সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

‘ঢাকায় গণপরিবহনে দিনে ১৮২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়’

‘ঢাকায় গণপরিবহনে দিনে ১৮২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়’
আলোচনা সভায় বক্তারা। ছবি : দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা 

রাজধানীর গণপরিবহনে প্রতিদিন ১৮২ কোটি ৪২ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। প্রতিবাদ করলে হেনস্তা, অপমান ও হত্যার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই তথ্য দিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি যাত্রী অধিকার দিবস-২০২২ উপলক্ষে এই আলোচনা সভা আয়োজন করে।

লিখিত বক্তব্যে মোজাম্মেল হক বলেন, গত ১ বছরে দুই বার জ্বালানির তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয় গণপরিবহনের ভাড়া। এতে অস্থির হয়ে উঠেছে গণপরিবহন খাত। বর্তমানে নগরীর কোন পরিবহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর নেই। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে।

তিনি বলেন, এ সময়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় তর্কের জেরে গণপরিবহগুলোতে অন্তত ২৫টি যাত্রী লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। এতে বাস থেকে ফেলে ১৪ যাত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন ১০ জন যাত্রী।

মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক আরও জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত ২০ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন গণপরিবহনে ভাড়া-নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ করে। তাতে দেখা গেছে, কোনো-কোনো পরিবহনে দ্বিগুণ-তিনগুণ বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

মোজাম্মেল হক বলেন, পর্যবেক্ষণকালে বিভিন্ন যানবাহনের চালক, সহকারী ও ভাড়া আদায়কারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- মালিকের দৈনিক জমা, জ্বালানির উচ্চমূল্য, সড়কের চাঁদাবাজি, গাড়ির মেরামত খরচ ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে তারা এমন ভাড়া-নৈরাজ্য চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি হানিফ খোকন, মানবাধিকার সংগঠক হানিফ ইসা, আতিকুর রহমান প্রমুখ।


আট মাসেও চালু হয়নি লঞ্চ

আট মাসেও চালু হয়নি লঞ্চ
লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরী হাট এলাকায় নোঙর করে রাখা বিভিন্ন লঞ্চ। ছবি: সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
  • লক্ষ্মীপুর-ঢাকা নৌরুট

লক্ষ্মীপুর-ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচল শুরুর এক দিন পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আট মাসেও তা চালু হয়নি। মূলত, যাত্রীসংকটের কথা বলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়। নতুন করে আবার চালু হবে কি না, এ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা আছে।

আট মাস মাস আগে যখন লঞ্চ চালু হয় তখন জেলার মজু চৌধুরীর হাট থেকে লঞ্চ চলে ঢাকার সদরঘাট পর্যন্ত। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেঘনা নদী হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম এটি। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানোর পর ২০১৯ সালের ৩ মার্চ বিআইডব্লিউটিএ চিঠি দিয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এমভি বোগদাদিয়া-৮ লঞ্চ চালুর অনুমতি দেয়। তখন বলা হয়, পরীক্ষামূলকভাবে এটি চলবে। এর মধ্যে নাব্যতাসংকটসহ অন্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার নির্দেশনা দিলেও তা আর হয়নি।

পরে ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আনুষ্ঠানিকভাবে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা লঞ্চ সার্ভিস চালুর উদ্বোধন করেন বিআইডব্লিউটির নৌ-ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম। চালুর এক দিনের মাথায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেন লঞ্চ মালিকরা। আট মাস পার হলেও এখনো চালু হয়নি এ রুটে লঞ্চ চলাচল।

লঞ্চ চালুর দাবিতে একটি পরিষদও গড়ে উঠেছে। ঢাকা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চাই পরিষদের আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, দাবি আদায়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। কিন্তু চালুর পর কী কারণে তা আবার বন্ধ হয়ে গেল তা অজানা।

সাত্তার পালোয়ান বলনে, দ্রুত সময়ে লঞ্চ চালু না হলে তারা আবারও কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, চালুর পর মূলত নাব্যতাসংকটের কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়। এখন নাব্যতা দূর করতে নদীর ডুবোচরে জেগে ওঠা চরগুলো খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আশা করছেন, অল্প সময়ের মধ্যে লঞ্চ চলাচল শুরু করা হবে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরী বলেন, লঞ্চ চালু করা গেলে যাত্রীরা সড়কপথের তুলনায় কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন। এই নৌপথ সচল থাকলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চল ও রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি প্রসার ঘটবে বাণিজ্যের।

সংসদ সদস্য বলেন, শিগগিরই এ নৌপথ চালু হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। পাশাপাশি খননের কাজ চলছে। সেটিও প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে।


সরকারি কলেজে শিক্ষকসংকট বিপাকে ১৯ হাজার শিক্ষার্থী

সরকারি কলেজে শিক্ষকসংকট বিপাকে ১৯ হাজার শিক্ষার্থী
পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • কলেজে চালু অনার্সের ৯ বিষয়সহ মোট ১৫টি বিষয়ের মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞান ও কৃষি বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়া কোনোটিতেই পরিপূর্ণ শিক্ষক নেই

  • শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি মাসে প্রতিবেদন দেয়া হলেও শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন শিক্ষকসংকটে রয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ। অধ্যক্ষসহ ৪৬ শিক্ষকের পদ থাকলেও কলেজটিতে কর্মরত আছেন ২১ জন শিক্ষক। শূন্যপদের সংখ্যা ২৫। এতে বিপাকে পড়েছেন এই কলেজের প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষকসংকটের কারণে যথাযথভাবে ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ নেই বেশ কয়েক মাস ধরে। কলেজে চালু থাকা অনার্সের ৯ বিষয়সহ মোট ১৫টি বিষয়ের মধ্যে পদার্থ বিজ্ঞান ও কৃষি বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়া কোনোটিতেই পরিপূর্ণ শিক্ষক নেই। হিসাববিজ্ঞান, দর্শন, উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ চলছে একজন করে শিক্ষক দিয়ে। কলেজের অধ্যক্ষসহ অধ্যাপক পদে একজন, সহযোগী অধ্যাপক পদে চারজন, সহকারী অধ্যাপক পদে ৯ জন এবং প্রভাষক পদে ১১ জনের পদ শূন্য। প্রদর্শকের চার পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন।

শিক্ষকরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে অতিথি শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে চালানো হচ্ছে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি মাসে প্রতিবেদন দেয়া হলেও পাওয়া যাচ্ছে না কোনো শিক্ষক। শিক্ষকসংকটের কারণে কলেজের ১৯ হাজার শিক্ষার্থী স্বাভাবিক পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরকারি এই কলেজটির অধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকায় অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুল হাসান। তবে তিনি প্রশিক্ষণে থাকায় সহযোগী অধ্যাপক বদরুল হুদা বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বদরুল হুদা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কলেজে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু আছে। এর মধ্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রায় এক বছর কোনো শিক্ষক নেই। এ বিভাগে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুজন প্রভাষকের পদ শূন্য। বর্তমানে এ বিভাগে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন।’

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও জানান, গণিত বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৮০০। কিন্তু মাসখানেক হলো এ বিভাগটিও শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়েছে। এ বিভাগে একজন সহকারী অধ্যাপক এবং একজন প্রভাষকের পদ শূন্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাত্র একজন প্রভাষক ছিলেন। তিনিও গতকাল রোববার বদলি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ায় এই বিভাগেও এখন কোনো শিক্ষক নেই। বিভাগটিতে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ও দুজন প্রভাষকের পদ অনুমোদিত রয়েছে। এ বিভাগে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০।

এদিকে পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে। এ বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ড. হান্নান মিয়া কর্মরত থাকলেও তিনি নিয়মিত কলেজে আসেন না। এ অবস্থায় ২ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থীর বিভাগটি চলছে মাত্র দুজন প্রভাষক দিয়ে।

কলেজটির ইংরেজি বিভাগেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ জন। এ বিভাগে একজন সহযোগী অধ্যাপক এবং একজন প্রভাষক পদ শূন্য রয়েছে। একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষক দিয়ে চলছে বিভাগটি। ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীর অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকের চার পদের মধ্যে প্রভাষকের একটি পদ শূন্য। ৯০০ শিক্ষার্থীর দর্শন বিভাগও চলছে একজন সহকারী অধ্যাপক দিয়ে। শূন্য আছে প্রভাষকের একটি পদ।

এ ছাড়া কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ৩০০, যা চলছে একজন প্রভাষক দিয়ে। শূন্য আছে একজন সহযোগী অধ্যাপক, একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষকের পদ। ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর রসায়ন বিভাগে দুজন প্রভাষক ও একজন প্রদর্শক থাকলেও শূন্য রয়েছে একজন সহকারী অধ্যাপকের পদ। এক হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগও চলছে দুজন প্রভাষক দিয়ে। শূন্য রয়েছে একজন করে সহকারী অধ্যপক ও প্রদর্শকের পদ। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগেও একজন প্রভাষক ছাড়া সব পদ শূন্য। এ বিভাগে পড়ালেখা করছে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী। আর পূর্ণ শিক্ষক থাকা পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে ৮০০ ও কৃষি বিজ্ঞান বিভাগে এক হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

শিক্ষকরা বলছেন, কলেজে শিক্ষকসংকটের কারণে এক বিভাগের শিক্ষককে অন্য বিভাগের ক্লাস নিতে হচ্ছে। কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবিউল আওয়াল জানান, তিনি দর্শনের শিক্ষক হলেও দর্শনের পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াতে হচ্ছে।

হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাশমুন আকতারসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক না থাকায় তাদের ঠিকমতো ক্লাস হচ্ছে না। বাইরে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিভাবক মাহাবুবুর রহমান বুলু বলেন, ‘এই কলেজে এত শিক্ষকসংকট আগে জানলে এখানে সন্তানকে ভর্তি করতাম না।’

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বদরুল হুদা বলেন, ‘শিক্ষকসংকটের কথা আমরা বারবার বলে আসছি। কিন্তু কোনো সমাধান পাচ্ছি না। প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এই কলেজের ওপর নির্ভরশীল। অবিলম্বে এ সংকটের সমাধান হওয়া জরুরি।’

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ইকরামুল হক বলেন, ‘শিক্ষকসংকটের কারণে কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কলেজে যেসব বিভাগে শিক্ষক নেই, সেসব বিভাগে স্থানীয়ভাবে অতিথি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের দিয়েই চালিয়ে নেয়া হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। তবে এ অঞ্চলের বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এখানে অবিলম্বে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ হওয়া দরকার।’

শিক্ষকসংকট বিষয়ে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, শিক্ষকসংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।


ছেলে হারানোর শোকে বাবার মৃত্যু, মেয়েকে বসতে হলো পরীক্ষায়

ছেলে হারানোর শোকে বাবার মৃত্যু, মেয়েকে বসতে হলো পরীক্ষায়
মরিয়মের বাবার জানাজা। ছবি: দৈনিক বাংলা
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে স্ট্রোক করে মারা গেছেন বাবা। সেই বাবার মরদেহ বাসায় রেখে পরীক্ষায় বসতে হলো মেয়ে মরিয়মকে। এমন ঘটনা ঘটেছে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বাঁশদাইড় গ্রামে।

আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সুজন পারভেজ জানান, ৪৮ দিন  আগে সৌদি আরব প্রবাসী ফজলুল হকের একমাত্র ছেলে ওমর ফারুক (২০) স্ট্রোক করে মারা যান। ছেলে মারা যাওয়ার তিনদিন পর ফজলুল হক দেশে চলে আসেন। একমাত্র আদরের ছেলেকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। সেই শোক আর সামলাতে পারেননি তিনি। শনিবার সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। জামালপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে স্ট্রোক করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ফজলুল হক। রোববার সকাল ১১টার দিকে ছেলে ওমর ফারুকের কবরের পাশে দাফন করা হয় তাকে।

প্রতিবেশী জুয়েল জানান, ওমর ফারুক ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছিল। যেদিন তার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, সেদিনই সে মারা যায়। ওর বাবা ছেলের কবরের পাশে সবসময় শুয়ে থাকত আর কান্না করত। এদিকে, ওমর ফারুকের বোন মরিয়ম এবার আদারভিটা ইউনিয়নের পাটাদহ কয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। ওর পরীক্ষা ছিল সকাল ১১টায়। বাবার লাশ বাসায় রেখেই মেয়েটাকে পরীক্ষা দিতে যেতে হয়েছে।

মরিয়মের স্বজনেরা জানান, রোববার কৃষি শিক্ষা পরীক্ষা মরিয়মের। আগের রাতেই বাবার মৃত্যুর পর সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত স্বজনরা অনেকটা জোর করেই পাটাদহ কয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ মোহাম্মদ শাহীনুর খান বলেন, মরিয়মের বাবা গত রাতে স্ট্রোক করে মারা যান। বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এসে মরিয়ম পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আমি তার খোঁজ-খবর নিয়েছি। হলের শিক্ষকরা তাকে মানসিকভাবে সর্বাত্মক সমর্থন দেয়ার চেষ্টা করেছেন।


বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষার হলে রানা

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষার হলে রানা
পরীক্ষাকেন্দ্রে রানা শেখ। ছবি: দৈনিক বাংলা
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

বাড়িতে বাবার লাশ। আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। এমন পরিস্থিতিতে চোখের পানি মুছতে মুছতে হাতে প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে রানা শেখকে। নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি থেকে চলতি বছর ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সে।

রানা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার জুঙ্গুরদি গ্রামের সদ্যপ্রয়াত মজিবর শেখের (৪৬) ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে রানা ছোট। মজিবর শেখ ঢাকায় সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ১৫ দিন আগে তিনি বাড়িতে আসেন। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যু হয় তার।

স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোরে মজিবর শেখ মারা যান। এদিন বেলা ১১টা থেকে ছিল রানার কৃষি শিক্ষা পরীক্ষা। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে সকালেই তার কয়েকজন সহপাঠী তার বাড়িতে যায়। বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার অবস্থা ছিল না রানার। পরে সহপাঠীরা সান্ত্বনা দিয়ে তাকে নগরকান্দার শহিদ মুক্তিযোদ্ধা আক্রামুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

রানার ভাই হৃদয় শেখ (১৯) বলেন, আমাদের পরিবারে বাবাই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অভাবের কারণে আমি বেশিদিন পড়ালেখা করতে পারিনি। রানা নিজ ইচ্ছাশক্তির জোরে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। আজ ওর পরীক্ষা দেয়ার মানসিকতা ছিল না। সকালেই ওর সহপাঠীরা বাড়িতে এসে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যায়।

ওই কেন্দ্রে পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমির বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পুরো সময় পরীক্ষা দিয়েছে শেখ রানা। রানা মেধাবী ছেলে। নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী। ছেলেটাকে এরকম অবস্থায় পড়তে হবে, এটি দুঃখজনক।

ওই পরীক্ষাকেন্দ্রের সহ-কেন্দ্র সচিব মো. মাহাবুব আলী মিঞা জানান, যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে রানা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বাবা মারা যাওয়ায় সে ভেঙে পড়েছিল। পরীক্ষা চলাকালে আমরা সার্বক্ষণিক তার খোঁজখবর নিয়েছি।

পরীক্ষা দিয়ে দুপুরে রানা বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর বিকেলে তার বাবা মজিবর শেখের জানাজা শেষে  দাফন হয় স্থানীয় জুঙ্গুর্দী ঈদগাঁ কবরাস্থানে।

সরকারি এম এন একাডেমির প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন মিয়া বলেন, সকালেই রানার বাবার মৃত্যুর খবর শুনেছি। এটি খুবই কষ্টদায়ক। আমরা সকালেই রানার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সে যে পরীক্ষাটি দিতে পেরেছে, এতে আমরা খুশি। সে খুব শক্ত মনের পরিচয় দিয়েছে।


এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুই বছরেও শুরু হয়নি বিচার

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুই বছরেও শুরু হয়নি বিচার
সিলেট এমসি কলেজ, ইনসেটে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামিরা
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সমালোচনার মুখে দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তদের। তবে এ ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি সাক্ষ্যগ্রহণ। কোন আদালতে বিচার হবে, এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় আটকে আছে মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এদিকে বিচারকাজে শুরুতে দীর্ঘসূত্রিতায় শঙ্কা বাড়ছে বাদীপক্ষের। আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত তারা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, বাদীপক্ষের কারণেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুতে বিলম্ব হচ্ছে।

সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট রাশিদা সাঈদা খানম বলেন, মামলার কার্যক্রম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শুরু হওয়ার কথা ছিল। আমরাও প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু বাদীপক্ষ এটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যেতে চায়। এ ব্যাপারে বাদী উচ্চ আদালতে একটি রিটও করেছেন। উচ্চ আদালত এ ব্যাপারে একটি আদেশ দিয়েছেন শুনেছি। তবে আদেশের পূর্ণাঙ্গ আদেশের কপি এখনো পাইনি। এ কারণে মামলার কার্যক্রম আটকে আছে। উচ্চ আদালতের আদেশের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

