বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২

সহপাঠী নিহতের ঘটনায় সড়ক অবরোধ, চালক গ্রেপ্তার

সহপাঠী নিহতের ঘটনায় সড়ক অবরোধ, চালক গ্রেপ্তার
গাড়ির ধাক্কায় নিহত আলী হোসেনের সহপাঠীদের বিক্ষোভ। ছবি : দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বিজি প্রেসের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় বিজ্ঞান কলেজের স্কুল শাখার দশম শ্রেণির ছাত্র আলী হোসেন নিহতের ঘটনায় ঘাতক মাইক্রোবাসের চালক জিয়াউল হককে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ সোমবার সকালে আশুলিয়ার বিশ মাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পর মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিকেলে তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আজিমুল হক সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানোর কথা।

আজ বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর ফার্মগেট মূল সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। সেখানে আরও কয়েকটি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিজয় সরণি মোড়ে অবস্থান নেয় তারা।

শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে সব কটি লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক।

শিক্ষার্থীদের থামাতে ও সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শিক্ষক এবং তেজগাঁও বিভাগ পুলিশকে দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর সোয়া ১২টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত তেজগাঁও বিজয় সরণি মোড় অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।

আশিক নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, কলেজের সামনে দিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চলাচল করে। এ ব্যাপারে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এক সহপাঠী খুন হলো। বিচার কখনো হয় না, আমরা তাই বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছি।

দুপুর ২ টার দিকেও শিক্ষার্থীদের একইভাবে অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে ঘাতক চালক গ্রেপ্তারের খবর শুনে অবশ্য তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।


এমপি-পুলিশের টাকার রক্ষক এখন ভক্ষক

এমপি-পুলিশের টাকার রক্ষক এখন ভক্ষক
জাকির চেয়ারম্যান । ছবি : দৈনিক বাংলা
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত

নুরুজ্জামান লাবু

বছর দশেক আগেও ঢাকায় লেগুনা চালাতেন তিনি। কিন্তু দশ বছরের মাথায় তিনি মালিক হয়েছেন কোটি কোটি টাকার। ১০০ গাড়ি নিয়ে শুরু করেছেন রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা। ক্ষমতাসীন দলের একটি ইউনিয়নে যুবলীগের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন শুরুতে। পরে নৌকা প্রতীক নিয়ে হয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যানও।

আলোচিত এই ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন। তিনি কুমিল্লার মেঘনা থানাধীন ২ নম্বর মাইনকারচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।

কোনো আলাদিনের চেরাগ নয়, তার কোটিপতি হওয়ার নেপথ্যে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সদস্য আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শতাধিক কর্মকর্তা। অনেকেই অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন তার মাধ্যমে। এখন জাকির বেঁকে বসেছেন। লাভের টাকা দেয়া তো দূরের কথা, আসল টাকাই ফেরত দিচ্ছেন না। বিনিয়োগকারীদের অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপপরিদর্শক পর্যায়ের কর্মকর্তা। এই টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে সেই আশঙ্কায় তারা বিষয়টি কাউকে বলতেও পারছেন না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর এ কে এম গোলাম রসুল নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত পরিদর্শক জাকিরের নামে রাজধানীর মুগদা থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, পেনশন ও ইউএন মিশন থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে তিনি ছয়টি মাইক্রোবাস কিনে জাকিরের কাছে মাসিক ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়া দেন। শুরুতে প্রতি মাসে টাকা দিলেও গত ফেব্রুয়ারি থেকে টাকা দেয়া বন্ধ করে দেন। গোলাম রসুল গাড়ি ফেরত আনতে গিয়ে জানতে পারেন, জাল-কাগজপত্র তৈরি করে জাকির সেসব গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন।

জাকির হোসেনের বাড়ির গেট। ছবি: দৈনিক বাংলা

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন অর রশিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘জাকির অনেক বড় একজন প্রতারক। তাকে আমরা অনেক দিন ধরেই গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু সে আত্মগোপনে রয়েছে। অবশেষে তাকে গোয়েন্দা জালের মধ্যে আনা হয়েছে। যে কোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকির হোসেনের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা থানাধীন ২ নম্বর মাইনকারচরের উজানচর নোয়াগাঁও এলাকায়। বাবা জজ মিয়া একজন কৃষক। এসএসসি পাস জাকির ২০০৮ সালে ঢাকায় এসে গাড়ি চালানো শেখেন। তারপর দুই বছর ঢাকায় লেগুনার চালক হিসেবে কাজ করেন। পরে নিজেই একটি প্রাইভেটকার কিনে ভাড়ায় চালানো শুরু করেন।

