সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

১২ বছরেও শেষ হচ্ছে না অপেক্ষা

১২ বছরেও শেষ হচ্ছে না অপেক্ষা
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে দিন-রাত। তবে দিনের তুলনায় রাতের কাজের গতি ধীর। ছবিটি রোববার তেজগাঁও এলাকা থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
তৌফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত
  • ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

তৌফিকুল ইসলাম

ঢাকা শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণে চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ২০১১ সালের এপ্রিলে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তারপর পেরিয়ে গেছে প্রায় এক যুগ। এর মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে চারবার। বেড়েছে নির্মাণব্যয়। সর্বশেষ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও রেলস্টেশন পর্যন্ত উড়ালসড়কের ১১ কিলোমিটার অংশ আগামী ডিসেম্বরে চালু করার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা এখন বলছেন, ডিসেম্বরে এই অংশ চালু করা সম্ভব নয়। এর জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে আরও ছয় মাস।

রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে তিন ভাগে। এর মধ্যে মূল উড়ালসড়কের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। ২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৩১টি র‍্যাম্প থাকবে উড়ালসড়ক থেকে বিভিন্ন জায়গায় নামার জন্য।

প্রথম ধাপে বিমানবন্দরের দক্ষিণ কাওলা থেকে বনানী রেলস্টেশন পর্যন্ত, দ্বিতীয় ধাপে বনানী রেলস্টেশন থেকে মগবাজার রেলক্রসিং পর্যন্ত কাজ হচ্ছে। আর তৃতীয় ধাপে মগবাজার রেলক্রসিং থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত নির্মাণকাজ চলছে।

সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাত-দিনে দুই শিফটে কাজ চলছে। তবে দিনের চেয়ে রাতে কাজ কম হয় বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের কর্মীরা। উড়ালসড়কটির বেশিরভাগ রুট গেছে রেললাইন ধরে। ফলে রেলওয়ের জমিও তারা ব্যবহার করছে। নিচে রেললাইন, ওপরে উড়ালসড়ক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সারা দিন যেহেতু ট্রেন চলাচল করে, তাই রেললাইনের অংশে উড়ালসড়কের পিলারে গার্ডার তোলা ও স্ল্যাব বসাতে সবসময় রেলওয়ের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করাও সম্ভব হচ্ছে না।

প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকল্পটির বিমানবন্দর থেকে বনানী পর্যন্ত অংশে কাজ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এই অংশের পিলারে উঠেছে গার্ডার ও স্ল্যাব। স্ল্যাবের ওপর ঢালাইয়ের কাজ চলছে। তবে মহাখালী থেকে তেজগাঁও অংশে কাজের গতি কম। এই অংশে কিছু পিলারের ওপর আই গার্ডার ও স্ল্যাব বসেনি। তেজগাঁওয়ে উড়ালসড়ক থেকে নামার অংশে কিছু পিলারের কাজও বাকি আছে। এসব কাজ আগামী তিন মাসে শেষ করা সম্ভব হবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ফলে ডিসেম্বরে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।

মহাখালী রেলগেট এলাকায় প্রকল্পের কর্মী আপেল মাহমুদ দৈনিক বাংলাকে  বলেন, ‘গত তিন-চার মাস বেশ জোরেশোরে কাজ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু করেছে ঠিকাদাররা। কাজ এখনো অনেক বাকি। কেন শ্রমিক ছাঁটাই করছে আমরা জানি না। যেসব কাজ বাকি, তাতে ডিসেম্বরে শেষ হবে না। এই কাজ শেষ করতে আরও সময় লাগবে।’

প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিমানবন্দর থেকে বনানী অংশে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। বনানী থেকে তেজগাঁও রেলগেট পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৩৮ শতাংশ। সার্বিকভাবে প্রকল্পের অগ্রগতি ৫২ শতাংশ। মগবাজার রেলক্রসিং থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী অংশে মাটি পরীক্ষা ও পিলার বসানোর কাজ চলছে।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম এস আকতার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার একটা টার্গেট আছে। কাজের গতি আগের চেয়ে বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার।’

তবে প্রকল্পের এক সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘টার্গেট ডিসেম্বর, কিন্তু এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হবে। মহাখালী-তেজগাঁও এলাকায় রেললাইনের ওপরে পিলারে গার্ডার উঠানো সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হচ্ছে।’