মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

মুক্তিপণের টাকা চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে

মুক্তিপণের টাকা চট্টগ্রামের এক ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে
মামুন সালাম।
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত

দেশ থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন এক ব্যক্তি। লিবিয়া যাওয়ার পর তিনি পড়েন আন্তর্জাতিক অপহরণকারী চক্রের হাতে। চক্রের সদস্যরা তাকে আটকে রেখে নির্যাতনের ভিডিও পাঠায় দেশে থাকা স্ত্রীর কাছে। চায় বিপুল পরিমাণ মুক্তিপণ। দফারফা শেষে অপহরণকারী চক্রের কথামতো সেই টাকার বড় একটি অংশ জমা দেন তাদের পাঠানো একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। বাকি টাকা দেন একাধিক বিকাশ নম্বরে।

আলোচিত এই ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, মুক্তিপণের টাকা জমা হওয়া সেই ব্যাংক হিসাবটি চট্টগ্রামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে। প্রতিষ্ঠানটির নাম সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্স।

ব্র্যাক ব্যাংকের যে হিসাবে মুক্তিপণের টাকা জমা হয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ইতিমধ্যে সেই ব্যাংক হিসাবটি স্থগিত করেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগও (সিআইডি) বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেছে।

এই ঘটনা নিয়ে সিআইডির কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ রকম একটি অনুসন্ধান চলছে। নথিপত্র দেখা ছাড়া বিস্তারিত বলা যাবে না।’

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন সালাম এবং চেয়ারম্যান তার স্ত্রী কানিজ ফতেমা। চট্টগ্রামের উত্তর হালিশহরের স্থায়ী বাসিন্দা মামুন সালামের বেঙ্গল সিনথেটিক ফাইবার লিমিটেড, ফোর সিজন্স রিসোর্ট লিমিটেড, রিলায়েন্স বক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, রিলায়েন্স ওয়াশিং ইন্ডাস্ট্রিজ, রিলায়েন্স ড্রেসেস লিমিটেড, রিলায়েন্স ডেনিম লিমিটেড, সালাম অ্যাপারেল লিমিটেড নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে।

এ ছাড়া মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটরশিপের যে ব্যবসা আছে সেটার নাম সালাম অ্যান্ড ব্রাদার্স। চট্টগ্রামের জুবিলী রোড অফিস থেকে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের নামে ১২টি তফসিলি ব্যাংকে হিসাব আছে। মামুন সালাম মেঘনা ব্যাংকের স্পন্সর ডিরেক্টর।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর বাসিন্দা শাহজাহান একসময় মালয়েশিয়া থাকতেন। কয়েক বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। তার স্ত্রীর খালাতো ভাই নবী হোসেন অনেক বছর ধরে লিবিয়া থাকেন। নবী হোসেন তাকে লিবিয়া থেকে ইতালিতে পাঠাতে পারবেন জানালে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর শাহজাহান লিবিয়া যান। লিবিয়ায় যাওয়ার পর নবী হোসেন তাকে ফরহাদ নামে একজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ফরহাদ তাকেসহ আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে অন্য একটি জায়গায় নিয়ে রাখেন। মাস তিনেক রাখার পর ফরহাদ শাহজাহানসহ অন্যদের একটি মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, মাফিয়া চক্রটি গত ১৭ এপ্রিল দুপুরে শাহজাহানের স্ত্রী সাদিয়া সুলতানার ইমো অ্যাপসে ফোন দিয়ে বিশাল অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। তারা শাহজাহানের স্ত্রীকে জানায়, টাকা না দিলে শাহজাহানকে মেরে ফেলা হবে। এ সময় তারা শাহজাহানকে মারধর করে চিৎকার শোনায় সাদিয়াকে। মাফিয়া চক্রের হুমকিতে বিচলিত শাহজাহানের পরিবারের সদস্যরা ধার-দেনা করে চক্রের কথামতো সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্র্যাক ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা দেন। গত ২১ এপ্রিল ব্র্যাক ব্যাংকের ভৈরব শাখায় মুক্তিপণের ওই টাকা জমা দেওয়া হয়। বাকি ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয় বিকাশের কয়েকটি নম্বরে।

শাহজাহানের এক স্বজন দৈনিক বাংলাকে জানান, টাকা দেয়ার পর শাহজাহানকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। এরপর তিনি লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছান। শাহজাহান বর্তমানে ইতালি আছেন। অনেক জটিলতার পর ইতালিতে পৌঁছাতে পারার কারণে শাহজাহানের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আর ঘাঁটাঘাঁটি করতে চান না। পাশাপাশি মাফিয়া চক্রের হুমকির বিষয়ও আছে। বিষয়টি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ইতালিতে শাহজাহান ও দেশে তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দিয়েছেন চক্রের সদস্যরা। পরিবারের এক সদস্য জানান, শাহজাহানের স্ত্রী চক্রের পক্ষ থেকে ফোনে হুমকি-ধমকি পেয়েছেন।

যেভাবে জানা গেল ঘটনাটি

অপহরণের মতো বড় একটি ঘটনার শিকার হলেও শাহজাহানের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ইউনিটের কাছে এ বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি। মুক্তিপণ দিয়ে তারা শাহজাহানকে মুক্ত করেছেন। কিন্তু অনেকটা কাকতালীয়ভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে চলে আসে।

চলতি বছরের ২১ এপ্রিল শাহজাহানের স্ত্রী সাদিয়া ব্যাংকে যান অপহরণকারীদের দাবিমতো টাকা জমা দিতে। ব্র্যাক ব্যাংকের ভৈরব শাখায় সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যখন টাকা জমা দিতে যান, তখন তার ভয়ার্ত চেহারা ও তাড়াহুড়া ব্যাংক কর্মকর্তাদের নজর এড়ায় না। ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা আন্তরিকভাবে সাদিয়ার কাছে তার সমস্যা ও তাড়াহুড়ার কথা জানতে চাইলে সাদিয়া অকপটে তার স্বামীকে আটকে রাখার কথা বলেন। ভয়ার্ত  সাদিয়া এও বলেন যে, মুক্তিপণের টাকা হিসেবে তিনি টাকা জমা দিচ্ছেন।

ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা বিষয়টি শুনে টাকা জমা করার সময় এ বিষয়ে একটি ‘নোট’ দিয়ে রাখেন। সেই ‘নোট’ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠানো হলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের হিসাবটি স্থগিত করে বিষয়টি অনুসন্ধান করতে সিআইডির কাছে পাঠায়। সিআইডি প্রাথমিক অনুসন্ধানে লিবিয়ায় অপহরণের ঘটনার সত্যতা পায় এবং ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে ওই অ্যাকাউন্টে অনেক সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়ে যায়।

কেঁচো খুড়তে সাপ

সিআইডির একটি সূত্র জানায়, মুক্তিপণের অর্থগ্রহীতার খোঁজ করতে গিয়ে জানা যায়, যে অ্যাকাউন্টে মুক্তিপণের টাকা জমা হয়েছে, সেটি সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যবসায়িক হিসাব। সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্স বিকাশের চট্টগ্রাম এলাকার ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে ব্যবসা করে। সিআইডির কর্মকর্তারা ওই ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে দেখতে পেয়েছেন, তাতে গ্রাহকের ব্যবসায়িক লেনদেনের বাইরে সন্দেহজনক অনেক লেনদেন হয়েছে।

তারা বলছেন, সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের ওই ব্যাংক হিসাবে বিকাশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে স্থানীয় এজেন্টদের কাছ থেকে ই-মানি বিক্রি করা নগদ টাকা জমা হওয়ার কথা। কিন্তু এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নগদ অর্থ জমা করা হয়েছে।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত হুন্ডি ব্যবসার ক্ষেত্রে এ ধরনের লেনদেন হয়ে থাকে। জমা করা অর্থের সঙ্গে গ্রাহক বা সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবসার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। সিলেট, সুনামগঞ্জ বা যশোর এলাকা থেকে জমা হওয়া অর্থের উৎসের বিষয়ে সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্স বিকাশের লেনদেনের টাকার কথা বললেও তাদের সঙ্গে জমাকারীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্পষ্ট নয় বলে সিআইডির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের ওই ব্যাংক হিসাবে নারায়ণগঞ্জ থেকে স্বর্ণ বিক্রির ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব খোলার নথিপত্রে এর কর্ণধার বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন সালামের গার্মেন্ট ও রিসোর্ট ব্যবসার কথা উল্লেখ আছে। স্বর্ণ বা অন্যান্য ব্যবসা বাবদ জমা হওয়া অর্থের সঙ্গে তাদের ব্যবসার কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংক হিসাবের লেনদেন পর্যালোচনা করে বিকাশের ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবসার আড়ালে হুন্ডি ও চোরাকারবারি ব্যবসা করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্স অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচার করে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। এজন্য বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন সালামের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করে বক্তব্য জানার জন্য তাকে মোবাইলে ও হোয়াটস অ্যাপে মেসেজ দেয়া হয়। হোয়াটস অ্যাপের মেসেজ তিনি দেখলেও কোনো মন্তব্য করেননি।

অভিযোগ থেকে বাঁচতে নতুন কৌশল

মুক্তিপণের অর্থ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা নেয়ার বিষয়টি বিএফআইইউ ও সিআইডি খোঁজখবর নিতে শুরু করলে অভিযোগ থেকে বাঁচতে অভিনব কৌশল নিয়েছে সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্স। মামুনুর রশিদ নামে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের একজন বিকাশ এজেন্টের একটি আবেদনের কপি জমা দেওয়া হয় সিআইডির কাছে। সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের কাছে করা ওই আবেদনপত্রে জনৈক ফারুক এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মামুনুর রশিদ ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্রে অমিত হাসান রায়েছ এবং সাদিয়া সুলতানা এই টাকা ডিস্ট্রিবিউটরের অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন বলে দাবি করেন। তবে লিবিয়ায় অপহরণের শিকার হওয়া শাহজাহানের স্ত্রী সাদিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, তিনি মামুনুর রশিদ নামে কাউকে চেনেন না। তার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কথাও হয়নি। লিবিয়া থেকে যে অ্যাকাউন্ট নম্বর তাকে দেওয়া হয়েছে সেখানেই টাকা জমা করেছেন তিনি।

জানতে চাইলে মামুনুর রশিদও দৈনিক বাংলার কাছে স্বীকার করেন, তিনিও সাদিয়া সুলতানা নামে কাউকে চেনেন না। দুবাই-প্রবাসী ফারুক নামে তার দূর সম্পর্কের খালাতো ভাইয়ের কথামতো সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরটি ফারুককে দিয়েছেন বলে দাবি করেন মামুন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ফারুক আগে ওমানে থাকতেন। রিয়াজউদ্দিন বাজারে মামুনুর রশীদের যে ব্যবসা আছে তাতে অংশীদার ফারুক। ফারুক সম্পর্কে সিআইডির অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, তিনি লিবিয়া, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন।


পর্যটন খাতের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি : প্রতিমন্ত্রী

পর্যটন খাতের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি :  প্রতিমন্ত্রী
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

