রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

তিন গ্যাস কূপ খনন ও রাশিয়া থেকে গম কেনা: অতিরিক্ত ব্যয় ৬৯৪ কোটি টাকা

তিন গ্যাস কূপ খনন ও রাশিয়া থেকে গম কেনা: অতিরিক্ত ব্যয়  ৬৯৪ কোটি টাকা
টাকা। ছবি: সংগৃহীত
আরিফুজ্জামান তুহিন
প্রকাশিত
  • দুই ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়ার পেছনে স্থানীয় এজেন্ট ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডি

  • ৫ লাখ টন গম কিনতে বাড়তি ব্যয় হবে ২৪০ কোটি টাকা। তিনটি গ্যাস কূপ খননে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে ৪৫৪ কোটি টাকা

রাশিয়ার গ্যাজপ্রমকে দিয়ে তিনটি গ্যাসকূপ খনন এবং রাশিয়ার কাছ থেকে গম কেনার জন্য সরকারের বাড়তি ব্যয় হচ্ছে ৬৯৪ কোটি টাকা। মধ্যস্বত্বভোগী স্থানীয় এজেন্টের কারণে এই অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

সরকারের খাদ্য অধিদপ্তর বিশেষ প্রয়োজনে রাশিয়ার কাছ থেকে ৫ লাখ টন গম কিনছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে গম আনতে পণ্যের মূল্য পরিশোধের ঋণপত্র (এলসি) খোলা হবে। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে এই গম বাংলাদেশকে নিতে হবে। প্রতি টন গমের দাম দেয়া হচ্ছে ৪৩০ ডলার করে। অথচ রাশিয়ার গমের দাম অনুসারে সেখান থেকে এই গম চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পৌঁছানোর খরচ ৩৮০ ডলার। সে হিসাবে ৫ লাখ টন গম কিনতে বাড়তি ব্যয় হবে ২৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৪০ কোটি টাকা। 

অন্যদিকে সরকারের জ্বালানি বিভাগ ভোলায় গ্যাজপ্রমকে দিয়ে তিনটি গ্যাস কূপ খননে ব্যয় করছে ৬৯৪ কোটি টাকা। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের মাধ্যমে প্রতিটি কূপ খননে খরচ হয় ৮০ কোটি টাকা। এতে করে মোট খরচ হওয়ার কথা ২৪০ কোটি টাকা। অথচ গ্যাজপ্রমকে দিয়ে খননের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে ৪৫৪ কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গম আমদানি ও গ্যাস কূপ খননে সরকারের বাড়তি ৬৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ের কারণ রাশিয়ান কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারীর ব্যয়। বাংলাদেশে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আছেন মো. সোহেল। রাজধানীর মহাখালীতে ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডি নামে তার একটি প্রতিষ্ঠান আছে।

যে খাদ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে তাদের নিয়েও বিতর্ক আছে। আবার গ্যাজপ্রমের খনন করা কূপ নিয়েও জটিলতা আছে।

এর আগে রাশিয়ার খাদ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রডিনটর্গের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে ২০২০ সালে ১ লাখ টন গম কেনার চুক্তি সই হয়। প্রতিষ্ঠানটি গম আমদানি করার জন্য জাহাজও ভাড়া করে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। সে দফায় তারা গম আমদানি করতে পারেনি। প্রডিনটর্গ ও তাদের লোকাল এজেন্টের বিরুদ্ধে তখন মামলা হয়।

পাকিস্তান সম্প্রতি প্রডিনটর্গের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে বাজারদর থেকে গমের দাম বাড়তি রাখায়। এর আগে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সময় বেশি দামে পচা গম কিনে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়ে সরকার।

অন্যদিকে গ্যাজপ্রম বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১৭টি কূপ খননের কাজ করেছে। যার মধ্যে পাঁচটি কূপ বালি ও পানি উঠে বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটিকে রাশিয়ার গ্যাজপ্রম বলা হলেও বাস্তবে এটি নেদারল্যান্ডসের আমস্টাডার্মে নিবন্ধিত।

বাড়তি দামে গম কেনার বিষয়ে খাদ্যসচিব মো. ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে গতকাল মঙ্গলবার টেলিফোনে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করেই গম কেনা হচ্ছে। বাড়তি দামে কেনা হচ্ছে না। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে এখন জাহাজ ভাড়া বেড়েছে, অনেক ক্ষেত্রে জাহাজ পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের গুদামেরও সীমাবদ্ধতা আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা যে গম আনতে পারছি সেটাই আনন্দের কথা।’

