রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

বাসায় ফেরার পর র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নেয়া হয় নিলয়কে

বাসায় ফেরার পর  র‌্যাব পরিচয়ে তুলে  নেয়া হয় নিলয়কে
সারতাজ ইসলাম নিলয়। ছবি: সংগৃহীত
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত

কথিত হিজরতের পর বাসায় ফিরে এসেছিলেন কুমিল্লা ও ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া সাত তরুণের একজন সারতাজ ইসলাম নিলয়। বাসায় ফেরার পর পরিবারের সদস্যরাই বিষয়টি জানিয়েছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। এর দুই ঘণ্টার মধ্যে ১৫-১৬ জন ব্যক্তি সাদা পোশাকে নিজেদের র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে বাসা থেকে নিয়ে যান। কিন্তু এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারছেন না স্বজনরা।

স্বজনদের দাবি, নিলয় ভুল বুঝতে পেরে নিজেই বাসায় ফিরে আসেন। বিষয়টি তারা স্বেচ্ছায় ও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জানান। এখন ১২ দিন ধরে তারা আর নিলয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বা দেখা করতে পারছেন না। একাধিকবার র‌্যাব সদর দপ্তরে গিয়েও নিলয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তবে র‌্যাবও নিলয়কে হেফাজতে নেয়ার কথা স্বীকার করেনি।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কুমিল্লা ও ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া সাতজনকে আমরা খুঁজছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। এই সাতজনের সঙ্গে যোগাযোগ আছে— এমন আরও চার কিশোরও বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। আমরা সেই চার কিশোরকে পরিবারের সদস্যদের সামনে রেখে কাউন্সেলিং করেছি। তাদের পরিবারের কাছে ফেরতও দিয়েছি।’

গত ২৩ আগস্ট ঢাকা থেকে একজন ও কুমিল্লা থেকে ছয়জনসহ মোট সাত তরুণ একযোগে বাসা থেকে নিখোঁজ হন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানতে পারেন, জঙ্গিবাদে জড়িয়ে কথিত হিজরতের নামে তারা ঘর ছেড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের খোঁজে মাঠে নামেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিলয় ছাড়া বাকি তরুণদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

সারতাজ ইসলাম নিলয়ের ফুফু আকলিমা আক্তার জানান, নিলয় পরিবারের সঙ্গে কল্যাণপুরের ১১ নম্বর সড়কের একটি বাসায় থাকতেন। তিনি সম্প্রতি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন। দুই মাস আগে মামাতো বোনের সঙ্গে তার বিয়েও হয়। গত ২৩ আগস্ট সকালে তিনি ট্রাউজার ও গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় কাঁধে একটি ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। যাওয়ার আগে তিনি বসুন্ধরা এলাকায় যাচ্ছেন বলে জানান।

আকলিমা আক্তার জানান, রাতেও নিলয় বাসায় ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি করে জানা যায়, নিলয়ের সঙ্গে তার খালাতো ভাই নেহাল আব্দুল্লাহও কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ। কুমিল্লায় নেহাল আব্দুল্লাহর বাবা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে নিলয়ের মা লাভলী ইয়াসমীন গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর থানায়একটি জিডি করেন।

নিলয়ের মামাতো বোন ফাতেমা-তুজ-জোহরা জানান, ২৯ আগস্ট হঠাৎ নিলয় তার স্ত্রীর মেসেঞ্জারে একটি বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় তিনি বাড়িতে ফিরতে চান বলে জানিয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জানান। ৩১ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে নিলয় নিজেই কল্যাণপুরের বাসায় হাজির হন।

ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, নিলয় বাসায় আসার পর তাকে অনেক ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। বাসায় এসে তিনি যখন জানতে পারেন পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে তোলপাড় চলছে, তখন তিনি অনেকটা ভয় পেয়ে যান। ভয়ে আবার বাসা থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরে আটকে রাখেন। নিলয় বাসায় ফেরার পরপরই তার খালু ও নিখোঁজ নেহাল আব্দুল্লাহর বাবা বিষয়টি কুমিল্লার র‌্যাব কর্মকর্তাদের জানান। এর দুই ঘণ্টার মধ্যেই র‌্যাব পরিচয়ে ১৫-১৬ জনের একদল লোক তাদের বাসায় আসেন।

আকলিমা আক্তার বলেন, ‘আমরা নিজেরাই নিলয়ের বাসায় ফেরার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালাম। এখন আমরাই নিলয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। নিলয়কে নিয়ে যাওয়ার এক দিন পর বছিলায় র‌্যাব-২-এর অফিসে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাাদের র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে যেতে বলা হয়। র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে একাধিকবার গেলেও নিলয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। শুধু একজন লোক এসে বলেছেন, নিলয় ভালো আছে।’

আকলিমা আক্তার বলেন, ‘নিলয় তো স্বেচ্ছায় ফিরে এসেছে। ও তো দেশের এমন কোনো ক্ষতিও করেনি। যদি ওকে কাউন্সেলিং করাতে হয়, তাহলে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিক। আর যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে আদালতে সোপর্দ করুক। আমরা তো মহাদুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছি।’

ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, ‘র‌্যাব পরিচয়ে যারা বাসায় এসেছিল, তাদের একজন একটা মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন ফোন করলে তিনি ফোন ধরেন না। ফোন ধরলেও নিলয়ের বিষয়ে কোনো কিছু বলেন না। এটা তো কোনো সিস্টেম হলো না।’

বরিশালে এক হুজুরের মাদ্রাসায় ছিলেন নিলয়

বাসায় ফেরার পর নিলয় তার স্বজনদের জানিয়েছেন, যাদের ডাকে তারা সাতজন ঘর ছেড়েছিলেন, এক দিন পরেই প্রত্যেককে আলাদা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। নিলয় জানান, তাকে চাঁদপুর থেকে বরিশালে নিয়ে যাওয়া হয়। বরিশালে তিনি এক হুজুরের মাদ্রাসায় ছিলেন। যাওয়ার পর কথিত সেই বড় ভাইয়েরা তার কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও ব্যাগও নিয়ে নিয়েছেন। ৩০ আগস্ট রাতে তিনি ওই মাদ্রাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে বের হয়ে লঞ্চে করে সদরঘাটে নেমেছেন বলে নিলয় পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন।

স্বজনরা জানান, কাদের কথায় নিলয়সহ অন্যরা ঘর ছেড়েছিলেন— এ কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। যাওয়ার আগে নিলয় তার ল্যাপটপ ও আইফোন বিক্রি করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, তিনি এগুলো বিক্রি করে নতুন ল্যাপটপ ও একটি ফোন কিনবেন। সে সময় স্বজনরা ঘুণাক্ষরেও বিষয়টি টের পাননি।


মরিয়মের সাথে দেখা করার পর মুখ খুললেন রহিমা

মরিয়মের সাথে দেখা করার পর মুখ খুললেন রহিমা
মা রহিমা বেগম (বাঁয়ে), মায়ের সন্ধান চেয়ে মরিয়ম মান্নানের কান্নার ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
  • একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সাথে ওষুধ, পোষাক থাকতে পারে না : পিবিআই

  • প্রতিবেশিরা আমাকে অপহরণ করে ব্লাংক স্ট্যাম্পে সাক্ষর নিয়েছে : রহিমা বেগম

খুলনা মহেশ্বরপাশা থেকে নিখোঁজ রহিমা বেগম উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই অনেকটা নিশ্চুপ ছিলেন। প্রথমবার মরিয়মের সাথে দেখা করতে না চাইলেও পবর্তীতে মরিয়ম তাকে জড়িয়ে ধরলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে পুলিশের কাছে তুলেন অপহরণের অভিযোগ।

শনিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে পৌনে ১১ টায় খুলনার উদ্দেশ্য রওনা হয় পুলিশ। রাত ২ টা ১০ মিনিটে তাকে দৌলতপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে রাখা হয় সোনাডাঙায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে।

দৌলতপুর থানার উপ পরিদর্শক দোলা দে বলেন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকা অবস্থায় তার মেয়েরা দেখা করতে এসেছিল। তবে তিনি কোন ভাবেই রাজি হচ্ছিলেন না। পরে আমার অনুরোধে জানালার কাছে এসেছিলেন। মরিয়ম মা বলে ডাক দিলে তিনি ভেতরে চলে যান। পরে তাকে আমরা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) খুলনা জেলা কার্যালয়ে হস্তান্তর করি।

পিবিআই কার্যালয়েও তাকে নানা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে প্রথমদিকে তিনি একেবারে নিশ্চুপ ছিলেন।

খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, আমরা নানাভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম। তবে কোন ভাবেই তিনি মুখ খুলতে চাননি।

তবে দুপুরের পরে তার মেয়ে মরিয়মসহ অন্যরা পিবিআই কার্যালয়ে এসে মা রহিমা বেগমকে জড়িয়ে ধরেন। তখন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রহিমা বেগম।

সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, মেয়েদের সাথে দেখা হওয়ার পরে রহিমা বেগম মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন প্রতিবেশি কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনসহ তিন জন তাকে অপহরণ করেছিল। তাকে কোথাও আটকে রেখে ব্লাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন তারা। পরে তারা এক হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘রহিমা বেগমের দাবি, তিনি কিছুই চিনতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে গোপালগঞ্জের মুকছেদপুর হয়ে পূর্ব পরিচিত ভাড়াটিয়ার ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে যান। কিন্তু তার কাছে কোনো মোবাইল নম্বর না থাকায় কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রহিমা বেগমের বক্তব্য খতিয়ে দেখছি। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী সবকিছু করা হবে।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, রহিমা বেগমকে উদ্ধারের সময়ে তার কাছ থেকে একটি সাদা ব্যাগ পাওয়া গেছে। তাতে ওষুধ ছিল, পোষাকসহ অন্যান্যা মালামাল ছিল। একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সাথে এগুলি থাকতে পারে না। তাই এটা অপহরণ নাও হতে পারে।



পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ১৫ জনের প্রাণহানি

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ১৫ জনের প্রাণহানি
প্রতীকী ছবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকা ডুবে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় দৈনিক বাংলাকে ১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা ফায়ার সার্ভিস থেকে নৌকাডুবির কথা বলা হলেও হতাহতের সঠিক তথ্য এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।


ঘুষ নেয়ায় নাজির বরখাস্ত

ঘুষ নেয়ায় নাজির বরখাস্ত
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।

একই সঙ্গে ঘটনা‌ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আজ রোববার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে চি‌ঠি পাঠিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি এক‌টি ভাইরাল ভিডিওর বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দিনের ঘুষের বিনিময়ে কাজের সংবাদ তথ্য জানা যায়। বিষয়টি ভূমি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে।

ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন সেবাগ্রহীতা সদ্য অনুমোদিত নামজারী (খারিজ) করতে এলে রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দীন সেবাগ্রহীতাকে বলেন, ‘নামজারিতে একটি নাম ভুল হয়েছে, সেটি সংশোধন করতে হবে এবং সব মিলে ১ হাজার টাকা লাগবে, এর কম হবে না। কারণ সংশোধন করতে হলে এটি উপরে পাঠাতে হবে, সেখানে টাকা চাবে।’

এমতাবস্থায় সেবা গ্রহীতা ৭০০ টাকা দেন এবং বাকি টাকা কাজ হলে দেবেন বলে জানান। কিন্তু এই কাজের জন্য কোনো ফি নির্ধারণ করা নেই।


পিবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন খারিজ

পিবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন খারিজ
বাবুল আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত

হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বাবুলের কারাকক্ষে তল্লাশি ও নিরাপত্তা চেয়ে করা আবেদনটিও খারিজ করে দেয়া হয়।

আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালত আবেদন দুটি খারিজ করে দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাবুল আক্তার একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। এর মধ্যে তিনি অনেকবার আদালতে এসেছেন। কিন্তু একবারও নির্যাতনের বিষয়ে আদালতে কোনো অভিযোগ করেননি। কিন্তু এখন অভিযোগ করে মামলার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। সবকিছু বিবেচনায় আদালত তার আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়েছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ। তিনি বলেন, আদালত আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়েছেন। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে চট্টগ্রামের আদালতে মামলার আবেদন করেন বাবুল আক্তার। এরপর আদালত শুনানি শেষে আদেশের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন।

আবেদনে বনজ কুমার মজুমদার ছাড়া যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন— পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।

সে সময় মামলার শুনানিতে বাবুলের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, পিবিআই বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে মিতু হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্যাতন করেছে। এই ঘটনায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ (১) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ৫ (২) ধারায় মামলার আবেদন করা হয়েছে। বাবুল আক্তার নিজেই আবেদনটি করেছেন।

এ ছাড়া, ১২ সেপ্টেম্বর বাবুল আক্তারের কারাকক্ষে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন তল্লাশি চালিয়েছেন অভিযোগ তুলে তদন্তের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে এই আবেদনটিও ১৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখেছিলেন। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর এই দুই আবেদনের আদেশের সময় পিছিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন আদালত।

১২ সেপ্টেম্বর আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ দাবি করেন— পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদনের পর আসামিরা মারমুখি আচরণ করছেন। তাদের নির্দেশে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জেল কোডের তোয়াক্কা না করে কারাগারে বাবুলের কক্ষে প্রবেশ করেন।

তিনি (ওসি) দীর্ঘ সময় ওই কক্ষে তল্লাশির নামে বাদীর জীবনের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। তবে তল্লাশির বিষয়টি ওসি এবং জেল সুপার আনোয়ারুল করিম অস্বীকার করেন। 

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে নগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় জঙ্গিরা জড়িত দাবি করে বাবুল আক্তার মামলা করেন পাঁচলাইশ থানায়। তদন্ত শেষে পিবিআই গত বছরের ১২ মে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

হত্যায় বাবুল জড়িত বলে সন্দেহ হলে একই দিন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন আরেকটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় বাবুলসহ আটজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ এ মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখায়।

বাবুলের করা মামলায় পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৪ অক্টোবর আদালতে নারাজি দেন বাবুলের আইনজীবী। আদালত ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে আদালত বাবুলকে নিজের করা মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

এর মধ্যে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পিবিআই মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এতে ওই মামলায় গ্রেপ্তার বাবুলসহ অন্যদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। মামলাটিতে পাওয়া সব তথ্য-উপাত্ত বাবুল আক্তারের করা মামলায় একীভূত করতেও আবেদন জানানো হয়।

পিবিআইয়ের অধিকতর তদন্তে বাবুল আক্তারের করা মামলায় তাকেই আসামি করা হয়। 


জি কে শামীমের যাবজ্জীবন

জি কে শামীমের যাবজ্জীবন
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমসহ আটজনকে অস্ত্র আইনের এক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রাজধানীর গুলশান থানায় করা মামলাটিতে একই সঙ্গে সব আসামির লাইসেন্স করা অস্ত্র রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় জি কে শামীমকে। দণ্ডাদেশ পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. মুরাদ হোসেন। এরা জি কে শামীমের দেহরক্ষী।

২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেখান থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ৯ হাজার আমেরিকান ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

এরপর জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে, মানি লন্ডারিং এবং মাদক মোট তিনটি মামলা করে।

অস্ত্র মামলায় র‌্যাব ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি একই আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে বিচার শুরু করে।