সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

কাভার্ড ভ্যান ও অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত

কাভার্ড ভ্যান ও অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত
সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতীকী ছবি
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের হাফিজিয়া মাদ্রাসা এলাকায় কাভার্ড ভ্যান ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। নিহতরা হলেন কমলনগর উপজেলার সেলিম উদ্দিনের ছেলে আরিফ হোসেন (২১) ও প্রয়াত হাফিজ উল্যাহর ছেলে জাকির হোসেন (২৬)।

আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থাও গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। শনিবার রাত পৌনে দশটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে রামগতি থেকে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে একটি কার্ভাড ভ্যান ছেড়ে আসে। ভ্যানটি কমলনগর উপজেলার হাফিজিয়া মাদ্রাসা এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় অটোরিকশার যাত্রী আরিফ ও জাকির ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ সময় স্বপ্না বেগম নামে এক নারীসহ আহত হন আরও তিনজন। আহত বাকি দুইজনের নাম এখনও জানা যায়নি। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সদর হাসপাতালের আবাসিক ডাক্তার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, স্বপ্না বেগমের অবস্থা গুরুতর। তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসা চলছে।

কমলনগর থানার ওসি সোলায়মান উদ্দিন জানান, কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।


স্কুলড্রেসে বাইরে ঘোরাফেরা করলে আটক: এসপি

স্কুলড্রেসে বাইরে ঘোরাফেরা করলে আটক: এসপি
নীলফামারীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত

স্কুল চলাকালীন কোন শিক্ষার্থী পার্ক বা বিভিন্ন জায়গায় স্কুলড্রেস পরে ঘোরাফেরা করলে তাকে আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন নীলফামারীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।

এছাড়া স্কুল-কলেজের সামনে বা পাড়া-মহল্লায় কোন বখাটে ঘোরাফেরা করলে তাদেরও আটক করে গোয়েন্দা কার্যালয়ে (ডিবি) নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গতকাল রোববার বিকেলে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠে অনুষ্ঠিত ‘ওপেন হাউজ ডে’-এর অনুষ্ঠানে এসব ঘোষণা দেন নবাগত পুলিশ সুপার।

সৈয়দপুর থানার আয়োজনে এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।

অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাবেয়া আলীম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আমিরুল ইসলাম, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসাইন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিনুল হক মহসিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল হক, সৈয়দপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিন হোসেন।

মাদকের বিস্তার রোধে আগামী এক মাসের মধ্যে সবাইকে নিয়ে সৈয়দপুরকে মাদক মুক্ত করার ঘোষণাও দেন এসপি।


করতোয়ায় নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২

করতোয়ায় নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২
নৌকাডুবির ঘটনায় করতোয়ার তীরে উৎসুক মানুষের ভিড়। ছবি : দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় এক শিশুসহ আরও সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩২ জনে।

সোমবার সকালে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আত্রাই নদীর জিয়া সেতুর নিচ থেকে একজনের, বীরগঞ্জ অংশে কাশিমনগর বাদলারঘাটে এক শিশুসহ দুইজনের, বোদায় ও দেবীগঞ্জে দুইজন করে চারজনের মরদহ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিক উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

দৈনিক বাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায়, খানসামা থানার ওসি চিত্তরঞ্জন, বীরগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার ও দেবীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার সোহেল রানা।

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে গতকাল রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। যার বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনা শেষে ফিরছিলেন।

এ ঘটনায় রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়। সবগুলো মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সৎকারের জন্য পরিবারগুলোকে ২০ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে।

এ প্রাণহানির জন্য অতিরিক্ত যাত্রী বহনকে দায়ী করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

তিনি বলেন, ‘নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ঘটনাস্থলে মারওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পুলিশ ছিল। তারা সবাই ওই নৌকায় এত লোক উঠতে নিষেধ করেছিলেন।’


আবাদ থেকে বিক্রি সবই করেন সেরিনা

আবাদ থেকে বিক্রি সবই করেন সেরিনা
পাটের জমিতে বীজ লাগানো থেকে শুরু করে আবাদ ও বিক্রি সব কিছুই করেন চাষি সেরিনা বেগম। ছবি: দৈনিক বাংলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

আব্দুর রব নাহিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মর্দনা-বিরামপুর। সকালে গ্রামের রাস্তায় নারীরা ব্যস্ত পাটের আঁশ ছড়ানোর কাজে। তাদের সঙ্গেই কাজ করছিলেন এক নারী। তাকেই আবার দেখা গেল ছড়ানো পাটের আঁশ বিলের পানিতে ধুয়ে একসঙ্গে করে রাখতে। বলা যায়, একহাতেই যেন সব কাজ সামলাচ্ছেন তিনি।

কাছে গিয়ে নাম জিজ্ঞাসা করতে জানালেন, তিনি সেরিনা বেগম। অন্য সব নারীরা যেখানে অন্যের জমির পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছিলেন, সেরিনা সেখানে নিজের জমির পাটের আঁশই ছাড়াচ্ছিলেন নিজ হাতে। তিনি আরও জানালেন, পাটের জমিতে বীজ দেয়া থেকে শুরু করে আবাদ, আঁশ ছাড়ানো সবই তিনি নিজ হাতেই করেন। নিজেই পাট বিক্রি করতে চলে যান হাটে।

সেরিনা বেগমের সঙ্গে কথা হয় বেশ কিছুক্ষণ। জানালেন, একবিঘা জমি আধি ভাগে (ফসলের অর্ধেক জমির মালিকের) নিয়ে এবার পাটের আবাদ করেছেন। জমি চাষ দেয়া, বীজ বোনাসহ বিভিন্ন কাজ নিজেই করেছেন, কিছু শ্রমিকও নিয়েছিলেন সহায়তার জন্য। সার-বীজ কেনাসহ সব মিলিয়ে তার এক বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে সাত হাজার টাকার মতো। সেরিনা আশাবাদী, জমিতে এবার ১২ মণ পাট হবে। তাতে কিছু লাভ থাকবে তার।

সেরিনা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি নিজেই পাটচাষ করেছি প্যাট-মানুষ (শ্রমিক) লিয়্যা। খরচ হয়্যাছে সাত-সাড়ে সাত হাজার। আর নিজে খ্যাটাছি। এখন আশা করছি ১০-১২ মণ পাট যদি হয়, আর যদি ২৫০০ টাকা দাম প্যায়, তাইলে কিছু লাভ হবে।’ আধি ভাগের চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদিত পাটের অর্ধেক পাবেন জমির মালিক, বাকি অর্ধেকটা তার।

নিজেই কেন পাটচাষ করতে গেলেন- এমন প্রশ্নে সেরিনা জানান, ‘পাটে লাভ ভালো। তাই জমি বর্গা নিয়ে পাটচাষ করেছেন। এখন উৎপাদিত পাট বিক্রি করলে যা লাভ হবে, তা দিয়েই চলতে চান। সেরিনার কথায়, ‘বসে থাকলে তো কেউ খ্যাতে (খেতে) দিবে না। কর্মকরায় খ্যাতে হবে (কাজ করে খেতে হবে)। তাই জমি বর্গা লিয়্যাই কৃষিকাজ করছি।’

পাশেই ছিলেন সেরিনার মা বিবিজান বেগম। তিনি জানালেন, ‘সেরিনার স্বামী কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। এরপর থেকে সংসারের বোঝা পুরোটাই সেরিনার ওপর। তার চার মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে থাকেন সেরিনা।’

স্থানীয়রা বলছেন, ‘কৃষিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও বেশিরভাগ নারীই কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করে থাকেন। সে ক্ষেত্রে সেরিনা বেগম একটু ব্যতিক্রম। তিনি নিজেই জমি বর্গা নিয়ে পাটের আবাদ করেছেন। চাষাবাদ থেকে শুরু করে উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রির সব ধাপই তিনি নিজে যুক্ত থেকে সম্পন্ন করেন। তার দেখাদেখি অন্য নারীরা এভাবে চাষাবাদে সরাসরি সম্পৃক্ত হলে আর্থসামাজিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন তারা।


পথ হারিয়ে ফেলা রেশম স্বপ্ন দেখাচ্ছে আবার

পথ হারিয়ে ফেলা রেশম স্বপ্ন দেখাচ্ছে আবার
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত
  • সম্প্রতি রেশমের ৩৫টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহী। এর মধ্যে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) গাছ ও ২০টি রেশম কীট।

এনায়েত করিম, রাজশাহী ব্যুরো

প্রাচীনকাল থেকেই রেশমের জন্য সুপরিচিত রাজশাহী। সেই সুখ্যাতি থেকেই রাজশাহীর প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে ‘সিল্কসিটি’। তবে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলেছিল রেশমশিল্প। বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের হাত ধরে সেই রেশম আবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে সুদিন ফেরানোর। রেশম নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি রেশমের ৩৫টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) গাছ ও ২০টি রেশম কীট। নতুন এসব জাত রেশমশিল্পে সাড়া ফেলবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তারা বলছেন, আগের জাতের চেয়ে নতুন জাতে অন্তত ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি উৎপাদন আসবে। এতে চাষিদেরও সাশ্রয় হবে।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর তথ্য অনুযায়ী, রেশমশিল্পের উন্নয়নে পাঁচ বছর আগে ‘রেশম প্রযুক্তি উন্নয়ন বিস্তার ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণ’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রেশম বোর্ড। চলতি বছরের জুনে শেষ হয়েছে প্রকল্পটি। ৩৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে রেশমে যুক্ত হয়েছে ১৫টি মালবেরি (তুঁত) জাতের গাছ ও ২০টি নতুন জাতের কীট। ফলে বর্তমানে মালবেরি জাতের গাছের সংখ্যা ৩৮টি ও রেশম কীটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ ও রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমানের যৌথ গবেষণায় নতুন এসব জাত উদ্ভাবন হয়। নতুন ৩৫টি জাত (১৫টি তুঁত ও ২০টি কীট) উদ্ভাবনের ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীতে জার্মপ্লাজম ব্যাংকে তুঁত জাতের গাছের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮৪ ও রেশম কীট জাতের সংখ্যা ৮৫ থেকে ১১৪টিতে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি উচ্চফলনশীল রেশম কীটের জাত রয়েছে।

নতুন ২০টি রেশম কীট উদ্ভাবনের ফলে প্রতি ১০০টি রোগমুক্ত ডিমে ৭০ থেকে ৭৫ কেজি রেশমগুটি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। আগে এর পরিমাণ ছিল ৬০ থেকে ৬৫ কেজি। এ ছাড়া উচ্চফলনশীল ১৫টি তুঁতজাত উদ্ভাবনের ফলে বছরে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে প্রতি হেক্টরে রেশমের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৩০ থেকে ৩৭ মেট্রিক টন। ফলে স্বল্প সময়ে ও অল্প ব্যয়ে মানসম্পন্ন কাঁচা রেশম সুতা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

গবেষণা কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘একটি নতুন জাত তৈরি করতে অন্তত ১০ বছর সময় লেগে যায়। এই গবেষণার কাজ আগেই কিছুটা এগিয়ে রাখায় পাঁচ বছরের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হয়েছে। রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জার্মপ্লাজম থেকে গবেষণার মাধ্যমে নতুন এই ১৫টি জাতের মালবেরি (তুঁত) জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিএসআরএম-৬৪, বিএসআরএম-৬৫ ও বিএসআরএম ৭৪ জাতের ট্রায়াল শেষ হয়েছে। এগুলো রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে চাষিদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হবে। বাকি জাতগুলো ট্রায়ালের জন্য রাখা হয়েছে।’

এই গবেষক আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্বিতীয় পর্যায়ে এগুলোর ট্রায়াল শেষ করা হবে। এগুলো থেকে হেক্টরপ্রতি তুঁতপাতার উৎপাদন ৪০ থেকে ৪৭ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব হবে। তবে ট্রায়াল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোর নামসহ বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’