কেন আটকে আছে কার্যক্রম

ধর্ষণের ঘটনার পরদিন ওই তরুণীর স্বামী নগরের শাহপরাণ থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। এ ছাড়া ওই রাতে ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করে পুলিশ। ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ধর্ষণ মামলায় ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এরপর ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক চৌধুরী মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করেন। আর চলতি বছরের ১১ মে মাসে একই আদালতে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠনের পর ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত। তবে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে শুরুর আবেদন করে বাদীপক্ষ। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপর বাদীপক্ষ একই আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি ফৌজদারি বিবিধ মামলা করেন। ওই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে একই আদালতে সম্পন্নের আদেশ দেন। এরপর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বদলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর আবেদন করে বাদীপক্ষ।

বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের দীর্ঘদিন পরও সাক্ষ্যগ্রহণের শুরু না হওয়ায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির কার্যক্রম চালানোর জন্য গত ১ আগস্ট বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বাদী একটি রিট করেন। ১৬ আগস্ট রিটের শুনানি শেষে দুই মামলার কার্যক্রম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলির প্রক্রিয়া গ্রহণে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের এই আদেশের কপি এখনো হাতে আসেনি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। এর আগে ২৭ জুলাই আসামি রবিউল ইসলামের জামিন শুনানিতে মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কেন শুরু করা হয় না মর্মে রাষ্ট্রপক্ষকে গত ২১ আগস্ট কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহিতুল হক। ১৬ অক্টোবর মামলার পরবর্তী তারিখ রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রাশিদা সাঈদা খানম বলেন, ‘আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হয়েছে।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী শহীদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘মামলার দুই বছর পেরিয়েছে। অভিযোগ গঠনেরও অনেক দিন চলে গেছে। এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু না হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই ঘটনায় পুলিশের দুটি অভিযোগপত্র দেয়ায় বাদীপক্ষের সন্দেহ হয়। এতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাক্ষীদের জন্যও বিষয়টি বিড়ম্বনার। কারণ, চাঞ্চল্যকর এ মামলার সাক্ষীরা দুই আদালতে দুই দিন আসবেন কি না, এ নিয়ে শঙ্কা রয়েছেন। কারণ ধর্ষণকারীরা প্রভাবশালী। এজন্য বাদীপক্ষ উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। উচ্চ আদালত এরই মধ্যে সংক্ষিপ্ত আদেশও দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ আদেশের কপি পাওয়ার পর মামলার ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করা হবে।’

সে রাতে যা ঘটেছিল

২৫ মার্চ সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেট কারে করে শাহপরাণ মাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী (২০)। ফেরার পথে টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে গাড়ি থামিয়ে পার্শ্ববর্তী দোকানে প্রবেশ করেন স্বামী। এই সময়ে পাঁচ থেকে ছয়জন তরুণ তাদের জিম্মি করে প্রাইভেট কারসহ বালুচর এলাকায় এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। এরপর স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে ছাত্রাবাসের ভেতরে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে স্বামীর টাকা-পয়সা ও প্রাইভেট কার রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেন ধর্ষকরা।

ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে তরুণীর স্বামী ঘটনাটি পুলিশকে জানান। তবে অভিযুক্তরা ছাত্রলীগ কর্মী হওয়ায় প্রথমে ছাত্রাবাসে প্রবেশে গড়িমসি করে পুলিশ। এই সুযোগে ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যান ধর্ষকরা। এরপর রাতভর ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।

মামলার বাদী ওই তরুণীর স্বামী বলেন, ‘ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেল। এখনো বিচার শুরু হলো না। দীর্ঘসূত্রিতায় বিচার পাওয়া নিয়েই আমরা শঙ্কিত। অভিযুক্তরাও বিষয়টি আপস করার জন্য নানাভাবে চাপ দিচ্ছেন।’

অভিযুক্ত যারা

২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর চালঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। অভিযোগপত্রে ওই তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের জন্য সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে ধর্ষণে সহায়তা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আট আসামিই বর্তমানে কারাগারে আছেন। তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিতি। অভিযুক্ত আটজনকেই কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এই চারজনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে। আর ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনিকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।