বছর দশেক আগে তার সঙ্গে কুমিল্লার মেঘনা থানায় কর্মরত এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় হয়। ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে প্রথমে একটি গাড়ি কিনে দেন। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতেন সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে। সেই থেকে শুরু, এরপর থেকে যেন আলাদিনের চেরাগ নিজে এসে হাতে ধরা দেয় জাকিরের কাছে।

জাকিরের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, একজন-দুজন করে জাকিরের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় বাড়তে থাকে। পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা তাকে গাড়ি কিনে দেয়া শুরু করেন। জাকির সেসব গাড়ি নিয়ে রাজধানীর গোপীবাগে আর কে মটরস নামে একটি রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা চালু করেন। সর্বশেষ তার এই রেন্ট-এ-কারের ব্যবসায় ১০০ মাইক্রোবাস ছিল।

ওই সূত্র জানায়, জাকিরের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরে কুমিল্লা এলাকার একজন সংসদ সদস্য আড়াই কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। একই এলাকার একজন সাবেক সংসদ সদস্যও বিনিয়োগ করেন দেড় কোটি টাকা। লক্ষ্মীপুর এলাকার সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্য বিনিয়োগ করেন দুই কোটি টাকা। এ ছাড়া পুলিশের ডিআইজি পদপর্যাদার এক কর্মকর্তা দুই কোটি টাকা জাকিরের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন। এর বাইরে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার অন্তত পাঁচজন কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগকারীর এই তালিকায় পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর, ট্রাফিক সার্জেন্ট, টিআই, বিভিন্ন থানার ওসি বা পরিদর্শক এবং এএসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাও আছেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জাকির প্রথমদিকে প্রত্যেকের গাড়ি ভাড়া নেয়ার বিনিময়ে মাসে ৭০ হাজার টাকা করে পরিশোধ করতেন। যারা নগদ টাকা দিয়েছেন তাদের সঙ্গে গড়ে ১৫ লাখ টাকা করে একটি গাড়ির দাম ধরে ৭০ হাজার টাকা ভাড়া হিসাবে পরিশোধ করতেন। নগদ টাকা নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি এনে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এ ছাড়া ঢাকায় ফ্ল্যাটসহ ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় জমি কিনেছেন। নিজের এলাকায় তিনতলা আলিশান একটি বাড়িও বানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জাকির হঠাৎ করেই লভ্যাংশ দেয়া বন্ধ করে দেন। জাকির তাদের জানান, একটি মামলায় কারাগারে যাওয়ায় তার ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি রেন্ট-এ-কার প্রতিষ্ঠানকে কিছু গাড়ি ভাড়া দেয়ার পর তারা তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ জন্য তিনি লাভের টাকা ফেরত দিতে পারছেন না।

তবে ভুক্তভোগীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার মাধ্যমে যেসব বিনিয়োগকারী গাড়িতে বিনিয়োগ করেছেন তাদের অনেকেই বিনিয়োগের টাকার উৎস সম্পর্কে যথাযথ হিসাব দিতে পারবেন না, তাই তাদের অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করেছেন জাকির।

এ বিষয়ে জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ- টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার একটি যৌথ সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। তারা অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ একে অন্যের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে তা বৈধ করার চেষ্টা করেন। এ ধরনের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। তা না হলে এটি এক পাক্ষিক হয়ে যাবে, একইসঙ্গে তিনি আরেকটি আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। যেহেতু ঘটনার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক কর্মকর্তা জড়িত, তাই তাকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তার সুরক্ষা দেয়া জরুরি।


বিএনপির মিছিলে পুলিশের বাধা, সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ৫০

বিএনপির মিছিলে পুলিশের বাধা, সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ৫০
মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জে বিএনপির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এ সময় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক ও বিএনপির নেতা-কর্মীসহ ৫০ জনের মতো আহত হয়েছেন।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মুক্তারপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল বের করে বিএনপি। মিছিলগুলো ফেরিঘাট এলাকায় জড়ো হয়। সেখান থেকে বড় মিছিল বের হলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশও প্রায় অর্ধশত রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ওসিসহ ১০ পুলিশ আহত হন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছাড়াও আহত হন সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া তিন সাংবাদিক।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ১০ পুলিশ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গুরুতর আহত হয়েছেন।

সদর থানা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে মিছিলে আসতে থাকলে পুলিশ বাধা দেয় এবং ব্যানার ছিড়ে ফেলে। এ কারণে নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে যায়। আমরা তাদেরকে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করি। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। আমাদের ৫০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।


উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে এমপির ‘পিস্তল তাক’

উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে এমপির ‘পিস্তল তাক’
পিস্তল হাতে এমপি রেজাউল করিম বাবলু। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

প্রকল্পের জন্য দেয়া টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) রেজাউল করিম বাবলুর সঙ্গে উপজেলা যুবলীগ নেতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেই দ্বন্দ্ব থামাতে গেলে পাল্টা উপজেলা চেয়ারম্যানের দিকে নিজের পিস্তল তাক করেন এমপি। তবে এমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আত্মরক্ষায় পিস্তল বের করেছেন তিনি।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের বারান্দায় এই ঘটনা ঘটে। এদিন উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা চলছিল।

এমপির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া যুবলীগ নেতার নাম আলমগীর বাদশা। তিনি শাজাহানপুর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।

আলমগীর বাদশা বলেন, ২০১৯ সালে এমপির নামে মসজিদ, রাস্তাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ আসে। ওই সময় অনেকের কাছে থেকে বরাদ্দ দেয়ার নামে টাকা নিয়েছিলেন এমপি। আমার কাছে থেকেও ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেন। আমিই তাকে দিয়েছিলাম। যাতে উন্নয়ন কাজগুলো হয়। কিন্তু সেই বরাদ্দ আজও দিতে পারেননি এমপি রেজাউল করিম। আমার দেয়া টাকাও ফেরত দেননি।

‘আজ সামনাসামনি দেখা হলে তাকে বললাম, আপনি যে টাকাটা নিলেন, ফেরত দিবেন না? এ কথা বলার পরেই তিনি আমার ওপর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। বলেন কিসের টাকা, কোনো টাকা নেই।’

যুবলীগ নেতার দাবি, এ সময় তাকে ধাক্কা মারতে থাকেন এমপি। ফারুক নামে তার এক সঙ্গী লাঠি দিয়ে আঘাত করেন তাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব হোসেন ছান্নু জানান, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা হচ্ছিল। বাইরে হট্টগোল শুনে তিনি বের হন। চার বছর আগের প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা নিয়ে কথাকাটাকাটি হচ্ছিল বলে শুনতে পান।

তবে এসব ঘটনার বিষয়ে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।

তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) রেজাউল করিম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে অংশ নিতে উপজেলা পরিষদে যাই। এ সময় সেখানে আলমগীর বাদশা এমপিকে দেখেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

চেয়ারম্যানও হামলা করতে আসলে এমপি আত্মরক্ষায় পিস্তল বের করেন। পিস্তল তো নেয়া হয়েছে আত্মরক্ষার জন্য।’

হট্টগোলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তবে বগুড়া জেলা প্রশাসনের জেএম শাখা থেকে এমপি বাবলুর নামে একটি পিস্তল নিবন্ধনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।


গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ
গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের বিক্ষোভ। ছবি: দৈনিক বাংলা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত

বিএনপি ও জামায়াতের মদদে সারা দেশে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে গোপালগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করে তারা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গীতে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

সমাবেশে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, রাজু খান, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামিম খান শাহানেওয়াজ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সামিউল হক তনু, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রকিবুল ইসলাম রানা, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু তাহের, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক খান রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বিএনপি ও জামায়াতের সৃষ্ট ‘নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি’ শক্ত হাতে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।


চাঁদাবাজি মামলায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী গ্রেপ্তার

চাঁদাবাজি মামলায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার আব্দুল মান্নান আকন্দ। ছবি: সংগৃহীত
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত

চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টার মামলায় বগুড়া জেলা পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ শাহরিয়ার তারিকি আজ বুধবার সকাল ১০ টার দিকে এ আদেশ দেন।

বগুড়া কোর্ট পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জী জানান, আজ সদর আমলি আদালতে মামলার এজলাস ছিল। এ সময় উভয় পক্ষের শুনানি হয়। শুনানিতে আব্দুল মান্নান আকন্দ জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আব্দুল মান্নান আকন্দের পক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম মন্টু বলেন, আদালতে জামিন আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত তা মঞ্জুর না করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বর রেলওয়ের কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের মার্কেটের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় রায়হান আলী নামে রেলওয়ের এক কর্মচারীকে মারধর করা হয়।

এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর হত্যাচেষ্টা, চুরি ও মারধরের অভিযোগে মামলা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসেন আলী সরকার রেলওয়ে (কর্মচারী) কল্যাণ ট্রাস্ট সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী ও রায়হানের বাবা হায়দার আলী।

মামলায় মার্কেট নির্মাণের ঠিকাদার আব্দুল মান্নান আকন্দসহ ৫১ জনকে আসামি করা হয়।

আব্দুল মান্নান আকন্দ বগুড়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন।