মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

৬ থানা শিক্ষা অফিস ফাইলবন্দি

৬ থানা শিক্ষা অফিস ফাইলবন্দি
রংপুর সদরের এই একটি শিক্ষা অফিস থেকেই সিটি করপোরেশনের সব বিদ্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • রফিকুল ইসলাম, রংপুর

রংপুর সদর থানা শিক্ষা অফিস ভেঙে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় আরও ছয়টি থানা শিক্ষা অফিস স্থাপনের আবেদন লাল ফিতায় বন্দি রয়েছে দুই বছর ধরে। এ কারণে উপজেলা শিক্ষা কমিটি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছাড়াও সমন্বয় বদলি, শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়ার মতো নানা জটিলতায় পড়ছে দপ্তরটি।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালের ১৫ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন পাঠান। তাতে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার ১৫৭টি বিদ্যালয় নিয়ে ছয়টি প্রাথমিক থানা শিক্ষা অফিস স্থাপন সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য দেন তিনি। চিঠিতে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৬টি বিদ্যালয় নিয়ে হাজিরহাট থানা শিক্ষা অফিস, ২৫টি বিদ্যালয় নিয়ে পরশুরাম থানা শিক্ষা অফিস, ২৫টি বিদ্যালয় নিয়ে সাহেবগঞ্জ থানা শিক্ষা অফিস, ৩০টি বিদ্যালয় নিয়ে কোতোয়ালি থানা শিক্ষা অফিস, একটি শিশু কল্যাণ বিদ্যালয়সহ ২৫টি বিদ্যালয় নিয়ে তাজহাট থানা শিক্ষা অফিস এবং ২৬টি বিদ্যালয় নিয়ে মাহিগঞ্জ থানা শিক্ষা অফিস করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়।

থানা শিক্ষা অফিস স্থাপন না হওয়ার জটিলতা তুলে ধরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষা কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘একটি উপজেলার উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হন সেই উপজেলার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি এই বিভাগের সব কিছুই দেখেন। কিন্তু রংপুর সদর আর রংপুর সিটি করপোরেশন পুরোটাই আলাদা। এ কারণে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সমন্বয়ের জন্য মহানগর কমিটি না থাকায় কার কাছে যাবেন, সেটা নিয়ে জটিলতা বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয় নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, ছোট-বড় সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রস্তাব পাঠানোর জন্য শিক্ষা কমিটির অনুমোদন নেয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে উপজেলা সমন্বয় বদলিতেও শিক্ষা কমিটির প্রয়োজন। কিন্তু সিটি করপোরেশন এলাকা উপজেলা চেয়ারম্যানের এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় এসব বিষয়ে জটিলতা নিরসন হচ্ছে না।’

সমন্বয় বদলির জটিলতা একটি উদাহরণের মাধ্যমে তুলে ধরে একজন শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, কোনো বিদ্যালয়ে হয়তো শিক্ষার্থী আছে দুই শ, সেখানে শিক্ষক আছেন ১০ জন। আবার কোনো বিদ্যালয়ে হয়তো দুই শ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন চারজন। এ রকম অবস্থায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সমন্বয় বদলি প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষকের শূন্যপদ, পদায়ন, উপজেলা থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় বদলি- এই বিষয়গুলো শিক্ষা অফিসার সমন্বয় করতে পারছেন না। তিনি কোন কমিটির সভায় গিয়ে এসব বিষয় তুলে ধরবেন, সে বিষয়টিই তো স্পষ্ট নয়।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা কর্মকর্তা এসব বিষয় উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে সমন্বয় করেন বা করবেন। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান তার এলাকাতেই সর্বোচ্চ সুবিধা টানার চেষ্টা করেন। ফলে একজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে এতকিছু সমন্বয় করা সম্ভব নয়। এ কারণেই উপজেলা আর সিটি করপোরেশন এলাকার বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়।’

থানা শিক্ষা অফিসগুলো না হওয়ার কারণে বিদ্যালয়ের অনুপাতেও কর্মকর্তা সংকট তৈরি হয়েছে। রংপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রংপুর সদর উপজেলায় ২২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর বিপরীতে একজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ৯ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন উচ্চমান সহকারী, একজন হিসাব সহকারী ও তিনজন অফিস সহকারী রয়েছেন। এই জনবল দিয়ে এতগুলো বিদ্যালয় সামলানো সম্ভব না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রংপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিমাসে উপজেলা আর সিটির ভেতরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও যাতায়াত ভাড়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। এত বড় সিটি আর উপজেলায় বহু শিক্ষক। কাজের এত চাপ যে, কোনো কোনো মাসে ১০ তারিখের দিকে বেতন দিতে হয়।

শুধু তাই নয়, জনবল সংকটের কারণে বিদ্যালয় পরিদর্শনও ঠিকমতো হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী একজন উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বছরে ৬০টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে হয়। কিন্তু বিদ্যালয় সংখ্যা বেশি থাকার কারণে মাসের পর মাস অনেক বিদ্যালয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার পরিদর্শনে যেতে পারেন না।

এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও শিক্ষা কমিটির সভাপতি নাছিমা জামান ববি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকার বিদ্যালয়গুলো নিয়ে একটু জটিলতা আছে। আমি বা আমরা অনেক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, যেগুলো শিক্ষা কর্মকর্তারা নিয়ে থাকেন। শিক্ষা থানাগুলো হয়ে গেলে এই জটিলতা দূর হবে।’

রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, ‘মহানগর ও উপজেলা নিয়ে একটু জটিলতা আছে। বিষয়টি আমি ডিজি মহোদয়কে (প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর) লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং ছয়টি শিক্ষা থানা করার প্রস্তাবও পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মুহিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। চিঠি এলে এত দিনেও কেন থানাগুলো হয়নি, সে বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’


পর্যটন খাতের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি : প্রতিমন্ত্রী

পর্যটন খাতের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি :  প্রতিমন্ত্রী
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

দেশের পর্যটন খাতকে টার্গেট নিয়ে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেন, আমরা যথাসম্ভব আমাদের টার্গেটে পৌঁছাব। এ জন্য একটা মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেট খেলায় দেখা যায়, পাঁচটা বল ভালোভাবে ব্যাটিং করতে পারে না। কিন্তু শেষ বলে ছয় মারে। অনেক সময় মেডেনওভার যায়, যেখানে কোন রানই করতে পারে না। আবার এমনও পরিস্থিতি দাঁড়ায়, ছয় বলে ৩৬ রান করা যায়। সুতরাং আমাদের সামনে সেই সুযোগটা রয়েছে, ছয় বলে ৩৬ রান করার। আমাদের সমস্ত উপকরণ আছে, আমাদের ইচ্ছা আছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ পর্যটনকে কেন্দ্র করে অনেক দূর এগিয়েছে। আমাদের দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্যের আছে। সেগুলো তুলে ধরতে হবে।

পর্যটন দিবসের এই আয়োজন প্রতিটি শহরে ছড়িয়ে দিতে হবে জানিয়ে মাহবুব আলী বলেন, আমার মধ্যে প্রতিভা আছে, সেটাতো সবাইকে জানাতে হবে। নিজের মধ্যে রাখলে তো হবে না। আমাদের দেশে যে সম্পদ আছে, প্রতিভা আছে, এখন সবাইকে তা জানাতে হবে।

আলোচনা সভায় অনেকের বক্তব্যের সূত্র ধরে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলেছেন পর্যটন করপোরেশনে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। বিষয়টি আমরা ক্যাবিনেট সেক্রেটারি সঙ্গে কথা বলব। একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে পর্যটনে দায়িত্ব দিতে প্রস্তাব দেব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটন স্পটে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে, এটা সংশ্লিষ্ট দেশের সংবাদমাধ্যম নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটা ঘটনা (কক্সবাজার) পর্যটন সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ একটা ঘটনায় যেন পুরো সেক্টরের ক্ষতি না হয়। আমরাও চাই একটি আপরাধও যেন দেশে না হয়।

এ সময় পর্যটন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা কোভিড পূর্ববর্তী যে অবস্থায় ছিলাম, সেখানে যেতে চাই না। তার চেয়ে অনেক এগিয়ে যেতে চাই। পর্যটনের উন্নয়নে মিডিয়া কিন্তু সরকার ও বেসরকারি খাতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেশি।

গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সচিব বলেন, আমি অনুরোধ করব, দেশের স্বার্থে যেন পজিটিভলি খবর প্রকাশ হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবার সঙ্গে আলোচনা করে পর্যটন নিয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডিসেম্বরে সেই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে যাব।

আলোচনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আলি কদর, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. জাবের প্রমুখ।


অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ

অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ
পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত

নরসিংদীতে উদ্ধার হওয়া যুবকের অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় খুঁজছে পুলিশ। আনুমানিক ৩২ বছর বয়সী ওই যুবকের পরনে ছিল হালকা আকাশি রঙের জিন্স প্যান্ট ও আকাশি ডোরাকাটা টি শার্ট। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মরদেহটি মর্গে রয়েছে।

শিবপুর থানা পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার মরদেহটি শিবপুরের বাহেরখোলা গ্রামের আসাদ মীরের বাড়ির পূর্ব পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।  

শিবপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া জানান, এখনও পর্যন্ত মরদেহটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরিচয় না পাওয়া গেলে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি দাফন করার জন্য আঞ্জুমানে দেয়া হবে।


গাড়ি চাপায় তরুণী নিহত

গাড়ি চাপায় তরুণী নিহত
প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গাড়ির চাপায় এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বেজগাঁও বাস স্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার নাম ঠিকানা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।

শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মাহফুজ রিবেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট বাহারুল সোহাগ জানান, ওই নারীকে অজ্ঞাত একটি গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই নারী। মরদেহ হাইওয়ে থানা পুলিশ হেফাজতে আছে।


কানাডা যাচ্ছেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লার পরিবারের আরও ১৪ সদস্য

কানাডা যাচ্ছেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লার পরিবারের আরও ১৪ সদস্য
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কক্সবাজারে শরণার্থী ক্যাম্পে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহর মাসহ তার দুই ভাইয়ের পরিবারের আরও ১৪ সদস্য জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) তত্ত্বাবধানে কানাডায় যাচ্ছেন।

গত রোববার তারা ঢাকার উদ্দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছাড়েন বলে আজ মঙ্গলবার জানান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৮ এর সহকারী পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ।
 
তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র তত্ত্বাবধানে মুহিবুল্লাহর পরিবারের ১৪ সদস্যকে তাদের ব্যাটালিয়নের অধীনে ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

এপিবিএন জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে পরিবারের ১৪ সদস্যের দলটির কানাডার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। এই ১৪ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন, মুহিবুল্লাহর মা উম্মে ফজল (৬০), ছোট ভাই হাবিব উল্লাহর স্ত্রী আসমা বিবি (৩৫), সন্তান কয়কবা (১৫), বয়সারা (১৩), হুনাইসা (৯), আইমন (৮), ওরদা বিবি (৫), আশরাফ (৫) ও আরেক ভাই আহমদ উল্লাহর স্ত্রী শামছুন নাহার (৩৭), সন্তান হামদাল্লাহ (১১), হান্নানা বিবি (৯), আফসার উদ্দীন (৭), সোহানা বিবি (৫) ও মেজবাহ উল্লাহ (১)।

এর আগে, গত ৩১ মার্চ রোহিঙ্গা নেতার স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের ১১ জন সদস্য কানাডার উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন।

ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সময় সেখানে পুলিশসহ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), এবং জাতিসংঘের শরণার্থী হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট, মিয়ানমারের রাখাইন থেকে সর্বশেষ রোহিঙ্গা নির্বাসনের দুই বছর পর্যবেক্ষণ উপলক্ষে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা সদস্য নিয়ে সমাবেশ করার পর নেতা হিসেবে লাইমলাইটে আসেন মুহিবুল্লাহ।

গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কুতুপালং-১ (ইস্ট) লম্বাশিয়া ক্যাম্পের ডি-৮ ব্লকে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ (৪৬)। মিয়ানমারের মংডুতে স্কুলে শিক্ষাকতা করতেন বলে রোহিঙ্গাদের কাছে তিনি ‘মুহিবুল্লাহ মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরদিন তার ভাই হাবিব উল্লাহর অভিযোগে হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ।

পরে ২০২১ সালের অক্টোবরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-১৪) সদস্যরা মহিবুল্লাহ হত্যাকারী দলের সদস্যসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এদের মধ্যে আসামি আজিজুল হক পরদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বাকি ৩ আসামি হলেন- কুতুপালং ক্যাম্পের ডি-ব্লকের মুহাম্মদ রশিদ ওরফে মুর্শিদ আমিন, ক্যাম্পের বি-ব্লকের মুহাম্মদ আনাস ও নুর মুহাম্মদ।


বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন
সাজাপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

লক্ষ্মীপুরে বড় ভাই আবদুল হান্নানকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছোট ভাই আবদুল মান্নানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামি উপস্থিত ছিলেন।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার এবং আদালত সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের চর পার্বতীনগর গ্রামের আনু মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা আবুল কালামের দুই ছেলে আবদুল হান্নান ও আবদুল মান্নান। হান্নানকে বিয়ে করানোর পর থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

২০১৯ সালের ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১২ টার দিকে হান্নান তার ছোট ভাইকে বসতঘরের জানালার পাশে দেখতে পেয়ে তার স্ত্রী সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় জানালার পাশে থাকা ছোট ভাই মান্নান একটি দা নিয়ে হান্নানের ঘরে ঢুকে। কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মান্নান তার বড় ভাই হান্নানের ঘাড়ে কোপ দেন। দায়ের কোপে হান্নানের ঘাড়ে বেশিরভাগ অংশ আলাদা হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

পরদিন সকালে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বাবা আবুল কালাম ছোট ছেলে হান্নানকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন পুলিশ মান্নানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রানা দাস আসামি মান্নানকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে প্রায় সাড়ে চার বছর পর এই মামলার রায় দেয়া হয়।