ঊর্ধ্বতন গবেষণা কর্মকর্তা রুমানা ফেরদৌস বিনত-এ রহমান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্ভাবিত ২০টি নতুন রেশম কীটের জাতের সবগুলোই এখন ট্রায়াল পর্যায়ে আছে। এগুলো চাহিদা অনুযায়ী রেশম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্রস হাইব্রিড জাত উৎপাদন করে সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট রাজশাহীর পরিচালক কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রধান ফসল হিসেবে চাষিদের তুঁত চাষ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এখন বাড়ির আনাচকানাচে, রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত জায়গায় বেশির ভাগ তুঁত চাষ হয়। রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকেও তুঁত চাষকে জনপ্রিয় করতে সাথি ফসল প্রবর্তন করা হয়েছে। চাষিরা এভাবে চাষাবাদ করলে লাভবান হবেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন এসব জাত উদ্ভাবনের পর সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন এলাকার কৃষক নিয়ে এখানে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। এখন এগুলো ট্রায়ালে আছে। কিছু কিছু জাত রেশম সম্প্রসারণকে দেয়া হয়েছে। আর কিছু জাতের কাজ এখনো চলছে। সামান্য কিছু উন্নয়ন করতে হবে। এগুলো শেষ হলেই এই ৩৫টি নতুন জাত রেশম সম্প্রসারণ শাখার মাধ্যমে চাষিদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম কারখানা ২০০২ সালে বন্ধ করে দেয় তৎকালীন জোট সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফের সচলের উদ্যোগ নিয়ে ২০১৮ সালে কারখানাটি চালু হয়। সে সময় রেশমের সুদিন ফেরাতে ১৫৩ কোটি টাকার চারটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরপর ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পায় রাজশাহীর ঐতিহ্য রেশম। স্বীকৃতি পাওয়ার পর রেশম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে রেশমচাষিদের উৎপাদিত রেশমগুটি থেকে কারখানার সামনের রেশম ডিসপ্লেতে মিলছে প্রিন্টেড শাড়ি, টু-পিস, থান কাপড়, ওড়না, স্কার্ফ, টাই ইত্যাদি খাঁটি রেশমপণ্য।


আট মাসেও চালু হয়নি লঞ্চ

আট মাসেও চালু হয়নি লঞ্চ
লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরী হাট এলাকায় নোঙর করে রাখা বিভিন্ন লঞ্চ। ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • লক্ষ্মীপুর-ঢাকা নৌরুট

লক্ষ্মীপুর-ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচল শুরুর এক দিন পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আট মাসেও তা চালু হয়নি। মূলত, যাত্রীসংকটের কথা বলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়। নতুন করে আবার চালু হবে কি না, এ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা আছে।

আট মাস মাস আগে যখন লঞ্চ চালু হয় তখন জেলার মজু চৌধুরীর হাট থেকে লঞ্চ চলে ঢাকার সদরঘাট পর্যন্ত। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেঘনা নদী হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম এটি। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানোর পর ২০১৯ সালের ৩ মার্চ বিআইডব্লিউটিএ চিঠি দিয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এমভি বোগদাদিয়া-৮ লঞ্চ চালুর অনুমতি দেয়। তখন বলা হয়, পরীক্ষামূলকভাবে এটি চলবে। এর মধ্যে নাব্যতাসংকটসহ অন্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার নির্দেশনা দিলেও তা আর হয়নি।

পরে ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আনুষ্ঠানিকভাবে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা লঞ্চ সার্ভিস চালুর উদ্বোধন করেন বিআইডব্লিউটির নৌ-ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম। চালুর এক দিনের মাথায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেন লঞ্চ মালিকরা। আট মাস পার হলেও এখনো চালু হয়নি এ রুটে লঞ্চ চলাচল।

লঞ্চ চালুর দাবিতে একটি পরিষদও গড়ে উঠেছে। ঢাকা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চাই পরিষদের আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, দাবি আদায়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। কিন্তু চালুর পর কী কারণে তা আবার বন্ধ হয়ে গেল তা অজানা।

সাত্তার পালোয়ান বলনে, দ্রুত সময়ে লঞ্চ চালু না হলে তারা আবারও কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, চালুর পর মূলত নাব্যতাসংকটের কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়। এখন নাব্যতা দূর করতে নদীর ডুবোচরে জেগে ওঠা চরগুলো খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আশা করছেন, অল্প সময়ের মধ্যে লঞ্চ চলাচল শুরু করা হবে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরী বলেন, লঞ্চ চালু করা গেলে যাত্রীরা সড়কপথের তুলনায় কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন। এই নৌপথ সচল থাকলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চল ও রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি প্রসার ঘটবে বাণিজ্যের।

সংসদ সদস্য বলেন, শিগগিরই এ নৌপথ চালু হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। পাশাপাশি খননের কাজ চলছে। সেটিও প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে।