরিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম হাকিম (৬০)। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে। তিনি ঘটনাস্থলের পাশে একটি অটোরাইস মিলে কাজ করতেন।  

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম।  

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি নজরুল জানান, সকাল ৭ টায় প্রাইভেটকারটি বেপারোয়া গতিতে যাচ্ছিল। এ সময় সড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন হাকিম। পরে একটি গাড়িকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাকিমকে চাপা দিয়ে প্রাইভেটকারটি ধান ক্ষেত্রে পড়ে যায়।

এতে প্রাইভেটকারচালক, তার স্ত্রী ও কন্যা আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের হাসপাতালে পাঠায়। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম পাওয়া যায়নি। 


ভয়ংকর সুন্দর সুন্দরবন

ভয়ংকর সুন্দর সুন্দরবন
সুন্দরবনে এখন বাঘের দেখা মেলে কালেভাদ্রে। গত ৩১ মার্চ সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়ে বাঘটির দেখা মেলে বনের ভোমরার খাল বা সুন্দরীর খাল এলাকায়। ছবি: ফরিদী নুমান
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত

আওয়াল শেখ, খুলনা

চাঁদনি রাতের নিস্তব্ধতা বা জোয়ারের সময় ঢেউয়ের শব্দ। নৌকায় ভেসে রাতভর জেগে থাকার জন্য যথেষ্ট চেনা-অচেনা প্রাণীর ডাকাডাকি। সৌন্দর্য আর রোমাঞ্চের এমন মিশেল সুন্দরবন ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া দুষ্কর।

বিশাল এই বনভূমির বুক চিরে জালের মতো বিস্তৃত অসংখ্য নদী-খাল। এসবের উভয় তীরে সুন্দরবনের দৃশ্য প্রায় একই রকম। খালগুলো নদী থেকে উঠে আঁকাবাঁকাভাবে গহিন বনের বুক চিরে অন্য নদী বা খালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। কোনো কোনো খাল শেষ হয়েছে বনের গভীরে গিয়ে।

বনের গাছগুলো যেন নদী-খালের দুই তীরে সমানভাবে দণ্ডায়মান। কোথাও কোথাও হেন্তাল গাছের ঝোপ, কোথাও সুন্দরী, পশুর ও গর্জন গাছ একত্রে জড়িয়ে আছে নদীর তীরে। কোথাও আবার গোল গাছের সারিগুলো প্রাচীরের মতো করে মনোরম শোভা ছড়িয়েছে। আর এসবের মাঝে বাঘের ভিম গর্জন, ফনা তোলা বিষধর সাপ ও কুমিরের বিচরণ গায়ে কাঁটা দেয়ার মতো। সত্যজিৎ রায়ের ‘সুন্দরবনের শয়তান’ গল্পের মতো করে বলতে হয়, গায়ে কাঁটা দেয়ার আরেক নাম ভয়ংকর সুন্দর সুন্দরবন।

সুন্দরবনে একাধিক নদীর মিলনাস্থালের সৌন্দর্য আরও মনোমুগ্ধকর হয়। বনে হরিণের সঙ্গে বানরের সখ্য সব থেকে বেশি। বিভিন্ন স্থানে বানরদের দল বেঁধে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। বানররা গাছের ডালে ডালে দাপিয়ে বেড়ায়। গাছের ফল পাতা ছিঁড়ে হরিণদেরও খেতে দেয়। আবার বানররা হরিণের পিটে উঠে আনন্দ ভ্রমণও করে।

বনের নদী-খালে বাওয়ালি, মৌয়ালী ও বনজীবীদের সম্পদ আহরণ করতে দেখা যায়। নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। জেলেরা জীবিকার টানে সেই মাছ আহরণ করতে বনে যান।

সন্ধ্যায় বনে পাখির কিচিরমিচির কলরব সৃষ্টি হয়। গভীরে রাতে হরিণের হাঁকডাক শোনা যায়। ভোর রাত থেকেই ডাকতে শুরু করে বন্য মোরগ। সকাল গড়াতেই আবারও শুরু হয় পাখির কিচিরমিচির শব্দ।

সকালের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নদী-খালের ধারে রোদ পোহাতে আসে হরিণের দল। বনের সর্বত্র নানা প্রাণী দেখা গেলেও বাঘ দেখতে পাওয়াটা বিরল ঘটনাই বটে।

সুন্দরবন ভ্রমণ

বেশ কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবনে আবার পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হয়েছে। বর্তমানে পর্যটকদের জন্য সাতটি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র চালু আছে। এগুলো হলো করমজল, হাড়বাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলারচর, হিরণপয়েন্ট ও কলাগাছিয়া।

এ ছাড়া নতুন করে আলিবান্ধা, আন্ধারমানিক, শেখেরটেক ও কালাবগীতে চারটি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে শেখেরটেক ও কালাবগী ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র চলতি মাসে উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিয়েছে বন বিভাগ।

সুন্দরবনে প্রবেশ করেতে হলে আগে থেকেই বন বিভাগের অনুমতি নিতে হয়। বছরের ৯ মাস সুন্দরবন ভ্রমণের অনুমতি পান পর্যটকরা।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় তিন লাখ পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেন। এর মধ্য ৯০ ভাগ পর্যটক ভ্রমণ করেন করমজল ট্যুরিজম কেন্দ্রে।

পর্যটকদের সুবিধার জন্য আরসিসি সড়ক, ফুট ট্রেইল, পাবলিক টয়লেট, আরসিসি বেঞ্চের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। প্রতিটি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে পর্যটকদের ৪০ টাকা রাজস্ব ও ৬ টাকা কর পরিশোধ করতে হয়।

যেভাবে যাবেন

সুন্দরবনের করমজলে ভ্রমণ করার জন্য পর্যটকদের বন বিভাগের পূর্বানুমতি নিতে হয় না। বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে ট্রলার ভাড়া করে করমজল যাওয়া যায়। জোয়ারভাটার তারতম্যের কারণে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা লাগে করমজলে পৌঁছাতে। সেখানে প্রতিটি ট্রলার বা জেলি বোর্ডের ভাড়া ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। এতে ১০ থেকে ৩০ জন পর্যটক একসঙ্গে যেতে পারেন।

তবে হাড়বাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলারচর, হিরণপয়েন্ট, কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র ভ্রমণ করতে হলে বনের গহিনে প্রবেশ করতে হয়। এ জন্য বন বিভাগের রাজস্ব পরিশোধ করে পূর্ব অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন পড়ে।

সুন্দরবনের পর্যটনকে কেন্দ্রে করে খুলনা ও মোংলায় বেশকিছু ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্যাকেজে তিন থেকে সাত দিনের জন্য বনের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের নিয়ে যান। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে পদ্মা সেতু হয়ে খুলনা বা মোংলা পৌঁছতে চার থাকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে।

খাবারের মান, শিপিং বোর্ডের ধরণ ও ভ্রমণের দিনের ওপর ভিত্তি করে ট্যুর অপারেটররা পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা নেন। বন বিভাগের অনুমতি নেয়ার কার্যক্রমও প্যাকেজের আওতায় থাকে।

বাঘ-হরিণের সঙ্গে সাক্ষাৎ

সুন্দরনের প্রায় সব ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রগুলোতে হরিণ দেখতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে করমজলে বেড়া দিয়ে হরিণের দল আটকে রাখা হয়েছে। পর্যটকরা সেখানে গিয়ে হরিণদের নিজ হাতে খাবার খাওয়ান। ঘাস, শাক, পাতা, বিস্কুটসহ নানা রকমের খাবার পর্যটকরা হরিণদের খেতে দেন। করমজলে উন্মুক্তভাবে বানদের দল দেখতে পাওয়া যায়। পর্যটকরা তাদের বাদাম বা বিস্কুট জাতীয় খাবার খেতে দেন।

তবে বন্য হরিণদের নিজে হাতে গাছের পাতা খেতে দেয়া যায় কটকা এলাকায়। সেখানে ভ্রমণ করা প্রায় শতভাগ পর্যটক একবার হলেও হরিনদের নিজ হাতে খাবার খাওয়াতে যান।

সুন্দরবন ভ্রমণে বাঘ দেখা খুবই বিরল ঘটনা। অনেকে একাধিকবার সুন্দরবন ভ্রমণ করেও বাঘের দেখা পান না। আবার কেউ কেউ প্রথমবার বনে গিয়েই বাঘের দেখা পান। তবে সম্প্রতি ভ্রমণে গিয়ে বনের ছিটা কটকা খালে একাধিক বাঘ দেখা যায়। ভাগ্যে থাকলে যে কারও দেখা হয়ে যেতে পারে বাঘের সঙ্গে।


কুমিল্লার ফুসফুস ধর্মসাগর

কুমিল্লার ফুসফুস ধর্মসাগর
কুমিল্লার শহরের বেড়ানোর একমাত্র স্থান ধর্মসাগর পাড়। ছবি: দৈনিক বাংলা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • শহরে বেড়ানোর স্থান

  • কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ধর্মসাগর মূলত একটি বড় দীঘি। এত বড় জলাধার কুমিল্লা শহরের আশপাশে নেই বলে অনেকেই একে নগর কুমিল্লার ফুসফুস বলে অভিহিত করেন।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

ধর্মসাগর। নাম শুনলেই অনেকের চোখের সামনে হয়তো ভেসে উঠতে পারে সৈকতে ঢেউ আছড়ে ফেলা কোনো সাগর। কিন্তু ধর্মসাগর প্রকৃতপক্ষে সাগর নয়, বিশালাকার এক দীঘি। কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্রে এর অবস্থান। এত বড় জলাধার কুমিল্লা শহরের আশপাশে কোথাও নেই। সাড়ে ৫০০ বছর আগের ধর্মসাগর তাই ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক-বাহক তো বটেই, ক্রমেই ইট-কংক্রিটের নগরে রূপ নেয়া কুমিল্লার জন্য এক টুকরো স্বস্তির জায়গাও। ‘কুমিল্লার ফুসফুস’ বলেই তাই ধর্মসাগরকে অভিহিত করে থাকেন স্থানীয়রা।

সকাল-বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষের ভিড় লেগেই থাকে এই ধর্মসাগরের পাড়ে। কেউ বসে থাকেন বিষণ্ন মনে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দেন। পাড় লাগোয়া বেঞ্চে বসে বান্ধবীর হাত ধরে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বোনেন কোনো তরুণ। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু মুক্ত বাতাসের সন্ধান করেন ধর্মসাগরের চারপাশে। কত শত প্রেম-বিচ্ছেদ, কত নির্মম মৃত্যুর সাক্ষী এ ধর্মসাগর!

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৪৫৮ সালে ত্রিপুরারাজ ধর্মমাণিক্য খনন করেন এই দীঘি। আয়তন ২৩ দশমিক ১৮ একর। এই অঞ্চলের মানুষের পানির কষ্ট নিবারণ করাই ছিল রাজার মূল উদ্দেশ্য। ‘রাজমালা’ গ্রন্থ আনুযায়ী, মহারাজা ধর্মমাণিক্য রাজত্ব করেন দীর্ঘ ৩২ বছর। তার নামেই দীঘির নামকরণ হয় ধর্মসাগর। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা ভ্রমণে এলে সংগীতজ্ঞ শচীন দেববর্মণের সঙ্গে যেসব জায়গায় সময় কাটাতেন, তার মধ্যে ধর্মসাগর ও এর আশপাশের এলাকা অন্যতম।

লেখক ও ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর জানান, ধর্মসাগর যখন খনন করা হয় সেই সময়টা মধ্যযুগ। সেই সময়টা অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ হিসেবেও বিবেচিত হয়। ওই সময় সুপেয় পানির অভাব ছিল। সে সময় এ অঞ্চলে যেসব রাজা শাসন করতেন তারা প্রজাদের সুপেয় পানির জন্য কিছু দীঘি খনন করেন। ধর্মসাগর, জগন্নাথ দীঘি, নানুয়ার দীঘি ও উজির দীঘি এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

আহসানুল কবীর বলেন, বর্তমান যে ওয়েলফেয়ার স্টেট বা কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, তার শুরুটা মূলত ওই সময়কার রাজাদের হাত ধরে। তবে এমন ঘটনার অন্যতম ভালো উদাহরণ রাজা মাণিক্য বাহাদুর। তিনি তখন তার রাজ্যর লোকদের জন্য ধর্মসাগর খনন করেন।

ধর্মসাগর নিয়ে নানা জনশ্রুতির কথা তুলে ধরে এই গবেষক বলেন, প্রায় চার হাজার শ্রমিক দুই বছর ধরে এই দীঘি খনন করেন বলে প্রচলিত রয়েছে। এই ধর্মসাগর খনন উপলক্ষে অন্তত ২৯ জন ব্রাহ্মণকে রাজা ধর্মমাণিক্য নিষ্কণ্টক ভূমি দান করেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। এ ছাড়া রাজা মাণিক্য বাহাদুর অসিয়ত করেছিলেন, তার মৃত্যুর পর যারাই ধর্মসাগরটি রক্ষণাবেক্ষণ করবেন তারা দাসানুসারে জীবনযাপন করবেন।

সময়ের পরিক্রমায় এখন আর সুপেয় পানির জন্য ধর্মসাগরের ওপর নির্ভর করতে হয় না কুমিল্লাবাসীকে। তবে সাড়ে ৫০০ বছর আগের সেই দীঘি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হয়েছে ঐতিহ্যে। ধর্মসাগর ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। দলবেঁধে হাঁটা, যোগ ব্যায়াম, পথশিশুদের বিনামূল্যে পড়ালেখা করানো- এ রকম বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে সংগঠনগুলো। বিকেলে দর্শনার্থীদের নৌকা ভ্রমণের সুযোগও রয়েছে এই দীঘিতে।

ধর্মসাগরের উত্তর পাড়ে রয়েছে পথশিশুদের জন্য অবকাশ স্কুল। ওই স্কুলের সভাপতি ও শিক্ষক আজমীর হোসেন ইমন বলেন, স্কুলটিতে ৬৭ জন শিশু নিয়মিত পড়তে আসে। এই ধর্মসাগরটাই আমাদের অনুপ্রেরণা।

ধর্মসাগরপাড়ে ঘুরতে আসা কুমিল্লা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রভাষক কাজী বেলায়েত উল্লাহ জুয়েল বলেন, ‘আমার কাছে ধর্মসাগর পাড়কে সুস্থ মনন বিকাশের আদর্শ পরিবেশ বলে মনে হয়। স্কুলজীবন থেকে শুরু, এখনো নির্মল বাতাসের খোঁজে পরিবারসহ আমরা যারা কুমিল্লা শহরবাসী তারা ধর্মসাগরের পাড়কেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করি।’

ইতিহাস-ঐতিহ্যর এই স্মারক দীঘি রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানালেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ড. সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দীঘিটির বিভিন্ন পাড়ে বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছিল। আমরা সেগুলো উচ্ছেদ করেছি। এই দীঘি রক্ষণাবেক্ষণসহ সৃজনশীল পদক্ষেপ নিতে নানা শ্রেণি-পেশার অংশীজনদের নিয়ে একটি কমিটি করতে চাই। আমরা আশাবাদী, এ রকম হলে ধর্মসাগরের সৌন্দর্য আরও বাড়বে।’


রিসোর্টে নতুন সম্ভাবনা

রিসোর্টে নতুন সম্ভাবনা
গাজীপুরের পূবাইলে অরণ্যবাস রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পট। ছবি: দৈনিক বাংলা
ইফতেখার রায়হান, গাজীপুর
প্রকাশিত

ইফতেখার রায়হান, গাজীপুর

রাজধানী লাগোয়া গাজীপুরের অনেকটা এলাকাজুড়ে শাল-গজারির বন। আছে পুরাকীর্তি, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাফারি পার্কও। এসব ঘিরে পর্যটন খাতের সম্ভাবনা থাকলেও তা ছাপিয়ে যাচ্ছে বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা রিসোর্ট।

জেলায় বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা রিসোর্ট ও পিকনিক স্পটের সংখ্যা প্রায় ৩০০। এসব রিসোর্টে তৈরি হয়েছে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য মিলছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, এসব রিসোর্টে ব্যবসায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের যানজট।

বেসরকারি বিনিয়োগে গাজীপুরে প্রথম রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট গড়ে ওঠে পূবাইলে। বর্তমানে শুধুমাত্র পূবাইলেই আছে ছোট-বড় অর্ধশত রিসোর্ট। রিসোর্টগুলোর মধ্যে অন্যতম অরণ্যবাস রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পট, পিএসসিসি রিসোর্ট, পূবাইল রিসোর্ট ক্লাব, মেঘবাড়ী রিসোর্ট, গ্রিন ভিউ রিসোর্ট, জল-জঙ্গলের কাব্য, হাসনাহেনা রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পট, কৃষ্ণচূড়া। এসব রিসোর্টে পর্যটকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে নান্দনিক কটেজ, সুইমিং পুল, রেস্টুরেন্ট, জিমনেশিয়াম, শিশুদের খেলাধুলার নানা রাইড। কৃত্রিমভাবে গড়ে তোলা লেকে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ানো ও মাছ ধরতেও ছুটির দিনে অনেকে এসব রিসোর্টে আসেন।

সম্প্রতি পরিবার নিয়ে পূবাইলের একটি রিসোর্টে ঘুরতে যান সোহাগ আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারিভাবে ভালোমানের কোনো রিসোর্ট গাজীপুরে এখনো গড়ে ওঠেনি। তাই বাধ্য হয়েই সময় কাটাতে বেসরকারি রিসোর্টগুলোতে ঘুরতে যাওয়া। খরচ একটু বেশি হলেও রিসোর্টের পরিবেশ যথেষ্ট ভালো।

অরণ্যবাস রিসোর্ট ও পিকনিক স্পটের ব্যবস্থাপক ওমর ফারুক বলেন, তারা নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। ঢাকা থেকে খুব কাছে হওয়ায় মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য এখানে আসতে পারেন।

ওমর ফারুক বলেন, করোনার ধাক্কা সামলে রিসোর্টগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা। নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পর্যটকরা এই অঞ্চলের রিসোর্টগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তাই দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যটন সুবিধা বাড়িয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার দাবি তার।

গাজীপুর সদরে শালবনের গহিনে ৮০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে রাজেন্দ্রপুর ইকো রিসোর্ট। রিসোর্টটিতে ১৯টি প্লটে তৈরি করা হয়েছে একই রকমের দেখতে ১৯টি ভবন। এ ছাড়া আছে ইটের তৈরি কিন্তু মাটির প্রলেপ দেয়া মাড হাউস। আছে ২৬টি কটেজ পার্ক। ছাদ থেকে চারপাশে দেখার জন্য আছে অবজারভেশন টাওয়ার। রিসোর্টের ভেতরে আছে লেকে মাছ ধরার ব্যবস্থা, সাইকেল লেন, শাকসবজির বাগান, ডেইরি ও পোল্ট্রি ফার্ম। সুইমিং পুল, ম্যাসাজ পার্লারও আছে রিসোর্টটিতে।

এ ছাড়া গাজীপুর সদর ও শ্রীপুরে ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, সারাহ রিসোর্ট, গ্রিন ভিউ গলফ রিসোর্টসহ অসংখ্য বিলাসবহুল রিসোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

এসবের বিপরীতে গাজীপুরে সরকারিভাবে গড়ে তোলা পর্যটন কেন্দ্র হলো ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান। ৫ হাজার ২২ হেক্টর জায়গাজুড়ে উন্নত দেশগুলোর আদলে গড়ে তোলা হয়েছে এই উদ্যান। সুবিশাল আয়তনের এই উদ্যানে এক সময় বাঘ, কালো চিতা, মেঘলা চিতা, হাতি, ময়ূর, মায়া হরিণ, খেকশিয়ালসহ ৬৪ প্রজাতির প্রাণী দেখা যেত। উদ্যানে ২২১ প্রজাতির উদ্ভিদ ছাড়াও কৃত্রিমভাবে ইউক্যালিপটাস এবং রাবারের বনায়ন করা হয়। তবে দীর্ঘদিন অযত্ন, অবহেলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় জৌলুশ হারিয়েছে উদ্যানটি।

ভাওয়াল উদ্যানে পর্যটকদের জন্য বানানো বিশ্রামাগার, শৌচাগারগুলো অনেকটাই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিশুদের জন্য নির্মাণ করা পার্কের রাইডগুলোতে জড়িয়ে আছে আগাছা। দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় পার্কের একমাত্র ক্যান্টিনও বন্ধ থাকে বেশির ভাগ সময়। পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা কটেজগুলোর অবস্থাও বেশ নাজুক। একসময় বছরে প্রায় ১৫ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক উদ্যানে ঘুরতে এলেও বর্তমানে সে সংখ্যা যৎসামান্য।

সম্প্রতি ভাওয়াল উদ্যানে ঘুরতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, নিরিবিলি পরিবেশ আর গাছ-গাছালি ছাড়া ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে দেখার মতো তেমন কিছুই নেই। অথচ বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা ছোট ছোট পর্যটনকেন্দ্রে সুযোগ-সুবিধা অনেক ভালো।

নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে গাজীপুরের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর দাবি জেলার সচেতন বাসিন্দাদের। লেখক ও গবেষক অধ্যক্ষ মুকুল কুমার মল্লিক বলেন, ঢাকার পাশে হলেও এই জেলার পর্যটন খাতকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়া হয়নি। বেসরকারিভাবে বেশকিছু পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠলেও সরকারিভাবে তেমন কোনো পর্যটন কেন্দ্র আলোর মুখ দেখেনি। যদি সরকারিভাবে গুরুত্ব দিয়ে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়া যায় তাহলে গাজীপুর একটি আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে।

এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান বলেন, গাজীপুরের পর্যটন খাতকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ পর্যটন খাতের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।