দেশের পর্যটন খাতকে টার্গেট নিয়ে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেন, আমরা যথাসম্ভব আমাদের টার্গেটে পৌঁছাব। এ জন্য একটা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেট খেলায় দেখা যায়, পাঁচটা বল ভালোভাবে ব্যাটিং করতে পারে না। কিন্তু শেষ বলে ছয় মারে। অনেক সময় মেডেনওভার যায়, যেখানে কোন রানই করতে পারে না। আবার এমনও পরিস্থিতি দাঁড়ায়, ছয় বলে ৩৬ রান করা যায়। সুতরাং আমাদের সামনে সেই সুযোগটা রয়েছে, ছয় বলে ৩৬ রান করার। আমাদের সমস্ত উপকরণ আছে, আমাদের ইচ্ছা আছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ পর্যটনকে কেন্দ্র করে অনেক দূর এগিয়েছে। আমাদের দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্যের আছে। সেগুলো তুলে ধরতে হবে।

পর্যটন দিবসের এই আয়োজন প্রতিটি শহরে ছড়িয়ে দিতে হবে জানিয়ে মাহবুব আলী বলেন, আমার মধ্যে প্রতিভা আছে, সেটাতো সবাইকে জানাতে হবে। নিজের মধ্যে রাখলে তো হবে না। আমাদের দেশে যে সম্পদ আছে, প্রতিভা আছে, এখন সবাইকে তা জানাতে হবে।

আলোচনা সভায় অনেকের বক্তব্যের সূত্র ধরে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলেছেন পর্যটন করপোরেশনে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। বিষয়টি আমরা ক্যাবিনেট সেক্রেটারি সঙ্গে কথা বলব। একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে পর্যটনে দায়িত্ব দিতে প্রস্তাব দেব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটন স্পটে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে, এটা সংশ্লিষ্ট দেশের সংবাদমাধ্যম নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটা ঘটনা (কক্সবাজার) পর্যটন সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ একটা ঘটনায় যেন পুরো সেক্টরের ক্ষতি না হয়। আমরাও চাই একটি আপরাধও যেন দেশে না হয়।

এ সময় পর্যটন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা কোভিড পূর্ববর্তী যে অবস্থায় ছিলাম, সেখানে যেতে চাই না। তার চেয়ে অনেক এগিয়ে যেতে চাই। পর্যটনের উন্নয়নে মিডিয়া কিন্তু সরকার ও বেসরকারি খাতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেশি।

গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সচিব বলেন, আমি অনুরোধ করব, দেশের স্বার্থে যেন পজিটিভলি খবর প্রকাশ হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবার সঙ্গে আলোচনা করে পর্যটন নিয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডিসেম্বরে সেই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে যাব।

আলোচনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আলি কদর, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. জাবের প্রমুখ।


অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ

অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ
পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নরসিংদীতে উদ্ধার হওয়া যুবকের অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ। আনুমানিক ৩২ বছর বয়সী ওই যুবকের পরনে ছিল হালকা আকাশি রঙের জিন্স প্যান্ট ও আকাশি ডোরাকাটা টি শার্ট। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মরদেহটি মর্গে রয়েছে।

শিবপুর থানা পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার মরদেহটি শিবপুরের বাহেরখোলা গ্রামের আসাদ মীরের বাড়ির পূর্ব পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।  

শিবপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া জানান, এখনও পর্যন্ত মরদেহটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরিচয় না পাওয়া গেলে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি দাফন করার জন্য আঞ্জুমানে দেয়া হবে।


গাড়ি চাপায় তরুণী নিহত

গাড়ি চাপায় তরুণী নিহত
প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গাড়ির চাপায় এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বেজগাঁও বাস স্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার নাম ঠিকানা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মাহফুজ রিবেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট বাহারুল সোহাগ জানান, ওই নারীকে অজ্ঞাত একটি গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই নারী। মরদেহ হাইওয়ে থানা পুলিশ হেফাজতে আছে।


কানাডা যাচ্ছেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লার পরিবারের আরও ১৪ সদস্য

কানাডা যাচ্ছেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লার পরিবারের আরও ১৪ সদস্য
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কক্সবাজারে শরণার্থী ক্যাম্পে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহর মাসহ তার দুই ভাইয়ের পরিবারের আরও ১৪ সদস্য জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) তত্ত্বাবধানে কানাডায় যাচ্ছেন।

গত রোববার তারা ঢাকার উদ্দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছাড়েন বলে আজ মঙ্গলবার জানান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৮ এর সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ।
 
তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র তত্ত্বাবধানে মুহিবুল্লাহর পরিবারের ১৪ সদস্যকে তাদের ব্যাটালিয়নের অধীনে ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

এপিবিএন জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে পরিবারের ১৪ সদস্যের দলটির কানাডার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। এই ১৪ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন, মুহিবুল্লাহর মা উম্মে ফজল (৬০), ছোট ভাই হাবিব উল্লাহর স্ত্রী আসমা বিবি (৩৫), সন্তান কয়কবা (১৫), বয়সারা (১৩), হুনাইসা (৯), আইমন (৮), ওরদা বিবি (৫), আশরাফ (৫) ও আরেক ভাই আহমদ উল্লাহর স্ত্রী শামছুন নাহার (৩৭), সন্তান হামদাল্লাহ (১১), হান্নানা বিবি (৯), আফসার উদ্দীন (৭), সোহানা বিবি (৫) ও মেজবাহ উল্লাহ (১)।

এর আগে, গত ৩১ মার্চ রোহিঙ্গা নেতার স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের ১১ জন সদস্য কানাডার উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন।

ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সময় সেখানে পুলিশসহ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), এবং জাতিসংঘের শরণার্থী হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে সর্বশেষ রোহিঙ্গা নির্বাসনের দুই বছর পর্যবেক্ষণ উপলক্ষে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা সদস্য নিয়ে সমাবেশ করার পর নেতা হিসেবে লাইমলাইটে আসেন মুহিবুল্লাহ।

গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কুতুপালং-১ (ইস্ট) লম্বাশিয়া ক্যাম্পের ডি-৮ ব্লকে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ (৪৬)। মিয়ানমারের মংডুতে স্কুলে শিক্ষাকতা করতেন বলে রোহিঙ্গাদের কাছে তিনি ‘মুহিবুল্লাহ মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরদিন তার ভাই হাবিব উল্লাহর অভিযোগে হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ।

পরে ২০২১ সালের অক্টোবরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-১৪) সদস্যরা মহিবুল্লাহ হত্যাকারী দলের সদস্যসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এদের মধ্যে আসামি আজিজুল হক পরদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বাকি ৩ আসামি হলেন- কুতুপালং ক্যাম্পের ডি-ব্লকের মুহাম্মদ রশিদ ওরফে মুর্শিদ আমিন, ক্যাম্পের বি-ব্লকের মুহাম্মদ আনাস ও নুর মুহাম্মদ।


বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন
সাজাপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

লক্ষ্মীপুরে বড় ভাই আবদুল হান্নানকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছোট ভাই আবদুল মান্নানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামি উপস্থিত ছিলেন।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার এবং আদালত সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের চর পার্বতীনগর গ্রামের আনু মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা আবুল কালামের দুই ছেলে আবদুল হান্নান ও আবদুল মান্নান। হান্নানকে বিয়ে করানোর পর থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

২০১৯ সালের ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১২ টার দিকে হান্নান তার ছোট ভাইকে বসতঘরের জানালার পাশে দেখতে পেয়ে তার স্ত্রী সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় জানালার পাশে থাকা ছোট ভাই মান্নান একটি দা নিয়ে হান্নানের ঘরে ঢুকে। কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মান্নান তার বড় ভাই হান্নানের ঘাড়ে কোপ দেন। দায়ের কোপে হান্নানের ঘাড়ে বেশিরভাগ অংশ আলাদা হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

পরদিন সকালে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বাবা আবুল কালাম ছোট ছেলে হান্নানকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন পুলিশ মান্নানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রানা দাস আসামি মান্নানকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে প্রায় সাড়ে চার বছর পর এই মামলার রায় দেয়া হয়।