এক লাখ টন গম দেয়ার চুক্তি হয় প্রডিনটর্গের সঙ্গে, সেবার তারা গম দিতে পারেনি। এ জন্য মামলাও হয়েছিল। এবার কি তারা ৫ লাখ টন গম দিতে পারবে? এমন প্রশ্নের জবাবে খাদ্যসচিব বলেন, ‘এটা আমার জানা নেই। রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের খাদ্য সহায়তা সম্পর্ক বেশ ভালো। এই গম বাংলাদেশে আসবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

বাজার থেকে বাড়তি দামে গম কেনায় ২৪০ কোটি টাকা ও কূপ খননে বাড়তি ৪৫৪ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেছে দৈনিক বাংলা। মহাখালি ডিওএইচএসের ২৮ নম্বর রোডের ৩৬৭ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় অফিস আছে ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডির। প্রতিষ্ঠানটিই নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে বেশি দামে চাল কেনাকাটা এবং কূপ খননের কাজ বাগিয়ে নেয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোহেলের সহোদর বড় ভাই রাশিয়ার নাগরিক মিয়া সাত্তার। রাশিয়ায় একসময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মিয়া সাত্তারের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই রাষ্ট্রদূত তার নিজের গাড়িতে করে রাশিয়ার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে মিয়া সাত্তারকে পরিচয় করিয়ে দেন বাংলাদেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে। রাষ্ট্রদূত থাকার সময় রাশিয়ার অনেক প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশের লোকাল এজেন্ট করতে সহযোগিতা করেন।

মিয়া সাত্তার কাগজে-কলমে ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও চাল কেনা কিংবা গ্যাজপ্রমের সঙ্গে চুক্তির আলোচনার সময় বৈঠকে উপস্থিত থাকেন।

গম কেনা ও কূপ খননে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে স্থানীয় কমিশন এজেন্টের কারণে- এমন প্রশ্নের জবাবে ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডি লিমিটেডের অন্যতম অংশীদার মো. সোহেল গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি লোকাল এজেন্ট নই, লোকাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। জিটুজি ভিত্তিতে কেনাকাটায় আমার কোনো কমিশন নেই।’

নতুন এজেন্টে কূপ খননে দাম বেড়েছে

২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুই দফায় মোট ১৭টি কূপ খনন করেছে গ্যাজপ্রম। রাশিয়ার মালিকানাধীন বলা হলেও নেদারল্যান্ডসে রেজিস্ট্রিকৃত এই কোম্পানিটি প্রথম দফায় ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১০টি কূপ খননের কাজ পায়। প্রতি কূপ খননে তারা অর্থ নিয়েছে ১৫৪ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে আরও ৭টি কূপ খননের কাজ নেয় গ্যাজপ্রম, সেবার কূপপ্রতি খরচ হয়েছিল ১৪৮ কোটি টাকা।

২০২০ সালের জুন পর্যন্ত গ্যাজপ্রমের লোকাল এজেন্ট ছিল আরএমএম পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেড। এই কোম্পানির বর্তমান মালিক দুজন—অনিরুদ্ধ কুমার রায় ও তার স্ত্রী। শুরুতে আরএমএম পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেডের ৫০ শতাংশের মালিকানা ছিল ঢাকা-১১ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর দুই পুত্র মো. হেদায়েত উল্লাহ ও সেফায়েত উল্লাহর। বাকি ৫০ শতাংশের সমান মালিক ছিলেন মহিউদ্দীন আহমেদ ও অনিরুদ্ধ কুমার রায়। ২০১৬ সাল নাগাদ প্রথম তিনজন মালিকানা ছেড়ে দেন। ২০২০ সালের জুনের দিকে গ্যাজপ্রম আরএমএম পাওয়ারকে লোকাল এজেন্ট থেকে সরিয়ে ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডি লিমিটেডকে লোকাল এজেন্ট বানায়।

ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডি গ্যাজপ্রমের এজেন্ট হওয়ার পর ২০২১ সালে গ্যাজপ্রম ভোলার গ্যাসক্ষেত্রের তিনটি কূপ খননের কাজ পায়। বাপেক্সের সঙ্গে চুক্তি হয় গ্যাজপ্রমের কূপ প্রতি ২৩১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। তিনটি কূপ খননে ব্যয় গ্যাজপ্রম এখন পাবে ৬৯৪ কোটি টাকারও বেশি। অথচ বাপেক্স কূপগুলো খনন করলে ব্যয় হতো সর্বোচ্চ প্রতি কূপে ৮০ কোটি টাকা আর তিন কূপে ২৪০ কোটি টাকা।

বাপেক্সের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাজপ্রমের লোকাল এজেন্ট পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কূপ খননের ব্যয়ও গ্যাজপ্রমকে বেশি দিতে হয়েছে।

বাড়তি দামে কেন কূপ খনন করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাপেক্সের এমডি মো. আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বেশি দামে চুক্তি হয়নি। চুক্তিমূল্য ঠিকই আছে। এর আগে ১৭টি কূপ খনন এভাবেই হয়েছে, সেই ধারাবাহিকতা আমি রক্ষা করেছি।’

ভোলা গ্যাসক্ষেত্রটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের আবিষ্কার করা এবং ক্ষেত্রটির অপারেটর হিসেবে তারাই সফলভাবে সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। বাপেক্সের একটি কূপ খনন করতে ব্যয় হয় ৬৫ থেকে ৮০ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কুমিল্লার মুরাদনগরের শ্রীকাইলে একটি কূপ খনন করেছে বাপেক্স। এতে ৮০ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

গম কেনায় বাড়তি ব্যয় হচ্ছে ২৪০ কোটি টাকা

রাশিয়ার খাদ্যশস্যের ওপর থেকে অবরোধ উঠে যাওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম কমতে থাকে। গত ২৪ আগস্ট রাশিয়ার খাদ্যপণ্য রপ্তানিকারক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জেএসসি প্রডিনটর্গের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গম আমদানি বিষয়ে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেন। সেখানে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত, প্রডিনটর্গের কর্মকর্তারা ও ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক বিডির লোকাল এজেন্ট মো. সোহেলের বড় ভাই মিয়া সাত্তার।

ওই বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত ৪৩০ ডলার প্রতি টন গমের মূল্য নির্ধারণ হয়। অথচ ওই দিন রাশিয়ার গমের মূল্য ছিল টনপ্রতি ৩২৩ ডলার ও জাহাজসহ অন্যান্য ব্যয় ৫৭ ডলার ধরে এই ব্যয় দাঁড়ায় টনপ্রতি ৩৮০ ডলার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গম কেনার জন্য পণ্যের দাম বুঝতে সাধারণত দরপত্র ডাকা হয়। দরপত্রে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর দামের ভিত্তিতে জিটুজি ক্রয় নেগোসিয়েশন করা হয়। সে জন্য খাদ্য অধিদপ্তরও একটি দরপত্র আহ্বান করেছিল। ওই দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল ১ সেপ্টেম্বর। কিন্তু অজানা কারণে সেই দরপত্রের মেয়াদ বাড়ানো হয় ১৫ দিন। তার আগেই ক্রয় কমিটিতে ৪৩০ ডলারে গম কেনার বিষয়টি অনুমোদন পায়।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন ও সেখানকার বিভন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, পাকিস্তানে প্রডিনটর্গের সঙ্গে বেশি দামে গম কেনার চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত সেখানকার খাদ্য কর্তৃপক্ষ গত মাসে বাতিল করেছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ওজেডকে নামে রাশিয়ার একটি বড় খাদ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রডিনটর্গ নিজেদের গম রপ্তানি করবে না। তারা ওজেডকের কাছ থেকে গম কিনে বাংলাদেশে পাঠাবে। মূলত মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা কাজ করবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২০ সালের ১৬ এপ্রিল জিটুজি ভিত্তিতে প্রডিনটর্গের কাছ থেকে ১ লাখ টন গম কেনার চুক্তি সই হয়। সেখানে সাক্ষী রাখা হয় মিয়া সাত্তারকে। প্রডিনটর্গের সব ই-মেইল ও চিঠিপত্র মিয়া সাত্তারের ভাই সোহেলের মালিকানাধীন ন্যাশনাল ইলেকট্রনিকের মহাখালীর অফিস থেকে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই গম সরবরাহ করতে পারেনি প্রডিনটর্গ। এ জন্য প্রডিনটর্গের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শিপিং এজেন্ট চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠান সেভেন সিজ শিপিং লাইন উচ্চ আদালতে মামলা করে। মামলায় আসামি করা হয় প্রডিনটর্গ, ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক ও খাদ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে। আদালত ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন।


মরিয়মের সাথে দেখা করার পর মুখ খুললেন রহিমা

মরিয়মের সাথে দেখা করার পর মুখ খুললেন রহিমা
মা রহিমা বেগম (বাঁয়ে), মায়ের সন্ধান চেয়ে মরিয়ম মান্নানের কান্নার ছবি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশিত
  • একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সাথে ওষুধ, পোষাক থাকতে পারে না : পিবিআই

