মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

আ.লীগ নেতা সাইদার হত্যায় ৬ আসামি গ্রেপ্তার

আ.লীগ নেতা সাইদার হত্যায় ৬ আসামি গ্রেপ্তার
সাইদার রহমান মালিথা হত্যা মামলার আসামিরা। ছবি: সংগৃহীত
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

পাবনায় পৌর আওয়ামী লীগ নেতা সাইদার রহমান মালিথা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত দুই দিনে কক্সবাজার, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল, গুলি, চাকু ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সি।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, হেমায়েতপুর ইউনিয়নের গফুরিয়াবাদ গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার আহম্মেদ স্বপন (৪২), পৌর এলাকার চক ছাতিয়ানি গ্রামের কালাম মালিথার ছেলে আশিক মালিথা (২৮), আব্দুল হাকিম মালিথার ছেলে আলিফ মালিথা (২২) কাশিপুর এলাকার শাহজাহানের ছেলে রিপন খান (২৭), গোপালপুর ইমব্যাঙ্কমেন্ট রোডের আকবর আলীর ছেলে নুরুজ্জামান রাকিব (২৪) ও একই এলাকার রমজান আলীর ছেলে ইয়াসিন আরাফাত ইস্তি (২৬)।

পুলিশ সুপার জানান, আওয়ামী লীগ নেতা সাইদার মালিথা হত্যার পর সন্দেহভাজন আসামি স্বপনসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ। পরে কয়েক জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। হেমায়েতপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলাউদ্দিন মালিথার নির্দেশে তারা সাইদার মালিথাকে হত্যা করেন বলে জানায়। 

পুলিশ সুপার আরও জানান, হেমায়েতপুর ইউপিতে প্রায় ৬০ বিঘা জমির ভোগ দখল নিয়ে চাচাতো ভাই সাইদার মালিথার সঙ্গে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মালিথার বিরোধ ছিল। সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনে আলাউদ্দিন মালিথা পরাজিত হবার পর আলাউদ্দিনের দখলে থাকা নিজেদের জমির দখল নেন সাইদার ও তার স্বজনরা। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার মারামারির ঘটনাও ঘটে। সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর জমি নিয়ে বিরোধে আলাউদ্দিন মালিথার ভাই সঞ্জু মালিথাকে মারধর করে সাইদার মালিথার লোকজন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলাউদ্দিন মালিথা নিজেদের লোকদের সঙ্গে বৈঠক করে ভাতিজা স্বপনকে সাইদার মালিথাকে হত্যার দায়িত্ব দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামিরা ৯ সেপ্টেম্বর হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চর বাঙ্গাবাড়িয়া মুজিব বাঁধ মোড়ে প্রকাশ্যে সাইদার রহমান মালিথাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের জন্য আলাউদ্দিন মালিথাকে প্রধান আসামি করে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার।

গ্রেপ্তার আসামি স্বপনের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যা চেষ্টাসহ ৮টি মামলা, আশিক মালিথার বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, মাদকসহ ৭টি মামলা ও নুরুজ্জামান রাকিবের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, চুরিসহ ৫ মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।


বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

বড় ভাইকে হত্যার দায়ে ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন
সাজাপ্রাপ্ত আবদুল মান্নান।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত

লক্ষ্মীপুরে বড় ভাই আবদুল হান্নানকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছোট ভাই আবদুল মান্নানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামি উপস্থিত ছিলেন।

জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার এবং আদালত সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের চর পার্বতীনগর গ্রামের আনু মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা আবুল কালামের দুই ছেলে আবদুল হান্নান ও আবদুল মান্নান। হান্নানকে বিয়ে করানোর পর থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

২০১৯ সালের ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১২ টার দিকে হান্নান তার ছোট ভাইকে বসতঘরের জানালার পাশে দেখতে পেয়ে তার স্ত্রী সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় জানালার পাশে থাকা ছোট ভাই মান্নান একটি দা নিয়ে হান্নানের ঘরে ঢুকে। কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মান্নান তার বড় ভাই হান্নানের ঘাড়ে কোপ দেন। দায়ের কোপে হান্নানের ঘাড়ে বেশিরভাগ অংশ আলাদা হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

পরদিন সকালে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বাবা আবুল কালাম ছোট ছেলে হান্নানকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন পুলিশ মান্নানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রানা দাস আসামি মান্নানকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে প্রায় সাড়ে চার বছর পর এই মামলার রায় দেয়া হয়।


বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনের নামে দুদকের মামলার সিদ্ধান্ত

বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনের নামে দুদকের মামলার সিদ্ধান্ত
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকসহ ১৩ জনের নামে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। আজ মঙ্গলবার অনুসন্ধান প্রতিবেদনের আলোকে মামলাটির অনুমোদন দেয় কমিশন।

সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক আলিয়াজ হোসেন যে কোনো সময় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করবেন।

অনুমোদিত মামলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরিচার নগরবাড়ি, কাজিরহাট, নরাদহ নদী বন্দরে ইজারা দেয়ায় কোনো নিয়ম-নীতি মানা হয়নি। এভাবে ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ এ দুই অর্থবছরে দুর্নীতির মাধ্যমে ইজারা দিয়ে ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে পরস্পর যোগসাজশে লাভবান হয়েছে আসামিরা। মামলায় গোলাম সাদেক ছাড়াও যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র সদস্য দেলোয়ার হোসেন, দুই পরিচালক আবু জাফর হাওলাদার, ওয়াকিল নওয়াজ, অতিরিক্ত পরিচালক সাইফুল, যুগ্ম পরিচালক জুলফা খানম, উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানসহ সাবেক তিন উপপরিচালক সেলিম রেজা, কবির হোসেন, মাসুদ পারভেজ। এ ছাড়া তিন ইজাদারকেও মামলায় আসামি করা হচ্ছে। এর হলেন, এজাজ আহমেদ সোহাগ, সাইফ আহমেদ ইমন এবং রফিকুল ইসলাম খান।


ঘর ঝাড়ু দেয়া নিয়ে দুই নারীর মারামারি, প্রাণ গেল ১ জনের

ঘর ঝাড়ু দেয়া নিয়ে দুই নারীর মারামারি, প্রাণ গেল ১ জনের
লাশ। প্রতীকী ছবি
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত

কুমিল্লায় ঘর ঝাড়ু দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই নারীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর উনাইসার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম মাহমুদ আক্তার (৪০)। তার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার মেটংঘর এলাকায়। 

কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

মোখলেছুর জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাহিমা বেগমকে আটক করা হয়েছে। রাহিমা বেগমের বাড়ি জেলার বরুড়া উপজেলায়। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিহত মাহমুদা ও রাহিমা নগরীর উনাইসার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একই কক্ষে থাকতেন। মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে উঠে কে ঘর ঝাড়ু দিবেন, এই নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মারামারি হয়।

পরে আহত অবস্থায় মাহমুদা আক্তারকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


ট্রফি ভাঙা সেই ইউএনওকে বদলি

ট্রফি ভাঙা সেই ইউএনওকে বদলি
ইউএনও মেহরুবা ইসলাম । ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বান্দরবানের আলীকদমে ফুটবল টুর্নামেন্টের ট্রফি ভেঙে ফেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহরুবা ইসলামকে ঢাকা বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

তাকে ইউএনও হিসেবে পদায়নের জন্য ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে ন্যস্ত করে সোমবার প্রজ্ঞাপন জা‌রি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে তাকে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর ১৮৯৮’ এর সেকশন-১৪৪ এর ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউপির রেপারপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ট্রফি ভেঙে আলোচনায় আসেন মেহরুবা।

দাম বাড়িয়ে ধরা আরও ৩৬ প্রতিষ্ঠান

দাম বাড়িয়ে ধরা আরও ৩৬ প্রতিষ্ঠান
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বেশি দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ার, প্রাণ, এসিআই, বসুন্ধরা, এস আলম, সিটি, আকিজ, মেঘনাসহ আরও ৩৬ কোম্পানি ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

চাল, ডাল, আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার কারসাজি করে অস্থিরতার অভিযোগে এই প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিযোগিতা কমিশন।

গতকাল সোমবার কমিশনের পক্ষ থেকে এ মামলা করা হয় বলে কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান দৈনিক বাংলাকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব আইনে মামলা হয়েছে। এখন প্রত্যেককে শুনানির জন্য ডাকা হবে। শুনানিতে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মফিজুর রহমান বলেন, ‘জরিমানার পরিমাণ হবে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান বছরে যে পরিমাণ টার্নওভার, তার সর্বনিম্ম ১ থেকে ১০ শতাংশ।

সোমবার  যাদের নামে মামলা করা হয় তাদের মধ্যে রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম, স্কয়ার, প্রাণ, এসিআই, বসুন্ধরা গ্রুপ সিটি, আকিজ ও মেঘনার মতো প্রতিষ্ঠান।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই অভিযোগে ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল কমিশন। এ নিয়ে দুই দফায় সব মিলিয়ে ৪৪ মামলায় ৩৬ ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কমিশন।

এসব কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কমিশনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তারা বাজারে চাল, আটা, ময়দা, ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও টয়লেট্রিজ পণ্যের ‘অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে অস্থিরতা’ তৈরি করেছে।

কমিশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, চালের বাজারে ‘অস্থিরতার জন্য’ স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের চেয়ারম্যান, এসিআইয়ের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান অথবা এমডি, প্রাণ ফুডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অথবা এমডি, সিটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এমডির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- কুষ্টিয়ার রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের স্বত্বাধিকারী মো. আবদুর রশিদ, দিনাজপুরের জহুরা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মো. আবদুল হান্নান, নওগাঁর বেলকন গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মো. বেলাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এরফান গ্রুপের স্বত্বাধিকারী মো. এরফান আলী, বগুড়ার কিবরিয়া অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. গোলাম কিবরিয়া, নওগাঁর মফিজ উদ্দীন অটোমেটিক রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী তৌফিকুল ইসলাম, বগুড়ার আলাল অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টের আলাল আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নুরজাহান অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মো. জহিরুল ইসলাম, বগুড়ার খান অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী পুটু মিয়া, কুষ্টিয়ার মেসার্স দাদা রাইচ মিলের মো. আরশাদ আলী, নওগাঁর মজুমদার অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী ব্রজেন মজুমদার, নারায়ণগঞ্জের সিটি অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস এবং নওগাঁর ম্যাবকো হাইটেক রাইস ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান অথবা এমডির বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন।

এ ছাড়া আটা-ময়দার বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য মেঘনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান, বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি, এসিআই, টি কে গ্রুপের এমডি, নুরজাহান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি, এস আলম রিফাইন্ড ইন্ডাস্ট্রির এমডি এবং সিটি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এমডির বিরুদ্ধে মামলা করেছে কমিশন।

ডিমের বাজারে কারসাজির জন্য সিপি বাংলাদেশ কোম্পানির এমডি বা সিইও, প্যারাগন পোলট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডায়মন্ড এগ লিমিটেডের এমডি, পিপলস ফিডের স্বত্বাধিকারী, কাজী ফার্মস গ্রুপের এমডি কাজী জাহেদুল হাসান, ডিম ব্যবসায়ী আড়তদার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ফার্মের মুরগির বাজারে অস্থিরতার জন্য কাজী ফার্মস গ্রুপের এমডি কাজী জাহেদুল হাসান, সাগুনা ফুড অ্যান্ড ফিডসের পরিচালক, আলাল পোলট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিডের এমডি বা সিইও, নারিশ পোলট্রি ও হ্যাচারির পরিচালক, প্যারাগন পোলট্রির এমডি এবং সিপি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

টয়লেট্রিজের (সাবান, সুগন্ধী সাবান ও গুঁড়া সাবান) অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর জন্যও কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে এসিআইয়ের চেয়ারম্যান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের এমডি, স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান বা এমডি, কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানি (তিব্বত) ও কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান অথবা এমডি।

৩৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে মামলার বিষয়ে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শুধু মামলা হলে বা শুনানিতে ডাকলেই হবে না। কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, সেটাই বড় কথা। আমরা চাই যারা মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, তাদের যথাযথ শাস্তি হোক। আর যেন কেউ কারসাজি করে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে সাহস না পায়।

গোলাম রহমান বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থে প্রতিযোগিতা কমিশন তো এত দিন কিছুই করেনি। এই প্রথম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করল। এখন দেখতে হবে, কত দ্রুততার সঙ্গে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়। আইন অনুযায়ী কাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অন্যায়ভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সেই অপরাধে যদি সত্যিই এদের উপযুক্ত শাস্তি হয়, তাহলে বাজারে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যরা ভয় পাবে, অযৌক্তিকভাবে ইচ্ছামতো আর পণ্যের দাম বাড়াবে না। দেশের মানুষ স্বস্তি পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিযোগিতা কমিশনের এই মামলা করাকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। যদি সত্যিই এদের উপযুক্ত শাস্তি হয়, তাহলে আমি কমিশনকে সাধুবাদ জানাব।’

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে স্কয়ার টয়লেট্রিজের পরিচালক মালিক মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, ‘আমরা মামলার বিষয়ে এখনো কিছু জানি না। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের একটি নোটিশ দেয়া হয়েছে। সেখানে কিছু তথ্য-উপাত্তসহ ২৮ সেপ্টেম্বর কমিশনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আমরা তথ্য-উপাত্তসহ উপস্থিত থাকব।’

প্রাণ-আরএফএল গ্রপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখনো এ ধরনের কোনো চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে আমরা এ বিষয়ে উত্তর দেব। তবে আমি এটুকু বলতে পারি যে, আমরা অ্যারোম্যাটিক চাল বিক্রি করি। সেগুলোর কাঁচামালের দাম বেড়েছে, তাই আমরা আমাদের পণ্যের দাম বাড়িয়েছি। আমাদের এখানে কোনো কারসাজি ছিল না।’

কমিশন সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার যে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, তার মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মামলার শুনানি গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।