  • প্রতিবেশিরা আমাকে অপহরণ করে ব্লাংক স্ট্যাম্পে সাক্ষর নিয়েছে : রহিমা বেগম

খুলনা মহেশ্বরপাশা থেকে নিখোঁজ রহিমা বেগম উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই অনেকটা নিশ্চুপ ছিলেন। প্রথমবার মরিয়মের সাথে দেখা করতে না চাইলেও পবর্তীতে মরিয়ম তাকে জড়িয়ে ধরলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে পুলিশের কাছে তুলেন অপহরণের অভিযোগ।

শনিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে পৌনে ১১ টায় খুলনার উদ্দেশ্য রওনা হয় পুলিশ। রাত ২ টা ১০ মিনিটে তাকে দৌলতপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে রাখা হয় সোনাডাঙায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে।

দৌলতপুর থানার উপ পরিদর্শক দোলা দে বলেন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকা অবস্থায় তার মেয়েরা দেখা করতে এসেছিল। তবে তিনি কোন ভাবেই রাজি হচ্ছিলেন না। পরে আমার অনুরোধে জানালার কাছে এসেছিলেন। মরিয়ম মা বলে ডাক দিলে তিনি ভেতরে চলে যান। পরে তাকে আমরা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) খুলনা জেলা কার্যালয়ে হস্তান্তর করি।

পিবিআই কার্যালয়েও তাকে নানা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে প্রথমদিকে তিনি একেবারে নিশ্চুপ ছিলেন।

খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, আমরা নানাভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম। তবে কোন ভাবেই তিনি মুখ খুলতে চাননি।

তবে দুপুরের পরে তার মেয়ে মরিয়মসহ অন্যরা পিবিআই কার্যালয়ে এসে মা রহিমা বেগমকে জড়িয়ে ধরেন। তখন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রহিমা বেগম।

সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, মেয়েদের সাথে দেখা হওয়ার পরে রহিমা বেগম মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন প্রতিবেশি কিবরিয়া ও মহিউদ্দীনসহ তিন জন তাকে অপহরণ করেছিল। তাকে কোথাও আটকে রেখে ব্লাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন তারা। পরে তারা এক হাজার টাকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘রহিমা বেগমের দাবি, তিনি কিছুই চিনতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে গোপালগঞ্জের মুকছেদপুর হয়ে পূর্ব পরিচিত ভাড়াটিয়ার ফরিদপুরের বোয়ালখালী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে যান। কিন্তু তার কাছে কোনো মোবাইল নম্বর না থাকায় কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রহিমা বেগমের বক্তব্য খতিয়ে দেখছি। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী সবকিছু করা হবে।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, রহিমা বেগমকে উদ্ধারের সময়ে তার কাছ থেকে একটি সাদা ব্যাগ পাওয়া গেছে। তাতে ওষুধ ছিল, পোষাকসহ অন্যান্যা মালামাল ছিল। একজন ব্যক্তি অপহরণ হলে তার সাথে এগুলি থাকতে পারে না। তাই এটা অপহরণ নাও হতে পারে।



পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ১৫ জনের প্রাণহানি

পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ১৫ জনের প্রাণহানি
প্রতীকী ছবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকা ডুবে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় দৈনিক বাংলাকে ১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা ফায়ার সার্ভিস থেকে নৌকাডুবির কথা বলা হলেও হতাহতের সঠিক তথ্য এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।


ঘুষ নেয়ায় নাজির বরখাস্ত

ঘুষ নেয়ায় নাজির বরখাস্ত
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।

একই সঙ্গে ঘটনা‌ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আজ রোববার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে চি‌ঠি পাঠিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি এক‌টি ভাইরাল ভিডিওর বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দিনের ঘুষের বিনিময়ে কাজের সংবাদ তথ্য জানা যায়। বিষয়টি ভূমি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে।

ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন সেবাগ্রহীতা সদ্য অনুমোদিত নামজারী (খারিজ) করতে এলে রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার শাকিব উদ্দীন সেবাগ্রহীতাকে বলেন, ‘নামজারিতে একটি নাম ভুল হয়েছে, সেটি সংশোধন করতে হবে এবং সব মিলে ১ হাজার টাকা লাগবে, এর কম হবে না। কারণ সংশোধন করতে হলে এটি উপরে পাঠাতে হবে, সেখানে টাকা চাবে।’

এমতাবস্থায় সেবা গ্রহীতা ৭০০ টাকা দেন এবং বাকি টাকা কাজ হলে দেবেন বলে জানান। কিন্তু এই কাজের জন্য কোনো ফি নির্ধারণ করা নেই।


পিবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন খারিজ

পিবিআই প্রধানের বিরুদ্ধে বাবুলের মামলার আবেদন খারিজ
বাবুল আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত

হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বাবুলের কারাকক্ষে তল্লাশি ও নিরাপত্তা চেয়ে করা আবেদনটিও খারিজ করে দেয়া হয়।

আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালত আবেদন দুটি খারিজ করে দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাবুল আক্তার একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। এর মধ্যে তিনি অনেকবার আদালতে এসেছেন। কিন্তু একবারও নির্যাতনের বিষয়ে আদালতে কোনো অভিযোগ করেননি। কিন্তু এখন অভিযোগ করে মামলার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। সবকিছু বিবেচনায় আদালত তার আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়েছেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ। তিনি বলেন, আদালত আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়েছেন। আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ছয়জনের নামে চট্টগ্রামের আদালতে মামলার আবেদন করেন বাবুল আক্তার। এরপর আদালত শুনানি শেষে আদেশের জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন।

আবেদনে বনজ কুমার মজুমদার ছাড়া যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন— পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসপি নাজমুল হাসান, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের এসপি নাঈমা সুলতানা, পিবিআইয়ের সাবেক পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা, এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পরিদর্শক কাজী এনায়েত কবির।

সে সময় মামলার শুনানিতে বাবুলের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, পিবিআই বাবুল আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে মিতু হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্যাতন করেছে। এই ঘটনায় নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ (১) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের ৫ (২) ধারায় মামলার আবেদন করা হয়েছে। বাবুল আক্তার নিজেই আবেদনটি করেছেন।

এ ছাড়া, ১২ সেপ্টেম্বর বাবুল আক্তারের কারাকক্ষে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন তল্লাশি চালিয়েছেন অভিযোগ তুলে তদন্তের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে এই আবেদনটিও ১৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখেছিলেন। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর এই দুই আবেদনের আদেশের সময় পিছিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন আদালত।

১২ সেপ্টেম্বর আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ দাবি করেন— পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার আবেদনের পর আসামিরা মারমুখি আচরণ করছেন। তাদের নির্দেশে ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জেল কোডের তোয়াক্কা না করে কারাগারে বাবুলের কক্ষে প্রবেশ করেন।

তিনি (ওসি) দীর্ঘ সময় ওই কক্ষে তল্লাশির নামে বাদীর জীবনের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। তবে তল্লাশির বিষয়টি ওসি এবং জেল সুপার আনোয়ারুল করিম অস্বীকার করেন। 

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে নগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় জঙ্গিরা জড়িত দাবি করে বাবুল আক্তার মামলা করেন পাঁচলাইশ থানায়। তদন্ত শেষে পিবিআই গত বছরের ১২ মে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

হত্যায় বাবুল জড়িত বলে সন্দেহ হলে একই দিন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন আরেকটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় বাবুলসহ আটজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ এ মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখায়।

বাবুলের করা মামলায় পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৪ অক্টোবর আদালতে নারাজি দেন বাবুলের আইনজীবী। আদালত ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে আদালত বাবুলকে নিজের করা মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

এর মধ্যে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পিবিআই মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এতে ওই মামলায় গ্রেপ্তার বাবুলসহ অন্যদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। মামলাটিতে পাওয়া সব তথ্য-উপাত্ত বাবুল আক্তারের করা মামলায় একীভূত করতেও আবেদন জানানো হয়।

পিবিআইয়ের অধিকতর তদন্তে বাবুল আক্তারের করা মামলায় তাকেই আসামি করা হয়। 


জি কে শামীমের যাবজ্জীবন

জি কে শামীমের যাবজ্জীবন
ছবি : সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমসহ আটজনকে অস্ত্র আইনের এক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রাজধানীর গুলশান থানায় করা মামলাটিতে একই সঙ্গে সব আসামির লাইসেন্স করা অস্ত্র রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় জি কে শামীমকে। দণ্ডাদেশ পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. মুরাদ হোসেন। এরা জি কে শামীমের দেহরক্ষী।

২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সেখান থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ৯ হাজার আমেরিকান ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

এরপর জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে, মানি লন্ডারিং এবং মাদক মোট তিনটি মামলা করে।

অস্ত্র মামলায় র‌্যাব ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি একই আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে বিচার শুরু করে।